Department Of Islamic History And Culture ,Chittagong College,Chittagong.
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Department Of Islamic History And Culture ,Chittagong College,Chittagong., Arts faculty, Chittagong.
05/07/2021
ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কিছু নেই ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কিছু নেই
করোনাকালীন এসময়ে হয়তো ক্লাস পরীক্ষা থেমে আছে কিন্তু আমাদের বয়স তো আর থেমে নেই, ইতিমধ্যে হয়তো অনেকে বিয়ে করে ফেলেছেন অথবা সামনে বিয়ে করবেন তাদের জন্যই আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের আলোচনা শেয়ার করলাম।
বই - বিয়েঃ স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর
লেখক - মির্জা ইয়াওয়ার বেগ
বই আলোচনা:
দুটি সুস্থ মানসিকতা =একটি সুন্দর দাম্পত্য জীবন = একটি সুস্থ পরিবার= একটি প্রত্যাশিত সমাজ।
ভালোবাসা মূলত সৃষ্টি হয় সম্মান থেকে। আমরা এমন কাউকে ভালোবাসতে পারি না যাকে আমরা সম্মান করিনা। তাই স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই পরস্পরের প্রতি গভীর সম্মান বোধ থাকতে হবে। একটি সুন্দর দাম্পত্য জীবনের অন্যতম গোপন চাবিকাঠি হলো- সুন্দরতম স্মৃতিগুলো মনে রাখা, আর মন্দ বিষয় গুলো ভুলে যাওয়া।
জীবনসঙ্গীকেকে সময় দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাকে গুরত্ব না দিয়ে অন্য কারো সাথে বা কিছুতে অকারনে সময় নষ্ট করা মটেই উচিৎ নয়। এমন কিছু বিষয় তৈরি করে নেয়া যা উভয়েরই পছন্দের। একে অন্যের কাজের মধ্যে আনন্দ পাওয়ার বিষয়টা শিখে নেয়া উচিৎ। সবধরনের ভালো কাজে পারস্পরিক সহযোগীতা প্রয়োজন। কনো বিষয় পছন্দ না হলে প্রতিক্রিয়া জানানো যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই হতে হবে একান্তে, আগ্রহ ও যত্নের সাথে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কনো প্রতিরক্ষা প্রাচীর গড়ে তোলা ঠিক নয়। এ সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিৎ পরস্পরের প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস। আবেগ অনুভূতির বিষয়ে একে অন্যের প্রতি বেশেষ যত্নবান হওয়া আবশ্যক।
বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কথাঃ
বিয়ের জন্যে যে ৬টি বিষয় খুব দরকার সেগুলো হচ্ছেঃ
১।
ইসলামঃ
প্রথমেই দেখতে হবে, সম্ভব্য জীবনসঙ্গী ইসলামের নূন্যতম মৌলিক বিধিবিধান গুলো পালন করে কিনা। এটা যাচাই করার জন্যে কয়েকটি বিষয় লক্ষ করা যেতে পারেঃ
*দ্বীনঃ সালাত, সাওম, যাকাতের ব্যাপারে সচেতন কিনা। শুদ্ধভাবে (অর্থাৎ তাজউইদ সহকারে) ক্বুর'আন তিলোয়াত পারেন কিনা। লেখকের মতে, যারা পরিনিত বয়সে উপনিত হয়েছে অথচ, শুদ্ধ তিলয়াত জানেন না, এটা তাদের জন্যে খুবই লজ্জাজনক!
*চরিত্রঃ
সাহস, ধৈর্য, আত্নবিশ্বাস, ধীরস্থির স্বভাব, পুরুষের পৌরুষদীপ্ততা, নারীদের লজ্জাশীলতা, বিনয়, যে কনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, নীরবতায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা, বাচাল প্রকৃতির না হওয়া ইত্যাদি।
*চেহারাঃ
মেয়েদের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ পর্দা আর ছেলেদের ক্ষেত্রে দাড়ি। আর চেহারার বিষয়টি যদি আপনার কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বাবা ও মায়ের দেহের গঠন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কারন, এই চেহারাটিই আপনি প্রতিদিন সকালে দেখবেন, কেননা বেশিরভাগ ছেলে বাবার মতন এবং মেয়ে মায়ের মতন চেহারা পায় বুড়ো বয়সে।
সতর্কতাঃ
কনো মানুষ যদি আল্লাহকেই গুরুত্ব না দেয়, তাহলে এক সময় সে আপনাকেও পাত্তা দিবে না। জীবনের যে কনো মুহূর্তে আল্লাহ ভীতিই আপনার সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে; বরং বলা যেতে পারে, আল্লাহভীতি না থাকাটাই বিপদ এবং সবচেয়ে ভয়াবহ বিপদ। কেননা যে কনো মিমাংসায় আপনার শেষ আশ্রয় হলো ক্বুর'আন এবং সুন্নাহ। অতএব আপনার জীবনসঙ্গী যদি এর প্রতি গুরুত্ব না দেয় তাহলে আপনি নির্ঘাত এক অকূল পাথারে পড়বেন। কয়েকমাস বাদেই তাদের রূপলাবন্য বা স্মার্টনেসের আকর্ষণ হারিয়ে যেতে শুরু করবে। এই মানুষটিই আপনার সন্তানদের প্রতিপানলন করবে, আর এই সন্তানেরাই আপনার জান্নাত বা জাহান্নামের কারন হবে। সুতরাং আপনি যদি এমন কাউকে খুজে বের করে থাকেন- যে তার দ্বীনদারির ব্যাপারে সচেতন নয়, তাহলে সে দেখতে যতই দারুন হোক না কেন, আপনি ডুবেছেন! ফিরে আসুন, এক্ষুনি! এটা খুবই ভয়ানক একটা ব্যাপার। আর এই লিখাটাও পড়া বন্ধ করুন, কেননা কারো দ্বীনদারিই যদি ঠিক না থাকে তবে এই লিখাটা পড়ে সময় নষ্ট করা হবে অর্থহীন। (লেখকের কথা)
২।
প্রেমে পড়ার কথা ভূলে যানঃ
পড়ে যাওয়া কখনোই ভালো বিষয় নয়। আপনি যেহেতু চান আপনার বিয়েটা দীর্ঘস্থায়ী হোক, সেহেতু সম্মানবোধকে বেশি গুরুত্ব দিন। "পড়ে যাওয়া" নয়, বরং বেছে নিন "তৈরি হওয়া"।
সত্যিকার ভালোবাসা তৈরি হয় সম্মান, শ্রদ্ধা ও মর্যাদা থেকে। এমন ভালোবাসার কারনেই আপনার জীবনসঙ্গী আপনাকে ও আপনার সম্মান রক্ষার্থে সবসময় সচেষ্ট থাকবে, জনসমক্ষে আপনাকে কখনো ছোট করবেনা, আপনার ভূলগুলোকে আড়াল করে রাখবে। দাম্পত্যজীবনে আপনার ভালো অবদান গুলোই তুলে ধরবে। এই ভালোবাসার কারনেই জীবন চলার পথে তৈরি হওয়া কনো সমস্যার কারনে সে আপনাকে অভিযুক্ত করবেনা; বরং সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার সাথে আপনার পাশে থাকবে। রাতে সালাতে দাঁড়িয়ে আপনার জন্যে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে কান্নাকাটি করবে। যতদিন বেচে থাকবে সে আপনাকে ছেড়ে যাবে না। এমনকি আপনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেও আপনার মাগফিরাতের জন্যে সে আল্লাহর কাছে দু'আ করবে।
৩।
আচার-আচরনঃ
দ্বীনদারি ভালো হলে আচার-আচরন এমনিতেই ভালো হবে। কিন্তু দ্বীন পালনের দিক থেকে ভালো হওয়া সত্ত্বেও সবার আচার-ব্যাবহার ভালো নাও হতে পারে। তার দ্বীনদারি যদি ভালো হয়, তাহলে খেয়াল রাখুন সে পরিবারের সদস্য এবং অন্যদের (ওয়েটার, ড্রাইভার) সাথে কেমন আচরন করে। সে কি অন্যদের সুবিধা অসুবিধার প্রতি সচেতন? দয়াশীল? সহানুভূতিশীল? অন্যদের কি সে সম্মান করে?
