29/08/2021
আজ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ৪৫তম প্রয়ান দিবসে কবির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি ❤️
আজ কবির সম্পর্কে আরো কিছু জানার প্রচেষ্টায় আমার এই নিবেদন।আজ থাকছে ১ম পর্ব।
কবি ব্যাক্তিগত জীবনে বিয়ে করেছিলেন দুইবার।
#প্রথম_স্ত্রীঃ নার্গিস আসার খানম। আসল নাম সৈয়দা খাতুন। বিদ্রোহী কবি নজরুল তার নাম দেন নার্গিস, ফার্সি ভাষায় যার অর্থ গুল্ম। ১৯২১ সালের মার্চ কি এপ্রিল মাসে কবি নজরুলের সাথে কুমিল্লার দৌলতপুরে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় সৈয়দা আসার খানমের সঙ্গে। প্রেমের ছোঁয়ায় দুজনের মন উদ্ভাসিত হয়। ইরানি এক সাদা গুল্মপুষ্পের নামে কবি তার নাম দিলেন নার্গিস। নজরুল দৌলতপুরে বসেই ১৬০টি গান এবং ১২০টি কবিতা রচনা করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো ‘বেদনা-অভিমান’, ‘অবেলা’, ‘অনাদৃতা’, ‘পথিক প্রিয়া’, ‘বিদায় বেলা’ প্রভৃতি। মাত্র দুই মাসের প্রেমের পর নজরুলের বিয়ে ঠিক হয় নার্গিস আসার খানমের সাথে। বিয়ের #আকদ সম্পন্ন হবার পরে কাবিনে নজরুলের ' ামাই' থাকার শর্ত নিয়ে বিরোধ বাধে। নজরুল 'ঘর জামাই' (মতান্তরে দেনমোহর নিয়ে বচসা) থাকতে অস্বীকৃতি জানান এবং #বাসর সম্পন্ন হবার আগেই নার্গিসকে রেখে কুমিল্লা শহরে বিরজাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে চলে যান, মানে কবুল বা #রেজিস্ট্রি পর্যন্তই এই বিয়ের স্থায়ীত্ব। এক দিনের পরিণয়ের স্মৃতি নিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার রাত কেটেছে নার্গিসের। তবে কবির মানসলোকে তিনি ছিলেন দীর্ঘকাল। ১৯৩৭ সালে কলকাতার চিৎপুর থেকে কবি লিখেছিলেন, ‘তোমার উপর আমি কোনো ‘জিঘাংসা’ পোষণ করি না। এ আমি সকল অন্তর দিয়ে বলছি। আমার অন্তর্যামী জানেন তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কি গভীর ক্ষত, কি অসীম বেদনা ! কিন্তু সে বেদনার আগুনে আমিই পুড়েছি, তা দিয়ে তোমায় কোনোদিন দগ্ধ করতে চাইনি। তুমি এই আগুনের পরশ মানিক না দিলে আমি ‘অগ্নিবীণা’ বাজাতে পারতাম না। আমি ধুমকেতুর বিস্ময় নিয়ে উদিত হতে পারতাম না। তোমার যে কল্যাণ রূপ আমি আমার কিশোর বয়সে প্রথম দেখেছিলাম, যে রূপকে আমার জীবনের সর্বপ্রথম ভালবাসার অঞ্জলি দিয়েছিলাম, সে রূপ আজো স্বর্গের পারিজাত-মন্দীরের মতো চির অম্লান হয়েই আছে আমার বক্ষে। অন্তরের সে আগুন- বাইরের সে ফুলহারকে স্পর্শ করতে পারেনি।'’ ১৯৩৭ সালের ১ জুলাই নজরুল নার্গিসকে একটি চিঠি লেখেন। এর প্রায় বছর খানেক আগেই শিয়ালদহতে নার্গিস ও নজরুলের উপস্থিতিতে উভয়ের আনুষ্ঠানিক বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ১৭ বছর পর ১৯৩৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় কবি আজিজুল হাকিমের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিয়ে হয় নার্গিস খানমের। বিয়ের সংবাদ শুনে নজরুল ‘পথ চলিতে যদি চকিতে কভু দেখা হয় পরাণপ্রিয়’ গানটি লিখে পাঠিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল একটি চিরকুট, তাতে লেখা ছিলো "জীবনে তোমাকে পেয়ে হারালাম, তাই মরণে পাব এই বিশ্বাস ও সান্ত্বনা নিয়ে বেঁচে থাকব।’' এরপর নজরুলের সাথে নার্গিসের দেখা হয় ১৭ বছর পরে। ততদিনে তাদের আনুষ্ঠানিক বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে গিয়েছে। কবি নজরুল তার,
- ছায়ানট;
- পূবের হাওয়া;
- চক্রবাক কাব্যগ্রন্থের অনেক কবিতা #নার্গিসকে কেন্দ্র করে রচনা করেন। #ছায়ানটের মোট ৫০ টি কবিতার মধ্যে
- বেদনা অভিমান
- অবেলায়
- হার মানা হার
- অনাদৃতা
- হারামণি
- মানস বধু
- বিদায় বেলায়
- পাপড়ি খেলা ও
- বিধূর পথিক সহ মোট নয়টি কবিতা নার্গিসকে উপজীব্য করে লিখেছেন।।
তথ্য সংগ্রহঃ বাংলা উইকিপিডিয়া
27/11/2020
ধারাবাহিক উপন্যাস ঃ
আলোর পথে রাজা চেরুমন
সেলিম ইসলাম খান
পর্বঃ ৭৬
কোদনগুল্লুর পূর্ব প্রান্তের নির্জন একটি পুরনো বাড়ি। বাড়ির চারপাশ মাটির উঁচু পাচিল দিয়ে ঘেরা। এক সময় এই বাড়িতে হাজার হাজার লোকের সমাগম ছিল। মনিরামের বানা চিদাম্বারাম যখন মালাবারের প্রধান আমাত্য ও বামুন সমাজের ধর্ম গুরু ছিলেন, তখন এবাড়ির খ্যাতি ছিল ভারতজোড়া। কিন্তু চেরুমনের বাবা চেরাজেম রাজা হওয়ার পর থেকে বামুনরা রাজসভা থেকে একে একে বিদায় নিতে শুরু করে। চিদাম্বারাম তাদেরই একজন। এঔ বাড়িতে একসময় বিশাল বন্দনা অনুষ্ঠান হত। দেশ-বিদেশের নামকরা শিল্পীরা এখানে এসে সুরে সুরে ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর কীর্তিগাঁথা গাইতেন।হত জাকজমক পূর্ণ ভোজসভা। সেবাদাসীদের সেবা নিতে আসতেন বামুন ধর্মগুরু ও সেনারা। কিন্তু চিদাম্বারামের মৃত্যুর পর সে সব এখন অতীত।
