শিঘ্রই আমরা পুরো বাংলাদেশ জুড়ে ব্যবসায় শাখার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আমাদের প্রতিষ্টান সেটাপের কাজ চলমান।
ইনশাআল্লাহ্ সকল শিক্ষার্থী উপকৃত হবে।
ধন্যবাদ-
কাজী জমিউল আলম
সিনিয়র শিক্ষক, বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
Google my education
একটি অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষামূলক ব্যবস্থা।
্বয়_দাখিলা
গতদিনের পার্ট ১ এ ছিল – বকেয়া আয়, বকেয়া ব্যয় এবং অবচয় সংক্রান্ত সমন্বয় দাখিলা। যারা যারা আগের দিনের পোস্ট টা দেখোনি তারা আগে ওইটা দেখে নাও। নাহলে এটা বুঝতে সমস্যা হবে।
আজকের পার্টে থাকবে – অগ্রিম আয়, অগ্রিম ব্যয় এবং সম্ভার সংক্রান্ত সমন্বয় দাখিলা।
প্রথমেই বলে দেই, এই পোস্টে আমি শুধু কন্সেপ্ট টা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এমন একটি কন্সেপ্ট, যেটি মাথায় ঢুকলে জীবনে কোনোদিনও কোনো সমন্বয় দাখিলার কোনো দিক নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা না বলে বিশ্বাস করি।
এবার মূল আলোচনায় আসি।
প্রথমেই বলে দেই। এখানে দুইধরনের দাখিলা নিয়ে ভাবতে হবে। একটা হচ্ছে প্রাথমিক দাখিলা এবং অপরটি হচ্ছে সমন্বয় দাখিলা। প্রাথমিক দাখিলা হচ্ছে কোনো লেনদেনের ফলে প্রাথমিকভাবে যে জাবেদা দেওয়া হয় যেমন বেতন হিসাব ডেবিট, নগদান হিসাব ক্রেডিট। আর সমন্বয় দাখিলা হচ্ছে উক্ত প্রাথমিক দাখিলাকে সমন্বিত করে নতুন করে দাখিলা দেওয়া যেমন অগ্রিম বেতন ডেবিট, বেতন হিসাব ক্রেডিট।
এখন কথা হচ্ছে, অগ্রিম আয় বা ব্যয় লিপিবদ্ধকরনের দুইটি নিয়ম আছে। তাই এগুলোর সমন্বয় দাখিলা দেওয়ার ও দুইটি নিয়ম আছে। একটি হচ্ছে স্বাভাবিক নিয়ম এবং অপরটি হচ্ছে ব্যতিক্রম নিয়ম। দুইটি নিয়মে দুইরকম প্রাথমিক দাখিলা হবে এবং দুই রকম সমন্বয় দাখিলা হবে। প্রশ্নে যদি বলা না থাকে যে কোন নিয়মে উত্তর করতে হবে বা দুইটা নিয়মের উত্তরই যদি প্রশ্নে দেওয়া থাকে তাহলে সবসময় আমরা স্বাভাবিক নিয়মের উত্তরে টিক দিব। এটা ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নাও।
এবার বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে নিচের কোনটি দ্বারা কি বোঝায় সেটি আগে দেখে নেই।
বেতন = খরচ
অগ্রিম বেতন = সম্পত্তি
ভাড়া আয় = আয়
অগ্রিম/ অনুপার্জিত ভাড়া আয় = দায়
সম্ভার/মনিহারী/ অব্যবহৃত মনিহারী = সম্পত্তি
সম্ভার খরচ/ ব্যবহৃত মনিহারী = খরচ
এখন প্রথমে #অগ্রিম_ব্যয় নিয়ে আলোচনা করি।
ধর, বলা আছে ৫০০ টাকার বেতন প্রদান করা হয়েছে।এখানে প্রাথমিকভাবে দুইরকম দাখিলা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। যেমনঃ-
প্রথমে #স্বাভাবিক_নিয়মটা দেখি।
স্বাভাবিকভাবে এই টাকাটাকে সম্পত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে-
অগ্রিম বেতন হিসাব ডেবিট (সম্পত্তি হিসেবে ধরে প্রথমেই সম্পত্তি বাড়িয়ে দেওয়া হলো।)
নগদান হিসাব ক্রেডিট। (সম্পত্তি কমছে)
এখন প্রশ্নে বলছে, উক্ত টাকার মধ্যে ২০০ টাকা পরবর্তি বছরের জন্য। তারমানে আমরা প্রথমেই ৫০০ টাকার অগ্রিম বেতন দিয়ে সম্পত্তি বাড়িয়ে ফেলেছি ৫০০ টাকা। কোনো খরচ লিপিবদ্ধ করিনি।কিন্তু আসল ব্যাপার টা হলো উক্ত সম্পত্তির মধ্যে ৩০০ টাকা এই বছরের খরচ আর বাকি ২০০ টাকাটা পরবর্তীও বছরের বছরের জন্য অর্থাৎ সম্পদ। তার মানে আমরা সম্পত্তি বেশী লিখেছি ৩০০ টাকা আর অন্যদিকে খরচ কম লিখেছি ৩০০ টাকা। তাইএখন আমরা খরচ টা কে ৩০০ টাকা বাড়ানোর জন্য এবং সম্পত্তিটাকে ৩০০ টাকা কমানোর জন্য প্রাথমিক দাখিলাকে সমন্বয় করে একটি সমন্বয় দাখিলা দিব। তা হবে এরকম-
বেতন হিসাব ডেবিট ..... ৩০০ (খরচ বেড়ে গেল)
অগ্রিম বেতন হিসাব ক্রেডিট ..... ৩০০(সম্পত্তি কমে গেল)
এখন চিন্তা করো, এই সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে বেতন নামক খরচ বেড়ে যাচ্ছে ৩০০ টাকা। খরচ বাড়লে মালিকানাস্বত্ব কমছে। তারমানে E হ্রাস পাচ্ছে। আবার অন্যদিকে অগ্রিম বেতন নামক সম্পত্তি কমে যাচ্ছে ৩০০ টাকা। তারমানে A কমে দাড়াচ্ছে। তাহলে মূল কথা হচ্ছে সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হলে OE হ্রাস পাবে/খরচ বাড়বে/মুনাফা কমবে সবই একই কথা এবং সম্পত্তি অর্থাৎ A কমে দাঁড়াবে।
তাহলে ভুলক্রমে সমন্বয় দাখিলা না দিলে কি হবে? সমন্বয় দাখিলা দিলে যেটা হতো সেটার উলটাটা হবে। তার মানে খরচ টা কে কম দেখানো হবে, খরচ কম দেখানো মানে মুনাফা ও মূলধন বেশী দেখানো হবে। অর্থাৎ E বেশী দেখানো হবে। আবার সম্পত্তি A টা বেশী দেখানো হবে।
প্রশ্নে দুইভাবেই থাকতে পারে,
প্রথমটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে কি হবে?
আর আরেকটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা না দেওয়া হলে কি হবে?