সহমর্মিতা, সহানুভূতি, মায়ামমতা, রসবোধ এখন সোনার মতই দামি। এই গুনগুলোই আপনার সংসারকে পৃথিবীর বুকে এক টুকরো জান্নাতে পরিণত করবে। ইন শা আল্লাহ।
৪।
কথোপকথনঃ
তার জ্ঞানের ব্যাপারে জানুন। দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা, গঠনমূলক চিন্তাভাবনা। জিজ্ঞাসা করুন, সে কি ধরনের বই পড়ে, আর কোন কোন বই আর লেখক তার পছন্দের। দেখুন সে কি সমালোচনা করতে বেশি পছন্দ করে নাকি ভূলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে আগ্রহী? শুধু সমস্যা নিয়ে কথা বলে নাকি তার সমাধান নিয়ে আলোচনা করে? পার্থিব বিষয় নিয়ে বেশি আলাপ করে নাকি আখিরাত? যখন ধর্ম নিয়ে কথা বলে তখন কি সে অন্যের দোষ ধরতেই বেশি ব্যাস্ত থাকে, না নিজের সীমাবদ্ধতা ও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলাপ করে? সে কি নিদৃষ্ট কনো দলের অন্ধ অনুসারী? অন্যদের সাথে মতানৈক্য বিষয়গুলো নিয়ে বেশি ভাবে, নাকি সারাক্ষন মতবিরোধ নিয়ে হৈচৈ করে বেড়ায়? ঐক্যের চিন্তা করে নাকি বিভক্তির দিকে বেশি ঝুকে?
সতর্কতাঃ স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক কথোপকথন একটি সুস্থ দাম্পত্যের জীবনীশক্তির মতন। জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিন এমন একজনকে, যে হবে আপনার কথা বলার সঙ্গী, যার সাথে আপনি আপনার সুখ-দুঃখ অকপটে শেয়ার করতে পারেন। যার সাথে আপনার পছন্দগুলো নিয়ে আলাপ করতে পারবেন। যে আপনার অনুভূতি গুলোকে শ্রদ্ধার সাথে শুনবে; যার কাছ থেকে আপনিও কিছু শিখতে পারবেন। যার সাথে মন খুলে কথা বলা যায় না, তার সাথে কখনো একত্রে বেশিদূর এগোনো যায় না।
৫।
দুজনের জীবনের কিছু অভিন্ন লক্ষ নির্ধারণ করাঃ
এমন কিছু খুঁজে বের করুন, যা আপনারা উভয়ে পছন্দ করেন। যেহেতু আপনারা লম্বা একটি সময় একই সঙ্গে পাড়ি দিতে চাচ্ছেন তাই জীবনের লক্ষ ও উদ্দেশ্য গুলো একই রকম থাকা ভালো। নতুবা পুরো জীবন জুড়েই আপনাকে একাকী থাকতে হবে অথবা, লড়াই করে যেতে হবে।
তাই এমন কাউকে বেছি নিন, যে আপনাকে বুদ্ধি দিবে। আপনার লক্ষকে গুরুত্বহীন বলে হেলাফেলা করবেনা। আপনার প্রয়োজন এমন একজনকে আপনার সময়, শ্রম, আবেগ এবং চিন্তাকে কাজে লাগাতে উৎসাহীত করবে। দীর্ঘকালীন পরিকল্পনা গুলোকে গুরুত্ব সহকারে নেয়ার মাঝেই লুকিয়ে আছে সুখী দাম্পত্য জীবনের গোপন রহস্য।
৬।
পরিবারঃ
সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর দিকে খেয়াল রাখুন। তাদের আকীদা-বিশ্বাস, ধর্মীয় প্রথা, সংস্কৃতি, অভ্যাস, জীবনযাত্রা, আচার-ব্যাবহার, রীতিনীতি প্রত্যেকটিই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু বিষয়ের সাথে একদম আপোষ চলে না, যেমনঃ মাজার বা দর্গা পুজারী।
একদম মনের মতো হতে হবে এমন নয়, তবে অমিল কতখানি তা খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখবেন পরিবর্তন সাধন সবসময়ই কষ্টকর; তাই ভিন্যতা যত কম হবে বৈবাহিক জীবনে আপনার সুখী হওয়ার সম্ভাবনা ততো বেশি হবে।
কিছু সাবধান বানীঃ
যেসব দুঃসাহসী মানুষ মনে করেন তারা অন্যদের বদলে ফেলতে পারেন, তারা মনে রাখবেন, হিদায়াহ্ একমাত্র আল্লাহর হাতে। এমন কাউকে খুজে বের করুন যাকে দেখে আপনি মুগ্ধ হবেন; আপনিও তার মত একজন হতে চাইবেন।
ইন্টারনেটে কারো প্রফাইল দেখে বিয়ে করাকে তুলনা করা যায় 'রাশিয়ান বুলেট' নামের জুয়া খেলার সাথে- যে খেলায় পিস্তলের ৬টি চেম্বারের যে কনো একটাতে বুলেট থাকে। সবার প্রতি আমার আন্তরিক পরামর্শ থাকবে, এমন প্রাণঘাতী জুয়া খেলা যেন এড়িয়ে চলা হয়। অনেককে ধ্বংস হতে দেখেছি আমি।
এতক্ষন যা উল্যেখ করা হয়েছে, তা একটি বা দুটি সাক্ষাতেই জেনে নেয়া সম্ভব যদি চোখ-কান খোলা রাখে এবং জানেন যে আপনি ঠিক কি খুঁজছেন।
আমরা এ বিষয় গুলো যেন ভূলে না যাই। উপরে যা বলা হয়েছে নিজেকে খেয়াল রেখে জিজ্ঞেস করুন, 'অন্যের মধ্যে যে জিনিস গুলো খুঁজছি, আমার মধ্যে সেগুলো কতটুকু আছে? আমি নিজে কতগুলো শর্তপূরন করতে পেরেছি? যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছি আমি কি তার একজন ভালো জীবনসঙ্গী হতে পারবো?'
