📕📕
অনুভূতি দিয়ে মনের মণিকোঠায়
পরম সত্তা আপনার
প্রতিপালক মহান আল্লাহ্কে
স্মরন করার সাথেসাথে তাঁর
দেয়া নিয়ামতগুলোকেও স্মরন করুন
দেখবেন, আপনার মনে প্রশান্তি চলে এসেছে…
বিপদের দিনগুলো স্মরন করুন
সে সময়ে কিভাবেই না
তিনি আপনাকে ঐ অবস্থা
থেকে এখনো বেঁচে রেখেছেন…
এভাবে অনুভূতি দিয়ে এগুতে থাকুন
আপনার রবের দিকে আশা নিয়ে
আর চিন্তা করুন তাঁর দেয়া নিয়ামতের ব্যাপারে জবাবদিহীতা নিয়ে। কেননা কিছু মানুষকে মহান আল্লাহ ভাল কাজের প্রতিদান দুনিয়াতেই দিয়ে শেষ করবেন পরকালে আগুন ছাড়া কিছুই নেই।
নিয়ত করুন ভাল কাজের।
এবার চিন্তা করে দেখুন আপনার রব কতইনা ভাল যে
একটি ভাল কাজের নিয়ত করলেই একটা সওয়াব
দিবেন যা নাকি উহুদ পাহাড় সমান ব্যয়বহুল ও মূল্যবান স্বর্ণের দামের সমান।
এভাবে ধীরে ধীরে নিশ্চিন্তে আপনার রবের দিকে আসুন তওবা করুন আর আপনার রব যা নিষেধ করেছেন তা কখনোই আর আপনি করবেন না ।
এবার তাঁর প্রতি সুধারণা করুন যা আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।
এবার মনে মনে সেই অন্তহীন গভীর অকৃত্রিম অনুভূতির আলো দিয়ে উপলব্ধি করুন
তাঁর পবিত্রতা ঘোষনা করুন সুবহানআল্লাহ।
আবার ও মনে মনে উপলব্ধি করুন তাঁর দয়াময়তার কথা আর অন্তরের গভীর অনুভূতি দিয়ে প্রশান্তি ও সন্তুষ্টির সুরে "আলহামদুলিল্লাহ" বলুন।
মহান রাব্বুল আলামীন এর ডাকে আজানের সাথে সাথে মসজিদের পানে ছুটে চলুন
আর মনে করুন একদিন দুনিয়ার কাজ
তো ছাড়তেই হবে আর একদিন
দেহ নামক খাচাঁটা ও ছাড়তে হবে এবার নয়ন ভরে দেখে নিন
মসজিদে রাখা শেষ বাহনরুপ খাটিয়া।!
এবার আল্লাহ্র রহমত চেয়ে দুখুল মসজিদ
দুরাকাত সালাত আদায় করুন সালাতে
মনোযোগ দিয়ে আপনার রবের কথা শুনুন
অনুভূতির কান দিয়ে দেখবেন আপনার রব
কি বলেছেন সারাদিন যাঁকে ভয় করেছেন
তাঁর জন্যই কাজ করেছেন
এভাবেই তাঁর প্রতিবিশ্বাস ধরে থেকে প্রতিদিন
পার করুন। এভাবে পজেটিভ ধারনাই আপনাকে রবের দিকে চলতে শেখাবে
📕📕
এবার উপরের চিন্তার সাথে মিলিয়ে নিন।
(১)আপনি আপনার রব-আল্লাহ্ কে অস্বীকার করেননি না দেখেই বিশ্বাস করেছেন এজন্য পাবেনঃ-
সূরা ইয়াসীন:11 - আপনি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পারেন, যারা উপদেশ অনুসরণ করে এবং দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে। অতএব আপনি তাদেরকে সুসংবাদ দিয়ে দিন ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের।
সূরা আল মুলক:6 - যারা তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। সেটা কতই না নিকৃষ্ট স্থান।
(২)আপনি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তথা মোরসালীনদের অনুসরণ করেছেনঃ
সূরা ইয়াসীন:20 - অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা রসূলগণের অনুসরণ কর।
সূরা ইয়াসীন:21 - অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।
(৩)আপনি আল্লাহ্র কথা শোনেছেন সেই মত
কাজ করেছেনঃ
সূরা ইয়াসীন:60 - হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?
সূরা ইয়াসীন:61 - এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ।
সূরা আল-যুমার:10 - বলুন, হে আমার বিশ্বাসী বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়াতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে পুণ্য। আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।
(৪)আল্লাহ্র ভয়ে আপনার শরীরের লোম কাঁটাদিয়ে উঠেছিলঃ
সূরা আল-যুমার:23 - আল্লাহ উত্তম বাণী তথা কিতাব নাযিল করেছেন, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, পূনঃ পূনঃ পঠিত। এতে তাদের লোম কাঁটা দিয়ে উঠে চামড়ার উপর, যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, এরপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়। এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ, এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।
(৫)আল্লাহ্ ভয়ে সবার আগে মসজিদে এসেছেন সকাল সন্ধ্যায় তাঁকে ডাকেন রাতে ও সেজদা দিয়ে থাকেনঃ
সূরা আল-যুমার:9 - যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।
সূরা সেজদাহ:16 - তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।
সূরা সেজদাহ:17 - কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে
(৬)অসংখ্য কাজ রেখে মসজিদে এসেছেন ইমামের কথাও শুনলেন কেননা আপনি আখিরাত জীবন বিশ্বাস করেছেনঃ
সূরা আন-নূর:37 - এমন লোকেরা, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামায কায়েম করা থেকে এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।
সূরা আল-যুমার:18 - যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং~ তারাই বুদ্ধিমান।
(৭)রেজেকের কথা চিন্তা করেননিতাঁর কাছেই সাহায্য চেয়েছেন -
⁂
সূরা আল ফাতিহা:5 - আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
সূরা আল জুমুআহ:11 - তারা যখন কোন ব্যবসায়ের সুযোগ অথবা ক্রীড়াকৌতুক দেখে তখন আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সেদিকে ছুটে যায়। বলুনঃ আল্লাহর কাছে যা আছে, তা ক্রীড়াকৌতুক ও ব্যবসায় অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। আল্লাহ সর্বোত্তম রিযিকদাতা।
(৮)আপনি আল্লাহ্ কে বিশ্বাস করে দুনিয়ার কাজ ফেলে ভুল করছেন কি ধর্ম মান্য করেঃ-
⁂
সূরা আল-যুমার:22 - আল্লাহ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে। (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর আল্লাহ স্মরণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দূর্ভোগ। তারা সুস্পষ্ঠ গোমরাহীতে রয়েছে।
সূরা আল ফাতহ:28 - তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহ যথেষ্ট।
সূরা সেজদাহ:18 - ঈমানদার বা বিশ্বাসী ব্যক্তি কি অবাধ্যের অনুরূপ? তারা সমান নয়।
(৯)কেউ আপনাকে হিংসা করে তাই নামাজে দোয়া করলেন আর আল্লাহ্ উপর ভরসা করেছেনঃ-
সূরা আল ফাতহ:26 - কেননা, কাফেররা তাদের অন্তরে মূর্খতাযুগের জেদ পোষণ করত। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রসূল ও মুমিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদের জন্যে সংযমের দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিলেন। বস্তুতঃ তারাই ছিল এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
(১০)এই আলোচনায় আপনি কি আল্লাহ্র দিকে আসবারব জন্য মনস্থির করলেন? আপনার কি বিশ্বাস বাড়লো?? কুধারনা না করে আল্লাহ্র প্রতি কি সুধরনার অনুভুতি আপনার মনে আসন পেয়েছে কি??
