24/05/2026
২৭০ মিলিয়ন বছর আগে এটি ছিল সমুদ্রতল। পরে চুনাপাথর (limestone) ফাটল বরাবর দ্রবীভূত হতে থাকে এবং অম্লবৃষ্টির (acid rain) ক্ষয়ে শিলাগুলো ধীরে ধীরে ভাস্কর্যের মতো রূপ নেয়। তৈরি হয় ৪০ মিটার উঁচু স্তম্ভ, যেগুলো দেখতে পাথরে পরিণত গাছের মতো।
ভেতর দিয়ে সরু পথ বেঁকে বেঁকে চলে গেছে ধূসর ধারালো শিলার বনভূমির মতো এক গোলকধাঁধার মধ্যে। কিছু কিছু শিলা এতটাই পাতলা যে টোকা দিলে ঘণ্টার মতো শব্দ হয়। উপর থেকে দেখলে এটাকে মনে হয় এক পাথরের বন—যেখানে আছে “কাণ্ড”, “ছায়াচ্ছন্ন মুকুট” আর দীর্ঘ ছায়া।
কার্স্ট ক্ষয় (karst weathering) গত ২৭০ মিলিয়ন বছর ধরে পাহাড়কে একধরনের “বনসাই শিল্পীর” মতো গড়ে তুলেছে, আর এর ফলেই চীন পেয়েছে শহরের আকারের এক পাথরের বাগান।
24/05/2026
ভারত হাসিনাকে ভুলভাল বোঝাইতেছে কি? কিন্তু হাসিনা এই ভুলভাল বোঝানোটা বুঝতেছে কি? ফলে এইরকম তাল মারতেছে!
আমার ধারণা, হাসিনা কোনভাবেই দেশে ফিরবে না। কিংবা না ফেরার সর্বশেষ চেষ্টাটুকু কইরা যাবে।
একটা জিনিস ইদানিং সম্ভাবনা আকারে মনে হয়, বিএনপি আর ভারত উভয়ই হাসিনাকে ঝুলাইয়া দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হইছে।
যদি তা হয়, তাইলে এইটা উভয়ের জন্যই উইন উইন হইতে পারে।
ভারতের দিক থেকে আমেরিকার সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে হাসিনা একটা ডিস্টার্ব। মানে আলোচ্য বিষয় যখন বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, হাসিনা না থাকলে বিএনপিও ভারতের সঙ্গে আরো খোলামেলা আলাপে যাইতে পারে। আওয়ামী লীগের সঙ্গেও।
হাসিনা মাইনাস না হওয়া পর্যন্ত এইটা সম্ভব হইতেছে না।
হাসিনাকে ফাঁসিতে দেওয়া হইলে দেশে ক্যাওজ লাগবে। কিন্তু বিএনপি, ভারত ও আমেরিকা সবাই একসাইডে থাকলে এই ক্যাওজ দুই দিনেই শীতল হইয়া যাবে।
অর্থাৎ বড় কোন সমস্যা এইটা না।
দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী হাসিনাকে ব্যাপক ঘৃণা করে। ফলে হাসিনার জন্য এইদেশে বড় আন্দোলন তৈরি হওয়া কঠিন।
হাসিনা এইসব জানে। ফলে চেষ্টা করতেছে, কীভাবে দেশে আসা ঠেকানো যায়। আমার হিসাব তাই বলে।
কিন্তু ভারত যদি হাসিনাকে আর দক্ষিণ এশিয়া কূটনীতির কেন্দ্রে বসাইয়া রাখতে না চায়, তাইলে হাসিনার সামনে দ্বিতীয় রাস্তা আছে বইলা মনে হয় না।
তাকে ফাঁসির দড়ির দিকে হাঁটতেই হবে।
হাজার হাজার মানুষের খুনের দাগ যেই হাসিনার হাতে, সেই হাসিনার বিচারের দিন হয়ত ঘনাইয়া আসতেছে।
ভারত কি আসলেই হাসিনাকে ফালাইয়া দিবে?
