এত এত ধর্মীয় আলোচনার পরেও আমাদের মধ্যে কোন পরিবর্তন হচ্ছে না কেন?
Numan Osman
Let's go to jannah together❤️
জীনের অস্তিত্ব কী আসলেই আছে?
৯৫% মুসলমানের ঈমান ঠিক নেই!
কেন?
মুসলিম হিসেবে প্রথম ফরজ হল= ইসলাম শিখা।
প্রথম ফরজ আদায় করা ছাড়া কিভাবে আপনি নিজেকে মুমিন হিসেবে পরিচয় দেন?
আপনি কী জানেন কতটুকু পরিমাণ ইলম শিখা আপনার উপর ফরজ ছিল?
আপনি হয়ত তাও জানেন না!
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
طلبُ العِلمِ فريضةٌ على كلِّ مسلمٍ
"প্রত্যেক মুসলিমের উপর ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা ফরজ"
কখনো কী নিজেকে প্রশ্ন করেছেন:- ঠিক কতটুকু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা ফরজ আপনার উপর?
আকায়েদুল ইসলাম
ফারায়েজুল ইসলাম
মাহারিমুল ইসলাম
ও আদাবুল ইসলাম -সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে জানা
আপনার উপর ফরজ।
এগুলা জানলেই আপনি পুর্ণ ইমান সম্পর্কে জানবেন,পুর্ণ ইসলাম সম্পর্কে জানবেন।
তবেই আপনি পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবেন,পরিপূর্ণ রুপে ইসলামে প্রবেশ করতে পারবেন।
আল্লাহ বলেন:يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً
"হে ইমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণ রুপে ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করো!
পরিপূর্ণ রুপে ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করার এক মাত্র উপায় ফরজে আইন ইলম অর্জন করা।
কত কিছুই না শিখলেন! দুনিয়াবি জ্ঞানের পিছনে কত সময় ই না দিলেন!
কখনো কী একবারের জন্যও ধর্ম শিখার ইচ্ছে হয়নি?
হয়েছে হয়ত! কিন্তু আপনার সামনে নির্দিষ্ট কোন কারিকুলাম ছিল না,কোত্থেকে শিখা শুরু করবেন?কতটুকু শিখবেন তা হয়ত আপনি জানতেন না।
তাই আপনাদের জন্য Al ihda Academy'র এই দারুণ আয়োজন।
পূর্ণাঙ্গ ফরজে আইন ইলম কোর্স (পূর্ণাঙ্গ মৌলিক দ্বীন শিক্ষা)
এই কোর্স টি আমরা এত টা সাবলিল ভাবে প্রস্তুত করার চেস্টা করেছি,যাতে সবার জন্য বোঝা ও আয়ত্ব করা একদম সহজ হয়।
কোর্স টি কমপ্লিট করার পর ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে আপনি পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান লাভ করে ফেলবেন ইনশাল্লাহ।
একজন মুসলমান হিসেবে যা যা জানতেই হবে তার সব কিছুই আপনার সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
বাংলাদেশে ইতিপুর্বে এমন মৌলিক দীন শিক্ষার কমপ্লিট কোর্স আর তৈরী হয়নি।
✅সাথে আছে ১২ হাজার টাকা মুল্যের ১৫ টি ইসলামী লার্ণিং কোর্স একদম ফ্রি।
✅লাইফটাইম ইসলামি স্কলারদের সাপোর্ট।
✅লাইফটাইম এক্সেস।
কোর্সটি নিতে ভিজিট করুন:www.alihdaacademy.com
অথবা কল করুন:01870384867
07/03/2024
বলতে পারবেন,ইসলামের প্রথম ফরজ কী?
নামাজ পড়া না, রোজা রাখা না, বা অন্য কোন ইবাদত না!
বরং ইসলামের প্রথম ফরজ হলঃ ধর্মীয় ইলম অর্জন করা ।
প্রত্যাক মুসলমানের উপর ফরজ হল নির্দিষ্ট পরিমান দ্বীনি ইলম অর্জন করা।
১৪'শ বছর পুর্বে হেরার অন্ধকারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ প্রথম বাক্যটি ছিল:ইক্বরা মানে পড়ো,জ্ঞান অর্জন করো।
নবী সা:বলেন:طلب العلم فريضة على كل مسلم' দ্বিন শিক্ষা ফরজ'
একটা মাস'আলা প্রায় শুনেছেন: দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা ফরজ!
এখন প্রশ্ন হচ্ছেঃ- কতটুকু ইলম অর্জন করলে আপনার ফরজ আদায় হবে?
