01/12/2025
বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ সংশোধন (২০২৫)
ঢাকায় বসবাসরত ৯০% এর বেশি ভাড়াটিয়ার স্বার্থ সুরক্ষা—এই অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সাফল্য। এখন পদক্ষেপটা কতটা কার্যকরী হবে সেটি দেখার বিষয়।
সরকার একটি ডিজিটাল অ্যাপস চালু করছে যেখানে ভাড়াটিয়ারা ১২ ধরনের সমস্যা সরাসরি অভিযোগ করতে পারবেন—
যেমন: ভাড়া বাড়ানো, গেটের চাবি না দেওয়া, পানি–গ্যাস সমস্যা ইত্যাদি।
অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে ৯০ দিনের মধ্যে।
অ্যাপসটি ইনশাআল্লাহ ১ জানুয়ারি ২০২৬ লঞ্চ হবে।
19/11/2025
অফিসিয়াল আর আনঅফিসিয়াল মোবাইলের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো ওয়ারেন্টি, সার্ভিস, সফটওয়্যার সাপোর্ট, নিরাপত্তা ও নেটওয়ার্ক সামঞ্জস্যতা। নিচে দুই ধরনের মোবাইলের খারাপ দিকগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো।
✅ অফিসিয়াল মোবাইলের খারাপ দিক
দাম তুলনামূলক বেশি
সরকারী ট্যাক্স, ভ্যাট ও অফিশিয়াল ওয়ারেন্টির কারণে দাম বেশি পড়ে।
ওয়েট বা বিলম্ব
নতুন মডেল বাজারে আসতে কখনও কখনও অফিসিয়াল স্টকে দেরি হয়।
অফিসিয়াল ভ্যারিয়েন্ট কম
কিছু ব্র্যান্ড বা মডেলের কম স্টোরেজ/স্পেসিফিকেশন ভ্যারিয়েন্ট অফিসিয়ালি আসে না।
❌ আনঅফিসিয়াল মোবাইলের খারাপ দিক
কোনও অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি নেই
নষ্ট হলে কোম্পানি সার্ভিস দেবে না; শুধু দোকানির ওয়ারেন্টি (যা নির্ভরযোগ্য নয়)।
IMEI ব্লকের ঝুঁকি
দেশে অবৈধভাবে আনা হলে ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কে ব্লক হয়ে যেতে পারে।
নেটওয়ার্ক সমস্যা
ভিন্ন দেশের ভ্যারিয়েন্ট হলে
VoLTE/VoWiFi কাজ নাও করতে পারে
4G/5G ব্যান্ড মিসম্যাচ হতে পারে
কল ড্রপ বা সিগনাল সমস্যা হতে পারে
ভুয়া বা রিফারবিসড হওয়ার ঝুঁকি
অনেক আনঅফিসিয়াল ফোন আসলে রিফারবিসড/রিকন্ডিশনড হয়ে থাকে।
সফটওয়্যার আপডেট সমস্যা
কিছু ভ্যারিয়েন্টে OTA আপডেট দেরি হয় বা ঠিকমতো পাওয়া যায় না।
নিরাপত্তা ঝুঁকি
কাস্টম ROM বা অস্বাভাবিক সফটওয়্যার দেওয়া থাকতে পারে।
রিসেল ভ্যালু কম
অফিসিয়ালের তুলনায় আনঅফিসিয়াল বিক্রি করতে গেলে দাম অনেক কম পাওয়া যায়।
🔍 কোনটা বেছে নেবেন?