তপ্ত দুপুরে রক্ষীরা যখন ভাতঘুমে তন্দ্রাচ্ছন্ন তখন সদর গেট দিয়ে ঢুকলেন দুইজন অমিত সাহসী জোয়ান। তারা আপাদমস্তক আলখাল্লা পরিহিত, হাতে নাঙ্গা তলোয়ার। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা সব রক্ষীকে হত্যা করে অন্দর মহলে ঢুকল। সেখানে সাত বছরের এক শিশুকে কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করছে কয়েকজন মহিলা। শিশুটি সালেহী চাচ্চু বলে তার দিকে ছুটে গেল।
সালেহী বললেন, সব শিশুরা মহিলাদের হাতে খাবার খেতে পছন্দ করলেও এই শিশু বোধহয় আমার হাতেই খাবার খেতে পছন্দ করে। তাই তাকে নিয়ে গেলাম ভদ্রমহিলাবৃন্দ। আশা করি আপনাদের খাওয়ানোর কষ্ট এতে লাঘব হবে।
সালেহী আর আলী বিদ্যুত বেগে বাড়ি থেকো বের হয়ে যার যার ঘোড়ায় চেপে বসলেন। আর পেছন পেছন ছুটে আসা মনিরাম, তাদের গতির সাথে পাল্লা দিতে না পারায় হায় হায় করে কপাল চাপড়াতে লাগল। পেছন ফিরে তার অবস্থা দেখে ছোট্ট মুস্তাফা মুচকি হাসি দিল।
চেরুমনের সামনে গৌরি এসে ছোট ছেলের জন্য আহাজারি করছিলেন। আর রাজা চেরুমনকে দুষছিলেন। তার নতুন ধর্মই তাকে সকল বিপদে ফেলেছে। কি দরকার ছিল গোপনে আরবে যারার! কি দরকার ছিল বিদেশী যবনদের সাথে বন্ধুত্ব করার! নিজের বোনকেতো গাঙে ভাসিয়েছ, এখন আমার ছেলেকেও তুমি দাবার গুটি বানিয়েছ। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই, নইলে সব তছনছ করে ফেলব। তুমি কি ভেবেছ ওরা তোমার ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে পারবে? ভুল ভাবছ, তোমার হাজার হাজার সেনা যেখানে সাহস করল না, সেখানে তারা দুজন কি করে আমার মুস্তাফাকে উদ্ধার করবে?
চেরুমন কিছুই বলছেন না। মায়ের মন কত ব্যথা পাবে! কত যাতনা সইবে, তাতে চেরুমন দাগ লাগাতে চায় না। কাঁদুক সে কেঁদে কেঁদে খাঁটি হোক। যে আলো সে ভিখরি বেশে আরবে গিয়ে ভিখ মেঙ্গে এনেছে। সে শাশ্বত সত্যের আলো কেউ এত সস্তায় পেয়ে যাবে, তা কিছুতেই হতে পারে না। সে আলোর জন্য যে তপস্যা করবে, হৃদয় কন্দরে সযতনে লালন করবে; সে আলো পাবার অধিকার কেবল তারই। শিশুকে জোর করে খাওয়াতে গেলে সে যেমন বমি করে সব ফেলে দেয়, অবুঝরা সে সত্যের আলোকে তেমনই মূল্যহীন ভাববে। কিন্তু যখনই আল্লাহ তার অন্তরে সঠিক বুঝ দান করবেন সে তখনই সেই আলোর ফিকির করবে। আৃার রাসুল কাউকে জোর করে সেই আলো গেলাতে নিষেধ করেছেন, এতে করে খাবারের প্রতি মানুষ বিতৃষ্ণ হয়ে পড়ে।
রাজা চেরুমন যখন এসব কথা ভাবছিলেন আর রানী গৌরি আহাজারি করছিলেন, তখন তাদের কানে শিশুর আওয়াজ ভেসে এল, মা - বাবা! বমি এসে গেছি! সালেহী আর আলী চাচ্চু আমাকে নিয়ে এসেছেন।
মুস্তাফা দরবারে ঢুকতেই গৌরি ছুটে গেলেন সেদিকে। কলিজার ধনকে তিনি বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন। এই হল মা, পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ এনে দিলেও সে কখনো নিজের সন্তানকে বিসর্জন দিতে পারে না। সন্তানের জন্য সে সপ্ত সিন্ধু পাড়ি দিতে পারে আর আকাশচুম্বী পাহাড় ডিঙ্গাতে পারে।
সালেহী আর আলী দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চেরুমন সেদিকে ছুটে গেলেন। প্রাণের ভাইয়েরা আমার! তোমরা কি এমনি করে চিরকাল আড়াল থেকে আমাকে শুধু দিয়েই যাবে! তোমাদের জন্যতো কিছুই করার সুযোগ পেলাম না। পরকালে আল্লাহ যেন তোমাদের যোগ্য প্রতিদান দেন।
29/05/2020
মুর্শিদাবাদ জেলার প্রাণকেন্দ্র বহরমপুর শহর। এই শহরে একটি ব্রাহ্মণ পরিবারের বড় ছেলে নলিনাক্ষ সান্যালের অভিন্ন হৃদয় বন্ধু ছিলেন নজরুল। বন্ধুর বিয়েতে তাঁকে বরযাত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ করা হলো। নজরুল প্রথমটায় কিছুতেই বরযাত্রী হিসেবে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। কিন্তু বন্ধু অর্থাৎ যাঁর বিয়ে ,তাঁর পীড়াপীড়িতে শেষে বাধ্য হয়ে রাজি হলেন। বিয়ে পৌঁছল পাত্রীর বাড়ি। বরযাত্রীদের পংক্তিভোজনে বসানো হয়েছে। হঠাৎ বিয়ের পাত্র অর্থাৎ কাজী সাহেবের বন্ধুর ছোট ভাই শশাঙ্কশেখর হন্তদন্ত হয়ে দাদার কাছে এসে বললেন,'দাদা, এ বিয়ে তুই করিস না। মুসলিম বলে ওরা কাজী সাহেবকে অন্য বরযাত্রীদের সঙ্গে না বসিয়ে অন্য একটা জায়গায় একা বসিয়েছে। এই শুনে বিয়ের পাত্র অগ্নিমূর্তি হয়ে উঠলেন। বিয়ের আসর থেকে তিনি উঠে পড়লেন এবং বললেন,যেখানে আমার বন্ধুর অপমান হয়,সেখানে আমি বিয়ে করবো না। বিয়ের আসরে একটা হুলুস্থুল পড়ে গেল। নজরুল খবর পেয়ে ছুটে এলেন। তিনি বিয়ের পাত্র অর্থাৎ তাঁর বন্ধুকে অনেক বুঝিয়ে বিয়েতে রাজি করলেন। অবশেষে বিবাহকার্য সম্পন্ন হলো। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। পরেরদিন ভোরবেলা। সবাই তখন ঘুমুচ্ছেন। পাত্রীর বাবা শরৎচন্দ্র ভট্টাচার্য সকলের আগে উঠেছেন সকালবেলায় বিয়ে বেরোনোর আগে বরযাত্রীদের আতিথেয়তার তদারকি করতে। হঠাৎ তিনি থমকে গেলেন গানের সুরে। শব্দ অনুসরণ করে তিনি উপস্থিত হলেন বাড়ির যেখানে মন্দির,সেখানটায়। এরপর তিনি যা দেখলেন,তা এক অত্যাশ্চর্য ঘটনা। তিনি বাড়ির সবাইকে ডেকে তুললেন নীরবে এবং নিয়ে গেলেন সেই মন্দিরের কাছে। সকলে অবাক হয়ে গেল। মন্দিরের বারান্দায় বসে নজরুল একটার পর একটা নিজের লেখা ভক্তিসংগীত গাইছেন আর তাঁর দু'চোখ বেয়ে দরদর করে জল ঝরে পড়ছে। পাত্রীর বাবা ছিলেন এক গোঁড়া ব্রাহ্মণ। কিন্তু সেই মুহূর্তে সব ভুলে গেলেন তিনি কোনো এক মায়ামন্ত্রবলে। ছুটে গিয়ে তিনি পায়ে পড়লেন কাজী সাহেবের। কাজী সাহেব সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দু'হাত দিয়ে তুলে জড়িয়ে ধরলেন। 'চারি চক্ষের ধারায়' তখন সেখানকার মাটি ভিজে স্বর্গভূমি হয়ে উঠেছে। এরপর মেয়ের বাবা নিজে বরযাত্রীদের সাথে এক সারিতে বসিয়ে তাঁকে ভোজন করালেন এবং তাঁর মেয়েকে আশীর্বাদ করতে বললেন।........ একটু আগেই আমি সন্ধ্যা মুখার্জির মরমি কণ্ঠে শুনছিলাম নজরুলের সেই অপূর্ব গান.....'মা গো কত অপরাধ করেছিনু বুঝি/সংহার করি সে অপরাধ/বল্ লীলাময়ী মিটেছে কি তোর /মুন্ডমালিকা পরার সাধ/...যে ভক্তি পায়নি চরণতল /আজ হলো কি তা গঙ্গাজল /মোর মুক্তির তৃষা, মুক্তকেশী গো/ এলোকেশ হয়ে পায়ে লুটায়/....আমি মা বলে যত ডেকেছি /সে ডাক নূপুর হয়েছে ও রাঙা পায়/মোর শত জনমের কত নিবেদন/ও চরণ ধরে কহিতে চায়...'............আমার দু'চোখ বেয়ে নেমে এল দরদর ধারা। নিজের ঘরের দরজা লাগিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদলাম। কী এক স্নিগধ আলোয় আমার মনে যেন শুশ্রূষা দিয়ে গেলেন নজরুল ,ঠিক যেমন করে আমার জন্মেরও বহু বহুদিন আগে এক গোঁড়া ব্রাহ্মণের মনের অচলায়তন ভেঙে দিয়েছিলেন তিনি এমনি করে । নাস্তিকের কাছে এ কি নিছক ভাববাদ ? বস্তুবাদীর কাছে এ কি নিছক পাগলামি ? জানি না,জানার দরকারও নেই । আমি জানি , এ এক সন্তানের মায়ের কাছে সব পাপের বলিদান দিয়ে তাঁর চরণস্পর্শ করে এক জন্মান্তরে উত্তরণ, আমি বুঝি ,এ এক আলোর শুশ্রূষা যাতে এক গোঁড়া ব্রাহ্মণের মনের অচলায়তন ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে যায়, সে দীক্ষা নেয় এক বৃহত্তর সত্য বোধে। কে নজরুল ? হিন্দু?মুসলমান ? খ্রিস্টান ? না,না এবং না.....তিনি মনুষ্যত্বের অতন্দ্র প্রহরী , মানবতার মরমিয়া সাধক। আজ তাঁর জন্মদিনে নতনিষ্ঠ প্রণাম।
23/05/2020
অভিশাপ
_কাজী নজরুল ইসলাম
যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুঁছবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
ছবি আমার বুকে বেধে
পাগল হয়ে কেঁদে কেঁদে
ফিরবে মরু কানন গিরি
সাগর আকাশ বাতাশ চিরি
সেদিন আমায় খুজবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
স্বপন ভেঙ্গে নিশুত রাতে, জাগবে হঠাৎ চমকে
কাহার যেন চেনা ছোয়ায় উঠবে ও-বুক ছমকে-
জাগবে হঠাৎ ছমকে,
ভাববে বুঝি আমিই এসে
বসনু বুকের কোলটি ঘেষে
ধরতে গিয়ে দেখবে যখন
শুন্য শয্যা মিথ্যা স্বপন
বেদনাতে চোখ বুজবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে
গাইতে গিয়ে কন্ঠ ছিড়ে আসবে যখন কান্না
বলবে সবাই- সেই যে পথিক তার শোনানো গান না?-
আসবে ভেঙ্গে কান্না,
পড়বে মন আমার সোহাগ
কন্ঠে তোমার কাদবে বেহাগ
পড়বে মনে আমার ফাকি
অশ্রুহারা কঠিন আখি
ঘন ঘন মুছবে,
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
আবার যেদিন শিউলী ফুলে ভরবে তোমার অঙ্গন
তুলতে সে ফুল গাথতে মালা, কাপবে তোমার কঙ্কণ
কাদবে কুটির অঙ্গন,
শিউলী ঢাকা মোর সমাধি
পড়বে মনে উঠবে কাদি
বুকের জ্বালা করবে মালা
চোখের জলে সেদিন বালা
মুখের হাসি ঘুচবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
আসবে আবার আশিন হাওয়া, শিশির ছেচা রাত্রি
থাকবে সবাই- থাকবে না এই মরন পথের যাত্রীই
আসবে শিশির রাত্রি,
থাকবে পাশে বন্ধু সুজন
থাকবে রাত বাহুর বাধন
বধুর বুকের পরশনে
আমার পরশ আনবে মনে
বিষিয়ে ও বুক উঠবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
আসবে তোমার শীতের রাতি, আসবে নাকো আর সে
তোমার সুখে পড়তো বাধা থাকলে যে জন পার্শ্বে
আসবে নাকো আর সে,
পড়বে মন মোর বাহুতে
মাথা থুয়ে যেদিন শুতে
মুখ ফিরিয়ে থাকতে ঘৃণায়
সেই স্মৃতি নিত বিছানায়
কাটা হয়ে ফুটবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
আবার গাঙ্গে আসবে জোয়ার, দুলবে তরী রঙ্গে
সেই তরীতে হয়তো কেহ থাকবে তোমার সঙ্গে
দুলবে তরী রঙ্গে,
পড়বে মনে সে কোন রাতে
এক তরীতে ছিলে সাথে
এমনি গাঙে ছিল জোয়ার
নদীর দুধার এমনি আধার
তেমনি তরী ছুটবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
তোমার সখার আসবে যেদিন এমনি কারা বন্ধ
আমার মত কেদে কেদে হয়তো হবে অন্ধ
সখার কারা বন্ধ,
বন্ধু তোমার হানবে হেলা
ভাঙ্গবে তোমার সুখের খেলা
দীর্ঘ লো কাটবে না আর
বইতে প্রাণ শ্রান্ত এ ভার
সরন মনে যুঝবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
ফুটবে আবার দোলন চাপা, চৈতি রাতের চাদনী
আকাশ ছাওয়া তারায় তারায় বাজবে আমার কাদনি
চৈতি রাতের চাদনী
ঋতুর পরে ফিরবে ঋতু
সেদিন হে-মোর সোহাগ ভীতু
চাইবে কেদে নীল নভোগায়
আমার মত চোখ ভরে চায়
যে তারা, তায় খুজবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
আসবে ঝড়ি, নাচবে তুফান টুটবে সকল বন্ধন
কাপবে কুটির সেদিন ত্রাসে, জাগবে বুকে ক্রন্দন
টুটবে যবে বন্ধন,
পড়বে মনে নেই সে সাথে
বাধতে বুকে দুঃখ রাতে-
আপনি গালে যাচবে চুমা
চাইবে আদর মাগবে ছোওয়া
আপনি যেচে চুমবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
আমার বুকের যে কাটা ঘা, তোমায় ব্যাথা হানত
সেই আঘাতই যাচবে আবার হয়তো হয়ে শ্রান্ত
আসব তখন পান্থ,
হয়তো তখন আমার কোলে
সোহাগ লোভে পড়বে ঢোলে
আপনি সেদিন সেধে-কেদে
চাপবে বুকে বাহুয় বেধে
চরন চুমে পূজবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
21/12/2019
ভারত আসলে কাদের?? ভারতের ইতিহাস শেষ পর্যন্ত পড়ুন!! ঘৌরি সাম্রাজ্য থেকে নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত,,,,,,,,,,,,,
1 = 1193 মোহাম্মদ ঘোরি
2 = 1206 কুতুবুদ্দিন আইবাক
3 = 1210 বাকি শাহ
4 = 1211
5 = 1236 রকিনউদ্দিন ফিরোজ শাহ
6 = 1236 রাজা সুলতান
7 = 1240 মোজাদ্দিন বাহরাম শাহ
8 = 1242 আল-দীন মাসউদ শাহ
9 = 1246 নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
10 = 1266 গিয়াসউদ্দিন বালবিন
11 = 1286 ..........
12 = 1287 মসজিদের কাবাদন
13 = 1290 শামসুদ্দিন কামার্স
মহান সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকার থেকে -97 বছর প্রায় দূরে।)
* সাম্রাজ্যের সাম্রাজ্য *
1 = 1290 জালালউদ্দিন ফিরোজ খিলজি
2 = 1292 ineশিক ধর্ম
4 = 1316 শাহাবুদ্দিন ওমর শাহ
5 = 1316 কুতুবুদ্দীন মোবারক শাহ
6 = 1320 নাসিরুদ্দিন খুসরো শাহ
খলজি সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকারী -30 বছর প্রায়)
* তুঘলক সাম্রাজ্য *
1 = 1320 গিয়াসউদ্দিন তুঘলক (প্রথম)
2 = 1325 মোহাম্মদ ইবনে তুঘলক (দ্বিতীয়)
3 = 1351 ফিরোজ শাহ তুঘলক
4 = 1388 গিয়াসউদ্দিন তুঘলক (দ্বিতীয়)
5 = 1389 আবু বকর শাহ
6 = 1389 মোহাম্মদ তুঘলক (সোম)
7 = 1394 .......... (আমি)
8 = 1394 নাসিরুদ্দিন শাহ (দ্বিতীয়)
9 = 1395 নুসরত শাহ
10 = 1399 নাসিরুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ (দ্বিতীয়)
11 = 1413 সরকার
তুঘলক সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকার -94 বছর প্রায় দূরে।)
* সা Saeedদ রাজবংশ *
1 = 1414 খেজুর খান
2 = 1421 মুইজউদ্দিন মোবারক শাহ (দ্বিতীয়)
3 = 1434 মুহাম্মদ শাহ (চতুর্থ)
4 = 1445 আল্লাহ আলম শাহ
সা'দ রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকারী -৩ 37 বছর প্রায়)
লোধি সাম্রাজ্য
1 = 1451 বাহলোল লোধি
2 = 1489 লোধি (দ্বিতীয়)
3 = 1517 আব্রাহাম লোধি
লোধি সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকারী-75 বছর প্রায়)
মুঘল সাম্রাজ্য
1 = 1526 জহিরউদ্দিন বাবর
2 = 1530 হুমায়ুন
মুঘল সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
সুরিয়ান সাম্রাজ্য
1 = 1539 শের শাহ সুরি
2 = 1545 ইসলাম শাহ সুরি
3 = 1552 মাহমুদ শাহ সুরি
4 = 1553 আব্রাহাম সুরি
5 = 1554 পারভেজ শাহ সুরি
6 = 1554 মোবারক খান সুরি
সুররিয়ান সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকারী -16 বছর প্রায়)
আবার মোগল সাম্রাজ্য
1 = 1555 হুমায়ুন (আবার)
2 = 1556 জালালউদ্দিন আকবর
3 = 1605 জাহাঙ্গীর স্লাম
4 = 1628 শাহ জাহান
5 = 1659 আওরঙ্গজেব
6 = 1707 শাহ আলম (প্রথম)
7 = 1712 বাহাদুর শাহ
8 = 1713 ফার্কুয়ারশিয়ার
9 = 1719 রিফাদ রজত
10 = 1719 ...............
11 = 1719 ...............
12 = 1719 মাহমুদ শাহ
13 = 1748 আহমেদ শাহ
14 = 1754 ...................
