28/08/2025
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং জব পাওয়াটাই সবচেয়ে কঠিন। রিসেন্ট ৪৭তম বিসিএসে সব সাবজেক্ট মিলে ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাডারে পদ ছিল মাত্র ৪৬টি।
অথচ প্রতিবছর এর দ্বিগুণ-তিনগুন বুয়েটিয়ান শুধু অ্যাডমিন ক্যাডারেই হয়, পুলিশ ক্যাডারসহ অন্যান্য ক্যাডারে কম নয়।
শুধুমাত্র বুয়েট থেকে প্রতিব্যাচেই ২০০+ শিক্ষার্থী জেনারেল ক্যাডারে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক, এনএসআই সহকারী পরিচালকসহ উচ্চ পদেও তারা কম্পিটিটিভ এক্সাম দিয়ে সংখ্যা ও র্যাংকে টপ করতেছে।
দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা ও চাকরীতে যায় আরও ৪০০+। লাস্ট ১ দশকের সিএসই ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের মাত্র ২২% দেশে আছে।
বাকিরা দেশের সেরা MNC তে ইঞ্জিনিয়ারিং, নন ইঞ্জিনিয়ারিং টপ পজিশনে যাচ্ছে।
কিন্তু সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং জব? সেটা বুয়েটিয়ানরা পায়না। তবে, অল্প যেটুকু পায়, গাপুস গুপুস খায়।
তাহলে কি সরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং জব নাই? আছে, অনেক আছে। দেশের ৫০-৬০% বাজেট এই খাতে আছে। কিন্তু হয় বিএসসিদের আবেদন করতে দেওয়া হয়না, নাহয় ওপেনিং নাই।
পদগুলোর ১০ম গ্রেডে ১০০%, ৯ম গ্রেডে ছলে বলে কৌশলে ৪০-৬০% পদ ডিপ্লোমা কোটার দখলে। ফলে সার্কুলার আসছে না, নিয়োগ সংখ্যা বছর বছর কমে আসছে। (চিত্র- কমেন্টে)
৪৬ তম বিসিএসের সার্কুলারের ১৮ দিন আগে, কারিগরিতে ২৬৬ জন ডিপ্লোমা ৯ম গ্রেডে ক্যাডার পোস্টে পদোন্নতি পেয়েছে, অথচ বিএসসিদের জন্য ওপেনিং ছিলো মাত্র ৪৫টি পদ।
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, প্রকৌশলীদের প্রকৌশলবিদ্যা প্র্যাক্টিস করতে দেওয়া হচ্ছেনা, তারা প্রকৌশল বাদে দুনিয়ার সবকিছু করতেছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা চায় শুধু একটা অধিকার— তাদের মেধার প্রমাণে কোন কোটা বা প্রতিবন্ধকতা যেন না থাকে। তাদের যেন অন্তত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের যেন ইঞ্জিনিয়ারিং জব করতে দেওয়া হয়।
মেধাবী হলে পরীক্ষায় আপনার ভয়টা কিসের? দুনিয়ার যেকোন সিস্টেমে হোক, প্রয়োজনে পালি-হিব্রুতে পরীক্ষা নেন। বাট পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার যাচাই করেন। সবার সমান সুযোগ থাকুক।
প্রকৌশলীরা প্রকৌশল খাতে থাকতে চায়।
গোষ্ঠীস্বার্থে বাংলাদেশের ভবিষ্যত ধ্বংস কইরেন না।
এই আন্দোলন প্রকৌশলীদের শুধু নয়, এই আন্দোলন আগামীর বাংলাদেশের।