Sharana-Gamana

Sharana-Gamana আমি ভিক্ষু নই, একজন ত্রিশরণাগত 🍂গৃহী উপাসক🍂
❇️বুদ্ধ ধর্ম এবং আর্য সংঘ❇️ ব্যাতীত আমার অন্য কোন শরণ নাই।

বুদ্ধ ধর্ম সংঘ বিনা কোন শরণ নাই।
ভিক্ষু সংঘ ব্যতীত কোন গৃহী বা দেবতা, যক্ষা, কিন্নর, নাগ ইত্যদি এদের শরণ নিলে ত্রিশরণ ভংগ হয়।

💐ভান্তে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সকাল ১১:১০ মিনিটে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত Grandhantha International Hospital  এ...
19/09/2026

💐ভান্তে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সকাল ১১:১০ মিনিটে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত Grandhantha International Hospital এ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।💐

🍂ভগবান বুদ্ধ বলেছেন, জাগতিক সুখ-সমৃদ্ধি এবং পারলৌকিক (আধ্যাত্মিক) সুখ-সমৃদ্ধির কথা ভগবান বুদ্ধের ধর্মে রয়েছে, বুদ্ধ তা দেশনা করেছেন।
সুতরাং, পারলৌকিক সুখ-সমৃদ্ধি অর্থাৎ মার্গ জ্ঞান ও ফল জ্ঞান লাভ করতে চাইলেও কি বুদ্ধের ওপরই নির্ভর করতে হবে না?

আবার জাগতিক সুখ-সমৃদ্ধি অর্থাৎ যারা পাপমুক্ত, সৎ এবং সুখে জীবনযাপন করতে চায়, তাদেরও বুদ্ধ ও ধর্মের ওপরই নির্ভর করতে হবে। তাই নয় কি?

,🍂ত্রিরত্নের (বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ) ওপরই নির্ভর করতে হবে।
আচ্ছা, তাহলে বর্তমান যুগে কি আত্মিক গুরু, দেবী, আত্মা বা ভূত-প্রেতের পূজা করা হয় না? (হয়, ভান্তে)
সেগুলো কীসের জন্য পূজা করা হয়? পদোন্নতি পেতে, পদাবনতি না হতে, তাই না? ব্যবসা ভালো হতে, ধনী হতে, বিখ্যাত হতে—তাই নয় কি? (হ্যাঁ, ভান্তে)
সেগুলো কি জাগতিক নাকি পারলৌকিক? (জাগতিক, ভান্তে)

🍂সেগুলোর জন্যই তো অং মিন খং-এর পূজা করা হয়, বো মিন খং-এর পূজা করা হয়, তাই না? বো বো অং-এরও পূজা করা হয়।

থুরাথাদি (সরস্বতী দেবীর বর্মী রূপ)-এর কি পূজা করা হয় না? (পূজা করা হয়, ভান্তে) ঙা-ইয়ান থাত্তি (আরেকটি লোকজ প্রথা)-র কি পূজা করা হয় না? (পূজা করা হয়, ভান্তে) হ্যাঁ? ঙা-ইয়ান থাত্তির কি পূজা করা হয় না? (কেউ কেউ বলে) না, করা হয় না।

🍂বিভিন্ন আত্মা, দক্ষিণের দেবী, উত্তরের দেবী—সব মিলিয়ে অনেক আছে, তাই না? গুণে শেষ করা যাবে না। পূজা করা মানেই তো তাদের প্রতি বিশ্বাস ও ভক্তি রাখা, তাই নয় কি? (সত্যি, ভান্তে)

তাহলে, যারা ওগুলোতে বিশ্বাস ও ভক্তি রাখে, তাদের কি বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও ভক্তি থাকে? (না, থাকে না, ভান্তে) বিশ্বাস কি কমে যায় না? (কমে যায়, ভান্তে) হ্যাঁ, কমে যায়। কমে গেলে তাদের কি আর প্রকৃত বৌদ্ধ বলা যাবে? (যাবে না, ভান্তে) ঘরে ন্যাট (আত্মা)-এর জন্য নারকেল ঝুলিয়ে, নৈবেদ্য সাজিয়ে রাখে, তাই না? তারা কি বৌদ্ধ? না।

🍂শোনো, প্রকৃত বৌদ্ধ হলে যে কারণেই হোক, জাগতিক উন্নতির জন্যই হোক বা পারলৌকিক সুখ-সমৃদ্ধির জন্যই হোক, কেবল ত্রিরত্নের ওপরই নির্ভর করতে হবে। নির্ভর করা মানে হলো বিশ্বাস ও ভক্তি থাকতে হবে, এবং সেই বিশ্বাস ও ভক্তি অনুযায়ী আচরণও করতে হবে।
'অসেবনা চ বালানং' অর্থাৎ মূর্খদের সাথে না মেশার কথা বলা হয়েছে, তাই মূর্খদের সাথে মেশা যাবে না। মিশলে তো বিপদে (জেলে) পড়তে হবে। তাই নয় কি? মারও খেতে হবে, খুনও হতে পারে। সেটা কি উন্নতি নাকি অবনতি? (অবনতি, ভান্তে) কেন উন্নতি হয় না? বুদ্ধের দেশনা অনুযায়ী না চলার কারণেই তো, তাই নয় কি?
একইভাবে, বুদ্ধের সামনে অনেক নৈবেদ্য সাজিয়ে, শ্যাম্পেন বা অন্য কিছু রেখে, তারপর যদি কেউ মূর্খদের সাথে মেশে, তবে তার অবস্থা কেমন হবে? ওই নৈবেদ্যগুলো কি তাকে বাঁচাবে? (বাঁচাবে না, ভান্তে) সে কোথায় যাবে? জেলে যাবে, মরবে, আর শেষমেশ মরলে অপায়ে (নরকে/দুর্গতিতে) যাবে, এমনটা নয় কি? (সত্যি, ভান্তে) কারণ সে প্রকৃত বৌদ্ধ নয়, তার শরণাগতি (ত্রিরত্নের আশ্রয়) দৃঢ় নয়, তাই না? (সত্যি, ভান্তে) শরণাগতি দৃঢ় না হওয়ার কারণে।

গভীরভাবে চিন্তা করলে মনে হয়, প্রকৃত বৌদ্ধের সংখ্যা আসলে অনেক কম, তাই না? সত্যি কি? নিজের ঘরের দিকেও একটু তাকিয়ে দেখবেন। তাই না?

🍂প্রকৃত বৌদ্ধ হলে, জাগতিক উন্নতির জন্যও ত্রিরত্নই ভরসা, আর পারলৌকিক উন্নতির জন্যও ত্রিরত্নই ভরসা। তবে একটা কথা আছে। ভগবান বুদ্ধের উপদেশ হলো, নিজের ওপর নির্ভর করা। কী বলেছেন? (নিজের ওপর নির্ভর করা, ভান্তে) যা চাও, তা নিজেকেই অর্জন করতে হবে, অন্য কেউ করে দিতে পারবে না। অন্য কেউ কি করে দিতে পারে? (না, পারে না) পারে না।

যা চাও, তা নিজেকেই করতে হবে। অথচ যারা ওই নৈবেদ্যগুলো সাজিয়ে রাখে, তারা তো অন্যের কাছে হাত পেতে চাইছে, তাই নয় কি? 'করে দিন, করে দিন' বলছে, তাই না? তাহলে অন্য কেউ কি সেটা করে দিতে পারে? যা করে দেওয়া সম্ভব নয়, তা বিশ্বাস করা কি ভুল নাকি ঠিক? (ভুল, ভান্তে)

