06/04/2020
ত্রাণ ও যাকাত প্রদান
ঈদের নতুন জামাকাপড় কেনার জন্য যাকাত দেয়ার চেয়ে রোজা পালনের জন্য যাকাত দেয়া উত্তম। জীবন বাঁচাতে যাকাত দেয়া তার চেয়েও জরুরি । সাহাবিগণ র. শাবান মাসে রমজানের রোজা পালনের সুবিধার্থে যাকাত দিয়ে দিতেন । মহামারিতে লকডাউন চলাকালীন মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে । যাকাত প্রদানের উপযুক্ত সময় এখন। দানের কারণে বিপদ দূর হয় মর্মে হাদিস আছে । তবে ত্রাণ ও যাকাত উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বর্তমান পদ্ধতিতে । করোনাতে নিরাপদ বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা আবশ্যক । কিছু টাকার ত্রাণ দিতে গিয়ে যেন নিজের ও অন্যদের প্রাণনাশের হুমকি হয়ে না দাঁড়ান-বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে । সরকারি ত্রাণগুলো স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে যথাযথ তালিকা পূর্বক সচেতন স্বাস্থ্যকর্মীর সহযোগিতায় ঘরে ঘরে পাঠানো যায়। তবে এটি কোনো ঘূর্ণিঝড় উত্তর বা বন্যাকালীন ত্রাণ না । দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস পাওয়া যাচ্ছে । কার কোনটা বেশি প্রয়োজন তিনি ভালো জানেন। তাই চালডালের চেয়ে নগদ টাকা দেয়া ভালো হবে বলে মনে হচ্ছে । এতে লকডাউন ও হোমকোয়ারেন্টিন বিঘ্নিত হবে না । সম্মান রক্ষা হবে গ্রহীতার। কিছু দ্রব্য দিয়ে ফটোসেশনের মাধ্যমে তার সম্মানটুকু কেড়ে নেয়া অনুচিত। বিশেষত মধ্যবিত্তরা না পারছেন বলতে, না পারছেন সইতে। বিকাশে পাঠানোর সুযোগ থাকলে সেটাই উত্তমপন্থা। কাউকে যাকাত দিলে যাকাতের টাকা বলে দেয়া আবশ্যক না । দাতার নিয়ত যথেষ্ট । গোপন-দান কবুল হয় আর লৌকিকতা শিরকের একটি প্রকার । সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে যেন করোনাভাইরাস না ছড়ায় সে দিকে লক্ষ্য রাখা খুবই জরুরি । তখন ছাগলের জন্য গরু শিরনি হয়ে যাবে বৈকি । আল্লাহ তায়ালা মহামারি থেকে সবাইকে মুক্ত রাখুন । ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন ।