Amanah Hajj & Umrah Services

Amanah Hajj & Umrah Services কা'বা, হজ্ব ও ইসলামের বিভিন্ন পুরাতন ইতিহাস, দুষ্প্রাপ্য ছবি ও ভিডিও আর্কাইভ

14/09/2026

⛈️ মক্কাজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড় আঘাত হেনেছে। এর মধ্যেও পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় অব্যাহত রাখেন—তৈরি হয় হৃদয়ছোঁয়া ও দৃষ্টিনন্দন কিছু দৃশ্য।

অস্থিতিশীল আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের উপত্যকা এবং নিচু এলাকাগুলো থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মক্কার সেই ঐতিহাসিক 'আজয়াদ দুর্গ': যা এখন কেবলই স্মৃতি! 🏰যেখানে আজ রাজকীয় ঘড়ি টাওয়ার (Clock Tower) মাথা উঁচু করে দাঁ...
03/09/2026

মক্কার সেই ঐতিহাসিক 'আজয়াদ দুর্গ': যা এখন কেবলই স্মৃতি! 🏰

যেখানে আজ রাজকীয় ঘড়ি টাওয়ার (Clock Tower) মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক সেই জায়গাটি একসময় পাহারা দিত এক ঐতিহাসিক উসমানীয় দুর্গ—যার নাম 'আজয়াদ দুর্গ' (Ajyad Fortress)!

মক্কার বুলবুল পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই দুর্গটি থেকে পবিত্র মসজিদুল হারাম এবং কাবা শরিফের দৃশ্য ছিল সত্যিই অতুলনীয়।

ইতিহাস ও নেপথ্য গল্প

📜নির্মাণকাল: ১৭৮০ সালে মক্কার তৎকালীন গভর্নর শরিফ সুরুর বিন মুসাইদ এটি নির্মাণ করেন। মূল উদ্দেশ্য: আক্রমণকারী ও ডাকাতদের হাত থেকে কাবা শরিফ এবং পবিত্র মক্কা নগরীকে রক্ষা করার জন্য বেশ কয়েকটি দুর্গের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম।

পুনর্নির্মাণ: পরবর্তীতে শরিফ গালিব বিন মুসাইদের শাসনামলে এর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ করা হয়।যেভাবে হারিয়ে গেল ঐতিহাসিক এই নিদর্শন ⚠️উসমানীয় আমলের এই অমূল্য স্মৃতিচিহ্নটি ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে ভেঙে ফেলা হয়। হারাম শরিফের আশেপাশের এলাকা আধুনিকায়ন এবং বিখ্যাত 'ব্রাজ আল-বায়েত ক্লক টাওয়ার' নির্মাণের জন্য বুলবুল পাহাড়সহ এই দুর্গটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যেখানে কোটি কোটি হাজি সালাত আদায় করেন এবং আধুনিক মক্কার স্কাইলাইন দেখা যায়, ঠিক এখানেই একসময় দাঁড়িয়ে ছিল শতবর্ষী এই দুর্গ। কালের গর্ভে দুর্গটি হারিয়ে গেলেও ১৯৯১ সালের তোলা এর কিছু দুর্লভ ছবি আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় মক্কার পুরনো রূপটি কেমন ছিল।

সময়ের পরিক্রমায় মক্কার রূপ বদলে গেছে পুরোপুরি। আপনার কি মনে হয়, এই ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করা উচিত ছিল, নাকি বর্তমান আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও সম্প্রসারণই বেশি জরুরি?

মসজিদুল হারামের ইমামদের দিনভেদে বিশ্ত পরিধানের একটি নির্দিষ্ট রুটিন রয়েছে বলে এই তথ্যচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ত হলো ...
25/08/2026

মসজিদুল হারামের ইমামদের দিনভেদে বিশ্ত পরিধানের একটি নির্দিষ্ট রুটিন রয়েছে বলে এই তথ্যচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ত হলো আরবদের ঐতিহ্যবাহী একটি লম্বা পোশাক, যা সাধারণত সাদা থোবের ওপর পরা হয়। এটি সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

পোস্টের সাথে দেয়া ছবি অনুযায়ী, সপ্তাহের প্রতিদিন বিশ্তের রঙে রয়েছে ভিন্নতা—

🟡 রবিবার — হলুদ
🟤 সোমবার — উড বা গাঢ় বাদামি
⚫ মঙ্গলবার — কালো
🟤 বুধবার — হালকা বাদামি
🤎 বৃহস্পতিবার — বেইজ
⚪ শুক্রবার — সাদা
🟤 শনিবার — হালকা বা গাঢ় বাদামি

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এটি কোনো ধর্মীয় বিধান নয়; বরং প্রচলিত পোশাকের রুটিন বা ঐতিহ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ওমরাহযাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম আনছে সৌদি আরববাংলাদেশসহ চারটি দেশের ওমরাহযাত্রীদের জন্য নতুন নীতিমালা চালু করতে যাচ্ছে সৌ...
04/08/2026

ওমরাহযাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম আনছে সৌদি আরব

বাংলাদেশসহ চারটি দেশের ওমরাহযাত্রীদের জন্য নতুন নীতিমালা চালু করতে যাচ্ছে সৌদি আরব।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওমরাহ ভিসা পাওয়ার জন্য প্রতিদিনের খাবারের উদ্দেশ্যে বাধ্যতামূলক নুসুক (Nusuk) ফুড ভাউচার কিনতে হবে। প্রতিদিন এই ভাউচারের মূল্য হবে প্রায় ২০ সৌদি রিয়াল, যা ওমরাহ ভিসার মোট ফি-এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