🍂সঠিক বিশ্বাসকে 'সম্যক দৃষ্টি' বলে, আর ভুল বিশ্বাসকে 'মিথ্যা দৃষ্টি' বলে। তাই না? আপনাদের ঘরেও কি এমন নৈবেদ্য সাজানো আছে? (না, নেই, ভান্তে) নৈবেদ্য না থাকলে সেটা কী দৃষ্টি? (সম্যক দৃষ্টি, ভান্তে) আর যদি ওই নৈবেদ্যগুলো থাকে, তবে? (মিথ্যা দৃষ্টি, ভান্তে) তার শরণাগতি দৃঢ় আছে কি নেই? (দৃঢ় নেই, ভান্তে) সে কি প্রকৃত বৌদ্ধ নাকি শুধুই নামের বৌদ্ধ? (নামের বৌদ্ধ, ভান্তে)
ঠিক আছে তো? বুঝতে পেরেছেন? শরণাগতি কী, তা বুঝলেই এই বিষয়গুলো উপলব্ধি করা যাবে। তাই না? শরণাগতি না বুঝলে কি এগুলো উপলব্ধি করা যাবে? (যাবে না, ভান্তে) সেই শরণাগতি কখন নষ্ট হয়, তা যদি বলতে হয়— অন্য কোনো মতবাদে বিশ্বাস ও ভক্তি রাখলে তা নষ্ট হয়ে যায়। তাই না? অন্য মতবাদে বিশ্বাস ও ভক্তি রাখার অর্থই হলো, সে কি আর বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘে বিশ্বাস করে? বিশ্বাস না করলে শরণাগতি কি আর দৃঢ় থাকে? দৃঢ় না থাকলে সে কি বৌদ্ধ? (না, ভান্তে) আর থাকে না।
তাই অন্য মতবাদে বিশ্বাস ও ভক্তি রাখলে শরণাগতি নষ্ট হয়। ঠিক কিনা? কখন শরণাগতি নষ্ট হয়? অন্য কোনো মতবাদে বিশ্বাস ও ভক্তি রাখলে শরণাগতি নষ্ট হয়।

আবার, শরণাগতি নষ্ট হওয়ার আরেকটি কারণ আছে, যা ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর পরও নাকি শরণাগতি নষ্ট হয়ে যায়। কখন নষ্ট হয়? (মৃত্যু হলে নষ্ট হয়, ভান্তে)
শরণাগতি নষ্ট হওয়ার দুটি কারণ রয়েছে। একটি হলো অন্য মতবাদে বিশ্বাস ও ভক্তি রাখলে নষ্ট হয়। আরেকটি হলো মারা গেলে নষ্ট হয়।

🍂তবে এই জীবনে যদি পুণ্যকর্ম করা হয়, আর এই জীবনে যদি শরণাগতি অবিচল থাকে, তবে মারা যাওয়ার পর পরবর্তী জন্মে— এই জীবনের অভ্যাসগুলো তার সাথে থেকে যাওয়ার কারণে, পরবর্তী জন্মেও কি সে শরণাগতি লাভ করতে পারে না? (পারে, ভান্তে) পারে। এই জীবনে যদি পুণ্যকর্ম করা হয়, এবং শরণাগতি যদি কখনও নষ্ট না হয়ে অবিচল থাকে, তবে সেই অভ্যাসের প্রভাবে পরবর্তী জন্মেও সে শরণাগতি লাভ করে বৌদ্ধ হতে পারে।
আর যদি এই জীবনেই শরণাগতি দুর্বল হয়, তবে কি পরজন্মে সেই অভ্যাস যাবে? (যাবে না, ভান্তে) না গেলে পরবর্তী জন্মে কি সে সরাসরি শরণাগতি লাভ করতে পারবে? (পারবে না, ভান্তে) পারবে না। কল্যাণমিত্র বা ভালো বন্ধুদের সংস্পর্শে এলেই কেবল তা হতে পারবে। তাই নয় কি? কল্যাণমিত্র বা ভালো বন্ধুদের সংস্পর্শে আসার পরই তা হতে পারবে।

তাহলে, শরণাগতি নষ্ট হওয়ার কয়টি কারণ রয়েছে? (দুটি, ভান্তে) সেগুলো কী কী? অন্য কোনো মতবাদে বিশ্বাস ও ভক্তি রাখলে নষ্ট হয় বলে মনে রাখবেন। এবং মৃত্যু হলে নষ্ট হয়, ভান্তে। তাহলে চিন্তা করে দেখুন। দোষযুক্ত শরণাগতি নষ্ট হওয়া এবং দোষমুক্ত শরণাগতি নষ্ট হওয়া—এই দুটি ভাগ আছে। কোন ভাবে নষ্ট হলে তা দোষযুক্ত আর কোন ভাবে নষ্ট হলে তা দোষমুক্ত?

অন্য কোনো মতবাদে বিশ্বাস ও ভক্তি রাখলে যে শরণাগতি নষ্ট হয়, সেটা কি দোষযুক্ত? (হ্যাঁ) আর কোনটা দোষমুক্ত? মৃত্যু হলে যে নষ্ট হয়, তাতে কোনো দোষ নেই, ভান্তে। মৃত্যু হলে যে নষ্ট হয়ে যায়, সেটা তো স্বাভাবিক বিষয়, তাই না? এতে কি দোষ আছে? (নেই, ভান্তে) কিন্তু অন্য মতবাদে বিশ্বাস ও পূজা করলে তাতে দোষ আছে। বিশ্বাস ভুল হলে মানসিকতাও কি ভুল হয় না? আচরণও কি ভুল হয় না? ভুল হলে কি পুণ্য হবে নাকি পাপ হবে? (পাপ হবে, ভান্তে) সেই পাপ হওয়াটাকেই তো দোষযুক্ত বলা হয়, তাই নয় কি? ঠিক কিনা?

তাহলে যোগীরা, আপনাদের কখন এই দোষযুক্ত ভাবে শরণাগতি নষ্ট হবে? তা নয়, ভালোভাবে শুনুন। যোগীরা, আপনাদের কখন দোষযুক্ত উপায়ে শরণাগতি নষ্ট হবে? কখনোই নষ্ট হবে না।

🍂নয়টি গুণের পুতিমালার ক্ষেত্রে ১০৮টি দানা দিয়ে জপ করা কি সঠিক, নাকি ৯টি দানার পুতিমালা দিয়ে জপ করা সঠিক, ভান্তে?🍂ভিক্...
18/09/2026

🍂নয়টি গুণের পুতিমালার ক্ষেত্রে ১০৮টি দানা দিয়ে জপ করা কি সঠিক, নাকি ৯টি দানার পুতিমালা দিয়ে জপ করা সঠিক, ভান্তে?

🍂ভিক্ষুর উত্তর:
"ওহ, পুতিমালা ফেলা? বুদ্ধের আমলে পুতি ফেলার কোনো প্রচলন ছিল না। পুতি গোনার মানে হলো এটি মূলত একটি কাউন্টার, কেবল গণনা করা। কতবার জপ করা হলো তা গণনা করা। এটি শুরু হয়েছিল তিব্বত থেকে। তিব্বতিরা তো কতবার হলো সেই সংখ্যা ধরে চলে। এই গণনার পদ্ধতি তিব্বত থেকেই এসেছে। তিব্বতি বৌদ্ধধর্ম থেকেই এর শুরু। থেরবাদ বৌদ্ধধর্মে, বুদ্ধের আমলে এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

🍂সুতরাং, পুতিমালা তারা জাগতিক কাজে ব্যবহার করত। সেই ব্যবহারকেই আমাদের বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থেরবাদ ধ্যানের (কম্মট্ঠান) মধ্যে মিশ্রিত করে ব্যবহার শুরু করেছেন।

🍂বুদ্ধানুস্মৃতি: বুদ্ধের গুণাবলি নিয়ে ভাবা হলো মূলত একটি মানসিক কাজ বা মনোকর্ম। মনের ভেতরে গুণাবলিকে ধারণ করতে হয়। রূপ বা ছবির প্রতি মনঃসংযোগ করা নয়। 'বুদ্ধানুস্মৃতি' বা বুদ্ধের গুণাবলির স্মরণ অনুশীলন করার অর্থ এই নয় যে রূপের ধ্যান করতে হবে, বরং গুণের ধ্যান করতে হবে।

🍂যেমন বুদ্ধের 'অরহং' গুণ। অরহং-এর অর্থ কী তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। এখন মানুষ বোঝে না। মুখে বলছে 'অরহং', আর মন কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তার কোনো ঠিক নেই। এতে পুণ্য তো হয় ঠিকই। কিন্তু এটি প্রকৃত 'বুদ্ধানুস্মৃতি' ধ্যান হয় না।