15 = 1759 শাহ আলম
16 = 1806 আকবর শাহ
17 = 1837 সাহসী কিং জাফর
মুঘল সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকারী -১১৫ বছর থেকে দূরে।)
* ব্রিটিশ রাজ *
1 = 1858 লর্ড কিং
2 = 1862 লর্ড জেমস ব্রুস এলগিন
3 = 1864 লর্ড জে লরেন্স
4 = 1869 লর্ড রিচার্ড মায়ো
5 = 1872 লর্ড নর্থবাক
6 = 1876 লর্ড এডওয়ার্ড ল্যাটিন
7 = 1880 লর্ড জর্জ রিপন
8 = 1884 লর্ড ডাফারিন
9 = 1888 লর্ড হ্যানি লেসডন
10 = 1894 লর্ড ভিক্টর ব্রুস এলগিন
11 = 1899 লর্ড জর্জ করজিয়ান
12 = 1905 লর্ড গিলবার্ট মিন্টো
13 = 1910 লর্ড চার্লস হার্ড্জ
14 = 1916 লর্ড ফ্রেডেরিক থেকে এক্সিকিউয়ারে
15 = 1921 লর্ড রাক্স আজাক রিদিগ
16 = 1926 লর্ড এডওয়ার্ড ইরউইন
17 = 1931 লর্ড ফারম্যান ওয়েলডন
18 = 1936 লর্ড আলেজান্দ্রা লিনলিথগো
19 = 1943 লর্ড অর্কিবল্ড হুইল
20 = 1947 লর্ড মাউন্ট ব্যাটন
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সমাপ্তি
ভারত, প্রধানমন্ত্রী
1 = 1947 জওহরলাল নেহেরু
2 = 1964 গোলজারি লাল নন্দ
3 = 1964 লাল বাহাদুর শাস্ত্রী
4 = 1966 গোলজারি লাল নন্দ
5 = 1966 ইন্দিরা গান্ধী
6 = 1977 মোরারজি দেশাই
7 = 1979 চরণ সিং
8 = 1980 ইন্দিরা গান্ধী
9 = 1984 রাজীব গান্ধী
10 = 1989 বিশ্বনাথ রিটার্নস
11 = 1990 চন্দ্রশেখর
12 = 1991 পি.ভি. নরসিমা রাও
13 = 1992 অটল বিহারী বাজপেয়ী
14 = 1996 চাদে গৌড়
15 = 1997 আই.কে. গুজরাল
16 = 1998 অটল বিহারী বাজপেয়ী
17 = 2004 মনমোহন সিং
18 = 2014 নরেন্দ্র মোদী
এক হাজার বছর,,, ,,,, মুসলিম শাসনে সবাইকে নিরাপদ রেখেছিল। আজ,,,,,,,,,,,,
অনেকের এ সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই - * = (ভারতের ইতিহাস)
03/09/2019
মীরসরাই সাহিত্য পরিষদ জাতীয় কবির স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ৭ই সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল ৪টায় মীরসরাই গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে। সকল সাহিত্যপ্রেমীর জন্য আমন্ত্রণ রইল।
05/02/2019
শঙ্খ ঘোষ পশ্চিম বঙ্গের একজন বিখ্যাত কবি। সুভাষ মুখোপাধ্যায়, জয় গোস্বামী প্রমুখের সাথে এক কাতারে যার নাম। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও একজন কবি। তবে বাংলাদেশে তিনি ঔপন্যাসিক হিসাবেই সমধিক পরিচিত। সেই শঙ্খ ঘোষ সেদিন ঢাকায় এসেছিলেন। ১ ফেব্রুয়ারি বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম অতিথি হিসাবে এ ধরণের উঁচু মাপের কবি সাহিত্যিকদের সম্মান দেওয়ার মধ্যে বাংলাদেশিদের চিত্তের উদারতা প্রকাশ পায়। সেই শঙ্খ ঘোষ বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘মেঘনা নদীর কুলে চাঁদপুর আমার জন্মভূমি। সন্ধ্যা নদীর কূলে বানারীপাড়ায় আমার পিতৃপিতামহের ভিটে, কীর্তনখোলা নদীর ধারে বরিশাল শহরে লালিত হয়েছি সাড়ে তিন বছর বয়স পর্যন্ত। আর গোটা স্কুল জীবনটা আমার কেটেছে পদ্মা নদীর পারে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন পাকশী নামের এক আশ্চর্য কলোনিতে।
১৫ বছর বয়সের পর জীবনে আরও ৭২ বছর আমার কাটল গঙ্গার কূলে যে কলকাতা শহরে- সেখান থেকে বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকায় এসেছি আমি, আপনাদের আহূত এক অতিথি হিসাবে। সম্মানবোধ করছি আমি তাই, কিন্তু সেই সঙ্গে একটা সংকোচও ছেয়ে যাচ্ছে মনে। যে দেশের হাওয়ায় মাটিতে জলে গোটা কৈশোরে কেটেছে, সেই দেশই তো আমার। ৭২ বছর ধরে প্রায় প্রতিমুহূর্তে সেই ১৫ বছরকেই তো ধারণ করে আছি আমি। তাই এটা আমারও দেশ। এখানে কি আমার অতিথি হয়ে আসা সাজে?’
শঙ্খ ঘোষের এই জবানি থেকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, তার জন্ম হয়েছে বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায়। এখানেই কেটেছে তার শৈশব। ১৫ বছর কেটেছে তার ঈশ্বরদীর পাকশীতে। তারপর তিনি চলে গেলেন ইন্ডিয়ায়, সম্ভবত তার অভিভাবকদের সাথে। কেন চলে গেলেন? এখানে থাকলে কি হতো? শঙ্খ ঘোষ আধুনিক কবিদের মধ্যে অত্যন্ত বড় মাপের কবি। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার কবিতা পছন্দ করি এবং পড়ি। সুভাষ মুখোপাধ্যায় এবং জয় গোস্বামীর কবিতাও আমি খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ি। ওদের দু তিনটা কবিতার বই আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে রয়েছে। সুভাষ এবং জয় গোস্বামী পশ্চিমবঙ্গ অর্থাৎ ভারতীয় বাংলায় জন্ম নিয়েছেন। সুভাষ সেখানকার আবহাওয়ায় বড় হয়েছেন এবং সেখানেই দেহত্যাগ করেছেন। জয় গোস্বামী সেখানেই আছেন এবং এখনও বুড়িয়ে যাননি।
কিন্তু সুনীল বাবুর বিষয়টা কি? অত্যন্ত বড় মাপের কথা সাহিত্যিক। বাংলাদেশে ‘প্রথম আলো’ নামে যে দৈনিক পত্রিকাটি রয়েছে সেটির নামও তো নেওয়া হয়েছে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস প্রথম আলো নাম থেকে। তিনিও জন্ম নিয়েছেন বাংলাদেশের ফরিদপুরে। অত্যন্ত উঁচুমানের কথা সাহিত্যিক। তার উপন্যাস এদেশে প্রচুর চলে। কিন্তু তিনি দেশ বিভাগের পর ভারতীয় বাংলায় চলে গেলেন। কেন গেলেন? এখানে থাকলে কি হতো? এখানে কি ঐ সব উপন্যাস লিখতে পারতেন না? আমাদের দেশে অনেক তথাকথিত প্রগতিবাদী বন্ধুর গর্ব করে বলতে শুনি, শঙ্খ ঘোষ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমাদেরই লোক। তো আমাদেরই লোক হলে আমাদের এখানে থেকে গেলেন না কেন?
বাংলাদেশে এক সময় শরৎচন্দ্রের উপন্যাস ঘরে ঘরে পঠিত হতো। আমার কাছেও শরৎ সমগ্র রয়েছে। তার পর আর একজনের বই তেমনি গ্রাম গঞ্জের ঘরে ঘরে দেখেছি। তিনি হলেন নজিবর রহমান সাহিত্য রত্ন। তার উপন্যাসের নাম ‘আনোয়ারা’। শরৎচন্দ্রের মতো অথবা তার চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের আরেক জন কথা সাহিত্যিক। তিনি হলেন হুমায়ুন আহমেদ। হুমায়ুন আহমেদের অন্তত ২ শ বই আমি কিনে পড়েছি। তবে এখন শ খানেক বই ঘরে রয়েছে। বাকিগুলো বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজন পড়ার নামে সেলফ থেকে সেই যে নিয়ে গেছে, আর ফেরত দেয়নি।
দুই
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, আমার মূল্যায়ন মতে, পশ্চিমবঙ্গের শ্রেষ্ঠ তিন কথাশিল্পীর অন্যতম। অপর দুই জন হলেন, সমরেশ মজুমদার ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তিনিও জন্ম নিয়েছেন এই বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। তারপর থাকলেন না। অন্যদের মতোই ইন্ডিয়াতে চলে গেলেন। কেন গেলেন? এখানে থাকলে কি হতো? এখানে বসে কি তার সেই বিপুল সাহিত্যকর্ম রচনা করা সম্ভব হতো না? নিশ্চয়ই হতো। বাংলাদেশে ‘মানব জমিন’ বলে ট্যাবলয়েড সাইজের যে একটি দৈনিক পত্রিকা রয়েছে সেই পত্রিকারটির নামও শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই উপন্যাসটি তো এদেশেও লেখা যেতো। সুভাষ মুখোপাধ্যায় যখন পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে বলেন এপার বাংলা আর ওপার বাংলা, তখন তিনি এপার বাংলা বলতে পশ্চিমবঙ্গকে বোঝান, আর ওপার বাংলা বলতে বাংলাদেশকে বোঝান। শঙ্খ ঘোষ সেদিন অর্থাৎ ১লা ফেব্রুয়ারি ঢাকার বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন, যেহেতু আমি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আছি তাই সুভাষের মতো আমিও বলবো, এপার বাংলা আর ওপার বাংলা। তবে পশ্চিমবঙ্গের লোক হয়েও আমি এই মুহূর্তে যখন ঢাকায় আছি তখন বলবো, এপার বাংলা আর ওপার বাংলা। তবে এখানে আছি বলে আমি এপার বাংলা বলতে বুঝবো বাংলাদেশ, আর ওপার বাংলা বলতে বুঝবো পশ্চিমবঙ্গ।
কার কথা বলবো, আর কার কথা বলবো না। এই যে মহানায়িকা সুচিত্রা সেন, তার জন্মও তো বাংলাদেশের পাবনায়। এই সেন পরিবার চৌদ্দ পুরুষ ধরে ঢাকায় বসবাস করেছেন। গেন্ডারিয়ায় ১৭ বিঘা জমি কিনে দীননাথ সেন একটি বাড়ি করেন। সেখানেই তিনি বাস করতেন। এখনও ঢাকার গেন্ডারিয়াতে দীননাথ সেনের নামে একটি রাস্তা রয়েছে। দীননাথ সেনের পুত্রের নাম আদিনাথ সেন। আদিনাথ সেন ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। সুচিত্রা সেন হলেন আদিনাথ সেনের পুত্রবধু। সেই সুবাদে ঢাকায় যে রাস্তাটির নাম দীননাথ সেন রোড সেই দীননাথ সেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের দাদা শ্বশুর। ভূবন মোহিনী রূপের অধিকারীনী সুচিত্রা সেন। রূপের ঝলকে বিয়ে করেন ধনাঢ্য ব্যক্তি ব্যারিষ্টার দীবানাথ সেনকে। সেই সুচিত্রা সেনও চলে গেলেন ইন্ডিয়াতে। এখানে থাকলেন না কেন? থাকলে কি হতো? অথচ আমরা অর্থাৎ বাংলাদেশিরা সুচিত্রা সেনকে নিয়ে গর্ব করি। পাবনাতে আজও যে বাড়িটি সুচিত্রা সেনদের ছিল, সরকার সেটি সযতে্ন রক্ষা করছেন। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে। সেটি হলো, ‘জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভাল’। ওপরে যাদের নাম আমি করলাম এদের সকলেরই জন্ম বাংলাদেশে। অথচ কর্ম কিন্তু সব পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে। তাহলে কোন দেশের নাম তারা উজ্জল করলেন? ভারতের নয় কি? অথচ, ওদের জন্ম বাংলাদেশে হয়েছিল বলে আমরা ওদেরকে নিয়ে নাচানাচি করি। এগুলো দেখে মনে পড়ে একটি ভারতীয় হিন্দি ছবির গানের একটি কলি, ‘বেগানা শাদি মে আব্দুল্লা দিওয়ানা’। আমাদের এই আদেখলাপনা আর মনে হয় কোনো দিন যাবে না।
তিন
আমরা কণ্ঠশিল্পী মিতালি মুখার্জিকে নিয়ে খুব নাচানাচি করি, গর্ববোধ করি। মিতালি মুখার্জির বিষয়টি কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। এই ভদ্রমহিলা জন্ম নিয়েছেন বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। বড় হয়েছেন এদেশে। এই দেশে গান করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। এদেশের একটি সিনেমার নাম ‘দুই পয়সার আলতা’। ঐ সিনেমায় তার কন্ঠে একটি গান রয়েছে। গানটির প্রথম লাইন, ‘এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই’। এই গানটি গেয়ে তিনি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। বাংলাদেশের সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক জগতে মিতালি মুখার্জি ছিলেন এক সন্মানীয়া ও শ্রদ্ধেয়া ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ তাকে সব দিয়েছে। অথচ, তিনি বিয়ে করলেন এক অবাঙ্গালী ভারতীয় হিন্দুকে। নাম ভুপেন্দর সিং। এখন তিনি স্বামীর সাথে ভারতের বোম্বাইয়ে বসবাস করছেন এবং সেখানে স্থায়ী হয়েছেন। তিনি ভারতীয় নাগরিকত্বও গ্রহণ করেছেন। খ্যাতি, অর্থ ও যশ সবকিছু পাওয়ার পরেও মিতালী কেন ভারতে গেলেন? কিসের টানে? কেন এখানে থাকলেন না? বাংলাদেশের ১ কোটি ৩৬ লক্ষ হিন্দুর মধ্যে বিয়ে করার মতো একজন হিন্দুকেও কি তিনি পেলেন না? পেলেন ভারতের এক গুজরাটি হিন্দুকে?
