ধর্মীয় সংষ্কৃতিতে দেখা যায় কিয়াং এ থাকার আগে অষ্টশীল অধিষ্ঠান করার চল রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায়, কিছু ভিক্ষু বিহার বা জাদীর যায়গার সাধারণ দায়ক দায়ীকাকে ঘর বানিয়ে থাকতে দিচ্ছেন।
বিহার, কিয়াং বা জাদী সংঘের পবিত্র যায়গা। সংঘের যায়গায় পরিবার নিয়ে থাকলে, সংসার চালানো, কামাচার, মুসাবাদা, গালাগালী ইত্যাদি করতে হয়। সাধারণ জ্ঞানেও এটা হীন কাজ। সচেতন উপাসক উপাসীকাদের উচিত এসব স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র বাসা নিয়ে থাকা।
যখন থেকে জানবেন ভুল, তখন থেকেই ভুল ত্যাগ করা উচিত।
Sharana-Gamana
বুদ্ধ ধর্ম সংঘ বিনা কোন শরণ নাই।
ভিক্ষু সংঘ ব্যতীত কোন গৃহী বা দেবতা, যক্ষা, কিন্নর, নাগ ইত্যদি এদের শরণ নিলে ত্রিশরণ ভংগ হয়।
রাম সাম যদু মধু ইত্যাদি তথাকথিত অনাগত দশ বুদ্ধ বা বোধিসত্ত সব কল্পকাহিনী, মহাজানীদের সৃষ্টি।
অজিত থের একজন অরহত, যিনি কোন ভবিষ্যৎ বুদ্ধ নন। গৌতম বুদ্ধ অনাগত একজন মাত্র আর্যমিত্র বুদ্ধের ব্যাপারে বলে গেছেন।
শুটকির সামনে রাখা পানি সিদ্ধি মহাঔষধ হয়ে গেছে, ওইটা দিয়ে পায়খানা করে পোন ধুবেন। পাইলস ফিস্টুলা সেরে যাবে 😄💩
23/11/2024
গ্রেগরিয়ান কেলেন্ডারঃ খ্রিষ্ট ধর্মের পোপ গ্রেগরিয়ান কতৃক প্রবর্তিত ক্যলেন্ডার অর্থাৎ বর্তমান ইংরেজি ক্যলেন্ডার যেটা ব্যবহার করি তার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত গণণায় ২০২৪ বছর চলছে। ২০০০ থেকে ২১০০ বছর পর্যন্ত বছরকে ২১ শতক হিসেবে নোটেশান করা হয়। এই সময়কালকে বলা হয় Common Era বা সাধারণ যুগ। এর আগের বছরগুলাকে বলা হয় Before Common Era বা সাধারণ পূর্বাব্দ। BCE কে উলটা ভাবে গণণা করা হয়। যেমন ৫০০BCE হল কমম এরার ৫০০ বছর পূর্বে। কমন এরা এবং সাধারণ পূর্বাদ্ব মিলিয়ে বুদ্ধ ২৫২৪ বছর আগের কাল গৌতম বুদ্ধের জীবনকাল ও ধর্মপ্রচারকাল ছিল। আড়াই হাজার বছর সময়কাল কম সময় নয়। একারণে নানাভাবে বুদ্ধের ধর্ম, সংষ্কৃতি বিকৃত হয়েছে্। তার সাথে বুদ্ধ মূর্তিরও বিকৃতি ঘটেছে। তার কিছু উদাহরণ আপনাদের সামনে ছবি সহ তুলে ধরছি।
আড়াই হাজারেরও বেশি বছর আগে প্রচার করে যাওয়া বুদ্ধের মূর্তি বা প্রতিকৃতি নিয়ে অনেক মিথ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এশিয়া জুড়ে। তার মধ্য তিব্বত এর জয়ো রিনপোচে বা জয়ো বুদ্ধমূর্ত, মায়ানমারের মহামুনি বুদ্ধমূর্তি, থাইল্যন্ডের এমারল্যন্ড বুদ্ধমূর্তি, জাপানের সেইরওজি বুদ্ধমূর্তি এই সবগুলা নিয়ে কাহিনী বা মিথ প্রায় একই। যেখানে বলা হয় বুদ্ধ জীবিত থাকতে মূর্তিগুলা বানানো হয়। কোথাও বিশ্বকর্মা বা কোথাও দেবরাজ ইন্দ্র নিজ হাতে বুদ্ধের সম্মুখেই এইসব মূর্তি বানিয়েছিল বলে বলা হয় বা এই সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক নথিতে তারা এভাবে বর্ণনা সংরক্ষন করে রাখছে।
🍂তিব্বতের জোয়ো বুদ্ধ মূর্তিঃ
