04/08/2022
#একজন শিক্ষকের মর্যাদা-
________________________
ইসলামের চতু’র্থ খলিফা হযরত আলী (রাঃ) শিক্ষকের মর্যাদা দিতে গিয়ে বলেন,
أنا عَبْدٌ مَنْ عَلَّمَنِى حَرْفًا وَاِحًدا، إنْ شَاءَ بَاعَ، وَ إِنْ شَاءَ أَعْتَقَ وَ إِنْ شَاءَ إِسْتَرَقَّ-
অর্থাৎ- আমি তার গোলাম, যিনি আমাকে একটি হরফ শিক্ষা দিয়েছেন।তিনি চাইলে আমাকে বিক্রি করতে পারেন, অথবা মুক্ত করতে পারেন। আবার চাইলে দাসও বানিয়ে রাখতে পারেন।
শিক্ষকের সম্মানার্থে তাকে এক হরফ শিক্ষা দেওয়ার জন্য এক হাজার দেরহাম দেওয়া প্রয়োজন । শিক্ষকের সম্মান করলে নিজের জীবন ধন্য হয়, তার অসম্মান করলে নিজের জীবন ধ্বংস হয়।
* তালিমুল মুতায়াল্লিম কিতাবে আছে-
إِنَّ الْعِلْمَ لَا يُفِيْدُ صَاحِبَهُ إِنْ لَمْ يَحْتَرِمْ أَسَاتِذَتَهُ وَ مُعَلِّمِيْهِ
অর্থাৎ- যতক্ষণ পর্যন্ত ছাত্র শিক্ষকের সম্মান করবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত সে ইলম দ্বারা ফায়েদা লাভ করতে পারবে না।
* বলা হয়ে থাকে,
مَا وَصَلَ مَنْ وَصَلَ إِلَّا بالْحُرْمَةِ ـ وَ مَا سَقَطَ مَنْ سَقَطَ إِلَّا بِتَرْكِ الْحُرْمَةِ ـ
অর্থাৎ- যে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছেছে, সে সম্মান রক্ষার কারণেই পৌছেছে । আর যে ব্যর্থ হয়েছে, সে সম্মান রক্ষা না করার কারণেই হয়েছে।
* আল্লামা শায়েখ ইলিয়াস (রহ) ইন্তেকালের পূর্বে ছাত্রদের উপদেশ স্বরুপ বলেছিলেন, “তোমরা শিক্ষকদের সম্মান করবে এবং তাদের সাথে আদব রক্ষা করে চলবে । শিক্ষকই হলেন ইলমে দীন হাসিলের সবচেয়ে বড় অসিলা । যিনি দীন সম্পর্কিত একটি শব্দ বা বাক্য কাউকে শিক্ষা দিবেন, তিনি তার মনিবতুল্য”।
* ইমাম আবু ইউসুফ (রহ) বলেন,
مَنْ غفَلَ عَنْ حَقِّ الأُسْتَاذِ لَا يُفْلِحُ أَبَدًا-
অর্থাৎ- যে ছাত্র শিক্ষকের হক আদায়ে অমনযোগী, সে কখনোই সফলকাম হবে না।
* خُلَاصَةُ الْفَتْوىٰ
কিতাবে আছে,
“ছাত্রদের উচিত, শিক্ষকদের আগে আগে কথা না বলা। শিক্ষকদের বসার স্থানে না বসা। এমনকি তাদের অনুপস্থিতেও নয়”। আলেমদের সাথে বেয়াদবী করলে তার পরিণতি কি হয়, তার দৃষ্টান্ত স্বরুপ-
* আল্লামা মুনাজির আহসান জিলানী বলেন, “ হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বিশিষ্ট তাবেয়ী সাঈদ ইবনে যুবায়ের (রহ) কে নির্মমভাবে হত্যা করার পর স্বপ্নে দেখেন, সাঈদ ইবনে যুবায়ের (রহ) তার জামা টেনে ধরে বলতেছেন, হে আল্লাহর দুশমন! কি কারণে আমাকে হত্যা করলে? তৎক্ষণাৎ আতঙ্কিত অবস্থায় জাগ্রত হয়ে বললেন, আমার সাথে সাঈদের কি হলো? তাকে হত্যা করার পর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের শরীরে ঠান্ডাজনিত প্রচন্ড কাপুনি রোগ দেখা দিল। অন্তর থেকে সমস্ত শরীর বরফের মত ঠান্ডা হয়ে গেল । ফলে তার আদেশে লোকেরা জলন্ত কয়লা দিয়ে সমস্ত শরীরে তাপ দিতে লাগল। কিন্তু তাতে তার রোগ আরো বাড়তেই লাগলো। অতঃপর ডাক্তার এসে পরীক্ষা করে দেখলেন, তার শরীরের গোশতের প্রতিটি কোষে কোষে কীট আক্রমণ করে ফেলেছে এবং এর কোনো চিকিৎসাও নেই। নিরাশ হয়ে যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম হাসান বছরী (রহঃ) কে ডাকলেন এবং নিজের জন্য দোয়ার আবেদন করলেন । হাসান বছরী (রহঃ) তার অবস্থা দেখে কেঁদে দিলেন এবং বললেন, হে হাজ্জাজ! আমি কি তোমাকে বলি নাই যে, আলেমদের সাথে বেয়াদবী করো না”।