ওপরে যাদের নাম বললাম তারা ছাড়াও রয়েছেন আরও অনেকে যাদের জন্ম বাংলাদেশে কিন্তু পাড়ি জমিয়েছেন ভারতে। পশ্চিমবঙ্গ কমিউনিস্ট পার্টির শ্রেষ্ঠ নেতা জ্যোতিবসুর জন্মও এই ঢাকার সোনার গায়ের। তাই বলে তিনি কি বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করেছেন? নাকি ভারতের?
প্রগতিবাদীতা ভালো। অসাম্প্রদায়িকতা ভালো। তাই বলে প্রগতিবাদী আর অসাম্প্রদায়িক সাজার জন্য তথ্য এবং ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো রীতিমতো অপরাধ। সেই কাজটিই এখন চলছে। কেন এরা বাংলাদেশে জন্ম নিয়েও ভারতে গেছেন, সেটি আমাদের নিঃসংকোচে বলতে হবে। কোদাল কে কোদাল বলতে হবে।
চার
ইতিহাসকে কি রকম নিজের মতো করে সাজানো হচ্ছে সেটা দেখুন কলকাতার এক টেলিভিশন সিরিয়ালে। সিরিয়ালটির নাম ‘নেতাজি’। সিরিয়ালে দেখানো হচ্ছে বঙ্গভঙ্গ। আর সমগ্র সিরিয়ালটির ব্যাকগ্রাউন্ডে গাওয়া হচ্ছে ‘বন্দেমাতরম’ গানটি। অনেক জায়গাতেই বলা হয়েছে ব্রিটিশরা তাদের ভেদ নীতির স্বার্থে বঙ্গভঙ্গ করছে। তাই তার বিরুদ্ধে অনুশীলন সমিতির স্লোগান হলো বন্দেমাতরম। এখানে ইতিহাসের ফাঁকটি দেখুন। বঙ্কিচন্দ্রের আনন্দমঠ উপন্যাসটি মুদ্রিত হয় ১৮৯২ সালে। ঐ বইয়ে বন্দেমাতরম স্লোগানটি উচ্চারিত হয়। অথচ বঙ্গভঙ্গ হয় এই বইটি রচনার ১৩ বছর পর ১৯০৫ সালে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম হয় ১৮৯৭ সালে। তার মাত্র ৮ বছর পর বঙ্গভঙ্গ হয়। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার বয়স তখনও সুভাষচন্দ্রের হয়নি। অথচ এক শ্রেনীর ইন্ডিয়ান রাইটার এই সব প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বাংলাদেশেরও ঘুম ভাঙার সময় হয়েছে। আমাদের ইতিহাসও সঠিকভাবে লেখা হচ্ছে না। হাজার বছরের বাঙালী যদি আমাদের ঐতিহ্য হয় তাহলে তেমনি দেড় হাজার বছরের ইসলাম ও আমাদের ঐতিহ্য। বাংলাদেশের ইতিহাস কিন্তু ৫২ থেকে ৭১ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সঠিক ইতিহাস লিখতে হবে। অখন্ড বাংলার প্রতি যদি তাদের এতই দরদ থেকে থাকে তাহলে তারাই আবার ৪৭ সালে বাংলাকে দুই টুকরো করেছেন কেন? এসব অনেক কথাই আসবে। ভারত বিভক্তির জন্য মুসলমানদের দায়ী করা হয়। কিন্তু কংগ্রেস কেন ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান প্রত্যাখ্যান করলো? এসব কথা উঠবে। আমাদের দেশে আগামী ৫ বছর সক্রিয় রাজনীতি কিছুটা ছাই চাপা থাকবে। কিন্তু ১৯৪৭ এর আগে থেকে বাংলাদেশ বা বাংলার ইতিহাস প্রত্নতাত্বিক খননের মতো খুঁড়ে বের করার কাজ চলবে।
26/01/2018
ঐতিহাসিক প্রেমের উপন্যাস। মহারাজ শমশের গাজী ও দুর্গাদেবীর প্রেম, বিয়ে ও কিংবদন্তী। দুর্গাদেবীর জন্য কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরে রাণীমহল (তাজমহল) প্রতিষ্ঠা। ত্রিপুরা,কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম নিয়ে সমগ্র পূর্ববঙ্গের রাজত্ব লাভ। পলাশীর যুদ্ধে শমশের গাজীর বন্দীত্ব ও রংপুর কারাগারে ফাঁসিতে শহীদ। কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরে মহামতি শাহজালাল ইয়েমেনীর দরগার পাশে চিরনিদ্রায় শমশের গাজী। এসব তরতাজা কাহিনী পড়তে হলে একুশের বইমেলায় যোগাযোগ করুন ৬৬৬ নং স্টলে, দাঁড়িকমা প্রকাশনীর চত্তরে।
22/01/2018
অলঙ্কারশাস্ত্র
কবি হওয়ার প্রধান শর্তই হলো, তিনি যে ভাষার কবি সেই ভাষার প্রচলিত ছন্দ সম্পর্কে তাকে পরিষ্কার ধারনা রাখতে হবে। তিনি গদ্যে-পদ্যে যেকোনো পদ্ধতিতে কবিতার কাজ করলেও ছন্দ সম্পর্কে তার পূর্ণ ধারনা থাকতে হবে। জানতে হবে উপমা কী? অনুপ্রাস কীভাবে চরণের মধ্যে বয়ান করে অন্ত্যমিলে পৌঁছতে হয়। ভাষার সম্ভবপর মিল তার মনে এবং মস্তিষ্কে প্রতিনিয়ত গুঞ্জরিত হলেই কেবল অলঙ্কারশাস্ত্র কাউকে কবিত্বের অদৃশ্য মুকুট পরিয়ে দেয়।'
প্রত্যেক ছড়াকারই একেকজন কবি।
অলঙ্কারশাস্ত্র একজন কবিকে তার কবিত্বের অদৃশ্য মুকুট পরিয়ে দেয়? কী এই অলঙ্কারশাস্ত্র! যার এত ক্ষমতা? এই পর্বে আলোচনার বিষয় এটি। যেকোনো কবি-ছড়াকারের এই অলঙ্কারশাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমে জেনে নিই, অলঙ্কারশাস্ত্র কী?