তিব্বতের লাসায় জোকাং টেম্পলে অবস্থিত জোয়ো রিনপোচে বা জোয়ো বুদ্ধ মূর্তিকে তিব্বতে পারফেক্ট বা অবিকল বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে মান্য করা হয়। ধারণা করা হয়া কুশান সাম্রাজ্যের দ্বীতিয় শতকে (BCE) জয়ো বুদ্ধ মূর্তি বানানো হয়। এখানে বুদ্ধকে বাম হাত ধ্যন মুদ্রায় এবং ডান হাত ভুমি স্পর্শ মুদ্রায় দেখানো হয়েছে। জোয়ো বুদ্ধ মূলত একাংশিক চীবর পরিহিত ভাবেই নির্মিত হয়েছিল। কালের বিবর্তনে মাথায় মুকুট এবং শরীরে অলংকারাদী চাপিয়ে দেয়ায় এই মূর্তিকে বুদ্ধ বলে চেনার কোন উপায় নাই। ১১০০ শতকের একটি পিলারের অভ্যন্তরে রক্ষিত নথিতে দাবী করা হয় ভগবান বুদ্ধের সামনেই বিশ্বকর্মা মূর্তিটি তৈরি করেন এবং বুদ্ধের পরিনির্বানের পর বুদ্ধের বিকল্প হিসেবে সবাই যাতে বন্দনা পূজা করতে পারে সেই উদ্দেশ্যে মূর্তিটি নির্মান করা হয়।
🍂থাইল্যান্ডের ইমারল্যান্ড বুদ্ধ বা মহামূনি রত্ন মূর্তিঃ
শ্রীলংকান রতনাবিভংশ, জিন কালমালি গ্রন্থে ইমারল্যান্ড বুদ্ধ বা ফ্রা পুত্তা মহা মনি রাত্তানা পতিমাকন (মহা মুণি বুদ্ধের রত্ন প্রতিমা) বুদ্ধের পরিনির্বানের ৫০০ বছর পরে ঋষি নাগসেন কল্পিত বিষ্ণু ও দেবরাজ ইন্দ্রের সহায়তায় তৈরি করেন।
🍂সেইরওজি বা সাকুশন (শাক্যমুনি) বুদ্ধ মূর্তিঃ
জাপানের জাপানে বুদ্ধকে Shakuson, or more commonly Shaka or Shaka Nyorai বলে ডাকা হয়। সেই সেইরওজি বুদ্ধের কাহিনীতেও জড়িয়ে আছে বুদ্ধের সময়কালীন রাজা উদয়নের নাম। কথিত আছে রাজা উদয়ন বুদ্ধের সামনেই হুবুহু বুদ্ধের মত দেখতে বুদ্ধের প্রতিকৃতি তৈরি করান। পরবর্তীতে মূর্তিটি চায়না তে নিয়ে আসা হয়। ১৯০০ সালে বিদেশীদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবকালীন মূর্তিটি হারিয়ে যায়। সেইরওজি বা সাকুশন (শাক্যমুনি) বুদ্ধ মূলত উদয়ন রাজার সেই বুদ্ধ মূর্তিকে অনুকরণ করে বানানো হয়। ৯৫০ইংরেজিতে জাপানিজ ভিক্ষু কোনেন চায়নাতে তীর্থ করতে গিয়ে এই বুদ্ধ মূর্তির সন্ধান পান এবং জাপানে তদানুরুপ মূর্তি তৈরি করান।
🍂মায়ানমারের মহামুণি বুদ্ধমূর্তিঃ
মহামুণি বুদ্ধকেও তিব্বতের জয়ো বুদ্ধমূর্তির মতই বাম হাত ধ্যন মুদ্রায় এবং ডান হাত ভুমি স্পর্শ মুদ্রায় দেখানো হয়েছে। সাপ্পাদানাপ্রাকারানা নামক আরাকানের গ্রন্থে উল্লেখ আছে, রাখাইন রাজা চান্দসুরিয়ার ফাং গ্রহণ করতে বুদ্ধ সশিষ্য আরাকানে আসেন। রাজার অনুরোধে দেবরাজ ইন্দ্র বুদ্ধের প্রতিকৃতি নির্মান করেন। এই মূর্তিকে বুদ্ধ নিজে জীবন দান করেন বলে বইটিতে লিপিবদ্ধ আছে।
https://www.khanacademy.org/humanities/ap-art-history/west-and-central-asia-apahh/central-asia/a/jowo-rinpoche
https://en.wikipedia.org/wiki/Emerald_Buddha
https://en.wikipedia.org/wiki/Mahamuni_Buddha_Temple
http://www.taleofgenji.org/shakyamuni.html
🍂ভিক্ষুদের বিভিন্ন প্রকারের মাংস খাওয়া না খাওয়া প্রসংগে মহাবিহারবাসী আভায়ালাংকারা ভান্তের প্রশ্নোত্তর।
অনুবাদক- Ashin Kowida Bhikkhu
প্রশ্ন:ভিক্ষুদের ভক্ষণ করা অনুচিত হস্তি ঘোরা ও Hyena এই তিন প্রকার মাংস সাধারণ কোন গৃহী ভক্ষণ করলে অকুসল বা পাপ হবে কিনা?
