28/11/2022
অভিশাপ থেকে। অর্থাৎ, সঠিক জীবন দৃষ্টি, জীবনকে আপনি কীভাবে দেখছেন তার উপরই নির্ভর করে জীবনের সাফল্য ব্যর্থতা, সুস্থতা আর প্রশান্তি। আমাদের অধিকাংশেরই সমস্যা এখানে যে, সঠিক জীবন দৃষ্টি নেই। আর সেকারণেই রোগ, শোক, সাময়ীক বিপদ–আপদে আমরা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি।
কিন্তু জীবনকে দেখতে হবে পূর্ণাঙ্গভাবে। জীবনের কোন সময়ের কিছু সমস্যা, কিছু অপ্রাপ্তি, কিছু কষ্ট সবকিছু নয়। ছোট ছোট কিছু অপ্রাপ্তি-কষ্ট বৃহৎ নদীতে ভাসমান বিচ্ছিন্ন কিছু কচুরিপানা ছাড়া আর কিছুই নয়।
টেনশনমুক্ত সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি বা উপায় ৩টি
১ম উপায় – শোকরগোজার দৃষ্টিভঙ্গি লালনঃ
আমার যা আছে; শোকর আলহামদুলিল্লাহ, বেশ ভালো আছি।
আমার পায়ে জুতা নেই; অনেকেরতো পাই নেই।
সব সময় একটি অভাব মুক্তির অনুভূতি লালন করা।
২য় উপায় –ইতিবাচক হউন
জীবনে চলার পথে প্রতিটি সমস্যাকে এক একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা
পরিবারে থাকুন। পরিবারই হচ্ছে সকল সুখের আকর। পরিবারের বাইরে প্রশান্তি খোঁজা আর চির অশান্তির দহন যন্ত্রনায় ডুব দেয়া একই কথা।
ভার্চুয়াল লাইফ যতটা সম্ভব বর্জন করুন। আপনার ডাটা বন্ধ হয়ে গেলেই ভার্চুয়াল বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক বন্ধ। অপরদিকে আপনার দম বন্ধ হয়ে গেলেও পরিবারের সদস্যরা আপনাকে স্বরণ করবে, আপনার জন্য দোয়া করবে।
শুদ্ধাচারী হওয়া । ধীরে ধীরে আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া।
অবিদ্যা থেকে মুক্ত হওয়া – কারণ অবিদ্যাই হচ্ছে সকল দুঃখের কারণ।
৩য় উপায়: নিজের নিয়ন্ত্রন নিজের হাতে রাখুন
নিজের সুখের ভার অন্যের হাতে নয়, নিজের হাতে রাখুন। যে অমুক আমাকে সুখী করবে বা অমুক জিনিস কিনতে পারলে আমি সুখী হবো এমন ভুল ধারণা থেকে বের হতে হবে।
নিয়মিত দম চর্চা করতে হবে। নাক দিয়ে ধীরে ধীরে ফুসফুস ভরে দম নিতে হবে, তারপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে দম ছাড়তে হবে। এভাবে প্রতিবার ১৫/২০ বার করে দিনে ৩/৪ বার করতে হবে। কারণ দমই হচ্ছে জীবনের মূল ছন্দ।
বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়া। ভাজা-পোড়া, অতিরিক্ত তেল-ঝাল-মসলা যুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড, সফট ড্রিংকস, চিনি বির্জন করতে হবে।
নিয়মিত ব্যায়াম বিশেষ করে যোগ ব্যায়ামে অভ্যস্ত হতে হবে।
নিয়মিত মেডিটেশন করতে হবে।
আর চালচলনে সুশীল অর্থাৎ শুদ্ধাচারী হতে হবে।
তাহলেই জীবন ভরে উঠবে প্রশান্তি ও প্রাচুর্যে।