23/08/2026
🔰 ৮ম শ্রেণি বিজ্ঞান বিষয়ের ত্রয়োদশ অধ্যায়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ
বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) অনুমোদিত ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের ত্রয়োদশ (১৩তম) অধ্যায়টি হলো "খাদ্য ও পুষ্টি"। মানবদেহের সুস্থতা, বৃদ্ধি ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য এই অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে এই অধ্যায়ের প্রধান প্রধান বিষয়গুলোর সহজ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:
১. খাদ্য ও পুষ্টির মূল ধারণা
✅ খাদ্য (Food): যেসব জৈব উপাদান গ্রহণের ফলে জীবের দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ এবং শক্তি উৎপাদিত হয়, তাকে খাদ্য বলে।
✅ পুষ্টি (Nutrition): পুষ্টি একটি জটিল প্রক্রিয়া। যে প্রক্রিয়ায় খাদ্যবস্তু শরীরে পরিপাক ও শোষিত হয়ে দেহের তাপ ও শক্তি জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, তাকে পুষ্টি বলে।
২. খাদ্যের উপাদানসমূহ (Components of Food)
রাসায়নিক গঠন অনুসারে খাদ্যের প্রধান উপাদানগুলোকে ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
ক. শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate)
✅ কাজ: এটি মানবদেহের প্রধান শক্তি উৎপাদনকারী উপাদান। এটি সহজে হজম হয়।
✅ উৎস: চাল, গম, আলু, ভুট্টা, চিনি ইত্যাদি।
✅ বিশ্লেষণ: আমাদের দৈনন্দিন শক্তির প্রায় ৬০-৭০% শর্করা থেকে আসা উচিত।
খ. আমিষ বা প্রোটিন (Protein)
✅ কাজ: দেহের কোষ গঠন, পেশি তৈরি, ক্ষয়পূরণ এবং বৃদ্ধি সাধন করে।
✅ উৎস: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শিমের বিচি ইত্যাদি।
✅ বিশ্লেষণ: আমিষের মূল উপাদান হলো অ্যামাইনো অ্যাসিড। শরীরে আমিষের অভাব হলে শিশুদের কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাস রোগ হয়।
গ. স্নেহ বা চর্বি (Fat/Lipid)
✅ কাজ: দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে এবং ত্বকের নিচে চর্বি স্তর জমা রেখে শরীর উষ্ণ রাখে।
✅ উৎস: ঘি, মাখন, সর্ষের তেল, বাদাম ইত্যাদি।
ঘ. ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ (Vitamin)
✅ কাজ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের বিভিন্ন জৈবিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
✅ শ্রেণিবিভাগ: জলে দ্রবণীয় (ভিটামিন B, C) এবং চর্বিতে দ্রবণীয় (ভিটামিন A, D, E, K)।
✅ বিশ্লেষণ: ভিটামিন 'এ'-র অভাবে রাতকানা, ভিটামিন 'সি'-র অভাবে স্কার্ভি এবং ভিটামিন 'ডি'-র অভাবে রিকেটস রোগ হয়।
ঙ. খনিজ লবণ (Mineral Salts)
✅ কাজ: হাড়, দাঁত ও পেশি গঠনে অংশ নেয়। যেমন- রক্ত তৈরিতে আয়রন (লোহা) এবং হাড়ের মজবুতিতে ক্যালসিয়াম প্রয়োজন।
✅ উৎস: শাকসবজি, ফলমূল, সামুদ্রিক মাছ ও লবণ।
চ. পানি (Water)
✅ কাজ: শরীরের তরল পদার্থের ভারসাম্য বজায় রাখে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং বর্জ্য পদার্থ মূত্র বা ঘামের মাধ্যমে বের করে দেয়।
৩. রাফেজ বা আঁশযুক্ত খাদ্য (Roughage)
✅ শস্যদানা, ফল ও সবজির অপাচ্য অংশকে রাফেজ বলে।
✅ এটি সরাসরি কোনো পুষ্টি না দিলেও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত সাহায্য করে।
৪. সুষম খাদ্য (Balanced Diet)
✅ সংজ্ঞা: যে খাদ্য তালিকায় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ৬টি উপাদানই নির্দিষ্ট অনুপাতে ও সঠিক পরিমাণে থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে।
✅ গুরুত্ব: সুষম খাদ্য শরীরকে কর্মক্ষম রাখে এবং মেদ বা স্থূলতা প্রতিরোধ করে।
৫. বডি মাস ইনডেক্স বা BMI (বডি মাস ইনডেক্স)
✅ শরীরের ওজনের সাথে উচ্চতার সামঞ্জস্য পরিমাপের একক হলো BMI।
✅ সূত্র: \(\text{BMI} = \frac{\text{শরীরের ওজন (কেজি)}}{\text{উচ্চতা (মিটার)}^2}\)
✅ BMI-এর মান ১৮.৫ থেকে ২৪.৯-এর মধ্যে থাকলে তাকে আদর্শ বা সুস্থ ওজন ধরা হয়।
অধ্যায়টির কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (পরীক্ষার জন্য):
★ পুষ্টিমান বলতে কী বোঝায়?
✅ কোনো খাদ্যে উপস্থিত পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ এবং তা থেকে কতটুকু শক্তি (ক্যালরি) পাওয়া যায়, তাকে ওই খাদ্যের পুষ্টিমান বলে।
★ রাতকানা রোগ কেন হয়?
✅ খাবারে ভিটামিন 'এ'-র দীর্ঘমেয়াদি অভাব হলে চোখের রেটিনার রড কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে রাতে দেখতে সমস্যা বা রাতকানা রোগ হয়।
সম্পাদনেঃ-
Mohammad Rayhan
ICT specialist
Chittagong Govt. Girls’ High School
Nasirabad, Chattogram.