বিবাহিত জীবনকে সুখি করার উপায়ঃ
*সত্য বলা, যত্ন নেয়া, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ- এই তিনটি জিনিসকে লেখক সুখী দাম্পত্য জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে গন্য করেছেন।
* ক্ষমাশীল হওয়া। এমন কাউকে বিয়ে করুন যাকে অনুকরণ করতে ইচ্ছে হয়; যাকে শ্রদ্ধা করা যায় এবং যার থেকে ক্ষমা করা শেখা যায়।
*দাম্পত্য জীবনকে সফল করার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে "কাজ করা"। মন থেকে ইচ্ছে না করলেও, কিংবা নিজের পছন্দ না হলেও "ওর" কথা ভেবে কিছু করাটাই হলো কাজ। এর বিনিময় আপনার জন্যে এনে দিবে একরাশ ভালোবাসা আর আকাশছোঁয়া সম্মান। আপনার স্বামী বা স্ত্রী আপনাকে সময় না দিলে অভিযোগ করবেন না। কারন,
_প্রথমত এক্ষেত্রে অভিযোগ করাটা দুঃখজনক এবং অবমাননাকর।
_দ্বিতীয়ত, আমার (লেখক) একটা নিয়ম হচ্ছে কেউ যদি ভালোবেসে কনো কাজ না করে, তাহলে নিছক কর্তব্য পালনের জন্যে কাউকে কিছু করতে না বলা।
_তৃতীয়ত, সে অন্য কারো সঙ্গ খুঁজছে কিনা, এটা আপনার জন্য একটা সতর্ক বার্তা। মানুষ সব সময় আনন্দের বিষয় গুলোকেই খোঁজে। সুতরাং আপনার সঙ্গ যদি আনন্দের চাইতে বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়, স্বাভাবিকভাবেই সে অন্য কোথাও তা খুজে পাতে চাইবে।
*অনুরাগ প্রকাশে কিছু পাগলামো করুন। জীবন সঙ্গীকে ফুল অথবা পছন্দনীয় কিছু উপহার দিন। দামি কিছু হতে হবে এমন নয় বা ঘটা করে কিছু করতে যাবেন না। বরং তাকে এমন সময় এমন কিছু দিন যা সে আশা করেনি। উপহারটি আপনার জীবনসঙ্গীর বিশেষত্ব প্রকাশ করে বলবে "তুমি আমার বিশেষ একজন"। ঘটনাটিকে স্মরণীয়, বৈশিষ্ট্যপপূর্ন ও সৃজনশীল করে তুলুন।
*হাসির কিছু পেলে অন্যজনকে জানান, যেন সে-ও আনন্দ পায়। এই আনন্দ ভাগাভাগির মাঝেই এক ধরনের নির্মল আনন্দ রয়েছে।
*কিছু প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে দেখা। আপনিকি সত্যবাদি? জীবন সঙ্গীর প্রয়োজনকে আপনার প্রয়োজন হিসেবে দেখছেন তো? আপনি তার জন্যে অন্তরে যে সম্মান বোধ করেন, তা প্রকাশ করছেন তো? ছোট ছোট কিছু কাজ, সম্পর্ককে গভীর থেকে গভীরতর করে। খাবার পরিবেশন করা, পছন্দের টুকরোটা তুলে দেয়া, মুখে লোকমা তুলে দেয়া...ইত্যাদি।
*অতিভদ্র যেসব 'অনুগত' সন্তান সিনেমার ডায়লগের মতো বাবা-মাকে বলে, তোমরা যাকে পছন্দ কর তাকেই বিয়ে করবো; এদেরকে আবার নার্সারিতে পড়ানোর জন্য ফেরত পাঠানো উচিৎ। কারন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ভেবে চিনতে সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো পরিপক্কতা এখনো তাদের আসেনি। এমন আনুগত্য সবসময় ভালো ফল বয়ে আনে না। হয়ত একসময় দেখবেন, আপনার এই আনুগত্য সন্তানই একদিন 'তালাকনামা' নিয়ে হাজির হয়ে বলবে, তাদের এই ধ্বংসের জন্যে আপনারাই দায়ী।
* বিয়ের পূর্বেই জেনে বুঝে নেয়া নিজেদের প্রকৃতিগত অবস্থা সম্পর্কে। অনেকেই পূর্বে এগুলো লুকিয়ে রাখে, যেটা পরবর্তীতে মারাত্মক সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়ায়। দুর্ভাগ্যবশত এসব সম্পর্ক খুব বেশিদিন স্থায়ী হয় না।
*যখন দাম্পত্য জীবনে আনন্দের চেয়ে যন্ত্রনা বেশি হবে, তখন বুঝতে হবে বৈবাহিক জীবন সফল হচ্ছে না। তখন নিজেকে অবশ্যই এই প্রশ্নগুলো করুন-
১। আমি কি এটা সফল করতে চাই?
২। একে সফল করতে কি কি প্রয়োজন?
৩। আমি কি সেই প্রয়োজনীয় কাজ গুলো করতে আগ্রহী?
আপনি যদি সত্যিই সফল হতে চান তবে, সমস্যা গুলো খুজে বের করুন এবং তা নিরসনের বিষয়ে সচেতন হন।
*সব সময় সঠিক হওয়ার চেয়ে বিনয়ী হওয়াটা বেশি ভালো। কৌশল অবলম্বন ও বিচক্ষণতা এমন দুটি মহৎ গুন যেগুলো দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। শুধু মানুষের ভূলত্রুটি খুজে বেড়ানো মটেই বিচক্ষনতার লক্ষন নয়। মার্জনার সাথে এড়িয়ে চলুন, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন। এমন কনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না যাতে আপনার জীবনসঙ্গী আপনার আচরনের দাঁত ভাঙা জবাব দেয়ার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে।
* কিছু সংখ্যক, যারা সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রনের জন্যে ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার করেন। তারা নিজেদের ইচ্ছা ও কামনা বাসনার সামনে সঙ্গীর মাথা নোয়ানোর জন্য ধর্মীয় বিধানের দোহাই পাড়ে, এবং সঙ্গীকে জাহান্নাম ও শাস্তির ভয় দেখায়। এটা বেশি দেখা যায় পুরুষের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে যারা জীবনে তেমন কিছুই করতে পারে না, হীনমন্যতায় ভোগেন।
'উচিৎ' হচ্ছে ভাষার মধ্যে সবচেয়ে অকেজো শব্দ। সবাই যদি নিজেদের উচিৎ কাজগুলো করতো, তাহলে পৃথিবী অন্যরকম হতো। এই ধরনের ধর্মানুশীলতার নামে ধর্মের অপব্যাবহারের সাথে সৃষ্টিকর্তার কনোই সম্পর্ক নেই।
তবে সর্বমোট কথা এটাই, আপনার দাম্পত্য জীবন আপনি যেমন চাইবেন তেমনই হবে। মানুষের জীবনে সব ধরনের স্মৃতি থাকে। আপনি ভালোটা ধরে রেখে সুখী হতে চান, নাকি খারাপটা মনে রেখে দুঃখ পেতে চান সেটা সম্পূই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
সব শেষে মনে রাখুন, সবকিছুর শুরু আর শেষ আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে। দাম্পত্য জীবনে এমন কিছু ব্যাপার থেকেই যাবে যা বাহ্যত স্বামী-স্ত্রী যে কনো ইচ্ছের বিরুদ্ধে যায়। এগুলো মেনে নিয়েই জীবন যাপন করতে হবে। কাজেই এমন ভাবে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে তুলুন যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকে। যে কনো ভালো কাজে একে অপরকে সহযোগীতা করুন। একসঙ্গে সালাত আদায় করুন, তাহাজ্জুদে জাগিয়ে তুলুন, একে অন্যের ক্বুর'আর তিলোয়াত শুনুন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন, খারাপ স্মৃতি গুলো ভূলে যান, সুখ-দুঃখ গুলো ভাগাভাগি করে নিয়ে একে অপরকে সাপর্ট করুন।