একজন মুসলমানের উপর যে সকল বিষয় ইলম অর্জন করা ফরজ,তা দুই ধরণের।
১।ইলমুল আঈন-যে গুলা সর্বাবস্থায় জানা থাকতে হবে।
২।ইলমুল হাল- যে গুলো পরিস্থিতি যখন সামনে আসবে তখন অর্জন করতে হবে।
ইলমুল আঈন-যে গুলা সর্বাবস্থায় জানা থাকতে হবে সেগুলা কী কী?
৪ টা শিরোনামে বলতে পারিঃ
(ক) আকায়েদুল ইসলাম
(খ) ফারায়েজুল ইসলাম
(গ)মাহারিমুল ইসলাম
(ঘ) আদাবুল ইসলাম
এখন গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, কোথায় শিখতে পারবেন ?
শিখার অনেক মাধ্যম আছে,প্রতিটি বিষয় নিয়ে অনেক বই পত্র আছে।
তা থেকে পড়ে নিজে নিজে শিখতে পারেন ইনশাল্লাহ।
আপনি যদি চান উস্তাদের কাছ থেকে দারস এর মধ্যমে শিখতে চান তাহলে Al-ihda Academy আয়োজন করেছে কমপ্লিট মৌলিক দ্বীন শিক্ষা কোর্স!
এই কোর্স টিতে কী কী পাবেন?
ইলমুল আঈন এর জাবতীয় সব কিছুই শিখতে পারবেন।
ইলমুল হাল জানতে পারবেন সরাসরি মুফতী সাহেব দের কাছে।
স্কলারদের নিয়ে গঠিক্ত সিক্রেট হোয়াটস্যাপ গ্রুপের এক্সেস পাবেন।
আমাদের লাইফটাইম সাপোর্ট পাবেন।
জনাব, আমার জানার বিষয় হল, জানাযার পর পর দাফনের পূর্বে হাত উঠিয়ে সম্মিলিত দুআ করা জায়েয আছে কি না? আমাদের এলাকায় দেখা যায়, কোনো কোনো হুজুর জানাযার পর পর দাফনের পূর্বে হাত উঠিয়ে সম্মিলিত দুআ করে থাকেন। আবার কোনো হুজুর বলেন, জানাযার পর পর দাফনের পূর্বে হাত উঠিয়ে সম্মিলিত দুআ করা জায়েয নাই। তাই এটা করতে নিষেধ করে থাকেন ।
অতএব কুরআন-হাদিসের আলোকে সমাধান জানালে উপকৃত হব। জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।
উত্তর
জানাযা নামাযের সালাম ফেরানোর পর প্রচলিত দুআ-মোনাজাত শরীয়ত কর্তৃক প্রমাণিত নয়। কেননা জানাযা নামাযই হচ্ছে মায়্যিতের জন্য দুআ। আর কোনো হাদীসে বা সাহাবা-তাবেয়ীন থেকে জানাযা নামাযের পর আবার দুআ করার কোনো প্রমাণ নেই। সেযুগে অসংখ্য সাহাবা-তাবেয়ীনের জানাযা নামায আদায় হয়েছে। কিন্তু তারা জানাযা নামাযের সালাম ফেরানোর পর সম্মিলিত বা একাকী দুআ করেননি এবং এসময় দুআ করার কোনো বক্তব্যও হাদীস-আছারে নেই। তাছাড়া ফকীহগণও স্পষ্টভাষায় জানাযা নামাযের পর দুআ করতে নিষেধ করেছেন। যেমন, হানাফী মাযহাবের ফিকহ-ফতোয়ার প্রসিদ্ধ কিতাব ‘খুলাসাতুল ফাতাওয়া’য় আছে―
لا يقوم بالدعاء بعد صلاة الجنازة.
অর্থাৎ জানাযা নামাযের পর দুআর জন্য দাঁড়াবে না। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৫)
হানাফী মাযহাবে ফতোওয়ার প্রসিদ্ধ আরেক কিতাব ‘ফতোয়া বায্যাযিয়া’য় উল্লেখ হয়েছে―
لا يقوم بالدعاء بعد صلاة الجنائز؛ لأنه دعا مرة؛ لأن أكثرها دعاء.
