22/04/2026
Gachbaria N. G. Model Secondary School
Gachbaria, Chandanish, Chittagong
22/04/2026
22/04/2026
22/04/2026
ট্রা*ম্প ঘণ্টা দুয়েক আগে তাঁর সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছে
- মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট এন্ড ব্রিজ দিবস। ইরানের সব কিছু একবারে ধ্বংস করে দেয়া হবে।
এরপর সে লিখেছে
- ফা**কিং হরমুজ প্রণালি খুলে দাও ক্রেজি বা*স্টার্ডগুলো নইলে তোমরা সবাই নরকে বাস করবে।
সব শেষে সে লিখেছে
- সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
এই হচ্ছে দেশে দেশে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার শেখানো দেশটির প্রেসিডেন্টের ভাষা! Language discourse (ভাষা ব্যাবহার ও বিশ্লেষণ) সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে; তাঁরা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন- ট্রা*ম্প ভয়ানক হতাশা থেকে এই পোস্ট করেছে। সিএনএন-এর সাংবাদিক ট্রা*ম্পের এই পোস্ট সম্পর্কে টেলিভিশনে বলার সময় বলেছে
- কোন শিশু যদি এই মুহূর্তে টেলিভিশন খুলে রাখো; এই রিপোর্টটা দেখবে না।
সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ সাধারণত নর্মাল টেম্পারে থাকলে স্ল্যাং (গালি) ব্যাবহার করে না । কিন্তু এই পোস্টে ট্রা*ম্প দুই দুইবার গাল ব্যাবহার করেছে। এতে করেই বুঝা যাচ্ছে- T*rump appears to be out of touch. অর্থাৎ ট্রা*ম্প পাগলের প্রলাপ বকছে। স্কাই নিউজের এক্সপার্ট মাইকেল ক্লার্ক ট্রা*ম্পের পোস্ট দেখার সঙ্গে সঙ্গে বলেছেন
- ট্রা*ম্প হরমুজ প্রণালি খুলার জন্য এত জোর দিচ্ছে কেন? বুধবার রাতে ভাষণের সময়ই না সে বলেছে- হরমুজ প্রণালি অ্যামেরিকার জন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ না। এই প্রণালি দিয়ে অ্যামেরিকা কোন বাণিজ্য করে না। অ্যামেরিকার দরকার নেই এই প্রণালি খুলার। ইউরোপীয়রা গিয়ে খুলুক।
এরপর তিনি প্রশ্ন করেছেন
- তাহলে এখন আবার হরমুজ প্রণালি খুলার প্রয়োজন পড়লো কেন?
কারণ ট্রা*ম্পও খুব ভালো করে জানে- হরমুজ প্রণালি না খুলে যদি সে যুদ্ধ বন্ধ ঘোষণা করে। তাহলে সৌদি, আরব-আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন সেটা মেনে নেবে না। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্সেইমার আজ বলেছেন
- আরব দেশগুলো অ্যামেরিকাকে যেটা বলছে, সেটা হচ্ছে- তোমরা যুদ্ধ শুরু করেছো। এখন শেষ করে যাবা। অর্থাৎ ইরানকে দুর্বল করে তবেই যাবা। নইলে আমরা টিকতে পারবো না।
এরপর তিনি আরবদেশগুলোকে উপদেশ দিয়ে বলেছেন
- শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে দমানো যাবে না। বরং আরব দেশগুলোর উচিত অ্যামেরিকা থেকে দূরে সরে গিয়ে ইরানের সাথে আলোচনায় বসা।
সেটাই আজ ওমান অফিসিয়ালি ঘোষণা করেছে- ইরান এবং ওমান মিলে একটা ড্রাফট তৈরি করে ফেলেছে। এতে কোন দেশকে কি পরিমাণ টোল দিতে হবে; সব কিছু ভালো ভাবে দেয়া আছে।
অর্থাৎ ইরান এই যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ব্যাবহার করবেই। কারণ, ইরানের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ট্রা*ম্পের পোস্টের জবাবে কিছুক্ষণ আগে বলেছে
