24/08/2026
শাহেনশাহে সিরিকোট (রহ.)-এর উত্তরসূরিগণের এদেশে সফর, যোগ্য নেতৃত্ব ও খুলুসিয়তের কারণে দরবারের প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশসেরা!
শাহেনশাহে সিরিকোট আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রহ.)-এর মাধ্যমে যে দ্বীনি ও সাংগঠনিক মিশনের সূচনা হয়েছিল, সময়ের ধারাবাহিকতায় তা পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত হয়েছে।
১৯২৫ সালে রেঙ্গুনে শাহেনশাহে সিরিকোটি (রহ.) আনজুমানে শূরা-এ-রহমানিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এ প্রতিষ্ঠান আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া ট্রাস্ট নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
১৯৩৫ সালে শাহেনশাহে সিরিকোটি (রহ.) বাংলাদেশে আগমন করেন। তাঁর মাধ্যমে এ অঞ্চলে সিলসিলার দ্বীনি কার্যক্রমের বিস্তার ঘটে। সে সময় এ কার্যক্রমের সঙ্গে মাত্র ৮–১০ জন মানুষ যুক্ত ছিলেন। সময়ের ধারাবাহিকতায় শাহেনশাহে সিরিকোটি (রহ.)-এর সূচিত এ মিশন আজ লাখো-কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে এবং দেশ-বিদেশে এর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
১৯৫৪ সালে শাহেনশাহে সিরিকোটি (রহ.) জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুযোগ্য সন্তান আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) এ মিশনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.)-এর নেতৃত্বে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, তরজুমানে আহলে সুন্নাত, জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন দ্বীনি, শিক্ষামূলক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা ও বিস্তার লাভ করে।
পরবর্তীতে আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.)-এর দুই সন্তান এবং শাহেনশাহে সিরিকোটি (রহ.)-এর দুই নাতি আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ ও আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ এ সিলসিলার কার্যক্রমের নেতৃত্বে আসেন। তাঁদের তত্ত্বাবধানে ১৫০টিরও বেশি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ, আনজুমান এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট বোর্ড, দাওয়াতে খাইর, গাউসিয়া কমিটির দেশ-বিদেশের কার্যক্রম এবং অন্যান্য দ্বীনি ও মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিধি সম্প্রসারিত হয়েছে।
বর্তমানে আনজুমান ট্রাস্টের অধীনে দুই শতাধিক মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের সমন্বয়ের জন্য এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট বোর্ড কাজ করছে।
দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া শেতালু শরীফের মাশায়েখ হযরাত সারা বছর দরবার থেকে প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম তদারকি করার পাশাপাশি বছরে এক-দুইবার সরাসরি বাংলাদেশে এসে তদারকি ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ধারাবাহিক তদারকি ও দিকনির্দেশনার ফলে প্রতিষ্ঠানসমূহ শিক্ষা ও ফলাফলের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে আসছে।
এর মধ্যে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলিয়া দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আলিয়া মাদ্রাসা, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসা দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মহিলা আলিয়া মাদ্রাসা এবং কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসা দেশের অন্যতম সেরা কামিল মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। পাশাপাশি আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া ট্রাস্ট দেশের বৃহৎ দ্বীনি সংস্থাগুলোর একটি এবং গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ বৃহৎ আধ্যাত্মিক ও মানবিক সংগঠন হিসেবে দেশ-বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
শাহেনশাহে সিরিকোটি (রহ.)-এর সূচিত মিশন থেকে শুরু করে আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.)-এর নেতৃত্ব এবং বর্তমানে আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ ও আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ-এর তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ৮–১০ জনের মাধ্যমে যে কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল, তা আজ লাখো-কোটি মানুষের সম্পৃক্ততায় একটি বিস্তৃত দ্বীনি, শিক্ষামূলক, সাংগঠনিক ও মানবিক মিশনে পরিণত হয়েছে।
কিয়ামত পর্যন্ত শাহেনশাহে সিরিকোটি (রহ.)-এর আওলাদগণের বাংলাদেশ সফরের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকুক এবং আল্লাহ তাআলা এসব প্রতিষ্ঠান ও দ্বীনি কার্যক্রমকে দিন দিন আরও ত্বরক্কি দান করুন—আমিন।