সূরা আল আহযাব:73 - যাতে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী, মুশরিক পুরুষ, মুশরিক নারীদেরকে শাস্তি দেন এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সূরা আল ফাতহ:6 - এবং যাতে তিনি কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারী এবং অংশীবাদী পুরুষ ও অংশীবাদিনী নারীদেরকে শাস্তি দেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষন করে। তাদের জন্য মন্দ পরিনাম। আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন। এবং তাহাদের জন্যে জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন। তাদের প্রত্যাবর্তন স্থল অত্যন্ত মন্দ।
সূরা আল-আনফাল:2 - যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ার দেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে।
সূরা আল ফাতহ:4 - তিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বেড়ে যায়। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
হাসান আল ফারাবি
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from হাসান আল ফারাবি, School, bibirhat, Chittagong.
📕📕
কেমন আছেন আপনারা
সারাদিনে একবার চিন্তা করুন
সবকিছু ছেড়ে চলে যেতে হবে আপনাকে ।
আপনার রবের সান্নিধ্যে কি নিয়ে যাবেন ?
কোরআন ছাড়া কিছুই থাকবে না এজগতের হাত দিয়ে ছোঁয়া কোন জিনিস।
তাই দুনিয়ার জন্য অস্থির না হয়ে অন্তরে আলোজ্বলে নিন এ কোরআন দিয়ে।
তৈরি করে নিন প্রশান্ত আত্মা’
বা নফসে মুতমাইনন্যা
📕
মানব মন আপন সত্তার দিকে মন্দ কাজের আদেশদাতা। কিন্তু মানুষ যখন আল্লাহ্ ও আখেরাতের ভয়ে মনের আদেশ পালনে বিরত থাকে, তখন তা (لَوَّامَة) হয়ে যায়। অর্থাৎ মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারকারী ও মন্দ কাজ থেকে তাওবাকারী এবং যখন কোন মানুষ নিজের মনের বিরুদ্ধে প্রচেষ্টা করতে করতে মনকে এ স্তরে পৌঁছিয়ে দেয় যে, তার মধ্যে মন্দ কাজের কোন স্পৃহাই অবশিষ্ট থাকে না, তখন তা (مُطْمَئِنَّة) হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রশান্ত ও নিরুদ্বেগ মন। পুণ্যবানরা চেষ্টা-সাধনার মাধ্যমে এ স্তর অর্জন করতে পারে। [ইবনুল কাইয়্যেম, আর রূহ: ২২০]
√প্রশান্ত আত্মা’ বলে এমন মানুষকে বুঝানো হয়েছে যে, কোন প্রকার সন্দেহ সংশয় ছাড়াই পূর্ণ নিশ্চিন্ততা সহকারে ঠাণ্ডা মাথায় এক ও লা-শরীক আল্লাহকে নিজের রব এবং নবীগণ যে সত্য দ্বীন এনেছিলেন তাকে নিজের দ্বীন ও জীবন বিধান হিসেবে গণ্য করেছে।
আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কাছ থেকে যে বিশ্বাস ও বিধানই পাওয়া গেছে তাকে সে পুরোপুরি সত্য বলে মেনে নিয়েছে। আল্লাহর দ্বীন যে জিনিসটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তাকে সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও নয় বরং এই বিশ্বাস সহকারে বর্জন করেছে যে, সত্যিই তা খারাপ।
সত্য-প্রীতির পথে যে কোন ত্যাগ স্বীকারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে সে নির্দ্ধিধায় তা করেছে। এই পথে যেসব সংকট, সমস্যা, কষ্ট ও বিপদের মুখোমুখি হতে হয়েছে হাসি মুখে সেগুলো বরদাশত করেছে।
অন্যায় পথে চলে লোকদের দুনিয়ায় নানান ধরনের স্বার্থ, ঐশ্বর্য ও সুখ-সম্ভার লাভ করার যেসব দৃশ্য সে দেখছে তা থেকে বঞ্চিত থাকার জন্য তার নিজের মধ্যে কোন ক্ষোভ বা আক্ষেপ জাগেনি।
বরং সত্য দ্বীন অনুসরণ করার ফলে সে যে এই সমস্ত আবর্জনা থেকে মুক্ত থেকেছে, এজন্য সে নিজের মধ্যে পূর্ণ নিশ্চিন্ততা অনুভব করেছে।
কুরআনের অন্যত্র এই অবস্থাটিকে ‘শারহে সদর’ বা হৃদয় উন্মুক্ত করে দেয়া অর্থে বর্ণনা করা হয়েছে।
(সূরা আল আন-আম:125 - অতঃপর আল্লাহ যাকে পথ-প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দেন এবং যাকে বিপথগামী করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ অত্যধিক সংকীর্ণ করে দেন-যেন সে সবেগে আকাশে আরোহণ করছে। এমনি ভাবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। আল্লাহ তাদের উপর আযাব বর্ষন করেন।)
!!!
আল্লাহ যার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করেছেন, সে তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত আলোয় রয়েছে, (সে কি তার সমান যে এরূপ নয়?) দুর্ভোগ তাদের জন্য যাদের কঠোর হৃদয় আল্লাহর স্মরণ হতে বিমুখ। তারা রয়েছে প্রকাশ্য গুমরাহীতে।”(সূরা যুমার ৩৯:২২)
•
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: এর অর্থ হল তাওহীদ ও তার প্রতি ঈমান আনার জন্য অন্তরকে প্রশস্তকরণ। (ইবনে কাসীর, ৩/৩৭৫)
!!!
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে আল্লাহ তা‘আলা অন্তরকে প্রশস্ত করে দেন?
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: একটি আলো অন্তরে দিয়ে দেয়া হয়। ফলে অন্তর খুলে যায় ও (ইসলাম গ্রহণের জন্য) প্রশস্ত হয়ে পড়ে।
!!
পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হল, এর কি কোন আলামত আছে যে তা বুঝা যাবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: সে পরকালের প্রতি ঝুঁকে পড়বে, দুনিয়ার প্রতি তার অনাসক্তি থাকবে এবং মৃত্যু আসার পূর্বেই তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকবে। (আযউয়াউল বায়ান, ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)
!!
অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা যে ব্যক্তির কল্যাণ চান তাকে দীনের জ্ঞান অর্জন করার তৌফিক দান করেন। (সহীহ বুখারী হা: ৭১, সহীহ মুসলিম হা: ১০৩৭)
📕📕
অতএব,
সূরা আল আন-আম:132 - প্রত্যেকের জন্যে তাদের কর্মের আনুপাতিক মর্যাদা আছে এবং আপনার প্রতিপালক তাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন।
!!!!