- হরমুজ তো খোলাই আছে। আমরা ড্রাফটও করে ফেলেছি। ক্ষতিপূরণ না দেয়ার ব্যবস্থা করে এই যুদ্ধ আমরা শেষ করবো না।
অর্থাৎ ইরান জানিয়ে দিয়েছে- অ্যামেরিকা-ই*জ*রাইল যতই হুমকি দিক। ইরান তাতে কান দিচ্ছে না। এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে অ্যামেরিকাকে এই অঞ্চল থেকে যেতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিয়েই যেতে হবে।
আজ অ্যামেরিকা তাঁদের একজন নিখোঁজ পাইলটকে ইরান থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই যুদ্ধ শুরু হবার পর অ্যামেরিকার যদি কোন অর্জন থাকে; তাহলে এই উদ্ধার অভিযানকে একটা ভালো অর্জন বলা যেতে পারে। কিন্তু এই এক পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে অ্যামেরিকার আজ এক দিনে দুটো বিমান এবং দুটো হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে। এটা আবার ইরানের সাফল্য।
এদিকে আরব যেই দেশগুলো ইরানের কথা না শুনে অ্যামেরিকার কথা শুনছে । ইরান তাঁদের ক্রমাগত আঘাত করেই যাচ্ছে। কুয়েতের অবস্থা খুবই খারাপ। ওদের পানি শোধানাগার, পাওয়ার প্ল্যান্ট, তেল ক্ষেত্রে আঘাত করেছে আজ ইরান। এই হামলার মাধ্যমে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে
- আমাদের বিদ্যুৎ, পানি আর ব্রিজে যদি আঘাত আসে। তোমরাও কেউ রক্ষা পাবে না।
ইরান স্রেফ ওদের সক্ষমতা জানান দিয়েছে। এদিকে ইয়েমেনে থাকা হু*তিরা আজ ই*জ*রাইলের বেন গরিয়ান এয়ারপোর্টে এক সফল হামলা করেছে। সেখানকার সকল কর্মীকে বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। অ্যামেরিকান ফক্স নিউজের মিলিটারি এক্সপার্ট জেনারেল কেইন আজ বলেছেন
- ইরানের তো আলাদা করে পারমাণবিক অস্ত্রের দরকার নেই। হরমুজ প্রণালিই ওদের পারমাণবিক অস্ত্র।
অর্থাৎ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখতে পারা মানে পৃথিবীর অর্থনীতি স্থবির হয়ে থাকা। যেমনটা সিএনএন-এর কলামিস্ট স্টিফ্যান ইয়ং আজ লিখেছে
- পৃথিবী ব্যাপী তেল-গ্যাসের যে ক্রাইসিস দেখা যাচ্ছে; সেটা এখন আর তেল গ্যাসে সীমাবদ্ধ নেই। কিডনি ডায়লাইসিস থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে।
এটা বুঝার জন্য বেশি দূর যেতে হবে না। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আজ বলেছেন
- শুধু তেল-গ্যাস না, পুরো সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়তে পারে। দ্রব্য মূল্য বাড়বে। না বাড়িয়ে বেশি দিন থাকা যাবে না। সরকারি তহবিলে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। জনগণকে চাপ নিতে হবে।
এটা শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে না, পুরো পৃথিবীতে সরকারগুলোকে এভাবে ভাবতে হচ্ছে। বাংলাদেশ যেহেতু অতি দরিদ্র একটি দেশ। তাই অন্যান্য দরিদ্র দেশগুলোর মত বাংলাদেশের অবস্থা খুব দ্রুতই খারাপ হচ্ছে। আর অ্যামেরিকা-ই*জ*রাইল এবং কিছু আরব দেশ পৃথিবীর কোন দেশের কথা না ভেবে বার বার বলেছে
- ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।
অন্য কোন দেশের কথাই এরা চিন্তা করছে না। এ জন্যই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ আজ বলেছে
- পৃথিবীকে যে কোন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাত থেকে বাঁচতে হবে। অ্যামেরিকা-চীন কারও আধিপত্য না মেনে বরং তৃতীয়-চতুর্থ জোট তৈরি করতে হবে। নইলে অ্যামেরিকার কাউকে পছন্দ না হলেই যখন যাকে ইচ্ছা গিয়ে বো*ম মারবে।
চিন্তা করা যায়! যে ফ্রান্স নিজেই একটা সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র ছিল। অ্যামেরিকার মিত্র ছিল। সেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এখন বলছে- এই গ্লোবাল অর্ডারে (বিশ্বব্যবস্থায়) থাকা যাবে না। খুব দ্রুত অ্যামেরিকান অর্ডার থেকে বের হয়ে Multipolar order (বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থায়) যেতে হবে।
চাইনিজ বিশেষজ্ঞ ভিক্টোর গাও আজ বলেছেন
- এই যুদ্ধের পর চীন বুঝে গেছে অ্যামেরিকার সামর্থ্য কেমন।
এরপর তিনি বলেছেন
- চীন মনে হয় না এখন আর অ্যামেরিকাকে খুব একটা ভয়ের চোখে দেখবে।
এদিকে এই লেখা লিখতে লিখতে শুনতে পেলাম ই*জ*রাইলের হাইফায় আঘাত করছে ইরান। সেখানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সাবেক সিআইএ গোয়েন্দা অফিসার, সামরিক বিশেষজ্ঞ স্কট রিটার কিছুক্ষণ আগে বলেছেন
- ইরান চাইলে এখনই পারমাণবিক বো*ম বানাতে পারে। আমি খুব অবাক হবো যদি ইরান এই যুদ্ধ শুরু হবার পর পারমাণবিক বো*ম বানিয়ে না থাকে। টেস্ট করার কোন দরকার নাই। অ্যামেরিকাও জাপানে পারমাণবিক বো*ম মারার আগে টেস্ট করে নাই। ওটাই টেস্ট ছিল।
এরপর তিনি বলেছেন
- ইরানের কাছে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম আছে; ১০টার মত বো*ম বানাতে পারবে। এর তিনটা ই*জ*রাইলে পড়লেই ওদের সব শেষ হয়ে যাবে।
এই অবস্থার মাঝে ট্রাম্পের পোস্ট
- মঙ্গলবার ইরানের সব কিছু ধ্বংস করে দেয়া হবে।
এই মাত্র ইরানের সামরিক মুখাপাত্র এসে বলেছে
- মঙ্গলবার ইরানে আঘাত আসলে ই*জ*রাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে নরক নেমে আসবে।
এই যখন অবস্থা, তখন ট্রা*ম্পের বেঁধে দেয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হবে আর কয়েক ঘণ্টা পর। ট্রাম্প মঙ্গলবার পর্যন্ত অপেক্ষা করবে নাকি আজ সোমবার ভোর বেলা থেকেই হামলা শুরু হবে; সেটা বলা মুশকিল । তবে সব চাইতে অবাক হয়েছি ট্রা*ম্পের পোস্টে লেখা শেষ লাইনটা নিয়ে। সে লিখেছে
- সকল প্রশংসা আল্লাহর নামে।
চিন্তা করা যায়! যে পোস্টে সে দুই দুই বার গালি ব্যাবহার করেছে। যে পোস্টে সে ইরানের সকল কিছু ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে। সেই পোস্ট সে শেষ করেছে আল্লাহর নাম নিয়ে। একটা আস্ত ধর্মের মানুষদের সে কীভাবে অপমান করলো।
এই যুদ্ধ শুরু হবার পর গত ৩৬ দিনে আমি প্রতিদিন যুদ্ধ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছি। আপনারাও পড়ছেন । আমার লেখার যায়গা সাম্রাজ্যবাদ; ধর্ম নয়। কিন্তু আজ যখন ট্রা*ম্প ধর্ম টেনে এনেছেই; তখন একটা কথা বলতেই হচ্ছে
