আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু
Al-Maw‘izah
হে মানুষ! তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে এসেছে উপদেশ(মাও‘ইযাহ)ও তোমাদের অন্তরে যা আছে তার আরোগ্য এবং মু’মিনদের জন্যে হিদায়াত ও রহমত।
মদিনায় লোকেরা দুটো উৎসব পালন করত, তখন রাসূল ﷺ বললেন:
"আল্লাহ তোমাদের জন্য এগুলোর পরিবর্তে উত্তম দুটি দিবস দিয়েছেন”
— Eid al-Fitr ও Eid al-Adha
(সহিহ, Sunan Abu Dawud)
অর্থাৎ ইসলামে নির্ধারিত উৎসব মূলত এই দুইটিই।
রাসূল ﷺ বলেছেন: “প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদ।” (Eid al-Fitr ও Eid al-Adha)
এবং: “যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।”Sunan Abu Dawud — Hadith 4031
আলেমদের মতে “দিবস উদযাপন” (যেমন—নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ, জন্মদিন ইত্যাদি) বিষয়ে অবস্থান বেশ স্পষ্ট ও কঠোর। তারা এটাকে বিদ‘আত (ধর্মে নতুন কিছু সংযোজন) এবং অনেক ক্ষেত্রে তাশাব্বুহ (অমুসলিমদের অনুসরণ) হিসেবে দেখেন।
Ibn Baz (রহিমাহুল্লাহ)
তিনি বলেন: “মুসলিমদের জন্য ঈদ হলো কেবল দুইটি—Eid al-Fitr ও Eid al-Adha।
এর বাইরে জন্মদিন, জাতীয় দিবস বা অন্য কোনো উৎসব পালন করা বিদ‘আত, যার কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই।”
Ibn Uthaymeen (রহিমাহুল্লাহ)
তিনি বলেন: “নববর্ষ (New Year) উদযাপন করা জায়েজ নয়, কারণ এটি অমুসলিমদের উৎসবের অন্তর্ভুক্ত।
মুসলিমদের জন্য এমন উৎসব তৈরি করা বা এতে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ।”
Al-Albani (রহিমাহুল্লাহ)
তিনি বলেন: “যে কোনো নতুন দিবস বা উৎসব, যা সাহাবায়ে কেরাম পালন করেননি—তা বিদ‘আত।
মুসলিমদের উচিত এগুলো থেকে দূরে থাকা।”
Salih al-Fawzan হাফি:
“জাতীয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস বা অনুরূপ উদযাপনগুলো ইসলামী উৎসব নয়।
এসব পালন করা অমুসলিমদের অনুকরণ এবং তা পরিত্যাজ্য।”
24/01/2026
"আদর্শ পরিবার ও পরিবেশ "
লেখক শাইখ আব্দুল হামীদ ফাইযী حافظ الله
বই ক্রয় করতে হলে,,,, ইনবক্স করুন
🎙️ Shaikh Nasir Al Qatami
বিদ‘আতের সংজ্ঞা (Definition)
বিদ‘আত মানে:
দীনের মধ্যে এমন নতুন কাজ, বিশ্বাস বা ইবাদত ঢোকানো
যার কুরআন–সুন্নাহতে কোনো দলিল নেই,
এবং যা নবী ﷺ ও সাহাবারা করেননি—
কিন্তু মানুষ সেটাকে ইবাদত বা সওয়াবের কাজ মনে করে।
হাদিসের দলিল
নবী ﷺ বলেন:
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ
“আমাদের এই দীনের মধ্যে যে ব্যক্তি এমন কিছু চালু করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।”
(সহিহ বুখারি ২৬৯৭, সহিহ মুসলিম ১৭১৮)
আরও হাদিস:
وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
“প্রতিটি বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা।”
(সহিহ মুসলিম ৮৬৭)
সালাফদের কথা
ইমাম মালিক (রহ.) বলেন:
“যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো বিদ‘আতকে ভালো মনে করে,
সে যেন মনে করে মুহাম্মাদ ﷺ রিসালাত পৌঁছাতে ত্রুটি করেছেন।”
ইবনু মাস‘উদ (রা.) বলেন:
“তোমরা অনুসরণ করো, নতুন কিছু বানিও না।
কারণ যা যথেষ্ট ছিল (নবী ﷺ-এর যুগে), তা-ই তোমাদের জন্য যথেষ্ট।”
বিদ‘আতের ৫টি শর্ত (কখন কোনো কাজ বিদ‘আত হবে)
কোনো কাজ বিদ‘আত হবে যদি—
1) সেটা ইবাদত বা সওয়াবের নিয়তে করা হয়
2) কুরআন–হাদিসে তার দলিল না থাকে
3) নবী ﷺ সেটা করেননি
4) সাহাবারা সেটা করেননি
5) তাবেঈন ও সালাফরা সেটা দ্বীনের অংশ মনে করেননি
এই ৫টা মিললে সেটাই বিদ‘আত।
উদাহরণ (কমন বিদ‘আত)
মিলাদুন্নবীকে কেন্দ্র করে আয়োজন পালন
কবরকে ঘিরে ইবাদত
নির্দিষ্ট সংখ্যা ধরে নিজে বানানো যিকির
ফাতিহা শরীফ বলে খাবার বণ্টন
শবে বরাতে বিশেষ নামাজ বানানো
উরস পালন
গুরুত্বপূর্ণ নোট
দুনিয়াবি কাজ (গাড়ি, মাইক, মোবাইল, বই ছাপানো ইত্যাদি)
এগুলো বিদ‘আত না, কারণ এগুলো ইবাদত নয়, মাধ্যম মাত্র।
বিদ‘আত শুধু তখনই হবে,
যখন কেউ কোনো নতুন জিনিসকে দ্বীনের ইবাদত বানায়।
এক লাইনে মনে রাখো
বিদ‘আত = দ্বীনে নতুন ইবাদত, যার দলিল নেই।
23/01/2026
প্রস্তুতি শুরু করুন
surah isra
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Chittagong
4202