যেসব দেশের ওমরাহযাত্রীদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য:
🇧🇩 বাংলাদেশ
🇵🇰 পাকিস্তান
🇮🇳 ভারত
🇪🇬 মিশর

🗓️ কার্যকর হবে: ১ রবিউল আউয়াল।

আপনি যদি ওমরাহ করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে নতুন এই নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নিন এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

দ্রষ্টব্য: সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে এই নীতিমালায় পরিবর্তন বা নতুন নির্দেশনা দিতে পারে। তাই ভিসা আবেদন করার আগে সর্বশেষ তথ্য সংশ্লিষ্ট ওমরাহ এজেন্সি বা সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া উত্তম।

❤️ আল্লাহর ঘরে যাওয়ার আগে, আল্লাহ তাঁর বান্দার ঘরে আপনাকে পাঠাতে পারেন...হজ শেষ করে জেদ্দা বিমানবন্দরে বসে ছিলেন সাঈদ। ...
11/07/2026

❤️ আল্লাহর ঘরে যাওয়ার আগে, আল্লাহ তাঁর বান্দার ঘরে আপনাকে পাঠাতে পারেন...

হজ শেষ করে জেদ্দা বিমানবন্দরে বসে ছিলেন সাঈদ। তাঁর পাশেই বসেছিলেন আরেক হাজী।

লোকটি বললেন,
"আলহামদুলিল্লাহ, এটা আমার দশম হজ।"

সাঈদ বললেন,
"আল্লাহ আপনার হজ কবুল করুন।"

এরপর লোকটি জানতে চাইলেন,
"আপনি এর আগে কখনও হজ করেছেন?"

সাঈদ কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন,
"আমার হজের গল্পটা একটু অন্যরকম..."

৩০ বছর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করে সাঈদ জীবনের প্রথম হজে যাওয়ার জন্য টাকা জমিয়েছিলেন।

বেতন হাতে পাওয়ার দিনই তিনি দেখলেন তাঁর এক রোগীর মা চোখে পানি নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছেন।

জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন,

"আজই আমাদের শেষ দিন। আমার স্বামী চাকরি হারিয়েছেন। ছেলের চিকিৎসার খরচ আর চালাতে পারছি না।"

সাঈদের বুকটা কেঁপে উঠল।

তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলেন যেন ছেলেটির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হয়।

কিন্তু উত্তর এলো,

"এটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা নয়।"

হতাশ হয়ে বেরিয়ে আসার সময় সাঈদ পকেটে হাত দিলেন।

সেখানেই ছিল তাঁর বহু বছরের স্বপ্ন—হজের জন্য জমানো সব টাকা।

তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন,

"হে আল্লাহ! আপনি জানেন, আপনার ঘর দেখার জন্য আমি সারা জীবন অপেক্ষা করেছি। কিন্তু আজ এই অসহায় মা ও তার সন্তানের প্রয়োজন আমার নিজের চেয়েও বড় মনে হচ্ছে। আপনি আমাকে আপনার অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করবেন না।"

তিনি এক মুহূর্ত দেরি না করে হজের জন্য জমানো পুরো টাকাই ছেলেটির চিকিৎসার জন্য জমা দিয়ে দিলেন।

হিসাবরক্ষককে শুধু একটি অনুরোধ করলেন,

"দয়া করে বলবেন, হাসপাতালের বিশেষ সহায়তা তহবিল থেকে এই খরচ দেওয়া হয়েছে। আমার নাম যেন তারা না জানে।"

সেদিন রাতে সাঈদ কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়লেন।

স্বপ্নে দেখলেন—

তিনি কাবা শরীফ তাওয়াফ করছেন।

চারপাশ থেকে মানুষ বলছে,

"হজে মাবরুর, হে সাঈদ! পৃথিবীতে হজ করার আগেই আকাশে তোমার হজ কবুল হয়ে গেছে।"

পরদিন সকালে হাসপাতালের মালিকের কাছ থেকে ফোন এল।

তিনি হজে যাচ্ছেন, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্ট যেতে পারছেন না।

তাই সাঈদকে তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ খরচে হজে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলো।

শুধু তাই নয়...

🔹 ছেলেটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব হাসপাতালের মালিক নিজে নিলেন।

🔹 অসহায় রোগীদের জন্য হাসপাতালে একটি স্থায়ী সহায়তা তহবিল চালু করলেন।

🔹 ছেলেটির বাবাকে নিজের প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিলেন।

🔹 সাঈদ যে টাকা ব্যয় করেছিলেন, সেটিও তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন।

গল্প শেষ হওয়ার পর পাশে বসা সেই ব্যক্তি চোখ ভেজা কণ্ঠে বললেন,

"আমি ভাবতাম, বারবার হজ করেই হয়তো আল্লাহর কাছে অনেক বড় হয়ে গেছি। আজ বুঝলাম, আমি আল্লাহর ঘরে গিয়েছি; কিন্তু আল্লাহ আপনাকে নিজেই তাঁর ঘরে ডেকেছেন।"