উত্তর:এটা মানুষের সাথে কোন সম্পর্ক নাই, এটা তো বুদ্ধ একটা বিনয় হিসেবে ভিক্ষুদের জন্য প্রজ্ঞাপন করেছেন। ইহা নিজ নিজ ইতিহাস ও রয়েছে, হস্তি ও ঘোরার মাংস ভক্ষণ না করতে বলেছেন কারণ এই হস্তি ঘোরা হচ্ছে রাষ্ট্রের অংশ এইগুলো তখনকার রাজাগণ ব্যবহার করতেন, যদি ভক্ষন করেন তাহলে বিপদ অন্তরায় হতে পারে। কুকুরের মাংস ভক্ষণ করা অনুচিত কারণ কুকুর নিকৃষ্ট মাংস ভক্ষণ করা অনুচিত ইহা ভক্ষন করলে মানুষ তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে।
সর্প মাংস ভক্ষণ করা অনুচিত, ইহা ভক্ষন করলে শরীর থেকে গন্ধ বের হয় ফলে সাপগুলো আক্রমণ করতে পারে তথা ইহা নাগরাজ ও বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করছেন ভিক্ষুদের সর্প মাংস ভক্ষণ না করার প্রজ্ঞাপন করতে, কারণ সর্প একটি রাগী জাতির প্রাণি মূহুর্তে আক্রমণ করতে পারে, সর্প ও নাগরাজ একই কথা শুধু ছোট বড় শরীর টুকু পার্বত্য।
বাঘ, চিতা বাঘ, নেকড়ে বাঘ ইত্যাদি ইত্যাদি ও ঠিক তেমনি আক্রমণ করতে পারে তাই ভক্ষন করা অনুচিত। এইরকম ইতিহাস রয়েছে বলে ভিক্ষুদের এই দশ প্রকার মাংস ভক্ষণ করা অনুচিত, সাধারণ মানুষ হিসেবে ও যদি ভক্ষন না করে থাকে তাহলে একই ফল পাবে কিন্তু অকুসল তো হবে না।
রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ভক্ষণ করা অনুচিত, নিকৃষ্ট জাতির মাংস হিসেবে ভক্ষণ করা অনুচিত, নাগরাজ প্রার্থনা করছেন এবং অন্তরায় বিপদ হতে রক্ষা পাওয়ায় ভক্ষন করা অনুচিত।
Ashin Abhoilankar (Mahavihara)
19/06/2024
ধর্মচক্র সূত্রে বর্ণিত দুঃখ সমূহ —
১। জাতি দুক্খ— জন্ম দুঃখ।
২। জরা দুক্খ— বৃদ্ধ হওয়ার দুঃখ।
৩। ব্যাধি দুক্খ— রোগের দুঃখ।
৪। মরণ দুক্খ— মৃত্যুর দুঃখ।
৫। অপ্পিয়েহি সম্পয়োগ দুক্খ— অপ্রিয় সংযোগ দুঃখ।
৬। পিয়েহি ৰিপ্পয়োগ দুক্খ— প্রিয় বিয়োগ দুঃখ।
৭। য়ম্পিচ্ছং তং ন লাভতি দুক্খ— ইচ্ছিত বস্তু না পাওয়ার দুঃখ।
৮। পঞ্চুপাদানক্খন্ধা দুক্খ— পঞ্চস্কন্ধের দুঃখ।
🔘ধম্মচক্কপৰত্তন সুত্তং, ৩৬৮, মহাৰগ্গসংয়ুক্তপাল়ি
এই ৮-টি দুঃখ বাদেও অন্যান্য সূত্রে নানা ধরণের দুঃখের কথা বুদ্ধ দেশনা করেছেন। চুল়নিদ্দেস, ২৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত দুঃখের সংখ্যা ৮০। এই ৮০টি দুঃখ নিয়ে পরে একদিন লিখবো। এখানে শুধু ধম্মচক্কপৰত্তন সূত্রে বর্ণিত দুঃখগুলো তুলে ধরলাম।
