আশেকে পাক পাঞ্জেতন

আশেকে পাক পাঞ্জেতন

Share

পাক পাঞ্জেতন (আলাইহিস সালাম) গণেই হলেন ইসলাম।
উনাদের বাদ দিয়ে মুসলমানিত্ব কল্পনাও করা যায় না । Group of Industres

25/07/2026

চারটি ঐশী যিকির যা প্রতিটি মুমিনের জীবনের শক্তি....
কত মানুষ আজ ভয়, দুশ্চিন্তা, ষড়যন্ত্র আর দুনিয়ার অস্থিরতায় দিশেহারা! অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য কুরআনে এমন কিছু মহান যিকির দান করেছেন, যা হৃদয়কে প্রশান্ত করে, ঈমানকে দৃঢ় করে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা বাড়িয়ে দেয়।

ইমাম জাফর আস-সাদিক (আঃ) বলেন,
"আমি সেই ব্যক্তির ব্যাপারে আশ্চর্য হই, যে চারটি অবস্থার সম্মুখীন হয়, অথচ সে চারটি মহান যিকিরের আশ্রয় গ্রহণ করে না।"

১। ভয় ও আতঙ্কে আক্রান্ত হলে

حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল।

অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৭৩)

২। দুশ্চিন্তা, বিপদ ও সংকটে পড়লে

لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনায-যালিমীন।

অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি মহাপবিত্র। নিশ্চয়ই আমি নিজের প্রতি জুলুমকারী ছিলাম।
(সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত-৮৭)

৩। ষড়যন্ত্র, অপবাদ বা চক্রান্তের শিকার হলে

وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ

উচ্চারণ: উফাওয়িদু আমরি ইলাল্লাহ। ইন্নাল্লাহা বাসীরুন বিল ইবাদ।

অর্থ: আমি আমার সব বিষয় আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সর্বদ্রষ্টা।
(সূরা গাফির, আয়াত-৪৪)

৪। দুনিয়ার কল্যাণ, বরকত ও নেয়ামত কামনা করলে

مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

উচ্চারণ: মা শা-আল্লাহু, লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহ যা চান তাই হয়, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
(সূরা আল-কাহাফ, আয়াত-৩৯)

★এই চারটি যিকির শুধু উচ্চারণের শব্দ নয়; এগুলো একজন মুমিনের ভরসা, ধৈর্য, আত্মসমর্পণ ও তাওয়াক্কুলের জীবন্ত প্রকাশ। তাই জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে কুরআনের এই মহান যিকিরগুলোকে নিজের সঙ্গী বানিয়ে নিন★

11/07/2026

কারবালার ঘটনার ৩৪ বছর পর ৯৫ হিজরীর ২৫শে মুহররম আজকের এই দিনে শাহাদত বরণ করেন ইমাম জয়নুল আবেদীন আস-সাজ্জাদ (আঃ)।

________________________________________

আজ ২৫ শে মুহররম নবী বংশের নক্ষত্র ইমাম আলী বিন হুসাইন (আ.) [জয়নুল আবেদীন] এর শাহাদাত দিবসে সকল অনুসারীদেরকে জানাই গভীর শোক শোক ও সমবেদনা। ইমাম আলী বিন হুসাইন (আ.) [জয়নুল আবেদীন] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই‌হি ওয়া আ‌লেহী ওয়া সাল্লা‌মের আহ‌লে বাই‌তের চতুর্থ ইমাম ছি‌লেন। তিনি জয়নুল আবেদীন উপাধিতেই সমধিক পরিচিত ছিলেন।তিনি কারবালার ঘটনার ৩৪ বছর পর ৯৫ হিজরীর ২৫শে মুহররম মদীনা মুনাওয়ারা উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালেকের দেয়া বিষে তিনি শাহাদত বরণ করেন।জান্নাতুল বাকী‌কে তাঁকে দাফন করা হয়।

নামঃ ইমাম আলী বিন হুসাইন (আ.)।
উপাধিঃ সাজ্জাদ, জয়নুল আবেদীন, সাইয়েদুশ সাজেদীন।
ডাক নামঃ আবুল হাসান।
পিতার নামঃ ইমাম হুসাইন (আ.)।
মাতার নামঃ হযরত শহর বানু (রাঃ)।
জন্ম তারিখঃ বৃহঃস্পতিবার, ৫ই শাবান ৩৮ হিজরী।
জন্মস্থানঃ মদীনা মুনাওয়ারা।
আয়ুঃ ৫৭ বছর।
ইমামতকালঃ ৩৫ বছর।
হত্যাকারীঃ উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালেকের দেয়া বিষে তিনি শহীদ হন।
শাহাদতঃ ২৫ মহরম ৯৫ হিজরী মদীনা মুনাওয়ারা।
দাফনের স্থানঃ জান্নাতুল বাক্বী।
সন্তানঃ ১৫জন, ১০জন ছেলে এবং ৫জন কন্যা।

কাবা ঘরের হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরের কাছে হাজিদের প্রচণ্ড ভিড়। উমাইয়া শাসক আবদুল মালিক কালো পাথরের কাছে যাবার জন্যে অনেক কষ্ট করেও ভিড় ঠেলে তেমন একটা এগুতে পারছিলেন না। অথচ দেখা গেল সৌম্য ও নুরানি চেহারার এক ব্যক্তিকে মানুষ প্রাণঢালা সম্মান জানিয়ে পথ ছেড়ে দেয়ায় ঐ ব্যক্তি সহজেই পৌঁছে গেলেন কালো পাথরের কাছে। হিশাম ওই ব্যক্তিকে চিনেও না চেনার ভান করে বিরক্ত চেহারা নিয়ে জানতে চাইলেন কে এই ব্যক্তি!? সেখানে উপস্থিত কবি ফারাজদাক খলিফার প্রশ্নের উত্তর দিলেন কাব্যিক ভাষায়ঃ

এতো তিনি প্রতিটি ধূলিকণার কাছে যাঁর পদক্ষেপ পরিচিত
যিনি অতি আপন এই কাবা ঘরের কাছে যে ঘর সর্বজন-নন্দিত
ইনি তো তাঁর সন্তান যিনি খোদার রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম
আর ইনি তো নিজেই শ্রেষ্ঠ ইবাদতে ও তাসবীহ তাহলিলে,
নির্মল নিষ্কলুষ, নিশানবরদার ইসলামের, পূত-পবিত্র, সততায় দীপ্ত
ইনি তো সন্তান মা ফাতেমার,যদি না জেনে থাকো তুমি পরিচয় তাঁর
জেনে রাখো এঁর প্রপিতামহের মাঝেই সমাপ্তি নবুয়্যত ধারার
খোদাকে যে চিনেছে সে-ই তো জানে ইনিই তো মর্যাদায় ও শ্রেষ্ঠত্বে আগে সবার
যেহেতু সারা বিশ্বে পৌঁছেছে ধর্মের বাণী এঁরই রক্তধারার উসিলাতে।