🌿 শিক্ষা

অনেক সময় আল্লাহ আমাদের ইবাদতের পথেই পরীক্ষা নেন।

কখনো কখনো একজন অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘব করাই এমন একটি আমল হয়ে যায়, যার প্রতিদান আমাদের কল্পনারও বাইরে।

আল্লাহ আমাদের এমন আন্তরিকতা, ইখলাস এবং মানুষের উপকার করার তাওফিক দান করুন। আমীন। 🤲

২০১৫ সালের হজ মৌসুম মুসলিম বিশ্বের জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি বড় দুর্ঘটনায় শত শত হাজী ...
06/07/2026

২০১৫ সালের হজ মৌসুম মুসলিম বিশ্বের জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি বড় দুর্ঘটনায় শত শত হাজী প্রাণ হারান, যা আধুনিক হজ ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে অন্যতম শোকাবহ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

🕌 ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫: মসজিদুল হারামে ক্রেন দুর্ঘটনা

হজ শুরুর কয়েকদিন আগে মক্কার মসজিদুল হারামে সম্প্রসারণ কাজ চলাকালে একটি বিশাল নির্মাণ ক্রেন ঝড়ো বাতাস ও প্রবল বৃষ্টির কারণে ভেঙে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১০৭ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন।

সৌদি কর্তৃপক্ষের তদন্তে জানানো হয়, বিরূপ আবহাওয়ার কারণেই ক্রেনটি ভেঙে পড়ে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নির্মাণকাজ পরিচালনা নিয়ে সে সময় বিভিন্ন মহলে প্রশ্নও ওঠে।

🕋 ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫: মিনায় পদদলিত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু

ঈদুল আজহার দিন মিনায় জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ (রমি) করার সময় ভয়াবহ পদদলনের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে অন্তত ৭১৭ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়, যদিও পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব হিসাব প্রকাশ করে এবং প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে দাবি করা হয়।

ইরান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, নাইজেরিয়া, পাকিস্তানসহ বহু দেশের হাজীরা এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।

ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সৌদি সরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ঘোষণা দেয় এবং ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনা আরও নিরাপদ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন আনে।

এই দুটি দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—হজ শুধু একটি ইবাদতই নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম। লক্ষ লক্ষ মানুষের নিরাপদভাবে ইবাদত সম্পন্ন করতে পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং কার্যকর জননিয়ন্ত্রণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, ২০১৫ সালের ঘটনাগুলো তার এক মর্মস্পর্শী স্মারক।

আল্লাহ তাআলা সে বছরের সকল নিহত হাজীদের শাহাদাতের মর্যাদা দান করুন এবং ভবিষ্যতে সকল হাজীকে নিরাপদে হজ আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমীন।

©Amanah Hajj & Umrah Services

📍 তাওয়াফ ও সাঈর জন্য ইলেকট্রিক কার্ট ব্যবহারের নির্দেশনামসজিদুল হারামে তাওয়াফ ও সাঈ সহজে সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ ইলেকট্র...
23/06/2026

📍 তাওয়াফ ও সাঈর জন্য ইলেকট্রিক কার্ট ব্যবহারের নির্দেশনা

মসজিদুল হারামে তাওয়াফ ও সাঈ সহজে সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ ইলেকট্রিক কার্ট সেবা চালু রয়েছে। বয়স্ক, অসুস্থ, শারীরিকভাবে দুর্বল অথবা দীর্ঘ দূরত্ব হাঁটতে অসুবিধা হয় এমন মুসল্লিরা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

🎟️ টিকিট সংগ্রহের পদ্ধতি

ইলেকট্রিক কার্টের টিকিট দুইভাবে সংগ্রহ করা যায়—
অফিশিয়াল Tanaqol প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে বুকিং করে।

সরাসরি নির্ধারিত ইলেকট্রিক কার্ট কাউন্টার থেকে।
কাউন্টারে সাধারণত QR কোড স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধ করা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্ড ও নগদ—উভয় ধরনের পেমেন্ট গ্রহণ করা হয়।

📍 ইলেকট্রিক কার্টে প্রবেশের প্রধান স্থান
ইলেকট্রিক কার্ট ব্যবহারের জন্য সাধারণত নিচের প্রবেশপথগুলো ব্যবহার করা হয়—

- আজিয়াদ ব্রিজ (গেট ৪-এর নিকটে)
- শুবাইকাহ ব্রিজ (গেট ৬৪-এর নিকটে)

হারাম শরিফের ভেতরে থাকা ইলেকট্রিক কার্টের নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড অনুসরণ করলে সহজেই নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানো যায়।

💰 সম্ভাব্য ভাড়া

সর্বশেষ প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী ভাড়া সাধারণত—

- শুধু তাওয়াফ: ১০০–১৫০ সৌদি রিয়াল
- শুধু সাঈ: ১০০–১৫০ সৌদি রিয়াল
- তাওয়াফ ও সাঈ (সম্পূর্ণ উমরাহ): ২০০–৩০০ সৌদি রিয়াল

ভিড়, মৌসুম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টিকিট সংগ্রহের আগে সর্বশেষ মূল্য জেনে নেওয়া উত্তম।

💡 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

কাউন্টার থেকে টিকিট কিনতে কোনো অ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়।

যাত্রীদের সুবিধার্থে নির্ধারিত ট্র্যাক ও নির্দিষ্ট তলায় ইলেকট্রিক কার্ট পরিচালিত হয়।

