02/04/2022
প্রথমবারের মতো মানুষের জিনের পূর্ণাঙ্গ বিন্যাস উন্মােচন করেছেন বিজ্ঞানীরা।
মানুষের জিনবিন্যাসের ৯২ শতাংশ উন্মােচন হয়েছিল ২০০৩ সালে। বাকি ৮ শতাংশের বিশ্লেষণ। করতে প্রায় দুই দশক লাগল। গত বৃহস্পতিবার টেলােমিয়ার টু টেলােমিয়ার (টিটুটি) নামের বিজ্ঞানীদের একটি কনসাের্টিয়াম থেকে পূর্ণাঙ্গ জিনবিন্যাসের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে মানবদেহের প্রতিটি কোষ কীভাবে গঠিত হয়, তা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে; যা রোগের কারণ অনুসন্ধান, রােগ প্রতিরােধ ও নিরাময়ে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে।
জীবজগতের বংশগতির সব বৈশিষ্ট্যই এক বা একাধিক জিনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। মানুষের জিনের পূর্ণাঙ্গ বিন্যাসকে যুগান্তকারী বলেছেন যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অ্যান্ড মলিকুলার জেনেটিকসের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কলিন জনসন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে পুরাে মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যাবে। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়, পৃষ্ঠা উঠে আসবে।'
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল হিউম্যান জিনােম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এনএইচজিআরআই) পরিচালক এরিক গ্রিন বলেছেন, " মানুষের জিনের পূর্ণাঙ্গ বিন্যাস করাটা একটি অবিশ্বাস্য বৈজ্ঞানিক অর্জন। এটি প্রথমবারের মতো আমাদের ডিএনএ নকশার পূর্ণাঙ্গ চিত্র দেবে।” গ্রিন বলেন, এই মৌলিক তথ্য মানুষের জিনের সব কার্যকরী সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বোঝার জন্য চলমান। প্রচেষ্টাগুলােকে আরও গতিশীল করবে। এর ফলে। মানুষের অনেক রোগের জিনগত বিশ্লেষণ ত্বরান্বিত হবে। এই গবেষণায় দুই হাজার নতুন জিন শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এসব জিনের বেশির ভাগই নিষ্ক্রিয়। তবে ১১৫টি জিন সক্রিয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাইরে গবেষকেরা ২০ লাখের বেশি। অতিরিক্ত জিনগত রূপান্তর শনাক্ত করেছেন, যার মধ্যে ৬২২টি বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট টেলোমিয়ার টু টেলোমিয়ার (টিটুটি) কনসাের্টিয়ামের নামকরণ করা হয়েছিল ক্রোমােসােমের প্রান্তের দিকে অবস্থিত একটি কাঠামো টেলোমিয়ারের নাম অনুসারে। অধিকাংশ জীবিত কোষের নিউক্লিয়াসে সুতার মতো কাঠামোর এই বস্তুটি জিনগত তথ্য বহন করতে পারে।
অ্যাডাম ফিলিপ্পি নামে টিটুটির নেতৃত্ব পর্যায়ের থাকা একজন গবেষক বলেন, ভবিষ্যতে কারও জিনােম সিকোয়েন্স করা হলে তার ডিএনএর সব রূপ আমরা শনাক্ত করতে পারব, যা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আরও উন্নত দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হবে।
তথ্যসূত্র : প্রথম আলো।