19/08/2025
“শেষ পরিণতির বিচার”
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “সেই সত্তার কসম! যিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, তোমাদের মধ্যে কেউ জান্নাতবাসীদের কাজ করতে থাকে, এমনকি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে; তখন তাকদীরের লিখন অগ্রগামী হয়ে যায়, ফলে সে জাহান্নামবাসীদের কাজ করতে শুরু করে এবং অবশেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামবাসীদের কাজ করতে থাকে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাত দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে; তখন তাকদীরের লিখন অগ্রগামী হয়ে যায়, ফলে সে জান্নাতবাসীদের কাজ করতে শুরু করে এবং অবশেষে সে জান্নাতে প্রবেশ করে।” (সহিহ বুখারী: 3208, সহিহ মুসলিম: 2643)
মানুষের জীবন যেন এক দীর্ঘ যাত্রা। আমরা পথে পথে কাজ করি, আমল করি, আর ভাবি—আমরাই তো নিজের ভাগ্যের নির্মাতা। অথচ এই হাদিসে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের চোখে সত্যের এক ভীতিকর চিত্র তুলে ধরেছেন—
কোনো মানুষ হয়তো বাহ্যিকভাবে সারা জীবন জান্নাতবাসীদের মতো কাজ করছে, নামাজ-রোজা করছে, দান করছে, কিন্তু তার অন্তরের গভীরে আছে ভণ্ডামি, অহংকার বা কপটতার আগুন। শেষ সময়ে আল্লাহ তাকদীরের কলম দিয়ে তার প্রকৃত রূপ প্রকাশ করে দেন। তখন দেখা যায়, যাকে মানুষ “সৎ” ভেবেছিল, সে আসলে ধ্বংসের পথে।
অন্যদিকে, কেউ হয়তো সারা জীবন পাপের অন্ধকারে কাটাচ্ছে। মানুষ তাকে নষ্ট চরিত্রের, অধঃপতিত ভেবে অবজ্ঞা করছে। অথচ আল্লাহর রহমত যখন তার অন্তরে জেগে ওঠে, তখন মৃত্যুর পূর্বে সে এমন আমল করে যে তার পরিণাম জান্নাত।
এ যেন এক শিহরণ জাগানো শিক্ষা— আমরা কারো অন্তর জানি না। বাহ্যিক চেহারার পেছনে কী আছে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমাদের কারো আমলের শেষ মুহূর্ত কীভাবে হবে, তা নিয়ে আমরা নিশ্চিত হতে পারি না।
এই হাদিস যেন আমাদের কানে কানে ফিসফিস করে বলে— “হে মানুষ! নিজের আমলের ওপর কখনো গর্ব কোরো না। কারণ তুমি জানো না, শেষ সময়ে তোমার অন্তর কিসের দিকে ঝুঁকবে।”
মূল শিক্ষা:
শেষ পরিণতিই আসল আমল – মানুষের কাজের বিচার হবে কিভাবে শুরু করল তার ওপর নয়, বরং কীভাবে শেষ করল তার ওপর।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “কর্মসমূহের বিচার হবে পরিণামের ওপর।” (সহিহ বুখারী: 6607)
তাকদীর আল্লাহর হাতে – মানুষ স্বাধীন ইচ্ছায় কাজ করে, কিন্তু চূড়ান্ত লিখন আল্লাহর ইলমে আগে থেকেই নির্ধারিত।
অহংকার থেকে সাবধান – আমরা যত ভালোই হই না কেন, অহংকার বা আত্মপ্রশংসা সবকিছু ধ্বংস করে দিতে পারে।
হতাশ না হওয়া – যতই পাপী হই না কেন, শেষ মুহূর্তে তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন। তাই কাউকে অবজ্ঞা করা যাবে না।
ভাবুন, রাতের নিস্তব্ধতায় আপনি সিজদায় কাঁদছেন। মসজিদের অন্ধকার কোণায় আপনার অশ্রু ঝরছে। হাদিসটি তখন কানে বাজছে— “হয়তো আজ আমি সিজদায় আছি, কিন্তু কালই আমার অন্তর বদলে যাবে, যদি আল্লাহ আমাকে আঁকড়ে না ধরেন!”
তখন হৃদয় কেঁপে ওঠে। মনে হয়— আমার আসল দোয়া হওয়া উচিত: “আল্লাহ! আমাকে হিদায়তের ওপর শেষ করো। আমার অন্তরকে উল্টেপাল্টে দিও না।”
কারণ সবশেষে আমরা শুধু এতোটুকুই জানি— তাকদীরের কলম আল্লাহর হাতে। আর আমাদের হাত কেবল দোয়ার জন্য উঁচু হতে পারে।
জুয়েল মাহমুদ
১৯। ০৮।২০২৫ইং