কার্ট ব্যবহারকারীদের নির্ধারিত সময় ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে হয়।

🤍 আল্লাহ তাআলা সকল হাজী ও উমরাহ যাত্রীর ইবাদত কবুল করুন এবং তাদের যাত্রা সহজ ও বরকতময় করুন। আমীন।

হজ বা উমরাহ পালন শেষে যখন একজন মুসলিম নিজ দেশে ফিরে আসেন, তখন বাহ্যিকভাবে তিনি পরিবার, কর্মজীবন ও পরিচিত পরিবেশে ফিরে এল...
19/06/2026

হজ বা উমরাহ পালন শেষে যখন একজন মুসলিম নিজ দেশে ফিরে আসেন, তখন বাহ্যিকভাবে তিনি পরিবার, কর্মজীবন ও পরিচিত পরিবেশে ফিরে এলেও অনেকের হৃদয় যেন থেকে যায় মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমিতে। কাবা শরিফের দিকে তাকিয়ে কাটানো মুহূর্তগুলো, মসজিদে নববীর প্রশান্ত পরিবেশ, আজানের সুমধুর ধ্বনি, তাওয়াফের আবেগ আর আল্লাহর ঘরের নৈকট্য—সবকিছু যেন বারবার স্মৃতিতে ফিরে আসে।

অনেক হাজী ও উমরাহ যাত্রী দেশে ফিরে এসে এক ধরনের শূন্যতা, অস্থিরতা বা গভীর বিষণ্নতা অনুভব করেন। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় ফিরে গেলেও তাদের মন বারবার উড়ে যায় মক্কা-মদিনার পথে। মন চায় আবার সেই পবিত্র পরিবেশে ফিরে যেতে, আবার কাবার সামনে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত দোয়া করতে।

মনোবিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে অনেক সময় “পোস্ট-হজ সিনড্রোম” বা “পোস্ট-উমরাহ সিনড্রোম” নামে উল্লেখ করেন। এটি কোনো মানসিক রোগ নয়; বরং অত্যন্ত গভীর ও হৃদয়স্পর্শী একটি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার পর স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া।

এর সঙ্গে হজের শারীরিক ও মানসিক বাস্তবতারও একটি সম্পর্ক রয়েছে। হজের দিনগুলোতে অবিরাম মানুষের সমাগম, রাতকে দিনের মতো আলোকিত করে রাখা ফ্লাডলাইট, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিরন্তর যাতায়াত এবং ইবাদতের ব্যস্ততার কারণে অধিকাংশ হাজিই পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারেন না। অনেকের ভাগ্যে খণ্ড খণ্ডভাবে মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা ঘুম জোটে।

তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি কোনো রোগের লক্ষণ নয়। হজের সময় মানুষ ঘুমের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, যিকির এবং অন্যান্য ইবাদতে। ফলে শরীর ও মন একটি ভিন্ন পরিবেশ ও রুটিনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। দেশে ফিরে হঠাৎ সেই পরিবেশ পরিবর্তিত হলে কিছুদিনের জন্য শূন্যতা, আবেগপ্রবণতা বা ঘুমের অনিয়ম দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৮০ শতাংশ হাজী হজ মৌসুম শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিক ঘুম ও জীবনযাত্রায় ফিরে আসেন। তাই হজ-পরবর্তী এই অনুভূতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়।

হজের দিনগুলোতে একজন মুসলমান নিজেকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী অনুভব করেন। ইবাদতে মনোযোগ, আত্মশুদ্ধি, তাওবা, দোয়া এবং দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে সাময়িক দূরত্ব মানুষের অন্তরে এক বিশেষ প্রশান্তি এনে দেয়। তাই সেই পরিবেশ থেকে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে সাধারণ জীবনে ফিরে আসার পর অনেকেই অনুভব করেন—কিছু একটা যেন হারিয়ে গেছে।

অনেকের মুখে শোনা যায়—

"সবকিছু আগের মতোই চলছে, কিন্তু মনটা যেন আগের জায়গায় নেই। নামাজ পড়ি, কিন্তু মক্কা-মদিনার মতো সেই আবেগ অনুভব করি না। বারবার মনে পড়ে কাবা শরিফ, রওজা মুবারক আর সেই পবিত্র দিনগুলোর কথা।"

এছাড়া সমাজে "হাজী সাহেব" বা "হাজী সাহেবা" পরিচয়ের সঙ্গে কিছু প্রত্যাশাও যুক্ত থাকে। মানুষ আশা করে, হজ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তি আরও বেশি ধৈর্যশীল, পরহেজগার ও আদর্শবান হবেন। কখনো কখনো এই সামাজিক প্রত্যাশাও মানসিক চাপের কারণ হতে পারে, বিশেষত যখন কেউ মনে করেন যে তিনি হজে অর্জিত আধ্যাত্মিক অবস্থান পুরোপুরি ধরে রাখতে পারছেন না।

তবে এ অবস্থার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো—এটি আল্লাহর ঘরের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। কারণ যে হৃদয় কখনো কাবার সান্নিধ্যে প্রশান্তি পেয়েছে, সেই হৃদয়ের জন্য সেই স্থানকে ভুলে যাওয়া সহজ নয়।