দুইটার উত্তর পুরাই উলটা। তাই প্রশ্নে খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে যে কী চেয়েছে।
এবার #ব্যতিক্রম_নিয়মটা দেখি।
ব্যতিক্রম নিয়মে এই টাকাটাকে প্রথমেই খরচ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়-
বেতন হিসাব ডেবিট (খরচ হিসেবে ধরে প্রথমেই খরচ বাড়িয়ে দেওয়া হলো।)
নগদান হিসাব ক্রেডিট। (সম্পত্তি কমছে)
এখন প্রশ্নে বলছে, উক্ত টাকার মধ্যে ২০০ টাকা পরবর্তি বছরের জন্য। তারমানে আমরা প্রথমেই ৫০০ টাকার বেতন দিয়ে খরচ বাড়িয়ে ফেলেছি ৫০০ টাকা। কোনো সম্পত্তি লিপিবদ্ধ করিনি।কিন্তু আসল ব্যাপার টা হলো উক্ত খরচের মধ্যে ৩০০ টাকা এই বছরের খরচ আর বাকি ২০০ টাকাটা পরবর্তী বছরের বছরের জন্য অর্থাৎ সম্পদ। তার মানে আমরা খরচ বেশী লিখেছি ২০০ টাকা আর অন্যদিকে সম্পত্তি কম লিখেছি ২০০ টাকা। তাই এখন আমরা সম্পত্তি টা কে ২০০ টাকা বাড়ানোর জন্য এবং খরচটাকে ২০০ টাকা কমানোর জন্য প্রাথমিক দাখিলাকে সমন্বয় করে একটি সমন্বয় দাখিলা দিব। তা হবে এরকম-
অগ্রিম বেতন হিসাব ডেবিট ..... ২০০ (সম্পত্তি বেড়ে গেল)
বেতন হিসাব ক্রেডিট ..... ২০০(খরচ কমে গেল)
এখন চিন্তা করো, এই সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে বেতন নামক খরচ কমে যাচ্ছে ২০০ টাকা। খরচ কমলে মুনাফা বাড়ছে এবং মালিকানাস্বত্ব বাড়ছে। তারমানে E বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার অন্যদিকে অগ্রিম বেতন নামক সম্পত্তি বেড়ে যাচ্ছে ২০০ টাকা। তারমানে A বেড়ে দাড়াচ্ছে।
তাহলে মূল কথা হচ্ছে সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হলে OE বৃদ্ধি পাবে/খরচ কমবে/মুনাফা বাড়বে সবই একই কথা এবং সম্পত্তি অর্থাৎ A বেড়ে দাঁড়াবে।
তাহলে ভুলক্রমে সমন্বয় দাখিলা না দিলে কি হবে? সমন্বয় দাখিলা দিলে যেটা হতো সেটার উলটাটা হবে। তার মানে খরচ টা কে বেশী দেখানো হবে, খরচ বেশী দেখানো মানে মুনাফা ও মূলধন কম দেখানো হবে। অর্থাৎ E কম দেখানো হবে। আবার সম্পত্তি A টা কম দেখানো হবে।
প্রশ্নে দুইভাবেই থাকতে পারে,
প্রথমটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে কি হবে?
আর আরেকটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা না দেওয়া হলে কি হবে?
দুইটার উত্তর পুরাই উলটা। তাই প্রশ্নে খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে যে কী চেয়েছে।
তাহলে আবার বলছি, অগ্রিম ব্যয়ের সমন্বয় জাবেদা বের করতে হলে আমরা আগে চিন্তা করবো এটিকে প্রাথমিক ভাবে কোন নিয়মে কি দাখিলা দেওয়া দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে কোনটি বেশী দেখানো হয়েছে এবং কোনটি কম দেখানো হয়েছে। এবার সঠিক জেরটি বের করতে হলে কোনটি ডেবিট হবে এবং কোনটী ক্রেডিট হবে এবং অগ্রিম ব্যয়ের সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হয়ে যাবে।
এখন চিন্তা করো, আমরা কখন বুঝবো যে এটা স্বাভাবিক নিয়মে হবে নাকি ব্যতিক্রম নিয়মে? যখন দেখবো প্রশ্নে অগ্রিম ব্যয়ের জের দেওয়া থাকবে (মানে সম্পত্তির) এবং সেখান থেকে আমরা খরচের সমন্বয় দিব। তারমানে এটি স্বাভাবিক নিয়ম। এতে খরচ বাড়বে আর সম্পত্তি কমবে।
আবার, যখন দেখবো প্রশ্নে ব্যয়ের জের দেওয়া থাকবে (মানে খরচের) এবং সেখান থেকে আমরা সম্পত্তির সমন্বয় দিব। তারমানে এটি ব্যতিক্রম নিয়ম। এতে খরচ কমবে আর সম্পত্তি বাড়বে।
এখন #অগ্রিম_আয় নিয়ে আলোচনা করি।
ধর, বলা আছে ৫০০ টাকার ভাড়া আয় পাওয়া গেল।এখানে প্রাথমিকভাবে দুইরকম দাখিলা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। যেমনঃ-
প্রথমে #স্বাভাবিক_নিয়মটা দেখি।
স্বাভাবিকভাবে এই টাকাটাকে দায় হিসেবে ধরে নিয়ে-
নগদান হিসাব ডেবিট। (সম্পত্তি বাড়ছে)
অনুপার্জিত/ অগ্রিম ভাড়া আয় হিসাব ক্রেডিট (দায় হিসেবে ধরে প্রথমেই দায় বাড়িয়ে দেওয়া হলো।)
এখন প্রশ্নে বলছে, উক্ত টাকার মধ্যে ২০০ টাকা পরবর্তি বছরের জন্য। তারমানে আমরা প্রথমেই ৫০০ টাকার অগ্রিম ভাড়া আয় দিয়ে দায় বাড়িয়ে ফেলেছি ৫০০ টাকা। কোনো আয় লিপিবদ্ধ করিনি।কিন্তু আসল ব্যাপার টা হলো উক্ত দায়ের মধ্যে ৩০০ টাকা এই বছরের আয় আর বাকি ২০০ টাকাটা পরবর্তী বছরের জন্য অর্থাৎ দায়। তার মানে আমরা দায় বেশী লিখেছি ৩০০ টাকা আর অন্যদিকে আয় কম লিখেছি ৩০০ টাকা। তাই এখন আমরা আয় টা কে ৩০০ টাকা বাড়ানোর জন্য এবং দায় টা কে ৩০০ টাকা কমানোর জন্য প্রাথমিক দাখিলাকে সমন্বয় করে একটি সমন্বয় দাখিলা দিব। তা হবে এরকম-
অগ্রিম ভাড়া আয় হিসাব ডেবিট ..... ৩০০ (দায় কমে গেল)
ভাড়া আয় হিসাব ক্রেডিট ..... ৩০০(আয় বেড়ে গেল)
এখন চিন্তা করো, এই সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে ভাড়া আয় নামক আয় বেড়ে যাচ্ছে ৩০০ টাকা। আয় বাড়লে মালিকানাস্বত্ব বাড়ছে। তারমানে E বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার অন্যদিকে অগ্রিম ভাড়া আয় নামক দায় কমে যাচ্ছে ৩০০ টাকা। তারমানে L কমে দাড়াচ্ছে। তাহলে মূল কথা হচ্ছে সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হলে OE বৃদ্ধি পাবে/আয় বাড়বে/মুনাফা বাড়বে সবই একই কথা এবং দায় অর্থাৎ L কমে দাঁড়াবে।
তাহলে ভুলক্রমে সমন্বয় দাখিলা না দিলে কি হবে? সমন্বয় দাখিলা দিলে যেটা হতো সেটার উলটা টা হবে। তার মানে আয় টা কে কম দেখানো হবে, আয় কম দেখানো মানে মুনাফা ও মূলধন কম দেখানো হবে। অর্থাৎ E কম দেখানো হবে। আবার দায় L টা বেশী দেখানো হবে।
প্রশ্নে দুইভাবেই থাকতে পারে,
প্রথমটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে কি হবে?
আর আরেকটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা না দেওয়া হলে কি হবে?