- একবার চিন্তা করে দেখেন- সৌদি আরব, দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত, বাহরাইনের শেখরা কেউ এর প্রতিবাদ করে নাই। অথচ এরা দিন-রাত ধর্ম ব্যবসা করে যাচ্ছে। নিজেদের সাম্রাজ্য বাঁচিয়ে রাখতে এরা উল্টো অ্যামেরিকাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলছে।
এটাই সাম্রাজ্যবাদী এবং বুর্জোয়াদের চরিত্র। জগতের সকল জায়গায় বুর্জোয়াদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এক। পৃথিবীতে ইতিহাস হয়ে থাকবে- যেখানে ইউরোপের দেশগুলো পর্যন্ত অ্যামেরিকাকে সাপোর্ট করে নাই। যেখানে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো অ্যামেরিকাকে মানা করে দিয়েছে। যেখানে স্পেনের মত মিত্র রাষ্ট্র প্রকাশ্যে অ্যামেরিকাকে স*ন্ত্রাসী রাষ্ট্র বলেছে। সেখানে আরবরা অ্যামেরিকার হয়ে দাসত্ব করে গিয়েছে।
লিখতে লিখতে এই মাত্র দেখলাম আল জাজিরা ব্রেকিং নিউজ করেছে
- আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য অ্যামেরিকার সাথে যুদ্ধে যেতে রাজি আছে।
এই লেখা শেষ করছি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডি আজ যা বলেছেন; সেই উক্তি দিয়ে
- অনেক ক্ষতি হবার পরও ইরান টিকে থাকবে। ইরান এই যুদ্ধে হারবে না। আর না হারা মানেই জিতে যাওয়া। দেশগুলো শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে টোল দিতেও রাজি হবে।
এরপর তিনি বলেছেন
- আরব শেখদের ভবিষ্যৎ দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।
আগামীকাল এবং পরশু কী হতে যাচ্ছে; এটা অনুমান করা বোধকরি কারও পক্ষেই সম্ভব না। আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই যুদ্ধের গতি প্রকৃতি বুঝার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা চুক্তি হয়েও যেতে পারে আবার যুদ্ধ আরও ভয়ানক আকার ধারণা করতে পারে।
যেটাই হোক, অধ্যাপক মারান্ডির মত আমিও অপেক্ষায় থাকলাম- বুর্জোয়া আরব শেখদের পরিণতি দেখার।
10/02/2026
10/02/2026
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির সংশোধনী।
📢নির্বাচন ডিউটির জন্য প্রস্তুতি নিতে হলে কিছু জরুরি জিনিস সঙ্গে রাখতে হবে:
✔️ পাটি
✔️ কম্বল
✔️ দুই সেট পোশাক
✔️ শুকনা খাবার
✔️ পাউরুটি
✔️ কলা
✔️ কয়েল
✔️ পানির বোতল
✔️ মোবাইল চার্জার
✔️ হালকা খাবারের জন্য বিস্কুট বা চকোলেট
✔️ প্রয়োজনীয় ওষুধ (যদি থাকে)
✔️ পেন, পেপার, বা রেজিস্টার (যদি কাউকে সাইন করতে হয়)
✔️ গ্লাভস এবং মাস্ক (সচেতনতা বজায় রাখতে)
✔️ চশমা (যদি প্রয়োজন হয়)
✔️ পিপিই (যদি প্রয়োজন হয়)
মনে রাখবেন, কারো কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার আশা করা ঠিক নয়। সব কিছু প্রস্তুত রাখুন, যাতে সময়মতো সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
#নির্বাচন_ডিউটি #প্রস্তুতি #দায়িত্ব #ভোটগ্রহণ #বাংলাদেশ #সহায়তা #উপকরণ