ভদন্ত ৰিৰেকাজোতি
২৫৬৮ সাসনৰস্স
১৮.০৬.২০২৪
য়ানগুন, মায়ানমার
18/05/2024
বিশ্বখ্যাত বিদর্শনাচার্য্য শ্রী সত্য নারায়ণ গোয়েঙ্কাজীর সদ্ধর্ম বিষয়ক একটি আলোচনার অংশ বিশেষ:
হিন্দি থেকে বাংলায় অনূদিত
বাংলায় অনুবাদ : রিপন সিংহ
**************************
একটা কথা সবসময় মনে রাখতে হবে এবং একথা অনস্বীকার্য যে, মুক্ত অবস্থায় পৌঁছানোর জন্য, নির্বাণ সাক্ষাতের জন্য ভগবান বুদ্ধ কর্তৃক প্রবর্তিত প্রব্যজ্যা গ্রহন করা অর্থাৎ ভিক্ষু হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি, অনেকেই আছে ঘড়-সংসার ত্যাগ করে প্রব্যজ্যিত হয় ঠিকই, কিন্তু সংসারের যে আরাম -আয়েশ, ভোগ-বিলাস সেগুলো ত্যাগ করতে পারে না। আজকাল তো মানুষ এমন এমন স্থাপনা, এমন এমন বিহার, এমন এমন প্যাগোডা নির্মাণ করে রাখে, সেখানে প্রায় সকল ধরনের সুযোগ সুবিধাই বিদ্যমান থাকে, যা সংসারের মধ্যেও ছিলো। অনেকেই মনে করে আমরা তো ঘড় সংসার ত্যাগ করেছি, বিহারে অবস্থান করছি, বেশ-ভূষাও পরিবর্তন করেছি সুতরাং অচিরেই আমরা মুক্ত অবস্থায় পৌঁছে যাব। অনেকেই আছে যারা সংসার ত্যাগ করে, বেশ ভূষা পরিবর্তন করে, একাজ ওকাজ করতে থাকে, বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমও করে কিন্তু আসল যে কাজ করার কথা সেটাই করে না, ধ্যান সমাধি করে না, নিজেকে জানার চেষ্টা করে না। ধর্ম কি শুধুই বেশ-ভূষা পরিবর্তনের বিষয়? দুই একটা ধর্মীয় কর্ম -কান্ড করেই কি মুক্ত অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব? নির্বাণ সাক্ষাৎ করা সম্ভব?
যা করার কথা সেই আসল কাজেই করে না, কামনা বাসনা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কোন কার্যক্রমই করে না। অথচ প্রতিটা প্রব্যজ্যিতের একমাত্র লক্ষ্যই হওয়া উচিত নির্বাণ সাক্ষাৎ করা।
10/04/2024
উচ্চস্বরে সূত্র আবৃত্তিতে দোষ
ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু
পালি সূত্র তথা ধম্ম বচন উচ্চস্বরে গানের মত করে আবৃত্তিতে পাঁচ প্রকারের দোষ হয়ে থাকে। সূত্র পিটকের অন্তর্গত অঙ্গুত্তর নিকায়ের পঞ্চক নিপাতের কিমিল বর্গের গীতসূত্রে উল্লিখিত হয়েছে-
‘পঞ্চিমে, ভিক্খবে, আদীনবা আযতকেন গীতস্সরেন ধম্মং ভাণন্তস্স।’
অর্থাৎ ভিক্ষুগণ! গীতস্বরে ধম্ম ভাষণের পাঁচ প্রকারের দোষ হয়। সেগুলি কি কি?