মহান আল্লাহর নিকট প্রতিটি দাম্পতির মঙ্গল প্রার্থনা করছি। যেদিন আমরা সবাই আল্লাহর সামনে দাঁড়াবো, সেদিন যেন তিনি আমাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হন। আমীন।
24/06/2020
17/08/2019
চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানের
নামকরণের ইতিহাসঃ~
[পর্ব- ১]
☞ সুলকবহরঃ আরব বণিকদের
নৌবাণিজ্যের যুগে প্রাচীন কর্ণফুলী
নদীর যে স্থানটিতে বাণিজ্যতরী
অবস্থান করত সেটি 'সুলকুল বহর' নামে
খ্যাত ছিল। আরবি 'সুলকুল বহর' শব্দের অর্থ-
'বাণিজ্যতরীর বিরতি স্থান-
পোতাশ্রয়'। পরবর্তীতে এলাকাটি
বর্তমানের 'সুলকবহর' নামে বিবর্তিত
হয়েছে।
☞ ষোলশহরঃ সুলকবহরের কাছের এই
জায়গাটি 'চাহেলে শহর' নামে
পরিচিত ছিল। আরবি চাহেলে শহর
নামের অর্থ 'নদীর তীরবর্তী শহর' যা
কালক্রমে ষোলশহর নাম ধারণ করে।
☞ হালিশহরঃ আরবি 'হাওয়ালে শহর'
থেকে উদ্ভুত। অর্থ- 'শহরতলি'। এটি ছিল
আরব বণিকদের সাময়িক বসবাসের জন্য
নির্ধারিত স্থান।
☞ আন্দরকিল্লাঃ আরকানি আমলে
এখানে প্রাচীন দুর্গ ছিল। নাম ছিল-
'চাটিগাঁ দুর্গ'। ১৬৬৬ সালে মোগল
বাহিনী আরকানি বাহিনীকে
পরাজিত করে এই দুর্গ দখল করলে প্রধান
সেনাপতি উমেদ খাঁ এই দুর্গের নাম
দেন 'আন্দরকিল্লা'।
☞ লালদিঘিঃ বর্তমান চট্টগ্রাম
মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে
ইংরেজ আমলের শুরুর দিকে একটি
পাকা ভবন ছিল যেটির দেওয়ালে
লাল রঙ দেয়া হয়েছিল যা 'লালকুঠি'
নামে পরিচিত ছিল। লালকুঠির
সন্নিকটের দিঘিটি 'লালদিঘি' নামে
বিখ্যাত হয়ে উঠে।
☞ হাজারি লেনঃ আন্দরকিল্লার
মধ্যস্থিত এই গলিতে বারজন মোগল
'হাজারি' বা সেনাপতির অন্যতম
ভগবান সিং হাজারির বাড়ি ছিল।
তা থেকে এই নামের উৎপত্তি।
☞ মেহেদিবাগঃ চট্টগ্রাম শহরের এই
এলাকাটিতে এককালে মেহেদি
গাছের আধিক্য ছিল।
☞ চকবাজারঃ পূর্ব নাম- 'সদরবাজার'।
আরকানিদের হটিয়ে চট্টগ্রাম মোগল
সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলে এই বাজার
স্থাপনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম শহরের
গোড়াপত্তন হয়। চট্টগ্রামের ১৮তম মোগল
শাসক নবাব অলি বেগ খাঁ
সদরবাজারের নাম 'চকবাজার' নামে
পরিবর্তন করেন। চকবাজারেই 'অলি খাঁর
মসজিদ' নামে পুরাতন একটি মসজিদ
এখনো রয়েছে।
☞ কাপাসগোলাঃ কার্পাস শব্দের
বিকৃত রূপ 'কাপাস'। প্রাচীনকালে
পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্ত কার্পাস তুলা
এখানে বিক্রির জন্য গোলাজাত বা
জমা হতো বলে এই এলাকাটি
'কাপাসগোলা' নামে খ্যাত হয়।
☞ কাঠগড়ঃ এই স্থানে আরকানিদের
কাঠের নির্মিত দুর্গ ছিল। কাঠের
দুর্গের অপর নাম ছিল 'কাঠগড়'।
☞ লাভ লেইনঃ ব্রিটিশ আমলে এটি
ছিল ইংরেজ কর্মচারীদের আবাসিক
এলাকা। এই এলাকায় ইংরেজ নারী-
পুরুষের প্রকাশ্য প্রেমের কারনে এই
নামের উৎপত্তি।
☞ আলকরণঃ আলকরণ অর্থ- গণ্ডারের
শিং। আরব বাণিজ্যের যুগে এই
এলাকায় গণ্ডারের শিং এর আড়ৎ ছিল।
তৎকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে
গণ্ডারের শিং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে
রপ্তানি হতো।
☞ অভয় মিত্রের ঘাটঃ ফিরিঙ্গি
বাজার নিবাসী ধনাঢ্য রায় বাহাদুর
অভয়চরণ মিত্রের নামানুসারে এই ঘাট।
☞ দেবপাহাড়ঃ ব্রিটিশ সরকার শরচ্চন্দ্র
দাস নামের এক ব্যক্তির কাজে খুশি
হয়ে তাঁকে পুরষ্কারস্বরূপ 'জয়নামা বা
জাঁহানুমা' পাহাড়টি প্রদান করেন।
শরচ্চন্দ্র ঐ পাহাড়শীর্ষে একটি
দেবমন্দির নির্মাণ করে নতুন নাম দেন
'দেবপাহাড়'।
☞ চন্দনপুরাঃ পার্বত্য চট্টগ্রামে
উৎপাদিত আগরকাঠ প্রাচীনকাল হতে
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজযোগে
ইউরোপে রপ্তানি হতো। আগরকাঠ
সেকালে চট্টগ্রামবাসীর কাছে
'চন্দনকাঠ' নামে খ্যাত ছিল। বর্তমান
চন্দনপুরা ছিল এসব চন্দনকাঠের গোলাঘর
বা মজুতস্থান।
☞ পার্সিভাল হিলঃ চন্দনপুরার
বিপরীতের এক উচ্চ পাহাড়ে 'ব্রেডন
পার্সিভাল' নামের এক পর্তুগিজ
বাসিন্দা সপরিবারে বসবাস করার জন্য
বাড়ি তৈরি করেন। এই পার্সিভাল
পরিবারের একাধিক সদস্য পরবর্তীতে
চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী
ছিলেন। আরেক সদস্য ছিলেন চট্টগ্রাম
কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক। ১৯৪৭
সালে দেশভাগের সময় চট্টগ্রামের
পার্সিভাল পরিবারের শেষ পুরুষ
চট্টগ্রাম ত্যাগ করে লন্ডনবাসী হন।
☞ পাথরঘাটাঃ কথিত আছে- পীর বদর
শাহ আরব দেশ থেকে সমুদ্রপথে একটি
পাথরের উপর সওয়ার হয়ে চট্টগ্রামে
আসেন। এবং সেই পাথরখানি কর্ণফুলী
নদীর তীরবর্তী একটি স্থানে থেমে
যাওয়ার পর তিনি তীরে উঠে আসেন।
তখন থেকে এই জায়গার নাম
'পাথরঘাটা' নামে খ্যাত হয়৷ [চলবে]
==================================
তথ্যসূত্রঃ
* বন্দর শহর চট্টগ্রামঃ আবদুল হক চৌধুরী
* চট্টগ্রামের ইতিহাসঃ পূর্ণচন্দ্র চৌধুরী
* চট্টগ্রামের ইতিহাসঃ ওহীদুল আলম
* বৃহত্তর চট্টলঃ মোহাম্মদ নুরুল হক
copy.frm
সাঈদ আহসান খালিদ
সহকারী অধ্যাপক আইন বিভাগ
চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
# চট্রগ্রামের_বিয়ে :
পৃথিবীর অন্য জায়গা থেকে চট্রগ্রামে
বিয়ে হচ্ছে সম্পূর্ণ আলাদা। কারন
চট্রগ্রামের পরোক্ষভাবে যৌতুক
নেওয়াটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।
চট্রগ্রামের মানুষ বিয়ের সময় নগদ টাকা
নেওয়াকে যৌতুক মনে করে আর বাকি
রীতি গুলোকে বরপক্ষের অধিকার মনে
করে।
যৌতুকের বিভিন্ন ধরনের রূপ নিম্নে
উল্লেখ করা হল।
১: # খাবারের_পর্ব :-
চট্রগ্রামে বিয়ের সময় বর পক্ষের
৫০০/৮০০/১০০০/২০০০ মানুষকে খাওয়াতে
হয়। খাওয়ার ম্যানুতে থাকে
চিংড়িমাছ/গরুর মাংস/খাসির মাংস/
রূপচাঁদা মাছ/ডিম/পোলাওভাত/মুরগি/
চিকেন টিক্কা/পায়েস/মিনারেল
ওয়াটার/কুক ও বিভিন্ন ধরনের সবজিসহ
আরো অনেক আইটেম। এসব আইটেম
থেকে কিছু কম হলে বা কোন আইটেমে
সামান্য লবণ বেশি বা কম হলে শুরু হয়ে
যাবে কনে পক্ষের সাথে তর্কবিতর্ক ।
এগুলো তদারকির জন্য বরপক্ষ একজন
