La Ilaha Illallah - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ - لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّه

La Ilaha Illallah - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ - لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّه

Share

La Ilaha Illallah - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ - لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ

21/10/2023
12/10/2023

🟢 ও আল্লাহ্ ! আপনি মাসজিদুল আক্বসা কে হেফাজত করুন।
🟢 ও আল্লাহ্ ! আপনি মাসজিদুল আক্বসা কে হেফাজত করুন।
🟢 ও আল্লাহ্ ! আপনি মাসজিদুল আক্বসা কে হেফাজত করুন।

🔴 আগ্রাসকদের আগ্রাসন থেকে এবং
🔴 দখলদারদের দখল থেকে।

🟢 হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী (আল্লাহ্) !
🟢 আপনি সেটাকে কেয়ামত পর্যন্ত সম্মানিত এবং গৌরবময় রাখুন।
🟢 হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক !

Jazak Allahu Khayran - জাযাক আল্লাহু খাইরান - ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ

🎙️ আব্‌দুর রহ্‌মান বিন আব্‌দিল আযিয আস-সুদাইস (হাফিঃ)

27/07/2023

⚫ জামে’ আত–তিরমিজি

🔴 ৬▪️কিতাবুল সিয়াম (রোযা)

🔵 ৫০▪️অনুচ্ছেদ

⚫ কোন্‌টি আশূরার দিন?

🟢 ৭৫৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِصَوْمِ عَاشُورَاءَ يَوْمَ الْعَاشِرِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ يَوْمُ التَّاسِعِ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ يَوْمُ الْعَاشِرِ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ صُومُوا التَّاسِعَ وَالْعَاشِرَ وَخَالِفُوا الْيَهُودَ ‏.‏ وَبِهَذَا الْحَدِيثِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, (মুহার্‌রামের) দশম তারিখে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশূরার রোযা পালন করতে আদেশ করেছেন।

🔳 আবূ ঈসা ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। আলিমগণের মধ্যে আশূরার দিন প্রসঙ্গে দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ (মুহার্‌রামের) নয় তারিখের কথা বলেন, আবার অন্য একদল দশ তারিখের কথা বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তোমরা নয় ও দশ (এই দুই দিন) রোযা পালন কর এবং (এই ক্ষেত্রে) ইয়াহূদীদের বিপরীত কর। এই হাদীস অনুযায়ী মত প্রকাশ করেছেন ইমাম শাফিঈ, আহ্‌মাদ ও ইসহাক।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ জামে’ আত–তিরমিজিঃ ( ৭৫৫ ) ]

––––––––––––––––––––––––––––––

⚫ সহিহ মুসলিম

🔴 ১৪▪️কিতাবুস্‌ সিয়াম (রোজা)

🔵 ৩৬▪️অধ্যায়

⚫ প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন, ‘আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফাযীলাত

🟢 ১১৬২ ( আন্তর্জাতিক নাম্বার )
২৬৩৬ ( হাদিস একাডেমি নাম্বার )

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، جَمِيعًا عَنْ حَمَّادٍ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، - عَنْ غَيْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، رَجُلٌ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَيْفَ تَصُومُ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ - رضى الله عنه - غَضَبَهُ قَالَ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ غَضَبِ اللَّهِ وَغَضَبِ رَسُولِهِ ‏.‏ فَجَعَلَ عُمَرُ - رضى الله عنه - يُرَدِّدُ هَذَا الْكَلاَمَ حَتَّى سَكَنَ غَضَبُهُ فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ الدَّهْرَ كُلَّهُ قَالَ ‏"‏ لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ - أَوْ قَالَ - لَمْ يَصُمْ وَلَمْ يُفْطِرْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمَيْنِ وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ ‏"‏ وَيُطِيقُ ذَلِكَ أَحَدٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ ‏"‏ ذَاكَ صَوْمُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمَيْنِ قَالَ ‏"‏ وَدِدْتُ أَنِّي طُوِّقْتُ ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ثَلاَثٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ فَهَذَا صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ ‏"‏ ‏.

আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনি কিভাবে সওম পালন করেন? তার এ কথায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসন্তুষ্ট হলেন। ‘উমার (রাঃ) তাঁর অসন্তোষ লক্ষ্য করে বললেন, “আমরা আল্লাহ্‌র উপর (আমাদের) প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর (আমাদের) দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর আমাদের নবী হিসেবে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহ্‌র কাছে তাঁর ও তাঁর রসূলের অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি”। উমার (রাঃ) কথাটি বার বার আওড়াতে থাকলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসন্তোষের ভাব দূরীভূত হ’ল। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! যে ব্যক্তি সারা বছর সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, সে সওম পালন করেনি এবং ছেড়েও দেয়নি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, যে ব্যক্তি একদিন পর একদিন সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, এটা দাঊদ (আঃ)-এর সওম। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, যে একদিন সওম পালন করে ও একদিন করে না, তার অবস্থা কিরূপ? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি আশা করি যে, আমার এতটা শক্তি হোক। তিনি পুনরায় বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করা এবং রমাযান মাসের সওম এক রমাযান থেকে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত সারা বছর সওম পালনের সমান। আর ‘আরাফাহ্ দিবসের সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহ্‌র কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে। আর ‘আশুরার সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহ্‌র কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফ্‌ফারাহ্‌ হয়ে যাবে।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ সহিহ মুসলিমঃ ( হা.এ. - ২৬৩৬ ), ( আ.না. - ১১৬২ ), ( ই.ফা. - ২৬১৩ ), ( ই.সে. - ২৬১২ ) ]

––––––––––––––––––––––––––––––

⚫ সহিহ মুসলিম

🔴 ১৪▪️কিতাবুস্‌ সিয়াম (রোজা)

🔵 ৩৮▪️অধ্যায়

⚫ মুহার্‌রমের সওমের ফাযীলাত

🟢 ১১৬৩ ( আন্তর্জাতিক নাম্বার )
২৬৪৫ ( হাদিস একাডেমি নাম্বার )

حَدَّثَنِي قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، الْحِمْيَرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلاَةُ اللَّيْلِ ‏"‏ ‏.

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: রমাযানের সিয়ামের পর সর্বোত্তম সওম হচ্ছে আল্লাহ্‌র মাস মুহাররমের সওম এবং ফরয সলাতের পর সর্বোত্তম সলাত হচ্ছে রাতের সলাত।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ জামে’ আত–তিরমিজিঃ ( ৭৫৫ ),
সহিহ মুসলিমঃ ( হা.এ. - ২৬৩৬ ), ( আ.না. - ১১৬২ ), ( ই.ফা. - ২৬১৩ ), ( ই.সে. - ২৬১২ ),
সহিহ মুসলিমঃ ( হা.এ. - ২৬৪৫ ), ( আ.না. - ১১৬৩ ), ( ই.ফা. - ২৬২২ ), ( ই.সে. - ২৬২১) ]

Jazak Allahu Khayran - জাযাক আল্লাহু খাইরান - ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ

IRD Foundation
ইউনিকোড বাংলা হাদিস - Bangla Hadith Unicode

⚫ সুনানে আবু দাউদ

🔴 ২▪️সালাত (নামায)

🔵 ১৪১▪️অনুচ্ছেদ

⚫ সাজদাহর সময় হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখা প্রসঙ্গে

🟢 ৮৪০

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَسَنٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَبْرُكْ كَمَا يَبْرُكُ الْبَعِيرُ وَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ ‏"‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সাজদাহর সময় উটের ন্যায় না বসে এবং সাজদাহকালে যেন মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখে।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ সুনানে আবু দাউদঃ ( আ.এ. - ৮৪০ ), ( ই.ফা. - ৮৪০ ) ]

–––––––––––––––––––––––––––––––

⚫ সুনানে আন–নাসায়ী

🔴 ১১▪️সালাত আরম্ভ করা

🔵 ৩৮▪️পরিচ্ছেদ

⚫ সিজদায় সর্বাগ্রে যে অঙ্গ যমীনে পৌঁছাবে

🟢 ১০৯১

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارِ بْنِ بِلَالٍ مِنْ كِتَابِهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ وَلَا يَبْرُكْ بُرُوكَ الْبَعِيرِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন সিজদা করে তখন সে যেন হাঁটু স্থাপনের পূর্বে তার উভয় হাত স্থাপন করে আর সে যেন উটের বসার মত না বসে।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ সুনানে আন–নাসায়ীঃ ( হা.এ. - ১০৯১ ), ( আ.না. - ১০৯২ ), ( ই.ফা. - ১০৯৪ ) ]

–––––––––––––––––––––––––––––––

⚫ মিশকাতুল মাসাবিহ–মিশকাত

🔴 ৪▪️সলাত

🔵 ১৪ - পরিচ্ছদ▪️২ - অনুচ্ছেদ

🟢 ৮৯৯

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَبْرُكْ كَمَا يَبْرُكُ الْبَعِيْرُ وَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَائِـيُِّ وَالدَّارِمِيُّ قَالَ أَبُوْ سُلَيْمَانَ الْخَطَّابِيُّ : حَدِيْثُ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ أَثْبَتُ مِنْ هذَا وَقِيْلَ هذَا مَنْسُوْخ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ সাজদাহ করার সময় যেন উটের বসার মত না বসে, বরং দু হাত যেন হাঁটুর আগে মাটিতে রাখে।

