05/09/2026
প্রিয় শিক্ষার্থীরা,
আশা করছি লেখাটি পড়বে।
আজ তোমাদের উদ্দেশ্যে আমি কয়েকটি কথা বলতে চাই। এগুলো শুধু উপদেশ নয়—একজন শিক্ষক হিসেবে তোমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার কিছু স্বপ্ন, কিছু প্রত্যাশা।
তোমরা এমন একটি সময়ে বেড়ে উঠছো, যখন পৃথিবীর সবকিছু খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। হাতে থাকা একটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তোমরা মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর খবর জানতে পারছো, নতুন কিছু শিখতে পারছো, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছো। প্রযুক্তি তোমাদের জন্য বিশাল একটি সুযোগ।
কিন্তু মনে রেখো—প্রযুক্তি তোমাকে যতটা এগিয়ে নিতে পারে, অসচেতন ব্যবহার ততটাই পিছিয়ে দিতে পারে।
তাই মোবাইল ব্যবহার করো, কিন্তু মোবাইল যেন তোমাকে ব্যবহার না করে।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা,
শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য পড়াশোনা করো না। জ্ঞানী হওয়ার জন্য পড়াশোনা করো।
কারণ জীবনে এমন অনেক প্রশ্ন আসবে, যার উত্তর কোনো পরীক্ষার খাতায় লিখতে হবে না। তখন তোমার বিবেক, তোমার বিচারবুদ্ধি, তোমার মূল্যবোধ এবং তোমার অর্জিত জ্ঞানই তোমাকে পথ দেখাবে।
তোমরা প্রশ্ন করতে শেখো।
কেন?
কীভাবে?
এর কারণ কী?
এর ফল কী হতে পারে?
মুখস্থ করে হয়তো পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া যায়, কিন্তু চিন্তা করতে শেখা যায় প্রশ্ন করার মাধ্যমে।
আর একটি কথা বিশেষভাবে মনে রেখো—ব্যর্থতাকে ভয় পেয়ো না।
আজ তুমি কোনো পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে পারোনি—তাতে জীবন শেষ হয়ে যায়নি। কোনো প্রতিযোগিতায় হেরে গেছো—তাতেও তুমি শেষ হয়ে যাওনি। বরং ব্যর্থতা তোমাকে শেখাবে কোথায় তোমার দুর্বলতা, কোথায় তোমাকে আরও পরিশ্রম করতে হবে।
মনে রেখো—
পড়ে যাওয়া মানে ব্যর্থতা নয়; পড়ে গিয়ে আর উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা না করাই প্রকৃত ব্যর্থতা।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা,
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সুন্দর জীবন দেখে নিজের জীবনকে ছোট মনে করো না। তুমি যার হাসিমুখ দেখছো, তার সংগ্রাম হয়তো তুমি দেখছো না। তাই নিজের জীবনকে অন্যের জীবনের সঙ্গে তুলনা না করে প্রতিদিন নিজেকে গতকালের চেয়ে একটু ভালো করার চেষ্টা করো।
আজকের তুমি যেন গতকালের তোমার চেয়ে একটু বেশি জ্ঞানী হও, একটু বেশি দায়িত্বশীল হও, একটু বেশি মানবিক হও—এটাই হোক তোমার প্রতিদিনের লক্ষ্য।
আর বন্ধু নির্বাচনের ব্যাপারেও সতর্ক হও।
বন্ধু এমন হওয়া উচিত, যার সঙ্গে থাকলে তুমি ভালো মানুষ হতে চাও।
যে বন্ধু তোমাকে পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, বাবা-মা ও শিক্ষকদের অসম্মান করতে শেখায় কিংবা ভুল পথে নিয়ে যায়—তার থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা,
তোমাদের বাবা-মা তোমাদের জন্য অনেক ত্যাগ করেন। শিক্ষকরা তোমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য সময় ও শ্রম দেন। তাই তাদের ভালোবাসা ও ত্যাগের মূল্য দাও।
শিক্ষককে শুধু পরীক্ষার আগে মনে রেখো না।
একজন শিক্ষক তোমার শুধু ফলাফল নয়, তোমার মানুষ হয়ে ওঠাটাও দেখতে চান।
তোমাদের কাছে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা—তোমরা ভালো ফল করবে, অবশ্যই। কিন্তু তার চেয়েও বেশি চাই, তোমরা ভালো মানুষ হবে।
তোমরা এমন মানুষ হবে—
যে সত্য কথা বলতে ভয় পাবে না,
অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে শিখবে,
দুর্বল মানুষকে সাহায্য করবে,
বাবা-মাকে সম্মান করবে,
শিক্ষককে শ্রদ্ধা করবে,
দেশকে ভালোবাসবে
এবং নিজের দায়িত্ব থেকে কখনো পালিয়ে যাবে না।
মনে রেখো, তোমাদের হাতে শুধু তোমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নয়; আগামী দিনের পরিবার, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ ও রয়েছে।
তাই স্বপ্ন দেখো। বড় স্বপ্ন দেখো।
কিন্তু শুধু স্বপ্ন দেখেই থেমে থেকো না।
স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আজ থেকেই পরিশ্রম শুরু করো।
শেষে তোমাদের শুধু একটি কথা বলতে চাই—
জীবনে বড় মানুষ হওয়ার আগে ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করো। কারণ বড় পদ মানুষকে পরিচিত করে, কিন্তু ভালো চরিত্র মানুষকে সম্মানিত করে।
তোমরা জ্ঞানে বড় হও, চরিত্রে বড় হও, মানবিকতায় বড় হও।
তোমাদের সাফল্যে যেন শুধু তোমাদের পরিবার নয়, তোমাদের শিক্ষক এবং পুরো সমাজ গর্বিত হতে পারে।
তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ।
তোমাদের হাতেই আগামী দিনের সুন্দর সমাজ।
আল্লাহ তোমাদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও সাফল্য দান করুন।
ধন্যবাদ।
সবাই ভালো থেকো, সুন্দর থেকো, মানুষের মতো মানুষ হও।
তোমাদের শিক্ষক,,