ব্যারিষ্টার রাখে যার কাজ হল কনে
পক্ষের দোষ বের করা। এরপর বরকে
দিতে হবে স্বর্ণের আংটি ও স্বর্ণের
চেইন। তবে বিয়ের পূর্বে যদি আকদ হয়
তখন কিন্তু প্রায় ২০০/৩০০ জন মানুষের
খাবারের আয়োজন করতে হয়। বিয়ের পর
শুরু হয় বিভিন্ন পর্বের দাওয়াত। নতুন
জামাই বিয়ের পর শাশুর বাড়িতে
যাবে তবে একা যেতে পারবে না বা
১০-১৫ জনকেও নিয়ে যেতে পারবে
না। নতুন জামাইকে ৮০/১০০/১৫০ জনের
বিশাল বহর নিয়ে শাশুর বাড়িতে
যেতে হবে। যারা নাম চট্রগ্রামের
ভাষায় (চোরা বেরানি)। এখানে
কিন্তু খাবারের আইটেম রাখতে হবে
বিয়ের খাবারের আইটেমের চেয়ে
বেশি। এখানে কিন্তু অনেক কু-প্রথা
চালু রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে
''চোরা বেরানিতে'' কনে পক্ষের
জিনিস চুরি করা। এবার নতুন জামায়ের
পর্ব শেষ হলে কিছুদিন পর শুরু হবে শাশুর ও
শাশুড়িদের পর্ব কারন নতুন জামায়ের
সাথে শাশুড়ি আসতে পারবে না
কারন এটা তথাকথিত ''বুড়া/বুড়ির''
মানা (নিষেধ)।
শাশুড়িও তাদের বিশাল বহর নিয়ে
এসে খেয়ে যাবে এবং সাথে অনেক
খাবার নিয়েও যাবে। এখানে কিন্তু
শেষ না। বিয়ের সময় বরের ভাই/বোনের
জামায় বা অন্য কেউ বিদেশে ছিল
যার কারনে সে বিয়েতে আসতে
পারে নাই। তাই সে যখন দেশে আসবে
তখন সে কিন্তু একা বা ২/৩ জন নিয়ে
যেতে পারবে না তার সাথেও অনেক
জন যেতে হবে। তবে সে শুধু খেয়ে
আসলে হবে না। খাবারের পর তাকে
একটা স্বর্ণের আংটিও দিতে হবে।
বিয়ের পর যখন কনে স্বামীর ঘরে ডুকবে
তখন তাকে বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল
করার চেষ্টা করবে, তারা পরীক্ষা
করবে নববধূ কিরকম (তবে নাজেহাল
করাটা এখন কমে গেছে)
বিয়ের পর শুরু হবে চট্রগ্রামের ভাষায়
''বছরি জিনিস'' দেয়ার পালা। অর্থাৎ
আমের মৌসুম আসলে দিতে হয় ৫০-৬০
কেজি আম, আনারস, কাঠালসহ আরো
বাহারি রকমের ফল।
রমজানের সময় দিতে হয় মেয়ের শাশুর
বাড়ির চৌদ্দ গোষ্টিকে ইফতারি
আরো অনেক আইটেম।
ঈদের সময় বরের পরিবার এবং বরের
বোনের পরিবারের সবাইকে
মার্কেটে নিয়ে শপিং করে দিতে
হয়।
কুরবান আসলে দিতে হবে গরু, গরু রান্না
করার জন্য তৈল, মসাল্লা, পিয়াজ
ইত্যাদি। কুরবানের দিন আবার বেশি
করে মাংস, রুটি, কলা,কুক এগুলো দিতে
হবে।
মহরম আসলে দিতে হবে ১৫/১৬টি মুরগি,
ডিম ও ৮/১০ কেজি গরুর মাংস রান্না
করে।
এছাড়া দিতে হবে তিস্সেলি
বানানোর সব আইটেম। (তিস্সেলি হল
এক প্রকারের খাবার যেটা চট্রগ্রামে
মহরমে খাওয়া হয়)
শীতকাল আসলে দিতে হবে কয়েকশ
শীতেরপিটা, তালপিটা ইত্যাদি।
এছাড়া বাৎসরিক জিনিসের মধ্যে
আরো অনেক আইটেম রয়েছে যেগুলু
সময়ের কারনে উল্লেখ করা হয় নাই।
২: # ফার্নিচার_টয়লেট
ের_বদনা_ইত্যাদি :- চট্রগ্রামে বিয়ের
পূর্বেই বর পক্ষের বাড়িতে ফার্নিচার
পৌঁছে দিতে হয়। ফার্নিচারের মধ্যে
থাকে দামি বিভিন্ন ধরনের
উন্নতমানের জিনিস। যেমন দামী খাট,
সোফা, চেয়ার,টেবিল, আলনা,ট্রি
টেবিল, ফ্রিজ, টিভি, গ্যাসের চুলা
ইত্যাদি। এছাড়া কনে পক্ষের
অতিথিদের দেয়া সব উপহারের
জিনিসও বর পক্ষকে দিয়ে দিতে হয়।
এখানে কিন্তু শেষ না সাথে একটি
টয়লেটের বদনা (লুড়া) ও দিতে হয়।
৩: # আকিকা:-
বিয়ের পর যখন কনের বাচ্চা হয় তখন
কিন্তু আকিকার গরুটাও কনে পক্ষ থেকে
দিতে হয়। এছাড়া বাচ্চার দোলনা,
বিভিন্ন ধরনের কাপড়সহ আরো অনেক
কিছু দিতে হয়।
এখানে কিন্তু আরো কিছু আছে
যেগুলো সময়ের অভাবে লিখতে
পারছি না।
# বিশেষ_দৃষ্টাব্য :-:এখানে আমি
চট্রগ্রামের বিয়ের বাস্তব চিত্র তুলে
ধরার চেষ্টা করছি, যদিও আমার
চিত্রের সাথে অনেক জায়গার চিত্র
মিল আছে। আবার অনেক জায়গার
অবস্থা আরো খারাফ। এছাড়া চট্রগ্রাম
মহানগরীতে এসব কু-প্রথা কিছু কম কারন
সেখানে সবাই প্রকৃত চাঁটগাইয়া না।
অনেক বাইরের জেলা থেকে এসে
স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছে। যদিও
চট্রগ্রামে কিছু যৌতুক ছাড়া বিয়ে হয়
কিন্তু সেরকম বিয়ে হয় হাজারের মধ্যে
মাত্র কয়েকটি।
এছাড়া চট্রগ্রামের মানুষ এগুলো নিয়ে
লজ্জিত হওয়া দূরের কথা বরং এগুলো
নিয়ে আরো গর্ববোধ করে। আরো বলবে
চাঁটগাইয়াদের মন অনেক বড় আরো
অনেক কিছু। আবার বেশি বাড়াবাড়ি
করলে বলবে বিয়েতে কনে পক্ষ কাবিন
বেশি ধরে তাই আমরা এগুলো বেশি
করে নিয়। তবে কাবিন বেশি ধার্য
করা উতিত না। কাবিনের কথা বলে
আমাদের চট্রগ্রামের মানুষ যৌতুকের
বিষয়টা এড়িয়ে যাবে। যেন আপনি আর
বেশি কিছু বলতে না পারেন। কিন্তু
কাবিন ধার্য করতে নগদে তাই
সিংসভাগ ভাগ মানুষ ৫০ লক্ষ টাকা
কাবিনে বিয়ে করতে রাজি কিন্তু
নগদে ১ লক্ষ টাকা কাবিনে বিয়ে
করতে রাজি হবে না। যদিও ১ লক্ষ
টাকা কাবিন ধার্য করলেও কনের
পরিবার ১টাকা পাবে না ৫০ লক্ষ
টাকা কাবিন ধার্য করলেও কনের
পরিবার ৫ টাকা পাবে না। এগুলো শুধু
ফরমালেটি। কিন্তু কাবিনটা শুদ্ধ না
হলে বিয়েও শুদ্ধ হবে না।
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বদলে
গেছে সমগ্র বিশ্ব। এমনকি আমাদের
দেশও অনেক বদলে গেছে। কিন্তু
বদলাতে পারি নাই আমরা চট্রগ্রামের
মানুষ গুলো। আমাদের সমাজ থেকে দূর
করতে হবে এসব অপসংস্কৃতি গুলো।
দু:খের বিষয় হচ্ছে এসব অপসংস্কৃতির
বিরুদ্ধে সচেতনতা চালানোর মানুষ
খুবই কম আর যারা আছে তাদের কেউ
মূল্যায়ন করে বরং তাদের নাজেহাল
করতেছে। যার ফলে তারাও নিশ্চুপ হয়ে
যাচ্ছে।
আসুন আমরা সকলে এসব অপসংস্কৃতি
বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
-সংগ্রহীত
হিন্দু গ্রন্থে হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর
পরিচয় ও হিন্দু সম্প্রদায়কে ইসলাম
গ্রহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
যে জন্য যুগে যুগে বহু সত্য সন্ধানী
শিক্ষিত হিন্দু, ইসলাম গ্রহন করেন ।
কল্কি অবতারের (শেষ নবীর) নামঃ
নরাসংশ’। আহমদ।
পিতার নামঃ বিষ্ণুযশ ।
মাতার নামঃ সুমতি ।
জন্মস্থলঃ সম্ভল ।
জন্মতারিখঃ মাধব মাসের শুক্ল পক্ষের
দ্বাদশ তারিখ ।
এবার উপরের পরিচয়টা যে হযরত মুহাম্মদ
সাঃ এর সেটা দেখুন।
নাম-সংস্কৃতে ‘নরাসংশ’ অর্থ-প্রশংসিত
(বেদঋগ্ বেদ ১-১৮-৯)
আরবীতে-মুহাম্মদ অর্থ-প্রশংসিত ।
(কুরআন ৪৮-২৯, ৩৩-৪০)
এবং আহমদ শব্দ বেদঋগ্বেদে ৮-৬-১০, ও
কুরআনে ৬১-৬।
পিতার নাম সংস্কৃতে-‘বিষ্ণুযশ’ অর্থ-
প্রভুর দাশ(শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরান
১-৩-২৫) আরবীতে ‘আবদুল্লাহ’ অর্থ-প্রভুর
দাশ।
মাতার নাম সংস্কৃতে ‘সুমতি’ অর্থ-
শান্তি (কল্কি পুরান ১-৪), আরবীতে
আমিনা অর্থ ‘শান্তি’ ।জন্মস্থান
সংস্কৃতে ‘সম্ভল’ অর্থ শান্তির ঘর
(শ্রীমদ্ভগবত মহাপুরান ১২-২-১৮)
আরবীতে ‘দারুল আমান’ অর্থ শান্তির ঘর
। মক্কাকে বালাদুল আমিন অর্থ শান্তির
শহরও বলা হয় ।
জন্ম তারিখঃ মাধব মাসের শুক্ল পক্ষের
দ্বাদশ তারিখ জন্ম গ্রহণ করবেন। অর্থাৎ
বৈশাখ মাসের (শুক্লপক্ষ) প্রথম অংশে ১২
তারিখে জন্ম গ্রহণ করবেন । কল্কিপুরান
১-২-১৫} বিক্রমী ক্যালেন্ডারে
বৈশাখ মাসকে বসন্ত কাল বলে ।
আরবীতে ‘রবি’ অর্থ বসন্ত। আওয়াল অর্থ
‘প্রথম অংশ’। একত্রে রবিউল আওয়াল অর্থ
‘বসন্তের প্রথম অংশ’। দ্বাদশ অর্থ ১২ ।
প্রশিদ্ধ মতানুযায়ী ১২ রবিউল
আওয়ালে হযরত মুহাম্মদ সাঃ
জন্ম গ্রহন করেছেন।
এবার দেখুন ইসলাম গ্রহনের জন্য আদেশঃ
কল্কি অবতারের ২৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে,
"লা ইলাহা হরতি পাপম্ ইলইলাহা পরম
পাদম্, জন্ম বৈকুন্ঠ অপ ইনুতি ত জপি নাম
মুহাম্মদ" অর্থঃ আল্লাহ এর আশ্রয় ব্যতিত
পাপ মুক্তির কোন উপায় নেই । আল্লাহর
আশ্রয় প্রকৃত আশ্রয় । স্বর্গ পাওয়া প্রভুর
পরিচয় লাভ এবং ক্ষমা পেতে হলে
মুহাম্মদ (সাঃ) কেই মানতে হবে ।
বৈকুন্ঠে জন্মলাভের আশা করলে তার
আশ্রয় ব্তিত অন্য কোন উপায় নেই।
এজন্য মুহাম্মদ সাঃ এর প্রদর্শিত পথে
অনুসন্ধান অপরিহার্য ।
(মোটকথা ইসলামে দিক্ষিত হতে হবে।)
এবার দেখুন হিন্দু শাস্ত্রে আল্লাহ,
মুহাম্মদ, রাসূল শব্দ যোগে শ্লোক।
"হোতার মিন্দ্রো হোতার মিন্দ্রো
মহাসুরিন্দ্রবোঃ, অল্লো ,জ্যেষ্টং,
পরমং, পূর্ণং, ব্রক্ষণং অল্লাম। অল্লো
রসূল মুহাম্মদ রকং বরস্য অল্লো-অল্লাম ।
আদাল্লং বুক মেকং অল্লা বুকংল্লান
লিখাতকম।" অর্থঃ অল্লোপণিষদ
দেবতাদের রাজা আল্লাহ আদি ও
সকলের বড় ইন্দ্রের গুরু। আল্লাহ পূর্ণ ব্রহ্ম,
মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল। পরম বরণীয়
আল্লাহই। তাঁর অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আর কেউ
নেই। আল্লাহ অক্ষয়, অব্যয়, স্বয়ম্ভু ।
এছাড়া আরো তথ্য আছে যা সত্য
সন্ধানীদেরকে ইসলাম গ্রহনের জন্য
আহ্বান করে। পরিতাপের বিষয় হল, হিন্দু
সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুরা এগুলো সতর্কতার
সাথে লুকিয়ে রাখেন। এমন কি পাঠ
করা শ্রবণ করা পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে
নিষিদ্ধ করেছেন। যদি এগুলো সবার
হাতের নাগালে হত অবিশ্যম্ভাবী
ভাবে হিন্দু জাতি শুধুইতিহাসে থাকত
।
নিশ্চয় আল্লাহর কাছে একমাত্র
মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম।(আল
ইমরানঃ১৯)
যে চৌদ্দটি আমলে রিযিক বাড়ে
সংকলনঃ আলী হাসান তৈয়ব,
সম্পাদনাঃ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া।
মুসলিম মাত্রেই বিশ্বাস করেন যে তার আয় ও উপার্জন, জীবন ও মৃত্যু, এবং সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য ইত্যাদি র্নিধারণ হয়ে যায়, যখন তিনি মায়ের পেটে শিশু অবস্থায় থাকেন তখনই। আর এসব তিনি লাভ করেন তার জন্য বরাদ্দ উপায়-উপকরণগুলোর মাধ্যমে। তাই আমাদের কর্তব্য হলো হাত গুটিয়ে বসে না থেকে রিযিকের জন্য র্নিধারিত উপায়-উপকরণ সংগ্রহের চেষ্টা করা। যেমন চাষাবাদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-চারু, চাকরি-বাকরি বা অন্য কিছু। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর দেওয়া রিযক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটেই তোমরা প্রত্যাবর্তন করবে।” সুরা আল-মুলকঃ ১৫।
• আজ আমরা রিজিক বৃদ্ধির উপায়সমূহের মধ্যে কুরআন ও হাদীস রোমন্থিত ১৪টি আমলের কথা আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
প্রথম আমলঃ
তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল অবলম্বন করা
আল্লাহর ভয় তথা তাক্বওয়া অবলম্বন করা, অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশাবলী পালন করা এবং হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বর্জন করা। পাশাপাশি আল্লাহর ওপর অটল আস্থা রাখা, তাওয়াক্কুল করা এবং রিজিক তালাশে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। কারণ, যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আল্লাহ তাআ’লা ইরশাদ করেন, “আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দিবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।” সুরা আত-তালাকঃ ২-৩।
সুতরাং, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে এবং তাঁর আনুগত্য করবে, আল্লাহ তার সকল সংকট দূর করে দেবেন এবং তার কল্পনাতীত স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। আর যে কেউ তার উদ্দেশ্য হাসিলে একমাত্র আল্লাহর শরণাপন্ন হয়, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। বলাবাহুল্য এই তাকওয়ার পরিচয় মেলে হালাল উপার্জনের চেষ্টা এবং সন্দেহযুক্ত উপার্জন বর্জনের মধ্য দিয়ে।
দ্বিতীয় আমলঃ
তাওবা ও ইস্তেগফার করা
অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার এবং বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও রিজিক বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআ’লা তাঁর অন্যতম নবী ও রাসুল নূহ আ’লাইহিস সালামের ঘটনা তুলে ধরে ইরশাদ করেন, “আর আমি (নূহ) বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল। (তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে) তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, আর তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা।” সুরা নূহঃ ১০-১২।