🔳 আবূ সুলায়মান খাত্তাবী বলেন, এ হাদীসের চেয়ে ওয়ায়িল এর আগের হাদীসটি বেশী মজবুত। কেউ কেউ বলেন, এ হাদীসটি মানসূখ বা রহিত।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ মিশকাতুল মাসাবিহ–মিশকাতঃ ( ৮৯৯ ) ]

–––––––––––––––––––––––––––––––

⚫ সুনানে আবু দাউদ

🔴 ২▪️সালাত (নামায)

🔵 ১৪১▪️অনুচ্ছেদ

⚫ সাজদাহর সময় হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখা প্রসঙ্গে

🟢 ৮৪১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَسَنٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَيَبْرُكُ كَمَا يَبْرُكُ الْجَمَلُ ‏"‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কেউ সালাত উটের বসার ন্যায় বসে থাকে।

🔳 মাসআলাহঃ সিজদার সময় হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখা প্রসঙ্গে

🟥 (১) ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতে সিজদায় যাওয়ার সময় (মাটিতে) হাতের পূর্বে হাঁটু রাখতে দেখেছি। আর তিনি সিজদা থেকে দাঁড়াবার সময় হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন।

🟨 দুর্বল ( যঈফ )

[ সুনানে আবু দাউদঃ ( যঈফ ) ( আ.এ. - ৮৩৮, ৮৩৯ ), ( ই.ফা. - ৮৩৮, ৮৩৯ ),
  সুনানে ইবনে মাজাহঃ ( যঈফ ) ( ৮৮২ ),
  সুনানে আন–নাসায়ীঃ ( যঈফ)  ( হা.এ. - ১০৮৯ ), ( আ.না. - ১০৯০ ), ( ই.ফা. - ১০৯২ ),
  জামে’ আত–তিরমিজিঃ ( যঈফ) ( মা.প্র. - ২৬৮), ( ই.ফা. - ২৬৮ ),
  মিশকাতুল মাসাবিহ–মিশকাতঃ ( যঈফ ) ( ৮৯৮ ),
  অনুরূপ ;
  দারিমী (১/৩০৩), ত্বাহাভী (১/১৫০), দারাকুতনী (১৩১-১৩২), হাকিম (১/২২৬), এবং তার থেকে বায়হাক্বী (২/৯৮) ]

◾ আল্লামা আলবানী বলেন, এ সনদটি দুর্বল। ইমাম তিরমিযী বলেন, ‘হাদীসিটর সনদ গরীব, শারীক সূত্রে এরূপ হাদীস অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমরা জানি না।’ ইমাম হাকিম বলেন, ‘ইমাম মুসলিম শারীক ও আসিম ইবনু কুলাইব দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তারা যেমনটি বললেন বিষয়টি তেমন নয়, যদিও ইমাম যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন। কেননা শারীকের দ্বারা ইমাম মুসলিম দলীল গ্রহণ করেননি। তিনি তার বর্ণনা মুতাবা‘আতে এনেছেন মাত্র। যেমন এ বিষয়টি কতিপয় মুহাক্কিক্ব স্পষ্ট করে বলেছেন। যাদের মধ্যে স্বয়ং ইমাম যাহাবীও ‘আল-মিযান’ গ্রন্থে এরূপ বলেছেন। বেশীর ভাগই দেখা যায়, ইমাম হাকিম অতঃপর ইমাম যাহাবী এরূপ সংশয়ে পড়ে থাকেন এবং তারা শারীকের হাদীসসমূহকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলে থাকেন। সেজন্য এ ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক করা হলো। ইমাম দারাকুতনী হাদীসটি বর্ণনার পরপরই বলেছেন, ‘‘এতে শারীক সূত্রে ইয়াযীদ একক হয়ে গেছেন। কেবল শারীকই এটি ইয়াযীদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর যে বর্ণনায় শারীক একক হয়ে যান, সেখানে তিনি শক্তিশালী নন।’’

◾ আল্লামা আলবানী বলেন, এটাই সঠিক কথা। ইয়াযীদ ইবনু হারূন বলেছেন, ‘‘শারীক এ হাদীস ছাড়া অন্য কোনো হাদীস ‘আসিম সূত্রে বর্ণনা করেননি।’’ জমহুর ইমামগণের নিকট শারীকের স্মরণশক্তি ভালো না। বরং মন্দ। কতিপয় ইমাম তো স্পষ্ট করে বলেছেন, শারীক সংমিশ্রণ করতেন। সেজন্য তিনি কোনো বর্ণনায় একক হয়ে গেলে তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না। সুতরাং তিনি যখন কোনো নির্ভরযোগ্য হাফিযগণের বিপরীত করবেন তখন তার অবস্থা কিরূপ হবে?

◾ হাদীসটি একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ‘আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাতে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের বিবরণ শারীকের বর্ণনার সালাতের বিবরণের চেয়েও বেশী পূর্ণ করে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও সিজদা করা ও সিজদা থেকে উঠার পদ্ধতি ‘আসিম থেকে মোটেই উল্লেখ করেননি। যেমনটি আবূ দাঊদ, নাসায়ী, আহমাদ ও অন্যান্য বিদ্বানগণ যায়িদাহ, ইবনু উয়াইনাহ ও শুজা‘ ইবনুল ওয়ালীদ সূত্রে ‘আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাদের সকলে সম্মিলিত বর্ণনা প্রমাণ করেছেন যে, ‘আসিমের হাদীসের সিজদার যে পদ্ধতি শারীকের একক বর্ণনা থেকে এসেছে তা মুনকার।

🟥 (২) হাদীসটি শারীক ছাড়াও অন্যজন ‘আসিম থেকে তার পিতা থেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। সেখানে ওয়ায়িলের কথা উল্লেখ নেই। সেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবূ দাঊদ, ত্বাহাভী ও বায়হাক্বী শাকীক আবূ লাইস থেকে। তিনি বলেছেন, আমার নিকট হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ‘আসিমা। কিন্তু এ শাকীক মাজহুল। তাকে চেনা যায়নি। যেমনটি বলেছেন ইমাম যাহাবী ও অন্যরা।

🟥 (৩) হাদীসটির আর একটি সূত্র রয়েছে। সেটিও দোষযুক্ত। যা বর্ণনা করেছেন আবূ দাঊদ ও বায়হাক্বী ‘আব্দুল জাব্বার ইবনু ওয়ায়িল থেকে তার পিতা সূত্রে। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদায় যেতেন তখন তাঁর হস্তদ্বয় মাটিতে রাখার পূর্বে হাঁটুদ্বয় মাটিতে স্থিরভাবে রাখতেন।

◾ বর্ণনাকারী শাকীকের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, ‘আসিম ইবনু কুলাইদ তার পিতা থেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে এ সনদের উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত বর্ণনাকারীদ্বয়ের কোনো একজনের বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘‘তিনি যখন সিজদার পর দাঁড়াতেন তখন তিনি হাঁটুর উপর ভর করে দাঁড়াতেন।’’

◾ এর দোষ হচ্ছে সনদের ‘আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়ায়িল ও তার পিতার মাঝে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা)। কেননা তিনি তার পিতা থেকে শুনেনি (এবং তার পিতাকে পাননি)। যেমনটি বলেছেন ইবনু মাঈন, ইমাম বুখারী ও অন্যান্য হাফিযগণ। আর দ্বিতীয় সনদে শাকীক মাজহুল ব্যক্তি।

🟥 (৪) এ বিষয়ে আর একটি হাদীসঃ ‘‘তিনি তাঁর দু’ হাঁটুর উপর ভর করে সিজদায় যেতেন। কোনো ঠেস লাগাতেন না।’’

◾ ইবনু হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এর সনদটি দুর্বল। সনদে মাজহুল বর্ণনাকারীদের সমাবেশ ঘটেছে। ইবনুল মাদীনী বলেন, আমরা এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু মু‘আযকে, তার পিতাকে, তার দাদাকে চিনি না। এ সনদটি মাজহুল। হাফিয ইবনু হাজার বলেন, মুহাম্মাদ মাজহুল এবং তার ছেলে মু‘আ মাকবূল। আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু হিব্বান কর্তৃক তাদেরকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেয়ার দিকে দৃষ্টি দিয়ে ধোঁকায় পরা যাবে না। কেননা এ বিষয়ে তার মতটি শায। কারণ তিনি তাতে জমহুর মুহাদ্দিসগণের ঐক্যমতে প্রসিদ্ধ মতের উপর চলেননি।

🟥 (৫) এ অধ্যায়ে আর একটি হাদীস রয়েছেঃ সেটিও ত্রুটিযুক্ত। যা বর্ণনা করেছেন ‘আলা ইবনু ইসমাঈল... আনাস (রাঃ) থেকে। তিনি বলেন, ‘‘আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাকবীরের সাথে সাথে ঝুঁকে পড়তে দেখেছি। তাঁর দু’ হাঁটু তাঁর দু’ হাতের চেয়ে অগ্রণী হয়ে যেতো।’’ এটি বর্ণনা করেছেন দারাকুতনী, হাকিম, তাঁর থেকে বায়হাক্বী। ইমাম দারাকুতনী ও বায়হাক্বী বলেন, ‘আলা ইবনু ইসমাঈল হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আমি (আলবানী) বলছিঃ সনদের ‘আলা ইবনু ইসমাঈল মাজহুল। যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম এবং তার পূর্বে বায়হাক্বী বলেছেন। ইবনু আবূ হাতিম তার পিতার সূত্রে বলেন, এ হাদীসটি মুনকার। আর হাকিম ও যাহাবী যে বলেছেন, এটি শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ, এটি তাদের দু’ জন থেকে এ আলার অবস্থা সম্পর্কে বড় ধরণের অবহেলা। তিনি শায়খাইনের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন!

