ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা-Islam is a complete code of life

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা-Islam is a complete code of life

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা-Islam is a complete code of life Good Education is the backbone of a Nation.

19/09/2025

নোট বই: ইসলামের সহজ পরিচয়
➤ভুমিকাঃ
মানুষের জীবনের বহু দিক রয়েছে- ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতির ইত্যাদি। কিন্তু সাধারণভাবে এসব দিক থেকে ধর্মীয় দিককে আলাদা মনে করা হয়।
আল্লাহ তাআলার দাসত্ব, রাসূল সা. এর আনুগত্য ও আখিরাতের জবাবদিহিতা- এ তিনটি ধর্মীয় নীতি হলেও মুসলমানদের গোটা জীবনের সাথেই এগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মুমিনের জীবনে দীনদারী ও দুনিয়াদারীতে কোনো তফাৎ নেই। ঐ তিনটি ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী কাজ করলে দুনিয়াদারী বলে গণ্য সকল কাজও দীনদারীতে পরিণত হয়।

➤দুনিয়ায় নবী পাঠানোর উদ্দেশ্যঃ
মানুষকে দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য যা কিছু করতে হয়, সে সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করার জন্য আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে যাবতীয় আইন-কানুন পাঠিয়েছেন, আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা তাঁর দেওয়া আইন-বিধান মেনে চলবে তারা দুনিয়ায়ও শান্তি ভোগ করবে এবং আখিরাতেও পুরস্কার পাবে। আর যারা তা মানবে না এবং মানুষের মনগড়া নিয়ম মেনে চলবে তারা দুনিয়ায়ও অশান্তি ভোগ করবে, আখিরাতেও শাস্তি পাবে।

➤দীনদারী বনাম দুনিয়াদারীঃ
আল্লাহর দেওয়া নিয়মে ঘুমালে ঘুমও ইবাদতে পরিণত হয়। এভাবেই আল্লাহর দেওয়া নিয়মে বিয়ে-শাদি, ঘর-সংসার, রুজি-রোজগার, চাষাবাদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, খাওয়া-দাওয়া এমনকি পেশাব-পায়খানা করাও ইবাদতের মধ্যে গণ্য। তাই খাঁটি মুমিনের পার্থিব জীবনের সব কাজকর্মই দীনদারী। ইসলামের ধর্মীয় কাজগুলোর মাধ্যমে দুনিয়ায় জীবনযাপনের শিক্ষা দেওয়া হয়। মুসলমানদের ধর্মীয় জীবন দুনিয়ার জীবন থেকে মোটেই আলাদা নয়।

➤মুসলিম পরিবারে জন্মিলেই কি মুসলিম হয়ে যায়?
মুসলিম পরিবারে জন্মিলেই মুসলিম হয়ে যায়- এ ধারণা একেবারেই ভুল। মুসলমানের সন্তানও কাফির হয়ে যেতে পারে। আবার কাফিরের সন্তানটাও খাঁটি মুসলমান হতে পারে। অতীতকালে কাফিরের সন্তানও নবী হয়েছেন। হযরত ইবরাহীম আ. এর পিতা আযর কাফির ছিল। আবার নূহ আ. এর এক ছেলেও কাফির ছিল। জন্মগতভাবে কেউ মুমিন বা কাফির হয় না। মুমিন হওয়ার জন্য প্রথম শর্তই হলো ঈমান। এইজন্য সর্বপ্রথম তাকে তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতে বিশ্বাসী হতে হবে। এরপর তাকে মুসলিম হিসেবে জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে কুরআন ও হাদীসের কিছু ইলম হাসিল করতে হবে এবং ঈমান ও ইলম অনুযায়ী মুসলিম চরিত্র গঠন করার মতো আমল করতে হবে।

➤মুসলিম পরিবারে পয়দা হওয়াও আল্লাহর মেহেরবানীঃ
আল্লাহ তাআলার বিরাট মেহেরবানী যে, তিনি আমাকে মুসলমান পিতা-মাতার ঘরে পয়দা করেছেন। আমার পিতা মাতা যদি মুসলিম নামধারী হয়েও ঈমান, ইলম ও আমলের ধার না ধারতেন, তাহলে আমাকে তিনি ছোট সময় থেকে মুসলমান হিসেবে গড়ে তুলতেন না। আমাকে মুসলিম ঘরে পয়দা করাটাও মা’বুদের বিরাট মেহেরবানী।

➤তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের সরল অর্থঃ
ঈমানের মূল বিষয়কে ইসলামী পরিভাষায় তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত বলা হয়। যে ব্যক্তি এ কালেমা বুঝে-শুনে কবুল করে, সে আসলে তার জীবনের নীতি বা পলিসি ঘোষণা করে। প্রথম অংশ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দ্বারা সে ঘোষণা করে- ‘‘আমি একমাত্র আল্লাহর হুকুমমতো সবকিছু করব এবং আল্লাহর হুকুমের বিরোধী আর কারো হুকুম মানব না।’’ দ্বিতীয় অংশ ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলে সে ঘোষণা করে- ‘‘মুহাম্মদ সা. যেভাবে যে তরীকা বা নিয়মে আল্লাহর হুকুম পালন করেছেন, আমি একমাত্র ঐ নিয়মেই আল্লাহর হুকুম পালন করব। তাঁর তরীকা ছাড়া আর কারো তরীকা আমি মানব না।’’
মুমিনকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি সকল দিকে যা কিছু করতে হয় তা সবই এ দুটো নীতি অনুযায়ীই করতে হবে। এছাড়া দুনিয়ায় যা কিছু করা হয় তার হিসাব আদালতে-আখিরাতে দিতে হবে।

➤‘ইসলাম’ শব্দের অর্থঃ
ইসলাম আরবী শব্দ। এর অর্থ আত্মসমর্পণ। আত্ম মানে নিজ, সমর্পণ মানে স্বত্ব ত্যাগ করে দিয়ে দেওয়া। আত্মসমর্পণ অর্থ- নিজেকে অন্য কারো অধীন করে দেওয়া।
ইসলাম শব্দের আরেকটি অর্থ হলো শান্তি। ‘আস্‌সালামু আলাইকুম’ অর্থ আপনার উপর শান্তি নাযিল হোক। আল্লাহর হুকুমমতো চললেই শান্তি পাওয়া যায়। সকল মানুষই শান্তি চায়। শান্তি পেতে হলে ইসলামের বিধানমতো চলতে হবে। তাই আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য যে জীবনবিধান পাঠিয়েছেন তার নাম রেখেছেন ইসলাম।

➤‘দীন’ শব্দের অর্থঃ
‘দীন’ শব্দের আসল অর্থ আনুগত্য করা বা মেনে চলা। আমরা বাপ-মায়ের কথা মেনে চলি। দেশের আইন মেনে চলি। আল্লাহকে মেনে চলাই হলো দীন। আর এ দীনের নাম আল্লাহ-ই রেখেছেন ‘ইসলাম’। আল্লাহকে মেনে চলার জন্য ইসলাম নামে মানুষকে যে নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান তিনি দিয়েছেন তা-ই ‘দীন ইসলাম’।

