09/09/2020
কয়েকদিন ধরে স্কুলের ফেসবুক পেজে চোখ বুলাচ্ছি আর স্যার ম্যাডামদের ক্লাসগুলো দেখছি। দেখতে দেখতে সব পুরাতন স্মৃতিগুলা মনে পড়ে গেল। পুরাতন সব শিক্ষকদের সাথে নতুন অনেক শিক্ষকদেরও দেখলাম। সময় কতই না দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল এইত সেদিন না বোধহয় স্কুলে ছিলাম। ক্লাসের পিছনের বেঞ্চে বসে দুষ্টামি, টিফিন পিরিয়ড়ে বিএনসিসি ধরে স্কুল পালানো, কিংবা কখনো কখনো সিম্পল করিডর দিয়ে হেটে হেটে পালানো, সব স্মৃতিগুলা চলে এলো সামনে। একটা স্বর্ণযুগে ছিলাম কলেজিয়েটে থাকাকালে যখন আজিজ স্যার ছিল হেডস্যার। মোটিভেশন জিনিসটা জানতাম না সেসময় কিন্তু বাস্তবিকভাবেই উনার কথাগুলো খুব তন্ময় হয়ে শুনতে থাকতাম। ডে শিফটের একজন আশীষ স্যার ছিলেন পিটির আগে যে যে চিপাতেই লুকাই থাকুক না কেনো স্যার তাদের খুজে বের করেই ছাড়তেন। সাথে বেতের বারি ত কনফার্ম। জেবুন্নেসা ম্যাডামের রিংভর্তি হাতের ঘুষি ও অবিরাম পাওয়া যাইত। আবছার স্যারের ক্লাস মানেই ছিল মজা আর প্রচুর হাসাহাসি( আল্লাহ স্যারকে জান্নাত নসীব করুক)। জাহিদ স্যারের কোচিং ক্লাস দুই জায়গারই স্টুডেন্ট ছিলাম সেকারণে স্যারের দুই জায়গাতেই নজরে থাকতাম। আতঙ্কে থাকতাম মহসীন স্যার কিংবা ডেইজি ম্যাডামের ক্লাস থাকলে। তাদের সামনে পড়লে আর রক্ষা নাই। সেদিন দফা রফা হই যাইত। ধর্মের হুজুর স্যারের সাথে দেখা হইলেই বলত নামায পড়তে চলে আসো। কখনো কখনো যোহরের সময় নিজেও নিয়ে যাইত। আনোয়ার স্যার, এনাম স্যার, মোর্শেদ স্যার, সেলিম স্যার, শাহাবুদ্দিন স্যার, নুরুল আলম স্যার, সাহেদ স্যার,সুশান্ত স্যার, ইলা ম্যাম, নাসরীন ম্যাম, জেসমিন ম্যাম, শামীমা ম্যামদের কথা এখন মাঝে মাঝে মনে পড়ে যায়। জীবনের একটা সোনালী সময় তাদের সান্নিধ্যে থেকে বড় হয়েছি। তাদের আদর, স্নেহ, শাসন সবই পেয়েছি। খুবই মিস করি সে সময়টা। মনে হয় আবার যদি কোনভাবে পিছনে যেয়ে তাদের ক্লাসে যেয়ে বসতাম, কিই না ভালো হত।
স্যার ম্যাডামরা সবাই ভাল থাকুক, সুস্থ থাকুক।