১) গীতের মত আবৃত্তি করার মধ্যে আসক্তি জন্মে।
২) অন্যদেরকেও গীতস্বরে আবৃত্তি করার জন্য আসক্ত করে।
৩) সেরকম গীতের মত সুর শ্রবণকারী গৃহস্থ উপাসক-উপাসিকাগণ নিজেদের সাথে গীত সম্বন্ধিত বিষয়ে ভিক্ষুর তুলনা করে থাকে।
৪) স্বরের আরোহ-অবরোহ সম্বন্ধিত ব্যবস্থাপনায় সমাধি ভঙ্গের সঙ্কট এসে থাকে। কেননা ধম্ম অনুশীলনের চেয়েও স্বর সুরক্ষাতেই তিনি অধিক মনোযোগী থাকেন।
৫) পরবর্তী প্রজন্মও তাঁর স্বর অনুকরণ করতে গিয়ে ‘ধম্ম অনুশীলন অথবা ধম্ম আচরণকে গুরুত্ব না দিয়ে ধম্ম বচনের স্বরবদ্ধ লয়বদ্ধ গীতস্বরেই আসক্ত হয়ে থাকে।
উপরোক্ত পাঁচ প্রকার দোষ বর্ণনা করে ভগবান বুদ্ধ ভিক্ষুদেরকে নির্দেশ করেছেন, সূত্র পাঠ করার সময় সূত্র যেন গানের মত করে দীর্ঘস্বরে গীত করা বা আবৃত্তি করা না হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ ভিক্ষুর প্রথমতঃ পালি উচ্চারণ অশুদ্ধ। হ্রস্ব স্বর, দীর্ঘ স্বর, অল্প প্রাণ, মহাপ্রাণ প্রভৃতির কোনো মাত্রা জ্ঞান নাই এবং দ্বিতীয়তঃ একেক জন একেক রকম করে গানের মত সুর দিয়ে পাঠ করে থাকেন। যা একেবারে সঠিক নয়। সুরও হয় ভিন্ন ভিন্ন ও শ্রুতিকটু।
উপাসক-উপাসিকাগণের অধিকাংশই যেহেতু পালি উচ্চারণ অনভিজ্ঞ, সেহেতু তাঁরা যে ভিক্ষু সুরেলা কণ্ঠে গানের মত করে সূত্রের গীত করেন, তখন তাঁকে প্রশংসা করে সেদিকেই আসক্ত হয়। সেগুলি বার বার শুনতেই অধিক রুচি উৎপন্ন করে থাকেন। ভিক্ষু যে ভুল পদ্ধতিতে এবং ভুল উচ্চারণে পাঠ করছেন, সেদিকে তাঁদের লক্ষ্য থাকেনা। আমাদের দেশে অনেকে অশুদ্ধ উচ্চারণ শুনতে শুনতে পরে যখন শুদ্ধ উচ্চারণ শুনেন, সে শুদ্ধটাকেই তাঁরা অশুদ্ধ মনে করতে থাকেন।
আজকাল যাঁদের সূত্র পঠনকে অধিক সুন্দর, সুরেলা ও শ্রুতি মধুর মনে করে উপাসক-উপাসিকারা রেকর্ড করে ঘরে, গাড়িতে বা কাজের স্থান ইত্যাদিতে শুনে থাকেন, তাঁদের অনেকের সূত্র পাঠের উচ্চারণে তো অজস্র ভুল দেখাই যায়, তদুপরি তাঁরা গানের মত দীর্ঘ করে আবৃত্তি করতে গিয়ে সেদিকেও আপত্তি এবং ভুল উভয়ই করছেন।
সেদিন এক দায়ক আমাকে তাঁর গাড়ি করে এক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িতে সূত্রের রেকর্ড চলছিল। সে রেকর্ডটা ছিল আমাদের দেশের স্বনামধন্য একজন ভিক্ষুর কণ্ঠে আবৃত্তি করা। যাঁর রয়েছে অসংখ্য ভক্ত। তাঁর সূত্র পাঠ প্রতিদিন দেশ-বিদেশে অনেকে শুনে থাকেন। গীতের মত করে দীর্ঘ সুরে সুরেলা কণ্ঠে গীত হয় বলে লোকেরা তা খুব পছন্দও করে থাকেন। কিন্তু সেভাবে পাঠ করা যে বুদ্ধ নির্দেশ অমান্য করা এবং অশুদ্ধ উচ্চারণ সে দিকে কেহ বিবেচনাও করেননা। তিনি পালি অশুদ্ধ উচ্চারণে গানের মত করে আবৃত্তি করছেন শুনে আমার বিরক্তিবোধ হচ্ছিল।