একটি হাদীসে বিষয়টি আরেকটু খোলাসা করে বলা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আ’নহুমা কর্তৃক বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের সংস্থান করে দেবেন।” আবু দাউদঃ ১৫২০, ইবন মাজাঃ ৩৮১৯, তাবরানীঃ ৬২৯১। (শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুলাহ বলেন, “সনদগত দিক থেকে এই হাদীসটি জয়িফ বা দুর্বল, কিন্তু এই হাদীসের মর্ম ও বক্তব্য সহীহ বা সঠিক। কুরআনের আয়াত ও হাদীসে এই বক্তব্যের সমর্থন বিদ্যমান।” এই হাদীস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পর শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “সর্বোপরি হাদীসটি তারগীব ও তারহীব তথা, মানুষকে আখিরাতের আগ্রহ বা ভয় দেখানোর ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। কারণ, এ ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহে একাধিক বক্তব্য পাওয়া যায়।” ফাতাওয়া নূর আলাদ-দারবি, হাদীসের ব্যাখ্যা ও তার হুকুম।
অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তেগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।” বায়হাকীঃ ৬৩৬, হাকেম, মুস্তাদরাকঃ ৭৬৭৭ সহীহ সূত্রে বর্ণিত।
তৃতীয় আমলঃ
আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা
আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের হক আদায়ের মাধ্যমেও রিজিক বাড়ে। যেমনঃ আনাস ইবন মালেক রাদিআল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি কামনা করে যে, তার রিজিক প্রশস্ত করে দেওয়া হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, তাহলে সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।” বুখারীঃ ৫৯৮৫, মুসলিমঃ ৪৬৩৯।
চতৃর্থ আমলঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ পড়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠেও রিজিকে প্রশস্ততা আসে। যেমনটি অনুমিত হয় নিম্নোক্ত হাদীস থেকে। তোফায়েল ইবন উবাই ইবন কা’ব রাদিআল্লাহু আ’নহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার প্রতি অধিকহারে দরূদ পড়তে চাই, অতএব আমার দুয়ার মধ্যে আপনার দরূদের জন্য কতটুকু অংশ রাখব? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। কা’ব বলেন, আমি বললাম, এক চতুর্থাংশ। তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে যদি তুমি আরো বেশি দরুদ পড়, তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, অর্ধেক? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি আরো বেশি পড়, তা তোমার জন্য উত্তম হবে। কা’ব বলেন, আমি বললাম, তাহলে দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, আমার দুয়ার পুরোটা জুড়েই শুধু আপনার দরূদ রাখব। তিনি বললেন, তাহলে তা তোমার ঝামেলা ও প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে। তিরমিযীঃ ২৬৪৫, হাকেম, মুস্তাদরাকঃ ৭৬৭৭। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি ‘হাসান সহীহ’।
পঞ্চম আমলঃ
আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা
আল্লাহর রাস্তায় কেউ ব্যয় বা দান করলে তা বিফলে যায় না। সে সম্পদ ফুরায়ও না। বরং তা বাড়ে বৈ কি। আল্লাহ তাআ’লা ইরশাদ করেছেন, “(হে নবী!) আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিযকদাতা।” সুরা আস-সাবাঃ ৩৯।
ষষ্ঠ আমলঃ
বারবার হজ-উমরা করা
হজ ও উমরা পাপ মোচনের পাশাপাশি হজকারী ও উমরাকারী ব্যক্তির অভাব-অনটন দূর করে এবং তার সম্পদ বাড়িয়ে দেয়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিআল্লাহু আ’নহুমা কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা হজ ও উমরা পরপর করতে থাক। কেননা তা অভাব ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেমন দূর করে দেয় কামারের হাপর লোহা, সোনা ও রুপার ময়লাকে।” তিরমিযীঃ ৮১৫, নাসাঈঃ ২৬৩১।
সপ্তম আমলঃ
দুর্বলের প্রতি সদয় হওয়া বা সদাচার করা
মুসআ’ব ইবন সা’দ রাদিআল্লাহু আ’নহু একবার যুদ্ধ জয়ের পর মনে মনে কল্পনা করলেন, তিনি বোধ হয় তাঁর বীরত্ব ও শৌর্য-বীর্য হেতু অন্যদের চেয়ে নিজেকে বেশি মর্যাদাবান। সেই প্রেক্ষিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের মধ্যে থাকা দুর্বলদের কারণে কেবল তোমাদের সাহায্য করা হয় এবং রিজিক প্রদান করা হয়।” সহীহ বুখারীঃ২৮৯৬।
অষ্টম আমলঃ
ইবাদতের জন্য ঝঞ্ঝাটমুক্ত হওয়া
আল্লাহর ইবাদতের জন্য ঝামেলামুক্ত হলে এর মাধ্যমেও অভাব দূর হয় এবং প্রাচুর্য লাভ হয়। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আ’নহু কর্তৃক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি ঝামেলামুক্ত হও, আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাত ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না।” তিরমিযীঃ ২৬৫৪, মুসনাদ আহমদঃ ৮৬৮১, ইবন মাজাঃ ৪১০৭।
নবম আমলঃ
আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করা
আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে হিজরত তথা স্বদেশ ত্যাগ করলে এর মাধ্যমেও রিজিকে প্রশস্ততা ঘটে। যেমনটি অনুধাবিত হয় নিচের আয়াত থেকে। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “আর যে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করবে, সে যমীনে বহু আশ্রয়ের জায়গা ও সচ্ছলতা পাবে। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে মুহাজির হয়ে নিজ ঘর থেকে বের হয় তারপর তাকে মৃত্যু পেয়ে বসে, তাহলে তার প্রতিদান আল্লাহর উপর অবধারিত হয়। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” সূরা আন-নিসাঃ ১০০। এই আয়াতের ব্যাখ্যা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস প্রমুখ সাহাবী রাদিআল্লাহু আ’নহুমা বলেন, স্বচ্ছলতা অর্থ রিজিকে প্রশস্ততা।
দশম আমলঃ
