11/09/2022
ছেলেমেয়ে লালনপালন বিষয়ে দারুন একটি আলোচনা
শায়েখ রাতিব নাবুলুসী (হাফি) বলেন,
সন্তানের সাথে ৭ বছর খেলবে
তারপর ৭ বছর আদব-কায়দা শেখাবে
অতঃপর ৭ বছর নজরে নজরে রাখবে
তারপর তার রশি ছেড়ে দিবে। যা করতে চায় করতে দিবে।
ব্যাখ্যাঃ.
#প্রথম স্তর ঃ '৭ বছর তার সাথে খেলবে'
অর্থাৎ বাচ্চাদের জীবনে ১ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত এই সময়ে তাদেরকে প্রহার করা ঠিক না। কেননা, তারা অনেক ছোট। অনেক পিতামাতাকে দেখা যায় যে, যদি রাতে তাদের সন্তান কান্নাকাটি করে তাদেরকে প্রহার করে। অথচ তাদের বয়স কেবল ২ বছর।
তাই প্রথম স্তরে বাচ্চাদের প্রতি সর্বোচ্চ ভালোবাসা, মমতা ও সহানুভূতি দেখানোর পাশাপাশি তাদের সাথে সময় দেওয়া ও খেলাধূলা করা।
#দ্বিতীয় স্তরঃ ' তাদেরকে আদব-কায়েদা শেখানোর পাশাপাশি শাসন করবে'
অর্থাৎ যখন তাদের বয়স ৭-১৪ এর মধ্যে থাকে, তখন তাদের মধ্যে দৃঢ়ভাবে মূল্যবোধ, হালাল-হারাম জ্ঞান এবং সচেতনতাবোধ তৈরি করা দরকার।
যদি এমন কোন কথা বলে ফেলে যা ঠিক নয় বা পরিবেশ অনুযায়ী উচিত নয়, পয়সা ভুলভাল পথে খরচ করে ফেলে, তবে বিষয়টি খুবি গুরুত্ব সাথে নিবে এবং সংশোধনের চেষ্টা করবে । আর এভাবেই তাকে শাসন করে এবং তার মাঝে সচেতনতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে হবে।
#তৃতীয় স্তরঃ 'অতপর ৭ বছর তাকে নজরে নজরে রাখতে হবে'
অর্থাৎ ১৪ থেকে ২১ বছর পর্যন্ত বয়সকে 'মুরাহাকাত বা বয়োসন্ধি কাল' বলা হয়ে থাকে। যদিও ইসলামে এমন বিশেষ পরিভাষার ব্যবহার পাওয়া যায় না।
১৪ বছর বয়সে পৌঁছানোর পরে তার মনের জগতে নতুন সব অনুভূতি জন্ম নিতে থাকে৷ তবে সে এত বুদ্ধিমানও হয় না যে আপনাকে তার অবস্থান দ্বারা খুশি করতে পারবে। এবং এত ছোটও না যে প্রতি কথা আপনি ধরে ধরে শেখাবেন।
এটা এমন এক জগৎ যখন ছেলেমেয়েদের পাগলামি ও আবেগ অধিকাংশ বাবা-মাকে পেরেশান করে ছাড়ে। যদি আপনি তাকে বুদ্ধিমান ভেবে তার সাথে তেমন কোন আচরণ করতে যান, তবে আপনাকে সে হতাশ করবে। আর যদি ছোট মনে করে তেমন কোন আচার-আচরণ করেন, তবে সে মেনে নিতে পারবে না।
এজন্য এ সময় নজরে নজরে রাখতে হয়।
চতুর্থ স্তরঃ' অতপর তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দিন'
অর্থাৎ ২১ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর তাকে শাসন করে আর লাভ হয় না। তখন বরং ছেলেমেয়ে সাথে বন্ধুত্ব করতে হয়।
প্রথম তিন স্তরে যদি আপনি সফল হন, তবে দৃঢ় ধারণা নিয়ে বলা যায় যে, আপনারা শেষ স্তরে এসেও সফল হবেন এবং আপনাদের ছেলেমেয়ে নেককার ছেলেমেয়ে হিসাবে একটি সুন্দর জীবন লাভ করবে।
©