দুইটার উত্তর পুরাই উলটা। তাই প্রশ্নে খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে যে কী চেয়েছে।
এবার #ব্যতিক্রম_নিয়মটা দেখি।
ব্যতিক্রম নিয়মে এই টাকা টা কে প্রথমেই আয় হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়-
নগদান হিসাব ডেবিট। (সম্পত্তি বাড়ছে)
ভাড়া আয় হিসাব ক্রেডিট (আয় হিসেবে ধরে প্রথমেই আয় বাড়িয়ে দেওয়া হলো।)
এখন প্রশ্নে বলছে, উক্ত টাকার মধ্যে ২০০ টাকা পরবর্তি বছরের জন্য। তারমানে আমরা প্রথমেই ৫০০ টাকার ভাড়া আয় দিয়ে আয় বাড়িয়ে ফেলেছি ৫০০ টাকা। কোনো দায় লিপিবদ্ধ করিনি।কিন্তু আসল ব্যাপার টা হলো উক্ত আয়ের মধ্যে ৩০০ টাকা এই বছরের আয় আর বাকি ২০০ টাকাটা পরবর্তী বছরের বছরের জন্য অর্থাৎ দায়। তার মানে আমরা আয় বেশী লিখেছি ২০০ টাকা আর অন্যদিকে দায় কম লিখেছি ২০০ টাকা। তাই এখন আমরা দায় টা কে ২০০ টাকা বাড়ানোর জন্য এবং আয় টা কে ২০০ টাকা কমানোর জন্য প্রাথমিক দাখিলাকে সমন্বয় করে একটি সমন্বয় দাখিলা দিব। তা হবে এরকম-
ভাড়া আয় হিসাব ডেবিট ..... ২০০ (আয় কমে গেল)
অগ্রিম ভাড়া আয় হিসাব ক্রেডিট ..... ২০০(দায় বেড়ে গেল)
এখন চিন্তা করো, এই সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে ভাড়া আয় নামক আয় কমে যাচ্ছে ২০০ টাকা। আয় কমলে মুনাফা কমছে এবং মালিকানাস্বত্ব কমছে। তারমানে E হ্রাস পাচ্ছে। আবার অন্যদিকে অগ্রিম ভাড়া আয় নামক দায় বেড়ে যাচ্ছে ২০০ টাকা। তারমানে L বেড়ে দাড়াচ্ছে।
তাহলে মূল কথা হচ্ছে সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হলে OE হ্রাস পাবে/আয় কমবে/মুনাফা কমবে সবই একই কথা এবং দায় অর্থাৎ L বেড়ে দাঁড়াবে।
তাহলে ভুলক্রমে সমন্বয় দাখিলা না দিলে কি হবে? সমন্বয় দাখিলা দিলে যেটা হতো সেটার উলটাটা হবে। তার মানে আয় টা কে বেশী দেখানো হবে, আয় বেশী দেখানো মানে মুনাফা ও মূলধন বেশী দেখানো হবে। অর্থাৎ E বেশী দেখানো হবে। আবার দায় L টা কম দেখানো হবে।
প্রশ্নে দুইভাবেই থাকতে পারে,
প্রথমটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে কি হবে?
আর আরেকটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা না দেওয়া হলে কি হবে?
দুইটার উত্তর পুরাই উলটা। তাই প্রশ্নে খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে যে কী চেয়েছে।
তাহলে আবার বলছি, অগ্রিম আয়ের সমন্বয় জাবেদা বের করতে হলে আমরা আগে চিন্তা করবো এটিকে প্রাথমিক ভাবে কোন নিয়মে কি দাখিলা দেওয়া দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে কোনটি বেশী দেখানো হয়েছে এবং কোনটি কম দেখানো হয়েছে। এবার সঠিক জেরটি বের করতে হলে কোনটি ডেবিট হবে এবং কোনটী ক্রেডিট হবে এবং এভাবে অগ্রিম আয়ের সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হয়ে যাবে।
এখন চিন্তা করো, আমরা কখন বুঝবো যে এটা স্বাভাবিক নিয়মে হবে নাকি ব্যতিক্রম নিয়মে?
যখন দেখবো প্রশ্নে অগ্রিম আয়ের জের দেওয়া থাকবে (মানে দায়ের) এবং সেখান থেকে আমরা আয়ের সমন্বয় দিব। তারমানে এটি স্বাভাবিক নিয়ম। এতে আয় বাড়বে আর দায় কমবে।
আবার, যখন দেখবো প্রশ্নে আয়ের জের দেওয়া থাকবে এবং সেখান থেকে আমরা দায়ের সমন্বয় দিব। তারমানে এটি ব্যতিক্রম নিয়ম। এতে আয় কমবে আর দায় বাড়বে।
এখন #সম্ভার নিয়ে আলোচনা করি।
ধর, বলা আছে ৫০০ টাকার সম্ভার ক্রয় করা হয়েছে।এখানে প্রাথমিকভাবে দুইরকম দাখিলা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। যেমনঃ-
প্রথমে #স্বাভাবিক_নিয়মটা দেখি।
স্বাভাবিকভাবে এই টাকাটাকে সম্পত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে-
সম্ভার হিসাব ডেবিট (সম্পত্তি হিসেবে ধরে প্রথমেই সম্পত্তি বাড়িয়ে দেওয়া হলো।)
নগদান হিসাব ক্রেডিট (সম্পত্তি কমছে)
এখন প্রশ্নে বলছে, উক্ত টাকার মধ্যে ২০০ টাকা পরবর্তি বছরের জন্য যা অব্যবহৃত আছে। তারমানে আমরা প্রথমেই ৫০০ টাকার সম্ভার হিসাবে দিয়ে সম্পত্তি বাড়িয়ে ফেলেছি ৫০০ টাকা। কোনো খরচ লিপিবদ্ধ করিনি।কিন্তু আসল ব্যাপার টা হলো উক্ত সম্পত্তির মধ্যে ৩০০ টাকা এই বছরের খরচ অর্থাৎ তা ব্যবহার হয়ে গেছে। আর বাকি ২০০ টাকাটা পরবর্তীও বছরের বছরের জন্য অর্থাৎ সম্পদ যা অব্যবহৃত আছে। তার মানে আমরা সম্পত্তি বেশী লিখেছি ৩০০ টাকা আর অন্যদিকে খরচ কম লিখেছি ৩০০ টাকা। তাইএখন আমরা খরচ টা কে ৩০০ টাকা বাড়ানোর জন্য এবং সম্পত্তিটাকে ৩০০ টাকা কমানোর জন্য প্রাথমিক দাখিলাকে সমন্বয় করে একটি সমন্বয় দাখিলা দিব। তা হবে এরকম-
সম্ভার খরচ হিসাব ডেবিট ..... ৩০০ (খরচ বেড়ে গেল)
সম্ভার হিসাব ক্রেডিট ..... ৩০০(সম্পত্তি কমে গেল)
এখন চিন্তা করো, এই সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে সম্ভার খরচ নামক খরচ বেড়ে যাচ্ছে ৩০০ টাকা। খরচ বাড়লে মালিকানাস্বত্ব কমছে। তারমানে E হ্রাস পাচ্ছে। আবার অন্যদিকে সম্ভার নামক সম্পত্তি কমে যাচ্ছে ৩০০ টাকা। তারমানে A কমে দাড়াচ্ছে।
তাহলে মূল কথা হচ্ছে সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হলে OE হ্রাস পাবে/খরচ বাড়বে/মুনাফা কমবে সবই একই কথা এবং সম্পত্তি অর্থাৎ A কমে দাঁড়াবে।
তাহলে ভুলক্রমে সমন্বয় দাখিলা না দিলে কি হবে? সমন্বয় দাখিলা দিলে যেটা হতো সেটার উলটাটা হবে। তার মানে খরচ টা কে কম দেখানো হবে, খরচ কম দেখানো মানে মুনাফা ও মূলধন বেশী দেখানো হবে। অর্থাৎ E বেশী দেখানো হবে। আবার সম্পত্তি A টা বেশী দেখানো হবে।
প্রশ্নে দুইভাবেই থাকতে পারে,
প্রথমটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে কি হবে?