🍂প্রকৃত বুদ্ধানুস্মৃতি ধ্যান মানে ছবির প্রতি মনোযোগ দেওয়া নয়, বরং গুণাবলির ওপর মনন বা চিন্তা করা। 'অরহং' মানে কী, এটি কেমন—তা বসে বসে ভাবতে হয়। তাহলে নিজের মন এর মধ্যে পুরোপুরি ডুবে যায়। অন্য কিছুর আর কোনো খেয়াল থাকে না। বুদ্ধের যে ক্লেশ বা আসক্তিগুলো নিঃশেষ হয়ে গেছে, সেই প্রকৃতির ওপর সে মনন করতে থাকে। বুদ্ধের মধ্যে কীভাবে লোভ শেষ হয়ে গেল, কীভাবে রাগ শেষ হয়ে গেল, কীভাবে মোহ আর নেই—এই বিষয়গুলো নিয়ে বসে মনন করাই হলো 'অরহং'। এই মনন বা চিন্তা করাটাকেই বলা হয় 'বুদ্ধানুস্মৃতি' অনুশীলন করা।

🍂এখন তো আর তেমন নেই। এখন হলো— 'অরহং' বলে একটা দানা ফেলা। হ্যাঁ, তারপর আরেকটা দানা ফেলা, আরেকটা ফেলা। এগুলো হলো নকল, নকল ধ্যান। এদের বলা যায় আধুনিক যুগের ধ্যান। আসল বুদ্ধানুস্মৃতি ধ্যান এমন নয়। এ কারণেই বড় বড় ভিক্ষুরা বলেন: 'আমরা সারা জীবন পুতিমালা গুনেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি দানাই ফেলতে পেরেছি।'

🍂এর একটি গভীর অর্থ আছে। কেন মাত্র তিনটি দানা? কারণ তিনি যদি 'অরহং' জপ করেন, তবে তিনি ওই একটি 'অরহং' গুণকেই তার মনের ভেতর স্পষ্ট করে তোলার চেষ্টা করেন। মনের ভেতর একটি 'অরহং' গুণকে জাগিয়ে তোলার জন্যই তিনি নিরন্তর চেষ্টা করছেন, যেটা বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করতে হয়।

🍂যখন 'অরহং' গুণ অনুধাবন করতে তিনি সফল হন, তখনই তিনি পরবর্তীটিতে যান—যেমন, 'সম্মাসম্বুদ্ধো'। এই 'সম্মাসম্বুদ্ধো' মানে কী, তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। অর্থ বোঝার পর, সেটিকে তার মনের গভীরে প্রোথিত করে রাখেন। তাই আমাদের যারা বুদ্ধানুস্মৃতি অনুশীলন করবেন, তাদের প্রথমেই অর্থ বোঝার চেষ্টা করতে হবে। অর্থ বুঝে নেওয়ার পরই আমাদের সেই অর্থের ওপর মনন করতে হবে। মন যাতে বিক্ষিপ্ত না হয়, সেই গুণের ওপরই মনকে স্থির রাখতে হবে। এভাবেই আসল বুদ্ধানুস্মৃতি ধ্যানের পদ্ধতি এগোয়।

🍂কিন্তু বর্তমান যুগে তেমনটা হয় না। শুধু মন্ত্রের মতো পাঠ করার প্রবণতা একটু বেশি। এর মানে এই নয় যে পুণ্য হয় না, পুণ্য অবশ্যই হয়। আজকের যুগে যে পুতিমালা গোনা হয়, তাতেও পুণ্য লাভ হয়। তবে এটি যে প্রকৃত 'বুদ্ধানুস্মৃতি' ধ্যান হয় না, আমি সেটাই বলছি। সুতরাং, পুতিমালার বিষয়টি তিব্বত থেকে এসেছে। সংখ্যার ওপর একটু বেশি জোর দেওয়া শুরু হয়েছে।

🍂বুদ্ধানুস্মৃতি অনুশীলনে এরকম সংখ্যা গোনার কোনো ব্যাপার নেই। তবে 'আনাপানা' (শ্বাস-প্রশ্বাসের ধ্যান)-এর ক্ষেত্রে গণনার বিষয়টি আছে। ৪০টি ধ্যানের বিষয়ের মধ্যে কেবল 'আনাপানা'-তেই গোনার নিয়ম আছে। কেবল প্রশ্বাস এবং নিঃশ্বাসই গুনতে হয়। এমনকি এই প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস গোনার কথাও বুদ্ধের মূল বাণীতে নেই। বুদ্ধ গণনা করতে বলেননি। এটি 'বিসুদ্ধিমগ্গ' গ্রন্থের টীকাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বুদ্ধের যুগে এটি একেবারে সাধারণ ছিল। প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস, প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস, কেবল স্বাভাবিকভাবেই। কতবার হলো তা মনে রাখার কোনো দরকার নেই।

🍂পরে বিসুদ্ধিমগ্গ টীকাকার দেখলেন, যাদের একাগ্রতা বা সমাধি খুব দুর্বল, তারা প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস ধরে রাখতে পারে না। মন বিক্ষিপ্ত হয়ে যায় বলে তারা একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন। সেটি হলো, 'গুনে গুনে মনে রাখো'। প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস ১, প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস ২, প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস ৩, প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস ৪—এভাবে। এরপর ১০ পর্যন্ত যাওয়া যায়।

🍂১০-এর বেশি যাওয়া যাবে না। ১০-এর বেশি গেলে মন সংখ্যার দিকে চলে যায়। মন যাতে সংখ্যার দিকে হারিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। ১১, ১২, ১৩, ১৪ বলতে থাকলে মন আর শ্বাসের ওপর থাকে না, সংখ্যার ওপর চলে যায়। 'আমি কত নম্বরে পৌঁছালাম, আর কত নম্বরে পৌঁছাব'—সংখ্যার দিকেই বেশি মনোযোগ চলে যায়। তখন মন আর শ্বাসের দিকে না থেকে সংখ্যার দিকে চলে যাওয়ায় একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই, সংখ্যা গুনলেও যেন ১০-এর বেশি না হয়। এটি টীকাকার নির্ধারণ করে দিয়েছেন।আজকাল তো তা নয়, 'আমি কত পেলাম, কত পেলাম'—সংখ্যার ওপর খুব বেশি জোর দেওয়া হয়।

🍂প্রশ্নকর্তা: পুতিমালা গোনার ক্ষেত্রে সংখ্যাটাকে প্রধান হিসেবে ধরা হয় বলে?

হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক ওই রকমই। সুতরাং মূল গ্রন্থে এরকম কিছু আসেনি। মূল গ্রন্থে বুদ্ধ যা দেশনা করেছেন, তাতে কোনো সংখ্যার কথা নেই। তবে টীকাকার প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস গণনা করার কথা বলেছেন। এবং সেটিও কেবল ১০ পর্যন্তই। ১০ পূর্ণ হলে আবার ১ থেকে শুরু করো। এটাই নিয়ম।

🍂তখন এমন সংকল্প করা যায় যে, '১ থেকে ১০ এর মধ্যে আমার মন কিছুতেই বাইরে যেতে দেব না।' এই দশবারের মধ্যেই মনকে স্থির রাখার চেষ্টা করো। মনকে সংখ্যার ওপর রাখা যাবে না। মনকে শ্বাসের ওপরই রাখতে হবে। ১ থেকে ১০ এর ভেতর মন কোনোভাবেই যেন বাইরে না যায়। যখন সফল হয়ে যাবে, তখন আবার নতুন করে সংকল্প করো। ১ থেকে ১০ পর্যন্ত যেন বাইরে না যায়। এভাবেই করতে হয়। ১০ পূর্ণ হয়ে গেলে ১ থেকেই আবার শুরু। এটাই হলো আনাপানা ধ্যানের মূল অর্থ। আর বর্তমান যুগে নানা ধরনের পদ্ধতি বের হয়ে গেছে, মানুষ নানা কিছু উদ্ভাবন করেছে।"

🍂বুদ্ধ জন্ম মৃত্যু চক্রের তথা সংসারের এবং স্বত্বগণের দুঃখের অনন্ত বিশালতা বুঝাতে অনমতগ্গ সংযুত্তে মাতা পিতা ভাতু, ভগিনী,...
18/09/2026

