27/03/2025
লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও করনীয়
========================
♦ শবে কদর কখন তালাশ করবে?
শবে কদর রমজান মাসের একটি বিশেষ রাত, যা কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
"তোমরা রমজানের শেষ দশ রাতের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯) কদর রাত তালাশ করো।"
(সহিহ বুখারি: ২০১৭, সহিহ মুসলিম: ১১৬৯)
বিশেষত ২৭তম রাত সম্পর্কে হাদিসে বিশেষ ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে এটি নির্দিষ্ট নয়। তাই মুসলমানদের উচিত শেষ দশকের প্রত্যেকটি রাত ইবাদতে কাটানো।
---
♦ শবে কদরের আলামত (চিহ্ন)
হাদিসে কিছু নিদর্শন বর্ণিত হয়েছে, যা শবে কদরের রাতকে চিহ্নিত করতে পারে।
১. আকাশ স্বচ্ছ ও শান্ত থাকবে (বুখারি, মুসলিম)।
২. সেদিন গরম বা ঠান্ডা মাঝামাঝি থাকবে, আবহাওয়া মনোরম থাকবে।
৩. সূর্য সকালবেলা নির্জ্বল ও কোমল আলো নিয়ে উদিত হবে (সহিহ মুসলিম: ৭৬২)।
৪. সে রাতে শান্তি বিরাজ করবে, কোনো ধ্বংসাত্মক ঝড় বা বিপর্যয় ঘটবে না।
৫. মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি অনুভূত হবে, এবং ইবাদতে অদ্ভুত এক তৃপ্তি আসবে।
---
♦ শবে কদরের ফজিলত
১. হাজার মাসের চেয়েও উত্তম
"লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।" (সূরা কদর: ৩)
২. এই রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে
"নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে।" (সূরা কদর: ১)
৩. এই রাতে ফেরেশতারা দুনিয়ায় নেমে আসেন
"সে রাতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল (আ.) তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক বিষয়ের নির্দেশ নিয়ে অবতরণ করেন।" (সূরা কদর: ৪)
৪. এই রাতে গুনাহ মাফ হয়
রাসুল (সা.) বলেন— "যে ব্যক্তি কদরের রাতে ইমান ও সওয়াবের আশায় ইবাদত করবে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।" (বুখারি: ২০১৪, মুসলিম: ৭৬০)
---
♦ শবে কদরে করণীয় আমল
১. নফল নামাজ পড়া – অন্তত ২ রাকাত, তবে বেশি পড়লে ভালো।
২. কুরআন তিলাওয়াত করা – কুরআনের অর্থ ও তাফসির বোঝার চেষ্টা করা।
3. দোয়া ও ইস্তেগফার করা – বিশেষ করে এই দোয়া পড়তে হবে:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
(উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আন্নি)।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসো, আমাকেও ক্ষমা করে দাও। (তিরমিজি: ৩৫১৩)
4. সালাতুত তাসবিহ, তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নফল ইবাদত করা।
5. গরিব-দুঃখীদের দান-সদকা করা।
---
♦ শেষ কথা
শবে কদর আল্লাহর এক মহা নিয়ামত। এটি পাওয়া মানে এক হাজার মাসের ইবাদতের সওয়াব অর্জন করা। তাই আমাদের উচিত রমজানের শেষ দশক বিশেষ করে বিজোড় রাতগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবে কদরের ফজিলত লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।
28/09/2024