আর আরেকটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা না দেওয়া হলে কি হবে?
দুইটার উত্তর পুরাই উলটা। তাই প্রশ্নে খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে যে কী চেয়েছে।
এবার #ব্যতিক্রম_নিয়মটা দেখি।
ব্যতিক্রম নিয়মে এই টাকাটাকে প্রথমেই খরচ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়-
সম্ভার খরচ হিসাব ডেবিট (খরচ হিসেবে ধরে প্রথমেই খরচ বাড়িয়ে দেওয়া হলো।)
নগদান হিসাব ক্রেডিট। (সম্পত্তি কমছে)
এখন প্রশ্নে বলছে, উক্ত টাকার মধ্যে ২০০ টাকা পরবর্তি বছরের জন্য। তারমানে আমরা প্রথমেই ৫০০ টাকার সম্ভার খরচ হিসাবে দিয়ে খরচ বাড়িয়ে ফেলেছি ৫০০ টাকা। কোনো সম্পত্তি লিপিবদ্ধ করিনি।কিন্তু আসল ব্যাপার টা হলো উক্ত খরচের মধ্যে ৩০০ টাকা এই বছরের খরচ অর্থাৎ তা ব্যবহৃত হয়েছে আর বাকি ২০০ টাকাটা পরবর্তী বছরের বছরের জন্য অর্থাৎ সম্পদ যা অব্যবহৃত আছে। তার মানে আমরা খরচ বেশী লিখেছি ২০০ টাকা আর অন্যদিকে সম্পত্তি কম লিখেছি ২০০ টাকা। তাই এখন আমরা সম্পত্তি টা কে ২০০ টাকা বাড়ানোর জন্য এবং খরচটাকে ২০০ টাকা কমানোর জন্য প্রাথমিক দাখিলাকে সমন্বয় করে একটি সমন্বয় দাখিলা দিব। তা হবে এরকম-
সম্ভার হিসাব ডেবিট ..... ২০০ (সম্পত্তি বেড়ে গেল)
সম্ভার খরচ হিসাব ক্রেডিট ..... ২০০(খরচ কমে গেল)
এখন চিন্তা করো, এই সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে সম্ভার খরচ নামক খরচ কমে যাচ্ছে ২০০ টাকা। খরচ কমলে মুনাফা বাড়ছে এবং মালিকানাস্বত্ব বাড়ছে। তারমানে E বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার অন্যদিকে সম্ভার নামক সম্পত্তি বেড়ে যাচ্ছে ২০০ টাকা। তারমানে A বেড়ে দাড়াচ্ছে।
তাহলে মূল কথা হচ্ছে সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হলে OE বৃদ্ধি পাবে/খরচ কমবে/মুনাফা বাড়বে সবই একই কথা এবং সম্পত্তি অর্থাৎ A বেড়ে দাঁড়াবে।
তাহলে ভুলক্রমে সমন্বয় দাখিলা না দিলে কি হবে? সমন্বয় দাখিলা দিলে যেটা হতো সেটার উলটাটা হবে। তার মানে খরচ টা কে বেশী দেখানো হবে, খরচ বেশী দেখানো মানে মুনাফা ও মূলধন কম দেখানো হবে। অর্থাৎ E কম দেখানো হবে। আবার সম্পত্তি A টা কম দেখানো হবে।
প্রশ্নে দুইভাবেই থাকতে পারে,
প্রথমটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে কি হবে?
আর আরেকটি হচ্ছে সমন্বয় জাবেদা না দেওয়া হলে কি হবে?
দুইটার উত্তর পুরাই উলটা। তাই প্রশ্নে খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে যে কী চেয়েছে।
তাহলে আবার বলছি, সম্ভারের সমন্বয় জাবেদা বের করতে হলে আমরা আগে চিন্তা করবো এটিকে প্রাথমিক ভাবে কোন নিয়মে কি দাখিলা দেওয়া দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে কোনটি বেশী দেখানো হয়েছে এবং কোনটি কম দেখানো হয়েছে। এবার সঠিক জেরটি বের করতে হলে কোনটি ডেবিট হবে এবং কোনটী ক্রেডিট হবে এবং সম্ভারের সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হয়ে যাবে।
এখন চিন্তা করো, আমরা কখন বুঝবো যে এটা স্বাভাবিক নিয়মে হবে নাকি ব্যতিক্রম নিয়মে? যখন দেখবো প্রশ্নে সম্ভারের জের দেওয়া থাকবে (মানে সম্পত্তির) এবং সেখান থেকে আমরা খরচের সমন্বয় দিব। তারমানে এটি স্বাভাবিক নিয়ম। এতে খরচ বাড়বে আর সম্পত্তি কমবে।
আবার, যখন দেখবো প্রশ্নে সম্ভার খরচের জের দেওয়া থাকবে (মানে খরচের) এবং সেখান থেকে আমরা সম্পত্তির সমন্বয় দিব। তারমানে এটি ব্যতিক্রম নিয়ম। এতে খরচ কমবে আর সম্পত্তি বাড়বে।
এই ছিল মোটামোটি সমন্বয় দাখিলা।
#শুভকামনা
Md. Wasif Azim
BBA, Department of Accounting and Information Systems,
Faculty of Business Studies,
University of Dhaka
Co- Founder & General Secretary,
Secondary and Intermediate Level Student’s Welfare Association – SILSWA
18/12/2024
এইচএসসি “হিসাববিজ্ঞান” প্রথম পত্রের সকর পোষ্টের লিংক একসাথে এখানে। হুদা সময় নষ্ট না করে এখান থেকে তোমার কাঙ্খিত বিষয়বস্তুর খুঁজ নাও দ্রুতই। পোষ্ট আপলোডের পর এখানে সিরিয়ালে তারিখ সহ আপডেট করে দেওয়া হবে।
19-12-2024
Concept on সমন্বয় দাখিলা ||| Part 1
https://www.facebook.com/share/p/WfMLffndHUvoJyfJ/
19-12-2024
Concept on সমন্বয় দাখিলা ||| Part 2
https://www.facebook.com/share/p/oaierWzTUJ9RhnDq/
Updating...
্বয়_দাখিলা
এখানে প্রধানত দুইটা পার্ট আছে। একটা হচ্ছে বকেয়াসমূহ যেমন বকেয়া আয়, বকেয়া ব্যয় আর আরেকটা হচ্ছে অগ্রিমসমূহ যেমন অগ্রিম আয়, অগ্রিম ব্যয়। এছাড়াও আছে সম্ভার ও অবচয় সংক্রান্ত সমন্বয় দাখিলা।এতোগুলো বিষয় একটি পোস্টে কোনোভাবেই কভার করা সম্ভব না। তাই মোট দুইটি পোস্টে কভার করবো।
আজকের পার্টে থাকবে – বকেয়া আয়, বকেয়া ব্যয় এবং অবচয় সংক্রান্ত
সোমবারের পার্টে থাকবে – অগ্রিম আয়, অগ্রিম ব্যয় এবং সম্ভার সংক্রান্ত
প্রথমেই বলে দেই, এই পোস্টে আমি শুধু কন্সেপ্ট টা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এমন একটি কন্সেপ্ট, যেটি মাথায় ঢুকলে জীবনে কোনোদিনও কোনো সমন্বয় দাখিলার কোনো দিক নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা না বলে বিশ্বাস করি।
এবার মূল আলোচনায় আসি।
সমন্বয় দাখিলার সাথে HSC তে আমরা যে আর্থিক বিবরণী করেছিলাম সেটার একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে। এখানে আমরা প্রতিটি এন্ট্রির জন্য বা প্রশ্নের জন্য প্রথমেই চিন্তা করবো যে এটি যদি আর্থিক বিবরণী হতো তাহলে আমরা এখানে কি করতাম।
যেমন ধর, প্রশ্নে বলা আছে বছর শেষে ৫০০ টাকার বেতন বাকি আছে। এটির সমন্বয় দাখিলা কোনটি?