কীভাবে ভোট জালিয়াতি করবেন? আমার ১৭ বছরের চাকরি জীবনে বেশ কয়েকবার স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ হয়েছিল। চাকরিকালীন সময়ে কখনোই সেই অভিজ্ঞতাগুলো আমি কোথাও শেয়ার করিনি, কিন্তু আজকে আমার মনে হলো বাংলাদেশের নির্বাচনের দিনে কত ধরণের অনিয়ম হয় যা আমি নিজ চোখে দেখেছি, সেগুলো সবার জানা উচিত।
সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি কীভাবে নির্বাচনে বিভিন্নভাবে জালিয়াতি হতো। চলুন দেখে নেই নির্বাচনের জালিয়াতিগুলো কীভাবে হয়। যারা নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে জড়িত আছেন তারা আমার এই লেখাটি সেভ করে রাখতে পারেন, ভোটের দিন খুবই কাজে দেবে।
জালিয়াতির সবথেকে কমন পার্ট হচ্ছে জাল ভোট দেওয়া। সব থেকে পুরনো টেকনিক হচ্ছে একজনের ভোট আরেকজন দেওয়া। সময় আর প্রযুক্তির আধুনিকতায় দিন দিন জাল ভোট দেওয়া এখন অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে, তারপরও এটি এখনো চালু আছে। এই জাল ভোট তখনই দেওয়া হয় যখন কেন্দ্রের ভেতর থেকেই একটা সিগন্যাল দেওয়া হয় যে জাল ভোট পাঠানো হোক। সব কিছু সাজানো থাকে, কোনো কিছু নিয়ে প্রশ্ন করা হয় না। শুধু হাতের একটি স্লিপ নিয়ে আসলেই হয়, কোনো চ্যালেঞ্জ করা হয় না। তখন একই ব্যক্তিকে একটু পর পর বিভিন্ন জনের ভোট দিতে ভেতরে পাঠানো হয় এবং এই প্রক্রিয়া অবিরাম চলতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর এজেন্ট কাউকে চ্যালেঞ্জ না করে। তাই এজেন্টদের বলবো, সবার পরিচয় নিশ্চিত হোন।
এইবার আমি আমার একদম রিয়েল লাইফ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কিছু ঘটনা আপনাদের বলবো:
ঘটনা - ১ একটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখলাম লম্বা লাইন। আমরা ভেতরে গিয়ে দেখলাম কোনো ভোটার নেই। আমার একটু খটকা লাগলো—বাইরে অনেক লম্বা লাইন কিন্তু ভেতরে বুথগুলো ফাঁকা, কেউ ভোট দিচ্ছে না। সব বুথ ঘুরে এক পর্যায়ে আমি পোলিং অফিসারকে জিজ্ঞেস করলাম, বাইরে এত লম্বা লাইন কিন্তু ভেতরে ভোট হচ্ছে না কেন? পোলিং অফিসার খুব চালাক মানুষ, উনি কোনো দায়-দায়িত্ব নিলেন না। উনি আমাকে বললেন, বাইরে কী হচ্ছে সেটা আমি জানি না, আমার দায়িত্ব ভোটকেন্দ্রের ভেতরে দেখা। কেন লাইনে দাঁড়ানো মানুষ ভোট দিতে ভেতরে আসছে না সেটা আমার জানা নেই।
আমি বের হয়ে আসলাম আসল ঘটনা জানার জন্য। আসল ঘটনা ছিল, প্রতিটা ভোটকেন্দ্রের লাইনে সকাল থেকে ২৫-৩০ জনের একটা দল দাঁড়িয়ে গেছে। তাদের কাজ হলো লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কিন্তু ভেতরে ভোট দিতে না যাওয়া। অর্থাৎ কৃত্রিম একটা ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি করা, যেন পিছনের লোকজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ভোট না দিয়ে বাড়ি চলে যায়। আমি লক্ষ্য করলাম মানুষ আসলেই ভোট না দিতে পেরে বাড়ি চলে যাচ্ছে।