লেখাঃ Saad Rahman
23/05/2026
যিশুর বয়স যখন রাফলি ২৫/২৮ বছর, আপনার বাংলায় তখন কী হচ্ছে? বাংলা তখন যে রাজ্যের অধীনে তার নাম উচ্চারণ করলে দাঁড়ায় 'মহামেঘবাহন'! মৌর্য সাম্রাজ্য আর কি, ঐযে সম্রাট অশোকের। যিশুর অন্তর্ধানের ৩২০ বছর পর পর্যন্ত এই সাম্রাজ্য টিকে ছিলো। কিন্তু তার আগে? যিশুর জন্মের ১৭০০ বছর আগে ছিলো মগধ রাজ্য, মহামেঘবাহনের আগ পর্যন্ত।
এগুলো দেখছিলাম Old Maps Online বলে একটা ওয়েবসাইটে। আমার মত যারা ভিজুয়াল লার্নার, বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস জানতে তাদের জন্য এটা আমার দেখা বেস্ট রিসোর্স।
মানুষের ব্রেইন লিস্ট আকারে শিখে না, নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরী করে ইনফরমেশন রেজিস্টার করে। বিচ্ছিন্ন তথ্য ব্রেইনের কাছে অর্থহীন, তাই মুখস্ত করা জিনিস ভুলতেও আমাদের সময় লাগে না। কিন্তু ব্রেইনের অলরেডি রেজিস্টার্ড তথ্যের সাথে একটা কানেকশন এস্টাবলিশ করতে পারলেই কেল্লা ফতে।
ইতিহাসের সাথে ভূগোলের ভীষণ যোগ। ওল্ড ম্যাপস সেই যোগসূত্রটাই স্থাপন করেছে। আগ্রহীরা দেখতে পারেন। কমেন্টে লিঙ্ক দেওয়া রইলো।
লেখাঃ Asif Bayezid
23/05/2026
পশ্চিম সুন্দরবন খুলনা রেন্জের কালাবগির ঠোটা, একটু বিশুদ্ধ পানি আর জরুরি চিকিৎসা, যা শহরে সহজলভ্য তাই এখানে এখনো স্বপ্নের মতো।
- Coastal Ibrahim
22/05/2026
নিচের যে ছবিটা আছে সেটা ফারাক্কা বাধের। আপনার গুগুল আর্থ একটু খুজে দেখে নিয়েন। গংগার উপরে বাধ এই ফারাক্কা। বাংলাদেশের যে জায়গায় গংগা প্রবেশ করছে, সেখান থেকে এটা মোটে কয়েক কিলোমিটার দূরে।
ফারাক্কার ঠিক পরেই যে সাদা অংশ দেখা যায় সেটা বাধের কারনে চর। চরটা প্রসস্থ হতে হতে নদীর গলা চিপে ধরেছে। আমাদের তৃষ্ণা পেলে গলা শুকিয়ে যায়। নদিটাও পানির জন্য হাহাকার করছে। এই চিকন অংশ দিয়ে কিছু পানি আমাদের দেশে আসে। এক সময়ের প্রমত্ত পদ্মার পাতে এখন হিসাবের চুইয়ে পরা পানি।
এক ফারাক্কার জন্যই ভারতের সাথে আড়ি দেয়া উচিত। আড়ি কথাটা বেশ রোমান্টিক মনে হতে পারে। আমাদের ভার্সিটি লাইফে একটা বিষয় চালু করেছিলাম। যখন অনেক বেশি লিমিট ছাড়া মেজাজ খারাপ হবে তখন আর গালি দেয়া যাবেনা। তখন বলতে হবে, যাহ দুষ্ট।
শুনতে নিষ্ঠুর রোমান্টিক।
২
আমাদের উপায় কী?
পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে কথা হচ্ছে। হাজার কোটী টাকার প্রজেক্ট।
এই প্রজেক্টের নাম শুনেই আমাদের আওয়ামী লীগ আমলের চুরি চামারি না, বরং ডাকাতির কথা মনে পরে। ভয় পাই। আবার কি পুকুর নদী চুরি হবে?
সরকারকে এই প্রজেক্টের বিষয়টা সহজ করে মানুষকে বুঝাতে হবে। পদ্মা ব্যারেজ আসলে কী? এটা কী করে কাজ করবে? ফারাক্কা বাধের কারনে যদি পানি আমাদের দেশে না আসে, তাহলে এই ব্যারেজ দিয়ে লাভ কি? আমরা পানি পাব কোথায়? ব্যারজে দিয়ে ব্যারেজের ভাটিতে পানির প্রবাহ কমে যাবে। তখন? ... এই বিষয় গুলো সাধারণ মানূষকে বুঝিয়ে দিতে হবে। মাত্র লাখ খানেক টাকা খরচ করলেই ভালো মানের এনিমেশন বানানো সম্ভব। দেখলেই সবাই বুঝে যাবে।
৩
দেখা যাক বিষয়টা ব্যাখ্যা করা যায় কি না।
পদ্মা ব্যারেজ হলে আসলে যেটা হবে, ফারাক্কা বাধ আর বাংলাদেশের রাজবাড়ির মধ্যবর্তী অংশ একটা প্রাকৃতিক লেকের মত হয়ে যাবে। দীর্ঘ লেক, লম্বা। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। এই অংশে পানি ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে। সঞ্চিত পানি আশে পাশের বিস্তৃত অংশকে সতেজ করে তুলবে। পদ্মা থেকে বেশ কিছু শাখা নদী গেছে আশে পাশে। সেগুলো এখন প্রায় মরে গেছে। পানির প্রবাহ নাই। এসব শাখা নদিতে পানির প্রবাহ তৈরি করা যাবে। যদিও এসব সম্ভব করতে হলে, ব্যপক নদি খনন ও নদী , শাসনের প্রয়োজন হবে। প্রচুর পলি জমে পদ্মা এমনিতেই ভরাট হয়ে গেছে।
সব থেকে বড় প্রশ্ন, পানি আসবে কোথা থেকে?
পানি মুলত দুই জায়গা থেকে আসবে। ফারাক্কার ফাদ গলে যেটা আসে সেটা আসবে। আর আমাদের দেশে যে বৃষ্টি হয় সেই পানি এখন দ্রুত নদী গড়িয়ে সমুদ্রে চলে যায়। এই পানি ধরে রাখা হবে ব্যারেজ দিয়ে। মনে হতে পারে বৃষ্টিতে আর কতটুকু পানি হয়। বৃষ্টির পরিমান একেবারে কম নয়। এবং বর্ষাকালের পানি ভালোভাবে ধরা গেলে ভালো পরিমানের পানি পাওয়া যাবে।
এরপরে যে প্রশ্নটা আসে, ব্যারেজের ভাটিতে ফারাক্কার কারনে যেমন পদ্মায় চর পরেছে, তেমন চর পরবে না?
