10/10/2025
হাজার হাজার ব্যাংকার চাকরিচ্যুত হচ্ছে, যাদের টাকা লুটের সাথে ন্যূনতম জড়িত থাকার তেমন কোন প্রমাণ নেই। অথচ লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য তেমন কোন কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনা। যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণিত কোন অনিয়ম থাকে তবে তাকে পৃথকভাবে তদন্ত করে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনা হোক।
তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যদি কোন ত্রুটি থাকে সে দায় সম্পূর্ণ সেই সময়কার ম্যানেজম্যান্টের, চাকরি প্রার্থীর নয়। কারন, একজন চাকরি প্রার্থীর সিদ্ধান্তে কখনো চাকরি হয় না, চাকরি হয় ম্যানেজম্যান্টের সিদ্ধান্তে। একজন সদ্য পাশ করা বেকার যখন হন্য হয়ে জীবিকার সন্ধান করে তখন এরকম একটা চাকরির সুযোগ সে নিবেই- এটাই স্বাভাবিক। এখানে চাকরি প্রার্থীদের দোষ কোথায়? তাহলে প্রশ্ন আসে—চাকরিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের উপর দায় চাপানো কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? তাও আবার নিয়মিত হওয়ার চার থেকে আট বছর পর! আর এই নিয়োগ ত্রুটিপূর্ণই বা কিভাবে বলবেন যদি ব্যাংকের সার্ভিস রুল মেনে হয়! কারন যতটুকু জানি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সার্ভিস রুলের (ধারা ৬.০০–৬.০৭) অনুযায়ী - নিয়োগ হতে পারে Direct Recruitment, Promotion, Lateral Entry ও Contract পদ্ধতিতে। তাহলে এই নিয়োগ অবৈধ কিভাবে হয়? অনেকে বলতে পারেন - এই সার্ভিস রুল ওরা বানিয়েছে! না, বিষয়টি সঠিক নয়, ব্যাংকের জন্মলগ্ন থেকেই সার্ভিস রুলে উক্ত ধারা সংযুক্ত ছিল। ধরে নিলাম ওরাই বানিয়েছে - তাহলে যারা চাকরি পেয়েছে তাদের দায়টা কোথায়? আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকই বা কোথায় ছিল তখন! এখন এতগুলো মানুষ ও তাদের পরিবারকে যে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন এর দায় কি আপনারা এড়াতে পারবেন?
আমাদের দেশে অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রেফারেন্সে চাকরি হওয়ার প্রথা অনেক দিনের পুরনো যা এখনও চলমান। ৫-১০ বছর চাকরি করে তাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে, চাকরি স্থায়ী হয়েছে, প্রমোশন পেয়েছে, অনেকে ভাল এসিআর পেয়ে আসছে, অনেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের পেশাগত যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক স্বীকৃত JAIBB/AIBB (ব্যাংকিং ডিপ্লোমা), ইসলামিক ব্যাংকিং ডিপ্লোমা ও ব্যাংকিং সম্পর্কিত অন্যান্য প্রফেশনাল ডিগ্রি অর্জন করেছে।তাদের দক্ষতা রয়েছে বলেই এসব পেশাগত ডিগ্রি অর্জন করতে পেরেছে। এখন যদি বলেন নতুন করে সাধারণ জ্ঞান, এনালিটিক্যাল এবিলিটি, ব্যাকরণ বা উচ্চতর গণিত শিখে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে - সেটা কি যুক্তিসঙ্গত? সেটা যদি হয়, তাহলেতো দেশের অধিকাংশ পুরনো ও অভিজ্ঞ ব্যাংকারই অযোগ্য হয়ে যাবে কারণ নিয়োগ পরীক্ষায় বসার জন্য নেয়া প্রিপারেশন এখন নিশ্চয় সেভাবে কারোরই আয়ত্তে থাকার কথা নয়! তাহলে এই অপ্রাসঙ্গিক “কম্পিটেন্সি টেস্ট” কেন? উত্তর হচ্ছে - শুধুমাত্র একটি জেলার বিশেষ সময়ে নিয়োগকৃত অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার জন্য।