হ্যাঁ, আজ আমরা এমন এক মহাপুরুষের কথা বলছি যাঁর রক্তধারা পৃথিবীর বুকে প্রকৃত ইসলামকে টিকিয়ে রেখেছে। ইসলামকে বিলীন করে দেয়ার উমাইয়া ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে শহীদগণের নেতা ইমাম হুসাইন (আ.) কারবালার যে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন সে বিপ্লবের বাণী ও প্রকৃত ঘটনা যিনি পরবর্তী যুগের মুসলমানদের জন্যে সংরক্ষিত করেছিলেন তিনিই হলেন আমাদের আজকের আলোচ্য মহাপুরুষ হযরত আলী বিন হুসাইন জয়নুল আবেদীন (আ.)।

৬১ হিজরীতে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার পরে ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালাম সমর্থক-অনুসারীরা কেউ সমাজে প্রকাশ্যে ইমাম হোসাইন (আঃ)-এর পক্ষে কথা বলতে পারত না। মসজিদের ইমামরা ইয়াজিদের আনুগত্য প্রকাশ করত,শহরের কাজীরা রাজতন্ত্রের সকল অপকর্মের বৈধতা দিয়ে দিত। ইয়াজিদের পিতা মুয়াবিয়ার সময় থেকেই তার অধীন মসজিদসমূহে হযরত আলী আলাইহিস সালামকে গালি দেয়া হত। ইবনে আবীল হাদিদ ও আল্লামা মাজলিসি তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ সে সময় আহলে বাইতে রাসূল আলাইহিমুস সালামকে ভালোবাসতো মক্কা-মদীনায় এমন মানুষের সংখ্যা বিশ জনও ছিল না।পিতা ইমাম হুসাইন (আঃ)’র পর নতুন ইমাম হিসেবে তিনি কুফা ও দামেস্কে জালিম শাসকদের দরবারে বীরত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়ে তাদের আতঙ্কিত করে তুলেন। ফলে গণ-বিদ্রোহের ভয়ে আতঙ্কিত জালিম ইয়াজিদ কারবালা থেকে বন্দী করে আনা নবী-পরিবার ও ইমামের সঙ্গীদেরকে মুক্তি দিতে এবং তাঁদেরকে সসম্মানে মদীনায় পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) তাঁর পিতার শাহাদাতের পর প্রায় ৩৪ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং সমগ্র জীবনকাল নিবেদিতচিত্তে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি ও শহীদ পিতার স্মরণের মধ্যে অতিবাহিত করেন।দশই মহরমের সেই ভয়াবহ ঘটনার দিনে মারাত্মক অসুস্থ থাকায় তিন জিহাদে যোগ দিতে পারেন নি। ইয়াজিদের সেনারা তাকে হত্যা করতে গিয়েও তাঁর ফুফু হযরত যয়নব (সাঃআঃ)’র প্রতিরোধের মুখে এই মহান ইমামকে জীবিত রাখতে বাধ্য হয়।পরবর্তীকালেও আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান । আসলে মহান আল্লাহই এভাবে তাঁকে মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দেয়াসহ কারবালার কালজয়ী বিপ্লবের পরবর্তী অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করা ও এ বিপ্লবের প্রকৃত বাণী মুসলমানদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যে জীবিত রেখেছিলেন।কারবালা বিপ্লবের প্রকৃত ঘটনা ও শিক্ষা প্রচারের পাশাপাশি ইসলাম বিরোধী নানা চিন্তাধারার মোকাবিলায় ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করতেন ইমাম সাজ্জাদ।সে সময় ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালামের একমাত্র জীবিত পুত্র ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) উমাইয়া খলিফাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকাশ্যে ইসলামের প্রচার, বক্তব্য, জুমার খুতবা-নামাযের ইমামতি করতে পারতেন না। এমতবস্থায় তিনি মদীনায় তাঁর বাড়ির একটা ঘরে ইবাদত-বন্দেগী ও দোয়া-দরুদ পাঠ করতেন এবং মানুষ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলে তাদের কারাবালার শাহাদাতের ঘটনা বর্ণনা করতেন, কাঁদতেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ ও সিজদায় রত থাকতেন বিধায় ‘সাজ্জাদ’ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) আল্লাহ তাআলার প্রতি এত বেশি মনোযোগী থাকতেন যে, নামাযের প্রস্তুতির জন্য ওজু করার সময়ই তাঁর চেহারায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেত এবং নামাযে দণ্ডায়মান অবস্থায় আল্লাহর ভয়ে তাঁর শরীর কাঁপতে থাকত। কেন এমন হয় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলতেন: ‘তোমরা কি জান, নামাযে আমি কার সামনে দাঁড়াই এবং কার সাথে কথা বলি?’

শুধু তাই নয়, আশুরার সেই ভয়াল দিনটিতে ইয়াযীদের বাহিনী যখন তাঁর পিতা, আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায় এবং শিবিরে আগুন ধরিয়ে দেয়, তখনও এই মাসুম ইমাম তাঁর প্রভুর বন্দেগিতে নিমগ্ন ছিলেন।ইয়াযীদের বর্বর বাহিনীর লোকেরা যখন মহিলা ও শিশুদের বন্দি করে উটের খালি পিঠে করে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিল এবং অসুস্থতা সত্ত্বেও ইমামের ঘাড়ে ও পায়ের গোড়ালিতে ভারী শিকল পরিয়ে খালি পায়ে কারবালা থেকে কুফা ও দামেস্ক পর্যন্ত হেঁটে যেতে বাধ্য করেছিল, তখনও এই খোদায়ী আত্মা এক মুহূর্তের জন্য তাঁর প্রভুর আরাধনা থেকে মনোযোগ হারাননি।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) যে ঘরে বসে কারাবালার ঘটনা বর্ণনা করতেন সে ঘরটাকে ‘বাইতুল হুজন’ বা দুঃখের ঘর বলা হত। মসজিদে যেহেতু কারবালার ঘটনা আলোচনা করার সুযোগ ছিল না সেহেতু ইমাম হোসাইন (আঃ)-এর সমর্থক-অনুসারীরা নিজ নিজ এলাকায় শুধু কারবালা-ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালামে কে কেন্দ্র করে বিশেষ ঘর নির্মাণ করতেন। যে প্রথাটা তখন থেকে এখনও সমগ্র বিশ্বে বিদ্যমান। সেই বিশেষ ঘরগুলোকে আরব-পারস্যে হোসাইনিয়া, পাকিস্তান-ভারত-বাংলাদেশে আশুরাখানা/ইমামবাড়া(ইমামবারগাহ)/পাক পান্জাতন মোকাম বলা হয়।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) সেসময় যে দোয়া-মুনাজাতগুলো পাঠ করেছিলেন, সেগুলো পরবর্তীতে ‘সহীফায়ে সাজ্জাদিয়া’ নামে সংকলন করা হয়। সম্প্রতি হুজ্জাতুল ইসলাম আব্দুল কুদ্দুস বাদশা এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থটি আরবী ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন।সহিফায়ে সাজ্জাদিয়া’ নামে তাঁর দোয়া ও মুনাজাতের অমর গ্রন্থটি আত্মিক পরিশুদ্ধি ছাড়াও সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংস্কারের নানা দিক-নির্দেশনায় সমৃদ্ধ। ইমামের রেখে যাওয়া ‘রিসালাতাল হুক্বুক্ব’ শীর্ষক অধিকার সংক্রান্ত নির্দেশনা মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণার চেয়েও বিস্তারিত ও আধ্যাত্মিক ঔজ্জ্বল্যে ভরপুর।