এখন চিন্তা করো, এটাকে আর্থিক বিবরণীতে আমরা কি করতাম? বেতন দেওয়া থাকলে আমরা আয় বিবরণীতে বেতনের সাথে যোগ করতাম ৫০০ টাকা আর আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে দায় হিসাবে বকেয়া বেতন লিখতাম ৫০০ টাকা। যার ফলে বেতন খরচ বেড়ে যেত এবং বকেয়া বেতন নামক দায় বেড়ে যেত। অর্থাৎ জাবেদাটি হতোঃ
বেতন হিসাব ----ডেবিট (খরচ বাড়ছে)
বকেয়া বেতন হিসাব ----ক্রেডিট (দায় বাড়ছে)
প্রথমে বকেয়া ব্যয় নিয়ে আলোচনা করিঃ
উপরের উদাহারণটা নিয়ে চিন্তা করি, বছর শেষে বেতন বকেয়া আছে ৫০০ টাকা। তারমানে যে বেতনটা এই বছরে দেওয়ার কথা সেটা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। এটার সমন্বয় জাবেদা হবে বেতন ডেবিট, বকেয়া বেতন ক্রেডিট। কেন এরকম জাবেদা হচ্ছে সেটাও বলে দিয়েছি উপরেই। তাহলে এবার চিন্তা করি।
সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে বেতন নামক খরচ বেড়ে যাচ্ছে। খরচ বাড়লে মালিকানাস্বত্ব কমছে। তারমানে E হ্রাস পাচ্ছে। আবার বকেয়া বেতন নামক দায় বেড়ে যাচ্ছে। তারমানে L বেড়ে দাড়াচ্ছে। তাহলে মূল কথা হচ্ছে সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হলে OE হ্রাস পাবে/খরচ বড়বে/মুনাফা কম দেখানো হবে সবই একই কথা এবং দায় অর্থাৎ L বেড়ে দাঁড়াবে।
তাহলে ভুলক্রমে সমন্বয় দাখিলা না দিলে কি হবে? সমন্বয় দাখিলা দিলে যেটা হতো সেটার উলটাটা হবে। তার মানে খরচ টা কে কম দেখানো হবে, খরচ কম দেখানো মানে মুনাফা ও মূলধন বেশী দেখানো হবে। অর্থাৎ E বেশী দেখানো হবে। আবার দায় L টা কম দেখানো হবে।
প্রশ্নে দুইভাবেই থাকতে পারে,
প্রথমটি হচ্ছে ৫০০ টাকা বকেয়া বেতনের সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে কি হবে?
আর আরেকটি হচ্ছে ৫০০ টাকা বকেয়া বেতনের সমন্বয় জাবেদা না দেওয়া হলে কি হবে?
দুইটার উত্তর পুরাই উলটা। তাই প্রশ্নে খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে যে কী চেয়েছে।
তাহলে আবার বলছি, বকেয়া ব্যয়ের সমন্বয় জাবেদা বের করতে হলে আমরা আগে চিন্তা করবো এটি যদি আর্থিক বিবরণী হতো তাহলে আমরা এখানে কি করতাম এবং সেই অনুযায়ী উপরের নিয়মে জাবেদা টা সাজাবো। একবার জাবেদা দেওয়া হয়ে গেলে আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারবো যে এই জাবেদার কারণে কোথায় কেমন প্রভাব পড়ছে।
এভাবেই প্রতিটি বকেয়া ব্যয়ের সমন্বয় জাবেদা বের করা সম্ভব, এবং সেটার ফলে কেমন প্রভাব পড়বে এবং সেই দাখিলাটা না দেওয়া হলে কেমন প্রভাব পড়বে সেটাও জানা সম্ভব।
এবার বকেয়া আয় নিয়ে আলোচনা করিঃ
প্রশ্নে বলা আছে, বছর শেষে ৫০০ টাকার ভাড়া আয় বাকি আছে। এটির সমন্বয় দাখিলা কোনটি?
এখন চিন্তা করো, এটাকে আর্থিক বিবরণীতে আমরা কি করতাম? ভাড়া আয় দেওয়া থাকলে আমরা আয় বিবরণীতে ভাড়া আয়ের সাথে যোগ করতাম ৫০০ টাকা আর আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে সম্পত্তির দিকে প্রাপ্য ভাড়া আয় লিখতাম ৫০০ টাকা। যার ফলে ভাড়া আয় বেড়ে যেত এবং প্রাপ্য ভাড়া আয় নামক সম্পত্তি বেড়ে যেত। অর্থাৎ জাবেদাটি হতোঃ
প্রাপ্য ভাড়া আয় ---- ডেবিট (সম্পত্তি বাড়ছে)
ভাড়া আয় ---- ক্রেডিট (আয় বাড়ছে)
আবার, চিন্তা করি, বছর শেষে ভাড়া আয় প্রাপ্য আছে ৫০০ টাকা। তারমানে যে ভাড়া আয় টা এই বছরে পাওয়ার কথা সেটা এখনও পাওয়া যায়নি। এটার সমন্বয় জাবেদা হবে প্রাপ্য ভাড়া আয় ডেবিট, ভাড়া আয় ক্রেডিট। কেন এরকম জাবেদা হচ্ছে সেটাও বলে দিয়েছি উপরেই। তাহলে এবার চিন্তা করি।
সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে ভাড়া আয় নামক আয় বেড়ে যাচ্ছে। আয় বাড়লে মুনাফা বাড়ছে এবং মালিকানাস্বত্বও বাড়ছে। তারমানে E বাড়ছে। আবার প্রাপ্য ভাড়া আয় নামক সম্পত্তি বেড়ে যাচ্ছে। তারমানে A বেড়ে দাড়াচ্ছে। তাহলে মূল কথা হচ্ছে সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হলে OE বাড়বে/আয় বড়বে/মালিকানাস্বত্ব বাড়বে সবই একই কথা এবং সম্পত্তি বা A বেড়ে দাঁড়াবে।
তাহলে ভুলক্রমে সমন্বয় দাখিলা না দিলে কি হবে? সমন্বয় দাখিলা দিলে যেটা হতো সেটার উলটাটা হবে। তার মানে আয় টা কে কম দেখানো হবে, আয় কম দেখানো মানে মুনাফা ও মূলধন কম দেখানো হবে। অর্থাৎ E কম দেখানো হবে। আবার সম্পত্তি অর্থাৎ A টাও কম দেখানো হবে।
আবারও মনে করিয়ে দেই, প্রশ্নে দুইভাবেই থাকতে পারে,
প্রথমটি হচ্ছে ৫০০ টাকা প্রাপ্য ভাড়া আয়ের সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে কি হবে?
আর আরেকটি হচ্ছে ৫০০ টাকা প্রাপ্য ভাড়া আয়ের সমন্বয় জাবেদা না দেওয়া হলে কি হবে?