ব্যাংকের যারা এই বিশেষ “কম্পিটেন্সি টেস্ট” এর আয়োজন করেছেন যদি বলি তারাও অংশগ্রহণ করবে ঐ একই পরীক্ষায়- দেখা যাবে কয়জন পাশ করে!! এখন বলতে পারেন যারা ঐ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে তাদের পাশের হার ৮৮% হলো কিভাবে! উত্তর হচ্ছে এটা জাস্ট দেশের বিগত কিছু নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার দেখানোর মত। অর্থাৎ যারা পরীক্ষা দেয়নি তাদের মধ্যে একটা আফসোস সৃষ্টি করা, যে দেখ তোমরা যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতা তোমরাও পাশ করতা! যদি উপরোক্ত পাশের হার সঠিক হয় তাহলে ধরে নেয়া যায় সবাই পরীক্ষা দিলে পাশের হার এর আশেপাশেই থাকতো, স্যাম্পলিং থেকেই বুঝা যায়। তাহলে সবাইকে গণহারে কোন যুক্তিতে টার্মিনেট করেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও আছে চাকরিচ্যুতির এই তালিকায়। তারা বুঝতে পারে নি যে ৫ বছর/৭ বছর বা ১০ বছর পরে তাদের চাকরি চলে যাবে।সে সময় এ চাকরিতে যোগ না দিলে তারা হয়তো নিজ যোগ্যতায় অন্য কোন পেশাকে বেছে নিত। এখন মোটামুটি সবার চাকরির বয়সও শেষ। কারও উপর পুরো পরিবারের দায়িত্ব, কারও বাবা-মা বৃদ্ধ, কেউ আবার নতুন সংসার পেতেছে, কেউ ২-৩ জন সন্তানের বাবা/মা। হুট করে এতগুলো কর্মীকে টার্মিনেট করাতে একটি মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে - বিশেষ করে দক্ষিন চট্টগ্রামে।
এই ব্যাংকে ২০১৭ সালের আগে চাকরির জন্য মেধা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও একটি বিশেষ দলের দুইজন নেতার সুপারিশ ছাড়া চাকরি হতো না। আপনি পরীক্ষাই যত ভাল করেন না কেন। যারা আজকে এসব করছে তারা হচ্ছে ২০১৭ সালের পরে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। ব্যাংকে এত অনিয়ম হয়েছে, ওকে! কেউ একজন প্রতিবাদ করেতো রিজাইন করেননি! বরং সুবিধা নিয়ে এই পর্যন্ত এসেছেন। আপনারা এটাকে রাজনৈতিক ব্যাংক বানিয়েছেন আগেই এবং চাইলে ২০১৭ সালের পর সে সকল ব্যাংকার নামক রাজনৈতিক কর্মীদেরও ছাঁটাই করতে পারতো, কিন্তু করেনি। এটাই চট্টলা বাসীর সাথে উনাদের পার্থক্য।
যে পরীক্ষার বর্জন করার কারণে এতএত কর্মীকে চাকরিচ্যুত হতে হলো, সেই পরীক্ষা সম্পর্কিত একটি রিটের সংশ্লিষ্ট একজন আইনজীবীকে মিডিয়ায় বলতে শুনেছি - পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি এখনও সাবজুডিস ম্যাটার হিসেবে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে আদালতের দেয়া নির্দেশনা নিয়ে কিছু মিসকনসেপ্ট তৈরি হয়েছে। আদালত কিন্তু ছাঁটাইয়ের উদ্দেশ্যে নেয়া পরীক্ষা স্থগিত করে প্রমোশনাল পরীক্ষা নেয়ার নিমিত্তে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দিয়েছে (লইয়ার’স সার্টিফিকেট দেখে যতটুকু বুঝেছি)। তাছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃক ইস্যুকৃত বিআরপিডি সার্কুলার নং -২, তারিখঃ ২০.০১.২০২২ এর ৩.৬ ধারায় ব্যাংকারদের চাকুরিচ্যুতির বিষয়ে একটা গাইডলাইন দেয়া আছে। সেহিসেবে অনেকের ধারনা ইসলামী ব্যাংক যে পরীক্ষাটি নিয়েছে সেটি আদালত অবমাননা। যাই হোক - কর্তৃপক্ষই ভাল বলতে পারবে। বিষয়টি অবকাশকালীন ছুটি শেষে উচ্চ আদালত খুললে বুঝা যাবে।
উচিত ছিল একাডেমিক যোগ্যতা, JAIBB/AIBB সার্টিফিকেট, অন্যান্য প্রফেশনাল ডিগ্রি ও বাস্তব অভিজ্ঞতা—এই সবকিছুকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা।
এতদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে প্রাপ্ত সংবাদ দেখে মনে হয়, বিষয়টি যতটুকু না যোগ্যতা যাচাইয়ের তার চেয়েও বেশি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট।
চাকরিচ্যুত ব্যাংকার ভাইদের বলব ধৈর্য্য ধরেন। রিজিক আগে থেকেই নির্ধারিত। সুতরাং, এটা নিয়ে টেনশন করবেন না। মহান আল্লাহ সবার সহায় হোন, আমিন!
সংগৃহীত
Islami Bank Bangladesh PLC ゚