◾ সিজদাকালে হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখার হাদীস দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সহীহ হাদীসসমূহেরও পরিপন্থি। তা হচ্ছেঃ

🔲 প্রথম হাদীসঃ عن ابن عمر أنه كان يضع يديه قبل ركبتيه وقال كان النبى صلى الله عليه وسلم يفعل ذلك

‘‘ইবনু উমার সূত্রে বর্ণিত। তিনি হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে হস্তদ্বয় রাখতেন এবং তিনি বলতেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন।’’

◾ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ত্বাহাভী ‘শারহু মা‘আনি’, দারাকুতনী (১৩১), হাকিম (১/২২৬), তার থেকে বায়হাক্বী (২/১০০), এবং হাযিমী ‘আল-ই‘তিবার’ (৫৪)- একাধিক সনদে ‘আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ দারাওয়ারদী থেকে, তিনি ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার থেকে তিনি নাফী‘ থেকে ইবনু উমার সূত্রে। ইমাম হাকিম বলেছেন, মুসলিমের শর্তে সহীহ। ইমাম যাহাবীও তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। (আলবানী বলেন) হাদীসটি সেইরূপ যেমন তারা বলেছেন হাদীসটিকে আরো সহীহ বলেছেন ইবনু খুযাইমাহ যেমন বুলুগুল মারাম গ্রন্থে (১/২৬৩) রয়েছে। আর ইমাম হাকিম বলেছেন, আমার অন্তর তার দিকে আকৃষ্ট। অর্থাৎ ওয়ায়িলের হাদীস থেকে এদিকে। কেননা এ ব্যাপারে সাহাবীগণ ও তাবেঈন সূত্রে বহু বর্ণনা আছে। আর ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনাটিকে এমন দোষে দোষী করেছেন যা নিন্দনীয় নয়। তিনি বলেছেনঃ ‘আব্দুল আযীয যেরূপ বলেছেন আমি তাতে কেবল সংশয় দেখছি, অর্থাৎ মারফূ করণে। তিনি বলেনঃ মাহফুয হচ্ছে যা আমরা পছন্দ বা চয়ন করেছি। অতঃপর তিনি বর্ণনা করেন, আইয়্যূব সনদে নাফী‘ থেকে ইবনু উমার সূত্রেঃ তোমাদের কেউ সিজদাকালে যেন হস্তদ্বয় রাখে এবং তা থেকে উঠার সময় যেন হস্তদ্বয় উঠায়। হাফিয বলেছেনঃ কতককে বলা যেতে পারে, এটি মাওকূফ বর্ণনা, মারফূ নয়। কেননা প্রথম বর্ণনাটিতে হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে হস্তদ্বয় রাখার কথা রয়েছে। আর দ্বিতীয় বর্ণনায় সংক্ষেপে কেবল হাত রাখা প্রমাণ করছে।’’

◾ আল্লামা আলবানী বলেন, ‘আবদুল আযীয নির্ভরযোগ্য। কেবল আইয়ুবের একক বিরোধীতার দ্বারা তাকে সন্দেহ করা ওয়াজিব হবে না। কেননা তিনি মারফূ বৃদ্ধি করেছেন। আর তার পক্ষ থেকে এ বর্ধিতাংশ গ্রহণযোগ্য। এর প্রমাণ হলো, তিনি তা সংরক্ষণ করেছেন। তিনি একই সাথে মাওকূফ এবং মারফূ উভয়টি বর্ণনা করেছেন। মাওকূফ বর্ণনাতে তার বিপরীত করেছেন ইবনু আবূ লায়লাহ, নাফি‘ থেকে এ শব্দেঃ তিনি যখন সিজদায় যেতেন তখন হস্তদ্বয়ের পূর্বে হাঁটুদ্বয় রাখতেন। আর যখন সিজদা থেকে উঠতেন তখন হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে হস্তদ্বয় উঠাতেন।’’ ইবনু আবূ শায়বাহ (১/১০২/২) কিন্তু এ বর্ণনাটি মুনকার। কেননা ইবনু আবূ লায়লাহর নাম হচ্ছে মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রাহমান। তার স্মরণশক্তি মন্দ। কেননা তার মুসনাদে বিরোধীতা করেছেন দারাওয়ারদী ও আইয়ুব সাখতায়ানী। যেমনটি আপনি প্রত্যক্ষ করলেন।

🔲 দ্বিতীয় হাদীসঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ اذا سجد أحدكم فلا يبرك كما يبرك البعير وليضع يديه قبل ركبتيه

‘‘তোমাদের কেউ যখন সিজদা করে তখন সে যেন উটের ন্যায় না বসে, বরং সে যেন হাঁটুদ্বয়ের উপর হস্তদ্বয় রাখে।’’

◾ এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ‘আত-তারীখ’ (১/১/১৩৯), আবূ দাঊদ (৮৪০), তার থেকে ইবনু হাজম (৪/১২৮-১২৯), নাসায়ী (১/১৪৯), দারিমী (১/৩০৩), ত্বাহাভী ‘মুশকিলুল আসার’ (১/৬৫-৬৬), শারহুল মা‘আনী (১/১৪৯), দারাকুতনী (১৩১), বায়হাক্বী (২/৯৯-১০০), এবং আহমাদ (২/৩৮১), প্রত্যেকেই আব্দুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ দারাওয়ারদী সনদে। তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আ‘রাজ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ থেকে মারফূভাবে।

◾ আল্লামা আলবানী বলেন, এ সনদটি সহীহ। সনদের প্রত্যেক ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য এবং মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান ব্যতীত সকলেই মুসলিমের রিজাল। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। যেমন ইমাম নাসায়ী ও অন্যান্যরা বলেছেন এবং হাফিয তাদের অনুসরণ করেছেন ‘আত-তারীখ’ গ্রন্থে। সেজন্যই ইমাম নাববী ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে এবং আল্লামা যুরকানী ‘শারহু মাওয়াহিব’ (৭/৩২০) বলেছেনঃ এর সনদ ভালো (জাইয়্যিদ)। তাদের কতিপয় সূত্রে আল্লামা মানাবিও অনুরূপ বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। আল্লামা আব্দুল হাক্ব আল আহকামুল কুবরা গ্রন্থে (ক্বাফ ৫/১) বলেছেনঃ এটি পূর্বের হাদীসের চেয়ে উত্তম সনদ বিশিষ্ট। অর্থাৎ এর বিরোধী ওয়ায়িলের হাদীসের চেয়ে উত্তম সনদ বিশিষ্ট।

◾ কেউ কেউ আলচ্য হাদীসটির তিনটি দোষের কথা বলেছেনঃ ১। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ সূত্রে দারাওয়ারদী এতে একক হয়ে গেছেন। ২। এ মুহাম্মাদ একক হয়ে গেছেন আবূ যিনাদ সূত্রে ৩। বুখারীর বক্তব্যঃ আমি জানি না মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান হাদীসটি আবূ যিনাদ থেকে শুনেছেন কি না।

◾ আসলে এগুলো আদৌ দোষের কিছু নয় এবং তা হাদীসটির বিশুদ্ধতায় বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না। অতএব প্রথম ও দ্বিতীয় আপত্তির জবাব হলো, দারাওয়ারদী এবং তার শায়খ দু’ জনেই নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। সুতরাং হাদীসে তাদের দু’ জনের একক হয়ে যাওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। যেমন তা গোপন নয় আর তৃতীয়টি মোটেও কোনো দোষ নয় কেবল ইমাম বুখারীর নিকট ছাড়া। তিনি বর্ণনাকারীদের পারস্পরিক বাস্তব সাক্ষাৎ প্রমাণিত হওয়ার শর্ত করেছেন, যা তাঁর পরিচিত নীতিমালা। কিন্তু তা জমহুর মুহাদ্দিসগণের নিকট শর্ত নয়। বরং তাদের নিকট যথেষ্ট হচ্ছে, যিনি যার থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের উভয়ে যদি পারস্পরিক সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং তাদের কেউ যদি মুদাল্লিস না হন (তাহলে এরূপ বর্ণনাকারী আন্ আন্ পদ্ধতিতে বর্ণিত হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণ করা জায়িয)। যেমন তা উল্লেখ রয়েছে, ‘মুসত্বালা’ এবং এর শারাহ ইমাম মুসলিমের সহীহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমাহয়। আর এরূপ বৈশিষ্ট এখানে বিদ্যমান আছে। কেননা মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ মুদাল্লিস বলে জানা যায় না। অতঃপর তিনি আবূ যিনাদের সমসাময়িক বা একই যুগের লোক এবং তিনি তাকে দীর্ঘদিন পেয়েছিলেন। কেননা তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৪৫ সনে, তিনি ৫৩ বৎসর বেঁচে ছিলেন। আর আবূ যিনাদ মৃত্যু বরণ করেন ১৩০ সনে। অতএব হাদীসটি সহীহ নিঃসন্দেহে।

◾ আর উপরোক্ত হাদীস বর্ণনায় দারাওয়ারদী একক হয়ে যাননি। বরং হাদীসের একটি বাক্যের মুতাবা‘আতও রয়েছে- আবূ দাঊদ (৮৪১), নাসায়ী এবং তিরমিযী (২/৫৭৫৮) হাদীস বর্ণনা করেছেন ‘আব্দুল্লাহ ইবনু নাফী‘ সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু হাসান সংক্ষেপে এ শব্দেঃ يعمد أحدكم فيبرك فى صلاته برك الجمل؟