কারবালার ঘটনার পর ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) ও হযরত জয়নাব (সাঃআঃ) যদি জীবিত না থাকতেন তাহলে কারবালার শহীদদের আত্মত্যাগ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঐ বিপ্লবকে নিছক একটা দুর্ঘটনা বলে প্রচার করার ইয়াজিদী চক্রান্ত সফল হতো। উমাইয়া শাসকরা তখন এটাও প্রচার করতো যে ইমাম হুসাইন (আ.) ইয়াজিদের মতো তাগুতি শাসকের শাসন মেনে নিয়েছিলেন। আর এর ফলে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে অবিচারের ব্যাপারে আপোসকামী ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্রও সফল হতো। কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) ও হযরত জয়নাব (সাঃআঃ) কারবালা থেকে বন্দী অবস্থায় কুফা ও দামেস্কে যাবার পথেই স্বল্প সময়ে জনগণকে জানিয়ে দেন যে কারবালায় প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছিল এবং কারা ছিল ইসলামের জন্যে নিবেদিত-প্রাণ ও কারা ছিল ইসলামের লেবাসধারী জালেম শাসক মাত্র।

কারবালার ঘটনার পর তিনি যখনই পানি দেখতেন বাবাসহ কারবালার শহীদদের চরম পিপাসার কথা ভেবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন। কোনো ভেড়া বা দুম্বা জবাই করার দৃশ্য দেখলেও কেঁদে আকুল হতেন। তিনি প্রশ্ন করতেন এই পশুকে জবাইর আগে পানি পান করানো হয়েছে কিনা। পানি দেয়া হয়েছে একথা শোনার পর তিনি বলতেন, কিন্তু আমার (তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত) বাবাকে পানি না দিয়েই জীবন্ত অবস্থায় জবাই করেছিল ইয়াজিদ-সেনারা। ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) সব সময় রোজা রাখতেন। ইফতারির সময় তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলতেন: রাসূল (সা.)’র সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থায়।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) সব সময় দিনে রোজা রাখতেন ও পুরো রাত জেগে ইবাদত করতেন। রোজা ভাঙ্গার সময় তিনি বাবার ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করে এত বেশি কাঁদতেন যে অশ্রুতে খাবার ভিজে যেত। জীবনের শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা ছিল তাঁর।

একদিন তাঁর খাদেম ইমামের কান্নারত অবস্থায় তাঁকে বলেনঃ আপনার দুঃখ ও আহাজারি শেষ হয়নি?

উত্তরে তিনি বলেনঃ তোমার জন্য আক্ষেপ! ইয়াকুব (আ.) আল্লাহর একজন নবী ছিলেন। তাঁর ১২ জন সন্তান ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাঁর এক পুত্র ইউসুফকে চোখের আড়ালে রাখায় শোকে, দুঃখে ও অতিরিক্ত কান্নায় তিনি প্রায় অন্ধ হয়ে পড়েন, চুল পেকে যায় ও পিঠ বাঁকা হয়ে যায়। সন্তান জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁর এ অবস্থা হয়েছিল। আর আমি আমার পিতা, ভাই এবং পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে মাটিতে পড়ে যেতে ও শহীদ হতে দেখেছি; তাই কিভাবে আমার দুঃখ ও অশ্রু থামতে পারে!

আবারও ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ)-এর শাহাদাত দিবসে সকল অনুসারীদেরকে জানাই আন্তরিক শোক-সমবেদনা ও মহান সত্তার শানে পেশ করছি অশেষ দরুদ ও সালাম।

“আল্লাহুম্মা লা’আন আউয়ালা জালামা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ।আল্লাহুমা সাল্লে ‘আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ আত তাইয়েবিন আত তাহেরিন ওয়াল মাসুমিন আল মজলুমিন ওয়া লা’নতুল্লাহে ‘আলা আদাইহিম।আল্লাহুমা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ ওয়া আজ্জিল ফারাজাহুম।”

#ইমাম_জয়নুল_আবেদীন #ইমাম_সাজ্জাদ #আলী_ইবনে_হুসাইন #শাহাদাত_দিবস ুহররম #মুহররম #কারবালা #কারবালার_শিক্ষা #কারবালার_বিপ্লব #ইমাম_হুসাইন #আহলে_বাইত #আহলুল_বাইত #বেলায়াত #সহিফায়ে_সাজ্জাদিয়া #রিসালাতুল_হুকুক #জান্নাতুল_বাকী #ইসলামের_প্রকৃত_বার্তা

02/07/2026

ইতিহাস যা লুকায়: মুহাম্মদ ও আলে মুহাম্মদের আসল লড়াইটা কাদের বিরুদ্ধে ছিল?
সেই লুকানো ইতিহাস আজ কারবালার কাঠগড়ায়: "কারবালা কথা কয়" 🔴
****************************************************
আমরা অনেকেই মনে করি, ইসলামের ইতিহাসে সমস্ত যুদ্ধ বুঝি কেবল মক্কার মূর্তিপূজকদের বিরুদ্ধেই হয়েছিল। কিন্তু আপনি কি জানেন, নবীজি (সাঃ) থেকে শুরু করে তাঁর পবিত্র পরিবার বা আলে মুহাম্মদের (আঃ) প্রত্যেকেই জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে যুদ্ধটি করে গেছেন এবং যে যুদ্ধে তাঁরা প্রত্যেকেই শহীদ হয়েছেন—তা কোনো কাফেরের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তা ছিল ইসলামের খোলস পরা 'মুনাফিকদের' বিরুদ্ধে!

আজ একটু হৃদয়ের কান পেতে, আবেগ আর ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলিয়ে সত্যটা বোঝার চেষ্টা করি:

📖 কোরানের নির্দেশ এবং নবীজি (সাঃ)-এর মিশন
কুরআনের সূরা আত-তাওবাহ (৯:৭৩) এবং সূরা আত-তাহরীমে (৬৬:৯) স্পষ্ট নির্দেশ ছিল: "হে নবী! কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন।"

নবীজি (সাঃ) আল্লাহর এই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। কাফেররা যখন বাইরে থেকে আক্রমণ করেছে, তিনি তরবারি দিয়ে যুদ্ধ করেছেন। আর মুনাফিকরা যখন মদীনার ভেতরে থেকে ইসলামের ক্ষতি করতে চেয়েছে, তিনি ওহীর আলোতে তাদের গোপন ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করে এক তীব্র আদর্শিক ও রাজনৈতিক যুদ্ধ (জিহাদে কাবীর) চালিয়ে গেছেন।

🎯 ১২ মুনাফিকের ষড়যন্ত্র ও নবীজির শাহাদাতঃ

ইতিহাস সাক্ষী, তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে 'আকাবা'-এর গিরিপথে একদল চরমপন্থী মুনাফিক (জলিল ক্বদর সাহাবী) নবীজিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। নবীজি ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে এবং আইনি কারণে তাদের নাম প্রকাশ না করলেও, এই মুনাফিক চক্রের গোপন বিষপ্রয়োগ ও ধারাবাহিক চক্রান্তের শিকার হয়েই নবীজিকে (সাঃ) চূড়ান্ত পর্যায়ে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছিল। তিনি কোরানের নির্দেশ মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জিহাদ পালন করতে গিয়েই নিজের জীবন বিলিয়ে দেন।

