21/05/2026
#আলহামদুলিল্লাহ,
আজ
#মারকাযুত তাক্বওয়া মডেল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের #গণিত পরীক্ষা শেষ হলো,,✌️
সকলেই দোয়া করবেন 🤲
যেন কোমলমতি ছাত্রদের মহান আল্লাহ তায়ালা কামিয়াব করেন,, আমিন
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Markazut Taqwa Model Madrasha, Education Website, Chittagong.
21/05/2026
#আলহামদুলিল্লাহ,
আজ
#মারকাযুত তাক্বওয়া মডেল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের #গণিত পরীক্ষা শেষ হলো,,✌️
সকলেই দোয়া করবেন 🤲
যেন কোমলমতি ছাত্রদের মহান আল্লাহ তায়ালা কামিয়াব করেন,, আমিন
20/05/2026
#আলহামদুলিল্লাহ, মারকাজুত তাক্বওয়া মডেল মাদ্রাসার ছাত্রদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়েছে আগামী শনিবারে সকল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হবে ইনশাআল্লাহ,❤️ আপনারা সকলেই উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া চায়,
সবাই দোয়া করবেন 🤲🤲
#পরিচালকঃ হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম
📲০১৬০০৩৬৫৮৯৮
12/05/2026
#শিক্ষকের সাথে অভিভাবকদের ব্যবহার: সন্তানের ভবিষ্যতের ভিত্তি! 🤝
শিক্ষক হলেন আপনার সন্তানের দ্বিতীয় অভিভাবক, যিনি তার জ্ঞান ও নৈতিকতার ভিত্তি তৈরি করেন। শিক্ষকের প্রতি আমাদের আচরণ ও ব্যবহার কেমন হবে, তা সন্তানের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
আসুন, সন্তানের কল্যাণের জন্য শিক্ষকের সাথে অভিভাবক হিসেবে আমাদের ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত, তা জেনে নিই:
১. শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করুন:
শিক্ষক যে প্রতিষ্ঠানেই থাকুন না কেন, তিনি আপনার সন্তানের শিক্ষার জন্য সময় দিচ্ছেন। সব সময় তাঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করুন। মনে রাখবেন, আপনার সন্তানও আপনার আচরণ থেকে শিখছে। আপনি শিক্ষককে সম্মান দেখালে, সন্তানও তাঁকে সম্মান করতে শিখবে।
২. গঠনমূলক সম্পর্ক রাখুন:
শুধুমাত্র প্রয়োজন হলেই নয়, সন্তানের অগ্রগতি নিয়ে শিক্ষকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তবে সেটি যেন অযাচিত বা বিরক্তিকর না হয়। শিক্ষকের মূল্যবান সময়কে মূল্য দিন।
সন্তানের দুর্বলতা বা সমস্যা নিয়ে কথা বলার সময় নম্র ও বিনয়ী হোন।
শিক্ষকের কোনো সিদ্ধান্ত বা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, সেটি একান্তে ও শালীনতার সাথে আলোচনা করুন। জনসমক্ষে বা অন্য অভিভাবকদের সামনে সমালোচনা করবেন না।
৩. শিক্ষকের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করুন:
মাদরাসা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু নিয়মকানুন থাকে। শিক্ষকের নেওয়া যেকোনো গঠনমূলক সিদ্ধান্ত বা শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে তাঁকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করুন। বাড়িতে গিয়ে শিক্ষকের সমালোচনা করলে সন্তানের মনে তাঁর প্রতি অশ্রদ্ধা জন্মায়, যা শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর।
৪. সমস্যা সমাধানের মনোভাব রাখুন:
যদি সন্তানের পক্ষ থেকে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা অভিযোগ থাকে, তবে আগে শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। আবেগপ্রবণ না হয়ে, সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য শিক্ষকের সাথে একযোগে কাজ করুন।
💡 মনে রাখবেন: শিক্ষকের সাথে আপনার সুসম্পর্ক আপনার সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে। আপনার বিনয় ও সহযোগিতা শিক্ষকের প্রচেষ্টাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
আসুন, আমরা আমাদের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষকের প্রতি যথাযথ সম্মান বজায় রাখি।
শিক্ষকের প্রতি আপনার শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে আপনি কী করেন? কমেন্টে জানান। 👇
#শিক্ষক #শিক্ষকেরসাথেব্যবহার #অভিভাবক #সন্তানপালন #শ্রদ্ধা #প্যারেন্টিং
12/05/2026
হিফজ করা এত সহজ নয়…
যারা এই পথে হাঁটে, তারাই জানে—এটা শুধু মুখস্থ করা নয়; এটা এক জীবনের ত্যাগের গল্প।
হিফজের পথে হাঁটা মানে শৈশবকে একটু আগেই বিদায় জানানো।
মা–বাবার আদর, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, আত্মীয়-স্বজনের দাওয়াত, আনন্দ-উৎসব—সব ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়। অনেক বিয়ে, অনেক বেড়ানো, অনেক পারিবারিক আনন্দে বলতে হয়—“যেতে পারি না।”
কারণ তার ২৪ ঘণ্টার সঙ্গী একটাই—আল্লাহর কালাম।
ভোর শুরু হয় আজানের ধ্বনিতে।
দিন কাটে পৃষ্ঠা থেকে পৃষ্ঠায়, আয়াত থেকে আয়াতে।
রাত শেষ হয় ক্লান্ত চোখে পুনরাবৃত্তির মাঝে।
তবুও থামে না তার যুদ্ধ—
নিজের ভুলের সাথে, অলসতার সাথে, ভুলে যাওয়ার ভয়ের সাথে।
বন্ধুরা যখন স্বাধীনভাবে জীবন উপভোগ করে,
সে তখন নীরবে লড়ে—
একটি অক্ষর ভুল না করার জন্য,
একটি হরকত ঠিক রাখার জন্য,
একটি সূরা হৃদয়ে গেঁথে নেওয়ার জন্য।
তার খেলনা কোরআন।
তার বিনোদন তেলাওয়াত।
তার স্বপ্ন—হাফেজ হওয়া, আর আল্লাহকে রাজি করা।
অনেকে ভাবে—“ও তো শুধু পড়ছে।”
কিন্তু কেউ দেখে না—
ভুল হলে কত চোখের পানি ঝরে,
একই আয়াত কতবার পড়তে হয়,
মন ভেঙে গেলে কতবার আবার নতুন করে শুরু করতে হয়।
হিফজ মানে শুধু মুখস্থ নয়—
এটা ধৈর্য, ত্যাগ, কান্না, সংগ্রাম
আর আল্লাহর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক অনন্য যাত্রা।
শেষ পর্যন্ত তার চোখের পানি বৃথা যায় না—
সেই কান্নাই একদিন হয়ে ওঠে আনন্দের কান্না।
হাফেজদের জন্য দোয়া ও অফুরন্ত ভালোবাসা রইল। 🤍
08/05/2026
জীবনে অনেক তো মুনাজাত করেছেন!
এবার উত্তমরূপে এইভাবে একবার করুন।
নিজের জন্য দোয়ার লিস্ট🤲
এক মোনাজাতেই হৃদয়ের সকল চাওয়া-পাওয়া।
আমাদের দু’আর সবচেয়ে বেশি হক্বদার আমরা নিজেরাই। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সুন্নাহ, কারো জন্য দু’আ করলে প্রথমে নিজের জন্য দু’আ করা।(মুসনাদে আহমদ ২১২৪৭ (৫/১২১)
দু’আ লিস্টটাতে আমি নিজের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের বেসিক চাওয়াগুলোই লেখার চেষ্টা করেছি। আপনারা অবশ্যই আপনাদের নোটবুকে দু’আগুলো নোট করে নিবেন। এসব ছাড়াও আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অনেক অনেক প্রয়োজন আছে। সেসবও নোট করে রাখার চেষ্টা করবেন। ছোট-বড় সকল প্রয়োজন আল্লাহকে বলবেন৷ খুব করে আল্লাহর কাছে চাইবেন৷ বেশি বেশি চাইবেন।