‘‘তোমাদের মধ্যে কিছু লোক উটের ন্যায় বসে থাকে?’’ সুতরাং এটি একটি শক্তিশালী মুতাবা‘আত। কেননা ইবনু নাফী‘ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং তিনি দারাওয়ারদীর মতো মুসলিমের রিজালভুক্ত।

🔲 তৃতীয় হাদীসঃ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে অন্য ভাষায় এসেছেঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন তখন তাঁর দু’ হাঁটুর পূর্বে দু’ হাত রাখা শুরু করতেন। এটি বর্ণনা করেছেন, ত্বাহাভী ‘শারহুল মা‘আনি (১/১৪৯)।

◾ এ সহীহ হাদীসগুলো পূর্বের হাদীসগুলো যে মুনকার তার প্রমাণ বহন করেছে।

🟥 সতর্কীকরণঃ ইবনু আবূ শায়বাহ ‘মুসান্নাফ’ (১/১০২/২), ত্বাহাবী এবং বায়হাক্বী আব্দুল্লাহ ইবনু সাঈদের সনদে তার দাদা থেকে আবূ হুরাইরাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেনঃ ‘তোমাদের কেউই সিজদাকালে যেন হস্তদ্বয়ের পূর্বে হাঁটুদ্বয় রাখে এবং যেন উট বসার ন্যায় না বসে।’’ এ হাদীসটি বাতিল। এতে আব্দুল্লাহ ইবনু সাঈদ মাক্ববুরী একক হয়ে গেছেন। তিনি খুবই নিকৃষ্ট। বরং কতিপয় হাদীস বিশারদ ইমাম তাকে মিথ্যা দোষে দোষী করেছেন। সেজন্যই ইমাম বায়হাক্বী এবং তার অনুসরণের হাফিয ‘ফাতহুল বারী’ (২/২৪১) গ্রন্থে বলেছেনঃ ‘‘এর সনদ দুর্বল।’’ এ সন্দেহভাজন বর্ণনাকারীর ব্যাপারে এ উত্তম ধারণা করা যেতে পারে যে, তিনি ইচ্ছা করেছিলেন এ কথা বলতেঃ ‘‘সে যেন হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে হস্তদ্বয় রাখে।’’- যেমন সহীহ হাদীসে এসেছে। কিন্তু তার উপর বিষয়টি উলটপালট হয়ে যাওয়ায় তিনি বলে ফেলেছেনঃ ‘‘হস্তদ্বয়ের পূর্বে হাঁটুদ্বয়।’’- যা কি না ভুল।

◾ জেনে রাখুন, উটের হাঁটুর পূর্বে হাত রাখার বিষয়ে ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ হচ্ছে এই যে, সর্বপ্রথম হাঁটু রাখে এবং হাঁটু তার হাতে মধ্যে হয়ে থাকে। দেখুন, ‘লিসানুল আরব’ ও অন্যান্য অভিধান গ্রন্থ, ত্বাহাভী ‘মুশকিলুল আসার’ ও শারহু মা‘আনিল আসার’ গ্রন্থে এরূপ কথাই উল্লেখ করেছেন। ইমাম কাসিম সরকসত্বী (রহঃ)-ও ‘গরীবুল হাদীসে’ (২/৭০/১-২) আবূ হুরাইরাহ থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ হুরাইরাহ বলেছেনঃ ‘‘তোমাদের কেউ পলাতক উটের ন্যায় যেন অবতরণনা করে।’’ ইমাম কাসিম বলেনঃ এটা সিজদার ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, পূর্ণ ধীরতা ও পর্যায়ক্রমতা বজায় না রেখে বিচলিত উটের ন্যায় নিজেকে নিক্ষেপ না করে এবং ধীরস্থিরতার সাথে করে। প্রথমে হস্তদ্বয় রাখবে অতঃপর হাঁটুদ্বয় রাখবে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি হাদীসও বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর উপরোল্লিখিত হাদীস উল্লেখ করেন। আর ইবনুল কাইয়্যিম অদ্ভুত এক মন্তব্য করে বলেছেনঃ এটা বিবেক সম্মত নয় এবং ভাষাবিদগণও এ ব্যাখ্যার সাথে পরিচিত নন। কিন্তু আমি (আলবানী) যেসব প্রমাণপঞ্জির দিকে ইঙ্গিত করেছি তা এর প্রতিবাদ করে এবং এছাড়াও আরো অনেক প্রমাণপঞ্জি আছে। তাই এগুলো অধ্যয় করা উচিত। আমি (আলবানী) এ বিষয়ে শায়খ তুয়াইজিরীর প্রতিবাদে লিখিত পুস্তিকায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

◾ আগে হাঁটু রাখার হাদীসগুলোর কোনো কোনোটি দুর্বল হওয়ার প্রমাণ বহন করছে আবূ ক্বিলাবার নিম্নোক্ত হাদীসটিও।

🔲 চতুর্থ হাদীসঃ আবূ ক্বিলাবাহ বলেন, মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস আমাদের নিকট এসে বলতেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের বর্ণনা দিবো না...? তিনি যখন প্রথম রাক‘আতের দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখন সোজা হয়ে বসতেন। অতঃপর যমীনের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। (নাসায়ী, বায়হাক্বী, শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ সনদে, এবং বুখারী আবূ ক্বিলাবাহ থেকে অনুরূপভাবে অন্য সূত্রে)।

🔲 পঞ্চম দলীলঃ ইবনুল জাওযী আত-তাহক্বীক্ব গ্রন্থে (১০৮/২), মারওয়াযী স্বীয় মাসায়িল গ্রন্থে (১/১৪৭/১) ইমাম আওযায়ী’ থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ ‘‘আমি লোকজনকে হাঁটুর পূর্বে হাত রাখার উপর পেয়েছি।’’

🟩 ফায়িদাহ (উপকারীতাঃ) উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, সহীহ সুন্নাত হচ্ছে সিজদায় যাওয়ার সময় মাটিতে হাঁটুদ্বয় স্থাপনের পূর্বে হস্তদ্বয় রাখা। ইমাম মালিক, ইমাম আওযাঈ এবং হাদীস বিশারদগণের অভিমতও তাই। যেমনর তা নাক্বল করেছেন ইবনুল কাইয়্যিম ‘যাদুল মা‘আদ’ গ্রন্থে, হাফিয ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা, এবং ইমাম আহমাদ সূত্রেও এমনটি এসেছে, যেমন রয়েছে ইবনুল জাওযীর ‘আত-তাহক্বীক্ব’ গ্রন্থে (ক্বাফ ১০৮/২)। দেখুন, ইরওয়াউল গালীল, ৩৫৭, সিলসিলাতুল আহাদীসিয যঈফাহ ওয়াল মাওযু‘আহ ৯২৯, এবং সিফাতু সালাতি ন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ সুনানে আবু দাউদঃ ( আ.এ. - ৮৪১ ), ( ই.ফা. - ৮৪১ ),
        জামে’ আত–তিরমিজিঃ ( মা.প্র. - ২৬৯ ), ( ই.ফা. - ২৬৯ ) ]

 –––––––––––––––––––––––––––––––

🔘 [ সুনানে আবু দাউদঃ ( আ.এ. - ৮৪০, ৮৪১ ), ( ই.ফা. -৮৪০, ৮৪১ ),
        সুনানে আন–নাসায়ীঃ ( হা.এ. - ১০৯০, ১০৯১ ), ( আ.না. - ১০৯১, ১০৯২ ), ( ই.ফা. - ১০৯৩, ১০৯৪ ),
        মিশকাতুল মাসাবিহ–মিশকাতঃ ( ৮৯৯ ) ]

Jazak Allahu Khayran - জাযাক আল্লাহু খাইরান - ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ

IRD Foundation
ইউনিকোড বাংলা হাদিস - Bangla Hadith Unicode 25/07/2023

⚫ সুনানে আবু দাউদ 🔴 ২▪️সালাত (নামায) 🔵 ১৪১▪️অনুচ্ছেদ ⚫ সাজদাহর সময় হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখা প্রসঙ্গে 🟢 ৮৪০ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَسَنٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَبْرُكْ كَمَا يَبْرُكُ الْبَعِيرُ وَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সাজদাহর সময় উটের ন্যায় না বসে এবং সাজদাহকালে যেন মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখে। 🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস 🔘 [ সুনানে আবু দাউদঃ ( আ.এ. - ৮৪০ ), ( ই.ফা. - ৮৪০ ) ] ––––––––––––––––––––––––––––––– ⚫ সুনানে আন–নাসায়ী 🔴 ১১▪️সালাত আরম্ভ করা 🔵 ৩৮▪️পরিচ্ছেদ ⚫ সিজদায় সর্বাগ্রে যে অঙ্গ যমীনে পৌঁছাবে 🟢 ১০৯১ أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارِ بْنِ بِلَالٍ مِنْ كِتَابِهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ وَلَا يَبْرُكْ بُرُوكَ الْبَعِيرِ» আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন সিজদা করে তখন সে যেন হাঁটু স্থাপনের পূর্বে তার উভয় হাত স্থাপন করে আর সে যেন উটের বসার মত না বসে। 🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস 🔘 [ সুনানে আন–নাসায়ীঃ ( হা.এ. - ১০৯১ ), ( আ.না. - ১০৯২ ), ( ই.ফা. - ১০৯৪ ) ] ––––––––––––––––––––––––––––––– ⚫ মিশকাতুল মাসাবিহ–মিশকাত 🔴 ৪▪️সলাত 🔵 ১৪ - পরিচ্ছদ▪️২ - অনুচ্ছেদ 🟢 ৮৯৯ وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَبْرُكْ كَمَا يَبْرُكُ الْبَعِيْرُ وَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَائِـيُِّ وَالدَّارِمِيُّ قَالَ أَبُوْ سُلَيْمَانَ الْخَطَّابِيُّ : حَدِيْثُ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ أَثْبَتُ مِنْ هذَا وَقِيْلَ هذَا مَنْسُوْخ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ সাজদাহ করার সময় যেন উটের বসার মত না বসে, বরং দু হাত যেন হাঁটুর আগে মাটিতে রাখে। 🔳 আবূ সুলায়মান খাত্তাবী বলেন, এ হাদীসের চেয়ে ওয়ায়িল এর আগের হাদীসটি বেশী মজবুত। কেউ কেউ বলেন, এ হাদীসটি মানসূখ বা রহিত। 🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস 🔘 [ মিশকাতুল মাসাবিহ–মিশকাতঃ ( ৮৯৯ ) ] ––––––––––––––––––––––––––––––– ⚫ সুনানে আবু দাউদ 🔴 ২▪️সালাত (নামায) 🔵 ১৪১▪️অনুচ্ছেদ ⚫ সাজদাহর সময় হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখা প্রসঙ্গে 🟢 ৮৪১ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَسَنٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَيَبْرُكُ كَمَا يَبْرُكُ الْجَمَلُ ‏"‏ ‏.‏ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কেউ সালাত উটের বসার ন্যায় বসে থাকে। 🔳 মাসআলাহঃ সিজদার সময় হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখা প্রসঙ্গে 🟥 (১) ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতে সিজদায় যাওয়ার সময় (মাটিতে) হাতের পূর্বে হাঁটু রাখতে দেখেছি। আর তিনি সিজদা থেকে দাঁড়াবার সময় হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন। 🟨 দুর্বল ( যঈফ ) [ সুনানে আবু দাউদঃ ( যঈফ ) ( আ.এ. - ৮৩৮, ৮৩৯ ), ( ই.ফা. - ৮৩৮, ৮৩৯ ), সুনানে ইবনে মাজাহঃ ( যঈফ ) ( ৮৮২ ), সুনানে আন–নাসায়ীঃ ( যঈফ) ( হা.এ. - ১০৮৯ ), ( আ.না. - ১০৯০ ), ( ই.ফা. - ১০৯২ ), জামে’ আত–তিরমিজিঃ ( যঈফ) ( মা.প্র. - ২৬৮), ( ই.ফা. - ২৬৮ ), মিশকাতুল মাসাবিহ–মিশকাতঃ ( যঈফ ) ( ৮৯৮ ), অনুরূপ ; দারিমী (১/৩০৩), ত্বাহাভী (১/১৫০), দারাকুতনী (১৩১-১৩২), হাকিম (১/২২৬), এবং তার থেকে বায়হাক্বী (২/৯৮) ] ◾ আল্লামা আলবানী বলেন, এ সনদটি দুর্বল। ইমাম তিরমিযী বলেন, ‘হাদীসিটর সনদ গরীব, শারীক সূত্রে এরূপ হাদীস অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমরা জানি না।’ ইমাম হাকিম বলেন, ‘ইমাম মুসলিম শারীক ও আসিম ইবনু কুলাইব দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তারা যেমনটি বললেন বিষয়টি তেমন নয়, যদিও ইমাম যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন। কেননা শারীকের দ্বারা ইমাম মুসলিম দলীল গ্রহণ করেননি। তিনি তার বর্ণনা মুতাবা‘আতে এনেছেন মাত্র। যেমন এ বিষয়টি কতিপয় মুহাক্কিক্ব স্পষ্ট করে বলেছেন। যাদের মধ্যে স্বয়ং ইমাম যাহাবীও ‘আল-মিযান’ গ্রন্থে এরূপ বলেছেন। বেশীর ভাগই দেখা যায়, ইমাম হাকিম অতঃপর ইমাম যাহাবী এরূপ সংশয়ে পড়ে থাকেন এবং তারা শারীকের হাদীসসমূহকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলে থাকেন। সেজন্য এ ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক করা হলো। ইমাম দারাকুতনী হাদীসটি বর্ণনার পরপরই বলেছেন, ‘‘এতে শারীক সূত্রে ইয়াযীদ একক হয়ে গেছেন। কেবল শারীকই এটি ইয়াযীদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর যে বর্ণনায় শারীক একক হয়ে যান, সেখানে তিনি শক্তিশালী নন।’’ ◾ আল্লামা আলবানী বলেন, এটাই সঠিক কথা। ইয়াযীদ ইবনু হারূন বলেছেন, ‘‘শারীক এ হাদীস ছাড়া অন্য কোনো হাদীস ‘আসিম সূত্রে বর্ণনা করেননি।’’ জমহুর ইমামগণের নিকট শারীকের স্মরণশক্তি ভালো না। বরং মন্দ। কতিপয় ইমাম তো স্পষ্ট করে বলেছেন, শারীক সংমিশ্রণ করতেন। সেজন্য তিনি কোনো বর্ণনায় একক হয়ে গেলে তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না। সুতরাং তিনি যখন কোনো নির্ভরযোগ্য হাফিযগণের বিপরীত করবেন তখন তার অবস্থা কিরূপ হবে? ◾ হাদীসটি একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ‘আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাতে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের বিবরণ শারীকের বর্ণনার সালাতের বিবরণের চেয়েও বেশী পূর্ণ করে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও সিজদা করা ও সিজদা থেকে উঠার পদ্ধতি ‘আসিম থেকে মোটেই উল্লেখ করেননি। যেমনটি আবূ দাঊদ, নাসায়ী, আহমাদ ও অন্যান্য বিদ্বানগণ যায়িদাহ, ইবনু উয়াইনাহ ও শুজা‘ ইবনুল ওয়ালীদ সূত্রে ‘আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাদের সকলে সম্মিলিত বর্ণনা প্রমাণ করেছেন যে, ‘আসিমের হাদীসের সিজদার যে পদ্ধতি শারীকের একক বর্ণনা থেকে এসেছে তা মুনকার। 🟥 (২) হাদীসটি শারীক ছাড়াও অন্যজন ‘আসিম থেকে তার পিতা থেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। সেখানে ওয়ায়িলের কথা উল্লেখ নেই। সেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবূ দাঊদ, ত্বাহাভী ও বায়হাক্বী শাকীক আবূ লাইস থেকে। তিনি বলেছেন, আমার নিকট হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ‘আসিমা। কিন্তু এ শাকীক মাজহুল। তাকে চেনা যায়নি। যেমনটি বলেছেন ইমাম যাহাবী ও অন্যরা। 🟥 (৩) হাদীসটির আর একটি সূত্র রয়েছে। সেটিও দোষযুক্ত। যা বর্ণনা করেছেন আবূ দাঊদ ও বায়হাক্বী ‘আব্দুল জাব্বার ইবনু ওয়ায়িল থেকে তার পিতা সূত্রে। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদায় যেতেন তখন তাঁর হস্তদ্বয় মাটিতে রাখার পূর্বে হাঁটুদ্বয় মাটিতে স্থিরভাবে রাখতেন। ◾ বর্ণনাকারী শাকীকের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, ‘আসিম ইবনু কুলাইদ তার পিতা থেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে এ সনদের উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত বর্ণনাকারীদ্বয়ের কোনো একজনের বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘‘তিনি যখন সিজদার পর দাঁড়াতেন তখন তিনি হাঁটুর উপর ভর করে দাঁড়াতেন।’’ ◾ এর দোষ হচ্ছে সনদের ‘আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়ায়িল ও তার পিতার মাঝে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা)। কেননা তিনি তার পিতা থেকে শুনেনি (এবং তার পিতাকে পাননি)। যেমনটি বলেছেন ইবনু মাঈন, ইমাম বুখারী ও অন্যান্য হাফিযগণ। আর দ্বিতীয় সনদে শাকীক মাজহুল ব্যক্তি। 🟥 (৪) এ বিষয়ে আর একটি হাদীসঃ ‘‘তিনি তাঁর দু’ হাঁটুর উপর ভর করে সিজদায় যেতেন। কোনো ঠেস লাগাতেন না।’’ ◾ ইবনু হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এর সনদটি দুর্বল। সনদে মাজহুল বর্ণনাকারীদের সমাবেশ ঘটেছে। ইবনুল মাদীনী বলেন, আমরা এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু মু‘আযকে, তার পিতাকে, তার দাদাকে চিনি না। এ সনদটি মাজহুল। হাফিয ইবনু হাজার বলেন, মুহাম্মাদ মাজহুল এবং তার ছেলে মু‘আ মাকবূল। আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু হিব্বান কর্তৃক তাদেরকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেয়ার দিকে দৃষ্টি দিয়ে ধোঁকায় পরা যাবে না। কেননা এ বিষয়ে তার মতটি শায। কারণ তিনি তাতে জমহুর মুহাদ্দিসগণের ঐক্যমতে প্রসিদ্ধ মতের উপর চলেননি। 🟥 (৫) এ অধ্যায়ে আর একটি হাদীস রয়েছেঃ সেটিও ত্রুটিযুক্ত। যা বর্ণনা করেছেন ‘আলা ইবনু ইসমাঈল... আনাস (রাঃ) থেকে। তিনি বলেন, ‘‘আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাকবীরের সাথে সাথে ঝুঁকে পড়তে দেখেছি। তাঁর দু’ হাঁটু তাঁর দু’ হাতের চেয়ে অগ্রণী হয়ে যেতো।’’ এটি বর্ণনা করেছেন দারাকুতনী, হাকিম, তাঁর থেকে বায়হাক্বী। ইমাম দারাকুতনী ও বায়হাক্বী বলেন, ‘আলা ইবনু ইসমাঈল হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আমি (আলবানী) বলছিঃ সনদের ‘আলা ইবনু ইসমাঈল মাজহুল। যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম এবং তার পূর্বে বায়হাক্বী বলেছেন। ইবনু আবূ হাতিম তার পিতার সূত্রে বলেন, এ হাদীসটি মুনকার। আর হাকিম ও যাহাবী যে বলেছেন, এটি শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ, এটি তাদের দু’ জন থেকে এ আলার অবস্থা সম্পর্কে বড় ধরণের অবহেলা। তিনি শায়খাইনের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন! ◾ সিজদাকালে হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখার হাদীস দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সহীহ হাদীসসমূহেরও পরিপন্থি। তা হচ্ছেঃ 🔲 প্রথম হাদীসঃ عن ابن عمر أنه كان يضع يديه قبل ركبتيه وقال كان النبى صلى الله عليه وسلم يفعل ذلك ‘‘ইবনু উমার সূত্রে বর্ণিত। তিনি হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে হস্তদ্বয় রাখতেন এবং তিনি বলতেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন।’’ ◾ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ত্বাহাভী ‘শারহু মা‘আনি’, দারাকুতনী (১৩১), হাকিম (১/২২৬), তার থেকে বায়হাক্বী (২/১০০), এবং হাযিমী ‘আল-ই‘তিবার’ (৫৪)- একাধিক সনদে ‘আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ দারাওয়ারদী থেকে, তিনি ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার থেকে তিনি নাফী‘ থেকে ইবনু উমার সূত্রে। ইমাম হাকিম বলেছেন, মুসলিমের শর্তে সহীহ। ইমাম যাহাবীও তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। (আলবানী বলেন) হাদীসটি সেইরূপ যেমন তারা বলেছেন হাদীসটিকে আরো সহীহ বলেছেন ইবনু খুযাইমাহ যেমন বুলুগুল মারাম গ্রন্থে (১/২৬৩) রয়েছে। আর ইমাম হাকিম বলেছেন, আমার অন্তর তার দিকে আকৃষ্ট। অর্থাৎ ওয়ায়িলের হাদীস থেকে এদিকে। কেননা এ ব্যাপারে সাহাবীগণ ও তাবেঈন সূত্রে বহু বর্ণনা আছে। আর ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনাটিকে এমন দোষে দোষী করেছেন যা নিন্দনীয় নয়। তিনি বলেছেনঃ ‘আব্দুল আযীয যেরূপ বলেছেন আমি তাতে কেবল সংশয় দেখছি, অর্থাৎ মারফূ করণে। তিনি বলেনঃ মাহফুয হচ্ছে যা আমরা পছন্দ বা চয়ন করেছি। অতঃপর তিনি বর্ণনা করেন, আইয়্যূব সনদে নাফী‘ থেকে ইবনু উমার সূত্রেঃ তোমাদের কেউ সিজদাকালে যেন হস্তদ্বয় রাখে এবং তা থেকে উঠার সময় যেন হস্তদ্বয় উঠায়। হাফিয বলেছেনঃ কতককে বলা যেতে পারে, এটি মাওকূফ বর্ণনা, মারফূ নয়। কেননা প্রথম বর্ণনাটিতে হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে হস্তদ্বয় রাখার কথা রয়েছে। আর দ্বিতীয় বর্ণনায় সংক্ষেপে কেবল হাত রাখা প্রমাণ করছে।’’ ◾ আল্লামা আলবানী বলেন, ‘আবদুল আযীয নির্ভরযোগ্য। কেবল আইয়ুবের একক বিরোধীতার দ্বারা তাকে সন্দেহ করা ওয়াজিব হবে না। কেননা তিনি মারফূ বৃদ্ধি করেছেন। আর তার পক্ষ থেকে এ বর্ধিতাংশ গ্রহণযোগ্য। এর প্রমাণ হলো, তিনি তা সংরক্ষণ করেছেন। তিনি একই সাথে মাওকূফ এবং মারফূ উভয়টি বর্ণনা করেছেন। মাওকূফ বর্ণনাতে তার বিপরীত করেছেন ইবনু আবূ লায়লাহ, নাফি‘ থেকে এ শব্দেঃ তিনি যখন সিজদায় যেতেন তখন হস্তদ্বয়ের পূর্বে হাঁটুদ্বয় রাখতেন। আর যখন সিজদা থেকে উঠতেন তখন হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে হস্তদ্বয় উঠাতেন।’’ ইবনু আবূ শায়বাহ (১/১০২/২) কিন্তু এ বর্ণনাটি মুনকার। কেননা ইবনু আবূ লায়লাহর নাম হচ্ছে মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রাহমান। তার স্মরণশক্তি মন্দ। কেননা তার মুসনাদে বিরোধীতা করেছেন দারাওয়ারদী ও আইয়ুব সাখতায়ানী। যেমনটি আপনি প্রত্যক্ষ করলেন। 🔲 দ্বিতীয় হাদীসঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ اذا سجد أحدكم فلا يبرك كما يبرك البعير وليضع يديه قبل ركبتيه ‘‘তোমাদের কেউ যখন সিজদা করে তখন সে যেন উটের ন্যায় না বসে, বরং সে যেন হাঁটুদ্বয়ের উপর হস্তদ্বয় রাখে।’’ ◾ এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ‘আত-তারীখ’ (১/১/১৩৯), আবূ দাঊদ (৮৪০), তার থেকে ইবনু হাজম (৪/১২৮-১২৯), নাসায়ী (১/১৪৯), দারিমী (১/৩০৩), ত্বাহাভী ‘মুশকিলুল আসার’ (১/৬৫-৬৬), শারহুল মা‘আনী (১/১৪৯), দারাকুতনী (১৩১), বায়হাক্বী (২/৯৯-১০০), এবং আহমাদ (২/৩৮১), প্রত্যেকেই আব্দুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ দারাওয়ারদী সনদে। তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আ‘রাজ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ থেকে মারফূভাবে। ◾ আল্লামা আলবানী বলেন, এ সনদটি সহীহ। সনদের প্রত্যেক ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য এবং মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান ব্যতীত সকলেই মুসলিমের রিজাল। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। যেমন ইমাম নাসায়ী ও অন্যান্যরা বলেছেন এবং হাফিয তাদের অনুসরণ করেছেন ‘আত-তারীখ’ গ্রন্থে। সেজন্যই ইমাম নাববী ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে এবং আল্লামা যুরকানী ‘শারহু মাওয়াহিব’ (৭/৩২০) বলেছেনঃ এর সনদ ভালো (জাইয়্যিদ)। তাদের কতিপয় সূত্রে আল্লামা মানাবিও অনুরূপ বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। আল্লামা আব্দুল হাক্ব আল আহকামুল কুবরা গ্রন্থে (ক্বাফ ৫/১) বলেছেনঃ এটি পূর্বের হাদীসের চেয়ে উত্তম সনদ বিশিষ্ট। অর্থাৎ এর বিরোধী ওয়ায়িলের হাদীসের চেয়ে উত্তম সনদ বিশিষ্ট। ◾ কেউ কেউ আলচ্য হাদীসটির তিনটি দোষের কথা বলেছেনঃ ১। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ সূত্রে দারাওয়ারদী এতে একক হয়ে গেছেন। ২। এ মুহাম্মাদ একক হয়ে গেছেন আবূ যিনাদ সূত্রে ৩। বুখারীর বক্তব্যঃ আমি জানি না মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান হাদীসটি আবূ যিনাদ থেকে শুনেছেন কি না। ◾ আসলে এগুলো আদৌ দোষের কিছু নয় এবং তা হাদীসটির বিশুদ্ধতায় বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না। অতএব প্রথম ও দ্বিতীয় আপত্তির জবাব হলো, দারাওয়ারদী এবং তার শায়খ দু’ জনেই নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। সুতরাং হাদীসে তাদের দু’ জনের একক হয়ে যাওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। যেমন তা গোপন নয় আর তৃতীয়টি মোটেও কোনো দোষ নয় কেবল ইমাম বুখারীর নিকট ছাড়া। তিনি বর্ণনাকারীদের পারস্পরিক বাস্তব সাক্ষাৎ প্রমাণিত হওয়ার শর্ত করেছেন, যা তাঁর পরিচিত নীতিমালা। কিন্তু তা জমহুর মুহাদ্দিসগণের নিকট শর্ত নয়। বরং তাদের নিকট যথেষ্ট হচ্ছে, যিনি যার থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের উভয়ে যদি পারস্পরিক সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং তাদের কেউ যদি মুদাল্লিস না হন (তাহলে এরূপ বর্ণনাকারী আন্ আন্ পদ্ধতিতে বর্ণিত হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণ করা জায়িয)। যেমন তা উল্লেখ রয়েছে, ‘মুসত্বালা’ এবং এর শারাহ ইমাম মুসলিমের সহীহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমাহয়। আর এরূপ বৈশিষ্ট এখানে বিদ্যমান আছে। কেননা মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ মুদাল্লিস বলে জানা যায় না। অতঃপর তিনি আবূ যিনাদের সমসাময়িক বা একই যুগের লোক এবং তিনি তাকে দীর্ঘদিন পেয়েছিলেন। কেননা তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৪৫ সনে, তিনি ৫৩ বৎসর বেঁচে ছিলেন। আর আবূ যিনাদ মৃত্যু বরণ করেন ১৩০ সনে। অতএব হাদীসটি সহীহ নিঃসন্দেহে। ◾ আর উপরোক্ত হাদীস বর্ণনায় দারাওয়ারদী একক হয়ে যাননি। বরং হাদীসের একটি বাক্যের মুতাবা‘আতও রয়েছে- আবূ দাঊদ (৮৪১), নাসায়ী এবং তিরমিযী (২/৫৭৫৮) হাদীস বর্ণনা করেছেন ‘আব্দুল্লাহ ইবনু নাফী‘ সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু হাসান সংক্ষেপে এ শব্দেঃ يعمد أحدكم فيبرك فى صلاته برك الجمل؟ ‘‘তোমাদের মধ্যে কিছু লোক উটের ন্যায় বসে থাকে?’’ সুতরাং এটি একটি শক্তিশালী মুতাবা‘আত। কেননা ইবনু নাফী‘ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং তিনি দারাওয়ারদীর মতো মুসলিমের রিজালভুক্ত। 🔲 তৃতীয় হাদীসঃ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে অন্য ভাষায় এসেছেঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন তখন তাঁর দু’ হাঁটুর পূর্বে দু’ হাত রাখা শুরু করতেন। এটি বর্ণনা করেছেন, ত্বাহাভী ‘শারহুল মা‘আনি (১/১৪৯)। ◾ এ সহীহ হাদীসগুলো পূর্বের হাদীসগুলো যে মুনকার তার প্রমাণ বহন করেছে। 🟥 সতর্কীকরণঃ ইবনু আবূ শায়বাহ ‘মুসান্নাফ’ (১/১০২/২), ত্বাহাবী এবং বায়হাক্বী আব্দুল্লাহ ইবনু সাঈদের সনদে তার দাদা থেকে আবূ হুরাইরাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেনঃ ‘তোমাদের কেউই সিজদাকালে যেন হস্তদ্বয়ের পূর্বে হাঁটুদ্বয় রাখে এবং যেন উট বসার ন্যায় না বসে।’’ এ হাদীসটি বাতিল। এতে আব্দুল্লাহ ইবনু সাঈদ মাক্ববুরী একক হয়ে গেছেন। তিনি খুবই নিকৃষ্ট। বরং কতিপয় হাদীস বিশারদ ইমাম তাকে মিথ্যা দোষে দোষী করেছেন। সেজন্যই ইমাম বায়হাক্বী এবং তার অনুসরণের হাফিয ‘ফাতহুল বারী’ (২/২৪১) গ্রন্থে বলেছেনঃ ‘‘এর সনদ দুর্বল।’’ এ সন্দেহভাজন বর্ণনাকারীর ব্যাপারে এ উত্তম ধারণা করা যেতে পারে যে, তিনি ইচ্ছা করেছিলেন এ কথা বলতেঃ ‘‘সে যেন হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে হস্তদ্বয় রাখে।’’- যেমন সহীহ হাদীসে এসেছে। কিন্তু তার উপর বিষয়টি উলটপালট হয়ে যাওয়ায় তিনি বলে ফেলেছেনঃ ‘‘হস্তদ্বয়ের পূর্বে হাঁটুদ্বয়।’’- যা কি না ভুল। ◾ জেনে রাখুন, উটের হাঁটুর পূর্বে হাত রাখার বিষয়ে ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ হচ্ছে এই যে, সর্বপ্রথম হাঁটু রাখে এবং হাঁটু তার হাতে মধ্যে হয়ে থাকে। দেখুন, ‘লিসানুল আরব’ ও অন্যান্য অভিধান গ্রন্থ, ত্বাহাভী ‘মুশকিলুল আসার’ ও শারহু মা‘আনিল আসার’ গ্রন্থে এরূপ কথাই উল্লেখ করেছেন। ইমাম কাসিম সরকসত্বী (রহঃ)-ও ‘গরীবুল হাদীসে’ (২/৭০/১-২) আবূ হুরাইরাহ থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ হুরাইরাহ বলেছেনঃ ‘‘তোমাদের কেউ পলাতক উটের ন্যায় যেন অবতরণনা করে।’’ ইমাম কাসিম বলেনঃ এটা সিজদার ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, পূর্ণ ধীরতা ও পর্যায়ক্রমতা বজায় না রেখে বিচলিত উটের ন্যায় নিজেকে নিক্ষেপ না করে এবং ধীরস্থিরতার সাথে করে। প্রথমে হস্তদ্বয় রাখবে অতঃপর হাঁটুদ্বয় রাখবে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি হাদীসও বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর উপরোল্লিখিত হাদীস উল্লেখ করেন। আর ইবনুল কাইয়্যিম অদ্ভুত এক মন্তব্য করে বলেছেনঃ এটা বিবেক সম্মত নয় এবং ভাষাবিদগণও এ ব্যাখ্যার সাথে পরিচিত নন। কিন্তু আমি (আলবানী) যেসব প্রমাণপঞ্জির দিকে ইঙ্গিত করেছি তা এর প্রতিবাদ করে এবং এছাড়াও আরো অনেক প্রমাণপঞ্জি আছে। তাই এগুলো অধ্যয় করা উচিত। আমি (আলবানী) এ বিষয়ে শায়খ তুয়াইজিরীর প্রতিবাদে লিখিত পুস্তিকায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ◾ আগে হাঁটু রাখার হাদীসগুলোর কোনো কোনোটি দুর্বল হওয়ার প্রমাণ বহন করছে আবূ ক্বিলাবার নিম্নোক্ত হাদীসটিও। 🔲 চতুর্থ হাদীসঃ আবূ ক্বিলাবাহ বলেন, মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস আমাদের নিকট এসে বলতেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের বর্ণনা দিবো না...? তিনি যখন প্রথম রাক‘আতের দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখন সোজা হয়ে বসতেন। অতঃপর যমীনের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। (নাসায়ী, বায়হাক্বী, শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ সনদে, এবং বুখারী আবূ ক্বিলাবাহ থেকে অনুরূপভাবে অন্য সূত্রে)। 🔲 পঞ্চম দলীলঃ ইবনুল জাওযী আত-তাহক্বীক্ব গ্রন্থে (১০৮/২), মারওয়াযী স্বীয় মাসায়িল গ্রন্থে (১/১৪৭/১) ইমাম আওযায়ী’ থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ ‘‘আমি লোকজনকে হাঁটুর পূর্বে হাত রাখার উপর পেয়েছি।’’ 🟩 ফায়িদাহ (উপকারীতাঃ) উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, সহীহ সুন্নাত হচ্ছে সিজদায় যাওয়ার সময় মাটিতে হাঁটুদ্বয় স্থাপনের পূর্বে হস্তদ্বয় রাখা। ইমাম মালিক, ইমাম আওযাঈ এবং হাদীস বিশারদগণের অভিমতও তাই। যেমনর তা নাক্বল করেছেন ইবনুল কাইয়্যিম ‘যাদুল মা‘আদ’ গ্রন্থে, হাফিয ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা, এবং ইমাম আহমাদ সূত্রেও এমনটি এসেছে, যেমন রয়েছে ইবনুল জাওযীর ‘আত-তাহক্বীক্ব’ গ্রন্থে (ক্বাফ ১০৮/২)। দেখুন, ইরওয়াউল গালীল, ৩৫৭, সিলসিলাতুল আহাদীসিয যঈফাহ ওয়াল মাওযু‘আহ ৯২৯, এবং সিফাতু সালাতি ন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। 🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস 🔘 [ সুনানে আবু দাউদঃ ( আ.এ. - ৮৪১ ), ( ই.ফা. - ৮৪১ ), জামে’ আত–তিরমিজিঃ ( মা.প্র. - ২৬৯ ), ( ই.ফা. - ২৬৯ ) ] ––––––––––––––––––––––––––––––– 🔘 [ সুনানে আবু দাউদঃ ( আ.এ. - ৮৪০, ৮৪১ ), ( ই.ফা. -৮৪০, ৮৪১ ), সুনানে আন–নাসায়ীঃ ( হা.এ. - ১০৯০, ১০৯১ ), ( আ.না. - ১০৯১, ১০৯২ ), ( ই.ফা. - ১০৯৩, ১০৯৪ ), মিশকাতুল মাসাবিহ–মিশকাতঃ ( ৮৯৯ ) ] Jazak Allahu Khayran - জাযাক আল্লাহু খাইরান - ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ IRD Foundation ইউনিকোড বাংলা হাদিস - Bangla Hadith Unicode