জানাযা নামাযের পর দুআর জন্য দাঁড়াবে না। কেননা (জানাযার নামাযে) একবার তো দুআ করেছেই। কারণ, জানাযার অধিকাংশটাই হচ্ছে (মৃতের জন্য) দুআ। (ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/৮০)
সুতরাং জানাযা নামাযের পর দুআ করার যে প্রচলন কোথাও কোথাও লক্ষ করা যায় তা সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ। তা পরিত্যাগ করা কর্তব্য।
অবশ্য মায়্যিতকে দাফন করার পর সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে মায়্যিতের জন্য দুআ-ইস্তিগফার করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, হযরত উসমান রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন―
كَانَ النّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسَلُوا لَه بِالتّثْبِيتِ، فَإِنّهُ الْآنَ يُسْأَلُ.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করতেন তখন তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য মাগফিরাতের দুআ কর এবং সে যেন (প্রশ্নের জবাবে) সুদৃঢ় থাকতে পারে সে দুআ কর। এখনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩২১৩)
―শরহু সুনানে আবু দাউদ, আইনী ৪/২৭৫; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/২৭১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১০৯; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ২৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৯০; মিরকাতুল মাফাতীহ ৪/১৪৯; ইমদাদুল মুফতীন, পৃ. ১৬৪; ইমদাদুল আহকাম ১/১৯৪
এটাতো সবাই জানেন, ইসলাম কোন গোষ্ঠীগত বা বংশীয় উত্তরাধিকার নয় যে, মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহণ করলেই সে এমনিতেই মুসলমান হয়ে যাবে এবং মুসলমান হওয়ার জন্য তার কোন কিছু করা লাগবে না।
যেমন শেখ বা সাইয়েদ বংশে জন্মগ্রহণ করলেই সন্তান এমনিতেই শেখ বা সাইয়েদ হয়ে যায়। শেখ বা সাইয়েদ হওয়ার জন্য তাকে কোন কিছু করতে হয় না,
কিন্তু ইসলাম এমন একটি ধর্মের নাম, এমন একটি জীবন বিধানের নাম, যা আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছিলেন, যা কুরআনে কারীমে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
অতএব, যে এই দ্বীন মেনে নিবে এবং সে অনুযায়ী নিজের জীবন পরিচালনা করবে, সে-ই মূলত মুসলমান। যারা এই দ্বীন সম্পর্কে ধারণা রাখে না এবং সে অনুযায়ী জীবন গঠন করে না, সে খাঁটি মুসলমান নয়। সুতরাং বুঝা গেল যে, খাঁটি মুসলমান হতে হলে দুটো বিষয় অত্যন্ত জরুরী-
১. আমরা দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে জানবো, কমপক্ষে প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়াবলীর জ্ঞান অর্জন করবো।
২. এই দ্বীনকে আমরা মানবো এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেব।
-এরই নাম ইসলাম এবং মুসলমান হওয়ার অর্থই হলো এটা।
ইসলামী জ্ঞান অর্জন করা অর্থাৎ অত্যাবশ্যকীয় বিষয়সমূহ জানা, মুসলমান হওয়ার পূর্বশর্ত। এ জন্যই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
طلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
অর্থাৎ- 'দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয।'
(ইবনে মাজাহ, বায়হাকী)
🚫স্মরণ রাখতে হবে যে, আমাদের ধর্মে যেসব কাজ ফরয সেসব কাজ সম্পাদন করা-ইবাদত। এজন্য ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা এবং ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করাও ইবাদত। এজন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে অনেক সওয়াব বা প্রতিদান রয়েছে। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজের অনেক ফযীলত ও মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। একখানা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
🟢'যে ব্যক্তি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করার জন্য ঘর থেকে বের হয়, সে ঘরে ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় থাকে।' (তিরমিযী) অন্য এক হাদীসে এসেছে-
🟢'যে ব্যক্তি ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য কোন রাস্তায় পা বাড়ায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য বেহেশতের রাস্তা সুগম করে
দেন।' (মুসলিম)
আরেকটি হাদীসে এসেছে-
🟢'ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ এবং তা অর্জনের জন্য চেষ্টা করা পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ।' (তিরমিযী) (অর্থাৎ এ দ্বারা মানুষের পেছনের গুনাহ মাফ হয়ে যায়)
মোটকথা, প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা, ইসলামের অত্যাবশ্যকীয় বিষয়াবলীর ধারণা লাভ করার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয।