না।
আমাদের পদ্মার পানির প্রবাহ রুদ্ধ হবার কারনে, এমনিতেই চর পরেছে। ব্যারেজ দিলে বরং সারা বছর নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ রাখা সম্ভব হবে। আর যে জায়গায় ব্যারেজ দেয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে, রাজবাড়ির কাছে, সেটা যমুনা আর পদ্মার সংযোগ স্থল। যমুনা থেকে পানির নির্বাধ পানির প্রবাহ থাকবেই ভাটীর দিকে।
আমি নদী বা পানি ব্যবস্থাপনার কিছুই জানি না। কিন্তু যতটুকু বুঝতে পেরেছি সেটাই এখানে বললাম।সরকারের উচিত এই ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করা।
প্রজেক্ট পাশ করার আগেই করা উচিত।
লেখাঃ Mustafizur Rahman
22/05/2026
ভারতের ম্যাপের বেশির ভাগ ধনী , সম্পৃদ্ধ রাজ্যগুলো ম্যাপের পশ্চিম কিংবা দক্ষিণ দিকে, বাংলাদেশ থেকে বহু দূরে। এই ম্যাপের গভীর সবুজ রং গুলো বড়লোক রাজ্য , হালকা গুলো গরিব । বাংলাদেশ এই ম্যাপে উহ্য আছে। বাংলাদেশের আসে পাশের রাজ্য গুলো সব রেড বা লাল , মানে গরিব। বাংলাদেশের উহ্য জায়গাটি রং করতে হলে খুবই গাড় সবুজ রং ব্যাবহার করতে হবে।
ভারতের ম্যাপের পূর্ব দিকে অর্থনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্র বিন্দু , ভারতের পূর্বাঞ্চলের দেশ গুলোর জন্যে।
কথার খাতিরে যদি ধরে নেন যে বাংলাদেশ আবার ১৯৪৭ এর দেশ ভাগের আগের অবস্থায় চলে যাবে , তাহলে বাংলাদেশ এর অর্থনৈতিক অবস্থান হতো ব্রিটিশ-ভারতের সবচাইতে ধনী রাজ্য মহারাষ্ট্রের ঠিক পরে।
মহারাষ্ট্রের জিডিপি ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মতো , যা বাংলাদেশের জিডিপির চাইতে একটু বেশি। পশ্চিম বাংলার জিডিপি আবার বাংলাদেশের অর্ধেক। কমেন্টে একটা টেবিল দিয়েছি , দেখে নিয়েন। বাংলাদেশের জিডিপি ৪৭০ বিলিয়ন ডলারের মতো।
মানে আজকে যদি ব্রিটিশ - ইন্ডিয়া টিকে থাকতো , তাহলে তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধনী রাজ্য হতো বাংলাদেশ, ১৯৭১ পরবর্তী ম্যাপকে গণনায় ধরলে । যদিও ভারতের অঙ্গ হিসেবে থাকলে বাংলাদেশ আজকের অবস্থানে আসতে পারত না, তবে সেইটা এই লেখার মূল উদ্দেশ্য না।
আর যদি দুই বাংলা এক করে ধরেন , তাহলে বেঙ্গল হতো ব্রিটিশ-ইন্ডিয়ার সব চাইতে ধনী এলাকা (বাংলাদেশের ৪ ৭ ০ + পশ্চিম বঙ্গের ২ ০ ০ বিলিয়ন মহারাষ্ট্রের ৫ ০ ০ বিলিয়ন জিডিপি ছাড়িয়ে যেতো ) ।
ইন্ডিয়া বাংলাদেশে প্রতি বছর সরকারি হিসেবে ১২ - ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিক্রি করে। অবৈধ ব্যবসা হিসেবে ধরলে এই সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি হবে।
ভারতের পূর্ব কোনের রাজ্য গুলোতে বাংলাদেশের মানুষকে এবং বাজারকে ঘিরে বেশ বড় একটা অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। নিত্য ব্যবহার্য পণ্য রপ্তানি , হোটেল , চিকিৎসা , লজিস্টিকস , ওষুধ , ড্রাগস, ট্যুরিজম , থেকে শুরু করে চাল , ডাল , পিয়াজ ইত্যাদি তৈরী হয় বাংলাদেশ বিক্রির জন্যে।
খারাপ লাগছে দেখতে যে একাধিক ভিডিও এসেছে কলকাতার গরু ব্যাবসায়ী মহিলা, বৃদ্ধা কান্না কাটি করছেন , আকুতি মিনতি করছেন তাদের গরু গুলো বিক্রি করার পারমিশন চেয়ে । ধর্মান্ধ গান্ডু শুভেন্দু ১৪ বছরের নিচের গোমাতা জবাই নিষিদ্ধ করেছে পশ্চিম বঙ্গে।
এক জন কপালে সিঁদুর দেওয়া মা দেখলাম তার ছেলের কথা বলে কাঁদছেন , কারণ তার ছেলে ঋণে জড়জড়িত, ব্যাংকের থেকে টাকা এনে গরু পুষে কোরবানির সময় বিক্রি করে তার সংসার চলে।
বাংলাদেশের মিডিয়া এখনো এই ব্যাপার গুলো সেভাবে হাই লাইট করছে না।
ভারতীয় মিডিয়া এবং ভারতের টোকাই ফেসবুক কমেন্টেটররা তো সব সময় এমন ভাবে কথা বলেন যে বাংলাদেশ বোধ হয় ভারতের কাছ থেকে বিনামূল্যে জিনিস এনে এনে খায়।
অথচ বাংলাদেশ ভারত থেকে এমন কিছুই আনে না যা অন্য খান থেকে আনা যায় না।
