01/03/2022
📕📕
অনুভূতি দিয়ে মনের মণিকোঠায়
পরম সত্তা আপনার
প্রতিপালক মহান আল্লাহ্কে
স্মরন করার সাথেসাথে তাঁর
দেয়া নিয়ামতগুলোকেও স্মরন করুন
দেখবেন, আপনার মনে প্রশান্তি চলে এসেছে…
বিপদের দিনগুলো স্মরন করুন
সে সময়ে কিভাবেই না
তিনি আপনাকে ঐ অবস্থা
থেকে এখনো বেঁচে রেখেছেন…
এভাবে অনুভূতি দিয়ে এগুতে থাকুন
আপনার রবের দিকে আশা নিয়ে
আর চিন্তা করুন তাঁর দেয়া নিয়ামতের ব্যাপারে জবাবদিহীতা নিয়ে। কেননা কিছু মানুষকে মহান আল্লাহ ভাল কাজের প্রতিদান দুনিয়াতেই দিয়ে শেষ করবেন পরকালে আগুন ছাড়া কিছুই নেই।
নিয়ত করুন ভাল কাজের।
এবার চিন্তা করে দেখুন আপনার রব কতইনা ভাল যে
একটি ভাল কাজের নিয়ত করলেই একটা সওয়াব
দিবেন যা নাকি উহুদ পাহাড় সমান ব্যয়বহুল ও মূল্যবান স্বর্ণের দামের সমান।
এভাবে ধীরে ধীরে নিশ্চিন্তে আপনার রবের দিকে আসুন তওবা করুন আর আপনার রব যা নিষেধ করেছেন তা কখনোই আর আপনি করবেন না ।
এবার তাঁর প্রতি সুধারণা করুন যা আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।
এবার মনে মনে সেই অন্তহীন গভীর অকৃত্রিম অনুভূতির আলো দিয়ে উপলব্ধি করুন
তাঁর পবিত্রতা ঘোষনা করুন সুবহানআল্লাহ।
আবার ও মনে মনে উপলব্ধি করুন তাঁর দয়াময়তার কথা আর অন্তরের গভীর অনুভূতি দিয়ে প্রশান্তি ও সন্তুষ্টির সুরে "আলহামদুলিল্লাহ" বলুন।
মহান রাব্বুল আলামীন এর ডাকে আজানের সাথে সাথে মসজিদের পানে ছুটে চলুন
আর মনে করুন একদিন দুনিয়ার কাজ
তো ছাড়তেই হবে আর একদিন
দেহ নামক খাচাঁটা ও ছাড়তে হবে এবার নয়ন ভরে দেখে নিন
মসজিদে রাখা শেষ বাহনরুপ খাটিয়া।!
এবার আল্লাহ্র রহমত চেয়ে দুখুল মসজিদ
দুরাকাত সালাত আদায় করুন সালাতে
মনোযোগ দিয়ে আপনার রবের কথা শুনুন
অনুভূতির কান দিয়ে দেখবেন আপনার রব
কি বলেছেন সারাদিন যাঁকে ভয় করেছেন
তাঁর জন্যই কাজ করেছেন
এভাবেই তাঁর প্রতিবিশ্বাস ধরে থেকে প্রতিদিন
পার করুন। এভাবে পজেটিভ ধারনাই আপনাকে রবের দিকে চলতে শেখাবে
📕📕
এবার উপরের চিন্তার সাথে মিলিয়ে নিন।
(১)আপনি আপনার রব-আল্লাহ্ কে অস্বীকার করেননি না দেখেই বিশ্বাস করেছেন এজন্য পাবেনঃ-
সূরা ইয়াসীন:11 - আপনি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পারেন, যারা উপদেশ অনুসরণ করে এবং দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে। অতএব আপনি তাদেরকে সুসংবাদ দিয়ে দিন ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের।
সূরা আল মুলক:6 - যারা তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। সেটা কতই না নিকৃষ্ট স্থান।
(২)আপনি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তথা মোরসালীনদের অনুসরণ করেছেনঃ
সূরা ইয়াসীন:20 - অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা রসূলগণের অনুসরণ কর।
সূরা ইয়াসীন:21 - অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।
(৩)আপনি আল্লাহ্র কথা শোনেছেন সেই মত
কাজ করেছেনঃ
সূরা ইয়াসীন:60 - হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?