অন্যান্য বৌদ্ধ দেশে শুদ্ধ উচ্চারণে শ্রুতিমধুর করে যেভাবে পাঠ করা হয়, সেরকম আমাদের দেশের ভিক্ষুরা উচ্চারণে মাত্রাজ্ঞান না থাকার দরুণ শ্রুতিমধুর করে আবৃত্তি করতে পারেননা। এদিকে আমাদের যথেষ্ট দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে।
পাঁচ প্রকার শুভকথা
মূল পোস্ট: ভিক্ষু বিবেকাজ্যোতি
১|| যথাযথ সময়ে বলা।
২|| সঠিক নির্ভূল কথাকে বলা।
৩|| শ্রুতিমধুর কথাকে বলা।
৪|| মঙ্গল হয় এমন কথা বলা।
৫|| মৈত্রী চিত্ত রেখে বলা।
(অঙ্গু-২, ২১২)
মৈত্রীসূত্রে বর্ণীত ১৫-প্রকারের আচরণ—
১। সক্কো চ— সঠিক আচরণে সামর্থ্যবান হতে হবে।
২। উজু চ— কায়িক বাচনিকভাবে সহজ সরল হতে হবে।
৩। সুহুজু চ— সঠিক ও যথাযথভাবে সহজ-সরল হতে হবে।
৪। সূৰচো চ— প্রজ্ঞানবাদের শাসনে দমিত হতে হবে।
৫। মুধু চ— মনমানসিকতা কোমল হতে হবে।
৬। অনতিমানি— অতিমান অহঙ্কারহীন হতে হবে।
৭। সন্তুস্সকো চ— সন্তুষ্টি থাকতে হবে।
৮। সুভরো চ— জীবনজীবিকায় সহজ-সরল হতে হবে।
৯। অপ্পকিচ্চো চ— অল্প কৃত্য সম্পন্ন হতে হবে।
১০। সল্লাহুকৰুত্তি চ— সহজ-সরল জীবনযাপন হতে হবে।
১১। সন্তিন্দ্রিয়ো চ— ইন্দ্রীয়সমূহ শান্ত, দমিত হতে হবে।
১২। নিপাকো চ— প্রজ্ঞাবান হতে হবে।
১৩। অপ্পগম্ভো চ— কর্কশতাহীন হতে হবে।
১৪। কুলেস্ব ননুগিদ্ধো— দায়ক-দায়িকাদের সহিত বন্ধনহীন হতে হবে।
১৫। ন চ খুদ্দ মাচরে কিঞ্চি, য়েন ৰিঞ্ঞূ পরে উপৰদেয়্যুং— প্রজ্ঞাবান কর্তৃক নিন্দিত এমন কোন দুঃচরিত কর্ম সম্পাদন না করা।
সূত্র:
করণীয়মেত্তসুত্তং পাল়ি, খুদ্দকপাঠ পাল়ি
ভদন্ত ৰিৰেকাজোতি
২৫৬৭ শাসনবর্ষ
০৩.০৩.২০২৪ খ্রিঃ
য়ানগুন, মিয়ানমার
22/01/2024
In a hostile environment, start from your side and try to be someone who can love.
No matter how aggressive the other side is, as long as there is love on your side, the heat of his anger cannot affect you.
Ven. AbhayāLankāra (MahāViharavāsi)
ရန်လိုနေတဲ့ ပတ်ဝန်းကျင်မှာ ကိုယ့်ဘက်က စပြီး မေတ္တာထားနိုင်သူ ဖြစ်အောင် ကြိုးစားကြည့်။
တစ်ဘက်က ဘယ်လောက်ပဲ ရန်လိုနေပါစေ ကိုယ့်ဘက်က မေတ္တာရှိနေသရွေ့ သူ့ရဲ့ ဒေါသအပူက ကိုယ့်ကို မရိုက်ခတ်နိုင်ဘူး။
အရှင်အဘယာလင်္ကာရ (မဟာဝိဟာရဝါသီ)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Patiya
Chittagong
4600