24/07/2025
একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ এবং কিছু কনসার্ন!
বাংলাদেশের নাবিকদের জন্য আজকে একটি নতুন যুগের সূচনা হল বলা যায়। ক্যাপ্টেন-চিফ ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে ক্যাডেট… সিওপি নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েনি এমন নাবিক খুঁজে পাওয়া ভার হবে। কিন্তু অতি সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং সিওপি নিয়ে যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আশা করা যায় সেই বিড়ম্বনার যুগের অবসান ঘটবে। আগামী পহেলা আগস্ট, ২০২৫ থেকে হার্ড কপি সিওপির অবসান ঘটতে যাচ্ছে ইনশাল্লাহ। এখন থেকে সিওপির কোন হার্ড কপি লাগবে না। সেই সাথে রিভ্যালিডেশনে বাতিল করা হয়েছে ‘ওরাল’ নামক দুই মিনিটের পরীক্ষার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার সেই অদ্ভুত সিস্টেমও। নতুন সিস্টেমে সিওপি ইস্যু হবে ডিজিটালভাবে। স্বাভাবিক নিয়মে আপনি অ্যাপ্লাই করবেন। কাগজপত্র সব ঠিক থাকলে যথাসময়ে অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হবে। এরপর অনলাইনে MCQ এক্সাম দিবেন। পাশ করলেই আপনার ডিজিটাল সিওপি ইস্যু হয়ে যাবে। সেটি ডাউনলোড করে সফট কপি রেখে দিবেন। প্রয়োজন হলে এককপি প্রিন্ট করে রেখে দিতে পারেন। ব্যস ঝামেলামুক্ত। আগের মত হার্ড কপি ডিজি শিপিংয়ে কুরিয়ার করে পাঠানোর কোন প্রয়োজন নেই। নেই সিওপি হারিয়ে যাবার ভয় কিংবা পাঠানোর পর হাতে পাওয়ার জন্য দীর্ঘ প্রতিক্ষার প্রহর গোনা কিংবা কুরিয়ারের অসাবধানতায় সিওপি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার ভয়। ডিজি শিপিংয়ের ভিড়টাও অনেকখানি কমবে আশাকরি যেহেতু প্রতিদিন অনেক মেরিনারকে সেখানে সারাদিন অসম্মানজনকভাবে বসে থাকতে হয় ‘আর্জেন্ট’ সিওপি নেয়ার জন্য।
নানা ইস্যুতে ডিজি শিপিংয়ের কর্তাব্যক্তিদের নানা সমালোচনা আমরা হয়তো করে থাকি। কিন্তু সিওপি নিয়ে এবার আপনারা যেই সুন্দর সিদ্ধান্তটা নিলেন তার জন্য অবশ্যই আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। পাঁচই আগস্টের পরে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের নানা হয়রানি রোধকল্পে পাসপোর্ট, এনআইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি নিয়ে অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সেদিক থেকে বিবেচনায় আমরা রেমিট্যান্সযোদ্ধা নাবিকরা রয়ে গিয়েছিলাম একপ্রকার অবহেলায়ই বলা চলে। একটু দেরিতে হলেও স্পেসিফিকভাবে আমাদের জন্য সরকার কিছু একটা করলো দেখে ভালো লাগলো। আশাবাদ ব্যক্ত করি সামনের দিনগুলোতে ডিজি শিপিং এরকম ভালো ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নাবিকদের হয়রানি রোধকল্পে ভূমিকা রাখবে।
লেখার শুরুতে আমি কনসার্নের কথা বলেছিলাম, হয়তো এই অংশটা আমাদের মেরিনারদের কারোরই ভাল লাগবে না। ওরাল না থাকায় MCQ পরীক্ষাটা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে যেন অসদুপায় অবলম্বন না করা যায়, পরীক্ষাটা যেন প্রোপারলি হয় সেটাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিদ্যমান সিওপি MCQ পরীক্ষা পদ্ধতি আউটডেটেড। এখানে কারচুপি করার বা অসদুপায় অবলম্বনের অনেক সুযোগ রয়েছে। কিছু নতুন সংযোজনের মাধ্যমে এই পরীক্ষা পদ্ধতিকে আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। কিছু টাকা খরচা করে হলেও একটা AI ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম তৈরি করা যেতে পারে। এই সিস্টেম ডিভাইসের ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনের মাধ্যমে পরীক্ষা চলাকালীন মেরিনারের ফেসিয়াল এক্সপ্রেসন, বডি ল্যাঙ্গোয়েজ, অ্যাম্বিয়েন্ট সাউন্ড ইত্যাদি অ্যানালাইসিস করবে। যদি এই AI সিস্টেমের কাছে কারচুপিজনিত সন্দেহজনক কিছু বার বার ধরা পরে তাহলে একজন এক্সামিনারকে নোটিফাই করবে। প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা সেই এক্সামিনার নিবেন।
নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর মেরিনারদের সিওপি ট্রেনিং, কোর্স এবং পরীক্ষা নেয়ার একটাই উদ্দেশ্য সেটা হচ্ছে নতুন আইনকানুন, টেকনোলজি এবং সিস্টেমের সাথে তারা যেন আপডেটেড থাকে এবং নিজের পূর্বের নলেজ ও দক্ষতা ঝালাই করে নিতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডিজি শিপিংয়ের এই সীমিত লোকবলের পক্ষে কখনোই মেরিন অ্যাকাডেমি কিংবা ট্রেনিং ইন্সটিটিউটগুলোর কোর্স কন্ডাকশনের সময় সঠিকভাবে মান নিয়ন্ত্রন সম্ভব নয়। একমাত্র উপায় হচ্ছে সিওপি ইস্যুর সময় পরীক্ষার মাধ্যমে একটা ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ড এনশিউর করা। এটা করতে গিয়ে যেকোনো হয়রানিমুক্ত যৌক্তিক পদ্ধতি ইমপ্লিমেন্টের পক্ষে আমাদের সবার সমর্থন থাকা উচিৎ।
Rayhan Ahmed
51st/N