অলঙ্কারের কথা বললেই মনে ভেসে ওঠে নারীদের গয়নাগাটির কথা। বিভিন্ন ধরণের অলঙ্কার নারীরা পরিধান করে থাকেন তাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য। যেমন- টিকলি, দুল, নথ, হার, বালা, বিছা, নূপুর ইত্যাদি। এগুলো পরার মাধ্যমে নারীদের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। ঠিক তেমনি, ছড়া-কবিতায় অলঙ্কারও। এটি লেখার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। সুতরাং, আমরা বলতে পারি, সৌন্দর্য বৃদ্ধির এককের নাম হচ্ছে অলঙ্কার। যেই শাস্ত্রে ছড়া-কবিতা তথা যেকোনো সাহিত্যের সৌন্দর্য নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করা হয় তাকেই অলংকারশাস্ত্র বলে।
ছড়া-কবিতায় অলঙ্কার দুই প্রকার।
ক) শব্দালঙ্কার;
খ) অর্থালঙ্কার;
ক. শব্দালঙ্কার-
শব্দকে কেন্দ্র করে যে অলঙ্কার গড়ে ওঠে তাকেই শব্দালঙ্কার বলে। শব্দালঙ্কার প্রধানত পাঁচ প্রকার-
০১। অনুপ্রাস
০২। যমক
০৩। শ্লেষ
০৪। বক্রোক্তি
০৫। পুনরুক্ত বদ্যভাস
০১. অনুপ্রাস-
একই শব্দধ্বনি একাধিকবার ব্যবহারের ফলে যে সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয় তাকেই অনুপ্রাস বলে। অনুপ্রাস ছয় প্রকার- অন্ত্যানুপ্রাস, বৃত্ত্যনুপ্রাস, ছেকানুপ্রাস, শ্রুত্যনুপ্রাস, আদ্যানুপ্রাস এবং মধ্যানুপ্রাস।
অন্ত্যানুপ্রাস-
ছড়া-কবিতার দু’টি চরণের শেষে যে শব্দধ্বনির মিল থাকে তাকেই অন্ত্যানুপ্রাস বলে। একে অন্ত্যমিলও বলা হয়ে থাকে।
যেমন-
'সারসপাখির তিনটে ছানা, বনের ঝোপে বাস,
খুব বেশি নয় বয়স তাদের দিন গড়িয়ে মাস।'
উক্ত লেখায় প্রথম চরণের শেষ শব্দ 'বাস'-র সাথে দ্বিতীয় চরণের শেষ শব্দ ‘মাস'-র যে ধ্বনিগত মিল দেয়া হয়েছে, সেটিই অন্ত্যানুপ্রাস বা অন্ত্যমিল।
বৃত্ত্যনুপ্রাস-
একটি বর্ণধ্বনি একাধিকবার ব্যবহারের ফলে যে সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয় তাকে বৃত্ত্যনুপ্রাস বলে। যেমন,
'পাখি পাকা পেপে খায়,
খেয়েদেয়ে গান গায়।'
উক্ত লেখায় প্রথম চরণে 'পাখি পাকা পেপে' অংশে প-বর্ণধ্বনি ৩ বার ব্যবহারের ফলে যে সৌন্দর্য তৈরি হয়েছে তা-ই বৃত্ত্যনুপ্রাস।
ছেকানুপ্রাস-
ছড়া-কবিতায় একটি শব্দধ্বনি একাধিকবার ব্যবহারের ফলে যে সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয় তাকে ছেকানুপ্রাস বলে।
যেমন-
'টিয়ে নাচে বিয়ে করে বৌয়ের গলায় গয়না,
হলদে নাচে ফল দে বলে বাসার ভেতর রয় না।'
উক্ত লেখার প্রথম চরণে 'টিয়ে নাচে বিয়ে করে' এবং দ্বিতীয় চরণে 'হলদে নাচে ফল দে বলে' এই দুটি স্থানে 'টিয়ে'-র সাথে 'বিয়ে'-র এবং 'হলদে'-র সাথে 'ফলদে'-র একাধিক শব্দধ্বনির মিলের ফলে যে সৌন্দর্য তৈরি হয়েছে তা-ই ছেকানুপ্রাস।
শ্রুত্যনুপ্রাস-
সমুচ্চারণের (প্রায় একই উচ্চারণের) বর্ণধ্বনি ব্যবহারের মাধ্যমে যে সৌন্দর্য তৈরি হয় তাকে শ্রুত্যনুপ্রাস বলে।
যেমন-
'তালের পাতায় ঝুলে থাকে বাবুইপাখির বাসা,
হলদে রোদের পরশ মেখে ফসল বোনে চাষা।'
উক্ত লেখার প্রথম চরণের শেষে 'বাসা' শব্দে 'স' ধ্বনি আছে, আবার দ্বিতীয় চরণের শেষে 'চাষা' শব্দে 'ষ' ধ্বনি আছে। দুটিই সমুচ্চারণ বর্ণধ্বনি। কিন্তু ব্যবহারের ফলে সৌন্দর্য বজায় থেকেছে। আর এটিই হচ্ছে শ্রুত্যনুপ্রাস।
আদ্যানুপ্রাস-
ছড়া-কবিতার শুরুর চরণের প্রথম শব্দটির সাথে পরবর্তী চরণের প্রথম শব্দটির যে ধ্বনিগত মিল তাকেই আদ্যানুপ্রাস বলে।
যেমন-
'বাহার আনো গুলশানে গুল
নাহার আনো আলো,
কে তোমাদের ভালো?'
উক্ত লেখায় প্রথম চরণের প্রথম শব্দ 'বাহার' এর সাথে পরবর্তী চরণের প্রথম শব্দ 'নাহার' এর যে ধ্বনিগত মিল রয়েছে, সেটিই আদ্যানুপ্রাস।
মধ্যানুপ্রাস-
সাধারণত ছড়া-কবিতার চরণের শব্দগুলোর মধ্যে বর্ণধ্বনিগত মিল থাকলে তাকে মধ্যানুপ্রাস বলে।
যেমন-
'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা।'
উক্ত লেখায় 'র' বর্ণধ্বনিটি কয়েকবার ব্যবহার হয়ে যে সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে, সেটিই মধ্যানুপ্রাস।
মোটামুটি এই হচ্ছে শব্দালঙ্কার অনুপ্রাসের আলোচনা।
এবার আসি শব্দালঙ্কার যমকে