সূরা ইয়াসীন:61 - এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ।
সূরা আল-যুমার:10 - বলুন, হে আমার বিশ্বাসী বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়াতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে পুণ্য। আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।
(৪)আল্লাহ্র ভয়ে আপনার শরীরের লোম কাঁটাদিয়ে উঠেছিলঃ
সূরা আল-যুমার:23 - আল্লাহ উত্তম বাণী তথা কিতাব নাযিল করেছেন, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, পূনঃ পূনঃ পঠিত। এতে তাদের লোম কাঁটা দিয়ে উঠে চামড়ার উপর, যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, এরপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়। এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ, এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।
(৫)আল্লাহ্ ভয়ে সবার আগে মসজিদে এসেছেন সকাল সন্ধ্যায় তাঁকে ডাকেন রাতে ও সেজদা দিয়ে থাকেনঃ
সূরা আল-যুমার:9 - যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।
সূরা সেজদাহ:16 - তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।
সূরা সেজদাহ:17 - কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে
(৬)অসংখ্য কাজ রেখে মসজিদে এসেছেন ইমামের কথাও শুনলেন কেননা আপনি আখিরাত জীবন বিশ্বাস করেছেনঃ
সূরা আন-নূর:37 - এমন লোকেরা, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামায কায়েম করা থেকে এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।
সূরা আল-যুমার:18 - যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং~ তারাই বুদ্ধিমান।
(৭)রেজেকের কথা চিন্তা করেননিতাঁর কাছেই সাহায্য চেয়েছেন -
⁂
সূরা আল ফাতিহা:5 - আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
সূরা আল জুমুআহ:11 - তারা যখন কোন ব্যবসায়ের সুযোগ অথবা ক্রীড়াকৌতুক দেখে তখন আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সেদিকে ছুটে যায়। বলুনঃ আল্লাহর কাছে যা আছে, তা ক্রীড়াকৌতুক ও ব্যবসায় অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। আল্লাহ সর্বোত্তম রিযিকদাতা।
(৮)আপনি আল্লাহ্ কে বিশ্বাস করে দুনিয়ার কাজ ফেলে ভুল করছেন কি ধর্ম মান্য করেঃ-
⁂
সূরা আল-যুমার:22 - আল্লাহ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে। (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর আল্লাহ স্মরণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দূর্ভোগ। তারা সুস্পষ্ঠ গোমরাহীতে রয়েছে।
সূরা আল ফাতহ:28 - তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহ যথেষ্ট।
সূরা সেজদাহ:18 - ঈমানদার বা বিশ্বাসী ব্যক্তি কি অবাধ্যের অনুরূপ? তারা সমান নয়।
(৯)কেউ আপনাকে হিংসা করে তাই নামাজে দোয়া করলেন আর আল্লাহ্ উপর ভরসা করেছেনঃ-
সূরা আল ফাতহ:26 - কেননা, কাফেররা তাদের অন্তরে মূর্খতাযুগের জেদ পোষণ করত। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রসূল ও মুমিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদের জন্যে সংযমের দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিলেন। বস্তুতঃ তারাই ছিল এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
(১০)এই আলোচনায় আপনি কি আল্লাহ্র দিকে আসবারব জন্য মনস্থির করলেন? আপনার কি বিশ্বাস বাড়লো?? কুধারনা না করে আল্লাহ্র প্রতি কি সুধরনার অনুভুতি আপনার মনে আসন পেয়েছে কি??
সূরা আল আহযাব:73 - যাতে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী, মুশরিক পুরুষ, মুশরিক নারীদেরকে শাস্তি দেন এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সূরা আল ফাতহ:6 - এবং যাতে তিনি কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারী এবং অংশীবাদী পুরুষ ও অংশীবাদিনী নারীদেরকে শাস্তি দেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষন করে। তাদের জন্য মন্দ পরিনাম। আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন। এবং তাহাদের জন্যে জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন। তাদের প্রত্যাবর্তন স্থল অত্যন্ত মন্দ।
সূরা আল-আনফাল:2 - যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ার দেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে।
সূরা আল ফাতহ:4 - তিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বেড়ে যায়। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।