🕌 গদীরে খুমের অভিষেক এবং মুনাফিকদের গোপন ঐক্যঃ
লড়াইটা তীব্র রূপ নেয় তখন, যখন বিদায় হজের পর 'গদীরে খুমে' লক্ষাধিক সাহাবীর সামনে নবীজি (সাঃ) মওলা আলী (আঃ)-এর হাত উঁচিয়ে ঘোষণা করলেন—"আমি যার মওলা (নেতা/অভিভাবক), এই আলীও তার মওলা।" Ghadir Khumm - Wikipedia আল্লাহর নির্দেশে মওলা আলীর এই ঐশ্বরিক অভিষেকের পরই মদীনার মুনাফিক চক্রের বুকে কাঁপন ধরে যায়। তারা বুঝতে পারে, মওলা আলীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের দুনিয়াবী ক্ষমতার লোভ চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। ফলে, তারা পর্দার আড়ালে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও হিংস্র হয়ে ওঠে। তারা শপথ নেয়—নবীজির ওফাতের পরই তারা এই খেলাফত কেড়ে নেবে।

💔 নবীজির নিঃসঙ্গ দাফন:
ক্ষমতার লোভ বনাম রক্তের কান্নাঃ
সেই মুনাফেকীর চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল নবীজি (সাঃ)-এর ওফাতের ঠিক পর মুহূর্তেই। যে রাসুল (সাঃ) নিজের জীবনের চেয়ে উম্মতকে বেশি ভালোবেসেছেন, তাঁর পবিত্র মরদেহ যখন ঘরের ভেতরে পড়েছিল, তখন মদীনার একটি বড় অংশ নবীজির দাফন-কাফনের দিকে না তাকিয়ে মদীনার 'সাকীফা' নামক স্থানে ক্ষমতার চেয়ার দখল করতে মত্ত হয়ে উঠেছিল!

কত বড় নির্মমতা! মওলা আলী (আঃ), মা ফাতিমা (সাঃ) এবং বনু হাশেমের মাত্র কয়েকজন সদস্য যখন অশ্রুসজল চোখে আল্লাহর রাসুলকে দাফন করছিলেন, তখন মুনাফিকরা মেতেছিল বিজয়ের উল্লাসে, তারা ক্ষমতার মসনদ ভাগাভাগি করছিল।

🔥 ফাদাকের কান্না এবং ওহীর ঘরে আগুনঃ

নবীজিকে বিদায় দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তারা। রাসূলের কলিজার টুকরা, জান্নাতের নারীদের সর্দার মা ফাতিমা জোহরা (সাঃ আঃ)-এর ওপর শুরু হলো অবর্ণনীয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।

নবীজির উপহার দেওয়া 'ফাদাক' বাগানের আইনি অধিকার কেড়ে নিয়ে সৈয়দা ফাতিমাকে সা. আ. করা হলো রিক্ত, নিঃস্ব।

সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়টি ঘটল তখন, যখন মওলা আলীর কাছ থেকে জোরপূর্বক আনুগত্য (বায়াত) আদায়ের জন্য তারা সেই ঘরে চড়াও হলো, যে ঘরে স্বয়ং জিবরাইল (আঃ) ওহী নিয়ে আসতেন।

নবীজির ওফাতের মাত্র কয়েকদিন পর, সৈয়দা ফাতিমার সা. আ. পবিত্র ঘরের দরজায় আগুন দেওয়া হলো! সেই জ্বলন্ত দরজা ভেঙে যখন তারা ভেতরে ঢুকল, দরজার চাপে পিষ্ট হলেন নবী-দুহিতা। গর্ভেই শহীদ হলো তাঁর সন্তান মহসিন আঃ। এই গভীর ক্ষত ও চোখের পানি নিয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সে দুনিয়া ছাড়লেন মা ফাতিমা সা. আ.

⚔️ কারবালার কাঠগড়ায় একই যুদ্ধের সমাপ্তিঃ

নবীজিকে (সাঃ) যারা ১২ মুনাফিকের গোপন ষড়যন্ত্রে বিষপ্রয়োগে শহীদ করেছিল, মা ফাতিমার পাজর যারা ভেঙেছিল, মওলা আলীকে যারা মিহরাবে সেজদারত অবস্থায় শহীদ করেছিল এবং ইমাম হাসানকে যারা বিষ দিয়ে নীল করেছিল—তারা কেউ কাফের ছিল না! তারা সবাই ছিল কালেমা পড়া, নামাজ পড়া ছদ্মবেশী জলিল কদর সাহাবীএ মুনাফিক।

আর এই মুনাফেকীরই চূড়ান্ত এবং সবচেয়ে বীভৎস রূপ প্রকাশ পেয়েছিল কারবালার প্রান্তরে। ইয়াজিদের ছদ্মবেশী মুসলিম বাহিনী ইমাম হুসাইন (আঃ)-এর ৬ মাসের শিশু আলী আসগরের গলায় তীর বিঁধিয়েছিল, নবীজির আহলে বাইতের নারীদের বন্দি করে কুফা ও শাম-এর বাজারে ঘুরিয়েছিল।

😭 পরাজয় নাকি চিরন্তন মহাবিজয়?

বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হতে পারে মুনাফিকদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, চক্রান্ত আর নির্মমতার কাছে মুহাম্মদ ও আলে মুহাম্মদ (আঃ) পরাজিত হয়ে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু না! এটি পরাজয় ছিল না, এটি ছিল শাহাদাতের মাধ্যমে অর্জিত এক চিরন্তন মহাবিজয়।

কারবালার তপ্ত বালুচরে ইমাম হুসাইন (আঃ) নিজের রক্ত দিয়ে এই মুনাফিকদের ছদ্মবেশ চিরতরে টেনে ছিঁড়ে দিয়েছেন। আজ কারবালার কাঠগড়া দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলছে—ক্ষমতার চেয়ারে বসলেই বা মাথায় রাজমুকুট পরলেই কেউ সত্যের ওপর থাকে না। সত্য কেবল সেখানেই থাকে, যেখানে আলে মুহাম্মদ (আঃ)-এর আদর্শ থাকে।

নবীজি এবং তাঁর পবিত্র বংশধরেরা নিজেদের জীবন দিয়ে কোরানের হুকুম পূর্ণ করে গেছেন এবং ইসলামকে কেয়ামত পর্যন্ত খাঁটি ও নিষ্কলঙ্ক রেখে গেছেন। আজ কারবালা কথা কয়ে আমাদের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তুলছে!