দু’আতেই সব সুখ! একমাত্র দোয়াই ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, মৃত্যু পর্যন্ত পিছিয়ে যায়(নেক হায়াৎ বৃদ্ধি পায়)।
•••————–🤲–————•••
❑ ইয়া আল্লাহ, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম, ইয়া জুল জালালি ওয়াল ইকরাম, আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দাও।
❑ তুমিই আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে।
❑ আমি তোমার কাছে পানাহ চাই তাকদিরের খারাপ কিছু থেকে।
❑ হে আল্লাহ! আমার উপর তোমার রহমত, দয়া, বরকত, শান্তি, ক্ষমা বর্ষণ করো।
❑ ক্ষমা করে দাও আমার আগের পাপ, আমার পরের পাপ, আমার ছোট-বড় সকল পাপ, আমার গোপন পাপ, আমার প্রকাশ্য পাপ। আমার বাড়াবাড়ি এবং যে সকল পাপের কথা তুমি ভালো জানো। ক্ষমা করো সেসব পাপ, যা আমি ভুলে যাই। ক্ষমা করো সেসব পাপ, যা আমি পাপই মনে করি না।
❑ আমাকে আশ্রয় দাও বিতাড়িত শয়তান থেকে, তার ওয়াসওয়াসা থেকে ও অতৃপ্ত নফস থেকে।
❑ আমাকে আশ্রয় দাও দুনিয়ার জীবনের ফিতনা ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে। এবং দাজ্জালের অমঙ্গল থেকে।
❑ আমার জন্য তোমার করুনার দরজা, তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও।
❑ আমার রিজিকে প্রশস্ততা দাও। অঢেল বরকতময় রিজিক দাও। বেহিসাবি রিজিক দাও। এবং সেসব তোমার সন্তুষ্টি অনুযায়ী তোমার পথে ব্যয় করার নসীব দাও।
❑ আমাকে সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার জীবন দাও। পরিপূর্ণ সুস্থতা, নিরাপত্তা দাও।
❑ আমাকে মৃত্যু অবধি পরিপূর্ণ হিদায়তের উপর অটল রাখো। আমাকে এক মূহুর্তের জন্যও নিজের জিম্মায় ছেড়ে দিও না।
❑ ইয়া রব্ব, আমার অভিভাবক, বন্ধু হিসেবে তুমিই যথেষ্ট হয়ে যাও।
❑ হে আমার প্রতিপালক, আমাকে বানিয়ে দাও তোমার জন্য অধিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী, অধিক যিকরকারী, অধিক তাকওয়াবান, তোমার প্রতি অধিক বিনয়ী, অধিক আনুগত্যকারী, তোমার প্রতি বেশি বেশি তওবাকারী।
❑ আমার জিহ্বাকে তোমার যিকর দ্বারা সুসজ্জিত, পবিত্র করে দাও। আমার কলবকে আখিরাতের ফিকির দ্বারা পূর্ণ করে দাও।
❑ আমার তওবা কবুল করে নাও। আমার পাপকে ধুয়ে দাও, আমার দুআ কবুল করো। আমার জিহ্বাকে পবিত্র ও সুসংরক্ষিত রাখো।
❑ আমার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করো। হিংসা, বিদ্বেষ, সংকীর্ণতাসহ সমস্ত অন্তরের রোগ থেকে আমার অন্তরকে পবিত্র রাখো।
❑ আমার হৃদয়কে আজীবনের জন্য প্রশান্ত করে দাও।
❑ যা কিছু আমাকে পীড়িত করে, সেসব কিছু আমার কাছ থেকে সরিয়ে নাও।
❑ আমার ইজ্জত-আব্রুকে হেফাজত করো আমার মৃত্যু অবধি এবং এর পরেও।
❑ দুনিয়ার কারো কাছে আমার মাথা নত হতে দিও না। সৃষ্টির মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে পানাহ দাও।
❑ আল্লাহ! আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়াতের সাথে সম্মানিত করো।
❑ আমাকে দুনিয়ায় দাও উত্তম বাসস্থান, উত্তম পরিজন, উত্তম সঙ্গী ও উত্তম রিজিক। আখিরাতকে করো দুনিয়ার চেয়ে বহুগুণে উত্তম, পবিত্র ও সম্মানিত।
