23/07/2026
সম্মানিত অভিভাবক ও স্নেহের শিক্ষার্থীবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম। গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক একাডেমিক সাফল্য বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সুন্দর ভিত্তি গড়ার জন্য শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি বাড়িতে নিয়মিত ও পরিকল্পিত পড়ালেখার কোনো বিকল্প নেই। একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে বাড়িতে পড়াশোনার মান উন্নত করার জন্য আমি নিচে কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছি:
১. অভিভাবকবৃন্দের প্রতি পরামর্শ
পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি: বাড়িতে শিশুর জন্য একটি শান্ত ও মনোযোগসহকারে পড়ার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দিন, যেখানে অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা গোলযোগ থাকবে না।
নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি ও অনুসরণ: বিদ্যালয়ের ক্লাসের পাশাপাশি বাড়িতে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট দৈনিক রুটিন তৈরি করে দিন এবং তা কঠোরভাবে মেনে চলতে উৎসাহিত করুন।
ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ: পড়ার সময় মোবাইল ফোন, টেলিভিশন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন। কেবল পড়াশোনার প্রয়োজনে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দিন।
নিয়মিত খোঁজখবর রাখা: প্রতিদিন বিদ্যালয় থেকে দেওয়া 'হোমওয়ার্ক' বা বাড়ির কাজ ঠিকমতো শেষ করছে কি না এবং শ্রেণি ডায়েরি (Class Diary) নিয়মিত যাচাই করুন।
উৎসাহ ও ইতিবাচক মনোভাব: শিক্ষার্থীর ভালো কাজে প্রশংসা করুন। পড়ার টেবিলে অতিরিক্ত মানসিক চাপ না দিয়ে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও উৎসাহব্যঞ্জক আচরণ করুন।
২. শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ
'পড়া জমা না রাখা'র অভ্যাস: প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করো। পড়া জমিয়ে রাখলে পরীক্ষার আগে অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হয়।
বুঝে পড়ার ওপর জোর দেওয়া: কোনো বিষয় মুখস্থ করার আগে তা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করো। না বুঝলে পরদিন ক্লাসে শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করে বিষয়টি পরিষ্কার করে নাও।
লিখেই অনুশীলনের অভ্যাস (Writing Practice): শুধু পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পড়ার পর তা খাতায় লেখার অভ্যাস করো। এতে পড়ার স্থায়িত্ব বাড়ে এবং পরীক্ষার খাতায় লেখার গতি ও সুন্দর উপস্থাপন নিশ্চিত হয়।
কঠিন বিষয়ে বাড়তি মনোযোগ: যে বিষয়গুলোতে দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলোর জন্য প্রতিদিনের রুটিনে একটু বেশি সময় বরাদ্দ করো।
স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া: শরীর ভালো না থাকলে মন দিয়ে পড়ালেখা করা সম্ভব নয়। তাই সময়মতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিমিত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
একটি বিশেষ নোট:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারের যৌথ প্রচেষ্টা ও সচেতনতাই পারে একজন শিক্ষার্থীকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সবসময় শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ধন্যবাদান্তে,
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
প্রধান শিক্ষক
গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।