ভারতের অধিকাংশ রাজ্য বাংলাদেশিদের জন্যে সস্তা বা চিপ মনে হয়। একারণে অনেক দরিদ্র বাংলাদেশিরা ভারতে চিকিৎসা কিংবা কেনা কাটা করতে যায় সস্তায় জিনিস কেনার জন্যে।
ভারতীয়রা অনেক সময় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোন একটা কারণে ভুলে যায় যে ক্রেতার সম্মান ভগবানের সম্মানের সমান --- অন্তত ফ্রি মার্কেট অর্থনীতিতে।
আর কেউ না বুঝলেও, ভারতের গরু ব্যাবসায়ীরা এই নিদারুন বাস্তবতা এখন বুঝতে পারছে গোমাতা বিক্রির সুযোগ হারিয়ে।
লেখাঃ Shafquat Rabbe Anik
19/05/2026
Shah-i-Zinda-এর মহিমান্বিত নীল টাইলসখচিত প্রবেশদ্বার মধ্য এশিয়ার ইসলামী স্থাপত্যকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই প্রবেশদ্বারটি শাহ-ই-জিন্দা নেক্রোপলিসের আনুষ্ঠানিক প্রবেশপথ, যার ইতিহাস এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো।
চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতকে Timur এবং তাঁর বংশধরদের শাসনামলে এর উজ্জ্বল ফিরোজা ও গাঢ় নীল টাইলস টিমুরীয় শিল্পকলার এক অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠে।
এই গেটটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল যাতে Samarkand-এ আগত তীর্থযাত্রী ও ভ্রমণকারীরা মুগ্ধ হয়ে যায়; একসময় এটি ছিল সিল্ক রোডের সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরীগুলোর একটি।
দক্ষ কারিগররা চকচকে সিরামিক মোজাইক ব্যবহার করে প্রবেশদ্বারজুড়ে জ্যামিতিক নকশা, ফুলেল অলংকরণ এবং কুরআনের শিলালিপি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে অঙ্কন করেছিলেন।
ইসলামী শিল্প ঐতিহ্যে এই ঝলমলে নীল রং স্বর্গ, আধ্যাত্মিকতা এবং ঐশ্বরিক সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো।
শাহ-ই-জিন্দা স্থানটি Qutham ibn Abbas-এর কিংবদন্তির সঙ্গে জড়িত; বিশ্বাস করা হয় তিনি এখানেই সমাহিত আছেন।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভূমিকম্প, আক্রমণ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রবেশদ্বারের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, যত্নশীল সংস্কারের মাধ্যমে এর অসাধারণ সৌন্দর্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এই টাইলসখচিত প্রবেশদ্বারটি টিমুরীয় স্বর্ণযুগে বিকশিত পারস্য, মঙ্গোল এবং মধ্য এশীয় শিল্পধারার সাংস্কৃতিক বিনিময়েরও এক অনন্য প্রতিফলন।
আজ Shah-i-Zinda-এর নীল টাইলসখচিত প্রবেশদ্বার Uzbekistan-এর সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি, যা এর শ্বাসরুদ্ধকর কারুকার্য ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বের জন্য সারা বিশ্বে সমাদৃত।
19/05/2026
।।ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের শেষ নিদর্শন ।।
এই ব্রোঞ্জ মূর্তিটি রাখা আছে লণ্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে। ষোড়শ শতকের ব্রোঞ্জ - যে সময়ে বৌদ্ধ ধর্ম ভারতবর্ষ থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে, সেই সময়কার- এবং এটাই এই মূর্তিটির সবচাইতে বিস্ময়প্রদ ব্যাপার। মূর্তিটি যেই সময়কার, তার একশো বছর আগে মহাবোধি মন্দির ও মহাবোধি বিহারের দরজা পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরুতে মহাবোধি বিহারের শেষ অধ্যক্ষ বিদায় নিয়ে নেপালে চলে গেছেন। দেশের প্রায় সমস্ত বৌদ্ধ বিহার ততোদিনে বন্ধ হয়ে গেছে। তাই ষোড়শ শতকের তামিলনাড়ুর ব্রোঞ্জের বুদ্ধমূর্তি দেখে সত্যিই আশ্চর্য লাগল।
