23/08/2026
ফিশারিজের ২১-২২ এর কেউ একজন,
নামটা উল্লেখ করলে হয়তো সবাই তোমাকে ভুল বুঝত। তাই নামটা উল্লেখ করলাম না।
সরলতা—এই নামেই তো তোমাকে ডাকতাম, তাই না? হয়তো তুমি ভুলে গেছো। কিন্তু আমি তো ভুলতে পারিনি, আর কোনোদিন পারবও না।
তুমি বলেছিলে, দেখা না হলে মানুষ মানুষকে ভুলে যায়। আমিও নাকি একদিন তোমাকে ভুলে যাব। কিন্তু এই যে দেখো, প্রায় দেড়-দুই বছর হয়ে যাচ্ছে তোমাকে দেখিনি—তবুও আমার অনুভূতিটা সেই আগের মতোই আছে।
আচ্ছা, মানুষ কি মানুষকে এতটা অবহেলা করতে পারে?
ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম—সব জায়গা থেকেই আমাকে ব্লক করেছো সেই কবে। অথচ আমি তো কখনো চাইনি তুমি আমাকে এতটা উপেক্ষা করো।
তোমার কি সত্যিই মনে হয়, ব্লক করে দিলেই মানুষ কাউকে ভুলে যায়? তুমি বোধহয় এখনো একটা ভুল ধারণার ওপর স্থির হয়ে আছো।
মনে আছে, জুলাইয়ে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ ছিল, যখন চারদিকে শুধু হাহাকার আর অনিশ্চয়তা—সেই হাহাকারের মাঝেও তোমাকে খুঁজেছি। মনে হয়েছিল, হয়তো এই মিছিলেই কোনো একদিন মরে যাব, আর কোনোদিন তোমাকে দেখতে পাব না।
কিন্তু দেখো, শেষ পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক হলো। আমি বেঁচে ফিরলাম। এরপর শুধু একবার তোমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম—শেষবারের মতো তোমাকে দেখতে চেয়েছিলাম। সেটুকুও দিলে না।
অথচ এই আমি দেখো, বুলেটের সামনে থেকেও ঠিকই বেঁচে ফিরলাম। কিন্তু আমি যে ভেতরে ভেতরে একটা জীবন্ত লাশ হয়ে শুধু এই দেহটাকে দিনের পর দিন বয়ে বেড়াচ্ছি—সে খবরটুকুও রাখলে না।
তুমি বিশ্বাসই করলে না যে, তোমাকে না দেখলে, তোমার সঙ্গে কথা বলতে না পারলে, আমার ভেতরে যে অস্থিরতা একসময় কাজ করত, আজও ঠিক ততটাই অস্থিরতা কাজ করে।
অনেক চেষ্টা করেছি যোগাযোগ করার। অনেক পথ খুঁজেছি। কিন্তু পারিনি।
আমি ব্যর্থ।
হয়তো আমার ভালোবাসাটাও ব্যর্থ।
জানো, মানুষ মানুষকে ভালোবাসলে একসময় হয়তো ভুলে যেতে পারে। কিন্তু আমি তো তোমার চেহারা, তোমার উপস্থিতি কিংবা তোমার কোনো অভ্যাসকে ভালোবাসিনি—অমানুষের মতো তোমার আত্মাটাকেই ভালোবেসেছিলাম। তাই হয়তো আজও তোমাকে ভুলতে পারি না।
ভালোবাসা সত্যিই অদ্ভুত, তাই না?
হয়তো তুমি সুখেই আছো।
সুখেই থেকো।
দূরে থেকেও সুখেই থেকো।
আচ্ছা, আমার কথা কি একবারও মনে পড়ে না?
মনে পড়ে না সেই সন্ধ্যার অশ্রুসিক্ত নয়ন? যে নয়নে শুধু তোমার জন্য ভালোবাসা জমা ছিল।
মনে পড়ে না সেই জন্মতিথির সাক্ষাৎ? যে সাক্ষাতে তোমার সামান্য স্পর্শও যেন আমার আত্মাটাকে তোমার আরও কাছে নিয়ে গিয়েছিল!
নাকি সবই মিথ্যা ছিল?
সবই কি আমার একার অনুভূতি ছিল?
জানো, প্রতিদিন মনে হয়—জুলাইয়ে কেন বেঁচে ফিরলাম? ঠিক কোন আশায় বেঁচে ফিরলাম?
যে আশাটা আমাকে প্রতিদিন একটু একটু করে ভেতর থেকে শেষ করে দিচ্ছে, সেই আশাটাকেই কি আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি?
নিজেকে শেষ করে দেওয়াকে আমি ঘৃণা করি। জীবনকে শেষ করে দেওয়া আমার কাছে কোনো সমাধান নয়। কিন্তু কখনো কখনো জীবন যে কী অসহনীয় ভার হয়ে ওঠে, সেটা হয়তো তোমাকে বোঝাতে পারব না।
প্রতিদিন মৃত্যুর কথা মনে পড়ে না, কিন্তু প্রতিদিনই মৃত্যুর মতো একটা শূন্যতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। চারপাশে মানুষ থাকে, অথচ আমার ভেতরটা কেমন যেন নিঃসঙ্গ পড়ে থাকে।
হয়তো কোনো একদিন কোনো জাতীয় পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় করে ছবিসহ কোনো খবর দেখতে পাবে—
**“দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত **।”
আচ্ছা, সেদিন কি তোমার ওই মায়াবী চোখের কাজল অশ্রুতে লেপ্টে যাবে?
নাকি সেদিনও আমার কথা তোমার মনে পড়বে না?
জানো, তোমাকে দেখতে না পেরে, তোমার সঙ্গে কথা বলতে না পেরে প্রতিটা দিন কী ভয়ানক মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে কাটে—তা তোমাকে বোঝানোর মতো কোনো ভাষা আমার জানা নেই।
আচ্ছা, মানুষকে ভালোবাসার কষ্ট এত তীব্র কেন?
ইস! কী অসহনীয় এক যন্ত্রণা!
আমি তো তোমার কাছে কিছুই চাইনি। শুধু চেয়েছিলাম, প্রতিদিন কয়েকটা মিনিট। কয়েকটা কথা। একটু খোঁজ। একটু আপন করে নেওয়া।
মানুষ ফকিরকেও একদিন না একদিন ভিক্ষা দেয়। তুমি সেটুকুও দিলে না।
তবুও জানো, তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই।
শুধু একটা প্রশ্ন থেকে যায়—
যে বেঁচে থাকাটা এতটা যন্ত্রণা দেয়, সেই বেঁচে থাকার অর্থটা কী?
হয়তো কোনোদিন তুমি এই লেখাটা পড়বে। হয়তো পড়বে না। হয়তো পড়েও কিছুই অনুভব করবে না।
তবুও লিখে গেলাম।
কারণ কিছু কথা মানুষকে বলা যায় না,
কিছু অনুভূতি কাউকে বোঝানো যায় না,
আর কিছু মানুষকে চাইলেও কোনোদিন ভোলা যায় না।
তুমি হয়তো আমার জীবনের গল্পের একটি অধ্যায় মাত্র।
কিন্তু আমার কাছে তুমি ছিলে—
পুরো গল্পটাই।
ইতি,
কালকূট