তাই হজ-পরবর্তী এই শূন্যতাকে দুর্বলতা মনে না করে এটিকে নতুন করে আত্মগঠনের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। মক্কা-মদিনায় অর্জিত ভালো অভ্যাসগুলো দেশে ফিরেও ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

- সময়মতো নামাজ আদায় করা
- পুরুষদের জন্য নিয়মিত মসজিদমুখী হওয়া
- কুরআন তিলাওয়াত অব্যাহত রাখা
- সকাল-সন্ধ্যার যিকির করা
- দোয়া ও ইস্তিগফার বৃদ্ধি করা
- আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা
- দান-সদকা ও মানবসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়া

এসব আমল সেই আধ্যাত্মিক আলোকে জীবন্ত রাখতে সাহায্য করে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মক্কা-মদিনার জন্য যে আকুলতা অনুভূত হয়, তাকে দমন করার প্রয়োজন নেই। কারণ এই আকুলতাই প্রমাণ করে যে হৃদয় একসময় আল্লাহর ঘরের খুব কাছে পৌঁছেছিল।

সেই ভালোবাসা ও সেই অপেক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখুন। হয়তো এই আকুলতাই একদিন আবার আপনাকে আল্লাহর মেহমান হিসেবে তাঁর ঘরের দিকে ডেকে নেবে।

কারণ কাবার জন্য যে হৃদয় কাঁদে, সে হৃদয় কখনোই শূন্য নয়; বরং তা আল্লাহর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।

📸 ১৪৬ বছর আগের কাবা শরিফের এক বিরল ছবি!ভাবতে পারেন, এই ছবিটি তোলা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় দেড় শতাব্দী আগে? 😮১৮৮০ খ্রিস্ট...
16/06/2026

📸 ১৪৬ বছর আগের কাবা শরিফের এক বিরল ছবি!

ভাবতে পারেন, এই ছবিটি তোলা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় দেড় শতাব্দী আগে? 😮

১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে (১২৯৭ হিজরি) তোলা এই ঐতিহাসিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে কাবা শরিফের মাতাফ ও প্রবেশদ্বারের সেই সময়কার দৃশ্য। তখনকার মক্কা মুকাররমার পরিবেশ, স্থাপত্য ও পবিত্র প্রাঙ্গণের এক অসাধারণ ঝলক ধরা পড়েছে এতে।

📷 ছবিটির আলোকচিত্রী ছিলেন মিশরীয়-উসমানীয় প্রকৌশলী ও ফটোগ্রাফার মুহাম্মদ সাদিক বে। মক্কা ও মদিনার সবচেয়ে প্রাচীন ও মূল্যবান ছবিগুলোর পেছনে রয়েছে তাঁর অসামান্য অবদান।

আজ আমরা যে পবিত্র স্থানটির শতবর্ষ আগের রূপ দেখতে পাচ্ছি, তার জন্য ইতিহাস কৃতজ্ঞ এই দূরদর্শী ফটোগ্রাফারের কাছে।

✨ এই ছবি শুধু একটি ছবি নয়—এটি ইসলামের ইতিহাস, স্মৃতি ও সময়ের এক জীবন্ত দলিল।

🤍 সুবহানাল্লাহ! কাবা শরিফের এই ঐতিহাসিক দৃশ্য দেখে আপনার অনুভূতি কী? কমেন্টে জানান।

🔄 ইতিহাসপ্রেমী ও প্রিয়জনদের সঙ্গে পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না।

পবিত্র হজ্ব ১৪৪৭ হিজরি সালের আরাফার খুতবার বাংলা অনুবাদ"আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার জন্য। য...
03/06/2026

পবিত্র হজ্ব ১৪৪৭ হিজরি সালের আরাফার খুতবার বাংলা অনুবাদ

"আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার জন্য। যিনি সর্বময় ক্ষমতার মালিক, পূতপবিত্র ও নিরাপত্তা বিধায়ক। তিনি মুসলিমদের উপর তার পবিত্র ঘরের হজ ফরজ করেছেন এবং একে দ্বীন ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ বানিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই, তিনি একমাত্র মালিক ও সর্বজ্ঞানী। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল, যিনি সৃষ্টি জগতের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি। তার উপর, তার পরিবার পরিজন, সাহাবায়ে কেরাম এবং তার অনুসারীদের উপর সর্বোত্তম দরুদ ও পরিপূর্ণ সালাম নাযিল হোক।
অতঃপর , হে লোক সকল! আপনারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করুন। কেননা এর মাধ্যমে বান্দা আখেরাতে মুক্তি লাভ করবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা হাজের শুরুতে এরশাদ করেছেন:
*يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ ۚ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ * يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَىٰ وَمَا هُم بِسُكَارَىٰ وَلَٰكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ*
"হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। নিঃসন্দেহে কেয়ামতের প্রকম্পন অত্যন্ত ভয়াবহ এক ভয়ানক ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদানকারিণী আপন দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভধারিণী তার গর্ভপাত করে ফেলবে। তুমি দেখবে মানুষকে মাতাল সদৃশ অথচ তারা মাতাল নয়, তবে আল্লাহর আজাবই অত্যন্ত কঠিন।"