04/06/2026

গাদীরে খুমে রাসূলে কারীম ﷺ কর্তৃক আমীরুল মু'মীনীন সাইয়্যিদুনা আলী ইবনু আবি তালিব (আঃ) এর বেলায়ত ঘোষণা স্বরণে দিবস উদযাপন যদি বিদ'আত হয়, তাহলে তার চেয়ে বড় বিদ'আত হিসেবে বিবেচিত হবে ১২ রবিউল আউয়াল জুলুশ পালন, পীরের ওরশ পালন, পীরের মৃত্যুর পর মাজার নির্মাণ, খতমে কুরআন-খতমে বুখারী অথবা অন্যান্য খতম পড়ে টাকা উপার্জন ইত্যাদি। গাদীরে খুমের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য হাদীস গ্রন্থ সমূহে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে ১২ই রবিউল আউয়াল জুলুশ পালন থেকে শুরু করে উপরে যা উল্লেখ করলাম তার বিষয়ে কোনো একটি নির্ভরযোগ্য হাদীসও পাওয়া যায় না। সুন্নী পরিচয়ধারী ভাইয়েরা এসব আমল পবিত্র কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনাকে ব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে থাকেন। এর সুস্পষ্ট কোনো বর্ণনা নেই। যা সত্য তাই বলেছি।

কি! রাগ করলেন?

04/06/2026

আরবি মাসের ১৮ জিলহজ্ব গাদীরে খুম দিবসে(ঈদে গাদির) রোজা রাখার ফজিলত।

মওলা ইমাম জাফর বিন মুহাম্মদ আল সাদিক (আ.) এক হাদীসে তার শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে এই রোজা সম্পর্কে বলেছেনঃ এই দিনের একটি রোজা অন্য সময়ের ৬০ মাসের (ষাট মাসের) রোজার সমতুল্য।

সূত্রঃ ইকবালুল আ’মাল, পৃষ্ঠা-৪৬৫।

‎عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: مَنْ صَامَ يَوْمَ ثَمَانِيَةَ عَشْرَةَ مَنْ ذِي الْحِجَّةِ كُتِبَ لَهُ صِيَامُ سِتِّينَ شَهْرًا، وَهُوَ يَوْمُ غَدِيرِ خُمٍّ، لَمَّا أَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ بِيَدِ عَلِيِّ ابْنِ أَبِي طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ: أَلَسْتَ وَلِيَّ الْمُؤْمِنِينَ؟ ، قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ

অর্থাৎ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। যে ব্যক্তি ১৮ জিলহজ্বের দিনে রোজা রাখে সে ৬০ মাস রোজা রাখার সমপরিমান সওয়াব পাবে। এদিনটি গাদীরে খুমের দিন। সেদিন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী বিন আবি তালিব (আ.) এর হাত ধরে বলেছিলেন, আমি কি মুমিনদের ওয়ালী? লোকজন বললো, হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বললেন, আমি যার মাওলা আলী তার মাওলা।

সূত্রঃ খতীব বাগদাদী: তারিখে বাগদাদ, ৮/২৯০পৃ/ইমাম তাবারানী: আল মুজামূল আওসাত, ৩/৩২৪পৃ/ইবনে আসাকির: তারিখে দামেস্ক, ৪৫/১৭৯পৃ/ওয়াহিদী: আসহাব উন নুজুল, ১০৮পৃ/ইমাম রাজী: তাফসীরে কবীর, ১১/১৩৯পৃ/ফারায়েদুস সিমতাঈন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৭, অধ্যায়-১৩, হাদীস-৪৪ ও মানাকেবে ইবনে মাগাজেলী, পৃষ্ঠা-১৯, হাদীস-২৪।

এছাড়া হাদিসটি সনদসহ ইমাম শাজরী মারফু হাদিস হিসেবে ‘আল আমালিল খামিসিয়্যাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—

‎(حديث مرفوع) حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ التَّنُوخِيُّ ، إِمْلَاءً ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الْوَاعِظُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعْدٍ الرَّقِّيُّ . ح قَالَ : وَحَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الزَّجَّاجُ الشَّاهِدُ النَّبِيلُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ حَيْشُونُ بْنُ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ الْحَلَّالُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الشَّافِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ ، عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ ، عَنْ مَطَرٍ ، عَنْ شَهْرٍ يَعْنِي ابْنَ حَوْشَبٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : مَنْ صَامَ يَوْمَ ثَمَانِيَةَ عَشْرَةَ مَنْ ذِي الْحِجَّةِ كُتِبَ لَهُ صِيَامُ سِتِّينَ شَهْرًا ، وَهُوَ يَوْمُ غَدِيرِ خُمٍّ ، لَمَّا أَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ بِيَدِ عَلِيِّ ابْنِ أَبِي طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ : " أَلَسْتَ وَلِيَّ الْمُؤْمِنِينَ ؟ " ، قَالَ : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : " مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ " . فَقَالَ عُمَرُ : بَخٍ بَخٍ لَكَ يَا ابْنَ أَبِي طَالِبٍ ، أَصْبَحْتَ مَوْلَاهُ وَمَوْلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ سورة المائدة آية

অর্থাৎ (হাদিসে মারফু) কাজী আবুল কাসিম আলী বিন হুসাইন বিন আলী আত তানুখী হতে বর্ণিত। তিনি আবু হাফস উমর বিন আহমদ বিন উসমান হতে। তিনি আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালিম হতে। তিনি আলী বিন সাঈদ আর রকি হতে। তিনি আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবায়দ হতে। তিনি আবু নসর হায়শুন বিন মুসা বিন আইয়ুব হাল্লাল হতে। তিনি আলী বিন সাঈদ শাফেঈ হতে। তিনি জমরা বিন রবীআ হতে। তিনি ইবনে শাওজাব হতে। তিনি মাতার হতে। তিনি শাহর ইয়ানি বিন হাওশাব হতে। তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি ১৮ জিলহজ্বের দিনে রোজা রাখে সে ৬০ মাস রোজা রাখার সমপরিমান সওয়াব পাবে। এদিনটি গাদীরে খুমের দিন। সেদিন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী বিন আবি তালিব (আ.) এর হাত ধরে বলেছিলেন, আমি কি মুমিনদের ওয়ালী? লোকজন বললো, হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বললেন, আমি যার মাওলা আলী তার মাওলা। এ কথা শুনে উমর বিন খাত্তাব বললেন, হে ইবনে আবি তালিব! আপনাকে অভিনন্দন। আপনি আমার মাওলা এবং প্রত্যেক মুমিনের মাওলা। এরপর ওহী নাজিল হলো, আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ধর্ম) পরিপূর্ণ করে দেয়া হলো (সূরা মায়েদা-৩)।

সূত্রঃ ইমাম শাজরী: আল আমালিল খামিসিয়্যাহ, হাদিস নং-১৩৯।

ইমাম যাহাবী হাদিসটি সনদসহ স্বীয় কিতাব ‘আহাদিসে মুখতার’-এ উল্লেখ করেন। যেমন—

‎أبو معاذ الشاه ثنا حبشون بن موسى ثنا علي بن سعيد الرملي ثنا ضمرة عن ابن شوذب عن مطر الوراق عن شهر بن حوشب عن أبي هريرة عن النبي من صام يوم ثماني عشر من ذي الحجة كتب له صيام ستين شهرا وهو غدير خم ثم أخذ يدي علي فقال من كنت مولاه فعلى مولاه وقال له عمر بخ بخ يا ابن أبي طالب أصبحت مولاي