❑ মৃত্যুকে আমার জন্য সহজ ও আনন্দদায়ক করে দাও। ইজ্জতের সাথে আমার মৃত্যু দাও। জবানে কালিমা রেখে, অন্তরে তোমার ভরপুর ভালোবাসা, তাকওয়া রেখে মৃত্যুবরণ করার তওফিক দাও। আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু দাও। রাসুলের শহরে আমার মৃত্যু দাও। জান্নাতুল বাকিতে দাফন হওয়ার নসীব দাও। আমার কবরকে প্রশস্ত, আরামদায়ক করে দাও।
❑ তোমার নিয়ামত দেওয়ার পর তা ছিনিয়ে নিও না। এবং এর সাথে পরীক্ষাও রেখো না।
❑ আমাকে এমন কষ্ট দিও না, যা আমার ইমানকে সংকটে ফেলবে, আমার অন্তর বিধ্বস্ত করে দিবে। আমার শরীর ভেঙে দিবে। আমলে ঘাটতি আনবে।
❑ আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ চাই। আমার জানা-অজানা যত কল্যাণ, সব তুমি আমায় দাও। আমার জানা-অজানা সমস্ত অকল্যাণ থেকে আমাকে আজীবন পানাহ দাও।
❑ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এমন উত্তম জ্ঞান চাই, যা আমার ও দশের উপকারে আসবে। আমাকে যা শিখিয়েছো, তা দ্বারা আমার নিজের ও অন্যের উপকার করার তওফিক দাও।
❑ আমাকে সবসময় তুমি উত্তম হালতে রাখো। আমার অতীতের চেয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতকে আরো বেশি উত্তম করো।
❑ আমাকে তোমার যিকর, শোকর, ইবাদাত সুন্দরভাবে করার তওফিক দাও।
❑ আমাকে আশ্রয় দাও কৃপণতা থেকে, কাপুরুষতা থেকে, অপমানকর অতি বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছান থেকে।
❑ তুমি আমার দ্বীনকে সংশোধিত, কল্যাণময় করো। আমাকে দুনিয়ায় এমন কল্যাণ দাও, যা আখিরাতের কল্যাণকে নিশ্চিত করে।
❑ দুশ্চিন্তা, ডিপ্রেশন, উৎকণ্ঠা, বেদনা, ক্লেশ, অলসতা, অক্ষমতা, নীচতা, লাঞ্ছনা, হতাশা, মানুষের প্রভাব থেকে পানাহ চাই। আর পানাহ চাই প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা থেকে।
❑ ইয়া আল্লাহ! আমার সান্নিধ্যকে মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক বানিয়ে দাও। আমার চরিত্রকে এমন জায়গায় উন্নীত করো যেন আমার সংস্পর্শে এলে মানুষের তোমার কথা স্মরণ হয়। প্রতিটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাকে তুমি বেস্ট ভার্সনটা দাও। আমাকে এমন নূর দাও, আমার জবানে, চরিত্রে, চেহারায় এমন নূর, সৌন্দর্য দাও, যেন মানুষ স্বস্তি পেতে, সান্নিধ্যে পেতে আমার কাছে আসতে চাইবে।
❑ ইয়া রব্ব! তোমার কোনো বান্দা আমার উপর যেন প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে জুলুম করতে না পারে। আমিও যেন তোমার কোনো বান্দার উপর জুলুম না করি।
❑ আমাকে সবসময় এমন মানুষদের সঙ্গে রেখো, যাদের সঙ্গ ঈমানকে বৃদ্ধি করে।
❑ মা-বাবা ও জীবনসঙ্গীর সন্তুষ্টি নিয়ে তোমার সাথে সাক্ষাতের তওফিক দাও।
❑ আমাকে তুমি আরশের নিচে ছায়া দাও। আমার জন্য হিসাবকে সহজ করো। আমলনামা ডানহাতে দাও। বিদ্যুৎগতিতে পুলসিরাত পার করিয়ে দাও।
❑ আমার আল্লাহ! জাহান্নামের ঠান্ডা বাতাসও আমার দ্বারা সহ্য করা সম্ভব না। আমাকে, আমার প্রিয়জনদের তুমি বিনা হিসাবে জান্নাতুল ফেরদৌসে ঠাঁই দাও।
❑ আমার পরিবারকে বানিয়ে দাও দুনিয়ার বুকে এক টুকরো জান্নাত। আমার পরিবারের সদস্যদের একে অপরের কুররাতু আইয়ুন বানিয়ে দাও। আমাদের এক করে দাও, নেক করে দাও। আমার নিজের জন্য করা প্রতিটা দুআ তাদের জন্যও আফিয়াতের সাথে কবুল করে নাও।
❑ আমি তোমার আশ্রয় নিচ্ছি খারাপ দিন থেকে, খারাপ রাত থেকে, খারাপ মূহুর্ত থেকে, খারাপ সঙ্গী থেকে ও বসতবাড়ির খারাপ প্রতিবেশী থেকে।