➤সব সৃষ্টির জন্যই আল্লাহ নিয়ম-কানুন দিয়েছেনঃ
আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য যেমন বিধি-বিধান দিয়েছেন, তেমনি যত কিছু পয়দা করেছেন ছোট-বড় প্রতিটি সৃষ্টির জন্যই বিধান তৈরী করেছেন। একটা ঘাসের বেঁচে থাকার জন্য কী কী দরকার তা তিনিই ফায়সালা করে দিয়েছেন। পিঁপড়া থেকে হাতি পর্যন্ত সকল জীব, এটম (পরমাণু) থেকে সূর্য পর্যন্ত সকল বস্তুই কতক নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে।
পশু-পাখি, গাছপালা, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত, ধুলা-বালি পর্যন্ত আল্লাহর বানানো নিয়ম মেনে চলছে। এদের কারো ঐ নিয়ম অমান্য করার শক্তি নেই। বস্তু হোক আর প্রাণীই হোক কেউ নিজের মর্জিমতো চলার ক্ষমতা রাখে না। স্বাধীনভাবে চলার সাধ্য থাকলে একই নিয়মে চলতে বাধ্য হতো না।

➤ইসলাম কাকে বলে?
এর সহজ উত্তর হলো, সৃষ্টির জন্য স্রষ্টা যে নিয়ম-কানুন বানিয়েছেন তারই নাম ইসলাম। যে সৃষ্টির জন্য যে নিয়ম তিনি দিয়েছেন তা-ই ঐ সৃষ্টির ইসলাম।
মানুষের জন্য যে নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান তিনি দিয়েছেন তা মানুষের ইসলাম। সূর্যের জন্য যে বিধান দেওয়া হয়েছে তা সূর্যের ইসলাম। পানির জন্য দেওয়া বিধান পানির ইসলাম। এভাবে ছোট-বড় সব জিনিস ও জীবেরই নিজস্ব ইসলাম রয়েছে।

➤ইসলাম দু’রকমঃ
১. আল্লাহ তাআলা মানুষ ছাড়া অন্যান্য সৃষ্টির ইসলাম নবীর মাধ্যমে না পাঠিয়ে প্রত্যেক সৃষ্টির উপর তার জন্য তৈরীকৃত ইসলাম তিনি নিজে সরাসরি চালু করেন।
২. নবীর মাধ্যমে মানুষের জন্য যে ইসলাম পাঠানো হয়েছে তা আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে নিজে সরাসরি চালু করেন না। বরং তিনি মানুষের ইসলাম নবীর কাছে পাঠিয়ে নবীকেই তা চালু করার দায়িত্ব দিয়েছেন। মানুষের ইসলাম আল্লাহ নিজে চালু করবেন না বলেই নবীর উপর সে দায়িত্ব দিয়েছেন।

➤এ দায়িত্বটাই খিলাফতের দায়িত্বঃ
আল্লাহ মানুষকে শুধুমাত্র খলীফা হিসেবেই পাঠিয়েছেন। তাই দুনিয়ায় মালিক বা মনিব হওয়ার কোনো ক্ষমতা মানুষের নেই। যদি কোনো মানুষ আল্লাহর খলীফার দায়িত্ব পালন করতে না চায়, তাহলে সে যা করবে তাতে সে শয়তানের খলীফা বলেই গণ্য হবে। কারণ, আল্লাহর বিধান যে পালন করে না যে অন্য যে বিধানই মেনে চলে, তা শয়তানের বিধান হিসেবেই কুরআন মাজীদের সূরা আল বাকারা ২০৮ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে।

➤মানুষের দুটো সত্তাঃ
মানুষের শরীর তার আসল সত্তা নয়। আসল মানুষ হলো রুহ। এ রূহ কোনো বস্তু নয়। এ রূহের কারণেই মানুষ কোন্‌টা ভালো এবং কোন্‌টা মন্দ তা বুঝতে পারে।
মানুষের দেহসত্তাটি নৈতিক সত্তা নয়; বস্তুসত্তা মাত্র। দেহের দাবিগুলোকে কুরআনে নাম দেওয়া হয়েছে ‘নাফ্‌স’।
মানুষের নাফ্‌সের তিন রকম অবস্থা হয় বলে কুরআনে বলা হয়েছে। যেমন-
১. নাফ্সে আম্মারাহ (১৩ পারার পয়লা আয়াত): নাফ্‌স ও রূহের লড়াইয়ে যদি নাফ্‌স সব সময় জয়ী হয় এবং সব সময়ই রূহ হেরে যায় তাহলে এ নাফ্‌সকে ‘নাফ্‌সে আম্মারাহ’ বলা হয়।
২. নাফ্সে লাওয়ামাহ (সূরা কিয়ামার ২ নং আয়াত): এ অবস্থা তখন হয়, যখন এক সময় রূহ জিতে যায় আবার এক সময় নাফ্‌স জিতে যায়।
৩. নাফ্সে মুতমাইন্নাহ (সূরা আল ফাজরের ২৭ নং আয়াত): এ অবস্থা তখন হয়, যখন রূহ সবসময় জয়ী হয় এবং নাফ্‌স সবসময় পরাজিত হয়।
ইসলাম মানুষকে এমন শিক্ষাই দেয়, যাতে তার রূহ শক্তিশালী হয় এবং নাফ্‌সের উপর জয়ী হতে পারে। নামায-রোযার উদ্দেশ্যও এটাই।

➤মানুষের জন্য জ্ঞান জরুরি:
জ্ঞান মানে জানার বিষয়। মানুষ ও জিন ছাড়া অন্য যত জীব আছে, তাদের যা কিছু জানা দরকার সেজন্য নিজেদের চেষ্টা করা লাগে না। আল্লাহ তাদের জন্য যে নিয়ম-কানুন বানিয়েছেন তা তিনি নিজেই তাদেরকে শিখিয়ে দেন।
মানুষকে নিজের ইচ্ছামতো সবকিছু করতে হয়। তাকে জানতে হয় যে, কোন্‌টা কীভাবে কখন করা দরকার। তাকে নিজের ইচ্ছার ফায়সালা করতে হয় যে, সে আল্লাহর খলীফা হতে চায়, নাকি শয়তানের খলীফা। খিলাফতের এ ইখতিয়ার থাকার কারণেই তাকে নিজের ইচ্ছায় সবকিছু জানার চেষ্টা করতে হয়।

➤জ্ঞানের মূল উৎস কী কী?
জ্ঞান তো তালাশ করতেই হবে। কোথা থেকে তা পাওয়া যায় তাও তো জানা জরুরি। যেখান থেকে জ্ঞান হাসিল করা যায় তাকেই জ্ঞানের উৎস বলে। কোন্‌ কোন্‌ উৎস থেকে জ্ঞান যোগাড় করতে হবে সর্বাগ্রে তা জানা দরকার। জ্ঞানের উৎস চারটি। যথা- ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি, ইলহাম ও ওহী।