অর্থাৎ হযরত আবু মা’আজ আশ শাহ হতে বর্ণিত। তিনি হাবশুন বিন মুসা হতে। তিনি আলী বিন সাঈদ রমলী হতে। তিনি জমরা হতে। তিনি ইবনে শাওজাব হতে। তিনি মাতার ওয়ারাক হতে। তিনি শাহর বিন হাওশাব হতে। তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি ১৮ জিলহজ্বের দিনে রোজা রাখে সে ৬০ মাস রোজা রাখার সমপরিমান সওয়াব পাবে। এদিনটি গাদীরে খুমের দিন। সেদিন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী বিন আবি তালিব (আ.) এর হাত ধরে বলেছিলেন, আমি যার মাওলা আলী তার মাওলা। এ কথা শুনে উমর বিন খাত্তাব বললেন, হে ইবনে আবি তালিব! আপনাকে অভিনন্দন। আপনি আমার মাওলা।

অন্য এক হাদীসে বলেছেনঃ ঈদে গাদীরে খুমের একদিনের রোজা, আল্লাহর নিকট একশ’টি গহণযোগ্য হজ্জ ও ওমরার সমতুল্য।

সূত্রঃ আল-গাদীর, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৮৫।

অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেনঃ গাদীরে খুমের রোজা পৃথিবীর আয়ুর (জীবনের) সমস্ত রোজার সমান, যদি কেউ এ ধরনের বয়সের অধিকারী হয় এবং সে যদি সারা জীবন রোজা রাখে।

সূত্রঃ ইকবালুল আ’মাল, পৃষ্ঠা-৪৬৩।

এটি মূলত ইসলামের পূর্ণতা লাভের দিন (সূরা মায়েদাহ: ৩)। আল্লাহর এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো এই দিনে রোজা রাখা এবং বেশি বেশি ইবাদত করা।আসুন, আগামী ১৮ জিলহজ্ব পবিত্র গাদীরে খুম দিবসে রোজা রাখি এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, মাগফিরাত ও বরকত লাভ করি।

#ঈদে_গাদির #গাদীরে_খুম িলহজ্ব #ইসলামিক_ফজিলত #রোজা

03/06/2026

সবান্ধবে যোগ দিন এবং আন্তরিকভাবে সফল করে তুলুন। পবিত্র আহলে বায়াত (আঃ) গণের মুহাব্বতে পোস্টারটি ডাউনলোড করে সকলেই পোস্ট করুন।

03/06/2026

মহানবী (সাঃ) এর ওফাতের পর তাঁর আহলে বায়াতের ওপর নেমে এসেছিল জুলুমের পাহাড়।
মা ফাতেমা (সাঃ আঃ) তখন তাঁর নিজ ঘরে হওয়া হামলায় মারাত্মকভাবে আহত।
তাঁর পবিত্র পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল, শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল।
কিন্তু সেই অসহ্য যন্ত্রণা ভুলে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন যখন দেখলেন তাঁর প্রাণপ্রিয় স্বামী, মাওলা আলী (আঃ) কে বাজারের মধ্য দিয়ে গলায় রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে!তাঁর নিজের বাবার উম্মতেরাই নিজেদের নবীর কলিজার টুকরা আলীকে এমন নির্লজ্জভাবে অপমান করছিল! মা ফাতেমা (সাঃ আঃ) এর চোখের সামনে যেন তাঁর বাবার সকল স্বপ্ন, সকল আদর্শ পদদলিত হচ্ছিল।

মা ফাতেমা (সাঃ আঃ) তখন মহানবী (সাঃ) নূরানি পাগড়ি মাথায় দিয়ে আর মহানবীর পবিত্র চাদর গায়ে জড়িয়ে টলমলে পায়ে জনতার সামনে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর দুচোখ বেয়ে তখন অশ্রু নয়, যেন রক্ত ঝরছিল। তিনি জালিমদের দিকে তাকিয়ে বজ্রকণ্ঠে এক চরম হুঁশিয়ারি দিলেন, ​হে লোকসকল! আমার আলীকে ছেড়ে দাও! আলীকে মুক্ত করো! যদি তোমরা এখন তাকে মুক্ত না করো, তবে আল্লাহর কসম আমি আমার বাবার রওজার পাশে গিয়ে আমার মাথার চুল ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর দরবারে তোমাদের জন্য অভিশাপ দেবো! আমি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাবো, যেন তিনি আজই তোমাদের ধ্বংস করে দেন।

মা ফাতেমা (সাঃ আঃ) যখন চুল ছাড়ার জন্য নিজের মাথার ওড়নায় হাত দিলেন, তখনই শুরু হলো আল্লাহর কুদরতের খেল! হযরত সালমান ফারসি (রাঃ) বর্ণনা করেন তিনি বলেন আমি দেখলাম মদিনার মাটি থরথর করে কাঁপছে, যেন তা দু'টুকরা হয়ে যাবে! আর মসজিদে নববীর বিশাল দেয়ালগুলো মাটির বুক চিরে উপরে উঠতে শুরু করেছে! দেয়াল ও মাটির মাঝে এতটাই শূন্যস্থান তৈরি হয়েছিল যে তার নিচ দিয়ে আস্তো একটা ঘোড়া অনায়াসে চলাচল করতে পারত। দেয়ালের নিচ থেকে তাজা রক্ত প্রবাহিত হতে দেখে আমরা ভয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম।
মনে হলো কিয়ামত যেন এখনই সংঘটিত হতে চলেছে! ​আল্লাহর এই গজব আর মা ফাতেমার সেই অভিশাপের তেজ দেখে জালিমরা ভয়ে কাঁপতে শুরু করল।
তাদের বুকের স্পন্দন যেন থেমে গিয়েছিল।
জালিমরা ভয়ে মাওলা আলীকে (আঃ) ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো।

মুক্ত হয়ে মাওলা আলী (আঃ) যখন তাঁর আহত স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে ফিরলেন, তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হলো।
মা ফাতেমা (সাঃ আঃ) আলীর চরণে লুটিয়ে পড়লেন। সেই আহত শরীর আর রক্তাক্ত বক্ষ নিয়েই তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, হে আলী! আমায় মাফ করে দাও।
আজ আমার জীবদ্দশায় আমার বাবার উম্মতেরা তোমার গলায় রশি পরিয়েছে, তোমার এই অপমান আমি সইতে পারছি না।
আমি আমার এই জখম হওয়া শরীর নিয়ে তোমাকে রক্ষা করতে গিয়েও ব্যর্থ হলাম।
হে আমার প্রাণের স্বামী, আমাকে ক্ষমা করো আলী!

