22/05/2024
*সদ্য দাখিল পাশ করা শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ-*
এদিক- সেদিক দৌড়দৌড়ি না করে চোখ বন্ধ করে আলিমে ভর্তি হয়ে যাও। আলিম ১ম বর্ষ ও ২য় বর্ষ মিলে ক্লাসে সময় পাবে মাত্র দেড় বছরের মতো। অথচ এ অল্প সময়ের প্রস্তুতির উপর নির্ভর করবে তোমার ভবিষ্যৎ লেখা পড়ার গতিপথ।
তুমি যদি মাদ্রাসা ছেড়ে দিয়ে কলেজে ভর্তি হও, তাহলে সেখানকার নতুন পরিবেশ ও আবহ বুঝতে-বুঝতেই অনেকটা সময় চলে যাবে। উপরন্তু ওখানকার মেধাবীদের সাথে দৌড়ে সমানতালে এগুতে গিয়ে হয়রানও হয়ে যেতে পারো। এতে করে নিজের ভীতর হীনমন্যতা তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
আর মাদ্রাসায় ভর্তি হলে পূর্ব পরিচিত পথে দুর্বার গতিতে এগুতে পারবে। কম কষ্টে আলিমে ভালো ফলাফল করা সহজ হবে।
আলিম ক্লাসে জেনারেল সাবজেক্ট- এর সাথে সূরা নিসা থেকে সূরা তাওবাহ পর্যন্ত প্রায় ছয় পারা কুরআন অর্থ সহ সংক্ষিপ্ত তাফসির, মিশকাতুল মাসাবীহ'র কিতাবুল ইলম, কিতাবুস সালাত সহ বিভিন্ন বিষয়ে ১২শ- এর মতো হাদীছ পড়ার সুযোগ পাবে। সাথে আদব, ফিকহ, উসূলে ফিকহ, আদব, বালাগাত- মানতিক সহ আরো বিভিন্ন বিষয় তো আছেই। কলেজে গেলে এগুলো কিন্তু পুরোই মিস।
আচ্ছা, মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করার পর যদি মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয়, জামিয়াতুল ইমাম, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ, তুরস্ক, মালয়েশিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বিশ্বসেরা ইসলামি স্কলার হওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে মাদ্রাসা ছেড়ে কলেজে যাবে কোন দুঃখে?
শুধু রিযিক ও দুনিয়ার সম্মানের জন্য কুরআন- হাদিস পড়ার সুযোগ হাতছাড়া করবে? এটা করা কি ঠিক হবে?
রিযিক তো মায়ের পেটে থাকতেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। এটা তো বাড়বেও না, কমবেও না। আমাদের কাজ শুধু চেষ্টা করে যাওয়া।
আমরা মাদ্রাসায় পড়ে কী, না খেয়ে আছি?? অর্থ- কড়ি কি আল্লাহ আমাদেরকেও কম দিয়েছেন? ছোট্ট এই জীবনে আর কত টাকাই বা দরকার? সব চেয়ে বড় দরকার তো দীনের পথে চলতে পারা। যেটা মাদ্রাসায় থাকলে সহজ হয়।
আর ইজ্জত-সম্মান? সে তো ড, মিজানুর রহমান আজহারীর দিকে তাকালেই দেখতে পাবে। এতটুকু বয়সে তিনি যে সম্মান পেয়েছেন, ঠিক এই বয়সে বাংলাদেশে কতজন এতটা সম্মান পেয়েছেন??
এটাও কিন্তু শুধু কুরআনের কারণে। সুতরাং -
হে কলিজার টুকরা প্রিয় সন্তানেরা!
অযথা এদিক-সেদিক না গিয়ে, মাদ্রাসায় চলে আসো। আলিমে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করো।
কপি:ড. আবুল কালাম আাজাদ বাশার