➤ইসলাম কবুল করার নিয়ম:
কোনো লোক যদি ইসলাম কবুল করতে চায় তাহলে তাকে কয়েকটি নিয়ম পালন করতে হয়। সে মুসলিম পরিবারে পয়দা হলেও তাকে এসব নিয়ম মানতে হবে; তা না হলে আল্লাহর দরবারে মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে না।
‘ইসলাম’ শব্দ থেকেই ‘মুসলিম’ শব্দ তৈরী হয়েছে। যে ইসলাম কবুল করল সে-ই মুসলিম হলো। ইসলাম মানে আত্মসমর্পণ। মুসলিম মানে আত্মসমর্পণকারী। ‘মুসলিম’ আরবী শব্দ। ফারসি ভাষায় মুসলমান বলা হয়।
➤সঠিকভাবে ইসলাম কবুল করতে হলে-
১. প্রথমেই মনে মনে ফায়সালা করতে হবে যে, আমি আমার মর্জিমতো চলব না; যা করলে আল্লাহ খুশি হন তা-ই করব।
২. এরপর বুঝে-শুনে কালেমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ করতে হবে- ‘‘আশহাদু আল্‌ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহূ ওয়া রাসূলুহূ।’’ এর তরজমা হলো- ‘‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মা’বুদ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সা. আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।’’ ইলাহ ও মা’বুদ মানে হুকুমকর্তা, প্রভু বা মনিব।
‘‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’’ কথাটি কালেমায়ে তাইয়েবা নামে পরিচিত। কালেমা মানে কথা। তাইয়েবা মানে পবিত্র। কালেমা তাইয়েবা মানে পবিত্র কথা।
৩. এ কালেমার অর্থ ভালোভাবে বুঝতে হবে। না বুঝে শুধু কালেমা উচ্চারণ করলেই চলবে না। কারণ, কোনো শব্দের অর্থটাই আসল; শব্দটা আসল নয়। কালেমা তাইয়েবার মধ্যে যে ক’টি শব্দ আছে, এগুলোর অর্থই আসল। তাই ঐ শব্দগুলো উচ্চারণ করার সময় যে অর্থ বুঝতে হবে তা-ই হলো আসল কালেমা।

➤মুসলিমের করণীয় কী?
মানুষ হিসেবে দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে হলে যা কিছু করতে হয় সেসবই মুসলিম হওয়ার পর আল্লাহ তাআলার হুকুম ও রাসূল সা. এর শেখানো নিয়মে করতে হবে। কারণ, কালেমা তাইয়েবার মাধ্যমে জীবনে চলার যে ২ দফা নীতি ঘোষণা করা হয়েছে, এর দাবি এটাই। এ নিয়মে চলার জন্যই আল্লাহ তাআলার সাথে ওয়াদা করা হয়েছে।

➤মুসলিমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব কী?
যেহেতু কালেমা তাইয়েবায় জীবনে চলার ২ দফা নীতি ঘোষণা করা হয়েছে, সেহেতু মুসলিমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো আল্লাহ তাআলার হুকুম ও রাসূল সা. এর তরীকা জানার চেষ্টা করা। মুসলিম হিসেবে যা-ই করা হবে, সবই ২ দফা নীতি মেনেই করতে হবে। তাই যে কাজই করা হোক, তা আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের শেখানো তরীকা বা নিয়মে করতে হলে তা জানতেই হবে। প্রতিটি কাজের বেলায় আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের তরীকা না জানলে কাফিরের মতোই চলতে হবে। এ কারণেই মুসলিমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব জানা বা ইলম তালাশ করা। ইলম মানেই জ্ঞান। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা ওহীর মারফতে রাসূল সা. এর কাছে যে জ্ঞান পাঠিয়েছেন, সে জ্ঞান হাসিল করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয বলে রাসূল সা. ঘোষণা করেছেন।

➤বিশেষ জরুরি কথা:
মুসলিম পরিবারে পয়দা হলে বাপ-মা যদি নামাযী হয় তাহলে ছোট বয়স থেকেই ছেলে-মেয়ে কুরআন পড়া শেখে, নামাযে অভ্যস্ত হয় এবং নিজেকে মুসলমান বলে বুঝতে শুরু করে; কিন্তু বয়স যখন ১৪/১৫ বছর হয় তখন তাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা-ভাবনা করার যোগ্যতা হয়। তখন দেখা যায় যে, ছোট সময়ে পাক্কা নামাযী হওয়া সত্ত্বেও তারা নামাযে অবহেলা শুরু করে এবং একসময় নামায ছেড়েই দেয়।
কিন্ত ‍যে পরিবারে বাবা-মা-ই নামাযী নয় সে পরিবারে যাদের জন্ম, তারা তো ছোট সময়ে কুরআন পড়া ও নামায আদায় করা শেখেই না; বড় হলে তো তাদের মধ্যে মুসলিম চেতনাই দেখা যায় না।
আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দিন, আমিন।

16/09/2025

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কেন?

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মূলত “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” নামক এক রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। এই দর্শনের কেন্দ্রে আছে— জাতীয়তাবাদ (Nationalism), যা মানুষের ধর্ম, জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতাকে উপেক্ষা করে কেবলমাত্র ভূখণ্ডকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের মূল সূত্র হিসেবে দাঁড় করায়। ইসলামী রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো— তাওহীদ, ঐক্যবদ্ধ উম্মাহ, আদল ও ইনসাফ, এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্ব। ফলে জাতীয়তাবাদভিত্তিক বিএনপির দর্শন ইসলামের মৌলিক নীতির সাথে বিভিন্ন স্তরে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। নিচে বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো—

১. পারিবারিক দর্শন

বিএনপি দর্শন: জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে পরিবার হলো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ক্ষুদ্র একক, যেখানে আধুনিক রাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন পরিবার-সংক্রান্ত অধিকারের নিয়ন্ত্রক। পরিবারিক নৈতিকতার উৎস এখানে ইসলাম নয় বরং পাশ্চাত্য প্রভাবিত আইন।

ইসলাম: পরিবার হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি, যেখানে বিবাহ, উত্তরাধিকার, সন্তান প্রতিপালন, নারী-পুরুষের ভূমিকা সবই আল্লাহর নির্ধারিত শরীয়ত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপি তাদের রাষ্ট্রীয় দর্শনে ইসলামী শরীয়তকে পরিবার আইনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেনি, বরং সেক্যুলার ও ঔপনিবেশিক ধারার আইনকেই রক্ষা করেছে।

২. সামাজিক দর্শন

বিএনপি দর্শন: বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নামে এক ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা। এখানে সমাজ গঠনের ভিত্তি হলো জাতীয়তা ও ভূখণ্ড।