অষ্টম শতাব্দীর পর থেকে প্রায় সারা ভারতেই বৌদ্ধ ধর্ম দুর্বল হয়ে শুরু করে - পূর্ব ভারত যদিও ব্যতিক্রম ছিল, যেখানে দ্বাদশ শতাব্দী অবধি টিকে ছিল। দক্ষিণ ভারতে কৃষ্ণা নদীর দক্ষিণে যত অঞ্চল আছে - সেখানে বৌদ্ধ ধর্মের উপস্থিতি চিরকালই কম ছিল- তবে হিউয়েন সাঙের বর্ণনা থেকে জানা যায়- কাঞ্চীতে অনেকগুলি বিহারের উপস্থিতি ছিল। সপ্তম শতকের পর থেকে তামিলনাড়ুতে বৌদ্ধ ধর্ম বিলুপ্ত হতে শুরু করে - সম্বন্দরের মতো শৈব সাধকদের বৌদ্ধ-বিরোধী প্রচার, এবং নয়নার আর আলবারদের মতো শৈব ও বৈষ্ণব কবি-সম্প্রদায়ের উত্থানের ফলে। তবে এর মধ্যেও বন্দর-নগরী নাগাপট্টিনমে বৌদ্ধ ধর্ম টিকে থাকে- একাদশ শতকে তার পুনরুজ্জীবনও ঘটে- এই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার শ্রীবিজয় বংশের রাজা শ্রীবিজয় মহাবিজয়োত্তুঙ্গবর্মণের উদ্যোগে এবং স্থানীয় চোল রাজাদের থেকে প্রাপ্ত ভূমি ও অগ্ৰহারদানের মাধ্যমে একটি নূতন বিহারের স্থাপনা হয় নাগাপট্টিনমে- চূড়ামণি বিহার।
নাগাপট্টিনমের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রায় ৩৫০টি বৌদ্ধ ব্রোঞ্জ মূর্তি পাওয়া গেছে, তার মধ্যে বেশিরভাগই একাদশ দ্বাদশ শতাব্দীর, তবে কিছু মূর্তি ষোড়শ শতকের পর্যন্ত আছে। এই মূর্তিটি সেই শেষতম মূর্তিগুলির একটি।
শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত থেকে জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীর শুরুর দিকে শ্রীচৈতন্যদেব তামিলনাড়ুর আর্কোটের কাছাকাছি একটি বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষুদের তর্কযুদ্ধে পরাস্ত করেছিলেন। যাই হোক, এই মূর্তিটা দেখে বুঝতে পারলাম যে বৌদ্ধ ধর্ম প্রায় বিলুপ্ত হবার পরেও শ্রীচৈতন্যদেবের সঙ্গে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তর্কযুদ্ধের কাহিনী নেহাত কল্পকাহিনী নয়। মায়ানমারের কল্যাণী শিলালেখ থেকেও জানা যায় নাগাপট্টিনমে পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিক অবধি সক্রিয় বৌদ্ধ বিহারের উপস্থিতি ছিল।
চূড়ামণি বিহার কবে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয় জানা নেই, তবে ১৬১৫ সালের পর্তুগিজ জেসুইট প্রচারক ম্যানুয়েলের লেখা থেকে দুটো বিষয় জানা যায়- নাগাপট্টিনমে একটি বড়সড় পরিত্যক্ত গোপুরম আছে, আর সেটিকে স্থানীয় মানুষেরা চীনাদের তৈরি বলে। এর পাশাপাশি চৈনিক নথি থেকে নাগাপট্টিনমের সঙ্গে চীনের দীর্ঘ বাণিজ্যিক যোগাযোগের কথা জানা যায়। এই গোপুরমটি চূড়ামণি বিহারের অংশ হবার একটা সম্ভাবনা আছে - ১৮৫৬ সালে এর পাশেই পাঁচটি বুদ্ধমূর্তি পাওয়া যায়। চীনাদের একটা বড় অংশ বৌদ্ধ, আর তারা নাগাপট্টিনমে বাণিজ্য করতে আসত, তাই চীনা বণিকদের হাতে বৌদ্ধ বিহারের জন্য এই গোপুরম নির্মাণ আশ্চর্যের নয়। স্থানীয় জনশ্রুতিতে চীনাদের এই গোপুরম নির্মাণের কথা রয়ে গেছে।
এই চৈনিক সংযোগের জন্য ইউরোপীয় লেখকরা এই তিন-তলা গোপুরমটিকে "চাইনিজ প্যাগোডা" নামে অভিহিত করেছেন। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে এই গোপুরমটি ভেঙে জেসুইটরা একটা কলেজের নির্মাণ করে, যার ফলে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন চিরকালের জন্য বিনষ্ট হয়। তবে উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাপট্টিনম ও সংলগ্ন অঞ্চল থেকে খনন করে অন্ততঃ ৩৫০টি ব্রোঞ্জ মূর্তি পাওয়া গেছে যা নাগাপট্টিনমের বৌদ্ধ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে - এগুলি পৃথিবীর বিভিন্ন মিউজিয়ামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের এই মূর্তিটি এদের মধ্যে একটি। এখানে বুদ্ধের এক হাত বরদা মুদ্রায়, অন্য হাত অভয় মুদ্রায়। মূর্তিটির সবচেয়ে কৌতুহলোদ্দীপক বিষয় হল এর সময়কাল - ভারতের মূল ভূখণ্ডে বৌদ্ধ ধর্মের শেষ প্রদীপশিখা নিভে যাবার আগে, যেটুকু আগুন অবশিষ্ট ছিল, তারই স্মৃতিচিহ্ন এই মূর্তিটি।
পুনশ্চ: মূর্তির নিচে পুরোনো তামিল লিপিতে কিছু লেখা আছে- কী লেখা আছে , কেউ বলতে পারবেন? আপনার পরিচিত কোনো প্রাচীন তামিল-লিপি বিশারদ থাকলে তাঁকে এটা দেখাতে পারেন।
তথ্যসূত্র:
Sarao, K. T. S. The Decline of Buddhism in India: A Fresh Perspective. Munshiram Manoharlal Publishers, 2012, pp. 66–67.