সে ধনী হোক বা গরীব, যুবক হোক বা বৃদ্ধ, শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত, পুরুষ হোক বা নারী।
পূর্বে বর্ণিত হাদীস থেকে এটা বুঝা গেল যে, জ্ঞানার্জনের কাজে যে সময়টুকু অতিবাহিত হয়, এর জন্য যে পরিশ্রমটুকু করতে হয়, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে এর বিরাট প্রতিদান আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
সুতরাং আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে, ইসলামের খুব জরুরী বিষয়গুলোর জ্ঞান অর্জনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
আসুন! এসব বিষয়গুলো আমরা নিজেরা শিখি, অন্যদেরকে শিখাই। এসব ইসলামী সভ্যতা প্রচলনে এবং সর্বত্র প্রসার ঘটাতে আমরা আমাদের চেষ্টা-তদবীর কাজে লাগাই। একে জীবনের লক্ষ্যে পরিণত করি। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
'যে ব্যক্তি ইসলামকে জিন্দা করার নিয়তে দ্বীন শেখার চেষ্টা করে, (অর্থাৎ অন্যদের মাঝে প্রচার-প্রসার করে এবং সে অনুযায়ী তাদেরকে পরিচালনা করে) আর তখন যদি সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তবে সে কিয়ামতের দিন নবী-রাসূলদের এতো নিকটবর্তী থাকবে যে, তার মাঝে ও নবীদের মাঝে একটি মাত্র শ্রেণীর পার্থক্য থাকবে।'
🔴প্রতিটি মুসলমানের জানা থাকা আবশ্যক, এমন বিষয় গুলা নিয়ে আমাদের একটি দারুণ কোর্স আছে।সে সম্পর্কে জানতে আমাদের মেসেজ করতে পারেন ইনশাআল্লাহ।
অথবা ভিজিট করুন ঃwww.alihdaacademy.com
02/03/2024
একটি ভিত্তিহীন কিসসা
ইহুদীর লাশ দেখে নবীজীর আফসোস- যদি আমরা তাকে কিছু পূর্বে দাওয়াত দিতাম সে জাহান্নামী হত না
দাওয়াতের ফযীলত বর্ণনা করার সময় উম্মতের প্রতি নবীজীর দরদ এবং তাদের হেদায়েতের জন্য তাঁর ব্যাকুলতার কথা আলোচনা করতে গিয়ে কিছু মানুষকে এই কিসসাটি বলতে শোনা যায়-
একবার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের সাথে বসা ছিলেন। তাঁর সামনে দিয়ে এক ইহুদীর লাশ যাচ্ছিল। তা দেখে নবীজী কাঁদলেন। তখন উপস্থিত সাহাবীগণ বললেন, এ তো এক ইহুদীর লাশ; আপনি কাঁদছেন কেন?
তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরা যদি তাকে কিছু পূর্বে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতাম তাহলে সে জাহান্নামী হত না।
উম্মতের হেদায়েতের জন্য নবীজীর ব্যাকুলতা তো বর্ণনাতীত। তাঁর এ ব্যাকুলতার কথা তো খোদ আল্লাহ তাআলা কুরআন কারীমে অতি হৃদয়গ্রাহী ভাষায় তুলে ধরেছেন। ইরশাদ হয়েছে-
فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلٰۤي اٰثَارِهِمْ اِنْ لَّمْ يُؤْمِنُوْا بِهٰذَا الْحَدِيْثِ اَسَفًا.
(হে নবী! অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়) তারা (কুরআনের) এ বাণীর প্রতি ঈমান না আনলে যেন তুমি আক্ষেপ করে করে তাদের পেছনে নিজের প্রাণনাশ করে বসবে। -সূরা কাহফ (১৮) : ০৬
আরো ইরশাদ হয়েছে-
لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ اَلَّا يَكُوْنُوْا مُؤْمِنِيْنَ.
(হে রাসূল!) তারা ঈমান (কেন) আনছে না, এই দুঃখে হয়তো তুমি আত্মবিনাশী হয়ে যাবে! -সূরা শুআরা (২৬) : ০৩
মানুষ ঈমান না আনার বিষয়ে নবীজীর আক্ষেপ ও আফসোসের বিষয়ে স্পষ্ট ভাষায় ইরশাদ হয়েছে-
فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرٰتٍ اِنَّ اللهَ عَلِيْمٌۢ بِمَا يَصْنَعُوْنَ.
সুতরাং (হে নবী!) এমন যেন না হয় যে, তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) জন্য আফসোস করতে করতে তোমার প্রাণটাই চলে যায়। নিশ্চয়ই তারা যা-কিছু করছে, সে সম্পর্কে আল্লাহ পূর্ণ জ্ঞাত। -সূরা ফাতির (৩৫) : ০৮
এই হল উম্মতের প্রতি নবীজীর দরদ এবং তাদের ঈমান ও হেদায়েতের ব্যাপারে তাঁর ব্যাকুলতা। কিন্তু সে দরদ ও ব্যাকুলতা প্রকাশের উপরোক্ত কিসসাটি একেবারে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
তবে এক ইহুদীর ঈমানের বিষয়ে নবীজীর ব্যাকুলতা এবং সে ঈমান আনার পর নবীজীর শোকর আদায়ের একটি সহীহ বর্ণনা রয়েছে-
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: كَانَ غُلاَمٌ يَهُودِيٌّ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَرِضَ، فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُه، فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِه، فَقَالَ لَه: أَسْلِمْ، فَنَظَرَ إِلَى أَبِيه وَهُوَ عِنْدَه فَقَالَ لَه: أَطِعْ أَبَا القَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَسْلَمَ، فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ: الحَمْدُ لِلهِ الَّذِي أَنْقَذَه مِنَ النَّارِ.
