06/03/2022
প্রথমবারের মত ১৫ মার্চ বাংলাদেশে আসছেন সুবর্ণ আইজ্যাক!
সুবর্ণ আইজ্যাক নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে বাংলাদেশের ভিসা পেয়েছেন। সুবর্ণ তার নতুন বই 'জিরো হার্ট' মোড়ক উন্মোচন করতে একুশে বইমেলায় যাওয়ার আমন্ত্রণও পেয়েছেন। এই সময় বাংলাদেশের মানণীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তাকে (সুবর্ণকে) তাঁর বই ‘Bangladesh: Road To Development" উপহার দেন।
কে এই বালক?
বিশ্বের বিস্ময় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন শিশু বিজ্ঞানী অধ্যাপক সুবর্ণ আইজ্যাক বারী।
২০১৩ সাল। এক বছর বয়সী সুবর্ণ আইজ্যাক বারী নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালের বেডে জ্বরে কাতরাচ্ছিল। তার বাবা রাশীদুল বারী বললেন,‘আই লাভ ইউ মোর দ্যান এনিথিং ইন দ্য ইউনিভার্স’। সুবর্ণ বলল, ‘ইউনিভার্স অর মাল্টিভার্স?’ কলেজ শিক্ষক রাশীদুল বারী চমকে গেলেন । কিন্তু তখনও তিনি জানতেন না এই সুবর্ণ ৩ বছর বয়সে অংক,পদার্থ বিজ্ঞান এবং রসায়নে দক্ষতা দেখিয়ে সারা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিবে। সেই সুবর্ণ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছে।
কৌতুহলের পাশাপাশি জিজ্ঞাসার অন্ত নেই বিস্ময় শিশু সুবর্ণকে ঘিরে। এর পাঁচটি প্রধান কারণ হচ্ছে:
১. দেড় বছর বয়সে সে রসায়নের পর্যায় সারণী তথা ক্যামিস্ট্রি পিরিয়ডিক টেবল মুখস্থ করে ফেলেছে।
২. দুই বছর বয়সে সে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে ইন্টারভিউ দিয়েছে।
৩. ভয়েস অব আমেরিকায় সাক্ষাৎকার প্রদান।
৪. ৩ বছর বয়সে সে লেবুর সাহায্যে ব্যাটারি এক্সপেরিমেন্ট করে।
৫. সাড়ে তিন বছর বয়সে খ্যাতনামা একটি কলেজের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ পেয়েছে ।
মাত্র দেড় বছর বয়সে রসায়নের পর্যায় সারণী সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা এবং তা মুখস্থ করে সুবর্ণ। যথারীতি ওর মা ওকে অংক শেখাচ্ছিলেন। হঠাৎ সুবর্ণ বলল, ‘ইফ ওয়ান প্লাস ওয়ান ইক্যুয়াল্টো টু, দ্যান ২ প্লাস ২=৪ এবং এন+এন=২ এন, তাই না?’ রাশীদুল বারী তখন পাশের রুমে তার ছাত্রদের পেপার দেখছিলেন। এমন বিস্ময়কর কথা শুনে তিনি দৌড়ে সুবর্ণর কাছে চলে গেলেন। তার চোখে আনন্দের জল। স্ত্রী জানতে চাইলেন, কাঁদছ কেন? সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বারি বললেন, ‘জানো আমাদের সমনে কে বসে আছে? কার্ল ফাইডরিচ গোস (জার্মানের অঙ্কশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ)। দেড় বছর বয়সী পুত্রের অংক শাস্ত্র প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে রাশীদুল বারী তাকে এডভান্সড ম্যাথ এন্ড সায়েন্স এর লেসন দেয়া শুরু করলেন। আর এভাবেই মাত্র ২ বছর বয়সে সে রসায়নের পিরিয়ডিক টেবিল মুখস্ত করে ফেলল।
এ অবিশ্বাস্য কথাটি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘বারী সাইন্স ল্যাব’ এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে এ বিস্ময়কর প্রতিভার কথা। এমনি অবস্থায় মেডগার এভার্স কলেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড পোজম্যান সুবর্ণের মেধা যাচাই করতে চান। সুবর্ণ পর্যায় সারণীর সবগুলো এলিমেন্ট বলে পোজম্যানকে অবাক করে দেয় । সেদিন তিনি এতই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, ১ বছর পর আবার তাকে ডেকে পাঠালেন পোজম্যান।