ইসলাম: ইসলামী সমাজ গঠনের মূলনীতি হলো আকীদার ঐক্য। আল্লাহ বলেন—"إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ"
নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পরের ভাই। (সুরা হুজুরাত: ১০)

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপির দর্শনে মুসলিম উম্মাহর ধারণা নেই; বরং মুসলিম-বৌদ্ধ-হিন্দু সবাইকে কেবল ‘বাংলাদেশী’ পরিচয়ে আবদ্ধ করা হয়, যা ইসলামী ভ্রাতৃত্বের ধারণার বিরোধী।

৩. অর্থনৈতিক দর্শন

বিএনপি দর্শন: মুক্তবাজার অর্থনীতি, পুঁজিবাদ ও বৈদেশিক ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক নীতি। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ প্রভৃতির শর্তাধীন অর্থনীতি পরিচালনা।

ইসলাম: অর্থনৈতিক দর্শনের মূল হলো সুদমুক্ত লেনদেন, যাকাত ব্যবস্থা, বৈষম্যহীন সম্পদ বণ্টন ও কল্যাণভিত্তিক নীতি। কুরআনে আল্লাহ বলেন— "وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا"
আল্লাহ ব্যবসা বৈধ করেছেন আর সুদ হারাম করেছেন। (সুরা বাকারা: ২৭৫)

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপি সুদভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থা চালু রেখেছে, বৈদেশিক ঋণ ও পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে উৎসাহ দিয়েছে, যা সরাসরি শরীয়তের পরিপন্থী।

৪. রাজনৈতিক দর্শন: বিএনপি দর্শন: সার্বভৌমত্ব মানুষের হাতে, রাষ্ট্র পরিচালনা গণতান্ত্রিক ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্ধারিত।

ইসলাম: ইসলামে সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর—"إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ"
ফয়সালার অধিকার তো আল্লাহরই। (সুরা ইউসুফ: ৪০)

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপি গণতন্ত্রকে একমাত্র শাসনপদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করে, যেখানে আইন প্রণয়ন সংসদ করে। ইসলামে আইন কেবল কুরআন-সুন্নাহ থেকে নির্ধারিত হয়।

৫. শিক্ষা দর্শন: বিএনপি দর্শন: ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয় শিক্ষা নীতি, পাশ্চাত্য ধাঁচের কারিকুলাম। মাদ্রাসা ও ইসলামী শিক্ষাকে দ্বিতীয় সারিতে রাখা।

ইসলাম: শিক্ষার ভিত্তি হলো ঈমান, আকীদা, কুরআন-সুন্নাহ জ্ঞান এবং দুনিয়াবি বিজ্ঞানকে শরীয়ত-সম্মতভাবে কাজে লাগানো।

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপি পশ্চিমা ধাঁচের শিক্ষা ব্যবস্থাকে চালু রেখেছে, যা তরুণ প্রজন্মকে ইসলামী সভ্যতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

৬. সংস্কৃতি দর্শন: বিএনপি দর্শন ‘বাংলাদেশী সংস্কৃতি’ নামে লোকায়ত, হিন্দু-মুসলিম মিলিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া।

ইসলাম: ইসলামী সংস্কৃতি আল্লাহর ইবাদত, নৈতিকতা, পর্দা, গান-বাজনা ও অনৈতিকতা বর্জন করে। রাসূল ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (আবু দাউদ)

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপির সংস্কৃতি চর্চায় সংগীত, নৃত্য, মেলা, হিন্দু লোকাচার ইত্যাদি রয়েছে, যা ইসলামী সংস্কৃতির বিপরীত।

৭. ধর্মীয় দর্শন: বিএনপি দর্শন: ইসলামকে রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা হিসেবে নয় বরং ব্যক্তিগত ধর্ম হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা।

ইসলাম: ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ সবই অন্তর্ভুক্ত।
"الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ"
আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। (সুরা মায়েদা: ৩)

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি কখনোই করে না; বরং সেক্যুলার কাঠামো বজায় রেখে ইসলামকে শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতিতে ব্যবহার করেছে।

উপসংহার: বিএনপি রাজনৈতিকভাবে নিজেদের ইসলামপন্থী প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও তাদের মূল দর্শন— বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ— ইসলামের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাংঘর্ষিক। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম— প্রতিটি ক্ষেত্রে বিএনপি ইসলামী আদর্শকে পাশ কাটিয়ে পাশ্চাত্যধর্মী ও জাতীয়তাবাদী কাঠামো রক্ষা করেছে। ফলে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শনের সাথে বিএনপির দর্শনের মৌলিক বিরোধ রয়েছে।

11/07/2025

"আধুনিক ধারার রাজনীতি তথা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থেকে মুসলিম দাবী কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?"—এই শিরোনামে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ দেওয়া হলো:

✒️ শিরোনাম:

আধুনিক ধারার রাজনীতি ও মুসলিম দাবী: একটি ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

🔰 ভূমিকা:

আজকের দুনিয়ায় “মুসলিম” পরিচয় শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত পালনের মাঝে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অথচ ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা—যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র—সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান কায়েমের নির্দেশ দেয়। কিন্তু বাস্তবে মুসলমান পরিচয় নিয়ে অনেকে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির মতো ধর্মবিরোধী আধুনিক রাজনৈতিক দলের কর্মী, সমর্থক বা ভোটার হয়ে থাকে। প্রশ্ন হলো: এই দ্বৈত অবস্থান কতটুকু ইসলামী আকীদা অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত?

🏛️ আধুনিক ধারার রাজনীতির মূলনীতি:

🔹 ১. আওয়ামী লীগ:

প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের ভিত্তিতে।

সংবিধানে ইসলাম নয়, বরং “ধর্মনিরপেক্ষতা” রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

ইসলামী হুকুমতের বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ করে এবং ইসলামি আদর্শকে ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখে।

🔹 ২. বিএনপি:

বাহ্যত ইসলামপন্থী ভাবমূর্তি ব্যবহার করলেও ভিত্তি “গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ”।

ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠার কোনও রূপরেখা বা ঐকান্তিক প্রচেষ্টা নেই।

ইসলামকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

> 📌 উভয় দলই ইসলামী হুকুমত ও শরিয়াহ প্রতিষ্ঠার বিপরীতে অবস্থান করে।

📜 ইসলামের দৃষ্টিতে রাজনীতি:

ইসলাম রাজনীতিকে ‘ইবাদত’ ও ‘খিলাফত’-এর অংশ হিসেবে গণ্য করে। রাসূল ﷺ ও খুলাফায়ে রাশেদীনগণ আল্লাহর বিধান মোতাবেক শাসন চালিয়েছেন।

> "যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারা কাফির, জালিম, ফাসিক।" (সূরা মায়েদা: ৪৪-৪৭)

🔸 সুতরাং, মুসলিম মাত্রই রাজনৈতিকভাবে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ হবে — এটাই ইসলামের দাবি।