🍂বুদ্ধ জন্ম মৃত্যু চক্রের তথা সংসারের এবং স্বত্বগণের দুঃখের অনন্ত বিশালতা বুঝাতে অনমতগ্গ সংযুত্তে মাতা পিতা ভাতু, ভগিনী, পুত্ত, ধীতু সূত্রে বলেছেন

❇️"হে ভিক্ষুগণ, এই জন্ম-মৃত্যুরূপ সংসারের আদি বা শুরু জানা যায় না। অবিদ্যার আবরণে আবৃত এবং তৃষ্ণাশৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে এই অনন্ত সংসারে ধাবমান ও বিচরণশীল সত্ত্বগণের উৎপত্তিকাল সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। এই দীর্ঘ অতীতকালের পরিক্রমায় এমন কোনো প্রাণী খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর, যে কখনো তোমার মাতা ছিল না, কিংবা পিতা ছিল না, ভাই ছিল না, বোন ছিল না, অথবা পুত্র বা কন্যা ছিল না। এর কারণ কী? কারণ, হে ভিক্ষুগণ, এই সংসারের কোনো আদি নেই। অবিদ্যা ও তৃষ্ণায় আবদ্ধ হয়ে এই অনাদি অনন্তকাল ধরে জন্ম-মৃত্যুর চক্রে ঘুরতে ঘুরতে তোমরা দীর্ঘকাল যাবৎ কেবল দুঃখ, তীব্র বেদনা ও বিনাশ ভোগ করেছ এবং শ্মশানভূমি বর্ধিত করেছ। অতএব, হে ভিক্ষুগণ, সমস্ত সংস্কারের (জাগতিক বিষয়ের) প্রতি বীতশ্রদ্ধ হওয়ার জন্য, বৈরাগ্য উৎপাদনের জন্য এবং এই চক্র থেকে চিরতরে মুক্ত হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট”❇️

ত্রিপিটকের আলোকে মিথ্যা দৃষ্টি ও সম্যক দৃষ্টি(সূত্র: মহাচত্তারীসক সুত্ত, মজ্ঝিম নিকায় ১১৭)❌ দশবস্তুক মিথ্যা দৃষ্টি (ভ্র...
16/09/2026

ত্রিপিটকের আলোকে মিথ্যা দৃষ্টি ও সম্যক দৃষ্টি
(সূত্র: মহাচত্তারীসক সুত্ত, মজ্ঝিম নিকায় ১১৭)

❌ দশবস্তুক মিথ্যা দৃষ্টি (ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি)
বুদ্ধের মতে, যে দশটি ভ্রান্ত ধারণা মানুষের নৈতিক ভিত্তি ও আধ্যাত্মিক বিকাশকে ধ্বংস করে দেয়:

🔴দানের কোনো ফল নেই।
🔴মহাদানের কোনো ফল নেই।
🔴সম্মান বা সেবার কোনো ফল নেই।
🔴সৎ ও অসৎ কর্মের কোনো নির্দিষ্ট ফল বা পরিণতি (কর্মফল) নেই।
🔴ইহকাল বলতে কিছু নেই।
🔴পরকাল বলতে কিছু নেই (মৃত্যুতেই সব শেষ)।
🔴মাতার প্রতি আচরণের কোনো বিশেষ পুণ্য-পাপ বা কর্মফল নেই।
🔴 পিতার প্রতি আচরণের কোনো বিশেষ পুণ্য-পাপ বা কর্মফল নেই।
🔴মৃত্যুর পর স্বয়ং উৎপন্ন সত্তা (যেমন: দেবতা, ব্রহ্মা, প্রেত, নরকবাসী) বলতে কিছু নেই।
🔴এই জগতে এমন কোনো সম্যক পথে অগ্রসর শ্রমণ বা ব্রাহ্মণ নেই, যাঁরা নিজেদের প্রত্যক্ষ জ্ঞান দ্বারা ইহলোক ও পরলোক স্বয়ং দর্শন করে তা অন্যদের কাছে প্রকাশ করেন বা শিক্ষা দেন।

✅ সম্যক দৃষ্টি (সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি)
বুদ্ধ এই সুত্তে সম্যক দৃষ্টিকে দুটি স্তরে বিভক্ত করেছেন:

১. লৌকিক সম্যক দৃষ্টি (যা পুণ্য সঞ্চয় ও সুগতি দান করে):
🟢দানের ফল আছে।
🟢মহাদানের ফল আছে।
🟢সম্মান বা সেবার ফল আছে।
🟢সৎ ও অসৎ কর্মের নির্দিষ্ট ফল বা পরিণতি (কর্মফল) আছে।
🟢ইহকাল বলতে কিছু আছে।
🟢পরকাল বলতে কিছু আছে।
🟢মাতার প্রতি আচরণের পুণ্য-পাপ বা কর্মফল আছে।
🟢 পিতার প্রতি আচরণের পুণ্য-পাপ বা কর্মফল আছে।
🟢মৃত্যুর পর স্বয়ং উৎপন্ন সত্তা (যেমন: দেবতা, ব্রহ্মা, প্রেত) আছে।
🟢এই জগতে এমন সম্যক পথে অগ্রসর শ্রমণ বা ব্রাহ্মণ আছেন, যাঁরা নিজেদের প্রত্যক্ষ জ্ঞান দ্বারা ইহলোক ও পরলোক স্বয়ং দর্শন করে তা অন্যদের কাছে শিক্ষা দেন।

২. লোকোত্তর সম্যক দৃষ্টি (যা সরাসরি নির্বাণের পথে নিয়ে যায়):
যখন সাধক সমস্ত জাগতিক আসক্তি বা ক্লেশ থেকে মুক্ত হয়ে সঠিক পথে অনুশীলন করেন, তখন তাঁর চিত্তে যে উপাদানগুলোর উদয় হয়:

🟢প্রজ্ঞা: সত্যকে জানার তীক্ষ্ণ জ্ঞান বা চতুরার্য সত্য দর্শন।
🟢প্রজ্ঞেন্দ্রিয়: ইন্দ্রিয় হিসেবে প্রজ্ঞার আধিপত্য বা নিয়ন্ত্রণ।
🟢প্রজ্ঞাবল: প্রজ্ঞার অটুট শক্তি।
🟢সত্যের অন্বেষণ: বোধি বা মুক্তির একটি অঙ্গ হিসেবে 🟢পরমার্থ সত্যের অন্বেষণ বা বিশ্লেষণ।
🟢মার্গাঙ্গ সম্যক দৃষ্টি: আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের একটি অঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত চূড়ান্ত সম্যক দৃষ্টি।

বৌদ্ধ দর্শনে 'চিত্ত' বা মনের তিনটি বিশেষ অবস্থার কথা বলা হয়— প্রতিসন্ধি চিত্ত, ভবঙ্গ চিত্ত এবং চ্যুতি চিত্ত। শুনতে খুব ...
16/09/2026

বৌদ্ধ দর্শনে 'চিত্ত' বা মনের তিনটি বিশেষ অবস্থার কথা বলা হয়— প্রতিসন্ধি চিত্ত, ভবঙ্গ চিত্ত এবং চ্যুতি চিত্ত।

শুনতে খুব তাত্ত্বিক মনে হলেও, প্রখ্যাত বার্মিজ ধর্মগুরুদের দেশনার আলোকে বিষয়টি আসলে অত্যন্ত চমৎকার এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথেই গভীরভাবে জড়িত।

চলুন, খুব সহজে বিষয়গুলো জেনে নিই:

১. প্রতিসন্ধি চিত্ত (Re-linking Consciousness):
কোনো প্রাণীর অতীত জীবন শেষ হওয়ার পর, নতুন জীবনে পদার্পণ করার ঠিক প্রথম মুহূর্তেই যে চিত্তটির উদয় হয়, তাকে 'প্রতিসন্ধি চিত্ত' বলে। অর্থাৎ, এটি হলো অতীত জীবনের সাথে নতুন জীবনকে যুক্ত করার সেতু বা প্রথম চেতনা।

২. ভবঙ্গ চিত্ত (Life-continuum Consciousness):
জীবনের প্রথম চিত্ত বা প্রতিসন্ধি উৎপন্ন হওয়ার পর, তার অনুরূপ হয়ে যে চিত্তগুলো আমাদের জীবনজুড়ে ধারাবাহিকভাবে উৎপন্ন হতে থাকে, তাকে 'ভবঙ্গ চিত্ত' বলে।