অন্তর প্রশস্ত হয় এমন দোয়া
পাঠ করুন -মুসা আঃ বলেছিলেন
ফেরাউনের কাছে দ্বীনের দাওয়াতে ঃ
قَالَ رَبِّ اشۡرَحۡ لِىۡ صَدۡرِىۙ﴾
﴿ وَيَسِّرۡ لِىۡۤ اَمۡرِىۙ﴾﴿وَاحۡلُلۡ عُقۡدَةً مِّنۡ لِّسَانِىۙ﴾﴿ يَفۡقَهُوۡا قَوۡلِى﴾
(সুরাআত ত্বহা২৫.২৮)
মূসা বললো, “হে আমার রব! আমার বুক প্রশস্ত করে দাও। এবং আমার কাজ আমার জন্য সহজ করে দাওএবং আমার জিভের জড়তা দূর করে দাও, যাতে লোকেরা আমার কথা বুঝতে পারে।
,,,,
অর্থাৎ আমার মনে এ মহান দায়িত্বভার বহন করার মতো হিম্মত সৃষ্টি করে দাও। আমার উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়িয়ে দাও। যেহেতু হযরত মূসাকে (আ) একটি অনেক বড় কাজের দায়িত্ব সোপর্দ করা হচ্ছিল যা করার জন্য দুরন্ত সাহসের প্রয়োজন তাই তিনি দোয়া করেন, আমাকে এমন ধৈর্য, দৃঢ়তা, সংযম, সহনশীলতা, নির্ভীকতা ও দুর্জয় সংকল্প দান করো যা এ কাজের জন্য প্রয়োজন।
🌹🌹🌹
যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে উপস্থিত
হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু‘টি জান্নাত’
-সুরা আর রহমান
🌹
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : যে ব্যক্তি এ ভয় করে যে, কিয়ামতের দিন স্বীয় প্রতিপালকের সামনে দাঁড়িয়ে হিসাব দিতে হবে সে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য কাজ হতে বিরত থাকে এবং নিজেকে কু-প্রবৃত্তি হতে হেফাযত করে, দুনিয়াকে প্রাধান্য না দিয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দেয় এবং সে জানে আখিরাতই শ্রেষ্ঠ। ফলে শরীয়তের ফরযগুলো যথাযথ আদায় করে, হারাম কাজ থেকে বিরত থাকে তার জন্য কিয়ামত দিবসে দু’টি জান্নাত।
🌹
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : দু’টি জান্নাত হবে রৌপ্যের এবং তার আসবাবপত্রসহ তার ভেতরে যা কিছু আছে সব।
🌹
আর দুটি জান্নাত হবে স্বর্ণের এবং তার আসবাবপত্র ও তার ভেতরে যা আছে সব। জান্নাতবাসী ও আল্লাহর দীদারের মাঝে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না কেবলমাত্র তাঁর কিবরিয়ার চাঁদর যা তাঁর চেহারার ওপর, থাকবে। এটা থাকবে আদন নামক জান্নাতে। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮৮০, সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ : মু’মিনরা কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখবে)
~~~~~~
জান্নাতবাসী ও আল্লাহর দীদারের মাঝে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না আদন নামক জান্নাতে।এ জান্নাত পেতে হলে কিছু সৎগুন অর্জন করতে হবে যেমন -
☼☼
সূরা রা’দ আয়াত:20 - এরা এমন লোক, যারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না।
°
সূরা রা’দ আয়াত:21 - এবং যারা বজায় রাখে ঐ সম্পর্ক, যা বজায় রাখতে আল্লাহআয়াত আদেশ দিয়েছেন এবং স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে এবং কঠোর হিসাবের আশঙ্কা রাখে।
°
সূরা রা’দ আয়াত:22 - এবং যারা স্বীয় পালনকর্তার সন্তুষ্টির জন্যে সবর করে, নামায প্রতিষ্টা করে আর আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্য ব্যয় করে এবং যারা মন্দের বিপরীতে ভাল করে, তাদের জন্যে রয়েছে পরকালের গৃহ।
°
সূরা রা’দ আয়াত:23 - তা হচ্ছে বসবাসের বাগান। তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে।
•
সূরা রা’দ আয়াত:24 - বলবেঃ তোমাদের সবরের কারণে তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর তোমাদের এ পরিণাম-গৃহ কতই না চমৎকার।
@@@
অতএব
ডাকুন আপনার পালন কর্তাকে মনে প্রানে
কেননা তিনি বরকত ময়
[১] تَبَارَكَ শব্দটি بركة থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ, চিরত্ব ও স্থায়িত্ব। অর্থাৎ, তাঁর নাম চিরন্তন ও চিরস্থায়ী। অথবা তাঁর নিকট সর্বদাই বরকত ও কল্যাণের ভান্ডার বিদ্যমান। কেউ কেউ তার অর্থ করেছেন, আল্লাহর মহিমা, গৌরব ও মর্যাদার উচ্চতা। আর যাঁর নাম এত বরকতময় তথা এত কল্যাণ ও উচ্চতার অধিকারী, তখন তাঁর সত্তা কতই না কল্যাণময় এবং কতই না বড়ত্ব ও উচ্চতার অধিকারী
সূরা আর-রহমানে বেশির ভাগ আল্লাহ তা'আলার অবদান ও মানুষের প্রতি অনুগ্রহ বর্ণিত হয়েছে। উপসংহার সার-সংক্ষেপ হিসেবে বলা হয়েছেঃ আল্লাহর পবিত্র সত্তা অনন্য। তাঁর নামও খুব পুণ্যময়। তার নামের সাথেই এসব অবদান কায়েম ও প্রতিষ্ঠিত আছে। [কুরতুবী; ইবন কাসীর]
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায়ের পরে বসা অবস্থায় বলতেন,
اللّٰهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَيا ذَاالْجَلَالِ وَالإكْرَامِ
“হে আল্লাহ্ আপনি সালাম (শান্তি নিরাপত্তাপ্রদানকারী), আপনার পক্ষ থেকেই সালাম (শান্তি ও নিরাপত্তা) আসে। আপনি বরকতময়, হে মহিমাময় মহানুভব।” [মুসলিম: ৫৯১, ৫৯২]
কোন বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা “ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম” বলে বেশী বেশী করে সার্বক্ষনিক আল্লাহর কাছে চাও”। [তিরমিয়ী: ৩৫২২, মুসনাদে আহমদঃ ৪/১৭৭]
💠💠💠
আপনি কি জানেন কেন শয়তানের সৃষ্টি???
সূরা আল আ’রাফ আয়াত:27 - হে বনী-আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, , যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না।
☼
সূরা মারইয়াম আয়াত:83 - আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আমি কাফেরদের উপর শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি। তারা তাদেরকে বিশেষভাবে (মন্দকর্মে) উৎসাহিত করে।
☼
সূরা মারইয়াম আয়াত:84 - সুতরাং তাদের ব্যাপারে আপনি তাড়াহুড়া করবেন না। আমি তো তাদের গণনা পূর্ণ করছি মাত্র।
!!!
অন্যকে চমকপ্রদ কথা ওয়াহী করে (অতি গোপনীয়ভাবে জানিয়ে দেয়)।’وحي শব্দটি কুরআন কারীমে কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তার মধ্যে এটি একটি অর্থ: শয়তানের কুমন্ত্রণা ও খারাপ কাজ মানুষের মনে সৌন্দর্যময় করে তুলে ধরা। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَإِنَّ الشَّيٰطِيْنَ لَيُوْحُوْنَ إِلٰٓى أَوْلِيَآئِهِمْ لِيُجَادِلُوْكُمْ)
“নিশ্চয়ই শয়তানেরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিবাদ করতে ওয়াহী প্রেরণ করে (গোপনীয়ভাবে জানিয়ে দেয়)” (সূরা আন্‘আম ৬:১২১)
(الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ)
“যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না”অর্থাৎ যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না শয়তানের কুমন্ত্রণার শিকার তারাই হয় এবং তারাই তা পছন্দ করে ও সে অনুযায়ী আমলও করে। আর এ কথাও সত্য যে, মানুষের অন্তরে আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস যত দুর্বল হবে, তারা শয়তানের কুমন্ত্রণার জালে তত ফেঁসে যাবে!
💠
মানুষের উপর শয়তানের হামলা
শুধু চতুর্দিকেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আরো ব্যাপক।
ইবলীস আদম সন্তানদের উপর আক্রমণ
করার জন্য চারটি দিক বর্ণনা করেছে- অগ্র, পশ্চাৎ, ডান ও বাম।
এখানে প্রকৃতপক্ষে কোন সীমাবদ্ধতা উদ্দেশ্য নয়; বরং এর অর্থ হল প্রত্যেক দিক ও প্রত্যেক কোণ থেকে।
এভাবে হাদীসের এ বর্ণনাও এর পরিপন্থী নয় যে, শয়তান মানবদেহে প্রবেশ করে রক্তবাহী রগের মাধ্যমে। তারপর সমগ্র দেহে হস্তক্ষেপ করে।
☼
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন,
এখানে সামনে থেকে আসার অর্থ, দুনিয়ায়।
পশ্চাৎ দিক থেকে আসার অর্থ আখেরাতে।
ডানদিক থেকে আসার অর্থ, নেককাজের মাধ্যমে আসা। আর বামদিক থেকে আসার অর্থ, গুনাহের দিক থেকে আসা। [তাবারী; আত-তাফসীরুস সহীহ]
☼
কাতাদাহ বলেন, ‘ইবলীস মানুষের সামনে থেকে এসে বলে, পুনরুত্থান নেই, জান্নাত নেই, জাহান্নাম নেই।
মানুষের পিছন দিক থেকে দুনিয়াকে তার কাছে চাকচিক্যময় করে তোলে এবং দুনিয়ার প্রতি লোভ লাগিয়ে সেদিক আহবান করতে থাকে।
তার ডানদিক থেকে আসার অর্থ নেক কাজ করার সময় সেটা করতে দেরী করায়, আর বাম দিক থেকে আসার অর্থ, গোনাহ ও অপরাধমূলক কাজকে সুশোভিত করে দেয়, সেদিকে আহবান করে, সেটার প্রতি নির্দেশ দেয়।” হে বনী আদম! শয়তান তোমার সবদিক থেকেই আসছে, তবে সে তোমার উপর দিক থেকে আসে না, কারণ, সে তোমার ও আল্লাহর রহমতের মধ্যে বাধা হতে পারে না। [তাবারী]
☼
শয়তান বলেছিল তার ধারণা অনুসারে।
সে মনে করেছিল যে, তারা তার আহবানে সাড়া দিবে, তার অনুসরণ করবে। যাতে সে তাদেরকে ধ্বংস করতে পারে।
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র শয়তানের এ ধারণার কথা স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আর অবশ্যই তাদের সম্বন্ধে ইবলীস তার ধারণা সত্য প্রমাণ করল, ফলে তাদের মধ্যে একটি মুমিন দল ছাড়া সবাই তার অনুসরণ করল" [সূরা সাবা: ২০] [আদওয়াউল বায়ান] ইবন
☼
আব্বাস বলেন, এখানে মানুষদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ না থাকার কথা বলে, তাওহীদের কথা বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আপনি তাদেরকে তাওহীদবাদী পাবেন না। [তাবারী]
📕📕
কোথায় আছে আসল
সুখের ঠিকানা???
আপনি মনে করেন
যে দুনিয়ার এমন সব জিনিস
সংগ্রহ করবেন যা আপনাকে
সুখ শান্তিময় জীবন এনে দেবে
এর সাথে থাকবে সম্মান ও ক্ষমতা
চোখমেলে দেখুন একজন দুনিয়াদার
মানুষকে যে কত তার আকাঙ্ক্ষা!!!
~~
[নারী, সন্তান, সোনারুপার স্তূপ, বাছাই কড়া ঘোড়া, গবাদি পশু এবং খেত-খামারের প্রতি আসক্তি মানুষের নিকট সুশোভিত করা হয়েছে। এসব দুনিয়ার জীবনের ভোগ্য বস্তু । আর আল্লাহ্, তাঁরই নিকট রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।( আলে ইমরান)
~~~
[আয়াতের সারমর্ম এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের মনে এসব বস্তুর প্রতি স্বভাবগতভাবেই আকর্ষণ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা নেয়া হয়ে থাকে যে, কে এগুলোর আকর্ষণে মত্ত হয়ে আখেরাতকে ভুলে যায় এবং কে এসবের আসল স্বরূপ ও ধ্বংসশীল হওয়ার বিষয় অবগত হয়ে শুধু যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু অর্জনে সচেষ্ট হয় ও আখেরাতের কল্যাণ আহরণের লক্ষ্যে তার সুচারু ব্যবহার করে।
আল্লাহ্ তা'আলা যেসব বস্তুকে মানুষের দৃষ্টিতে সুশোভিত করে দিয়েছেন, শরীয়ত অনুযায়ী সেগুলো পরিমিত উপার্জন করলে এবং যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু সঞ্চয় করলে দুনিয়া ও আখেরাতের কামিয়াবী হাসিল হবে।
পক্ষান্তরে অবৈধ পন্থায় সেগুলো ব্যবহার করলে অথবা বৈধ পন্থায় হলেও এগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত নিমজ্জিত হয়ে আখেরাত বিস্মৃত হয়ে গেলে ধবংস অনিবার্য হয়ে পড়বে। [সা’দী]
অর্থাৎ এসব হচ্ছে পার্থিব জীবনে ব্যবহার করার জন্য; মন বসাবার জন্য নয়। আর আল্লাহ্র কাছে রয়েছে উত্তম ঠিকানা। সেখানে চিরকাল থাকতে হবে এবং যার নেয়ামত ধবংস হবে না, হ্রাসও পাবে না। আখেরাতে আল্লাহ্ তা'আলা মুমিনের জন্য যে নেয়ামত রেখেছেন, তার তুলনা দুনিয়ার জীবনের সামগ্ৰীসমূহের কোন কিছু দিয়েই দেয়া যায় না।
!!!
