02/11/2025
ধরা যাক আপনি শহরে গেছেন কোনো কাজে৷ কাজ পুরোটা শেষ হয়নি৷ আগামীকালও থাকা লাগবে শহরে৷ তখন রাত কাটাবেন কোথায়?
শহরে আপনার বেশ কিছু আত্মীয় স্বজন আছে, বন্ধুবান্ধব আছে৷ তাদের কাউকে ফোন করলে অবশ্যই বাসায় যেতে বলবে। বরং বাসায় না গেলে রাগ অভিমান করবে৷
তবুও আমার পরামর্শ হলো- আপনি পরিচিত কারো বাসায় যাওয়ার চিন্তা করবেন না৷ হাতে সময় থাকলে গিয়ে সৌজন্য আলাপ করে চা বিস্কুট খেয়ে আসবেন। কিন্তু রাতে অতিথি হওয়ার চিন্তা করবেন না৷
•
পরিচিত আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবের বাসায় কেন উঠবেন না, সেই ব্যাখ্যা দিচ্ছি।
১. আপনি শহরে কাজ নিয়ে গেছেন, সেই কাজের প্রতি আপনার ফোকাস থাকা উচিৎ৷ সময় মেনে সেই কাজ করতে হবে৷ কারো বাসায় উঠলে সময় মেলানো মুশকিল হয়৷ দেখা যায় আপনার কাজের জায়গা থেকে সেই বাসা বেশ দূরে৷ রাস্তায় সময় নষ্ট হয়৷ জ্যাম থাকলে আরো সময় নষ্ট৷ আর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সেই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিদায় নিতে নিতে আরো সময় নষ্ট।
হোটেলে থাকলে এসব ঝামেলা নাই৷ আপনার যেখানে কাজ, একটু খুঁজলে তার নিকটতম দূরত্বে সাশ্রয়ী হোটেল পেয়ে যাবেন৷ আজকাল শহরের সব স্থানে সাশ্রয়ী রেটে আবাসিক হোটেল আছে৷ আপনার কাজের স্থান থেকে পায়ে হাঁটার দূরত্বে হোটেলে রুম নিন৷ চিন্তা কমে যাবে। কখন বের হলেন, কখন রুমে ফিরলেন, এটা আপনার স্বাধীনতা৷ কিন্তু আত্মীয় স্বজনের বাসায় উঠলে এই স্বাচ্ছন্দ্য পাবেন না৷ অনেক কিছুতেই অস্বস্তি লাগবে আপনার।
হোটেল রুমের দরজা আপনি চাবি দিয়ে খুলবেন, বন্ধ করবেন৷ কিন্তু বাসাবাড়ির সদস্যদের কাজ থাকতে পারে, ভেতর থেকে দরজা খুলতে দেরী হতে পারে, আপনি বিব্রত হলেন, তারা বিরক্ত হলো৷
২. যার বাসায় উঠবেন বলে ঠিক করেছেন, তিনি হয়তো অতিথি রাখতে আগ্রহী না হতে পারেন৷ হয়তো মুখে আপনাকে 'না' বলবে না৷ তবে মনে মনে বিব্রত হবে৷ ধরা যাক তার সংসারে ঝামেলা চলছে৷ শহরে থাকে বলে খুব সুখে আছে, স্বাচ্ছন্দ্যে বাস করে, এই ধারণা সত্যি না। বরং গ্রামের লোকদের চেয়ে শহরের লোকের ঝামেলা বেশি৷ অতিথিকে একটু ভালো খাবার দিতে হয়, আপ্যায়ন করতে হয়। সেই সামর্থ্য হয়তো তার নাও থাকতে পারে৷ এজন্য তাকে মুশকিলে ফেলার চেয়ে হোটেলে ওঠা অপেক্ষাকৃত ভালো।
৩. যার বাসায় উঠবেন, হয়তো সেদিন তাদের অন্য শিডিউল আছে৷ হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, বা কোথাও দাওয়াত থাকতে পারে৷ আপনার উপস্থিতি তাদের ঝামেলায় ফেলতে পারে৷ যতই আপনি তাদের কাজকর্মে বিঘ্ন না ঘটান, তারাই বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে৷
৪. শহরে যারা ভাড়া বাসায় থাকে, বেশিরভাগ মানুষের বাসায় গেস্টরুম থাকে না৷ সবাই চায় সাশ্রয়ী জীবন যাপন করতে৷ অতিরিক্ত রুমের ভাড়া অনেকে এফোর্ট করতে পারে না৷ বাসায় অতিথি গেলে অগত্যা শোবার ঘর ছেড়ে দিয়ে তাদের হয়তো বসার ঘরের মেঝেতে বা সোফায় ঘুমাতে হয়৷ কখনো কখনো রান্নাঘরেও থাকা লাগতে পারে। এটাও দৃষ্টিকটু ব্যাপার।
_____________
একটা সময় ছিল যখন শহরে থাকার ব্যবস্থা ছিল না, তখন আত্মীয় স্বজনের দ্বারস্থ হতে হতো৷ কিন্তু এখন কম খরচে সব সুবিধা পাওয়ার মতো ব্যবস্থা আছে৷ বরং বাসাবাড়ির চেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। ওয়াইফাই, রুম সার্ভিস, গোসলখানা বা ওয়াশরুম ব্যবহার, এসব ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে আপনি যে অস্বস্তিতে পড়বেন, হোটেলে থাকলে সেসব অস্বস্তি তো হবেই না, বরং স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যায়৷
আত্মীয়ের বাসায় থাকলে আপনার কিছু খরচ বাঁচবে৷ রুম ভাড়া এবং খাওয়া খরচ৷ তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখলে হোটেলে থাকাটা বেশি যুক্তিযুক্ত হয়৷ নিজের স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দিতে হলে এবং সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হলে তাই শহরে গিয়ে রাত কাটানোর প্রয়োজন পড়লে আত্মীয় স্বজনের দ্বারস্থ হওয়ার আগে নিকটস্থ কোনো আবাসিক হোটেল খুঁজতে পারেন।
________________
Paint with Ashraf