এর কাজ কী? এটি আমাদের চোখ বা কান দিয়ে গ্রহণ করা বাইরের কোনো বিষয়ের ওপর প্রতিক্রিয়া দেখায় না। এটি মূলত একটি 'নিষ্ক্রিয়' বা প্যাসিভ মাইন্ড।

আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি বা অচেতন অবস্থায় থাকি, তখন আমাদের বাইরের জগৎ সম্পর্কে কোনো হুঁশ থাকে না, কিন্তু আমাদের জীবন চলতে থাকে। এই সময়ে আমাদের ভেতরে যে চিত্তটি কাজ করে, সেটিই হলো ভবঙ্গ চিত্ত। এটি কেবল অতীত জীবনের শেষ মুহূর্তের বিষয়টিকে ধারণ করে নীরবে কাজ করে যায়।

৩. চ্যুতি চিত্ত (Death Consciousness):
জীবনের একেবারে শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে যে চূড়ান্ত চিত্তটি উৎপন্ন হয়ে বিলীন হয়ে যায়, তাকেই 'চ্যুতি চিত্ত' বলে।

💡 একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: কর্মের ফল
দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিসন্ধি, ভবঙ্গ এবং চ্যুতি— এই তিনটি চিত্তই হলো আমাদের একটি সম্পূর্ণ জীবনকালের (Lifespan) অতীত কর্মের ফল (Kamma-resultant)। এগুলো আমাদের কর্মের কারণেই সৃষ্টি হয়।

💡 একটি চমৎকার উদাহরণ: ইসিজি (ECG) মেশিন
হাসপাতালে ইসিজি (ECG) মেশিনের মনিটরের দিকে তাকালে দেখবেন সেখানে একটি সোজা শান্ত রেখা চলতে থাকে। যখন কোনো স্পন্দন বা বাইরের আঘাত আসে, তখন রেখাটি ওঠানামা করে।
আমাদের জীবনে 'ভবঙ্গ চিত্ত' হলো সেই শান্ত ও স্থির সোজা রেখাটির মতো। আর যখন আমরা জেগে থাকি এবং চোখ-কান দিয়ে বাইরের জগতের বিষয়গুলো গ্রহণ করি, তখন চিত্তটি সক্রিয় হয়ে ওঠে (যাকে 'বীথি চিত্ত' বা Active mind বলে), ঠিক যেমন মনিটরের রেখাটি লাফিয়ে ওঠে।
জীবনের শুরুতে এই রেখাটি যেখান থেকে শুরু হয়, সেটিই 'প্রতিসন্ধি'। আর জীবনের শেষে রেখাটি যেখানে গিয়ে শেষ হয়, সেটিই 'চ্যুতি'।

💡 একই চিত্তের ভিন্ন নাম কেন?
প্রশ্ন আসতে পারে, চ্যুতি চিত্ত কি তাহলে একাই সংসার চক্রে ভ্রমণ করতে থাকে? উত্তর হলো— না।
প্রতিসন্ধি, ভবঙ্গ এবং চ্যুতি— এগুলো সবই মূলত একই ধরনের চিত্ত বা চেতনা। কিন্তু সময় ও কাজের ওপর ভিত্তি করে এদের নাম আলাদা হয়।

ধরুন, একজন ব্যক্তি যখন অফিসে কাজ করেন, তখন তাকে বলা হয় 'ম্যানেজার'। কিন্তু সেই একই ব্যক্তি যখন বাসায় ফিরে রান্না করেন, তখন তাকে হয়তো 'রাঁধুনি' বলা হয়। মানুষটি একই, কিন্তু কাজের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তাকে আলাদা নামে ডাকা হচ্ছে।

ঠিক তেমনি, চিত্ত মূলত একটিই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যখন এটি জীবনের শুরুতে কাজ করে, তখন তার নাম 'প্রতিসন্ধি'; যখন এটি জীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তখন 'ভবঙ্গ'; আর যখন জীবনের সমাপ্তি টানে, তখন তার নাম হয় 'চ্যুতি'।

মূল ভিডিও: https://www.youtube.com/watch?v=7i9OQPM56Qo&t=28s

🟥প্রতিরূপক বা নকল ধর্ম:জনৈক ভিক্ষুর দাবী:"আমি আমার প্রতিটি চিন্তার উৎপত্তিকে আমার জন্ম বলি। সেই চিন্তা যতক্ষণ চলতে থাকে,...
15/09/2026

🟥প্রতিরূপক বা নকল ধর্ম:
জনৈক ভিক্ষুর দাবী:
"আমি আমার প্রতিটি চিন্তার উৎপত্তিকে আমার জন্ম বলি। সেই চিন্তা যতক্ষণ চলতে থাকে, ততক্ষণকে সংসরণ বা সংসার বলে জানি। সেই চিন্তার সমাপ্তিকে মৃত্যু বলে জানি।"

ভগবান বুদ্ধ এ বিষয়ে মূলত কী বলেছেন? ত্রিপিটকের আলোকে আসুন সেটাই জানি:

🍂সঙ্খত ধর্ম কী?
চিত্তের উৎপত্তির হেতু ফল বোঝাতে ত্রিপিটকের অভিধর্মে একটি চিত্তের তিনটি ক্ষণের কথা বলা হয়েছে:
১. উপ্পাদ - উৎপাদ/উৎপত্তি বা সূচনা
২. ঠিতি - স্থিতি
৩. ভঙ্গ - বিলয় বা সমাপ্তি।

এসব হল শর্তযুক্ত বস্তুর বৈশিষ্ট্য। ত্রিপিটক অনুযায়ী এগুলো সবই হলো সঙ্খত ধর্ম। অর্থাৎ, এগুলো তৃষ্ণা, অবিদ্যা এবং পারিপার্শ্বিক কারণের দ্বারা শর্তযুক্ত বা সৃষ্ট।

🍂'অসঙ্খত ধর্ম':
বৌদ্ধ দর্শনে 'অসঙ্খত ধর্ম' বলতে শুধুমাত্র একটি জিনিসকেই বোঝায় আর তা হলো নির্বাণ। নির্বাণের ক্ষেত্রে কোনো নতুন চিন্তার বা চেতনার জন্ম হয় না, তার বিনাশও হয় না, এবং তার কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তনও নেই। এটি এক চূড়ান্ত, পরম এবং অপরিবর্তনীয় শান্ত অবস্থা।

🟥সংসরণ শব্দের অর্থই হল ঘুরে বেড়ানো, চলাচল করা, এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় গমন করা বা প্রবাহমান থাকা। সেখানে স্থিতি কীভাবে সংসার হয়?

ত্রিপিটকের সুত্তপিটকে সংসারকে বলা হয়েছে "অনমতগ্গ বা অন্তহীন গতির প্রবাহ"। যেখানে অজ্ঞতার কারণে সত্তারা এক লোক থেকে অন্য লোকে, এক জন্ম থেকে অন্য জন্মে বারবার যাতায়াত করে। পালি সাহিত্যে একে বলা হয়েছে—“সংসারবট্ট” বা “বট্ট”, মানে এই জগৎ বা সংসার হলো আবর্তময়।

ঠিতস্স অঞ্ঞথত্তং পঞ্ঞায়তি
স্থিতির অন্যথাত্ব (পরিবর্তন) প্রজ্ঞাপিত হয়।
এখানে বুদ্ধ স্থিতিকে স্থিরতা বলেননি, বলেছেন ‘অঞ্ঞথত্তং’ যার অর্থ অন্যথাত্ব বা বিকৃতি বা সহজ ভাষায় পরিবর্তন।

অর্থাৎ, একটি চিন্তা উৎপন্ন হওয়ার পর বিনাশ হওয়ার দিকে যে ঝুঁকে পড়ছে বা তার যে বিকৃতি ঘটছে, সেই বিকৃতির সময়কালটাই হলো স্থিতি। অভিধর্মের ভাষায় একে ‘ক্ষণিক জরা’ বলা হয়। চিন্তাটি উৎপন্ন হয়ে বুড়িয়ে যাচ্ছে (স্থিতি) এবং মারা যাচ্ছে (ভঙ্গ)।