যখন উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট ইরাকের খারাজ নিয়ে আসা হলো তখন তিনি তা গুনছিলেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছিলেন। তখন তার~ এক কর্মচারী বললঃ এগুলো আল্লাহর দান ও রহমত। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমার উদ্দেশ্য সঠিক নয় ×।
আল্লাহর কুরআনে যে কথা বলা হয়েছে যে, “বল তোমরা আল্লাহর দান ও রহমত পেয়ে খুশী হও যা তোমরা যা জমা করছ তার থেকে উত্তম” এ আয়াত দ্বারা দুনিয়ার কোন ধন-সম্পদ বুঝানো হয়নি। কারণ আল্লাহ তা'আলা জমা করা যায় এমন সম্পদ থেকে অন্য বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে তা উত্তম বলে ঘোষণা করেছেন। দুনিয়ার যাবতীয় সম্পদই জমা করা যায়। সুতরাং আয়াত দ্বারা দুনিয়ার সম্পদ বুঝানো উদ্দেশ্য নয়। [ইবনে আবী হাতিম]
!!!
মানুষের কর্তব্য হলো আল্লাহ তা'আলার রহমত ও অনুগ্রহকেই প্রকৃত আনন্দের বিষয় মনে করা এবং একমাত্র তাতেই আনন্দিত হওয়া দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ধন-সম্পদ, আরাম-আয়েশ ও মান-সন্ত্রম কোনটাই প্রকৃতপক্ষে আনন্দের বিষয় নয়। কারণ, একে তো কেউ যত অধিক পরিমাণেই তা অর্জন করুক না কেন, সবই অসম্পূর্ণ হয়ে থাকে; পরিপূর্ণ হয় না। সর্বদাই তার পতনাশঙ্কা লেগেই থাকে।
অর্থাৎ আল্লাহর করুণা-অনুগ্রহ সে সমস্ত ধন-সম্পদ ও সম্মান-সাম্রাজ্য অপেক্ষা উত্তম, যেগুলোকে মানুষ নিজেদের সমগ্র জীবনের ভরসা বিবেচনা করে সংগ্রহ করে।
!!!
কুরআনকে রহমত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআনকে মুমিনদের জন্য রহমত কারণ তারাই এর দ্বারা উপকৃত হয়, কাফেররা এর দ্বারা উপকৃত হয় না, কারণ তারা এ ব্যাপারে অন্ধ। [মুয়াসসার]।
কুরআনকে রহমত আনন্দ-হর্ষের বিষয় সাব্যস্ত করা হয়েছে। একটি হলো (فضل) ‘ফদল’, অপরটি হলো –( رحمة) ‘রহমত’। আবু সাঈদ খুদরী ও ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাসহ অনেক মুফাসসির বলেছেন যে, ‘ফদল’ অর্থ কুরআন; আর রহমত অর্থ ইসলাম। [কুরতুবী] অন্য বর্ণনায় ইবন আব্বাস বলেন, ‘ফদল’ হচ্ছে, কুরআন, আর তার রহমত হচ্ছে এই যে, তিনি আমাদেরকে কুরআনের অনুসারী করেছেন। হাসান, দাহহাক, মুজাহিদ, কাতাদা বলেন, এখানে ‘ফদল’ হচ্ছে ঈমান, আর তার রহমত হচ্ছে, কুরআন। [তাবারী; কুরতুবী] বস্তুতঃ রহমতের মর্ম এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে কুরআনের শিক্ষা দান করেছেন এবং এর উপর আমল করার সামর্থ্য দিয়েছেন।
√√
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, এ কুরআন তাদের জন্য হিদায়াত যারা হেদায়াত চেনার পর তা গ্রহণ না করার শাস্তির ভয়ে সদা কম্পমান। আর তারা তাঁর কাছ থেকে যা এসেছে তার সত্যায়নের মাধ্যমে রহমতের আশাবাদী। [তাফসীরে ইবনে কাসীর ও আততাফসীরুস সহীহ]
☼
ফদল’ অর্থ কুরআন;
আর রহমত পেতে হলে তাকে প্রথমেই তাকওয়াবান
বা মুত্তাকী হওয়া চাই । মুত্তাকীন’ শব্দটি ‘মুত্তাকী’-এর বহুবচন। মুত্তাকী শব্দের মূল ধাতু ‘তাকওয়া’। তাকওয়া হলো, নিরাপদ থাকা, নিরাপত্তা বিধান করা। শরী’আতের পরিভাষায় তাকওয়া হলো, বান্দা যেন আল্লাহ্র অসন্তুষ্টি ও শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে, আর তা করতে হলে যা করতে হবে তা হলো, তাঁর নির্দেশকে পুরোপুরি মেনে নেয়া, এবং তাঁর নিষেধকৃত বস্তুকে পুরোপুরি ত্যাগ করা। আর মুত্তাকী হলেন, যিনি আল্লাহ্র আদেশকে পুরোপুরি মেনে নিয়ে এবং তাঁর নিষেধ থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থেকে তাঁর অসন্তুষ্টি ও শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। [ইবনে কাসীর]
ππ
বর্ণিত আছে যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু উবাই ইবনে কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আপনি কি কখনো কাঁটাযুক্ত পথে চলেছেন? তিনি বললেন, অবশ্যই। উবাই বললেন, কিভাবে চলেছেন? উমর বললেন, কাপড় গুটিয়ে অত্যন্ত সাবধানে চলেছি। উবাই বললেন: এটাই হলো, তাকওয়া। [ইবনে কাসীর]
¶¶
অতএব
কুরআনকে আঁকড়ে ধরে হালাল গ্রহন করা হারাম থেকে দূরে থাকা ও সন্দেহযুক্ত বিষয় এড়িয়ে চলা।
আল্লাহ্র প্রতি ঈমান তথা বিশ্বাসের বিষয় গুলোর উপর দৃঢ়তর
থেকে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির নিয়তে এবংযা আল্লাহ্র যিক্র বা স্মরণে করা হয় ও তার সাথে ~~সম্পৃক্ত সবকিছু অর্জন করার মাঝে আছে প্রকৃত সুখ।
#
কিছু মানুষের আকাঙ্ক্ষা আর দুনিয়া সম্পর্কে সে এত দৃষ্টিমান যে ভবিষ্যৎ জীবন সাজানো ক্ষেত্রে হালাল, হারামের তোয়াক্কা না করে জীবনকে সোনার রঙে রাঙাতে অস্থির,,,,,,,,
…
সেদিন তাদের চোখ স্থির হয়ে যাবে!!! কোথায় যাবে দুনিয়ার আকাঙ্ক্ষা আর ভবিষ্যৎ জীবন সাজানোর জল্পনাকল্পনা।
,,,,,,,,
📕
সুরা ইব্রাহিম আয়াত 42.
আতঙ্কিত হয়ে মাথা তুলে পালাতে থাকবে, দৃষ্টি তাদের নিজেদের পানে ফিরে আসবে না, আর তাদের দিল উড়ে যাবে।
~~~
অমোঘ প্রতিশ্রুত সময় আসন্ন হলে হঠাৎ কাফিরদের চোখ স্থির হয়ে যাবে, তারা বলবে, ‘হায়, দুর্ভোগ আমাদের! আমরা তো ছিলাম এ বিষয়ে উদাসীন; না, আমরা সীমালংঘনকারীই ছিলাম।” [সূরা আল-আম্বিয়াঃ ৯৭]।
!!
সুরা নাজম আয়াত 29.সুতরাং হে নবী, যে আমার উপদেশ বাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং দুনিয়ার জীবন ছাড়া যার আর কোন কাম্য নেই তাকে তার আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও।
~~~
সুরা নাজম আয়াত 30.এদের জ্ঞানের দৌড় এতটুকুই। তোমার রবই অধিক জানেন-কে তাঁর পথ ছেড়ে বিপথগামী হয়েছে আর কে সঠিক পথে আছে।
📕📕
এখন আয়াত দুটি পড়ুন ঃ
সুরা ইউনুছ আয়াতঃ 57 হে লোকসকল! তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের কাছ থেকে এসেছে উপদেশ ও অন্তরসমূহে যা আছে তার আরোগ্য এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত
সুরা ইউনুছ আয়াতঃ 58 বলুন, ‘এটা আল্লাহ্র অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়; কাজেই এতে তারা যেন আনন্দিত হয়।’ তারা যা পুঞ্জীভুত করে তার চেয়ে এটা উত্তম!!!
🛑🌹🛑
কুরআনকে শ্রদ্ধা করা আর কুরআনের
সাথে লেগে থাকা—দুটোর মাঝে আসমান
জমিন ফারাক।
শ্রদ্ধাকারীদের প্রভাব বাহির পর্যন্তই। কিন্তু যারা লেগে থাকে, কুরআন তাদের হৃদয় নাড়িয়ে দেয়। হৃদয়ে বসন্তের হাওয়া বয়ে দেয়। হৃদয়ে এমন স্বাদ চাখায়, যা দুনিয়ার কোনো স্বাদের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এটাকে জান্নাতি স্বাদ বললেও অত্যুক্তি হবে না।
কুরআনের সঙ্গে হৃদয়ের এই বন্ধন মজবুত করতে মাত্র ১০টি জিনিস প্রয়োজন:
১) সরাসরি আরবীতে কুরআন বোঝার দক্ষতা অর্জন করা
২) প্রতিটি আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসীর স্মরণে রাখা
৩) সীরাতে রাসূল ভালোভাবে জানা
৪) নিরালায় নিভৃতে, ধীরে ধীরে তারতীলের সাথে পড়া
৫) পরিপূর্ণ ইখলাসের সাথে, নিজের শুদ্ধির নিয়তে পড়া
৬) সকল দল মতের ঊর্ধ্বে গিয়ে কুরআন পড়া
৭) প্রতিটি আয়াত দিয়ে নিজেকে পরখ করে দেখা
৮) সাড়াদানকারী আয়াতগুলো মন থেকে সাড়া দেয়া
৯) হৃদয়স্পর্শী আয়াতগুলো পুনরাবৃত্তি করা
১০) প্রতিটি আয়াতের অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে ভাবা
আর হ্যাঁ, পড়ার মতো করে কুরআন পড়লে অবশ্যই চক্ষু অশ্রুসিক্ত হবে। যদি না হয়, তাহলে বুঝবেন আপনার পড়ায় গাফলতি হচ্ছে কোথাও। হয়ত এমন কিছু করছেন, যা আপনার হৃদয়কে পাহাড়ের চাইতেও শক্ত করে ফেলেছে। তাই বিগলিত হচ্ছে না। সেটাকে আগে চিহ্নিত করুন। প্রয়োজনে তাওবা করে নিন।
🛑
আন্তরিকতার সাথে তওবা করুন
সত্য সঠিক কথা বলুন
কথার সাথে কাজের মিল রাখুন
ঘুরে পেচে কথা বলা ছাড়তে
হবে।
🛑
আমল বাহ্যতঃ বিরাট বলে দেখা যাবে, কিন্তু হিসাবের দাঁড়িপাল্লায় তার কোন ওজন হবে না। কেননা, কুফর ও শির্কের কারণে তাদের আমল নিস্ফল ও গুরুত্বহীন হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ কেয়ামতের দিন দীর্ঘদেহী স্থূলকায় ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, আল্লাহর কাছে মাছির ডানার সমপরিমাণও তার ওজন হবে না।
[বুখারীঃ ৪৭২৯, মুসলিমঃ ৪৬৭৮]
🛑
এখন দুটিমাত্র আয়াত অনুধাবন করুনঃ
সূরা আল হাশর আয়াত:21 - যদি আমি এই কোরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তাআলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।
☼☼
সূরা আল আন-আম আয়াত:69 - এদের যখন বিচার করা হবে তখন পরহেযগারদের উপর এর কোন প্রভাব পড়বে না; কিন্তু তাদের দায়িত্ব উপদেশ দান করা যাতে ওরা ভীত হয়।
❤️❤️❤️
হিংসা হলো প্রথম পাপ, যা আসমানে করা হয়
এবং প্রথম পাপ যা পৃথিবীতে করা হয়।
যা আসমানে ইবলীস আদমের সাথে করেছিল।
আর পৃথিবীতে কাবীল তার ছোট ভাই হাবীলের
সাথে করেছিল। অতএব হিংসুক ব্যক্তি অভিশপ্ত,
বহিস্কৃত ও প্রত্যাখ্যাত।
ইমাম কুরতুবী (রহঃ) বলেন :(তাফসীর কুরতুবী)
❤️❤️
হৃদয়কে বিদ্বেষ, হিংসা ও অন্যের অমঙ্গল
কামনা থেকে মুক্ত রাখা এমন একটি কর্ম যা
মানুষকে অতিরিক্ত নফল ইবাদত ও যিকির-আযকার
ছাড়াই জান্নাতের অধিকারী করে তোলে।
সহীহ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে,
যদি কেউ তার হৃদয় হিংসামুক্ত রাখতে পারে
তবে সে জান্নাতী হবে।
অন্য হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, হিংসামুক্ত হৃদয়ের অধিকারী জান্নাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহচার্য লাভ করবে।
যে ব্যক্তির সাথে হিংসা করা হচ্ছে তাকে হাসাদা বলে আল্লাহ তা‘আলা যে নেয়ামত দান করেছেন তা দূরীভূত হয়ে যাওয়ার আকাক্সক্ষা করা।’ (ফাতহুল কাদীর)
এরূপ হিংসা করা কবীরাহ গুনাহ ও মারাত্মক ব্যাধি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন :
إِيَّاكُمْ وَالْحَسَدَ، فَإِنَّ الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ
তোমরা হিংসা থেকে বেঁেচ থাক। কেননা হিংসা মানুষের সৎ আমল এমনভাবে খেয়ে ফেলে যেমন আগুন কাঠ খেয়ে ফেলে। (আবূ দাঊদ হা. ৪৯০৩, সহীহ)
পাঠক হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন যে,
সংঘাতপূর্ণ জীবনে অনেক মানুষ আমাদেরকে কষ্ট দেন, হক্ব নষ্ট করেন, ক্ষতি করেন বা শত্রুতা করেন।
অনেকে অকারণেও এগুলো করেন। এদের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে হৃদয়কে কিভাবে বিরত রাখব?