জুলফিকারের মালিক, মাওলা আলী (আঃ) তখন অঝোরে কাঁদতে শুরু করলেন।
তাঁর চোখের জল যেন ইতিহাসের প্রতিটি পাতার বেদনাকে ধারণ করছিল।
তিনি মা ফাতেমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, হে ফাতেমা! তুমি কেন মাফ চাচ্ছো? বরং তুমি আমাকে মাফ করে দাও।
কারণ আজ আমি জালিমদের হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করতে পারি নাই।
আজ যদি তোমার বাবার মহানবী (সাঃ) আমাকে 'ধৈর্য ধরার' এবং 'চুপ থাকার' অসিয়ত না থাকতো, তবে খোদার কসম এই জালিমদের মধ্যে একজন লোকও আজ এখান থেকে জ্যান্ত ফিরে যেতে পারতো না। শুধুমাত্র আমার নবীর সেই পবিত্র ওয়াদার খাতিরে আমি আজ এই অপমান মুখ বুজে সহ্য করেছি।

এই ইতিহাস শুধু একটি ঘটনা নয়, এটি আমাদের শেখায়, মা ফাতেমার (সাঃ আঃ) একটি চুল মোবারকের মর্যাদা আল্লাহর কাছে মদিনার সমস্ত মানুষের চেয়েও বেশি।
তাঁর সেই আর্তনাদ আজও জালিমদের বিরুদ্ধে এক চিরস্থায়ী প্রতিবাদ। মাওলা আলী (আঃ) শিখিয়েছেন নবীর আদেশের সামনে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেওয়া কত বড় বীরত্ব ও আনুগত্য।
আহলে বাইতের (আঃ) এই রক্তভেজা জখম আর নীরব অশ্রু আজও আমাদের ঈমানকে জাগ্রত করে, জালিমদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায় এবং সত্যের পথে অবিচল থাকতে অনুপ্রেরণা যোগায়।

আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ ওয়া আজ্জিল ফারাজাহুম....

03/06/2026

হারেস বিন নােমান ফেহরীর ঘটনা, যে হযরত আলী (আঃ) এর “বেলায়েতকে" অস্বীকার করেছিল।

“এক প্রশ্নকারী জিজ্ঞেস করে সেই আযাব সম্বন্ধে, যা আপতিত হবে।” (মায়ারেজ-১)

হারেস বিন নোমান ফেহরীর ঘটনা, যে হযরত আলী (আঃ) এর “বেলায়েতকে” অস্বীকার করেছিল।

গাদীরে খুমের ঘটনা যে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ তা পাঠকের বুঝার জন্য একটি ঘটনা প্রমাণ স্বরুপ উল্লেখ করছি। এ ঘটনাটি এমন এক ব্যক্তির শাস্তি সম্পর্কিত যে হযরত আলীর (আঃ) “বেলায়েতকে” অস্বীকার করেছিল। এ কাজটি সে তখন করেছিল যখন হযরত আলী রাসূল (সাঃ) এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সংবাদটি ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন লোকেরা এ কথাও জানতে পেরেছিল যে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “যারা এখন এখানে উপস্থিত রয়েছে তাদের কাজ হচ্ছে, অনুপস্থিত লোকদের কাছে এ সংবাদ হযরত আলী (আঃ) রাসূলের (সাঃ) স্থলাভিষিক্ত পৌঁছে দেয়া।”

ঘটনাটি এরূপঃ
হারেস বিন নোমান ফেহরী (নবীজির অনুচর) যখন এ সুসংবাদটি জানতে পারলো, তখন বিষয়টি তার কাছে ভাল লাগেনি। সে নিজের উটের পিঠ হতে নেমে সোজা রাসূল (সাঃ)-এর খেদমতে হাজির হয়ে বললো, ইয়া মোহাম্মদ (সাঃ)! " আপনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, যেন সাক্ষ্য দেই আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আপনি আল্লাহ্র রাসূল। আমরা আপনার এ কথা মেনে নিয়েছি। আপনি আমাদেরকে আদেশ করেছেন যে, আমরা যেন দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করি, মাহে রমজান মাসে রোযা রাখি, পবিত্র কা'বা ঘরের তাওয়াফ করি (হজ্ব পালন) ও যাকাত আদায় করি ইত্যাদি। আমরা আপনার সব কথা মেনে নিয়েছি। অতঃপর এই সব মেনে নেওয়ার পরও, আপনি সন্তুষ্ট হলেন না, এমনকি (ইহজগত ত্যাগ করার পূর্বে নিজের প্রতিনিধি) নিজের ভাইকে আমাদের উপর তাঁর অভিভাবক করে দিলেন, (যেমন আপনার হুকুম মানা বাধ্যতামূলক ঠিক তাঁর হুকুমও) এবং বললেন যে, “আমি যাদের যাদের মাওলা এই আলীও তাদের তাদের মাওলা।” এই আদেশ কি আপনার নিজের পক্ষ থেকে বলেছেন, নাকি আল্লাহ্ তরফ থেকে? এ কথা শুনে রাসূল (সাঃ)- এর চক্ষুগুলো রক্তিম বর্ণ ধারণ করলো তিনি বললেন, “এক আল্লাহর কসম!” একথা আল্লাহর পক্ষ থেকে বলেছি। আমার নিজের তরফ থেকে নয়।”

“আর তিনি (রাসূল) কোন মনগড়া কথা বলেন না। বরং তা ওহী যা তাঁর প্রতি প্রেরণ করা হয়।” (নাজম-৩, ৪)

হারেস দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহ! মোহাম্মদ (সাঃ) যা বললেন, যদি তা সত্য হয়, তাহলে আকাশ থেকে আমার উপর আজাব স্বরূপ পাথর বর্ষণ করো। বর্ণনাকারী বলেন যে, সে তখনো নিজের উটের নিকটে পৌছতে পারেনি। অমনি একটি পাথর আকাশ থেকে তার মাথায় পতিত হল এবং তার নিম্নদেশ দিয়ে বেরিয়ে গেল তৎক্ষনাত সে মৃত্যুমুখে পতিত হল । তারপর এই আয়াতটি নাজিল হলোঃ- এক প্রশ্নকারী জিজ্ঞেস করে সেই আযাব সম্বন্ধে, যা আপতিত হবে। (মায়ারেজ-১)

সূত্রঃ তাফসীরে কুরতুবি, খঃ, ১০, পৃঃ, ৬৭৫৭, তাফসীরে সালবী, খঃ, ২৯, পৃঃ, ৫২, সীরাতে হালবিয়া, খঃ, ৩, পৃঃ, ২৭৫, আল মীনার, খঃ, ৮, পৃঃ, ২৬৮, জামেউল আহকামুল কোরআন, খঃ, ১৮, পৃঃ, ২৭৮, শাওয়াহেদুত তানযিল, খঃ, ২, পৃঃ ২৮৬, তাযকেরা সিবতে ইবনে জওজি, পৃঃ, ১৯, ফাযায়েলুন খামছা, খঃ ১, পৃঃ, ৩৯, নুরুল আবসার, পৃঃ, ১৭৮, ফুসুলুল মোহিষ্মা, পৃঃ, ২৬, কেফায়াতুল মোওয়াহেদীন, খঃ, ২, পৃঃ ৩০০, আল গাদীর, খঃ, ১, পৃঃ, ২৩৯, তাফসীরে মানারীজ, খঃ, ৬, পৃঃ, ৪৬৪, আরজাহুল মাতালেব, পৃঃ, ১১৮ (উর্দু) নুযহাতুল মাজালিস, খঃ, ২, পৃঃ, ২৪২, বয়ানুস সায়াদাহ, খঃ, ৪, পৃঃ, ২০২। তাফসীরে ফাতহুল বায়ান, খঃ, ১০, পৃঃ, ৪৮ (আল্লামা সিদ্দীক হাসান খান ভূপালী, আহলে হাদীস) ।