🍂'সন্ততি প্রজ্ঞপ্তি' বা ধারাবাহিকতার বিভ্রম:
যেমন একটি জ্বলন্ত মশালকে দ্রুত ঘোরালে একটি আগুনের বৃত্ত বলে মনে হয়, ঠিক তেমনি চিত্তের অতি দ্রুত উৎপাদ ও ভঙ্গের কারণেই চিন্তাকে একটি দীর্ঘস্থায়ী চলমান প্রক্রিয়া বলে মনে হয়।

🟩উৎপত্তি, স্থিতি, সমাপ্তি- এগুলো হল সংসারের উপাদান। এই তিনটির মিলনে যেই আবর্তন বা চক্র চলতে থাকে তাকেই সংসার বলা হয়। সেই চক্রকে অস্বীকার করে চক্রের একটি উপাদানকে যে সংসার বলে প্রচার করে, সে বুদ্ধের শিক্ষার বিপরীত ভাষণ করছে।

তার লেখা খেয়াল করলে দেখবেন বুদ্ধ যেকোনো জিনিস বোঝাতে নির্দিষ্ট পরিভাষা ব্যবহার করেছেন।
যেমনটি আগে দেখলাম উপ্পাদ, ঠিতি, ভঙ্গ— এগুলো হলো সংসারের ক্ষুদ্রতম উপাদান বা ক্ষণিক অবস্থা।

এখন বোঝানোর জন্য আপনি অন্য পরিভাষা বা রূপক অবশ্যই ব্যবহার করতে পারবেন, সেই অধিকার যে কারোরই আছে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা হয় যা মূল ভাব বা পরমার্থ সত্যকে বিকৃত করে দেয়।

উৎপত্তিকে আপনি ক্ষণিক জন্ম বলতে পারবেন, কিন্তু সরাসরি 'জন্ম' প্রতিশব্দ ব্যবহার এখানে ভুল অর্থ বহন করে। তদ্রূপ ঠিতির ক্ষেত্রেও ক্ষণিক জরা, ভঙ্গের ক্ষেত্রেও ক্ষণিক মৃত্যু প্রযোজ্য হবে।

মহাসতিপট্ঠান সূত্র এবং ধম্মচক্কপ্পবত্তন সূত্র অনুযায়ী, বুদ্ধ 'জন্ম' (জাতি) বলতে পঞ্চস্কন্ধের প্রাদুর্ভাব বা মাতৃগর্ভে নতুন অস্তিত্ব লাভকে বুঝিয়েছেন (খন্ধানং পাতুভাবো)। আর 'মৃত্যু' (মরণ) বলতে পঞ্চস্কন্ধের চূড়ান্ত বিনাশ বা শরীরের আয়ু শেষ হওয়াকে বুঝিয়েছেন (খন্ধানং ভেদো)।

🟥একটি চিন্তার স্থায়িত্বকালই যদি সংসার হতো, তবে এর অর্থ দাঁড়ায়— চিন্তাটি শেষ হলেই সংসার শেষ। অর্থাৎ চিন্তাশূন্য অবস্থা যা হলো নির্বাণ বা মুক্তি! কিন্তু প্রকৃত অর্থে এটি একটি ঘোরতর মিথ্যা দৃষ্টি।

সংযুক্ত নিকায়ের 'অনমতগ্গ সংযুক্ত'-এ ভগবান বুদ্ধ বলেছেন, এই সংসারের কোনো আদি বা শুরু খুঁজে পাওয়া যায় না। অবিদ্যা দ্বারা আবৃত হয়ে প্রাণীরা জন্ম-জন্মান্তর ধরে এই চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে। এই বিশাল মহাজাগতিক ও কর্মভিত্তিক চক্রকে কেবলমাত্র একটি 'মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা' বা সাইকোলজিক্যাল প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা সদ্ধর্মের চরম অবমাননা।

আধুনিক যুগে 'জেন ফিলোসফি' বা নব্য-আধ্যাত্মিকতার নামে এ ধরনের চটকদার ও কাব্যিক কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব দ্রুত ভাইরাল হয় ঠিকই, কিন্তু এগুলো বুদ্ধের মূল দেশনা নয়। এগুলোকে শাস্ত্রে 'সদ্ধর্ম প্রতিরূপক' (নকল ধর্ম) বলা হয়েছে। সদ্ধর্মকে রক্ষা করতে হলে পরিভাষার সঠিক ব্যবহার ও শাস্ত্রীয় অধ্যয়নের কোনো বিকল্প নেই।

🍂জন্মান্তর: হিন্দু ও বৌদ্ধ দর্শনের পার্থক্যনতুন জীবনে পুনরায় জন্মগ্রহণ করার বিষয়ে ভগবান বুদ্ধের দেশনায় 'পুনর্ভব' শব্দ...
15/09/2026

🍂জন্মান্তর: হিন্দু ও বৌদ্ধ দর্শনের পার্থক্য
নতুন জীবনে পুনরায় জন্মগ্রহণ করার বিষয়ে ভগবান বুদ্ধের দেশনায় 'পুনর্ভব' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্রে বলা হয়েছে, 'ইয়া-য়ং তণহা পোনোভবিকা'— এই তৃষ্ণাই পুনরায় ভব বা জীবন সৃষ্টি করে। তৃষ্ণাকে এমন একটি ধর্ম হিসেবে দেশনা দেওয়া হয়েছে যা নতুন জীবন তৈরি করে এবং এক জীবন থেকে অন্য জীবনে বহন করে নিয়ে যায়। কর্মের বিষয়েও বুদ্ধ বলেছেন, কর্ম ভবগামী (ভবে নিয়ে যায়)। জন্মান্তর বুঝাতে ভগবান বুদ্ধ 'ভব' (অস্তিত্ব) শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

🟥সাধারণ বৌদ্ধদের পক্ষে এই বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুব কঠিন, কারণ অন্য ধর্মের সাথে এটি মিশে গিয়ে খুব ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। নতুন জীবন লাভের কথা শুধু বৌদ্ধধর্মেই আছে তা নয়, ভারতের হিন্দু ধর্মেও এটি আছে। পার্থক্য না বুঝলে সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হবে সবই এক। হিন্দু ধর্মও সংসার এবং কর্মের কথা বলে। কিন্তু কথা হল, হিন্দু ধর্মে সংসার চক্রে কে ঘোরে?

🟥তাদের মতে, ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্ট একটি চিরস্থায়ী 'আত্মা' সংসার চক্রে ঘুরে বেড়ায়। সেই আত্মায় রূপ এবং নামও রয়েছে, যা তাদের ব্রহ্মা সৃষ্টি করেছেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এ কারণে এই দর্শন ও বুদ্ধের শিক্ষার সাথে পার্থক্য করা খুব কঠিন হয়ে দাড়ায়।
তারা দেহান্তর বা 'অবতার' বা পুনর্জন্ম বলতে বোঝায় যে, একটি আত্মা পুরনো জরাজীর্ণ দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহে যায় এবং কর্ম সেই দেহ নির্বাচন করে।

🟩কিন্তু বৌদ্ধধর্মে ঈশ্বর বা চিরস্থায়ী আত্মা বলে কিছু নেই যা এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়। তাই থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম দেহান্তর বা আত্মার স্থানান্তরকে সরাসরি অস্বীকার করে। বৌদ্ধধর্মে চিরস্থায়ী সত্তা নেই, আছে কেবল অনিত্য বা পরিবর্তনশীল ধর্মের ধারাবাহিকতা।

🟥ভিক্ষু সাতির ভ্রান্ত ধারণা ও প্রতীত্যসমুৎপাদ:
বুদ্ধের সময়ে সাতি নামের এক ভিক্ষু ছিলেন। তিনি মনে করতেন, মানুষের ভেতরে থাকা 'বিজ্ঞান' বা চেতনা কথা বলে, অনুভব করে এবং এই বিজ্ঞানই অবিকৃত অবস্থায় এক জন্ম থেকে অন্য জন্মে পরিভ্রমন করে। তিনি হিন্দু দর্শনের মতোই বিজ্ঞানকে একটি অপরিবর্তনশীল সত্তা হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন, যা চোখ-কানকে ব্যবহার করে মাত্র।

🟩বুদ্ধ তাকে ডেকে বলেছিলেন, "আমি কি এভাবেই ধর্ম শিখিয়েছি? বিজ্ঞান বা চেতনা অকারণে উৎপন্ন হয় না। কারণ ছাড়া বিজ্ঞানের অস্তিত্ব নেই ।" বুদ্ধ বোঝালেন— চোখ এবং রূপের মিলনে 'চক্ষুবিজ্ঞান' বা দেখার চেতনা তৈরি হয়, কান ও শব্দের মিলনে 'শ্রোত্রবিজ্ঞান' তৈরি হয়। এই বিজ্ঞানগুলো চিরস্থায়ী নয়, কারণ উৎপন্ন হওয়ার পরমুহূর্তেই এগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। যা উৎপন্ন হয়েই ধ্বংস হয়ে যায়, তা কীভাবে এক জীবন থেকে অন্য জীবনে ভ্রমণ করবে?