Guy, J. (1994). The lost temples of Nagapattinam and Quanzhou: A study in Sino-Indian relations. Silk Road Art and Archaeology, 3, 291–310.
_collected
16/05/2026
ভারতের যেসব রাজ্যে মুসলমানরা সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য তার দুটি আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ। আসামে তারা ৩৪ শতাংশের মতো, পশ্চিমবঙ্গে ২৭-২৮ শতাংশ। রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক শক্তিতে সংখ্যাগুরুর চেয়ে সব অর্থে পিছিয়ে থাকলেও উভয় রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এলে এই সংখ্যালঘুরা ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে আলোচিত হয়ে ওঠে।
আসামে বিধানসভার আসন ১২৬। ৩৫টি আসনে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। যদিও তারা নানান দলের সমর্থক, কিন্তু এই ৩৫টি আসনে এবং আরও কিছু আসনে এই সংখ্যালঘুরা জয়-পরাজয়ে গুরুত্ব ভূমিকা রাখত। এই মুসলমানদের ‘ঘুষপেটিয়া’ দেখিয়ে এবং বাংলাদেশভীতিকে রাজনৈতিক পণ্য করে বহু আগেই বিজেপি আসামে ক্ষমতাসীন হয়ে আছে। ২০১১ সালে এই রাজ্যে তাদের আসন ছিল ৫, এখন ৬০!
এ রকম অগ্রগতির মধ্যেও এবার ক্ষমতাসীন শক্তি বিধানসভায় মুসলমান উপস্থিতি আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে এবং সেই সূত্রে ভোটের আসনগত বিন্যাস এমনভাবে পাল্টে নিয়েছে।
অনেক মুসলমানপ্রধান আসন থেকে কিছু কিছু অংশ কেটে নিয়ে সেটা চার দিকের হিন্দুপ্রধান আসনগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সেই জায়গায় হিন্দুপ্রধান অঞ্চলের কিছু কিছু এলাকা জুড়ে দেওয়া হয়েছে মুসলমানপ্রধান আসনটিতে।
কেবল মুসলমানপ্রধান আসনগুলোর ভৌগোলিক পুনর্গঠন নয়, যেসব আসনে হিন্দু-মুসলমান ভোট প্রায় সমান সেগুলোকেও কেটেকুটে এভাবে পুনরায় গঠন করা হয়েছে। যাতে এসব আসনের মুসলমান ভোটব্যাংক আকারে কমে এবং বিজেপি বা যেকোনো দলের হিন্দুপ্রার্থীর জয় নিশ্চিত হয়।
যেখানে এসব করা যায়নি, সেখানে অনেক মুসলমানপ্রধান এলাকাকে একাধিক নির্বাচনী আসনের বদলে একটি আসন করে নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার মুসলমান প্রধান আসনগুলোকে শিডিউল কাস্ট ও শিডিউল ট্রাইবদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, কার্বি আংলং এবং বোডো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে বিধানসভায় আসন বাড়ানো হয়েছে মুসলমানপ্রধান অঞ্চলের আসন কমিয়ে।
কাঠামোগত এসব বহুমুখী পরিবর্তন ও পদক্ষেপ, যা অনেকটা আধুনিককালের একধরনের নতুন ও সূক্ষ্ম বর্ণবাদী ব্যবস্থার মতো—সেটা কেবল সংখ্যালঘুদের টার্গেট করেই করা হয়নি; কংগ্রেস, বামপন্থী দলগুলো এবং মুসলমানপ্রধান দলগুলোকে জাতীয়ভাবে দুর্বল করতেও করা হয়েছে। সংখ্যালঘুরা মূলত এসব দলকে এখানে ভোট দিত এত দিন। এসব দলও মুসলমান ভোট উল্লেখযোগ্য আছে এমন আসনে অনেক সময় মুসলমান প্রার্থী দিত।
এখন অবস্থা এমন হয়েছে, বিরোধী দলগুলো আসনগত পুনর্বিন্যাসের কারণে মুসলমান প্রার্থী কম দিতে বাধ্য হয়েছে। ফল প্রভাবিত করতে নির্বাচনী ব্যবস্থার এ রকম (বৈধ!) সংস্কার আধুনিক বিশ্বে বিরল। মুসলমানদের দুটি স্তরে বিজেপি ক্ষমতাহীন করতে চায়, বিধানসভায় এবং রাজনৈতিক দআসামের এবারের এই ‘নিরীক্ষা’ সফল হলে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশসহ অন্যত্রও এ রকম আসনগত পুনর্বিন্যাস ঘটিয়ে জাতীয়ভাবে লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভাগুলোকে আরও সংখ্যালঘুমুক্ত করা হবে হয়তো। জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি সেখানেও এ রকম নিরীক্ষা চালানো হয়।
