22/01/2026
Maybe in another universe....
স্কুল লাইফের সাদা ইউনিফর্মে ফেলে আসা শৈশবের স্মৃতিমূখর রঙ্গিন দিনগুলির গল্প বলুন আমাদের মাধ্যমে; নীল-সাদা প্লাটফর্মে।
22/01/2026
Maybe in another universe....
এই তো সেদিনও মিছিলে আমাদের সরব পদচারণা ছিল; অথচ আজ সবটাই ধূসর স্মৃতি, জমা আছে কেবল মনের কোনো এক নির্জন পাতায়....
Natmura Pukuria High School Short Stories
কোথায় হারিয়ে গেলো সোনালী শৈশব.....
বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।
15/01/2026
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত।
14/01/2026
আপনার প্রিয় স্মৃতিগুলো শেয়ার করুন আমাদের মাধ্যমে;
12/01/2026
Snowfall on Natmura Pukuria High School campus 😍🥶
12/01/2026
আপনার প্রিয় স্মৃতিগুলো শেয়ার করুন আমাদের মাধ্যমে
11/01/2026
আপনার পছন্দ কোনটি?
কমেন্টে জানান
08/01/2026
স্কুল জীবনের এই দুষ্টুমিগুলো কার কার কমন পড়েছে?
কমেন্টে জানান আপনার স্কোরসহ😁
07/01/2026
সরকারি/বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা
06/01/2026
স্কুল লাইফে কোনটি কোনটি করছেন?
কমেন্টে জানান আপনার স্কোরসহ😁
05/01/2026
পুকুরিয়াতে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন মরহুম মাহবুব আলম আনওয়ার
মরহুম মাহবুব আলম আনওয়ার ১৯২৫ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পুকুরিয়া নাটমুড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মোহাম্মদ আনওয়ার আলী চৌধুরী, মাতার নাম মরহুমা মোছাম্মৎ সায়েরা খাতুন। তিনি ১৯৪০ সালে বাঁশখালীর বাণীগ্রাম ইংলিশ হাই স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করেন, ১৯৪৪ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ (প্রকাশ চট্টগ্রাম কলেজ) থেকে গ্রাজুয়েশন এবং কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।
রাজনৈতিক পথচলা:
কলকাতা ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন তিনি রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী এবং অধ্যবসায়ী ছাত্র। তৎকালীন তিনি অল বেঙ্গল মুসলিম স্টুডেন্ট লীগ-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মুসলিম স্টুডেন্ট লীগের সভাপতি ছিলেন। অবৈতনিক ছাত্র সম্পাদক হিসেবে জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং খাজা স্যার নাজিম উদ্দীন-এর ঘনিষ্ঠতা লাভ করেন। তিনি বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল আওয়ামী মুসলিম লীগ-এর সাধারণ সম্পাদক জনাব আবুল হাশিম-এর অবৈতনিক একান্ত সচিবেরও দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে তৎকালীন শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
কর্মজীবন:
প্রথমে কলকাতা স্টার অব ইন্ডিয়া পত্রিকার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন সংস্থায় জয়েন্ট করেন। ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত রেকিট অ্যান্ড কোলম্যান গ্রুপে প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপক এবং প্রথম বাঙালি হিসেবে ১৯৭০ সাল থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত নন-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান পদে বহাল ছিলেন।
নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা:
তাঁর জন্মস্থান নাটমুড়া-পুকুরিয়াতে হাই স্কুল না থাকায় তিনি সবসময় মনঃক্ষুণ্ন হতেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন পরোপকারী, উদার এবং সদালাপী। এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় তিনি ব্যথিত হতেন। তিনি বড় হয়ে এলাকার জন্য ভালো কিছু করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন। যেমন কথা তেমনই কাজ। তিনি ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। একসময়ের সেই ছোট্ট বিদ্যালয়টি আজ চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে পরিচিত হয়ে উঠেছে পুরো বাংলাদেশে। এখন নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় চট্টগ্রামের স্বনামধন্য একটি বিদ্যাপীঠ। এই বিদ্যালয় এখন প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়। সবুজে আবৃত মনোরম পরিবেশে এই বিদ্যাপীঠ সবার নজর কাড়ে। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি নীতি-আদর্শের দিক থেকেও উন্নত। একসময়ের জরাজীর্ণ বিদ্যাপীঠ আজ সুবিশাল ভবনগুলো যেন আকাশ ছুঁয়েছে। মরহুম মাহবুব আলম আনওয়ার-এর প্রতিষ্ঠিত নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে যুগ যুগ ধরে। প্রতিষ্ঠার ৬৮ বছরে নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় দিয়েছে বহু জ্ঞানী-গুণী, বহু সাহিত্যিক, বহু সাংবাদিক, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, ডক্টর, কলামিস্ট, বরেণ্য রাজনীতিক, দেশ বরেণ্য চিন্তাবিদ। এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন। ১৯৫৭ সালে নাটমুড়া পুকুরিয়া জুনিয়র হাই স্কুল হিসেবে পথচলা শুরু হলেও পরবর্তীতে পূর্ণ হাই স্কুলে রূপ নেয়। এই বিদ্যালয়কে তিনি নিজের পরিবার মনে করতেন, যার ফলে তিনি আমৃত্যু এই প্রতিষ্ঠান আগলে রেখেছিলেন।