🍂আত্মার স্থানান্তর বনাম কারণ-ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয় আত্মা এক দেহ থেকে অন্য দেহে যায়, যেমন মানুষ এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যায়। তারা বুদ্ধকেও বিষ্ণুর নবম অবতার হিসেবে দাবি করে। কিন্তু বুদ্ধ স্পষ্ট বলেছেন, ধূলিকণার সমান কোনো ক্ষুদ্র বস্তুও চিরস্থায়ী নয়। রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞান— এই পঞ্চস্কন্ধের কোনোটিই আত্মা নয়, এর বাইরেও কোনো আত্মা নেই।

🟥অনেকে মনে করে মৃত্যুর পর আত্মা শরীর থেকে বেরিয়ে নতুন শরীর খোঁজে। এটি বৌদ্ধ দর্শন নয়। বৌদ্ধধর্মে 'উ পা' নামের কোন ব্যক্তি মারা গেলে এবং 'মং হ্লা' নামের ব্যক্তি জন্ম নিলে, 'উ পা' সরাসরি 'মং হ্লা' হয়ে যায় না। বরং তাদের মধ্যে কারণ ও ফলাফলের সম্পর্ক থাকে। এটি একই লাইনে ঘটা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া মাত্র। যেমন— 'A' অক্ষর শেষ হওয়ার পর 'B' আসে, 'B' শেষ হলে 'C' আসে। 'A' রূপান্তরিত হয়ে 'B' হয় না, বরং আগেরটির কারণে পরেরটি উৎপন্ন হয়।

🍂নতুন জীবন সৃষ্টির তিনটি কারণ ও মৃত্যুর মুহূর্ত:
বুদ্ধ বলেছেন, নতুন জীবন সৃষ্টির প্রধান কারণ তিনটি: অবিদ্যা, তৃষ্ণা এবং কর্ম। অবিদ্যা সত্যকে ঢেকে রাখে, তৃষ্ণা আসক্তি তৈরি করে এবং কর্ম নতুন জীবন গঠনে ধাক্কা দেয়। মৃত্যুর মুহূর্তে যখন মানুষের 'চ্যুতি চিত্ত' উপস্থিত হয়, তখন তার সারাজীবনের করা কর্ম, কর্মের সংকেত (কর্ম নিমিত্ত) বা গতির সংকেত (গতি নিমিত্ত) তার মনের সামনে ভেসে ওঠে। অবিদ্যার কারণে মানুষ সেই বিষয়গুলোর সত্যতা বুঝতে পারে না এবং তৃষ্ণার কারণে সেই সংকেতগুলোর প্রতি আসক্ত হয়। ঠিক তখনই পূর্বের কর্মশক্তি তাকে নতুন একটি ভবের(অস্থিত্বের) দিকে ঠেলে দেয়।

🍂চ্যুতি চিত্ত থেকে প্রতিসন্ধি চিত্তের উৎপত্তি ও নির্বাণ:
পূর্ববর্তী জীবনের শেষ চিত্ত বা 'চ্যুতি চিত্ত' যখন ধ্বংস হয়, ঠিক তখনই নতুন 'প্রতিসন্ধি চিত্ত' (জন্ম-চেতনা) উৎপন্ন হয়। প্রথমটির ধ্বংসই দ্বিতীয়টির উৎপত্তির কারণ। যাকে আমরা অনন্তর প্রত্যয় বলে জানি। এখানে এক দেহ থেকে কোনো আত্মা অন্য দেহে যায় না, বরং কর্মের শক্তির ফলে নতুন চিত্তের ধারা শুরু হয়।

🍂বুদ্ধ ও অর্হৎগণ তাঁদের মন থেকে অবিদ্যা ও তৃষ্ণাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছেন। অবিদ্যা না থাকায় কোনো কিছু ঢাকা থাকে না, তৃষ্ণা না থাকায় কোনো আসক্তি তৈরি হয় না। তৃষ্ণা ও অবিদ্যা ধ্বংস হয়ে গেলে, অতীত কর্ম থাকলেও তা নতুন জীবন তৈরি করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যেমন কাঁকড়ার পা ভেঙে দিলে সে আর হাঁটতে পারে না।

তাই বুদ্ধ বলেছিলেন, "এটিই আমার শেষ জন্ম, নতুন করে আর জন্ম হবে না।"

🟥সুতরাং, বৌদ্ধ ধর্মে দেহান্তর বা আত্মার স্থানান্তর বলে কিছু নেই। যতদিন অবিদ্যা, তৃষ্ণা ও কর্ম থাকবে, ততদিন নতুন জীবন উৎপন্ন হবে। এগুলোকে সমূলে ফেলার মাধ্যমেই পুনর্জন্মের অবসান ঘটে।

দেশনায় ডক্টর আশিন নান্দামালাবিভংশ,
🍂রেক্টর, সিতাগু ইন্টারন্যশনাল বুড্ডিস্ট ইউনিভার্সিটি।
🍂প্রাক্তন অধ্যক্ষ, ইন্টারন্যাশনাল থেরবাদ বৌদ্ধ মিশনারি বিশ্ববিদ্যালয়y (ITBMU)
🍂অভিধজ্জ মহা রত্থ গুরু
🍂অগ্র মহাপণ্ডিত
🍂অগ্র মহা গন্ধবাচক পণ্ডিত
🍂অগ্র মহা সদ্ধম্মজোতিকধজ
🍂শাসনধজ সিরীপবর ধম্মাচার্য
🍂সাক্যসিংহ শাসনালাঙ্কার সমণেক্য
🍂পিএইচডি বৌদ্ধ শিক্ষা মগধ বিশ্ববিদ্যালয় ভারত
🍂এমএ বৌদ্ধ শিক্ষা কেলানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শ্রীলঙ্কা
🍂এস সি জি ধম্মাচার্য
🍂পালি পারগূ

🍂ক্লাসিক্যাল মেকানিক্স হলো পদার্থবিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যা দৃশ্যমান ও তুলনামূলক বড় বস্তু যেমন—একটি চলন্ত গাড়ি, নিক্ষিপ...
14/09/2026

🍂ক্লাসিক্যাল মেকানিক্স হলো পদার্থবিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যা দৃশ্যমান ও তুলনামূলক বড় বস্তু যেমন—একটি চলন্ত গাড়ি, নিক্ষিপ্ত বল, কিংবা গ্রহ-নক্ষত্র গতি এবং তাদের ওপর ক্রিয়াশীল বল নিয়ে আলোচনা করে।

🍂কোয়ান্টাম মেকানিক্স হলো পদার্থবিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যা মহাবিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কণাগুলো যেমন—অণু, পরমাণু, ইলেকট্রন, ফোটন কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে আলোচনা করে।

ত্রিপিটকে বুদ্ধ সবসময় দুই ধরনের সত্যের কথা বলেছেন:

🍂১)পরমার্থ সত্য :
পরমার্থ সত্য হলো জাগতিক মায়ার বাইরের চূড়ান্ত, অপরিবর্তনীয় বা পরম বাস্তবতা। যা কোনো মানুষের দেওয়া নাম, ধারণা বা ভাষার ওপর নির্ভরশীল নয়, তাকে পরমার্থ সত্য বলে। বস্তুর একেবারে ক্ষুদ্রতম, মৌলিক ও প্রকৃত অবস্থাই হলো পরমার্থ সত্য। ত্রিপিটকের অভিধর্ম অনুযায়ী পরমার্থ সত্য মূলত চারটি:
🟩চিত্ত : মন বা চেতনা।
🟩 চৈতসিক : মানসিক অবস্থা বা গুণাবলি (যেমন— লোভ, দয়া, রাগ, প্রজ্ঞা ইত্যাদি)।
🟩 রূপ : জড় পদার্থ বা বস্তুর মৌলিক উপাদান।
🟩 নির্বাণ : দুঃখের চূড়ান্ত অবসান বা পরম শান্তি।