লং-টার্ম ব্যবহার, সিকিউরিটি, নিশ্চিন্ত সার্ভিস, নেটওয়ার্ক–সব চাইলে → অফিসিয়াল।
বাজেট কম, দাম সাশ্রয় করতে চান → আনঅফিসিয়াল, তবে বিশ্বস্ত দোকান থেকে নেওয়া ভালো।
19/11/2025
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধনী)
নভেম্বর ১৭, ২০২৫
- গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী –
উৎসব ছুটি-ধারা-১১৮
উৎসব ছুটি ২দিন বেড়েছে। উৎসব ছুটি ১১ দিন এর পরিবর্তে ১৩ দিন
শ্রমিকের ও মালিকের সংজ্ঞা : ধারা-২ এর ৪৯ ও ৬৫
শ্রমিক ও মালিকের সংজ্ঞা পরিবর্তন হয়েছে। শ্রমিকের মধ্যে কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত আরো স্পষ্ট করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সার্ভিস বেনিফিট পাওয়া আরো স্পষ্ট করা হলো।
শ্রমিক কর্তৃক চাকুরীর অবসান-ধারা-২৭
১. ৩ বৎসর পর্যন্ত প্রতি বছরের জন্য ৭ দিন করে সার্ভিস বেনিফিট পাবে। (পূর্বে ছিল না)
২. ৩ থেকে ৯ বছর পর্যন্ত প্রতি বছরের জন্য ১৫ দিন করে। (পূর্বে ৫ থেকে ৯ বছর ছিল)
৩. ১০ বছর বা তদুদ্ধ পর্যন্ত প্রতি বছরের জন্য ৩০ দিন করে।
প্রসুতি কল্যাণ সুবিধা
প্রসুতি কল্যাণ সুবিধা ১২০ দিন। (পূর্বে ছিল ১১২ দিন)
ট্রেড ইউনিয়ন, ধারা ১৭৯
নিম্নলিখিত সংখ্যার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের জন্য আবেদন করলে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ২০ – ৩০০ জন পর্যন্ত ২০ জন,
প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ৩০১ – ৫০০ জন পর্যন্ত ৪০ জন,
প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ৫০১ – ১৫০০ জন পর্যন্ত ১০০ জন,
প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ১৫০১ – ৩০০০ জন পর্যন্ত ৩০০ জন,
প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ৩০০১ বা তদুদ্ধ পর্যন্ত ৪০০ জন।
ভবিষ্য তহবিল, ধারা ২৬৪
ভবিষ্য তহবিল (পেনশন) মালিকের জন্য বাধ্যতামুলক করা হয়েছে।
শ্রমিকের প্রদেয় অন্যুন ৭ এবং অনধিক ৮ শতাংশ এর সমপরিমাণ অর্থ মালিক প্রদান করবে।
বাৎসরিক ছুটি, ধারা ১১৭
প্রতি ১৪ দিন কাজের জন্য ১ দিন করে বাৎসরিক ছুটি। (পূর্বে ছিল ১৮ দিন কাজের জন্য ১দিন বাৎসরিক ছুটি)
26/08/2025
বাচ্চার দুষ্টুমিতে আপনি কী অতিরিক্ত বিরক্ত?
সবকিছু এলোমেলো করা, কথা না শোনা, অনেক বেশি প্রশ্ন করা — এ বিষয়গুলো প্রায় প্রতিটি শিশুর মধ্যে সহজাত। টুকটাক দুষ্টুমি করা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের অংশ । মনোবিজ্ঞান বলে, বুদ্ধিমান শিশুরা সাধারনত চঞ্চল ও কৌতুহলী হয়। সারাক্ষণ মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকা অসংখ্য প্রশ্নের সমাধান পেতে এরা নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ করে। আপনি জানলে অবাক হবেন যে, অবাধ্য হওয়ার বিষয়টি একজন আত্মবিশ্বাসী শিশুর দৃঢ় ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক।
অথচ নিজেদের সাময়িক অসুবিধার কথা চিন্তা করে বাচ্চার ছোটোখাটো দুষ্টুমিতে আমরা অনেক বেশি রিঅ্যাক্ট করি । আমরা হয়তো মনে করি বাচ্চারাও আমাদের সমান “বুঝ” নিয়ে চলে ।তাইতো —“এটা করোনা “ , “থামো, এটা ধরোনা” — এমন অসংখ্য “না” এর অবরোধে বাচ্চার স্বাভাবিক বিকাশ প্রক্রিয়াকে আমরা বাধাগ্রস্ত করি। আর বাচ্চারা হারিয়ে ফেলে তাদের “স্পৃহা” ও “আত্মবিশ্বাস”।
14/08/2025
সোনার ডিম পাড়া হাঁসের গল্প নিশ্চয় শুনেছেন। মাটিতে বসবাসকারী Cupriavidus metallidurans নামের দণ্ডাকৃতি ক্ষুদ্র এক ব্যাকটেরিয়া বিজ্ঞানীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতো অদ্ভুত ক্ষমতায়। এটা মাটিতে থাকা বিষাক্ত ধাতু বিশেষ করে তামা ও সোনার বিষাক্ত রূপকে নিষ্ক্রিয় কঠিন সোনায় পরিণত করে। আর তাতে ক্ষুদ্র সোনার দানা তৈরি হয়। এই কাজের নেপথ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম— CupA ও CopA কাজ করে।