❑ আমার জবানে, অন্তরে, চরিত্রে, জীবনে কুরআনকে মিশিয়ে দাও। আমাকে আফিয়াতের সাথে কুরআনের খাদিমা বানিয়ে দাও। কুরআনের পিছনে মেহনত করার তওফিক দাও।
❑ কুরআনকে বুঝার, অনুধাবন করার এবং নিজের জীবনে তা প্রয়োগ করার তওফিক দাও।
❑ আমার উপর অত্যাচারীর বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো। আমার জন্য তুমি যথেষ্ট হও। জালিমকে হিদায়ত দাও না হয় ধ্বংস করো।
❑ আমাকে এমন তাওয়াক্কুল দাও, যেন পৃথিবীর সমস্ত মানুষ আমার বিরুদ্ধে গেলেও আমি তোমার উপর ভরসা করতে পারি।
❑ যা কিছু তুমি অপছন্দ করো, সেসব কিছু থেকে পানাহ দাও।
❑ রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব নিয়ামাহ্ চাইতেন, আমাকে তুমি সেসব নিয়ামাহ্ দাও। যা কিছু থেকে তিনি পানাহ চাইতেন, আমাকেও সেসব থেকে পানাহ দাও।
❑ আমাকে পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দাও। তোমার সাথে পবিত্র অবস্থায় সাক্ষাতের তওফিক দাও। এমন সময় আমার মৃত্যু দাও, যে সময় আমি পাপমুক্ত এবং তুমি আমার উপর পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট।
ইয়া রব্ব! এমন দু’আ থেকে পানাহ চাই, যে দু’আ কবুল হয় না। আমার অন্তরের চাওয়াগুলো আমার চেয়ে তুমি ভালো জানো। আমার চাওয়াগুলো আফিয়াতের সাথে, উত্তমভাবে কবুল করে নাও। আমিন�
💌 সদকায়ে জারিয়া নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করে দিন।
08/05/2026
তাহাজ্জুদ নামাজ ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি নফল বা সুন্নত ইবাদত। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাহাজ্জুদের স্থান। নিচে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম, সময় এবং রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. তাহাজ্জুদ নামাজের সময়
* শুরু ও শেষ: এশার নামাজের পর থেকে শুরু করে সুবহে সাদিকের (ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার) আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া যায়।
* উত্তম সময়: রাতের শেষ তৃতীয়াংশ হলো তাহাজ্জুদের জন্য সবচেয়ে উত্তম সময়।
* শর্ত: তাহাজ্জুদ নামাজের মূল শর্ত হলো, এশার নামাজের পর রাতের কিছু অংশ ঘুমাতে হবে এবং এরপর ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়তে হবে। (তবে কেউ যদি রাতে না ঘুমান, তবে তিনি শেষ রাতে নামাজ পড়লে তা 'কিয়ামুল লাইল' বা নফল হিসেবে গণ্য হবে এবং তাহাজ্জুদের সওয়াবও পেতে পারেন)।
২. রাকাত সংখ্যা
* তাহাজ্জুদ নামাজ ২ রাকাত করে পড়তে হয়।
* সর্বনিম্ন ২ রাকাত পড়া যায়। তবে ২ রাকাত করে ৪, ৬, ৮ অথবা ১২ রাকাত পর্যন্ত পড়া উত্তম।
* রাসূলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ এবং ৩ রাকাত বিতরসহ মোট ১১ রাকাত পড়তেন।
৩. নামাজের নিয়ত
মুখে আরবিতে নিয়ত করা জরুরি নয়, অন্তরের ইচ্ছাই যথেষ্ট। আপনি মনে মনে এই নিয়ত করতে পারেন:
"আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ক্বিবলামুখী হয়ে ২ রাকাত তাহাজ্জুদের সুন্নত (বা নফল) নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।"
৪. নামাজ পড়ার নিয়ম
তাহাজ্জুদ নামাজ অন্যান্য সাধারণ সুন্নত বা নফল নামাজের মতোই পড়তে হয়। তবে এর কিছু বিশেষত্ব রয়েছে:
* ১ম রাকাত: 'আল্লাহু আকবার' বলে নিয়ত বেঁধে ছানা পড়বেন। এরপর সূরা ফাতিহা পড়ে পবিত্র কোরআনের যেকোনো একটি সূরা মেলাবেন।
* ২য় রাকাত: সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা মেলাবেন। এরপর রুকু, সেজদা করে তাশাহহুদ, দরুদ শরিফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাবেন।
* সূরার ধরন: তাহাজ্জুদের নামাজে দীর্ঘ সূরা পড়া এবং রুকু ও সেজদায় বেশি সময় কাটানো উত্তম। তবে বড় সূরা মুখস্থ না থাকলে ছোট সূরা দিয়েও পড়া যাবে।
* তাসবিহ: রুকু এবং সেজদার তাসবিহ সাধারণ ৩ বারের জায়গায় ৫, ৭ বা ৯ বারও পড়া যেতে পারে।
৫. বিতর নামাজ পড়া
আপনি যদি তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ত করে থাকেন, তবে এশার নামাজের পর বিতর নামাজ না পড়ে রেখে দেওয়া উত্তম। তাহাজ্জুদ নামাজ শেষ করার পর সবশেষে বিতর নামাজ পড়ে রাতের ইবাদত শেষ করা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ। তবে যদি রাতে ঘুম থেকে ওঠার ব্যাপারে সন্দেহ থাকে, তবে এশার পরই বিতর পড়ে নেওয়া ভালো।
৬. তাহাজ্জুদের পর দোয়া
রাতের শেষ ভাগ দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়ে আল্লাহ প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকেন। তাই নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করবেন এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করবেন।
04/05/2026
ভালো ছাত্র-ছাত্রী হওয়ার জন্য ১০টি জরুরি বিষয়
ইলম অর্জনের সফলতা শুধু মেধার ওপর নির্ভর করে না; বরং আমল, আদব ও তাকওয়ার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একজন আদর্শ ও সফল ছাত্র-ছাত্রী হতে হলে নিচের বিষয়গুলো বিশেষভাবে অনুসরণ করা জরুরি—
১. তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা
রাতের নিঃশব্দ সময়ে আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইলমে বরকত ও অন্তরের প্রশান্তি এনে দেয়।
২. বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা
কুরআনের সাথে সম্পর্ক যত গভীর হবে, ততই স্মরণশক্তি ও বুঝশক্তি বৃদ্ধি পাবে।
৩. পুরুষদের জন্য তাকবীরে উলার সাথে নামাজ আদায় করা
জামাতে প্রথম তাকবীর পাওয়ার চেষ্টা আত্মশুদ্ধি ও শৃঙ্খলা গড়ে তোলে।
৪. মাঝে মাঝে শেষ রাতে দীর্ঘ দোয়া করা
শেষ রাত্রে করা দোয়া আল্লাহ তাআলার কাছে অধিক কবুল হয়।
৫. ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়া
দরুদ শরীফ অন্তরকে আলোকিত করে এবং কাজে মনোযোগ বাড়ায়।
৬. সমস্ত সুন্নাতের প্রতি যত্নবান হওয়া
সুন্নাতের অনুসরণ ইলম ও আমলে বরকত নিয়ে আসে।
৭. মাসনূন দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া
প্রতিদিনের কাজে মাসনূন দোয়া পড়লে আল্লাহর সাহায্য সর্বদা সাথে থাকে।
৮. কবিরা ও সগিরা—সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
গুনাহ ইলমের আলো নিভিয়ে দেয়; পবিত্রতা ইলমকে শক্তিশালী করে।
৯. চোখের হেফাজত করা
দৃষ্টি সংযম অন্তরের পবিত্রতা ও মনোসংযোগ বৃদ্ধি করে।
১০. প্রয়োজন ছাড়া কম কথা বলা
অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে বিরত থাকা সময় ও মন দুটোই বাঁচায়।