আসলে বিষয়টি কঠিন বলেই তো সাওয়াব বেশি।
তবে চেষ্টা করলে তা কঠিন থাকে না।
মানবীয় স্বভাবের কারণে আমাদের
মনে বিশেষ মুহূর্তে ক্রোধ, কষ্ট বা বিরক্তি আসবেই।
তবে মনটা একটু শান্ত হলেই,
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মনের মধ্য
থেকে এ অনুভূতি দূর করার চেষ্টা করতে হবে।
আল্লাহর কাছে নিজের জন্য ও
যার কর্মে বা ব্যবহারে আমরা
কষ্ট পেয়েছি তার জন্য ইস্তিগফার করতে হবে
ও দু‘আ করতে হবে।
প্রয়োজনে নিজের হক্ক রক্ষার জন্য
চেষ্টা করতে হবে। তবে অধিকার
আদায়ের চেষ্টা আর মনের হিংসা ও শত্রুতা এক নয়।
এক ব্যক্তি আমার অধিকার নষ্ট করেছেন,
আমি তার নিকট থেকে আমার অধিকার
আদায়ের চেষ্টা করছি।
কিন্তু তার সাথে আমার অন্য কোনো শত্রুতা নেই।
আমি আমার অধিকার ফেরৎ পাওয়া ছাড়া
তার কোনো প্রকার অমঙ্গল কামনা করি না।
বরং আমি সর্বদা তার জন্য দু‘আ করি।
এভাবে হৃদয়কে অভ্যস্ত করলে
ইন্শা আল্লাহ আমরা এ মহান গুণ অর্জন করতে পারব।
সূরা ফালাক, নাস ও ইখলাস ইত্যাদি এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে যে সকল দু‘আ প্রমাণিত। যেমন
بِاسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللّٰهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيكَ
আমি আল্লাহ তা‘আলার নামে আপনাকে ঝেড়ে দিচ্ছি এমন সব বিষয় হতে যা আপনাকে কষ্ট দেয়। প্রত্যেক হিংসুক ব্যক্তির বা হিংসুক চোখের অনিষ্ট হতে আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে নিরাময় করুন। আল্লাহ তা‘আলার নামে আপনাকে ঝেড়ে দিচ্ছি। (সহীহ মুসলিম হা. ২১৮৬)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-কে নিম্নোক্ত দু‘আর মাধ্যমে ঝাড়-ফুঁক করেছেন।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ
আমি আল্লাহ তা‘আলার পূর্ণ বাক্যসমূহের আশ্রয়ে নিচ্ছি প্রত্যেক শয়তান হতে, বিষাক্ত কীট পতঙ্গ ও প্রত্যেক অনিষ্টকারীর চক্ষু হতে। (সহীহ বুখারী হা. ৩৩৭১)। এ ছাড়াও ঝাড়-ফুঁকের অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে।
৮--
হিংসাকারীর অনিষ্ট থেকেও আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাঃ)-কে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
হিংসা থেকে বাঁচার উপায় হল বেশি বেশি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাওয়া। এজন্য নিম্নোক্ত দু‘আটি বেশি বেশি পাঠ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِيْ قُلُوْبِنَا غِلًّا لِّلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا رَبَّنَآ إِنَّكَ رَؤُوْفٌ رَّحِيْم)
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এবং আমাদের সে-সব ভাইদের ক্ষমা কর যারা আমাদের পূর্বে ঈমান এনেছে এবং মু’মিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তো দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।” (সূরা হাশর ৫৯ : ১০)
❤️❤️❤️
আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
তওবা করে পুনরায় ঐ মন্দ কাজ করা
মনে মনে অপছন্দ করুন।
আর যদি নিজেকে ঠিক করতে বা সংশোধন
করতে না পারেন তবে মনে করবেন আপনিই
প্রকৃতই ক্ষতিগ্রস্ত আখিরাতে।
নিচের আলোচনায় একটু মনোনিবেশ করুন!!
~~~~~
বনী-ইসরাঈল তথা ইহুদী ও খৃস্টানদের কাছে তাদের রাসূল যখন কোন নির্দেশ নিয়ে আসতেন, যা তাদের রুচি-বিরুদ্ধ হত, তখন অঙ্গীকার ভঙ্গ করে তারা আল্লাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে শুরু করত এবং নবীদের মধ্যে কারো প্রতি মিথ্যারোপ করত এবং কাউকে হত্যা করত। এটি ছিল আল্লাহর প্রতি ঈমান ও সৎকর্মের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা।
এখন আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসের অবস্থা এ দ্বারা অনুমান করা যায় যে, এত সব নির্মম অত্যাচার ও বিদ্ৰোহীসুলভ অপরাধে লিপ্ত হয়েও তারা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকত। ভাবখানা এই যে, এসব কুকর্মের জন্য কোন সাজাই ভোগ করতে হবে না এবং কোন প্রকার অশুভ পরিণতি কখনো তাদের সামনে আসবে না। কেননা, তারা মনে করতে থাকে যে, তারা আল্লাহর পরিবার-পরিজন ও তাঁর প্রিয় বান্দা সুতরাং তাদের কোন অপরাধই ধর্তব্য নয়। এরূপ ধারণার কারণে তারা আল্লাহর নিদর্শন ও হুশিয়ারী থেকে সম্পূর্ণ অন্ধ ও বধির হয়ে যায় এবং যা গৰ্হিত তাই করতে থাকে। এমনকি, কিছুসংখ্যক নবীকে তারা হত্যা করেছে আর কিছুসংখ্যককে বন্দী করে।
অবশেষে আল্লাহ তা’আলা বাদশাহ বখ্তে নসরকে তাদের উপর চাপিয়ে দেন। এরপর দীর্ঘদিন অতীত হলে জনৈক পারস্য সম্রাট তাদেরকে বখ্তে নসরের লাঞ্ছনা ও অবমাননার কবল থেকে উদ্ধার করে বাবেল থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে নিয়ে আসেন। তখন তারা তাওবাহ করে এবং অবস্থা সংশোধনে মনোনিবেশ করে। আল্লাহ তাদের সে তাওবাহ কবুল করেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তারা আবার দুস্কৃতিতে মেতে উঠে এবং অন্ধ ও বধির হয়ে যাকারিয়া ও ইয়াহইয়া ‘‘আলাইহিমাস সালামকে হত্যা করার দুঃসাহস প্রদর্শন করে। এমনকি ঈসা ‘আলাইহিস সালামকেও হত্যা করতে উদ্যত হয়। [আইসারুত তাফাসীর, কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর, আততাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]
❤️❤️
আয়াত গুলো ভাল করে অনুধাবন করুন।
√
সূরা আল মায়েদাহ আয়াত :70 - আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তাদের কাছে অনেক পয়গম্বর প্রেরণ করে ছিলাম। যখনই তাদের কাছে কোন পয়গম্বর এমন নির্দেশ নিয়ে আসত যা তাদের মনে চাইত না, তখন তাদের অনেকের প্রতি তারা মিথ্যারোপ করত এবংঅনেককে হত্যা করে ফেলত।
√
সূরা আল মায়েদাহ আয়াত:71 - তারা ধারণা করেছে যে, কোন অনিষ্ট হবে না। ফলে তারা~~ আরও অন্ধ ও বধির হয়ে গেল। অতঃপর আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করলেন। এরপরও তাদের অধিকাংশই অন্ধ ও বধির হয়ে রইল। আল্লাহ দেখেন তারা যা কিছু করে।
√
সূরা আল মায়েদাহ আয়াত:74 - তারা আল্লাহর কাছে তওবা করে না কেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে না কেন? আল্লাহ যে ক্ষমাশীল, দয়ালু।
~~~~~~
!!!
