19/02/2023
যারা যারা নতুন বিদেশে আসবেন কিংবা যাবেন তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট
হাজার হাজার প্রবাসী এয়ারপোর্টের ভিতরে দ্বিধাদ্বন্ধে ও চিন্তায় থাকেন এয়ারপোর্টের ভিতরে কি কি করতে হবে,তাই আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আপনার সেই চিন্তা দূর করার জন্য ।
খ. এয়ারপোর্টে ভিতরে যা যা করতে হবে : পার্ট ২
১। এয়ারপোর্টের বাহির থেকে আপনার নিকটবর্তী আত্নীয় স্বজনের কাছ থেকে সঠিক সময়ে বিদায় নিবেন এবং সকলের কাছ থেকে আলাদাভাবে নিবেন, কেননা অনেক সময় কেউ বাদ পড়ে গেলে আপনি বিদেশ আসার পর সেই ব্যাক্তি রাগ করতে পারে । আর বিদায় ক্ষণটা হাজার প্রবাসীর জন্য বেদনাদায়ক ও কষ্টের বিশেষ করে বাবা-মা ও নিজের স্ত্রীর কাছ থেকে 😭
২। এয়ারপোর্টে প্রবেশ করার পর সব কষ্ট বেদনা মুছে ফেলে নিজের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য মন মানসিকতাকে তৈরি করবেন । মনে রাখবেন, এয়ারপোর্টে আপনাকে ৪টি ধাপ একে একে সম্পূর্ন করতে হবে ।
প্রথম ধাপ - চেক ইন : আপনি যখন ট্রলি নিয়ে এয়ারপোর্টে দরজা দিয়ে প্রথমে প্রবেশ করবেন সেখানে কর্তব্যরত কর্মকর্তা আপনার ডুকোমেন্ট চেক করে আপনার সাথে থাকা সব সকল মালামাল স্কেনিং করে ছেড়ে দিবে যদি কোন অবৈধ মালামাল না থাকে ।
দ্বিতীয় ধাপ -বোডিং পাস: চেক ইন শেষ করার পর আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র ও ব্যাগেজ নিয়ে বোডিং পাস কাটতে যাবেন । আপনি যেই এয়ারলাইন্সের টিকেট কাটছেন, সেই এয়ারলাইন্সের কাউন্টরে যাবেন । এয়ারপোর্টে ভিতরে এই রকম অনেক কাউন্টার দেখতে পাবেন, যদি খুঁজে পেতে সমস্যা হয় , তাহলে কর্তব্যরত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করবেন বলে দিবে কত নম্বর কাউন্টার বা কোন দিকে যাবেন ।
১। বোডিং পাসের সময় কর্তব্যরত কর্মকর্তা কে আপনার যাবতীয় ডকুমেন্ট দিবেন । উনি আপনার বিমান টিকেট ও ভিসা চেক করে বোডিং পাস দিবে , বোডিং পাসে আপনার কত নং গেট দিয়ে যাবেন এবং কত নম্বর সিট লেখা থাকবে।
২।বোডিং পাসের সময় আপনার ব্যাগেজের ওজন দেওয়া হবে, যদি ওজনের অতিরিক্ত মাল আপনি নিয়ে থাকেন , তাহলে আপনাকে এখানে টাকা প্রদান করতে হবে ।
৩। আপনার সাথে যেই ব্যাগ টা রাখবেন , সেইটা নিজের সাথে রেখে বাকিগুলো বোডিং ইনে দিয়ে দিবে এবং খেয়াল রাখবেন যতোগুলো ব্যাগেজ আপনি বোডিং ইনে দিবেন সবগুলোতে একটা করে স্টিকার লাগাবে এবং সেই স্টিকারের এক মাথা আপনার সাথে থাকা বোডিং পাসের সাথে লাগিয়ে দিবে, যদি কোন কারনে আপনার ব্যাগেজ না পান , তখন এই গুলো কাজে লাগবে ।
৪। সাধারনত বেশীর ভাগ এয়ারলাইন্সের বোডিং পাস ফ্লাইটের ১ ঘন্টা আগে বন্ধ করে দেয়, তাই আপনাকে অবশ্যই ঠিক সময় উপস্থিত হতে হবে । তাই একবার বোডিং পাস বন্ধ করে দিলে আপনি আর ভ্রমন করতে পারবেন না ।
তৃতীয় ধাপ - ইমিগ্রেশন পাস: বোডিং পাস নেওয়ার পর আপনাকে ইমিগ্রেশনের লাইনে দাড়াতে হবে এবং এখানে আপনার ভিসা ও পাসপোর্ট ভালো ভাবে চেক করবে ।
-এখানে আপনার নাম ও ঠিকানা, আপনার কোম্পানীর নাম ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করবে।
-আর আপনি যদি স্টুডেন্ট ভিসায় আসেন , তাহলে আপনার কলেজ, ভার্সিটির নাম, কোন কোর্সে আসছেন তা জিজ্ঞাসা করবে ।
চেক করার পর ইমিগ্রেশন অফিসার আপনার পাসপোর্টের একটা পেজে স্টাম্পিং করে দিয়ে দিবে ।
চতুর্থ ধাপ - ফাইনাল সিকোরিটি চেকিং : ইমিগ্রেশন পাস করার পর বিমানে ওঠার আগে এই চেকিং করা হয়, আপনার বোডিং পাস থেকে দেখে নিবেন কত নং গেটে যেতে হবে এবং সেখানে গিয়ে আপনার সাথে থাকা ব্যাগ, হ্যান্ড ব্যাগ, মানি ব্যাগ,হাতের ঘড়ি, বেল্ট, মোবাইল, পায়ের জুতা খুলে স্কেনিং মেশিনে দিতে হবে। ছোট ছোট আপনার জিনিস রাখার জন্য প্লাস্টিকের বাস্কেট ব্যবহার করতে পারবেন । এই জায়গায় অনেক সময় অনেক প্রবাসী তাড়াহুড়া করে , যার ফলে জিনিস পত্র হারানোর সম্ভবনা থাকে । তাই তাড়াহুড়া করবেন না ।
ফাইনাল চেকিং করা শেষ হলে ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করবেন, পরে আপনাদের কে বাস দিয়ে নির্দিষ্ট বিমানে নিয়ে যাবে ফ্লাই করার জন্য ।
পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই, নার্ভাস ফিল করবেন না, এখানে চেষ্টা করা হয়েছে বিস্তারিত তুলে ধরার জন্য , ধাপ গুলো ফলো করবেন এবং আপনার সাথে যারা থাকবে তাদেরকে কিংবা কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করবেন ।
আল্লাহ পাক সকল প্রবাসীর যাত্রা শুভ ও আনন্দদায়ক করুক ।
ধন্যবাদ সবাইকে ❤️
সামি 🥰
একজন মালয়েশিয়ান প্রবাসী 🇧🇩🇲🇾