আল্লাহর পথে জিহাদ
একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের জন্যে জিহাদ করলে এর দ্বারা সম্পদের ব্যপ্তি ঘটে। গনীমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মাধ্যমে সংসারে প্রাচুর্য আসে। যেমন ইবন উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আর আমার রিজিক রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে।” মুসনাদ আহমদঃ ৫৬৬৭; বায়হাকীঃ ১১৫৪, শুআ’বুল ঈমানঃ ১৯৭৮৩।
একাদশ আমলঃ
আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা
সাধারণভাবে আল্লাহ যে রিজিক ও নিয়ামতরাজি দান করেছেন, তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া করা এবং তাঁর প্রশংসা করা। কারণ, শুকরিয়ার ফলে নেয়ামত বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআ’লা ইরশাদ করেন, “আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, যদি তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব। আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আযাব বড় কঠিন।” সুরা ইবরাহীমঃ ৭।
আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা শুকরিয়ার বদৌলতে নেয়ামত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আর বলাবাহুল্য আল্লাহর বাড়ানোর কোনো সীমা-পরিসীমা নাই।
দ্বাদশ আমলঃ
বিয়ে করা
আজকাল মানুষের দুনিয়ার প্রাচুর্য ও বিলাসের প্রতি আসক্তি এত বেশি বেড়েছে, তারা প্রচুর অর্থ নেই এ যুক্তিতে প্রয়োজন সত্ত্বেও বিয়ে বিলম্বিত করার পক্ষে রায় দেন। তাদের কাছে আশ্চর্য লাগতে পারে এ কথা যে বিয়ের মাধ্যমেও মানুষের সংসারে প্রাচুর্য আসে। কারণ, সংসারে নতুন যে কেউ যুক্ত হয়, সে তো তার জন্য বরাদ্দ রিজিক নিয়েই আসে। আল্লাহ তাআ’লা ইরশাদ করেন, “আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।” সুরা আন-নূরঃ ৩২।
উমর ইবন খাত্তাব রাদিআল্লাহু আ’নহুমা বলতেন, “ওই ব্যক্তির ব্যাপার বিস্ময়কর, যে বিয়ের মধ্যে প্রাচুর্য খোঁজে না। কারণ, স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন, তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন।”
ত্রয়োদশ আমলঃ
অভাবের সময় আল্লাহমুখী হওয়া এবং তার কাছে দুয়া করা
রিজিক অর্জনে এবং অভাব দূরীকরণে প্রয়োজন আল্লাহর কাছে দুয়া করা। কারণ, তিনি প্রার্থনা কবুল করেন। আর আল্লাহ তাআ’লাই রিজিকদাতা এবং তিনি অসীম ক্ষমতাবান। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “আর তোমাদের রব বলেছেন, “তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব।” সুরা আল-মু’মিনঃ ৬০।
এ আয়াতে আল্লাহ দুয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন আর তিনি তা কবুলের জিম্মাদারি নিয়েছেন। যতক্ষণ না দুয়া কবুলে জন্য কোনো বাঁধা বা অন্তরায় না হয়। যেমন ওয়াজিব তরক করা, হারাম কাজে জড়ানো, হারাম আহার গ্রহণ বা হারাম পোশাক পরা ইত্যাদি এবং, দুয়া কবুলের জন্যে খানিক বিলম্বিতকরণ। আল্লাহর কাছে এইভাবে দুয়া করা যেতে পারে, “হে রিজিকদাতা আমাকে রিজিক দান করুন, আপনি সর্বোত্তম রিজিকদাতা। হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে পবিত্র, প্রশস্ত রিজিক চাই। হে সেই সত্তা, যার দানের ঢল সত্ত্বেও যার ভাণ্ডারে কোন কমতি হয় না। হে আল্লাহ, আমাকে আপনি আপনার হালাল দিয়ে আপনার হারাম থেকে যথেষ্ট করে দিন। আর আপনার দয়া দিয়ে আপনি ছাড়া অন্যদের থেকে যথেষ্ট হয়ে যান। হে আল্লাহ আপনি আমাকে যে রিজিক দিয়েছেন তা দিয়েই সন্তুষ্ট বানিয়ে দিন। আর যা আমাকে দিয়েছেন তাতে বরকত দিন।”
অভাবকালে মানুষের কাছে হাত না পেতে আল্লাহর শরণাপন্ন হলে এবং তাঁর কাছেই প্রাচুর্য চাইলে অবশ্যই তার অভাব মোচন হবে এবং রিজিক বাড়ানো হবে। আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিআল্লাহু আ’নহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি অভাবে পতিত হয়, অতপর তা সে মানুষের কাছে সোপর্দ করে (অভাব দূরীকরণে মানুষের ওপর নির্ভরশীল হয়), তার অভাব মোচন করা হয় না। পক্ষান্তরে যে অভাবে পতিত হয়ে এর প্রতিকারে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হয় তবে অনিতবিলম্বে আল্লাহ তাকে তরিৎ বা ধীর রিজিক দেবেন।” তিরমিযীঃ ২৮৯৬, মুসনাদ আহমদঃ ৪২১৮।
চতুর্দশ আমলঃ
গুনাহ ত্যাগ করা, আল্লাহর দ্বীনের ওপর অটল থাকা এবং নেকীর কাজ করা
গুনাহ ত্যাগ করা, আল্লাহর দ্বীনের ওপর অটল থাকা এবং নেকীর কাজ করা, এসবের মাধ্যমেও রিজিকের রাস্তা প্রশস্ত হয়, যেমন পূর্বোক্ত আয়াতগুলো থেকে অনুমান করা যায়।
তবে,
সর্বোপরি আমাদের মনে রাখতে হবেঃ আমরা দুনিয়াতে চিরদিন থাকার জন্য আসি নি। তাই দুনিয়াকে প্রাধান্য না দিয়ে উচিত হবে আখিরাতকে অগ্রাধিকার ও প্রাধান্য দেয়া। আমাদের এদেন অবস্থা দেখে আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছ। অথচ আখিরাত সর্বোত্তম ও স্থায়ী।” সুরা আল-আ’লাঃ ১৬-১৭।
আর পরকালের মুক্তি ও চিরশান্তিই যার প্রধান লক্ষ্য, তার উচিত হবে রিজিকের জন্য হাহাকার না করে অল্পে তুষ্ট হতে চেষ্টা করা। যেমনঃ হাদীসে এসেছে আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আ’স রাদিআল্লাহু আ’নহুম থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সেই ব্যক্তি প্রকৃত সফল, যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, আর তাকে জীবন ধারণে (অভাবও নয়; বিলাসও নয়) পর্যাপ্ত পরিমাণ রিজিক দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে তুষ্টও করেছেন।” মুসলিমঃ ২৪৭৩, তিরমিযীঃ ২৩৪৮, আহমদঃ ৬৫৭২।
পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এসব উপায়-উপকরণ যোগাড় করে রিজিক তথা হালাল উপার্জনে উদ্যোগী ও সফল হবার তাওফীক দান করেন। তিনি যেন আপনাদের রিজিক ও উপার্জনে প্রশস্ততা দান করেন। আমীন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Website
Address
Arts Faculty
Chittagong
4000