02/06/2026

"জুল-নূরাইন" (দুই জ্যোতির অধিকারী) উপাধিটি মূলত আমীরুল মুমিনীন আলী আলাইহিস সালামের সম্মানিত উপাধিগুলোর একটি।

​উমাইয়াদের অন্যতম বড় অপরাধ ছিল এই যে, তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরে জাল হাদিস তৈরি করেছিল; বিশেষ করে আমীরুল মুমিনীন (আ.)-এর জন্য নির্ধারিত ফজিলত ও উপাধিগুলো চুরি করে নিজেদের শাসকদের জন্য ব্যবহার করতে শুরু করেছিল।

​তার মধ্যে একটি বিখ্যাত উপাধি হলো "জুল-নূরাইন"। আমীরুল মুমিনীনকে এই উপাধিটি এ কারণে দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি দুটি নূরের পিতা—অর্থাৎ ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম, যাঁরা জান্নাতী যুবকদের সর্দার। প্রকৃত সত্যও এটাই যে, এই উপাধিটি কেবল মওলা আলী (আ.)-এরই যোগ্য ছিল, কারণ উভয় নূর তাঁরই পুণ্যময় বংশ থেকে এসেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে উমাইয়ারা এই উপাধিটি ওসমানের জন্য জাল করে বানিয়ে নেয়।

​✍ আল্লামা কারাজাকি উমাইয়া খলিফাদের এই জাল উপাধিগুলোর ব্যাপারে তাঁর ‘আল-তাআজ্জুব’ গ্রন্থে বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং ওসমানের জন্য "জুল-নূরাইন" উপাধিটিকে একটি জাল ও উমাইয়া-নির্মিত উপাধি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন:
​🔹 তাদের একটি অদ্ভুত কাজ হলো এই যে, তারা ওসমান বিন আফফানকে "জুল-নূরাইন" (দুই জ্যোতির অধিকারী) বলে থাকে। তাদের ধারণা হলো, তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর দুই কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন।
​অথচ এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি মতভেদ (বক্তব্য) রয়েছে:
​১. কেউ কেউ বলেছেন, তারা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সৎ কন্যাসন্তান (রবীবা) ছিলেন, যাঁরা খাদিজা (রা.)-এর পূর্বের স্বামীর ঔরসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

(বিঃদ্রঃ- জাফরী মাজহাব মতে হযরত খাদিজা (আ.)' কুমারী ছিলেন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)' এর পূর্বে কোন ব্যক্তিকে বিয়ে করেননি।)

​২. আবার কেউ কেউ বলেছেন, তারা খাদিজা (রা.)-এর বোনের কন্যাসন্তান ছিলেন, যাদের মা (হালা) ইন্তেকাল করার পর খাদিজা (রা.) নিজের তত্ত্বাবধানে লালন-পালন করেছিলেন। (আর এই মতটিই সঠিক)।

৩. অথবা কেউ কেউ বলেন, তারা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কন্যাই ছিলেন, তবে যা-ই হোক না কেন, তারা কোনোভাবেই ফাতিমা জাহরা সালামুল্লাহি আলাইহার মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন না।

​তা সত্ত্বেও ওসমানের সাথে কেবল তাদের দুজনের বিয়ের কারণেই তাকে "জুল-নূরাইন" বলা হতে থাকে, অথচ কিছু রেওয়ায়েতে (বর্ণনায়) ইহাও এসেছে যে ওসমান তাদের একজনকে হত্যাও করেছিলেন।

​কিন্তু আমীরুল মুমিনীনকে "জুল-নূরাইন" বলা হয়নি, অথচ তিনি দুই সিবত (ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম)-এর পিতা, যাঁরা উভয়েই ইমাম, জান্নাতী যুবকদের সর্দার, আল্লাহর আরশের অলংকার, রহমতের নবী (সা.)-এর দুটি সুবাসিত ফুল এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন ফাতিমা জাহরা সালামুল্লাহি আলাইহার সন্তান।

​বর্ণিত আছে যে মুজাহিদ বলেছেন: ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আলী ইবনে আবী তালিব সম্পর্কে আপনি কী বলেন?"

​তিনি বললেন:
​"আল্লাহর কসম! তিনি তো সেই ব্যক্তিত্ব যিনি সবার আগে দুই শাহাদাতের (কালিমা) ওপর ঈমান এনেছেন, যিনি উভয় কিবলার (বাইতুল মুকাদ্দাস ও কাবা) দিকে মুখ করে নামাজ পড়েছেন, যিনি দুই বার বায়াত (আনুগত্যের শপথ) করেছেন, যাকে আল্লাহ দুটি সিবত (হাসান ও হুসাইন) দান করেছেন, যাঁর জন্য দুই বার সূর্য ফিরে এসেছিল, যিনি দুই বার তরবারি ধারণ করেছিলেন। এই উম্মতের মধ্যে তাঁর দৃষ্টান্ত ঠিক জুলকারনাইনের মতো।"

​🔹 "দুটি সিবত" দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা আলী আলাইহিস সালামকে জ্ঞান ও শারীরিক দিক থেকে এমন বিশালতা বা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলেন, যেমনটা তালুতকে দান করা হয়েছিল।
​🔹 "দুই বার সূর্য ফিরে আসা" একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় এবং দ্বিতীয়বার তাঁর ওফাতের পরে ঘটেছিল।
​🔹 "দুই বার তরবারি ধারণ করা" একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় মুশরিকদের বিরুদ্ধে এবং দ্বিতীয়বার তাঁর ওফাতের পরে জুমাল (উটের যুদ্ধ), সিফফিন ও নাহরাওয়ানের যুদ্ধসমূহে।

ইবনে আব্বাস আরও বললেন: "আলী আলাইহিস সালাম জ্ঞান ও কর্ম (ইলম ও আমল) উভয় ক্ষেত্রেই দ্বিগুণ মর্যাদার অধিকারী, ইসলামে অগ্রগামিতা এবং জিহাদের ক্ষেত্রেও তিনি দুটি বিশেষ ফজিলতের অধিকারী। তিনি দ্বিগুণ পুণ্য বা আভিজাত্যের অধিকারী, কারণ তাঁর পিতা ও মাতা উভয়ই হাশেমী বংশের। এই বিচারে তিনি ওসমানের চেয়ে অনেক বেশি এই উপাধির যোগ্য যে, তাঁকে 'জুল-নূরাইন' (দুই জ্যোতির অধিকারী) বলা হোক।"
​📚 আল-তাআজ্জুব মিন আগলাতিল আম্মাহ ফী মাসআলাতিল ইমামাহ, আল্লামা কারাজাকি (মৃত্যু: ৪৪৯ হিজরি), তাহকীক: কারীম ফারিস হাসুন, পৃষ্ঠা: ১০২.
বিঃদ্রঃ দলিলের স্ক্রিনশট কমেন্ট বক্সে।

Want your school to be the top-listed School/college in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Chittagong
4340