এটা করার কারণ হলো, এই কেন্দ্রগুলোতে তাদের প্রতিপক্ষ প্রার্থীর অনেক ভোট আছে। এখন এইভাবে মানুষকে ভোট দিতে না দিয়ে বাড়ি পাঠাতে পারলে দিনশেষে তারাই জিতবে। এটা ছিল তাদের সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিং। আমি লাইনে দাঁড়ানো দুই একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছেন? কেন ভেতরে যাচ্ছেন না? তারা কোনো উত্তর না দিয়ে একবার মোবাইলে তাকায় তো একবার উপরে তাকায়। বাধ্য হয়ে একজন ভেতরে গেলেন ভোট দিতে, কিন্তু তিনি ভোট দিয়ে এসেই আবার সেই লাইনের পিছনে দাঁড়িয়ে গেলেন। এটা যে কত বড় সূক্ষ্ম কারচুপি তা কেউ খেয়ালই করতে পারবে না।
নারী ভোটারদের লাইনেও একই অবস্থা ছিল। তবে মহিলাদের চিল্লাচিল্লিতে লাইন কিছুটা আগাচ্ছিল। কিন্তু তারা ভেতরে গেলে আরেক ধরণের হয়রানি করা হতো। যে স্লিপ নিয়ে তারা ভেতরে যেতেন, তাদের বলা হতো এই রুমে না, অন্য রুমে যান। এভাবে সব রুম ঘুরিয়ে ভোট না দিয়ে তাদের চলে যেতে বলা হতো। এভাবেই গ্রামের সহজ-সরল মানুষগুলো ভোট না দিয়ে বাড়ি চলে যায়।
ঘটনা - ২ ভোটকেন্দ্রের এজেন্ট নিয়ে যে কী পরিমাণ লুকোচুরি করা হয়, তার কিছু বিচিত্র অভিজ্ঞতা আমার হয়েছিল। আমরা যখনই আমাদের টিম নিয়ে কোনো কেন্দ্রে হাজির হতাম, ভেতরে গিয়ে দেখতাম সব প্রার্থীর এজেন্ট আছে কি না। দেখা যেত প্রভাবশালী দলের এজেন্ট আছে কিন্তু অন্য প্রার্থীর এজেন্ট নেই। জিজ্ঞাসা করলেই বলা হতো তারা এইমাত্র বাইরে গেছে বা খেতে গেছে, বাথরুমে গেছে ইত্যাদি । কিন্তু আসল ঘটনা ছিল, সকালেই তাদেরকে হুমকি-ধমকি বা মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
এক কেন্দ্রে গিয়ে দেখলাম সব এজেন্ট আছে। আমি অবাক হলাম যে এই কেন্দ্র এত ভালো! আমি একজনের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কোন দলের এজেন্ট? তিনি বললেন আওয়ামী লীগের। আরেকজনকে বললাম আপনি কার এজেন্ট? তিনি বললেন অমুক প্রার্থীর। আমি তার গলার ব্যাজটা দেখে বললাম, আপনার গলায় তো নৌকা প্রতীকের ব্যাজ! তখন তিনি আর কোনো উত্তর দিতে পারলেন না। আমি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বেরিয়ে আসলাম। তাড়াহুড়া করে ডামি এজেন্ট সাজাতে গিয়ে তারা গলার ব্যাজটা খুলতেও ভুলে গিয়েছিল।
ঘটনা - ৩ ভোটকেন্দ্রের মহিলা বুথগুলোর অবস্থা ছিল আরও খারাপ। একটি বুথে গিয়ে দেখি একজন মহিলা গোপন কক্ষে অবস্থান করছেন। যে ভোটাররা গোপন কক্ষে ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের তিনি কোথায় ভোট দিতে হবে তা দেখিয়ে দিচ্ছেন বা বাধ্য করছেন। আমি গিয়ে প্রশ্ন করলাম, আপনি এই গোপন কক্ষে কী করছেন? এখানে ভোটার ছাড়া কারো থাকার কথা না। তিনি উত্তর দিলেন, বয়স্ক ভোটারদের হেল্প করছেন। আমি কথা বলার সময় পোলিং অফিসার তাকে ধমক দিয়ে বের করে দিলেন।
আরেকটি বুথে গিয়ে দেখলাম একজন জাদরেল টাইপের মহিলা ভোটারদের গোপন কক্ষে যেতেই দিচ্ছেন না। তার সামনেই ব্যালটে সিল মারতে বলছেন। আমি প্রশ্ন করায় তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে চলে গেলেন।