❌ আধুনিক দলগুলোতে মুসলিম দাবি: একটি আত্মবিরোধ

🔸 ১. দ্বৈত অবস্থান:

একদিকে নামাজ-রোজা, অন্যদিকে গণতন্ত্রের নামে কুফরি আইন প্রতিষ্ঠার সমর্থন — এটি ইসলাম ও কুফরের মাঝখানে দাঁড়ানো।

ইসলামী শরিয়াহ নয়, বরং পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন— এটা ইসলাম বিরোধী।

🔸 ২. দলে সম্পৃক্ত মানেই আদর্শে সম্মতি:

> রাসূল ﷺ বলেন: “যে জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (আবু দাউদ)

🔹 অতএব, ধর্মনিরপেক্ষতা বা জাতীয়তাবাদী আদর্শের সংগে সম্পৃক্ত থাকা মানে সেসব আদর্শে বিশ্বাস পোষণ — যা তাওহিদের পরিপন্থী।

✅ ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান:

🌿 ইসলামী আন্দোলনের বিশ্বাস:

ইসলাম কেবল ধর্মীয় আচারের নাম নয়; বরং এটি একটি পূর্ণ জীবনব্যবস্থা।

কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক হুকুমত কায়েমই একমাত্র সমাধান।

গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র—এ সব মতবাদ কুফরি ভিত্তিক এবং মানব রচিত।

রাষ্ট্র পরিচালনায় আল্লাহর হুকুম ছাড়া অন্য কিছু মেনে চলা ঈমানহানিকর।

📌 ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য:

ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে কুরআন-সুন্নাহর পূর্ণ বাস্তবায়ন।

ইসলামবিরোধী আইন, নীতি, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা।

তাওহিদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ উম্মাহ গঠন।

🔚 উপসংহার:

মুসলমান পরিচয়ে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির মতো কুফরি আদর্শে গঠিত আধুনিক রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত থাকা আত্মবিরোধী, বিপদজনক এবং ঈমানহানিকর। ইসলামের দাবী হলো — পূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করা (সূরা বাকারা: ২০৮)। সেই ইসলামের দাবি পূরণ হয় একমাত্র ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমে, যে আন্দোলন কুরআন-সুন্নাহর আলোকে তাওহিদভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে।

🌟 আহ্বান:

হে মুসলমান! দ্বীনের পূর্ণতা বিশ্বাস করো। আধুনিক ধর্মবিরোধী রাজনৈতিক দর্শনের ছায়া ত্যাগ করো। ইসলামী আন্দোলনের ছায়াতলে এসে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হও—যেখানে আল্লাহর আইন হবে চূড়ান্ত, আর মানুষের মত হবে বাতিল।

🔖 “আর যে কেউ ইসলামের বাইরে অন্য কোনো জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করে, তা কখনোই তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না।” (সূরা আলে ইমরান: ৮৫)

11/07/2025

নারীদের নিয়ে ইসলামের বক্তব্য: জাহেলিয়াতের যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত (গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ)!

ভূমিকা: নারী জাতিকে ঘিরে সভ্যতার ইতিহাসে বিপুল বৈষম্য, শোষণ ও ভুল ব্যাখ্যার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়। ইসলাম নারীর মর্যাদাকে স্বীকৃতি দিয়ে যে ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নির্ধারণ করেছে, তা এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই প্রবন্ধে আমরা নারীকে ঘিরে জাহেলিয়াতের যুগ, আধুনিক যুগ এবং ইসলামের অবস্থান তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করব।

১. জাহেলিয়াতের যুগে নারীর অবস্থা: "জাহেলিয়াত" বলতে বোঝানো হয় ইসলামের পূর্ববর্তী অন্ধকার যুগ, বিশেষ করে ৭ম শতকের আরব সমাজ।

ক) নারীর জন্ম ছিল লজ্জার বিষয়:

কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সমাজে তা ছিল অপমানজনক। আল-কুরআনে বলা হয়:
"আর যখন তাদের কারোকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায়, এবং সে দুঃখে-বিষাদে বিমর্ষ হয়ে পড়ে" (সূরা নাহল: ৫৮)।

খ) জীবন্ত কন্যা সন্তানকে কবর দেওয়া হতো:

নৃশংস এই প্রথা সমাজে প্রচলিত ছিল। কুরআনে এর বিরুদ্ধে ঘোষণা আসে:
"যখন জীবন্ত কবর দেওয়া কন্যা শিশুকে জিজ্ঞেস করা হবে—তাকে কোন অপরাধে হত্যা করা হয়েছে?" (সূরা তাকভীর: ৮-৯)।

গ) নারীর কোনো উত্তরাধিকার ছিল না:

পিতা-মাতার সম্পত্তিতে নারীর কোনো অধিকার ছিল না। তারা সম্পদ নয়, বরং নিজেরাই মালিকানার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো।

ঘ) বিয়ে ও স্বামী পরিবর্তন ছিল ইচ্ছাধীন:

নারীর ইজ্জত রক্ষার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। অনেক পুরুষ একসাথে একাধিক স্ত্রী রাখতো, আবার স্ত্রীদের কেনাবেচাও হতো।

২. ইসলামের আগমন ও নারীর মুক্তি:

ইসলাম নারীর প্রতি এই অবমাননাকর আচরণের বিরুদ্ধে বিপ্লব ঘটায়।

ক) মানবতার ভিত্তিতে মর্যাদা প্রদান:

ইসলাম বলে, নারী ও পুরুষ উভয়ই আল্লাহর সৃষ্টি এবং আল্লাহর নিকট মর্যাদা নির্ভর করে তাকওয়ার উপর (সূরা হুজুরাত: ১৩)।

খ) জন্মের অধিকার ও ভালোবাসা:

রাসূল (সা.) বলেন,
"যে ব্যক্তি কন্যা সন্তানদের লালন-পালন করে, সে জান্নাতের অধিকারী হবে।" (মুসলিম)

গ) উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির অধিকার:

কুরআন নারীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তির অধিকার দিয়েছে (সূরা নিসা: ৭)।

ঘ) বিয়ে ও তালাকে নারীর সম্মতি:

নারীর সম্মতি ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়। তালাকের ক্ষেত্রেও নারীর 'খোলা'র অধিকার রয়েছে।

ঙ) শিক্ষা ও সমাজ অংশগ্রহণ:

নারীকে শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন হাজারো সাহাবির শিক্ষিকা।

৩. আধুনিক যুগে নারীর অবস্থা:
আধুনিক যুগ নারী মুক্তির কথা বললেও বাস্তবতা ভিন্ন।

ক) ভোগ্যপণ্যরূপে উপস্থাপন:

বিজ্ঞাপন, বিনোদন ও ফ্যাশনের নামে নারীকে পণ্যে রূপান্তর করা হয়েছে। শারীরিক সৌন্দর্যকেই নারী মূল্যায়নের মানদণ্ড বানানো হয়েছে।