10/07/2023

⚫ সুনানে ইবনে মাজাহ

🔴 ০▪️ভূমিকা

🔵 ৪৪▪️অধ্যায়

⚫ জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হওয়া এবং তদানুযায়ী আমাল করা

🟢 ২৫০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ مِنْ دُعَاءِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ وَمِنْ دُعَاءٍ لاَ يُسْمَعُ وَمَنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ ‏"‏ ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি দুআ’ এই যে, “হে আল্লাহ্‌! আমি সেই জ্ঞান থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই যা কোন উপকারে আসে না, এমন দুআ’ থেকে যা শোনা হয় না, সেই অন্তর থেকে যা ভীত হয় না এবং সেই দেহ থেকে যা তৃপ্ত হয় না।”

🔳 তাহক্বীক্ব আলবানীঃ সহীহ।

🔳 উক্ত হাদিসের রাবী আবু খালিদ আল-আহমার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আলী বিন মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সালেহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও ভুল করেন।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ সুনানে ইবনে মাজাহঃ ( ২৫০ ),
সুনানে আন–নাসায়ীঃ ( হা.এ. - অপেক্ষমাণ ), ( আ.না. - ), ( ই.ফা. - ৫৫৩৬,৫৫৩৭),
সুনানে আবু দাউদঃ ( আ.এ. - ১৫৪৮ ), ( ই.ফা. - ১৫৪৮ ) ]

Jazak Allahu Khayran - জাযাক আল্লাহু খাইরান - ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ

IRD Foundation
ইউনিকোড বাংলা হাদিস - Bangla Hadith Unicode

10/07/2023

⚫ সুনানে ইবনে মাজাহ

🔴 ৫▪️সালাত আদায় করা ও তার নিয়ম কানুন

🔵 ৫/৭৭▪️অধ্যায়

⚫ সালাত ত্যাগকারীর বিধান

🟢 ১০৭৯

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلاَةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ ‏"‏ ‏.‏

বুরায়দাহ (ইবনুল হুসায়ব বিন আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে যে অংগীকার রয়েছে তা হলো সালাত। অতএব যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করলো, সে কুফরী করলো।

🔳 এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়ঃ

১। প্রকৃত ইসলাম ধর্মে এই বিষয়টি নির্ধারিত রয়েছে যে, নামাজ হলো মুসলিম এবং অমুসলিম ব্যক্তির মধ্যে তফাত করার একটি প্রকাশ্য নিদর্শন।

২। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোনো সময় নামাজ প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে অবহেলা করা বৈধ নয়।

৩। আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামের আত্মা হলো নামাজ। সুতরাং নামাজ বর্জন করে দেওয়ার পর বা নামাজ পরিত্যাগ করার পর প্রকৃত ইসলামের আর্ কোনো প্রকাশ্য নিদর্শন থেকে যায় না।

🔳 আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

🔳 তাহক্বীক্ব আলবানীঃ সহীহ।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ সুনানে ইবনে মাজাহঃ ( ১০৭৯ ),
সুনানে আন–নাসায়ীঃ ( হা.এ. - ৪৬৩ ), ( আ.না. - ৪৬৪ ), ( ই.ফা. - ৪৬৪ ),
জামে’ আত–তিরমিজিঃ ( মা.প্র. - ২৬২১ ), ( ই.ফা. - ২৬২১ ),
মিশকাতুল মাসাবিহ–মিশকাতঃ ( ৫৭৪ ) ]

Jazak Allahu Khayran - জাযাক আল্লাহু খাইরান - ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ

IRD Foundation
ইউনিকোড বাংলা হাদিস - Bangla Hadith Unicode

23/06/2023

⚫ সুনানে আন-নাসায়ী

🔴 ৪২▪️কুরবানী

🔵 --▪️পরিচ্ছেদ

⚫ দুর্বল পশু

🟢 ৪৩৭১

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، وَذَكَرَ آخَرَ، وَقَدَّمَهُ أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَهُمْ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ فَيْرُوزَ، عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَأَشَارَ بِأَصَابِعِهِ -، وَأَصَابِعِي أَقْصَرُ مِنْ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يُشِيرُ بِأُصْبُعِهِ يَقُولُ: " لَا يَجُوزُ مِنَ الضَّحَايَا: الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا، وَالْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ عَرَجُهَا، وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا، وَالْعَجْفَاءُ الَّتِي لَا تُنْقِي "

বারা ইব্‌ন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, তখন তিনি তাঁর আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করছিলেন। আর আমার অঙ্গুলি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর আঙ্গুল অপেক্ষা ছোট। তিনি তাঁর আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেনঃ কুরবানীতে জায়েয নয় কানা পশু, যার কানা হওয়া প্রকাশ্য; খোঁড়া পশু, যার খোঁড়া হওয়া প্রকাশ্য; রুগ্ন পশু, যার রোগ প্রকাশ্য; আর দুর্বল পশু, যার হাঁড়ে মজ্জা নেই।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ সুনানে আন–নাসায়ীঃ ( হা.এ. - ), ( আ.না. - ৪৩৭১ ), ( ই.ফা. - ৪৩৭২ ) ]

Jazak Allahu Khayran - জাযাক আল্লাহু খাইরান - ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ

IRD Foundation
ইউনিকোড বাংলা হাদিস - Bangla Hadith Unicode

16/06/2023

২০ শে জুন ২০২৩, রোজ মঙ্গলবার ( সম্ভাবনাময় ১লা যিলহাজ্ব )

⚫ সহিহ মুসলিম

🔴 ৩৬▪️কুরবানী

🔵 ৭▪️অধ্যায়

⚫ যে ব্যক্তি যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিনে প্রবেশ করল এবং কুরবানী দেয়ার ইচ্ছা করল তার জন্য চুল ও নখ কর্তন নিষেধ

🟢 ১৯৭৭ ( আন্তর্জাতিক নাম্বার )
৫০১১ ( হাদিস একাডেমি নাম্বার )

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ عَوْفٍ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يُحَدِّثُ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلاَ يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا ‏"‏ ‏.‏ قِيلَ لِسُفْيَانَ فَإِنَّ بَعْضَهُمْ لاَ يَرْفَعُهُ قَالَ لَكِنِّي أَرْفَعُهُ ‏.‏

উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সা) বলেছেনঃ যখন (যিলহাজ্জ মাসের) প্রথম দশদিন উপস্থিত হয়, আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখের কিছুই স্পর্শ না করে (কর্তন না করে)। সুফ্‌ইয়ান (রহঃ) কে বলা হলো, অনেকে তো হাদীসটিকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে উল্লেখ করেন না। তিনি বললেন, আমি কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকেই উল্লেখ করি।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ সহিহ মুসলিমঃ ( হা.এ. - ৫০১১ ), ( আ.না. - ১৯৭৭ ), ( ই.ফা. - ৪৯৫৫ ), ( ই.সে. - ৪৯৬১ ),
সুনানে আবু দাউদঃ ( আ.এ. - ২৭৯১ ), ( ই.ফা. - ২৭৮২ ) ]

Jazak Allahu Khayran - জাযাক আল্লাহু খাইরান - ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ

IRD Foundation
ইউনিকোড বাংলা হাদিস - Bangla Hadith Unicode

24/05/2023

⚫ সহিহ বুখারী

🔴 ৫৯▪️সৃষ্টির সূচনা

🔵 ৫৯/১৫▪️অধ্যায়

⚫ মুসলিমের সর্বোৎকৃষ্ট মাল হল ছাগের পাল যেগুলোকে নিয়ে তারা পাহাড়ের উপর চলে যায়।

🟢 ৩৩০৪

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا رَوْحٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِذَا كَانَ جُنْحُ اللَّيْلِ ـ أَوْ أَمْسَيْتُمْ ـ فَكُفُّوا صِبْيَانَكُمْ، فَإِنَّ الشَّيَاطِينَ تَنْتَشِرُ حِينَئِذٍ، فَإِذَا ذَهَبَ سَاعَةٌ مِنَ اللَّيْلِ فَحُلُّوهُمْ، وَأَغْلِقُوا الأَبْوَابَ، وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَفْتَحُ بَابًا مُغْلَقًا ‏"‏‏.‏ قَالَ وَأَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ نَحْوَ مَا أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ وَلَمْ يَذْكُرْ ‏"‏ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ ‏"‏‏.‏

জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘যখন রাতের আঁধার নেমে আসবে অথবা বলেছেন, যখন সন্ধ্যা হয়ে যাবে তখন তোমরা তোমাদের শিশুদেরকে আটকিয়ে রাখবে। কেননা এসময় শয়তানেরা ছড়িয়ে পড়ে। আর যখন রাতের কিছু অংশ অতিক্রান্ত হবে তখন তাদেরকে ছেড়ে দিতে পার। তোমরা ঘরের দরজা বন্ধ করবে এবং আল্লাহ্‌র নাম স্মরণ করবে। কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারেনা। ইব্‌নু জুরাইজ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি ‘আম্‌র ইব্‌নু দীনার (রহঃ) ....... জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ হতে ‘আত্বা (রহঃ)-এর মতই বর্ণনা করেছেন।

তবে তিনি وَاذْكُرُوْا اسْمَ اللهِ বলেননি।

🟩 হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

🔘 [ সহিহ বুখারীঃ ( ৩৩০৪, ৩২৮০ ), ( আ.প্র. - ৩০৬০, ৩০৩৮ ), ( ই.ফা. - ৩০৭২, ৩০৫০ ) ]

Jazak Allahu Khayran - জাযাক আল্লাহু খাইরান - ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ

IRD Foundation
ইউনিকোড বাংলা হাদিস - Bangla Hadith Unicode

Want your school to be the top-listed School/college in Cumilla?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Comilla Division, Bangladesh - কুমিল্লা বিভাগ, বাংলাদেশ
Cumilla
3500