20/11/2025
প্রসঙ্গ: মসজিদে রাজনীতি
রাজনীতি হলো, রাজার নীতি। যে নীতিতে রাষ্ট্র চলে। যে নীতির উদ্দেশ্য হলো, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জমীনে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা। মাজলুমকে রক্ষা করা। জুলুম শোষণকে উৎপাটিত করা। মানুষের মৌলিক অধিকার তথা ধর্ম, জীবন, সম্পদ, জ্ঞান ও মান-সম্মান, নসব রক্ষা করা। কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে জাতিকে দুনিয়া ও পরকালে মুক্তি ও সফলতার পথ দেখানো। চলাচলের জন্য রাস্তাঘাট মেরামত ও তাতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করার পরিবেশ তৈরি করা। পারিবারিক, সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা। ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা। চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বন্ধ করে সমাজে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কঠোর ভূমিকা পালন করা। আর এই সব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তখনই পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হওয়া সম্ভব, যখন মানুষ আল্লাহর দেয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা গ্রহণ করে। মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা ও নিরঙ্কুশ মালিক একমাত্র সার্বভৌম আল্লাহর দেয়া রাজনীতি ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সফল করা সম্ভব নয়। যার বাস্তব প্রমাণ আমরা স্বচক্ষে দেখছি। মানুষের বানানো আইনভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শুধু ক্ষমতাসীনদেরকেই রাষ্ট্রের সমস্ত সুযোগসুবিধা ভোগের ব্যবস্থা করে দেয়। রাষ্ট্র এক ফ্যাসিবাদ থেকে আরেক ফ্যাসিবাদের কাছে জিম্মি হয়ে যায়। তাই মহান স্রষ্টা মানুষকে শুধু সৃষ্টি করেই দুনিয়ায় লক্ষ্যহীন নৌকার মত ছেড়ে দেন নি, বরং তার জন্য দিয়েছেন সর্বাত্মক জীবনবিধান। রাষ্ট্রব্যবস্থা যার অন্যতম। এই বিধান দিয়েই নবীজি মানবেতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে দশ বছর তা নিজেই পরিচালনা করেছেন। তাই ইসলাম ও রাজনীতি পরস্পর অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পৃক্ত। রাজনীতিহীন ইসলাম কিংবা ইসলামহীন রাজনীতি দুটোই প্রত্যাখ্যাত, ধ্বংসাত্মক। কুরআনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন রাষ্ট্র ছাড়া সম্ভব নয়। আবার রাষ্ট্রর মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ইসলাম ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
অতএব, ধর্মীয় উপাসনালয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলবে না, এ দাবী সম্পূর্ণরূপে ইসলামপরিপন্থী কথা। এ দাবী কোন মুসলমান করতে পারে না। চোর যদি বলে মসজিদে ইসলামের হাতকাটার বিধান নিয়ে আলোচনা করা যাবে না, সুদ ও ঘুষখোর যদি বলে, ঘুষ ও সুদ নিয়ে মসজিদে আলোচনা করা যাবে না, ধর্ষক যদি বলে, মজদিতে ধর্ষণ ও যিনার বিরুদ্ধে বলা যাবে না, তাহলে কি আপনি তা মেনে নিবেন? কুরআনতো এ সব অপরাধের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বিধান ও দন্ডবিধি দিয়েছে। তাই না? এগুলোতো রাজীনিতরই অংশ। তদ্রূপ, কোন রাজনৈতিক দল যদি বলে, মসজিদে ইসলামী রাজীনিতি নিয়ে আলোচনা করা যাবে না, তবে তার অবস্থান আর ঐ চোর, ধর্ষক, খুনীদের অবস্থান এই প্রশ্নে অভিন্ন অবস্থান। হ্যা, তারা যদি এই অর্থে বলে যে, মসজিদে ইসলাম বিরোধী কোন রাজনীতির কথা বলা যাবে না, যে রাজনীতিতে রাজনীতি মানে হলো, চাঁদাবাজি, ঘুষ, খুন-খারাবী, লুটপাট, নেতার গোলামী তাহলে ঠিক আছে। বরং মসজিদকে অবশ্যই এই জাতীয় নোংরা ও অসভ্য রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে হবে। বরং মসজিদতো প্রতিষ্ঠাই করা হয়েছে আল্লাহর ইবাদাতের মাধ্যমে ঐ সব রাজনীতির নামে সংঘবদ্ধ ডাকাতদের হাত থেকে সমাজকে উদ্ধার করে আল্লাহমুখী করা। আসলে ইসলামশূন্য কোন রাজনীতিই না। ওটা নিছক এক প্রকার জুলুমতন্ত্র, জোর যার মুল্লুক তার মার্কা, জঙ্গলীয় তন্ত্র। এ জন্যই বিশ্বস্রষ্টা বলেছেন: ألا له الخلق والأمر
“সৃষ্টি যার, বিধানও তাঁর”