দুইটার উত্তর পুরাই উলটা। তাই প্রশ্নে খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে যে কী চেয়েছে।
তাহলে আবার বলছি, বকেয়া/প্রাপ্য আয়ের সমন্বয় জাবেদা বের করতে হলে আমরা আগে চিন্তা করবো এটি যদি আর্থিক বিবরণী হতো তাহলে আমরা এখানে কি করতাম এবং সেই অনুযায়ী উপরের নিয়মে জাবেদা টা সাজাবো। একবার জাবেদা দেওয়া হয়ে গেলে আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারবো যে এই জাবেদার কারণে কোথায় কেমন প্রভাব পড়ছে।
এভাবেই প্রতিটি বকেয়া/প্রাপ্য আয়ের সমন্বয় জাবেদা বের করা সম্ভব, এবং সেটার ফলে কেমন প্রভাব পড়বে এবং সেই দাখিলাটা না দেওয়া হলে কেমন প্রভাব পড়বে সেটাও জানা সম্ভব।
এবার অবচয় খরচ নিয়ে আলোচনা করিঃ
তার আগে সবাইকে জানিয়েন দেই, পুঞ্জিভূত অবচয় একটি বিপরীত সম্পত্তিবাচক হিসাব। এটি কোনো দায় হিসাব না। পুঞ্জিভূত অবচয় যত বাড়ে, সম্পত্তির পরিমান ততোই কমে কারন এটাকে সম্পত্তি থেকে বাদ দিয়ে দেখাতে হয়। এজন্যই এটা বিপরীত সম্পত্তিবাচক হিসাব।
মনে করি বলা আছে, বছর শেষে আসবাবপত্রের ওপর ৫০০ টাকার অবচয় ধার্য করা হয়েছে। এটির সমন্বয় দাখিলা কোনটি?
এখন চিন্তা করো, এটাকে আর্থিক বিবরণীতে আমরা কি করতাম? আমরা আয় বিবরণীতে খরচের দিকে অবচয় হিসেবে যোগ করতাম ৫০০ টাকা আর আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে আসবাবপত্র নামক সম্পত্তি থেকে পুঞ্জিভূত অবচয় বাদ দিতাম ৫০০ টাকা। যার ফলে অবচয় খরচ বেড়ে যেত এবং পুঞ্জিভূত অবচয় নামক বিপরীত সম্পত্তি বেড়ে যেত এবং এর কারনে আসবাবপত্র নামক সম্পত্তিটি কমে যেত । অর্থাৎ জাবেদাটি হতোঃ
অবচয় খরচ ---- ডেবিট (খরচ বাড়ছে)
পুঞ্জিভূত অবচয় ---- ক্রেডিট (বিপরীত সম্পত্তি বাড়ছে)
আবার, চিন্তা করি, সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে অবচয় নামক খরচ বেড়ে যাচ্ছে। খরচ বাড়লে মুনাফা কমছে এবং মালিকানাস্বত্বও কমছে। তারমানে E কমছে। আবার পুঞ্জিভূত অবচয় নামক বিপরীত সম্পত্তি বেড়ে যাচ্ছে এবং এর ফলে আসবাবপত্র নামক সম্পত্তি কমে যাচ্ছে। তারমানে A কমছে। তাহলে মূল কথা হচ্ছে এই সমন্বয় দাখিলা দেওয়া হলে OE কমবে/খরচ বড়বে/মালিকানাস্বত্ব কমবে/ মুনাফা কমবে সবই একই কথা এবং সম্পত্তি বা A কমবে।
তাহলে ভুলক্রমে সমন্বয় দাখিলা না দিলে কি হবে? সমন্বয় দাখিলা দিলে যেটা হতো সেটার উলটাটা হবে। তার মানে খরচ টা কে কম দেখানো হবে, খরচ কম দেখানো মানে মুনাফা ও মূলধন বেশী দেখানো হবে। অর্থাৎ E টা বেশী দেখানো হবে। আবার সম্পত্তি অর্থাৎ A টাও বেশী দেখানো হবে।
আবারও মনে করিয়ে দেই, প্রশ্নে দুইভাবেই থাকতে পারে,
প্রথমটি হচ্ছে ৫০০ টাকা অবচয় খরচের সমন্বয় জাবেদা দেওয়া হলে কি হবে?
আর আরেকটি হচ্ছে ৫০০ টাকা অবচয় খরচের সমন্বয় জাবেদা না দেওয়া হলে কি হবে?
দুইটার উত্তর পুরাই উলটা। তাই #প্রশ্নে_খুব_ভালোভাবে_খেয়াল_করতে_হবে যে কী চেয়েছে।
তাহলে আবার বলছি, অবচয় খরচের সমন্বয় জাবেদা বের করতে হলে আমরা আগে চিন্তা করবো এটি যদি আর্থিক বিবরণী হতো তাহলে আমরা এখানে কি করতাম এবং সেই অনুযায়ী উপরের নিয়মে জাবেদা টা সাজাবো। একবার জাবেদা দেওয়া হয়ে গেলে আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারবো যে এই জাবেদার কারণে কোথায় কেমন প্রভাব পড়ছে।
#মেনশন & #শেয়ার
#শুভকামনা
Md. Wasif Azim
BBA, Dept of Accounting and Information Systems,
Faculty of Business Studies,
University of Dhaka
Co- Founder and General Secretary,
Secondary and Intermediate Level Students' Welfare Association - SILSWA
18/12/2024
এইচএসসি “ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা” প্রথম পত্রের সকর পোষ্টের লিংক একসাথে এখানে। হুদা সময় নষ্ট না করে এখান থেকে তোমার কাঙ্খিত বিষয়বস্তুর খুঁজ নাও দ্রুতই। পোষ্ট আপলোডের পর এখানে সিরিয়ালে তারিখ সহ আপডেট করে দেওয়া হবে।
18-12-2024
#ব্রেক_ইভেন_বিশ্লেষণ
#কন্ট্রিবিউশন_মার্জিন_কি?
#স্থির_ব্যয়_ও_পরিবর্তনশীল_ব্যয়_সম্পর্কে_বিস্তারিত
https://www.facebook.com/share/p/cVsN3e8YMmk5WXXV/
Updating...
#ব্রেক_ইভেন_বিশ্লেষণ
#কন্ট্রিবিউশন_মার্জিন_কি?
#স্থির_ব্যয়_ও_পরিবর্তনশীল_ব্যয়_সম্পর্কে_বিস্তারিত
ব্রেক ইভেনে বিশ্লেষণের সাথে কমবেশী সবাই পরিচিত তাইনা? একদিনের ঘটনা দিয়ে শুরু করি। একদিন টিউশনিতে স্টুডেন্টকে 'ব্রেক ইভেন বিশ্লেষণ' পড়াচ্ছিলাম। এই টপিকটা হিসাববিজ্ঞানেও আছে আবার ফিন্যান্সেও আছে এবং দুইটাতেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তো এখানে 'কন্ট্রিবিউশন মার্জিন' এর একটা বিষয় আছে। যাকে বাংলায় বলে 'দত্তাংশ'। এটা বের করার নিয়ম হলো, বিক্রয় থেকে পরিবর্তনশীল ব্যয় বাদ দিলে পাওয়া যায় দত্তাংশ বা কন্ট্রিবিউশন মার্জিন। হঠাৎ, স্টুডেন্ট প্রশ্ন করলো,
"আচ্ছা ভাইয়া, কন্ট্রিবিউশন মার্জিন জিনিসটা আসলে কি?"