খ) পশ্চিমা নারীবাদে সীমালঙ্ঘন:

স্বাধীনতা ও সমতা দাবির নামে পরিবারবিচ্যুতি, বিবাহ-বিচ্ছেদ ও নৈতিক শূন্যতা বেড়েছে। এতে নারী সমাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।

গ) শ্রমবাজারে নারীর শোষণ:

কাজের সমান পরিশ্রমেও বহু নারী ন্যায্য পারিশ্রমিক পায় না। যৌন হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটে।

ঘ) ধর্ম ও পর্দার নামে অবজ্ঞা:

পশ্চিমা ধ্যানধারণায় ধর্মীয় পর্দা বা হিজাবকে গোঁড়ামি ও পশ্চাৎপদতা হিসেবে প্রচার করা হয়, যা নারীর নিজস্ব পরিচয় ও বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ।

৪. ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি: ইসলাম নারীকে neither বন্দী করে রেখেছে, না কি তাকে উদাম স্বাধীনতায় ছেড়ে দিয়েছে। বরং তার স্বভাব, মর্যাদা ও দায়িত্বের প্রতি সুবিবেচনায় ভারসাম্যপূর্ণ জীবনচর্চার শিক্ষা দিয়েছে।

পর্দা নারীর স্বাধীনতাকে নষ্ট করে না, বরং তাকে সম্মানিত ও নিরাপদ রাখে।

নারী উপার্জন করতে পারে, কিন্তু পরিবার ভরণপোষণের দায়িত্ব পুরুষের।

নারী বিচারক, শিক্ষিকা, চিকিৎসক বা রাজনীতিবিদ হতে পারে, তবে তার চরিত্র, লজ্জা ও পরিপূর্ণতা রক্ষা করেই।

উপসংহার: জাহেলিয়াতের যুগে নারী ছিল অবমাননার পাত্র, আধুনিক যুগে হয়েছে ভোগ্যপণ্য, কিন্তু ইসলাম নারীকে দিয়েছে মর্যাদা, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা। ইসলাম নারীকে মানুষ হিসেবে চিনেছে, মা হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে, স্ত্রী হিসেবে ভালোবাসা দিয়েছে, কন্যা হিসেবে আদর দিয়েছে। তাই নারীর প্রকৃত মুক্তি ও মর্যাদার জন্য ইসলামী জীবনব্যবস্থাই একমাত্র সমাধান।

01/04/2025
যারা বলে কুরআনের সাথে রাজনীতির সম্পর্ক নেই তাদের জন্য এই লেখাটি.....শরীয়াকে অস্বীকার করা বা তার বিপরীতে অন্য কিছু উত্তম ...
11/01/2025

যারা বলে কুরআনের সাথে রাজনীতির সম্পর্ক নেই তাদের জন্য এই লেখাটি.....
শরীয়াকে অস্বীকার করা বা তার বিপরীতে অন্য কিছু উত্তম মনে করা সরাসরি কুফরী। এ সম্পর্কে কিছু আলোচনা। হয়তো মুহাক্কিক আলিমরা আরও ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার বোঝাপড়া থেকে যা বুঝেছি:
শেয়ার দিয়ে ছড়িয়ে দিন সবাই জানুক।

আল্লাহ্ তা‘আলার দেয়া কল্যাণময় বিধানকে লঙ্ঘন করে মানব রচিত যে কোন বিধানের আলোকে বিচার কার্য পরিচালনা বা গ্রহণ করাও আরেকটি কবীরা গুনাহ্। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
«وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَآ أَنْزَلَ اللهُ فَأُوْلَآئِكَ هُمُ الْكَافِرُوْنَ»
‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলার দেয়া বিধানানুযায়ী বিচার করে না সে তো কাফির’’। (মা’য়িদাহ্ : ৪৪)
আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেন:
«وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَآ أَنْزَلَ اللهُ فَأُوْلَآئِكَ هُمُ الظَّالِـمُوْنَ»
‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলার দেয়া বিধানানুযায়ী বিচার করে না সে তো জালিম’’। (মা’য়িদাহ্ : ৪৫)
তিনি আরো বলেন:
«وَمَنْ لَّـمْ يَحْكُمْ بِمَآ أَنْزَلَ اللهُ فَأُوْلَآئِكَ هُمُ الْفَاسِقُوْنَ»
’’যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলার দেয়া বিধানানুযায়ী বিচার করে না সে তো ফাসিক্ব তথা ধর্মচ্যুত নাফরমান’’। (মা’য়িদাহ্ : ৪৪)
আল্লাহ্ তা‘আলা কুর‘আন মাজীদের মধ্যে মানব রচিত আইন গ্রহণকারীদেরকেও ঈমানশূন্য তথা কাফির বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
«أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ يَزْعُمُوْنَ أَنَّهُمْ آمَنُوْا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيْدُوْنَ أَنْ يَّتَحَاكَمُوْا إِلَى الطَّاغُوْتِ وَقَدْ أُمِرُوْا أَنْ يَّكْفُرُوْا بِهِ، وَيُرِيْدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُّضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيْدًا،.. فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُوْنَ حَتَّى يُحَكِّمُوْكَ فِيْمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوْا فِيْ أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا»
‘‘আপনি কি ওদের ব্যাপারে অবগত নন? যারা আপনার প্রতি অবতীর্ণ কিতাব ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের উপর ঈমান এনেছে বলে ধারণা পোষণ করছে, অথচ তারা তাগূতের (আল্লাহ্ বিরোধী যে কোন শক্তি) ফায়সালা কামনা করে। বস্ত্তত: তাদেরকে ওদের বিরুদ্ধাচরণের আদেশ দেয়া হয়েছে। শয়তান চায় ওদেরকে চরমভাবে বিভ্রান্ত করতে। ... অতএব আপনার প্রতিপালকের কসম! তারা কখনো ঈমানদার হতে পারে না যতক্ষণ না তারা আপনাকে নিজেদের আভ্যন্তরীণ বিরোধের বিচারক বানিয়ে নেয় এবং আপনার সকল ফায়সালা নি:সঙ্কোচে তথা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়’’। (নিসা’ : ৬০-৬৫)

তবে মানব রচিত বিধান কর্তৃক বিচার কার্য পরিচালনা করার কয়েকটি পর্যায় রয়েছে। যা নিম্নরূপ:

ক. যে বিচারক বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার বিধান বর্তমান যুগে বিচার কার্য পরিচালনার জন্য কোনভাবেই উপযোগী নয় তা হলে সে কাফির। এ ব্যাপারে সকল মুসলিমের ঐকমত্য রয়েছে। কারণ, সে আল্লাহ্ তা‘আলার বিধানকে অস্বীকার করেছে যা নিশ্চিত কুফরি।

