This page is handling by some of ex-student of this institute. ফতেপুর মেহেরনেগা উচ্চ বিদ্যালয় চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত হাটহাজারী উপজেলাধীন ১১নং ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে অবস্থিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং সড়কের সামান্য দেিণ রামগড় মহাসড়কের পূর্বপার্শ্বে মদনহাটের একমাইল পূর্বে অত্র বিদ্যালয়টি অবস্থিত। এটি একটি গ্রামীণ পরিবেশে মনোমুগ্ধকর স্থানে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। এতদ্ অঞ্চলের ফতেপুর, নেহালপুর,ভবানীপুর, নন্দীরহাট, ইসলামিয়া হাট, মাইজপট্টির হাজার হাজার কোমলমতি শিার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য অত্র বিদ্যালয়টির অসামান্য অবদানের দাবীদার। বিদ্যালয়টি অবকাঠামোগত ভাবে ত্রিতল দুইটি ভবন নিয়ে তার শিা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। অভিজ্ঞ প্রশিণপ্রাপ্ত শিকমন্ডলী কর্তৃক আধুনিক বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নির্ভর শিাদানের মাধ্যমে শিার্থীদের দ ও আদর্শ নাগরিক রূপে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিদ্যালয়টিতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় সয়ং সম্পূর্ণ পাঠাগার রয়েছে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগার, সুসজ্জিত কম্পিউটার ল্যাব ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর মাল্টিমিডিয়া কাশ রুম রয়েছে। শিক ও শিার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যালয়ের বৈদুত্যিক ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন করার জন্য আধুনিক আইপিএসসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রাত্যহিক সমাবেশ ও অন্যান্য সহপাঠ্যক্রমিক অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা রয়েছে।রোটারী কাব অব চিটাগাং ওশান ব্লু কর্তৃক প্রদত্ত ৪ খানা সেলাই মেশিন দ্বারা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য সেলাই প্রশিণ কায্যক্রম চালু রয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম কম্পিটার নির্ভর।
প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৬৮ ইংরেজি
ইতিহাসঃ
ফতেপুর তথা হাটহাজারীর কৃতি সন্তান মরহুম আলহাজ্ব হাফেজ আহাম্মদ সওদাগরের একমাত্র প্রচেষ্টায় পূর্ব ফতেপুর গ্রামের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতায় ১৯৬৮ সনে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠাকাল হতে ১৯৮৬ ইং পর্যন্ত জুনিয়র হাই স্কুল এবং ১৯৮৭ ইং সনে ১ম কুমিল্লা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে এস.এস.সি পরীায় অংশগ্রহণ। বর্তমান ছাত্র সংখ্যা ৮৬৬ জন তন্মধ্যে ছাত্র ৪০০ জন ছাত্রী ৪৬৬ জন শিক সংখ্যা ১৪ জন : ১০ জন পরুষ ০৪ জন মহিলা, ০১ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও ০৬জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। বিদ্যালয় ভবন সংখ্যা-০২টি(ত্রিতল)। প্রথম ভবনের নাম ফতেপুর মেহেরনেগা উচ্চ বিদ্যালয়। চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কবির আহাম্মদ সওদাগর বিদ্যালয়টি স্ব-উদ্যোগে পাকা করার উিদ্যোগ নেন এবং এক তলা ভবনের শুধু ইটের কাজ করে তিনি ইতি টানেন। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের শিকমন্ডলীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও পরিচালনা পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় এবং সরকারী-বেসরকারী অনুদানের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভবন নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয় শিকগণ ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি, এস.এস.সি ফলাফলের গুণগত ও সংখ্যাগত মান বৃদ্ধির নিরলস প্রচেষ্টা চালান। এক সময় ছাত্রসংখ্যা ও ফলাফলের দিক থেকে এ বিদ্যালয়টি ছিল হাটহাজারীর সর্বকনিষ্ঠ বিদ্যালয়। শিকদের প্রচেষ্টায় ও পরিচালনা পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়টি আজ হাটহাজারী উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়গুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এস.এস.সি ফলাফলের চরম দুর্ভিরে সময়ও এ বিদ্যালয় কোন অসুবিধায় পড়েনি।
হাটহাজারী উপজেলার ২/৩ টি শিা প্রতিষ্ঠানের (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়স্কুল ও কলেজ, সেনা নিবাস উচ্চ বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম রেসিডেন্সিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়) সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বেসরকারী বিদ্যালয়গুলো কুলায়ে উঠতে পারে না। তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতার মাঝে প্রচেষ্টা চালায়ে ১৯৯৭ ইং সন হতে জুনিয়র বৃত্তি প্রাপ্তি শুরু হয় যা অদ্যাবধি নিরবছিন্নভাবে চালু রয়েছে। উন্নত ভৌত অবকাঠামো ও অভ্যন্তরীন সাজ-সজ্জায় অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে অত্যাধুনিক সুবিধার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পাঠগ্রহন করে থাকে।
এ বিদ্যালয়ে রয়েছে একটি সুসজ্জিত কম্পিউটার ল্যাব। তিনটি ল্যাপটপ সহ ৬টি কম্পিউটারের সাহায্যে এ বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা প্রশিণ নিয়ে থাকে। বিদ্যালয়টিতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় সয়ং সম্পূর্ণ পাঠাগার রয়েছে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগার, সুসজ্জিত কম্পিউটার ল্যাব ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর মাল্টিমিডিয়া কাশ রুম রয়েছে। শিক ও শিার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যালয়ের বৈদুত্যিক ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন করার জন্য আধুনিক আইপিএসসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রাত্যহিক সমাবেশ ও অন্যান্য সহপাঠ্যক্রমিক অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম কম্পিটার নির্ভর।
বিদ্যালয়ের একটি আধুনিক পাঠাগার রয়েছে। প্রায় লাধিক টাকা ব্যয়ে এ পাঠাগার তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পাঠাগারে বইয়ের সংখ্যা ৩,০০০ (তিন হাজার) এর বেশী। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একটি শক্তিশালী শাখাও বিদ্যালয়ে চালু রয়েছে। বর্তমানে এ শাখায় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৬০ (ষাট) জন।
বিদ্যালয়ের প্রতি এলাকার সর্ব স্তরের জনসাধারন অত্যন্ত স্ংবেদনশীল। বিদ্যালয়ের দেয়ালে চিঁকা মারা, পোস্টার সাঁটা কোন দিন কারো পে সম্ভব হয়নি। আর সম্ভব না হওয়ার পিছনে অতন্দ্র প্রহরীর মত কাজ করে এলাকার প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও যুব সমাজ এমনকি মেহেরনেগা সড়কের রিক্সা শ্রমিকরা পর্যন্ত এ ব্যাপারে সজাগ। ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা প্রশংসার দাবীদার।
এলাকার প্রবাসী জনগনের আন্তরিকতা খুবই প্রশংসনীয়। প্রবাসীরা দেশে আসলে বিদ্যালয়ে আগমন করতঃ খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা করে থাকেন। ছাত্রছাত্রীদের বেতনই বিদ্যালয়ের আয়ের একমাত্র উৎস। ধনাঢ্য দেশী ও প্রবাসীদের অনুদান হচেছ দ্বিতীয় উৎস। আয়ের সমুদয় অর্থ বিধি অনুযায়ী ব্যয় হয়। বিদ্যালয়ের শিকি- শিকিা, কর্মচারী ও পরিচালনা পরিষদ সদস্যগণ বিদ্যালয়ের আর্থিক দিক স্বচ্ছতার গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করে।
বিদ্যালয়ের এক-তৃতীয়াংশ ছাত্রছাত্রী শুধু পরীার ফি দিয়ে পড়াশুনা করে। তাদের বেতন দিয়ে পড়ার মত আর্থিক সঙ্গতি নেই। “আথির্ক কারনে কোন ছেলে মেয়ে পড়া বন্ধ করতে পারবে না” - এটাই হচেছ অত্র বিদ্যালয়ের বিশেষত্ব। বিদ্যালয়ের দুই বর্গকিলোমিটারের মধ্যে হাই স্কুলে পড়ার যোগ্যতা সম্পন্ন কেউ বাদ পড়েনি। ঘরে ঘরে শিার আলো এমন ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তা এলাকা ঘুরে এলেই বুঝা যায়। তাই অত্র বিদ্যালয়কে “ধনীদের দ্বারা পরিচালিত গরীবদের স্কুল” বলা হয়ে থাকে।
রোটারী কাব অব চিটাগাং ওশান ব্লু কর্তৃক প্রদত্ত ৪ খানা সেলাই মেশিন দ্বারা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য সেলাই প্রশিণ কায্যক্রম চালু রয়েছে। এ পর্যন্ত ৩ (তিন) মাসের কোর্সে ২টি ব্যাচে ১৫ জন করে ৩০ (ত্রিশ) জন ছাত্রী প্রশিণ গ্রহণ করে বের হয়েছে। বর্তমানে ০২ ব্যাচে আরো ৫০জন শিার্থী প্রশিণরত রয়েছে। প্রত্যেক ব্যাচের শ্রেষ্ঠ শিার্থীকে একটি করে নতুন সেলাই মেশিন উপহার দেয়া হয়। দুই ব্যাচে দুইজন ছাত্রী দু’টি সেলাই মেশিন পেয়েছে।
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, চাঁদের যেমন কলঙ্ক তেমনি বিদ্যালয়টিতে সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান থাকলেও নেই একটি খেলার মাঠ। প্রশাসনিক ভবন ও খেলার মাঠ সম্প্রসারনের জন্য পশ্চিম পার্শ্বের ২৫ শতক জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছলে মালিকদের মধ্য হতে একজন হাইকোর্টে রীট মামলা করায় অধিগ্রহনের কাজ স্থগিত হয়ে যায়। মামলাটির শুনানী হলে বিদ্যালয়ের পে জনস্বার্থে রায় পাওয়ার প্রত্যাশী। এ প্রত্যাশা পূরণ হলে বিদ্যালয়ের এক বিরাট সমস্যার সমাধান হবে।