🍂২)সম্মুতি সত্য :
সম্মুতি সত্য বলতে ব্যবহারিক, লৌকিক বা প্রচলিত সত্যকে বোঝায়। আমরা দৈনন্দিন জীবনে একে অপরের সাথে যোগাযোগ ও কাজকর্ম পরিচালনার জন্য যেসব নাম, শব্দ বা ধারণার ব্যবহার করি, তাকেই সম্মুতি সত্য বলে। সম্মুতি সত্যের দৃষ্টিতে যাকে আমরা "মানুষ" বা "ব্যক্তি" বলি, পরমার্থ সত্যের দৃষ্টিতে সেখানে কোনো মানুষ বা ব্যক্তি নেই; সেখানে আছে কেবল পরিবর্তনশীল রূপ এবং চেতনার (চিত্ত ও চৈতসিক) অবিরাম প্রবাহ।

অণু-পরমাণুর অস্তিত্ব যেমন সত্য, তেমনি অগণিত পরমাণু মিলে তৈরি হওয়া বিশাল সমুদ্রের অস্তিত্বও জাগতিকভাবে বা স্থূলভাবে সম্মুতি সত্য বা চরম সত্য। আপনি যখন সমুদ্রে ঝাঁপ দেন, তখন আপনি কিন্তু শুধু পরমাণুর ধারণায় ডুবছেন না, আপনি পানিতেই ডুবছেন।

মনের ভেতরের চিত্তের উৎপত্তি যেমন সত্য, তদ্রুপ গর্ভাশয়ে জন্মগ্রহন ও সত্য।
যেরুপ মনের ভেতরের চিত্তের বিলয় বা মৃত্যু সত্য, তদ্রুপ পার্থিব শরীরের মৃত্যু বা স্কন্ধ ভেদও সত্য।

🍂সঙ্খত ধর্ম
চিত্তের উৎপত্তি হতে শুরু করে ভঙ্গ বা বিলয় হবার যে চক্র তাকে ত্রিপিটকের ভাষায় সঙ্খত ধর্ম বলে। এর তিনটি ধাপ বা ক্ষণ:
১. উপ্পাদ -উৎপাদ/উৎপত্তি বা সূচনা
২. ঠিতি- স্থিতি
৩. ভঙ্গ- বিলয় বা সমাপ্তি।

চিত্তের উৎপত্তি হয়, এটি হলো সূচনালগ্ন বা জন্মের মুহূর্ত, স্থিতি- চেতনাটি ক্ষণিকের জন্য অবস্থান করে। এই অবস্থানও নিত্য নয়, সহসাই তার পরিবর্তন প্রজ্ঞাপিত হয়, ভঙ্গ - স্থিতি অবস্থার পরপরই বস্তুটি বা চেতনাটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। এই তিনটি উপাদানের একটির ভঙ্গের মাধ্যমেই আরেকটি নতুন উৎপত্তির পথ তৈরি হয়।

তদ্রুপ, আমরা মাতৃ জঠরে প্রতিসন্ধি গ্রহন করি, জীবন যাপন করি/জরা গ্রস্থ হই, এবং মৃত্যুর দিকে ধাবিত হই এবং একসময় মৃত্যু বরণ করি।

পরমার্থ এবং সম্মুতি দুই অর্থেই জন্ম এবং মৃত্যু সত্য।
তার চাইতে বড় সত্য হল পরমার্থিক জন্ম মৃত্যু চক্র এবং পার্থিব জন্ম মৃত্যু চক্র দুটোই সঙ্খত ধর্মের অধীন।

যেসকল ধর্ম কারণ ও প্রত্যয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং যাদের উৎপত্তি ও বিলয় আছে, ত্রিপিটকের ভাষায় তাদের সঙ্খত ধর্ম বলে।

পরমার্থ সত্যে যেমন চিত্তের উদয় স্থিতি বিনাশ হলেই কি তা অশেষে বিনাশ হয়ে যাচ্ছে? না তা চলমান থাকে।
তদ্রুপ পার্থিব সত্যে ভূমিষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে আয়ু পূর্ণ করে মৃত্যু হলেই কি কেউ সমূলে বিনাশ হয়ে যাবে? কখনোই না। চক্র তো চলতেই থাকবে তাই না! সেই চক্রকে বুদ্ধের ভাষায় বলে পুনর্ভব।

চেতনার স্রোত প্রবাহিত হয়। ঠিক যেমন একটি প্রদীপ থেকে আরেকটি প্রদীপ জ্বালালে আগুনটি একই নয়, আবার সম্পূর্ণ ভিন্নও নয়। এটি একটি কর্মজ প্রক্রিয়া, কোনো আত্মার স্থানান্তর নয়। বুদ্ধ আক্ষরিক পুনর্জন্ম ও কর্মফলকে 'সম্যক দৃষ্টি' এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যদি পুনর্জন্ম কেবল মনস্তাত্ত্বিক হয় এবং মৃত্যুর পর সবই বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে কর্মফলের মহাজাগতিক ন্যায়বিচারের ধারণাটি ভেঙে পড়ে। চার আর্য সত্যের মূল ভিত্তিই হলো 'সংসার' বা জন্ম-মৃত্যুর আক্ষরিক চক্র। জন্ম, জরা, ব্যাধি ও মৃত্যুকে বুদ্ধ দুঃখ বলেছেন কারণ এগুলো আক্ষরিকভাবেই বারবার ঘটে।

🍂অসঙ্খত ধর্ম
পরমার্থ লেভেলে উদয়, স্থিতি, ব্যায় চক্রকে ভংগ হলে তাকে অসঙ্খত ধর্ম বলে। অর্থাৎ কারণ ও প্রত্যয় যেখানে অনুপস্থিত সেখানে চক্র চলমান থাকার প্রশ্নই তো আসে না। একটি সাধারণ বীজ মাটিতে পড়লে জল ও আলোর উপস্থিতিতে তা থেকে নতুন চারাগাছ জন্ম নেয় । কিন্তু সেই বীজটিকে যদি আগুনে ভালোভাবে ভেজে নেওয়া হয়, তবে সেই ভাজা বীজটিকে যতই উর্বর মাটিতে পোঁতা হোক বা জল দেওয়া হোক না কেন, তা থেকে আর কখনোই নতুন গাছ জন্মাবে না। কারণ, অঙ্কুরিত হওয়ার মূল হেতুটিই সেখানে ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে চক্রটি সেখানেই থেমে যায়।

🍂তদ্রুপ পার্থিব সংজ্ঞায়ও সঙ্খত ধর্ম উত্তীর্ন হয়ে তথা তৃষ্ণা ক্ষয় করে, কোন হেতু অবশিষ্ট না থাকলে তবেই তাকে নির্বানপ্রাপ্ত বলা হয়।

সাধারণ সত্বরা মৃত্যুর সাথে সাথেই যেহেতু নির্বানপ্রাপ্ত হচ্ছে না, তাই তাদের মধ্যে হেতু বিদ্যমান। বুদ্ধের শিক্ষা মতে হেতু থাকলেই জন্ম হবে। মৃত্যু হবে, এবং এই চক্র চলমান থাকবে যাকে বুদ্ধ সংসার বলেছেন, সেই সংসার পরমার্থ সংজ্ঞায় যেমন সত্য, সম্যুতি বা পার্থিব সংজ্ঞায় ও সত্য।

যেই সংসারের কোনো আদি বা শুরু নেই। অবিদ্যা ও তৃষ্ণায় আবদ্ধ প্রাণীদের এই জন্ম-মৃত্যুর পরিভ্রমণের কোনো আদি বিন্দু খুঁজে পাওয়া যায় না।

Address

Patiya
Chittagong
4600

Telephone

+8801758599579

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sharana-Gamana posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Sharana-Gamana:

Shortcuts

Share

Category