যেহেতু অর্থনৈতিকভাবে মুসলমান সংখ্যালঘুরা পিছিয়ে পড়া অবস্থায় আছে, সে কারণে রাজনৈতিক পরিসরে অসহায় হওয়ামাত্র তাদের সামাজিক শিকড় ছিঁড়তে শুরু করবে। তারা নিজেরাই তখন উদ্বাস্তুসম জীবন ছেড়ে মানবিক মর্যাদার কোন জনপদে পাড়ি জমাতে চাইবেন। আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ যেহেতু বাংলাদেশ-সংলগ্ন এবং এই দুই জায়গার সংখ্যালঘুদের যেহেতু এদিকের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক নৈকট্য রয়েছে।
15/05/2026
বাংলাকে ভাগ করা হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। পার্টিশনের পরেই বিপুল সংখ্যক হিন্দু উদ্বাস্তু পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসতে বাধ্য হন৷ সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো বড় নাম৷ স্বাভাবিকভাবেই বিভাজিত বাংলায় হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি প্রবল শক্তিশালী হয়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তা হয়নি৷ ১৯৫২ সালে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছিল ১৫০ আসন৷ বামপন্থী জোট পেয়েছিল ৪০+ আসন৷ কমিউনিস্ট পার্টি একাই পেয়েছিল ২৮ আসন। ফরওয়ার্ড ব্লকের মার্কসবাদী অংশটি ১১ আসনে জিতেছিল৷ এর বাইরেও জয়নগর থেকে এসইউসির সুবোধ ব্যানার্জি খাতায় কলমে নির্দল প্রার্থী হিসাবে জিতেছিলেন৷ ফরওয়ার্ড ব্লকের আরেকটি অংশ খান দুয়েক আসন জিতেছিল৷ তৎকালীন কৃষক মজদুর প্রজা পার্টি, যারা ওই '৫২ সালেই সোস্যালিস্ট পার্টির সঙ্গে মিশে গিয়ে প্রজা সোস্যালিস্ট পার্টি গঠন করবে, তারা পেয়েছিল ১৫ আসন৷ হিন্দুত্ববাদীরা পেয়েছিলেন মাত্র ১৩টি আসন। জনসংঘ ৯, হিন্দু মহাসভা ৪। যদিও বামপন্থীদের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদীদের ভোট শতাংশে খুব ফারাক ছিল না।
১৯৫৩ সালে শ্যামাপ্রসাদ মারা গেলেন৷ বাংলার হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল৷ যে কলকাতা দক্ষিণ পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রে ১৯৫২ সালের নির্বাচনে শ্যামাপ্রসাদ ৪৫% ভোট পেয়ে জিতেছিলেন (কংগ্রেসের ভোট ছিল ৩০%+, কমিউনিস্ট পার্টির ২২%+), তাঁর মৃত্যুর পর সেই আসনেই কমিউনিস্ট পার্টি জিতে গেল ৫৮%+ ভোট পেয়ে। জনসংঘের ভোট ৪৫% থেকে হু হু করে কমে নেমে এল ৫ শতাংশে। এক বছরের মধ্যে।
১৯৫৭ সালের নির্বাচনেও কংগ্রেস ক্ষমতায় এল ১৫২ আসন পেয়ে। বামপন্থীদেরও বিপুল উত্থান হল৷ তাঁরা প্রায় ৮০টি আসন জিতলেন৷ হিন্দুত্ববাদীরা শূন্য হয়ে গেলেন৷ না জনসংঘ, না হিন্দু মহাসভা- কেউ কোনও আসন পেল না। স্বাধীনতা/দেশভাগের ১০ বছরের মধ্যে বাংলার সংসদীয় রাজনীতি থেকে হিন্দুত্ববাদীরা ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেলেন। ১৯৭৭ সালে লোকসভায় (এবং বিধানসভাতেও খুব সামান্য) 'জনতা-ঝড়' তাঁদের কিঞ্চিৎ সুবিধা করে দিয়েছিল বটে, কিন্তু বামপন্থী রাজনীতির বিপুল উত্থানের সামনে তা কিছুই নয়৷ তারপর থেকে বহু বহু বছর তাঁদের সংসদীয় পরিসরে বলার মতো সাফল্য কিছুই ছিল না৷ ১৯৯২ পরবর্তী সময়েও তাঁরা বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। কিন্তু আরএসএস নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছে। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা ব্যানার্জি জোট করলেন বিজেপির সঙ্গে। ১৯৯৯ সালের লোকসভায় দমদম কেন্দ্রে মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীর চিত্তাকর্ষক পরাজয় ঘটল বিজেপির তপন শিকদারের কাছে৷ কৃষ্ণনগরেও জুলুবাবু জিতলেন। শ্যামাপ্রসাদের বাংলায় সংসদীয় পরিসরে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পুর্নবাসন ঘটল৷ তবে তৃণমূলের জুনিয়র পার্টনার হিসাবে৷ এর পরের গুরুত্বপূর্ণ কালপর্ব ২০১৪ থেকে৷ কেন্দ্রে মোদী সরকার আসার পর। সে অন্য আলোচনা।
