27/12/2019
আশা করি আপনাদের কনফিউশনগুলো একটু হলেও দূর করতে পারবো।
তবু চীনের পড়ালেখা + বিভিন্ন বিষয়ে স্কলারশীপ নিয়ে পড়াশুনার জন্য হেল্প লাগলে ইনবক্স করতে পারেন
চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা :
আমরা বাংলাদেশের মানুষ মুলত মহা জ্ঞানী এবং অভ্যাসবশতই খুব চালাক(স্মার্ট)।
না, মানে আমরা প্রয়োজনের চাইতে একটু বেশিই বুঝি। আর অকাজের জ্ঞান আহরণে এবং তা জাহির করতে আমরা বেশ পটু।
এইবার মূল কথায় আসা যাক।
আমাদের দেশ এবং দেশ এর ভবিষ্যৎ যেখানে চরম ভয়াবহতার সম্মুখীন, সেখানে আমরা অন্য দেশ, জাতি নিয়ে লেইম কমেন্ট করতে ভুলি না।
আর এইসব দেশ গুলোর মধ্যে চায়না (চীন) নিয়ে আমাদের অনেক মাথাব্যথা। আগে আমাদের স্লোগান ছিল 'চায়না মাল বেশিদিন টিকে না'। আবার এখন যেহেতু চায়নাতে বাংলাদেশি স্টুডেন্টস রা আসতেছে পড়তে, সো এখনকার ব্রান্ড নিউ কোয়েশ্চেন হলো-- 'শুনেছি চীনে পড়া লেখার মান বাংলাদেশের থেকেও খারাপ'। একটু হাইসা নেই তাদের কথায় যারা বলে এই কথা। 😂😂
উত্তর : একটা কথা বলি চীনের কোন স্কুল, কলেজ অথবা ভার্সিটি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন পেয়ে পরদিন পরীক্ষা দিতে যায় না। একটা ভার্সিটির ছাত্রদের উপর যে কি রকম চাপ থাকে তা ভাই আপনারা দেশে থেকে বুঝতে পারবেন না । ভার্সিটি গুলো এক একটা ছাএকে গাধার মতো খাটিয়ে যোগ্য করে গড়ে তোলে । যদি হাতে কলমে শিক্ষার থেকে মুখস্থ বিদ্যা আপনার কাছে বেশী ভাল মনে হয় তাহলে ভাই আপনি ঠিক ।
♦ ইউনিভার্সিটির মান খারাপ
উওর: বিষয়টি একটু ভেবে বলি। আপনি কি গুগল ব্যবহার করেন? তাহলে একটু কষ্ট করে দেখুন তো চীনের কয়টা ভার্সিটি পৃথিবীর হাজার হাজার ভার্সিটির মধ্যে প্রথম সারিতে আছে। দেখেছেন?
এখন বলুন আপনি কি করে বলেন চীনের ভার্সিটি গুলোর মান খারাপ। এশিয়ার সবথেকে ভালো ভার্সিটি গুলো চীনের। কারণ তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, রিসার্চ, ছাএদের দেওয়া সুযোগ সুবিধা হাইক্লাস। আচ্ছা আপনি যে বলেন চীনের ভার্সিটি গুলোর মান খারাপ আপনি কি যাচাই করে গেছেন এখানে এসে?
♦চীনের ভার্সিটি গুলোতে পড়ার থেকে দেশের প্রাইভেট ভার্সিটি তে পড়া ভাল
উওর: ভাই আপনার প্রাইভেট ভার্সিটি তে কি আছে? শুনুন একটা কথা বলি আমার স্কুল বছরে যে পরিমাণ টাকা রিসার্চ এর জন্য খরচ করে তা দিয়ে আপনার দুই/তিনটি প্রাইভেট ভার্সিটি খোলা যাবে। চীনের এক একটা ভার্সিটি মিলিয়ন ডলারের যন্ত্রপাতি ছাএদের জন্য ল্যাবে রেখে দিয়েছে। এমন কিছু উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয় ল্যাব গুলোতে যা আপনি বাংলাদেশে পাবেন না। তারপরও যদি কেউ মুরগীর খাঁচার মতো সাত তলা একটা প্রাইভেট ভার্সিটিকে চীনের ভার্সিটি গুলোর সাথে তুলনা করে সত্যি আর কিছুই বলার নেই।
♦ভাই চাকরি পাব পড়ালেখা শেষে? 😥😥
উত্তর : সত্য কথা বলতে আমি নিজেই জানি না পড়ালেখা শেষ করে চাকরি পাব কি না আর আপনাদের কি বলব। তবে চাকরি পাবার জন্য যে জিনিসটা খুব দরকার তা হলো স্কিল, যোগ্যতা। চীনের প্রতিটি ভার্সিটি হাতে কলমে শেখানোর উপর জোর দেয় যা আমাদের দেশে পাবেন না। বরং দেশে আপনাকে বই মুখস্থ করে পরীক্ষায় কি করে বেশি নম্বর পাওয়া যাবে তা শিখাবে। ভাইরে এই শিক্ষার কোন দাম নেই । আপনি এখানে বিশ্বের বড় বড় কম্পানিতে ইন্টার্নশীপ করার সুযোগ পাবেন যা বাংলাদেশে সম্ভব নয় ।
সত্য কথা বলতে মানুষ সমালোচনা করবেই কিন্তু দিন শেষ যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবে সেই জয়ী । যে বলে চীনে পড়ে লাভ নেই সে কি চীনে কখনো এসে দেখেছে চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা ভাল না। কথায় আছে অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। কোন কিছু সম্পর্কে সঠিক ভাবে না যেনে কমেন্ট করাই যায়। মনে রাখবেন যে চীন ১০০০ টাকা দামের ফোন বানায় সেই চীনই কিন্তু ৫০,০০০ টাকা দামের ফোনও বানায়। ভাই চীন দেশটির কথা শুনে বাজে মন্তব্য করার আগে ভাবুন আপনি যে ফোন ব্যবহার করেন, যে জুতা ব্যবহার করেন সব এই দেশের বানানো বা কোন না কোন ভাবে এর সাথে জড়িত। এদেশের জনসংখ্যা আমাদের থেকে অনেক বেশি কিন্তু তারা ধনি আমরা গরীব কারণ তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা
এবং রুলস ।
শেষ একটা কথা বলি বাড়ির পাশের বা দেশের টঙ দোকানে বসে চায়ের কাপ এ চুমুক দেওয়া আংকেলের কথা না শুনে নিজের বিবেক কে প্রশ্ন করেন। আংকেল বা আন্টির কথা শুনে আপনি চীন সম্পর্কে খারাপ ভাবতে পারেন না। জীবন আপনার। সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।