03/11/2024
# # # অনাদায়ী পাওনা সংক্রান্ত জাবেদা # # # #
প্রাপ্য হিসাবঃ ধারে পণ্য বিক্রয়ের ফলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের যাদের কাছে টাকা পাওয়ার অধিকার সৃষ্টি হয় তাদের দেনাদার বা প্রাপ্য হিসাব বলে। দেনাদার বলে ব্রিটিশরা আর প্রাপ্য হিসাব বলে আমেরিকানরা (একেই বিষয়)
অনাদায়ী পাওনা বা কুঋণঃ মনে করো তুমি কারোর কাছে ১০,০০০ টাকা পাবা। ১০,০০০ টাকার মধ্যে সে তোমাকে ৮,০০০ টাকা দিল আর বাকি ২,০০০ টাকা না দিয়েই উধাও হয়ে গেল।এটাই অনাদায়ী পাওনা যা কারবারের জন্য একটি ক্ষতি।
অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতিঃ কোন প্রতিষ্ঠান মনে করলো ভবিষ্যতে কিছু দেনাদার থাকবে যাদের কাছ থেকে কিছু পরিমাণ টাকা আদায় করা যাবেনা। তাই ভবিষ্যতের ক্ষতির কথা ভেবে প্রতিষ্ঠানের আগে থেকেই নিট মুনাফা হতে একটা সঞ্চিতি গড়ে তোলে ভবিষ্যতের অনাদায়ী পাওনা বাবদ ক্ষতি মোকাবেলা করার জন্য ।এটাকেই অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি বলে।
অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি সৃষ্টি করা হয় পরবর্তী বছরের অনাদায়ী পাওনা খরচ মিটানোর জন্য।
উদাহরণঃ মনে করো ২০১৫ সালের লাভের টাকা দিয়ে ৫,০০০ টাকার একটা সঞ্চিতি করা হলো যা ২০১৬ সালের অনাদায়ী পাওনা খরচ মিটানোর জন্য ব্যবহার করা হবে।
অনাদায়ী পাওনা ২ ভাবে হিসাবভুক্ত করা যায়।
১. একটা সঞ্চিতি পদ্ধতিতে (American method)
২. সরাসরি পদ্ধতিতে (British method) ।
সকলের বোঝার সুবিধার্থে ২ টা পদ্ধতিই বিস্তারিত আলোচনা করা হল---
১. সঞ্চিতি পদ্ধতি : এই পদ্ধতিতে ভবিষ্যতের অনাদায়ী পাওনা বাবদ ক্ষতি পূরণের জন্য প্রতিষ্ঠানের আগে থেকেই ভবিষ্যত ব্যবস্থা হিসেবে অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি গড়ে তোলে লাভের টাকা থেকে। নিচের জাবেদা গুলো খেয়াল করো (প্রতিষ্ঠানের সঞ্চতি পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই জাবেদা গুলো দিতে হয়)
ক. ধারে বিক্রয় - ১,০০,০০০
প্রাপ্য হিসাব ডেবিট - ১,০০,০০০
বিক্রয় ক্রেডিট - ১,০০,০০০
খ. অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি তৈরী (২০১৪ সালে) ৩০,০০০ টাকা
অনাদায়ী পাওনা ডেবিট - ৩০,০০০
অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি ক্রেডিট-৩০,০০০
(অনাদায়ী পাওনা না হওয়ার পরেও অনাদায়ী পাওনা নামক খরচ বাড়িয়ে দিয়ে লাভ কমিয়ে দেওয়া হল এবং ওই টাকা অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতিতে জমা হল)
গ. অনাদায়ী পাওনা হয়ে গেল (২০১৫ সালে) ২০,০০০ টাকা
অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি ডেবিট - ২০,০০০
দেনাদার/প্রাপ্য হিসাব ক্রেডিট - ২০,০০০
(সঞ্চিতির টাকা ব্যবহার করা হল।যার কারণে সঞ্চিতির টাকা কমে গেল তাই ডেবিট হল)
ঘ. অনাদায়ী পাওনা আদায় (২০১৬ সালে) ২০,০০০ টাকা
জাবেদা
(i):- প্রাপ্য হিসাব ডেবিট - ২০,০০০
সঞ্চিতি ক্রেডিট - ২০,০০০
(ভুলকৃত জাবেদা ঠিক করা হল যার কারণে সঞ্চিতি আবার বেড়ে যেয়ে ক্রেডিট হল)
(ii):- নগদান হিসাব ডেবিট - ২০,০০০
দেনাদার ক্রেডিট - ২০,০০০
(নরমাল জাবেদা দেওয়া হল)
২. সরাসরি পদ্ধতিঃ এই পদ্ধতিতে কুঋণের জন্য আগে থেকেই সঞ্চিতি রাখা হয়না।কুঋণ হওয়ার পর সঞ্চিতি সৃষ্টি করা হয়। কুঋণ আর অনাদায়ী পাওনা একই
জাবেদা:-
ক.ধারে বিক্রয় - ১,০০,০০০
দেনাদার ডেবিট ১,০০,০০০
বিক্রয় ক্রেডিট ১,০০,০০০