মহান আল্লাহ্ মুসলমানদেরকে সম্বোধন করে বিভিন্ন স্থানে বারবার উপদেশ দিয়েছেন- ন্যায়, ইনসাফ ও ভারসাম্যের নীতি অবলম্বন করো। তোমাদের পূর্ববর্তী বনী-ইসরাঈল তথা ইহুদী ও খৃস্টানদের মনোভাব ও নীতি পরিহার করো। আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর হুকুম ও আইন কানুন মেনে চলার যে অঙ্গীকার তোমরা করেছো তার ওপর অবিচল থাক। ইহুদী ও খৃস্টানদের মতো তাঁর সীমালংঘন করে তাদের মতো একই পরিণতির শিকার হয়ো না । নিজেদের যাবতীয় বিষয়ের ফায়সালার জন্য কিতাবের অনুসরণ করতে। মুনাফিকী নীতি পরিহার করো।
❤️
তাই আন্তরিকতার সাথে তওবা করুন
সত্য সঠিক কথা বলুন
কথার সাথে কাজের মিল রাখুন
ঘুরে পেঁচে কথা বলা ছাড়তে
হবে।
কেননা মহান আল্লাহ্ বলেন -
সূরা আন নিসা আয়াত:135 - হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশী। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত।
~~~
সূরা আত-তাহরীম আয়াত:8 - মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা কর-আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।
!!!
উপরের আয়াতে বর্ণিত نصوح শব্দটির উল্লেখ রয়েছে -
[তাওবার শাব্দিক অর্থ ফিরে আসা। উদ্দেশ্য গোনাহ থেকে ফিরে আসা। কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষায় তওবার অর্থ বিগত গোনাহের জন্যে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে তার ধারে কাছে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।
আয়াতে বর্ণিত نصوح শব্দটির বিভিন্ন অর্থ হয়ে থাকে।
এক. যদি نصحة থেকে উদ্ভূত ধরা হয়, তবে এর অর্থ খাঁটি করা। আর যদি نصاحة থেকে উদ্ভূত ধরা হয়, তবে এর অর্থ বস্ত্র সেলাই করা ও তালি দেয়া।
প্রথম অর্থের দিক দিয়ে "তাওবাতুন নাসূহ" এর অর্থ -এমন তাওবা, যা রিয়া ও নাম-যশ থেকে মুক্ত _খাঁটি তওবা অর্থাৎ -কেবল আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জন ও আযাবের ভয়ে ভীত হয়ে এবং গোনাহের কারণে অনুতপ্ত হয়ে গোনাহ পরিত্যাগ করা।
দ্বিতীয় অর্থের দিক দিয়ে "তাওবাতুন নাসূহ" শব্দটি এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করার জন্যে হবে যে, গোনাহের কারণে সৎকর্মের ছিন্নবস্ত্রে তাওবা তালি সংযুক্ত করে। কোন কোন তাফসীরবিদ বলেনঃ “তাওবাতুন নাসূহ" হল মুখে ক্ষমাপ্রার্থনা করা, অন্তরে অনুশোচনা করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ভবিষ্যতে সেই গোনাহ থেকে দূরে রাখা। [দেখুন-কুরতুবী]
☼
একান্ত বিশুদ্ধ তাওবা’ উমার (রাঃ) বলেছেন : তা হল গুনাহ করার পর তাতে পুনরায় লিপ্ত না হওয়া। (ইবনু জারীর)
,,,
আল্লামা ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন :
বা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাওবা।
এরূপ তাওবার পাঁচটি শর্ত;
১. একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যই তাওবা করবে, অন্য কোন লোক দেখানোর জন্য নয়।
২. কৃত অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হওয়া।
৩. কৃত অপরাধ থেকে ফিরে আসা। যদি মানুষের হক থাকে তাহলে তা ফেরত দেওয়া।
৪. এ দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা যে, ভবিষ্যতে কখনো এরূপ কাজে জড়িত হবে না।
৫. সময়ের আগে তাওবা করতে হবে। অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বেই এবং পশ্চিমাকাশে সূর্য উদয় হওয়ার পূর্বেই তাওবা করতে হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন ;
“আর তাদের জন্য কোন তাওবা কবূল করা হয় না যারা পাপ কাজ করতেই থাকে এমনকি তাদের নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে বলে আমি এখন তাওবা করছি।” (সূরা নিস্ া৩ : ১৮, শরহু আকিদাহ ওয়াসিতিয়াহ)
এ সম্পর্কে সূরা হাদীদের ১২ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ মুনাফিকদের থেকে যখন নূর ছিনিয়ে নেয়া হবে তখন মু’মিনরা এ দু‘আ করবে, ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের দু‘আ কবুল করবেন।
☼☼
আন্তরিকতার সাথে তওবা না করলে।
আমল বাহ্যতঃ বিরাট বলে দেখা যাবে, কিন্তু হিসাবের দাঁড়িপাল্লায় তার কোন ওজন হবে না। কেননা, কুফর ও শির্কের কারণে তাদের আমল নিস্ফল ও গুরুত্বহীন হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ কেয়ামতের দিন দীর্ঘদেহী স্থূলকায় ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, আল্লাহর কাছে মাছির ডানার সমপরিমাণও তার ওজন হবে না।
[বুখারীঃ ৪৭২৯, মুসলিমঃ ৪৬৭৮]
❤️
এবার দোয়া করুন ঃ
আল্লাহুমাজ আমালে কুল্লাহু সলেহা ওজয়ালহু- লি অজহিকা
খলেসা ওলাতাজাল- লি আহাদি ফিহি সাঁইয়া।
(অর্থ -হে আল্লাহ্ আমার সব কাজ আমলে সলেহ করুন
তা নিজের জন্য খালেস করে নিন অন্যকারোজন্য কোন
অংশই রাখবেন না।)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Bibirhat
Chittagong
FATIKCHARI