খ. যে বিচারক বিশ্বাস করে যে, মানব রচিত বিধানই বর্তমান যুগে বিচার কার্য পরিচালনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী; আল্লাহ্ তা‘আলার বিধান নয়, চাই তা সর্ব বিষয়েই হোক অথবা শুধুমাত্র নব উদ্ভাবিত বিষয়াবলীতে, তা হলে সেও কাফির। এ ব্যাপারেও সকল মুসলিমের ঐকমত্য রয়েছে। কারণ, সে মানব রচিত বিধানকে আল্লাহ্ তা’লার বিধানের উপর প্রাধান্য দিয়েছে, যা কুফরি।

গ. যে বিচারক বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার বিধান যেমন বর্তমান যুগে বিচার কার্য পরিচালনার জন্য উপযোগী তেমনিভাবে মানব রচিত বিধানও, তা হলে সেও কাফির। কারণ, সে সৃষ্টিকে স্রষ্টার সমপর্যায়ে দাঁড় করিয়েছে যা শির্ক তথা কুফরিও বটে।

ঘ. যে বিচারক বিশ্বাস করে যে, বর্তমান যুগে আল্লাহ্ তা‘আলার বিধানের আলোকে যেভাবে বিচার কার্য পরিচালনা করা সম্ভব তেমনিভাবে মানব রচিত যে কোন বিধানের আলোকেও বিচার কার্য পরিচালনা করা সম্ভব তা হলে সেও কাফির। যদিও সে এ কথা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার বিধানই সর্বোত্তম। কারণ, সে নিশ্চিত হারাম বস্ত্তকে হালাল মনে করছে। যা কুফরিরই অন্তর্গত।

ঙ. যে বিচারক মনে করে যে, বর্তমান যুগের শরীয়ত বিরোধী আদালতসমূহই মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল; ইসলামী শরীয়ত নয় তা হলে সেও কাফির। কারণ, সেও নিশ্চিত হারাম বস্ত্তকে হালাল মনে করছে। যা কুফরিরই অন্তর্গত।

চ. যে গ্রাম্য মোড়ল মনে করে যে, তার এ অভিজ্ঞতালব্ধ বিচারই মানুষের সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় তা হলে সেও কাফির। কারণ, সেও নিশ্চিত হারাম বস্ত্তকে হালাল মনে করছে। যা কুফরিরই অন্তর্গত।

ছ. যে বিচারক মনে করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার বিধানই বিচারের ক্ষেত্রে একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিধান; অন্য কোন মানব রচিত বিধান নয়। এর পরও সে মানব রচিত কোন বিধানের আলোকে বিচার কার্য পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং সে এও মনে করছে যে, আমার এ কর্ম নীতি কখনোই ঠিক হতে পারে না তা হলে সে সত্যিই বড় পাপী। তবে যদি বড় কোনো পতিকল্পনার আওতায় এবং শরীয়াকে পূনর্স্থাপন করার নিমিত্তে হয়, তবে সে কাফির নয়। বরং মুসলিম থাকবে। কিন্তু যদি সতর্কতা অবলম্বন না করে তবে ফাসিকের কাতারে চলে যাওয়ার অবকাশ থাকবে।

মানব রচিত আইন গ্রহণকারীদেরও কয়েকটি পর্যায় রয়েছে যা নিম্নরূপ:

ক. যে বিচারপ্রার্থী এ কথা জানে যে, তার প্রশাসক বা বিচারক আল্লাহ্ তা‘আলার বিধান অনুযায়ী বিচার করছে না। তবুও সে তার প্রশাসক বা বিচারকেরই অনুসরণ করছে এবং এও মনে করছে যে, তার প্রশাসক বা বিচারকের বিচার কার্যই সঠিক। তারা যা হালাল বলে তাই হালাল এবং তারা যা হারাম বলে তাই হারাম তা হলে সে কাফির। আর যদি বিচার কার্য মানে কিন্তু মনে আছে যে এটা ইসলাম বিরুদ্ধ কাজ। যেহেতু শরীয়া নেই তাই সে বাধ্য তবে সে কাফির নয়।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
«اِتَّخَذُوْا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللهِ وَالْـمَسِيْحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوْا إِلاَّ لِيَعْبُدُوْا إِلَهًا وَّاحِدًا، لَا إِلَهَ إِلاَّ هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُوْنَ»
‘‘তারা আল্লাহ্ তা‘আলাকে ছেড়ে নিজেদের আলিম, ধর্ম যাজক ও মার্ইয়ামের পুত্র মাসীহ্ (ঈসা) (আঃ) কে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে। অথচ তাদেরকে শুধু এতটুকুই আদেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলারই ইবাদাত করবে। তিনি ব্যতীত সত্যিকার কোন মা’বূদ নেই। তিনি তাদের শির্ক হতে একেবারেই পূতপবিত্র’’। (তাওবাহ্: ৩১)

‘আদি’ বিন্ হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
أَتَيْتُ النَّبِيَّ وَفِيْ عُنُقِيْ صَلِيْبٌ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ : يَا عَدِيُّ! اِطْرَحْ عَنْكَ هَذَا الْوَثَنَ، وَسَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فِيْ سُوْرَةِ بَرَاءَةٍ:
«اِتَّخَذُوْا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللهِ»
قَالَ: أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَكُوْنُوْا يَعْبُدُوْنَهُمْ وَلَكِنَّهُمْ كَانُوْا إِذَا أَحَلُّوْا لَـهُمْ شَيْئًا اِسْتَحَلُّوْهُ وَإِذَا حَرَّمُوْا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوْهُ.

‘‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে গলায় স্বর্ণের ক্রুশ ঝুলিয়ে উপস্থিত হলে তিনি আমাকে ডেকে বলেন: হে ‘আদি’! এ মূর্তিটি (ক্রুশ) গলা থেকে ফেলে দাও। তখন আমি তাঁকে উক্ত আয়াতটি পড়তে শুনেছি। ‘আদি’ বলেন: মূলতঃ খ্রিষ্টানরা কখনো তাদের আলিমদের উপাসনা করতো না। তবে তারা হালাল ও হারামের ব্যাপারে বিনা প্রমাণে আলিমদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতো। আর এটিই হচ্ছে আলিমদেরকে প্রভু মানার অর্থ তথা আনুগত্যের শির্ক’’। (তিরমিযী ৩০৯৫)

উক্ত বিধান আলিম ও ধর্ম যাজকদের ব্যাপারে যেমন প্রযোজ্য তেমনিভাবে বিচারক ও প্রশাসকদের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য।

খ. যে বিচারপ্রার্থী মনে করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার বিচারই সঠিক। তার বিচারকের বিচার সঠিক নয়। আল্লাহ্ তা‘আলা যাই হালাল বলেন তাই হালাল আর তিনি যাই হারাম বলেন তাই হারাম। তবুও সে তার বিচারকের বিচারই গ্রহণ করছে কারন এ ছাড়া তার আর কোনো কিছুর অবকাশ তবে সে কাফির নয়। তবে শরীয়া না থাকার জন্য তার অনুসূচনা থাকতে হবে।

আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
عَلَى الْـمَرءِ الْـمُسْلِمِ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ فِيْمَا أَحَبَّ وَكَرِهَ إِلاَّ أَنْ يُّؤْمَرَ بِمَعْصِيَةٍ، فَإِنْ أَمَرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلَا سَمْعَ وَلَا طَاعَةَ.
‘‘প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তি তার উপরস্থের যে কোন কথা শুনতে ও তাঁর আনুগত্য করতে বাধ্য তা তার পছন্দসই হোক বা নাই হোক যতক্ষণ না তিনি তাকে কোন গুনাহ্’র আদেশ করেন। তবে যদি তিনি তাকে কোন গুনাহ্’র আদেশ করেন তখন তার জন্য উক্ত কথাটি শুনা ও মানা বৈধ নয়’’। (বুখারী ৭১৪৪; মুসলিম ১৮৩৯)

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক আনসারী সাহাবীকে আমীর বানিয়ে একটি সেনাদল পাঠান এবং তাদেরকে তাদের আমীরের যাবতীয় কথা শুনতে ও তাঁর আনুগত্য করতে আদেশ করেন। পথিমধ্যে তারা উক্ত আমীরকে কোন এক ব্যাপারে রাগিয়ে তুললে তিনি তাদেরকে আদেশ করলেন যে, তোমরা আমার জন্য কিছু জ্বালানি কাঠ একত্রিত করো। তখন তারা তাই করলো। আমীর সাহেব তাদেরকে সেগুলোতে আগুন ধরাতে বললেও তারা তাই করলো। অতঃপর তিনি তাদেরকে বললেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার যাবতীয় কথা শুনতে ও আমার আনুগত্য করতে আদেশ করেননি? তারা সকলেই বললো: অবশ্যই। আমীর বললেন: তা হলে তোমরা আগুনে প্রবেশ করো। তখন তারা একে অপরের চেহারা চাওয়া-চাওয়ি শুরু করলো। তারা বললো: আমরা তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছুটেই আসলাম আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে। এভাবেই কিছু সময় কেটে গেলো। ইতোমধ্যে তাঁর রাগ নেমে গেলো এবং আগুন নিভিয়ে দেয়া হলো। তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন:
لَوْ دَخَلُوْهَا مَا خَرَجُوْا مِنْهَا، إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِيْ الْـمَعْرُوْفِ.
‘‘যদি তারা তাতে (আগুনে) প্রবেশ করতো তা হলে তারা আর সেখান থেকে বের হতে পারতো না। নিশ্চয়ই আনুগত্য হচ্ছে (কুর‘আন ও হাদীস সম্মত) সৎ কাজেই’’। (বুখারী ৭১৪৫; মুসলিম ১৮৪০)

গ. যে বিচারপ্রার্থী বাধ্য হয়েই শরীয়ত বিরোধী বিচার গ্রহণ করেছে; সন্তুষ্ট চিত্তে নয় তা হলে সে কাফিরও নয়। গুনাহ্গারও নয়।
উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
يُسْتَعْمَلُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ، فَتَعْرِفُوْنَ وَتُنْكِرُوْنَ، فَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ بَرِئَ، وَمَنْ أَنْكَرَ فَقَدْ سَلِمَ، وَلَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَتَابَعَ.
‘‘তোমাদের উপর এমন আমীর নিয়োগ করা হবে যাদের কিছু কর্মকান্ড হবে মেনে নেয়ার মতো আর কিছু মেনে নেয়ার মতো নয়। সুতরাং যা মেনে নেয়ার মতো নয় তা কেউ অপছন্দ করলে সে দায়মুক্ত হলো। আর যে তা মেনে নিলো না সে নির্ভেজাল থাকলো। আর যে তাতে তার সন্তুষ্টি প্রকাশ করলো এবং তার অনুসরণ করলো সেই হবে নিশ্চিত দোষী’’। (মুসলিম ১৮৫৪)©️

10/01/2025

প্রশ্নঃ ৭২২৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার প্রশ্ন হল। দায়ুস কাকে বলে?
উত্তরঃ
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاتهبسم الله الرحمن الرحيم
ঐ ব্যক্তিকে "দাইয়ুস" বলে - যে তার স্ত্রী'কে ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে অশ্লীল কাজ ও ব্যভিচারের সুযোগ দেয় বা সুযোগ করে দেয় এবং সকল শরীয়াহ বিরোধী কাজকে মেনে নেয়।
যে তার স্ত্রী পরিবারের অন্য সদস্যরা অশ্লীল কাজ বা ব্যভিচার করলে সে ভাল মনে করে গ্রহণ করে অথবা প্রতিবাদ না করে চুপ থাকে।
"দাইয়ুস" জাহান্নামী এবং কবিরা গুনাহকারী"।
"আপন স্ত্রীকে অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের সুযোগ দেয়া" কবিরা গুনাহ।

রাসুল(সাঃ) বলেছেনঃ
তিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করেছেনঃ
📚১) যে মদ তৈরী করে।
📚২) যে মাতা-পিতার নাফরমানী করে এবং
📚৩) ঐ চরিত্রহীন ব্যক্তি(দাইয়ুস) যে নিজ স্ত্রীকে অশ্লীলতা ও ব্যভিচার করতে সুযোগ দেয়।
***আহমাদঃ ৫৮৩৯।

"দাইয়ূসদের পরিণতি"
যার স্ত্রীর নিকট পর-পুরুষ প্রবেশ করে, অথচ সে কিছুই মনে করে না বরং চুপ থাকে, সে ব্যক্তিকে দাইয়ূস বলা হয়।
ইমাম যাহাবী (রহঃ) বলেছেনঃ
‘দাইয়ূছ’ সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর ফাহেশা কাজ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু তার প্রতি ভালোবাসার কারণে উক্ত ব্যাপারে সে উদাসীন থাকে। অথবা তার উপর তার স্ত্রীর বৃহৎ ঋণ বা মোহরানার ভয়ে কিংবা ছোট ছেলেমেয়েদের কারণে সে স্ত্রীকে কিছুই বলে না এবং যার আত্ম-সম্মানবোধ বলতে কিছুই নেই’।
***যাহাবী, কিতাবুল কাবায়েরঃ ১/৫০ পৃঃ।
দাইয়ূস ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ
‘দাইয়ূস কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না’।
***নাসাঈঃ ২৫৬২, আহমাদ, মিশকাতঃ ৩৬৫৫; সহীহুল জামেঃ ৩০৫২।

রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ"প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকেই অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহী করবে।একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। অতএব, সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামী ও সন্তানের দায়িত্বশীল। কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে।তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব, প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।"
***বুখারীঃ ৮৯৩।

আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথে হেদায়েত নসিব করুন। আমীন।
والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেনঃ- মুসলিম বাংলা ইফতা বিভাগ।

Address

Chittagong
4000, 4100, 42XX

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা-Islam is a complete code of life posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category