29/12/2025
#কপি_পোস্ট
*সারাদিনের জিকির (১০০বার বা যতবার ইচ্ছা) ও নামাজের পর কি কি পড়তে হবে তার একটি ছোট তালিকাঃ*
১. سُبْحَانَ ٱللهِ (সুবহানাল্লাহ )
২. ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ (আলহামদুলিল্লাহ )
৩. اَللَّٰهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার )
৪. لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)
৫. لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِٱللَّٰهِ (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ )
৬. لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ، إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ (লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জোয়ালিমিন )
৭. سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهٖ، سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ (সুব্হানাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী, সুব্হানাল্লা-হিল ‘আযীম )
৮. لا إلهَ إلاَّ اللَّه وحْدهُ لاَ شَرِيكَ لهُ، لَهُ المُلْكُ، ولَهُ الحمْدُ، وَهُو عَلَى كُلِّ شَيءٍ قَدِيرٌ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু...)
৯. দরূদ শরীফ (যেকোনো): صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّم (সলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
১০. أَسْتَغْفِرُ اللهَ (আস্তাগফিরুল্লাহ )
❝প্রত্যেক সালাতে সালাতের প্রস্তুতি❞
✅ সালাতের আগে ১৫-২০ মিনিটের বিরতি নিন
✅ ওযুর পর পড়ুন: আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকা লাহূ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রাসূলুহূ। ( أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ)
ফরয সালাতের পর করণীয় আমলসমূহঃ
১. আল্লাহু আকবার — ১ বার পড়া এর পর আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া — ৩ বার এরপর
২. اللَّهُمَّ أَنتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الجَلالِ وَالإِكْرَامِ আল্লাহুম্মা আংতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম — ১ বার
৩. আয়াতুল কুরসি — ১ বার
৪. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস — প্রতিটি ১ বার করে
৫. اللهم أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ আল্লাহুম্মা আ’ইন্নী আলা যিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিক — ১ বার
৬. সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খালকিহি ওয়া রিদো নাফসিহি ওয়া জিনাতা আরশিহি ওয়া মিদাদা কালিমাতিহ। ( سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ) — ১ বার
৭. দরূদ শরীফ — ১০ বার বা ইচ্ছেমতো
তাসবিহ (প্রতিটি ফরয নামাযের পর)
সুবহানাল্লাহ — ৩৩ বার
আলহামদুলিল্লাহ — ৩৩ বার
আল্লাহু আকবার — ৩৩ বার
শেষে ১ বার: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর (এগুলো পাঠ করলে গুনাহসমূহ সমুদ্রের ফেনার মতো অসংখ্য হলেও ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
(মুসলিম, ১২৪০))
আল্লাহ্ আমাদের সকলকে এই যিকির ও আমলগুলো নিয়মিতভাবে করার তাওফিক দিন। 🌷
হাদীস সমূহ। 💐
১| রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে ৩ বার আসতাগফিরুল্লাহ্ বলতেন। (মুসলিম, ১২২২)
২| তারপর ‘আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল-জালা-লী ওয়াল ইকরাম’ – এটি পরতেন । (মুসলিম, ১২২১)
৩| আয়াতুল কুরসী (সূরা বাক্বারার আয়াত-২৫৫) ১ বার পড়া। ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়লে তার আর বেহেস্তের মধ্যে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো দূরত্ব থাকেনা। (নাসাঈ)
৪| সূরা ইখলাস,ফালাক ও নাস ১ বার করে। (সহীহ তিরমিযী ১৮)।
৫| মু’আয রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত ধরে বললেন, হে মুআয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি। অতঃপর তিনি বললেন, হে মুআয! আমি তোমাকে অসিয়ত করছি যে, তুমি প্রত্যেক নামাযের শেষাংশে এ দো’আটি পড়া অবশ্যই ত্যাগ করবে না, ’আল্লা-হুম্মা আইন্নী আলা যিকরিকা ওয়াশুকরিকা অহুসনি ইবা-দাতিক।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার যিকির, শুকর এবং সুন্দর ইবাদত করতে সাহায্য দান কর। (আবূ দাউদ ১৫২২)
৬| হজরত জুওয়াইরিয়া (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন আল্লাহর নবী সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সময় আমার ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। তখন আমি জায়নামাজে ছিলাম। তিনি চাশতের সময় আমার ঘরে ফিরে এলেন। তখনও আমি জায়নামাজে ছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘জুওয়াইরিয়া! আমি যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এভাবেই ওজিফা আদায়ে ছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ।
তিনি আমাকে বললেন, আমি তোমার পরে চারটি বাক্য তিনবার বলেছি। যদি এগুলোকে ওজন করা হয় তবে তোমার কৃত সমস্ত ওজিফার চেয়ে এগুলোই বেশি ভারী হবে। আর তা হলো- سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ (উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খালকিহি ওয়া রিজা নাফসিহি ওয়া জিনাতা আরশিহি ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি। )
অর্থ: আমি আল্লাহ তায়ালার প্রশংসাসমেত পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তার সৃষ্টিকুলের সংখ্যার পরিমাণ, তিনি সন্তুষ্ট হওয়া পরিমাণ, তার আরশের ওজন সমপরিমাণ, তার কথা লিপিবদ্ধ করার কালি পরিমাণ। (মুসলিম: ৬৬৬৫)
আল্লাহ্ আমাদের সকলকে এই যিকির ও আমলগুলো নিয়মিতভাবে করার তাওফিক দিন। 🌷
—আমিন