এরপর ডাক পড়ে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ থেকে। বাবা বারী তাকে নিয়ে যান ওয়াশিংটন ডিসিতে ভয়েস অব আমেরিকা স্টুডিওতে। সেখানে সাবরিনা চোধুরী ডোনা তার ইন্টারভিউ নেন এবং বছরের সেরা কনিষ্ঠ ইন্টারভিউ হিসাবে তারা এটা বাছাই করে ইংরেজী নববর্ষে পুনঃপ্রচার করেছে । কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘঠনাটি ঘঠে যখন আড়াই বছরের এই শিশুটি পর্যায় সারণীর সব এলিমেন্টগুলোর নাম বলে যাচ্ছিল অবলীলায়। বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দারসহ সকল সাংবাদিক অবাক বিস্ময়ে তার এই প্রতিভা অবলোকন করেন।
ছোট্টমনি সুবর্ণ এরই মধ্যে অনেক গুলো সায়েন্টিফিক এক্সপেরিমেন্ট করে ফলেছে। যার একটি ইলেকট্রিক ব্যাটারি। সেজন্য সে আবার পদার্থবিদ্যা এবং রসায়ন অধ্যয়ন করছে। বিভিন্ন রকম ব্যাটারি সে বানাচ্ছে। তার একটি হচ্ছে লেবু ব্যাটারি। যেটা বানাতে তার দরকার হয় ৪টি লেবু, ৪টি পেরেক, ৪টি পেনি এবং ৫টি এলিগেটর ক্লিপ। এগুলো দিয়ে সে ইলেকট্রিক সার্কিট বানিয়ে পোটেনশিয়াল ডিফারেন্স সৃষ্টি করে লাইট জ্বালাতে পারে। ২০১৫ সালের ১২ জুন ড. ড্যানিয়েল কাবাট, যিনি বর্তমানে লিমন কলেজে ফিজিক্স চেয়্যার, সুবর্ণর এই প্রতিভা দেখার জন্য তাকে লিমন কলেজে আমন্ত্রণ জানান এবং সুবর্ণ ব্যাটারি বানিয়ে তাকে মুগ্ধ করে ।
বিশ্বের সবেচেয়ে কম বয়সী অধ্যাপক।
মাত্র তিন বছর বয়সেই নিজের মেধাকে জানান দিতে ভয়েস অব আমেরিকায় সাক্ষাতকার দেয় এই শিশুটি। মেধাকে যাচাই করতে ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন অধ্যাপক জ্যমিতি, বীজগণিতসহ রসায়নের জটিল বিষয়ের পরীক্ষা নিয়েছেন সুবর্ণের। ছোট থেকেই সবাইকে অবাক করে একের পর এক কৃতিত্ব দেখিয়েছে সুবর্ণ। দেড় বছর বয়স থেকেই সংখ্যা এবং অংকের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। তখন তার বাবা তাকে আরও কঠিন কিছু শেখাতে শুরু করলেন। তিনি সুবর্নকে জ্যামিতির বিভিন্ন আকৃতি শেখালেন। তারপর শেখালেন রসায়নের পর্যায় সারনী। এভাবেই বাবার হাত ধরেই তার পথচলা শুরু। দুই ভাইয়ের মধ্যে সুবর্ণ ছোট।
পিএইচডি স্তরের গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হওয়ায় খুব অল্প বয়সেই বিশ্বে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, সন্ত্রাসবিরোধী ক্যাম্পেইন ও নিজের লেখা ‘দ্য লাভ' গ্রন্থের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে চাইল্ড প্রডিজি হিসেবে পরিচিত সে। এছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাকে একজন অধ্যাপক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী এ অধ্যাপককে বিশেষ সম্মাননা জানিয়েছেন। এছাড়া অক্সফোর্ডসহ নানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুবর্ণের কাছে চিঠি আসত। এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তার ট্যালেন্টে দেখে তাকে চিঠি দিয়েছিলেন। এরকম আরও অনেকে অনেক অর্জনের ভরপুর ছোট সুবর্ণের ঝুলি।
চট্টগ্রামের সন্তান রাশেদুল বারী উচ্চশিক্ষার জন্যে নিউইয়র্কে আসার পর ব্রঙ্কসের লিমন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির বারুখ কলেজে অংকের এডজাঙ্ক অধ্যাপক এবং একইসঙ্গে নিউভিশন চার্টার হাই স্কুল ফর এডভান্সড ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্সে পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক। জেরুজালেম পোস্টে তিনি নিয়মিতভাবে কলাম লিখছেন। সুবর্ণর মা রেমন বারী ব্রঙ্কস কম্যুনিটি কলেজ থেকে একাউন্টিংয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। সুবর্ণর একমাত্র বড় ভাই রিফাত এলবার্ট বারীর বয়স ১২। সেও অসাধারণ মেধার অধিকারী। সপ্তম গ্রেডে পড়ছে এবং ৭ ভাষায় কম্প্যুটার প্রোগ্রামিংয়ে অভ্যস্ত। সে হাইস্কুলে না গিয়েই বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে চায়। এজন্যে সে ইতোমধ্যেই ৩ বার এস এ টি প্রদান করেছে।