CupA সাধারণত অতিরিক্ত তামা কোষ থেকে সরিয়ে পেরিপ্লাজম নামের ফাঁকা জায়গায় জমা করে, যাতে বিষাক্ত প্রভাব কমে। কারণ, সামান্য তামা দরকার হলেও বেশি তামা ব্যাকটেরিয়ার জন্য বিষ।
কিন্তু ঝামেলা বাধে যখন সোনার আয়ন হাজির হয়। এখানে আয়ন হলো সোনার সেই রূপ, যেখানে এক বা একাধিক ইলেকট্রন হারিয়েছে, ফলে তৈরি হয় অস্থিতিশীল অবস্থা। সোনার আয়ন CupA কে কার্যত অচল করে দেয়। তখন তামাও আটকে যায় ভেতরে, সোনাও জমতে থাকে—দুটোই মারাত্মক।
তখন সক্রিয় হয় CopA, যা তামা ও সোনার আয়ন থেকে ইলেকট্রন সরিয়ে তাদের স্থিতিশীল ধাতব কণায় রূপান্তর করে। তখন এই ক্ষুদ্র সোনার কণাগুলি পেরিপ্লাজমে জমা হয়, যেখানে তারা আর ক্ষতিকর নয়। সময় হলে ব্যাকটেরিয়ার বাইরের ঝিল্লি ফেটে যায়, আর বেরিয়ে আসে সেই সোনার দানা। এভাবেই ব্যাকটেরিয়াটি বেঁচে থাকতে গিয়ে প্রকৃত অর্থেই সোনা সৃষ্টি করে!
বর্তমানে সোনা আহরণে পারদের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যা পরিবেশ ও মানুষের জন্য সমান ক্ষতিকর। কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার এই প্রক্রিয়াটা মানুষ যদি নকল করতে পারে, তাহলে খুব কম সোনা থাকা আকরিক থেকেও পরিবেশবান্ধব উপায়ে সোনা তোলা যাবে।
28/06/2025
বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি, যিনি 'বিসিএস' পরীক্ষায় দুইবার প্রথম হয়েছেন !
বোর্ড কর্মকর্তারা জিজ্ঞেস করলেন, “জনাব, নাজিম উদ্দিন, আপনি কেন আগেরবার প্রথম হয়েও সিভিল সার্ভিসে যোগদান করলেন না?”
ছেলেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাশ করেছে।
পাশ করেই বিসিএস পরীক্ষা দিল এবং প্রচণ্ড পরিশ্রমের ফল হিসেবে প্রথম হল (১০ম বিসিএস পরীক্ষা)।
কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেই ছেলে চাকরিতে যোগদান করলো না।
পরবর্তীতে ১২তম বিসিএস পরীক্ষা চলে এলো এবং সেই ছেলে আবার ভাইভাতে উপস্থিত!
ভাইভা বোর্ডের উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে দেখল এই ছেলে ১০ম বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম মেধাস্থানে ছিল।
বোর্ড কর্মকর্তারা জিজ্ঞেস করলেন,
“জনাব, নাজিম উদ্দিন, আপনি কেন আগেরবার প্রথম হয়েও সিভিল সার্ভিসে যোগদান করলেন না?”
উত্তরে নাজিম উদ্দিন জানালেন,
আগেরবার বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন,
তাই আর সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন নি।
তারপর, বোর্ড কর্মকর্তারা জিজ্ঞেস করলেন, “এবার কেন আপনি আবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছেন?”
উত্তরে নাজিম উদ্দিন যা জানালেন তাতে বোর্ড কর্তাদের চক্ষু চড়কগাছ!
নাজিম উদ্দিনের সরল উত্তর, “আসলে আমি একটু যাচাই করে দেখলাম, আমার সেই মেধা আর প্রস্তুতি ঠিক আছে কিনা”।
নাজিম উদ্দিন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রফেসর নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, এফসিএমএ।
তিনি দ্বিতীয় বারেও বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হন।
কিন্তু যোগদান করেননি, পেশা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকেই বেছে নেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন মানুষই বিসিএসে দুইবার প্রথম হয়েছেন, কিন্তু তিনি নিজেকে মহাজ্ঞানী ভেবে যাকে-তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেননি।
কারণ, তিনি জানতেন, “যিনি যত বেশি জ্ঞানী, তিনি তত বেশি বিনয়ী।