এই যে একটা প্রশ্ন, এই প্রশ্নটা আসতে পারে তোমার মনেও। এমন একটি প্রশ্ন যেটার উত্তর ব্রেক ইভেন বিশ্লেষণ পড়ানোর সময়ে কোনো টিচারই দেন না বা এড়িয়ে যান। আমিও দেই না সচরাচর। সবাই শুধু শেখায়, কন্ট্রিবিউশন মার্জিন টা বের করতে হয় কিভাবে সেটার নিয়ম। কন্ট্রিবিউশন মার্জিন বা দত্তাংশ জিনিসটা কি এটা কেউ বলেন না।
তাই আজ আমরা জানবো, ব্রেক ইভেন বিশ্লেষন, কন্ট্রিবিউশন মার্জিন, স্থির ব্যয়, পরিবর্তনশীল ব্যয় সম্পর্কে কিছু কথা। আশা করছি তোমাদের নতুন কিছু জানাতে পারবো যা শুধু এইচ এস সি তেই না, বরং এডমিশনেও বিভিন্নভাবে উপকারে আসবে।
প্রথমেই আসি ব্রেক ইভেন বিশ্লেষন এ। অনেকেই বলে ব্রেক ইভেন পয়েন্ট হলো এমন একটি যায়গা যেখানে আয় এবং ব্যয় সমান হয়। কিন্তু ব্রেক ইভেন পয়েন্ট কোন জায়গা সেটা তো কথা নয়, কথা হচ্ছে জিনিসটা কি? ব্রেক ইভেন হচ্ছে বিক্রয়ের এমন একটি পরিমাণ যেটার ফলে যত টাকা খরচ হয়েছে সেটা উঠে আসবে। যেমন ধরি, একটা প্রতিষ্ঠানের মোট ব্যয় হয়েছে ১০০০ টাকা। তারা প্রতিটি পণ্য বিক্রয় করে ১০০ টাকা করে। তাহলে কতো টাকার পণ্য বিক্রয় করলে বা কতটি পণ্য বিক্রয় করলে যা খরচ হয়েছে সেই টাকা টা উঠে আসবে? এখানে ১০ টি পণ্য বিক্রয় করলেই (১০০*১০) ১০০০ টাকা খরচ উঠে আসবে তাইনা? অর্থাৎ, ১০০০ টাকার পণ্য বিক্রয় করলে বা ১০ টি পণ্য বিক্রয় করলে সেই ১০০০ টাকার খরচ টি উঠে আসবে। এটাই হচ্ছে ব্রেক ইভেন পয়েন্ট। বিষয়টি দেখতে যতটা সহজ, আসলে ততোটা নয়। এটি জটিল হয়ে পড়ে তখনই যখন খরচের মধ্যে স্থির ব্যয় ও পরিবর্তনশীল ব্যয় ও আধা পরিবর্তনশীল ব্যয় জড়িত থাকে।
ব্যয়কে তিন ভাগে আমরা ভাগ করতে পারি। যেমন স্থির ব্যয়, পরিবর্তনশীল ব্যয় এবং আধা পরিবর্তনশীল ব্যয়।
পরিবর্তনশীল ব্যয় হচ্ছে এমন এক প্রকার ব্যয় যেটা "উৎপাদন বাড়ার সাথে ব্যয়টি বাড়ে, আর কমার সাথে ব্যয়টি কমে"। যেমন কাচামাল কেনার ব্যয়। তুমি যতো বেশী উৎপাদন করবা, তোমার ততো বেশী কাচামাল কিনতে হবে, অর্থাৎ ততো বেশী ব্যয় হবে। আবার যতো কম উৎপাদন করবা ততো কম কাচামাল কিনতে হবে বা ব্যয় ও ততো কম হবে, আর উৎপাদন না করলে ব্যয়ই হবে না। অর্থাৎ যেই ব্যয়গুলো কতগুলো পণ্য উৎপাদন করছি তার ওপর নির্ভর করে সেগুলোকেই পরিবর্তনশীল ব্যয় বলে। এরকম আরো কিছু পরিবর্তনশীল ব্যয় হচ্ছে মজুরি খরচ, পরিবহন খরচ, উৎপাদন একক বা কর্ম ঘন্টা পদ্ধতিতে ধরা অবচয় ইত্যাদি।
তাহলে স্থির ব্যয় কি? বিপরীত। উৎপাদনের পরিমাণ বাড়া বা কমার সাথে যেই ব্যয় জড়িত না তাকেই স্থির ব্যয় বলে। যেমন ধরো, বেতন। তুমি উৎপাদন করো, আর না করো, মাস গেলে কিন্তু কর্মীদেরকে বেতন দেওয়াই লাগবে। এটাই হচ্ছে স্থির ব্যয় যেটা আমরা কতোটুকু পণ্য উৎপাদন করছি সেটার ওপর নির্ভর করে না। সবসময় স্থির থাকে। এরকম আর কিছু স্থির ব্যয় হচ্ছে ভাড়া, ইন্টারেস্ট, সরলরৈখিক পদ্ধতিতে ধরা অবচয় ইত্যাদি।
এবার আসি আধা পরিবর্তনশীল ব্যয় বা আধা স্থির ব্যয় (দুইটাই এক জিনিস) এর বিষয়ে। কিছু কিছু ব্যয় আছে, যেগুলো উৎপাদনের পরিমাণ বাড়লে বাড়ে, আবার কমলে কমে। কিন্তু, উৎপাদন না করলে যে ব্যয় হবে না এমন নয়। উৎপাদন না করলেও মিনিমাম একটা ব্যয় হয়। যেমন ধরো, বিদ্যুৎ বিল। উৎপাদন যতো বেশী হবে, বিল ততো বেশী হবে, উৎপাদন কম হলে বিল কম হবে। কিন্তু উৎপাধন না করলে যে কোনো বিলই হবে না এমন কিন্তু নয়। বিদ্যুৎ বিলের একটি লাইন চার্জ থাকে। তুমি বিদ্যুৎ ব্যবহার করো, আর না করো, সেই লাইন চার্জটা তোমাকে দিতেই হয় প্রতিমাসে। অর্থাৎ তুমি উৎপাদন বন্ধ রাখলেও তোমাকে লাইন চার্জটা দিতে হচ্ছে। এই চার্জটা স্থির ব্যয়। আর উৎপাদন বাড়ালে বিল বাড়বে এটা হচ্ছে পরিবর্তনশীল ব্যয়। অর্থাৎ কিছুটা স্থির আর কিছুটা পরিবর্তনশীল। এটাকেই বলে আধা পরিবর্তনশীল বা আধা স্থির ব্যয়।
ব্রেক ইভেন পয়েন্ট বের করতে হলে আমাদের কে কি করতে হয়? অনেকেই হয়তো জানো। মোট স্থির ব্যয় কে, (একক প্রতি বিক্রয়মূল্য - একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয়) এর এমাউন্ট দিয়ে ভাগ দিতে হয় তাইনা? অর্থাৎ স্থির ব্যয় কে একক প্রতি কন্ট্রিবিউশন মার্জিন বা একক প্রতি দত্তাংশ দিয়ে ভাগ দিতে হয়। বিষয়টা অনেকটা এরকম দেখায়-
স্থির ব্যয়/ একক প্রতি দত্তাংশ।
কিন্তু এখানে দত্তাংশ বা কন্ট্রিবিউশন মার্জিন জিনিসটা কি? একক প্রতি স্থির ব্যয় বা পরিবর্তনশীল ব্যয় ও মোট স্থির ব্যয় বা পরিবর্তনশীল ব্যয়ের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে? থাকলে কিরকম পার্থক্য? সেটা বোঝার জন্য আমাদের চলে যেতে হবে একটি বাস্তব উদাহারণে।
মনে কর একটা কোম্পানীর মোট স্থির ব্যয় ২০০০ টাকা আর একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় ৩ টাকা। এখন মনে কর ২০১৫ সালে ১০০০ টা পণ্য উৎপাদন করা হল। তাহলে,
মোট পরিবর্তনশীল ব্যয় = ৩*১০০০ = ৩০০০ টাকা, (উৎপাদন বাড়লে এই ব্যয় বাড়বে আর কমলে এই ব্যয় কমবে।)
মোট স্থির ব্যায় ২০০০ টাকা (উৎপাদন যতোই হোক, এটা তো স্থির থাকে সবসময়)
তাহলে মোট ব্যয় ৩০০০+২০০০= ৫০০০ টাকা।
একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় তো দেওয়াই আছে ৩ টাকা। এখানে, প্রতি একক উৎপাদন করতে মনে করো ২ টাকার কাচামাল কেনা লাগে আর ১ টাকা মজুরি দেওয়া লাগে। তারমানে মোট ৩ টাকা পরিবর্তনশীল ব্যয় লাগে। এখন আমরা যদি ১০০ টা পণ্য উৎপাদন করি তাহলেও একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় ৩ টাকা করেই থাকবে আবার ১০০০ টি পণ্য উৎপাদন করলেও দেখা যাচ্ছে একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় টি ৩ টাকা করেই থাকবে। যেটা পরিবর্তন হবে সেটা হচ্ছে মোট পরিবর্তনশীল ব্যয়।