আল্লাহ ভীতির অন্যতম অংশ হলো নেক আমল সম্পাদন করা এবং গুনাহ ও অসৎ কাজ বর্জনের মাধ্যমে কেয়ামতের দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
*ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّهُ يُحْيِي الْمَوْتَىٰ وَأَنَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ * وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لَّا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَن فِي الْقُبُورِ*
"এটাই এজন্য যে, আল্লাহই সত্য এবং তিনি মৃতকে জীবিত করেন। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং এ কারণে যে কেয়ামত আসবেই, এতে কোন সন্দেহ নেই। যারা কবরে আছে আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করবেন।"
আল্লাহ তাআলা বলেন, আর নিশ্চয়ই আখেরাতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ প্রস্তুতি গ্রহণ করার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আখেরাতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয় তাওহীদ বাস্তবায়ন করা, একমাত্র আল্লাহর এবাদত করা এবং তাকে ছাড়া অন্য কারো কাছে দোয়া না করার মাধ্যমে। আর কেমন করে সে আল্লাহ ছাড়া এমন কাউকে ডাকে যে তার কোন ক্ষতিও করতে পারে না এবং কোন উপকারও করতে পারে না? এটাই চরম পথভ্রষ্টতা।
*يَدْعُو مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُ وَمَا لَا يَنفَعُهُ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الضَّلَالُ الْبَعِيدُ * يَدْعُو لَمَن ضَرُّهُ أَقْرَبُ مِن نَّفْعِهِ ۚ لَبِئْسَ الْمَوْلَىٰ وَلَبِئْسَ الْعَشِيرُ*
"সে আল্লাহ ছাড়া এমন কাউকে ডাকে যে তার কোন ক্ষতিও করতে পারে না এবং কোন উপকারও করতে পারে না। এটাই চরম পথভ্রষ্টতা। সে এমন কিছুকে ডাকে যার ক্ষতি তার উপকারের চেয়ে বেশি নিকটতর। কত নিকৃষ্ট এ অভিভাবক এবং কত নিকৃষ্ট সহচর!"

আর যে কেউ আল্লাহর সাথে শরিক করে, সে যেন আকাশ হতে পড়লো; তারপর পাখি তাকে ছু মেরে নিয়ে গেল কিংবা বায়ু তাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল। ঈমানদারের মূল পরিচয় চিহ্ন হলো তাওহীদ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার একাত্ববাদ। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
**فَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا ۗ وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ * الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَالصَّابِرِينَ عَلَىٰ مَا أَصَابَهُمْ وَالْمُقِيمِي الصَّلَاةِ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ**
"তোমাদের ইলাহ এক, কাজেই তারই কাছে আত্মসমর্পণ করো। আর সুসংবাদ দিন বিনয়ীদেরকে, যাদের হৃদয়ে ভয়ে কম্পিত হয় আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে, যারা তাদের বিপদে আপদে ধৈর্য ধারণ করে এবং সালাত কায়েম করে, আর আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।"

এগুলোই দ্বীন ইসলামের মূল স্তম্ভ— তাওহীদ বাস্তবায়ন (আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য প্রদান), সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমাদানের সিয়াম পালন করা এবং আল্লাহর পবিত্র ঘর বাইতুল্লাহর হজ করা। এর সঙ্গে রয়েছে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করার উপদেশ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
**وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ**
"আর যে তার রবের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাতের বাগান।"

অনুরূপভাবে আল্লাহর এবাদত পালনে এবং কষ্টদায়ক তাকদীরের উপর ধৈর্য ধারণ করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:
*إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ*
"নিঃসন্দেহে ধৈর্যশীলদেরকে কোন হিসাব ছাড়াই তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণরূপে দেয়া হবে।"

এর সাথে আল্লাহর নিয়ামতের শোকর আদায় করা। আল্লাহ বলেন:
*كَذَٰلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ*
"এভাবে আমি সেগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।"

আর সৃষ্টি জগতের মধ্যে আল্লাহর কিছু প্রাকৃতিক বিধান ও নিয়ম নীতি রয়েছে, বান্দার কর্তব্য হল সেগুলোর প্রতি পূর্ণ ঈমান আনা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন:
*إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُورٍ*
"নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ করেন। তিনি কোন বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।"

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরো বলেন:
*وَلَيَنصُرَنَّ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ*
"আর আল্লাহ অবশ্যই ওই ব্যক্তিকে সাহায্য করেন যে তাকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান পরাক্রমশালী।"

এ বিষয়ে আরো রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী:
*فَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا وَهِيَ ظَالِمَةٌ فَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا وَبِئْرٍ مُّعَطَّلَةٍ وَقَصْرٍ مَّشِيدٍ*
"অতঃপর আমি বহু জনপদ ধ্বংস করেছি যেগুলোর বাসিন্দা ছিল জালেম। ফলে এসব জনপদ তাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে; অনুরূপভাবে বহু কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে এবং অনেক সুদৃঢ় প্রাসাদও।"

আর আমি অবকাশ দিয়েছি বহু জনপদকে যখন তারা ছিল জালেম, তারপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি এবং আমারই কাছে প্রত্যাবর্তন স্থল। আল্লাহ তাআলা তার বন্ধু ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে হজের আহ্বান জানানোর আদেশ দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেছেন:
*وَأَذِّن فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَىٰ كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِن كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ * لِّيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ*
"আর আপনি মানুষের কাছে হজের ঘোষণা করে দিন; তারা আপনার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের কৃশকায় উটের পিঠে চড়ে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান সমূহে হাজির হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যা রিজিক দিয়েছেন, তার উপর কোরবানির নির্দিষ্ট দিনগুলোতে জবেহ করাকালীন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে।"