খ. কুৃঋণ হলো ৩০,০০০ টাকা
কুঋণ হিসাব ডেবিট ৩০,০০০
দেনাদার ক্রেডিট ৩০,০০০
গ. কুঋণ সঞ্চিতি তৈরী ৫০,০০০
আয় সারাংশ/লাভ-ক্ষতি হিসাব ডেবিট - ৫০,০০০
কুঋণ/অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি ক্রেডিট ৫০,০০০
ঘ. কুঋণ আদায় ৩০,০০০
নগদান ডেবিট - ৩০,০০০
কুঋণ আয় ক্রেডিট-৩০,০০০
==≠=====================>>>>>>>>>>>>>
এতক্ষন খালি জাবেদা আলোচনা কর হয়েছে।
কুঋণ সঞ্চিতি ধরার পদ্ধতি : কুঋণ সঞ্চিতি ধরার ও ২টি পদ্ধতি রয়েছে।
১. সমাপনী দেনাদারের উপর(রক্ষণশীলতা নীতি)
২. নিট ধারে বিক্রয়ের উপর(মিলকরণ নীতি)
নিচে ২ টা পদ্ধতি আলোচনা করা হল।
১. সমাপনী দেনাদারের উপর
(সঞ্চিতি পদ্ধতি) : এই পদ্ধতিতে সমাপনী দেনাদারের উপর যত % সঞ্চিতি ধরতে বলবে সেটা প্রথমে ধরতে হবে। মনে করো দেনাদারের পরিমাণ ৫২,০০০ টাকা যার উপর ১০% নতুন কুঋণ সঞ্চিতি ধরতে হবে।কুঋণের পরিমাণ ২,০০০ টাকা।পুরাতন সঞ্চিতি ৩,০০০ টাকা।
তাহলে সমাপণী দেনাদার হবে : দেনাদার-কুঋণ(৫২,০০০-২,০০০) = ৫০,০০০ টাকা।
এতএব নতুন সঞ্চিতি হবে : সমাপণী দেনাদার*সঞ্চিতি ধরার হার (৫০,০০০*১০%) = ৫,০০০ টাকা।
এবার আসো বিশদ আয় বিবরণী এবং উদ্বৃত্তপত্রে আমরা কি করবো সেটা দেখি।
বিশদ আয় বিবরণীতে যা হবেঃ
কুঋণ ২,০০০
যোগ : নতুন সঞ্চিতি ৫,০০০
বাদ: পুরাতন সঞ্চিতি ৩,০০০
এতএব আয় বিবরণীতে চার্জের পরিমাণ হবে (২,০০০+৫,০০০-৩,০০০) = ৪,০০০ টাকা।
জাবেদা লিখার সময় এই ৪,০০০ টাকা দিয়েই কুঋণ সঞ্চিতি তৈরী করতে হবে।অর্থাৎ কুঋণ হিসাব ডেবিট - ৪,০০০/সঞ্চিতি হিসাব ক্রেডিট - ৪,০০০ হবে। অর্থাৎ সব যোগ বিয়োগের পর যে এমাউন্ট বের হবে সেটা দিয়ে নতুন সঞ্চিতির জাবেদা দিতে হবে।
এখন তোমাদের মনে প্রশ্ন হতে পারে যে আয় বিবরণীতে আমরা কুঋণের সাথে নতুন সঞ্চিতি যোগ করে পুরাতন সঞ্চিতি বাদ দিলাম কেন? এটারও কারণ আছে।বিগত বছরের কথা চিন্তা করো।বিগত বছরে লাভের টাকা থেকে একটা সঞ্চিতি তৈরী করে রেখেছিলে এই বছরের অনাদায়ী পাওনাজনিত ক্ষতি পূরণের জন্য। এখন সেটা ব্যবহার করতে হবে। এই বছর মোট কুঋণ হয়েছে মনে করো ৫,০০০ টাকা আর বিগত বছরের মানে পুরাতন সঞ্চিতি আছে ৩,০০০ টাকা।আয় বিবরণীতে এই ৫,০০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা বাদ দিয়ে ২,০০০ টাকা খরচ হিসাবে দেখাতে হবে।কারণ ৫,০০০ টাকাই আয় বিবরণীতে দেখালে পুরাতন সঞ্চিতি তো কোন কাজে আসবেনা। এজন্যই আয় বিবরণীতে পুরাতন সঞ্চিতি বাদ দেওয়া হয়।
উদ্বৃত্তপত্রে যা হবে :-
দেনাদার ৫২,০০০
বাদ: কুঋণ ২,০০০
বাদ :নতুন সঞ্চিতি ৫,০০০
২. নিট ধারে বিক্রয়ের উপর (সরাসরি): মনে করো ধারে বিক্রয় ৮৫,০০০ টাকা।বিক্রয় ফেরত ৫,০০০ টাকা। তাহলে নিট বিক্রয় হবে ৮০,০০০ টাকা।প্রশ্নে বলা আছে নিট ধারে বিক্রয়ের উপর ১০% কুৃঋণ সঞ্চিতি ধরতে হবে।কুঋণের পরিমান ৪,০০০ টাকা আর পুরাতন সঞ্চিতি ২,০০০ টাকা।
সমাধান : নিট ধারে বিক্রয়ের উপর ১০% করলে (৮০,০০০*১০%) = ৮,০০০ টাকা হবে।এটাই চার্জের পরিমাণ।অর্থাৎ এই ৮,০০০ টাকাই আয়! ডেবিট পাশে আলাদাভাবে বসবে।কারোর সাথে যোগ বিয়োগ হবেনা।এটাই নতুন সঞ্চিতির পরিমাণ।কুঋণ সঞ্চিতির জাবেদা লিখার সময় এই ৮,০০০ টাকা দিয়েই লিখতে হবে।
আয় বিবরণীতে যা হবে:
(ডেবিট পাশে) নতুন কুঋণ সঞ্চিতি ৮,০০০
উদ্বৃত্তপত্রে যা হবে:
দেনাদার
বাদ: কুঋণ ৪,০০০
বাদ : নতুন সঞ্চিতি ৮,০০০
মোঃ মাহাবুব ইসলাম
প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ
বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।