যে ছাত্র-ছাত্রী ইলমের সাথে আমল ও আদবকে একত্রে ধারণ করে, আল্লাহ তাআলা তার পড়াশোনায় বিশেষ বরকত দান করেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আদর্শ ছাত্র-ছাত্রী হিসেবে গড়ে ওঠার তাওফিক দান করুন। আমীন।
#বর্তমান ছাত্রদের আমল-আখলাক গঠন এবং হিফজ মজবুত রাখা—এই দুটি বিষয়ই একজন উস্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নিচে বিষয় দুটির কার্যকরী উপায় এবং কারণগুলো আলোচনা করা হলো:
১. ছাত্রদের আমল-আখলাক ভালো করার উপায়
* উস্তাদের উত্তম আদর্শ (রোল মডেল): ছাত্ররা কিতাবের চেয়ে উস্তাদকে বেশি পড়ে। উস্তাদের নিজের আমল, তাকওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, সময়ানুবর্তিতা এবং কথাবার্তার ধরন যত সুন্দর হবে, ছাত্রদের মাঝে তার প্রভাব তত বেশি পড়বে।
* তারবিয়তি বয়ান ও ঘটনা শোনানো: শুধু ধমক বা শাসন না করে, মাঝে মাঝে সাহাবায়ে কেরাম, আকাবির ও হাফেজদের জীবনের শিক্ষণীয় ঘটনা শোনানো। নরম মনে এসব কিসসা খুব দ্রুত দাগ কাটে এবং দ্বীনের মহব্বত তৈরি করে।
* পরিবেশ ও নজরদারি: যে মাধ্যমেই হিফজ প্রশিক্ষণের ক্লাস হোক না কেন, ছাত্রদের একটি রুটিন ও সার্বক্ষণিক তদারকির মধ্যে রাখা। নামাজ, সুন্নাত তরিকায় খাওয়া-দাওয়া, সালামের প্রসার—এগুলো কেবল শেখানো নয়, বরং অভ্যাসে পরিণত করা।
* দায়িত্ববোধ তৈরি করা: ছাত্রদের ছোট ছোট দায়িত্ব দেওয়া। যেমন— কাউকে নামাজের জন্য ডাকার দায়িত্ব, কাউকে কামরা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব দেওয়া। এতে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ আসে।
* দোয়া করা: এটি সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ছাত্রদের নিজের সন্তানের মতো মনে করে তাহাজ্জুদে ও নামাজের পর মন খুলে তাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করা।
২. ছাত্রদের দিন দিন পড়া ভুলে যাওয়ার কারণ
হিফজের ক্ষেত্রে পড়া ভুলে যাওয়া একটি সাধারণ কিন্তু উদ্বেগজনক সমস্যা। এর প্রধান কয়েকটি কারণ হলো:
* আমখতা (পেছনের পড়া) অবহেলা করা: নতুন সবক দ্রুত শেষ করার প্রতিযোগিতায় অনেক সময় ছাত্র বা উস্তাদ পেছনের পড়া (দাওর/আমখতা) ঠিকমতো শোনেন না। নতুন পড়া যতোই হোক, প্রতিদিন পেছনের পড়া নির্দিষ্ট পরিমাণ না শোনালে হিফজ খুব দ্রুত হারিয়ে যায়।
* মনোযোগের অভাব ও আসক্তি: বর্তমান সময়ে মোবাইল, গেমস বা ছুটির দিনে ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার ছাত্রদের মেধা ও মনোযোগ মারাত্মকভাবে নষ্ট করে দিচ্ছে। মস্তিষ্ক অন্য দুনিয়াবী চিন্তায় ব্যস্ত থাকলে কুরআনের আয়াত স্মৃতিতে স্থায়ী হয় না।
* গুনাহের প্রভাব: চোখের গুনাহ, মিথ্যা বলা বা অন্য কোনো পাপ কাজের কারণে অন্তরের নূর কমে যায়। ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর ঘটনা থেকে আমরা জানি, গুনাহের কারণে মুখস্থ শক্তি লোপ পায়।
* মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত ভয়: উস্তাদের অতিরিক্ত প্রহার বা ভয়ের কারণে অনেক সময় ছাত্ররা মানসিক চাপে (Stress) ভোগে। সাময়িক ভয়ের কারণে ক্লাসে পড়া শোনাতে পারলেও, মস্তিষ্ক শান্ত না থাকায় পরে তা দ্রুত স্মৃতি থেকে মুছে যায়।
* মুসহাফ (কুরআনের কপি) পরিবর্তন করা: একেক সময় একেক ছাপার কুরআন ব্যবহার করলে আয়াতের নকশা মস্তিষ্কে ছবি হিসেবে গেঁথে থাকে না। ফলে পড়া মনে করতে কষ্ট হয়।