পূর্ববঙ্গ থেকে আসা লক্ষ লক্ষ হিন্দু উদ্বাস্ত কেন জনসংঘ বা হিন্দু মহাসভাকে ভোট দিলেন না? এমনকি, ১৯৫২ সালের নির্বাচনেও হিন্দুত্ববাদীরা যে সব আসনে জিতেছিলেন, সেগুলি রাজ্যের পশ্চিমপ্রান্তে৷ বাঁকুড়ায়, জঙ্গলমহলে। সেগুলি মোটেই দেশভাগের দগদগে ক্ষত বুকে নিয়ে চলে আসা উদ্বাস্তু মেজরিটি আসন নয়৷ এর কারণ কী? শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু একটা বড় কারণ নিশ্চয়৷ তাঁর মৃত্যুর পরে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বড় মুখ তেমন কেউ ছিলেন না, যিনি জ্যোতি বসুকে টেক্কা দিতে পারেন৷ কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ তো মারা গিয়েছিলেন '৫৩ সালে। তার আগের ৬ বছর তিনি সক্রিয় ছিলেন৷ কিন্তু বিশেষ কিছু করতে পারেননি।
একটা সহজ, জনপ্রিয় (এবং আমার পছন্দের) ব্যাখ্যা এমন হতে পারে, উদ্বাস্তু জনগণের পাশে বুকটান করে দাঁড়িয়েছিল কমিউনিস্ট পার্টি-সহ বামপন্থীরা। ইউসিআরসি গড়ে উঠেছিল। ফলে তাঁদের বড় অংশের সমর্থন বামপন্থীরা পেয়েছিলেন৷ জনসংঘ বা হিন্দু মহাসভার তেমন সংগঠন ছিল না৷ ফলে তাঁরা এঁটে উঠতে পারেননি।
এই সহজ ব্যাখ্যার মূলস্রোতের আড়ালে কি আরও কিছু ব্যাখ্যার সুযোগ আছে? বামপন্থী রাজনীতির ভিতরমহলে কি চারের দশক থেকে ক্ষমতাকেন্দ্রের সরণ ঘটছিল? যদি ঘটে থাকে, তাহলে কি তাকে আরেকটু তলিয়ে, অন্য কোনও লেন্সে পাঠ করার সুযোগ আছে? বামপন্থার কথা থাক। একটু ফুটবলের কথায় আসি৷ তিনের দশক, চারের দশকে কলকাতা ময়দান দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মহামেডান স্পোর্টিং। পর পর লিগ জিতছে। কমিউনিস্ট রাজনীতিতেও তখন সোমনাথ লাহিড়ীদের পাশাপাশি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো অবস্থান করছেন কমরেড হালিম, কমরেড কাকাবাবু। ময়দানে চারের দশক থেকে প্রবল উত্থান ঘটছে ইস্টবেঙ্গলের। পূর্বঙ্গের হিন্দু বাঙালির দল৷ স্বাধীনতার পর থেকে আস্তে আস্তে প্রভাব কমছে মহামেডানের৷ ময়দানে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গল। বাংলার কমিউনিস্ট রাজনীতিও ততদিনে পেয়ে গিয়েছে এমন দুই দুর্দান্ত চরিত্রকে, যাঁরা আগামী অনেকগুলো বছর নেতৃত্ব দেবেন বামপন্থী আন্দোলনকে- জ্যোতি বসু, প্রমোদ দাশগুপ্ত।
বিজেপি বাংলার সরকারে চলে এসেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই চলবে। কিন্তু আমরা একসঙ্গে মিলে আমাদের ঐতিহাসিক ফল্টলাইনগুলির খোঁজ করব না? ঝগড়াঝাঁটি না করে, একে অন্যের উপর রাগ না করে, শান্ত হয়ে ইতিহাসের গল্প করলে কিন্তু আখেরে ক্ষতি হবে না।
লেখাঃ Arka Bhaduri
14/05/2026
-মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ০৬ বছর পূর্বে, অর্থাৎ ১৫২০ ঈসাব্দে ভারতবর্ষ।
-এটি ছিল সেই বেদনাবিধুর যুগ, যখন ভারতবর্ষের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। প্রদেশগুলো তো স্বাধীন হয়ে গিয়েছিলই, ছোট ছোট জেলা, শহর, এমনকি দুর্গ পর্যন্ত স্বাধীনতা লাভ করে কেন্দ্রীয় শাসনের আনুগত্য অস্বীকার করে বসে। কারো মাঝে কোনো সদ্ভাব ছিল না। নিজেদের মাঝে লড়াই করতেই ব্যস্ত ছিল তারা। সবাই চাইত অপরের রাজ্য দখল করে নিজের রাজ্যের আয়তন বৃদ্ধি করতে। দিল্লির কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বিচ্ছিন্ন খণ্ড-বিখণ্ড ভারতবর্ষ একটি কেন্দ্রীয় শাসনের জন্য ছটফট করছিল। আন্দালুসের উমাইয়া খিলাফত পতনের পর আন্দালুস যেমন ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত হয়ে মুলুক আত-তাওয়াইফ তথা বিবাদমান আঞ্চলিক রাজন্যবর্গ নামে পরিচিতি পায়, ভারতবর্ষের অবস্থাও ঠিক তেমনই ছিল। এমনই এক দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে ভারতবর্ষকে একতাবদ্ধ করতে এগিয়ে আসে মুঘলরা; খণ্ড-বিখণ্ড দেশটাকে পুনরায় কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে আসে মহান মুঘল সম্রাটরা।
-সংগৃহীত