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, এক ইহুদী বালক নবীজীর খেদমত করত। সে একবার অসুস্থ হলে নবীজী তাকে দেখতে গেলেন। তার মাথার কাছে বসলেন। এরপর বললেন, তুমি ইসলাম কবুল কর (ঈমান আনো)।
তখন বালকটি (অনুমতি প্রার্থনাসূচক দৃষ্টিতে) তার পিতার দিকে তাকাল।
তার পিতা বলল, তুমি আবুল কাসেমের (অর্থাৎ নবীজীর) কথা মেনে নাও (তার প্রতি ঈমান আনতে পারো)। এরপর বালকটি ইসলাম গ্রহণ করল।
নবীজী তার কাছ থেকে বের হয়ে বললেন-
الحَمْدُ لِلهِ الَّذِي أَنْقَذَه مِنَ النَّارِ.
আল্লাহর শোকর, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করলেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৫৬
যাইহোক, ঈমান আনার জন্য ইহুদীকে মৃত্যুশয্যায় দাওয়াত দেওয়ার ঘটনা সহীহ; কিন্তু আলোচ্য কিসসাটি বানোয়াট।
সকল নামাজের নিয়ত: কিছু জরুরি কথা!
নামাজের শুরুতে নিয়ত করা জরুরি। তবে মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয়। নিয়ত হলো অন্তরের সংকল্প। অর্থাৎ এমন সংকল্প করা—আমি ফজরের কিংবা জোহরের ফরজ নামাজ পড়ছি।
অন্তরের এই সংকল্প ছাড়া শুধু মুখে উচ্চারণ যথেষ্ট নয়। এতে নিয়ত হয় না। এমনকি যদি কেউ মুখে ভুল উচ্চারণ করে, জোহর নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে ভুলে মাগরিবের কথা বলে, কিন্তু তার মনে জোহর নামাজের কথাই আছে, তাহলে তার জোহর নামাজই আদায় হবে, মাগরিব নয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ মুখে উচ্চারণ করে নামাজের নিয়ত করেছেন বলেও কোনো প্রমাণ নেই। তাই একে সুন্নত বলাও ঠিক নয়।
তবে অন্তরের সংকল্পের পাশাপাশি মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করায় কোনো সমস্যাও নেই। খেয়াল রাখতে হবে, উচ্চারণসহ প্রচলিত আরবি বা বাংলা নিয়ত করতে গিয়ে যেন ‘তাকবিরে উলা’ ছুটে না যায় এবং অন্য মুসল্লির মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটে।
বর্তমান সময়ে আমাদের কোনো কোনো ভাই বলে থাকেন, ‘মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা বৈধ নয়। কারণ হাদীসে তো মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করার কথা নেই।’
তাদের এই কথাটি ঠিক নয়। কারণ, হাদীসে শুধু নিয়ত করার কথা আছে, মনে মনে না মুখে উচ্চারণ করে – এমন কোনো কথা নেই। মুখে উচ্চারণ করার কথাও নেই, মনে মনে পড়ার কথাও নেই। তবে হজের সময় মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করার বিষয়টি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাই হজের মতো নামাজের মধ্যেও মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা যেতে পারে। তবে এটি জরুরি কিংবা সুন্নত পর্যায়ের কোনো আমল নয়।
আবার অনেকে মনে করেন, আরবিতে নিয়ত না করলে নামাজ যেন পরিপূর্ণ হয় না।
তাই তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ সুন্নত, বেতের নামাজ, ঈদের নামাজ, জানাজার নামাজ, তারাবির নামাজ, তাহাজ্জুদ নামাজ, ইশরাকের নামাজ, আওয়াবিনের নামাজ ইত্যাদি সকল নামাজের ভিন্ন ভিন্ন নিয়ত মুখস্থ করেন।
অথচ আরবিতে এভাবে নিয়তের সাথে নামাজ পূর্ণ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
Kandirpar
Cumilla
3502