23/07/2026
লেখাঃ Ershad Nabil Khan
"ভারতে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে আমার দুই নোক্তা"
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করা নরেন্দ্র মোদির জন্য কেবল একজন মন্ত্রীর পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়; এটি বিজেপির রাজনৈতিক কর্তৃত্ব, সাংগঠনিক সংস্কৃতি এবং মনস্তাত্ত্বিক আধিপত্যেরও একটি পরীক্ষা।
ধর্মেন্দ্র প্রধান মোদি যুগের একজন প্রান্তিক বা সাময়িক মুখ নন। ২০১৪ সালে বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তারও আগে তিনি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) এবং ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার মতো বিজেপির আদর্শিক ও সাংগঠনিক ভিত্তি থেকে উঠে আসা নেতা। অর্থাৎ তিনি নির্বাচনী সুবিধার কারণে দলে আসা কোনো রাজনৈতিক আমদানিকৃত মুখ নন; বরং দীর্ঘ সাংগঠনিক বিনিয়োগে গড়ে ওঠা ক্যাডার নেতৃত্বের প্রতীক।
সেই সঙ্গে তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারও উল্লেখযোগ্য। ধর্মেন্দ্র'র বাবা দেবেন্দ্র প্রধান অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে বিজেপির রাজনৈতিক বিনিয়োগ বহুস্তরীয়।
এই কারণেই তাঁকে অপসারণের প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি দলীয় নেতৃত্বের শক্তি, স্থিতিশীলতা এবং সংকট মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কেও একটি বার্তা বহন করবে।
গত এক দশকে বিজেপির অন্যতম বড় রাজনৈতিক সাফল্য কেবল ধারাবাহিক নির্বাচনী বিজয় নয়; বরং একটি শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা। দলটি এমন একটি ধারণা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যে, তারা শুধু ক্ষমতাসীন নয়, বরং ক্ষমতার প্রায় অনিবার্য কেন্দ্র। এই ধারণা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জোটের সমীকরণ এবং দলবদলের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। বহু আঞ্চলিক নেতা ও বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকের আচরণে এই মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা গেছে।
রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রকৃত ভিত্তি শুধু সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নয়; ক্ষমতার প্রতি মানুষের বিশ্বাসও। যতদিন একটি দলকে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে হয়, ততদিন সেই ধারণাই তার সবচেয়ে কার্যকর রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়। কিন্তু ইতিহাস দেখায়, এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আধিপত্য ভাঙতে সবসময় বড় ধরনের নির্বাচনী পরাজয় লাগে না; কখনও কখনও একটি প্রতীকী ঘটনাই সেই পরিবর্তনের সূচনা করে।
সেই প্রেক্ষাপটে, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে ধর্মেন্দ্র প্রধানের মতো একজন প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী নেতাকে জনচাপ বা রাজনৈতিক সংকটের কারণে পদত্যাগ করতে হয়, তাহলে সেটি কেবল একটি মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হিসেবে দেখা হবে না। বিরোধী রাজনীতির একটি অংশ এটিকে বিজেপির অদম্য ভাবমূর্তিতে প্রথম দৃশ্যমান ফাটল হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবে। এমন ব্যাখ্যা সঠিক বা ভুল কিনা সেটি ভিন্ন প্রশ্ন, কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতায় উপলব্ধিও অনেক সময় বাস্তব শক্তির মতোই কার্যকর হয়ে ওঠে।
তবে সমানভাবে এটিও সত্য যে, শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলো কখনও কখনও দীর্ঘমেয়াদি ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে স্বল্পমেয়াদি ক্ষতি মেনে নেয়।
সুতরাং ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে যে কোনো সিদ্ধান্তের তাৎপর্য নির্ভর করবে শুধু তিনি পদে থাকলেন কি না, তার ওপর নয় বরং সেই সিদ্ধান্তকে ভারতীয় রাজনীতি কিভাবে গ্রহণ করে এবং জনমনে তা কী ধরনের রাজনৈতিক বার্তা বহন করে তার উপরে নির্ভর করছে।