আবার এখানে স্থির ব্যয় দেওয়া আছে ২০০০ টাকা। তাহলে ১০০০ টি পণ্য যদি আমরা উৎপাদন করি তাহলে,
একক প্রতি স্থির ব্যয় হবে
মোট স্থির ব্যয় / একক
= ২০০০/১০০০ = ২ টাকা।
মনে কর, ২০১৬ সালে সবই ২০১৫ এর মতোই আছে কিন্তু উৎপাদন করলো ৫০০ একক। তাহলে,
মোট পরিবর্তনশীল ব্যয় = ৩*৫০০ = ১৫০০ টাকা। (একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় ৩ টাকা কে উৎপাদনের একক দিয়ে গুণ করে)
আর স্থির ব্যয় = ২০০০ টাকা।
তাহলে, মোট ব্যয় (১৫০০+২০০০)= ৩৫০০ টাকা।
একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় তো দেওয়াই আছে ৩ টাকা আর একক প্রতি স্থির ব্যয় হবে তাহলে
মোট স্থির ব্যয় / উৎপাদন একক
= ২০০০/৫০০ = ৪ টাকা করে।
অর্থাৎ মেইন কথা হলো, উৎপাদনের পরিমাণ চেঞ্জ হলে, মোট পরিবর্তনশীল ব্যয় টাও চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মোট স্থির ব্যয় সেম থাকছে। উপরের দুইটা উদাহারণে একটু খেয়াল করে দেখ তাহলেই ক্লিয়ার হবে। কিন্তু অন্যদিকে, একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় টা সেম থাকছে আবার, একক প্রতি স্থির ব্যয় টা চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে।
অর্থাৎ,
মোট পরিবর্তনশীল ব্যয় = পরিবর্তনশীল
একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় = স্থির
আবার মোট স্থির ব্যয় = স্থির
একক প্রতি স্থির ব্যয় = পরিবর্তনশীল।
অর্থাৎ, উৎপাদন যদি বাড়ে, তাহলে মোট পরিবর্তনশীল ব্যয়ও বাড়ে, আবার মোট স্থির ব্যয় স্থির থাকে কিন্তু একক প্রতি স্থির ব্যয় কমে যায়। অন্যদিকে, উৎপাদন কমলে এটার বিপরীত টা হয়, মোট পরিবর্তনশীল ব্যয় কমে যায় অথচ একক প্রতি স্থির ব্যয় বেড়ে যায় আর একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় এবং মোট স্থির ব্যয় স্থির থাকে।
যদি কেউ এই বিষয়টা না বুঝে থাকো তাহলে আবারও আরেকটু ভালো করে উদাহারণটি দেখো, অবশ্যই বুঝে যাবা।
এখন ব্যাপার হলো, বিক্রয়ের মধ্যে কি অন্তর্ভুক্ত থাকে বলোতো? ব্যায় আর মুনাফা। তাইনা? ব্যয় আবার স্থির ও হতে পারে, পরিবর্তনশীল ও হতে পারে। তারমানে আমরা বলতে পারি,
বিক্রয়= পরিবর্তনশীল ব্যয়+ স্থির ব্যয়+ মুনাফা। তাইনা?
তাহলে, একক প্রতি বিক্রয়ের মধ্যে একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয়, একক প্রতি স্থির ব্যয় আর একক প্রতি মুনাফা তিনটাই থাকে।
একক প্রতি বিক্রয় থেকে যদি একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় (যেটা উৎপাটন বাড়া-কমার সাথে চেঞ্জ হয় না) ওটা বাদ দেই তাহলে একক প্রতি কন্ট্রিবিউশন মার্জিন টা পাচ্ছি। প্রথমেই বলেছিলাম, বিক্রয় থেকে পরিবর্তনশীল ব্যয় টা বাদ দিলে আমরা কন্ট্রিবিউশন মার্জিন পাই। মনে পড়ে?
আচ্ছা বিক্রয় থেকে যদি পরিবর্তনশীল ব্যয় আমরা বাদ দিয়ে দেই, তাহলে কি কি থাকে বিক্রয়ের মধ্যে? স্থির ব্যয় আর মুনাফা? তাইনা? বিষয়টা এরকম,
বিক্রয়= পরিবর্তনশীল ব্যয়+ স্থির ব্যয়+ মুনাফা
তাহলে, বিক্রয় - পরিবর্তনশীল ব্যয় = স্থির ব্যয় + মুনাফা
বা, কন্ট্রিবিউশন মার্জিন = স্থির ব্যয় + মুনাফা
এখানে এই কন্ট্রিবিউশন মার্জিনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকছে একক প্রতি স্থির ব্যয়(যেটা উৎপাদন বাড়া-কমার সাথে চেঞ্জ হয়) আর মুনাফা। এখানে এটাই বোঝাচ্ছে যে, প্রতিটি পণ্য থেকে যে মুনাফা হয় তা কোম্পানীর স্থির ব্যয়গুলো বহন করার ক্ষেত্রে কি পরিমান কন্ট্রিবিউট করছে বা অবদান রাখছে। কারণ, উৎপাদন বাড়লে স্থির ব্যয় কমে যেতো আর মুনাফা বেড়ে যেতো, অন্যদিকে উৎপাদন কমলে স্থির ব্যয় বাড়তো আর মুনাফা কমতো।
যেমন, ধরি একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় ৩ টাকা, একক প্রতি স্থির ব্যয় ৪ টাকা আর বিক্রয়মূল্য ৪০ টাকা।
তাহলে, বিক্রয়- পরিবর্তনশীল ব্যয় = ১০ টাকা। এই ১০ টাকার মধ্যে আবার মুনাফা+স্থির ব্যয় দুইটাই আছে। এখানে স্থির ব্যয় ৪ টাকা হলে মুনাফা ৬ টাকা। অন্যদিকে স্থির ব্যয় যদি ২ টাকা হতো, তাহলে মুনাফা হয়ে যেতো ৮ টাকা। তারমানে এটা বোঝাচ্ছে যে কোম্পানীর যেই স্থির ব্যয় আছে, সেই ব্যয় টা পোষাতে, মুনাফা কতটুকু পরিমাণ কন্ট্রিবিউট করছে বা মুনাফার টাকা দিয়ে স্থির ব্যয় টা পোষানো সম্ভব কি না। এটাকেই বলে কন্ট্রিবিউশন মার্জিন বা দত্তাংশ।
আশা করি কন্ট্রিবিউশন মার্জিন জিনিসটা কি সেটা বুঝেছো।
সবাইকে মেনশন করে ও শেয়ার করে পোস্টটি সহপাঠীদের দেখার সুযোগ করে দাও। আর কারো যদি কোনো প্রশ্ন থাকে কমেন্ট করো। বিশেষ কোন প্রয়োজন থাকলে ইনবক্স করতে পারো।
#শুভকামনা
Wasif Azim Supto
BBA, Department of Accounting and Information Systems,
Faculty of Business Studies,
University of Dhaka.
Trailblazer, Executor of Communication Board & Quality Control Head, Secondary and Intermediate Level Students' Welfare Association- SILSWA &
Accounting Instructor & Content Creator,
Google my education
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Chittagong
4226