ঘটনা - ৪ ভোটকেন্দ্রে ভুয়া সাংবাদিকদের বিচরণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আইন অনুযায়ী ভোটার, এজেন্ট আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া কেন্দ্রে কেউ থাকতে পারবে না। কিছু সাংবাদিকের প্রবেশের অধিকার থাকে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শত শত ভুয়া সাংবাদিক কার্ড ইস্যু করা হয়। এরা কেন্দ্রে ঘুরাঘুরি করে জালিয়াতিতে ব্যস্ত থাকে। এক ব্যক্তিকে দেখলাম ভোটারদের ইনফ্লুয়েন্স করছেন। জিজ্ঞেস করায় সাংবাদিক কার্ড দেখালেন। আমি তাকে বললাম, আপনার কাজ খবর সংগ্রহ করা, আপনি ভোটারদের কাজে হস্তক্ষেপ করছেন কেন? তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে বের হয়ে গেলেন। আসলে এরা পার্টির লোক, তাদের কাজ হলো ভোটারদের ভয় দেখানো।
ঘটনা - ৫ একটি কেন্দ্রে ভুয়া নির্বাচন পর্যবেক্ষক দেখলাম। এক ব্যক্তি ঘুরাঘুরি করছিলেন, আমার সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞেস করলাম আপনি কোন সংস্থার? তিনি কোনো উত্তর দিতে পারলেন না, পরে নামসর্বস্ব একটা নাম বললেন যা আমি কখনো শুনিনি। আমি বললাম আপনি পর্যবেক্ষক হলে তো পর্যবেক্ষণ করে চলে যাওয়ার কথা, কিন্তু আপনি ভোটে হস্তক্ষেপ করছেন। তিনি আর কথা না বলে চলে গেলেন।
ঘটনা - ৬ আরেকটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখলাম বাইরে প্রচুর মানুষ ঘুরাঘুরি করছে কিন্তু ভেতরে কেউ ভোট দিতে যাচ্ছে না। আমরা ১৫ মিনিট বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে ভেতরে গেলাম। পোলিং অফিসার বললেন তিনি জানেন না কেন মানুষ আসছে না। বাইরে এসে এক ছোট ছেলেকে জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে? সে বললো এখানে মারামারি হয়েছে, কেউ ভেতরে গেলেই তাকে মারছে। তখন বুঝলাম ভেতরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেন কেউ ভোট দিতে না যায়।
ঘটনা - ৭ একটি কেন্দ্রে দেখলাম ভোটারদের গোপন কক্ষে সিল দিতে দেওয়া হচ্ছে না। এজেন্টের সামনেই সিল মারতে বাধ্য করা হচ্ছে যাতে তারা কনফার্ম হতে পারে ভোটটা তাদের দলেই পড়েছে। আমি জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে ভেতরে ঢুকলাম এবং প্রশ্ন করলাম। পোলিং অফিসার বললেন তিনি দেখেননি, হলে হয়তো একটা-দুইটা হতে পারে। এরপর আমাদের সামনেই একটা মিথ্যা বকাবকির নাটক সাজানো হলো—এটুকুই।
এগুলো হলো কেন্দ্রের ভেতরে ও আশেপাশের জালিয়াতি। এছাড়া কেন্দ্র থেকে ২ কিলোমিটার দূরে ভোটারদের থামিয়ে দেওয়া বা বাড়ি থেকে নারী ভোটারদের এনআইডি কার্ড কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও আমি অনেক দেখেছি।
আমার খুব আশাবাদী এইবার এইসকল অনিয়ম গুলি হবে না, অনিয়মের চেষ্টা কিন্তু সব পক্ষ করেই যাবে।
(মুহাম্মদ মঈন উদ্দিন সাবেক কর্মকতা আমেরিকান এ্যাম্বাসি ঢাকা, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আইয়া স্টেটে বসবাসরত)
03/02/2026
প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ :
Application Process (Online)
আবেদন পদ্ধতি: Online
Official Apply Link: http://ngi.teletalk.com.bd
বিস্তারিত তথ্য: https://ntrca.gov.bd এবং http://ngi.teletalk.com.bd
বি:দ্র: ৫ তারিখ থেকে আবেদন গ্রহন শুরু হবে।
29/01/2026
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Chittagong