হ্যাঁ, বাস্তবিক পক্ষেই এ বিধান দেওয়া হয়েছে যেন তারা তাদের নিজেদের কল্যাণের স্থানে উপনীত হতে পারে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। হাজীগণ হজ্জ পালনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এবং সওয়াবের আশায় প্রাচীন ঘর বায়তুল্লাহ ও হজ্জের পবিত্র স্থান সমূহের মহাত্ব ঘোষণা করতে করতে দূর-দূরান্তের গিরিপথ অতিক্রম করে আগমন করেছেন। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন:
الَّذِي جَعَلْنَاهُ لِلنَّاسِ سَوَاءً الْعَاكِفُ فِيهِ وَالْبَادِ ۚ وَمَن يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُّذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ
"মসজিদে হারামকে আমি স্থানীয় ও বাহিরাগত সকল মানুষের জন্য সমান করেছি। আর যে ব্যক্তি সীমালংঘন করে এখানে পাপ কাজ করতে চায়, তাকে আমি যন্ত্রণাদায়ক আযাব আস্বাদন করাবো।"

তারা তাওহীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই স্থানগুলোতে উপস্থিত হচ্ছেন এবং তাদের উদ্দেশ্য হলো এবাদতে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা ও শিরক বর্জন করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
*وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَن لَّا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ*
"সে সময়কে স্মরণ করো যখন আমি ইব্রাহিমের জন্য কাবা ঘরের স্থান নির্ধারণ করে বললাম, তুমি আমার সাথে কোন কিছুকে অংশীদার বানিও না এবং আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারী ও রুকু সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।"

এজন্যই কাবা ঘরের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যশীল নয় এমন সবকিছু থেকে তাকে পবিত্র করতে হবে। অতএব হজের মধ্যে পাপাচার, ঝগড়া-বিবাদ, রাজনৈতিক স্লোগান ও দলীয় আহ্বান ইত্যাদি কাজ করার কোনই সুযোগ নেই। বরং হজ হতে হবে আল্লাহ তাআলার প্রতি আনুগত্য, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আনুগত্য, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা, প্রতিজ্ঞা, চুক্তি ও অধিকার সমূহকে সম্মান জানানোর প্রকাশ ক্ষেত্র। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:
*ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ عِندَ رَبِّهِ*
"এটিই বিধান, আর কেউ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত পবিত্র স্থান সমূহকে সম্মান করলে তার রবের নিকট তাই তার জন্য উত্তম।"

অন্যত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:
**ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ**
"আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শন সমূহকে সম্মান করবে, তা হবে তার অন্তরের তাকওয়ার পরিচায়ক।"

এজন্য হজের মধ্যে ভাষার অমিল, রঙের পার্থক্য, দেশের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও ভালোবাসার ভ্রাতৃত্বের আবরণে পারস্পরিক পরিচয়, একে অপরের সাথে অন্তরঙ্গতা, অন্যের প্রতি সাহায্যের মনোভাব এবং মুসলিমের মাঝে পারস্পরিক দায়িত্ববোধের নিদর্শন ফুটে ওঠে। যার ফলশ্রুতিতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানে উপনীত হয় এবং হাদি হিসেবে জবাইকৃত পশু হতে—মুসলিমদের মাঝে হাদি হিসেবে জবাইকৃত পশুগুলো তার ভাইদের মধ্যে বিতরণ করে, গরীব দুঃখীদের আহার করায়। পাশাপাশি তাদের আচরণে থাকে অনুগ্রহ ও সহমর্মিতা এবং তাদের কথাবার্তায় থাকে সত্যবাদিতার ছাপ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
*وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ*
"আর তোমরা মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকো।"

আরাফার এই মহান অবস্থানের বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আপনাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করতে থাকেন। এটি সেই মহান স্থান, যেখানে আল্লাহ তায়ালা আয়াত নাযিল করেছেন:
**الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا**
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকেই মনোনীত করলাম।"

কাজেই আপনারা হেদায়েতের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করুন। তিনি যোহর ও আসর একত্রে ও কসর করে আদায় করেছেন, এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে মগ্ন ছিলেন। তারপর মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
**فَإِذَا أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِندَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ ۖ وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ وَإِن كُنتُم مِّن قَبْلِهِ لَمِنَ الضَّالِّينَ**
"অতঃপর যখন তোমরা আরাফাত হতে ফিরবে, তখন মাশআরুল হারামের নিকট আল্লাহকে স্মরণ করবে। আর তিনি যেভাবে তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন সেভাবেই তাকে স্মরণ করবে, বস্তুত তোমরা এর পূর্বে ছিলে পথভ্রষ্টদের অন্তর্গত।"

ঈদের দিন সকাল হওয়ার পর তিনি মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
*ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ*
"তারপর তোমরা সেখান থেকে ফিরে এসো যেখান থেকে লোকেরা ফিরে আসে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।"

এরপর তিনি জামারাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করেন, নিজের হাদি জবাই করেন এবং মাথা মুন্ডন করেন। তবে চুল ছোট করাকেও তিনি বৈধতা দিয়েছেন। তারপর তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
*ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ**
"এরপর তারা যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়, তাদের মানত পূর্ণ করে এবং প্রাচীন ঘর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে।"