বর্তমানে নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় চট্টগ্রামের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মরহুম মাহবুব আলম আনওয়ার-এর সুযোগ্য প্রথম সন্তান, বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বাঁশখালী পুকুরিয়ার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব জনাব রাহাবার আলম আনওয়ার। পিতার মৃত্যুর পর থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেছেন। তাঁর হাত ধরেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এই বিদ্যাপীঠ। তিনি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পাল্টে যায় বিদ্যালয়ের চিত্র।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পড়ালেখার মানোন্নয়ন হয়েছে বহুগুণ। তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ় মনোবল, দূরদর্শিতা, নির্মোহ মানসিকতা এই স্কুলকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য উচ্চতায়। তাঁর বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাঁর বক্তব্যে জুড়ে থাকে উৎসাহ, উদ্দীপনা আর সফলতার স্বপ্নিল ভুবনে পৌঁছার মতো অনন্য অনুপ্রেরণা। তিনি যখন কথা বলেন, তখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ছাতক পাখির ন্যায় শুনতে থাকেন। এলাকার মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। তাঁর মতো অদম্য অধ্যবসায়ী, সৎ, উদার ও দৃঢ়চিত্ত মানুষের পরিচালনায়, ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
মরহুম মাহবুব আলম আনওয়ার-এর অনন্য অবদান:
তিনি শুধু নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন তা নয়। তিনি ১৯৫৮-৬৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার অবৈতনিক সম্পাদক, ১৯৬৫-৭২ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। ফরেন ইনভেস্ট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর ছয়বার সফল সভাপতি ছিলেন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আই.এল.ও-এর মেম্বার এবং সভাপতি হিসেবে এশিয়ান অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার জেনেভায় অনুষ্ঠিত ৬৪তম অধিবেশনে। তিনি বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি
(১৯৬৫-৭১ সাল) পুকুরিয়া ইউনিয়নের কাউন্সিল (চেয়ারম্যান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এলাকার শিক্ষার পাশাপাশি বহু মানুষের উপকার করেছেন। বেকার যুবকদের বিভিন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রেখেছেন অসামান্য অবদান। তাঁর অকৃপণ সহায়তায় বহু মানুষ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, হয়েছেন স্বাবলম্বী। তিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ একজন দানবীর। গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের গোপনে দান করতেন তিনি। তাঁর অবদানে বাঁশখালীসহ পুকুরিয়া ইউনিয়নে শিক্ষার জ্যোতি ছড়িয়েছে ঘরে ঘরে। তিনি চট্টগ্রামের এক কৃতিমান মহাপুরুষ। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, উদারতা, দানশীলতা, পরোপকারী মানসিকতা, নির্মোহ মানসিকতা, সেবার সদিচ্ছা, জবাবদিহিতার মতো মহৎ গুণের কারণে তিনি যুগ যুগ ধরে স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে থাকবেন। এই মহান ব্যক্তিত্ব ৮২ বছর বয়সে ২০০৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে ইহকালীন জীবনের সমাপ্তি ঘটান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার কন্যা, তিন পুত্র, ১৫ জন নাতি-নাতনি এবং এক বোন রেখে যান। সেই সঙ্গে এলাকার মানুষকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান। আল্লাহ পাক তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা করুন। আমিন।
লেখক: নুর আহমদ সিদ্দিকী
সাংবাদিক, কলামিস্ট, সমাজকর্মী ও শিক্ষক