এই সময় শান্তভাবে ধীরস্থিরতা ও কোমল আচরণ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকুন; ধাক্কাধাক্কি ও ভিড় করা থেকে দূরে থাকুন। আয়োজক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলুন এবং দলভিত্তিক পরিকল্পিত চলাচলের ও নির্ধারিত পথের নিয়ম কানুন অনুসরণ করুন, যাতে সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত হয়, ক্ষতি ও বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়, মানুষের জীবন সুরক্ষিত থাকে এবং সহজভাবে হজের কার্যক্রম আঞ্জাম দেওয়া যায়। আর মিনায় অবস্থানকালে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা মুস্তাহাব। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
**فَإِذَا قَضَيْتُم مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا**
"অতঃপর যখন তোমরা তোমাদের হজ্জের কার্যাবলী সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহর স্মরণে মশগুল হও, যেমন তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের স্মরণে মশগুল থাকতে বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করো।"

আর তাশরিকের দিনগুলোতে হজ আদায়কারী তিনটি জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবে; প্রত্যেক জামারায় প্রতিদিন সাতটি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে। উত্তম হলো ১৩ তারিখ পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করা, তবে ১২ তারিখে চলে যাওয়াও বৈধ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:
*وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ لِمَنِ اتَّقَىٰ ۗ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ**
"আর নির্ধারিত দিনগুলোতে তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো। অতঃপর যে তাড়াতাড়ি করে দুই দিনে চলে আসবে তার কোন পাপ নেই, আর যে বিলম্ব করবে তারও কোন পাপ নেই। এই বিধান তার জন্য যে তাকওয়া অবলম্বন করেছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রেখো নিশ্চয়ই তোমাদেরকে তার কাছেই সমবেত হতে হবে।"

মক্কা ছেড়ে যাওয়ার পূর্বে হজ আদায়কারী বিদায়ী তওয়াফ করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
**هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ ۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ ۚ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَٰذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ ۚ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ ۖ فَنِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ*
"তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন, দ্বীনের ব্যাপারে তিনি তোমাদের উপর কোন কঠোরতা আরোপ করেননি। এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের দ্বীন, তিনি পূর্বে তোমাদের নাম রেখেছেন মুসলিম আর এ কিতাবেও (রেখেছেন); যাতে রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হন এবং তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হতে পারো। অতএব তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত আদায় করো এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। তিনি তোমাদের অভিভাবক, কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী তিনি!"

আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা, বিশেষ করে হজের পবিত্র স্থানগুলোতে। কারণ এই স্থানগুলো হলো দোয়া কবুলের প্রত্যাশিত স্থান। আল্লাহ তাআলা বলেন:
*وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ*
"আর তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।"

তিনি আরো বলেছেন:
*وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ * أُولَٰئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِّمَّا كَسَبُوا ۚ وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ*
"আর তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন, আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন আর জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন। এমন লোকদের জন্য তাদের উপার্জনের অংশ বরাদ্দ থাকবে, বস্তুত আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।"

হে আল্লাহ! হাজীদের দোয়া ও হজের আমল সমূহ কবুল করুন, তাদের কাজকর্ম সহজ করে দিন। তাদের কাজকর্ম সহজ করে দিন, তাদের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করুন এবং তাদেরকে নিরাপদে, কল্যাণপ্রাপ্ত হয়ে, সফলকাম হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার তৌফিক দিন।
হে আল্লাহ! মুসলিমদের অবস্থার সংশোধন করুন, সত্যের উপর তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করুন, তাদের সকল বিষয়ের দায়িত্বভার আপনি গ্রহণ করুন এবং তাদের দ্বীনি ও দুনিয়াবী সার্বিক অবস্থা সুন্দর করে দিন। হে আল্লাহ ইয়া রাব্বাল আলামিন! তাদের দ্বীনি এবং দুনিয়াবী সকল অবস্থা আপনি সুন্দর করে দিন।
হে আল্লাহ! আপনি খাদিমুল হারামাইনিশ শরিফাইন বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং তার বিশ্বস্ত ক্রাউন প্রিন্স আমির মোহাম্মদ বিন সালমানকে তৌফিক দান করুন, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদেরকে উত্তম প্রতিদানে ভূষিত করুন। আল্লাহ! আপনি তাদেরকে উত্তম জাযা দান করুন, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদেরকে উত্তম প্রতিদানে ভূষিত করুন। নিশ্চয়ই তারা আপনার বান্দাদের প্রতি এহসান করেছেন, হাজীদের জন্য হজের আমলগুলো সহজে সম্পাদনের ব্যবস্থা তারা করেছেন এবং হারামাইন শরিফাইন ও তাতে আগত জিয়ারতকারীদের সেবায় উদার চিত্তে তারা ব্যয় করেছেন। ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা সাইয়েদেনা ওয়া নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লামা তাসলিমান কাসিরা। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবার পরিজন ও সাহাবায়ে কেরামের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

খুতবা দিয়েছেন: মদিনার মসজিদে নববীর প্রবীণ ও প্রখ্যাত ইমাম শেখ ড. আলী বিন আব্দুর রহমান আল-হুজাইফি

Address

Shop 1, 2nd Floor, System Imperial Complex
Chittagong
4203

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Amanah Hajj & Umrah Services posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Amanah Hajj & Umrah Services:

Shortcuts

Share