07/03/2026
অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের সামনে আসলো ওনার কুকির্তি। কলেজিয়েটের প্রধান শিক্ষকের যেই আসন অলংকৃত হয়েছিলো আজিজ স্যারের মত শিক্ষকের মাধ্যমে, সেই আসনই পরবর্তীতে কলুষিত হয়েছিলো ওনার মাধ্যমে।
⚠️⚠️ বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম!
গরিব ছাত্রদের পরীক্ষায় পাস করানো ও অস্থায়ী চাকরি স্থায়ী করার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ (বলাৎকার) করার অভিযোগ উঠেছে।
বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরিব ছাত্রদের পরীক্ষায় পাস করানো ও অস্থায়ী চাকরি স্থায়ী করার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ (বলাৎকার) করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীর বরাতে জানা গেছে, দরিদ্র পরিবারের ছাত্রদের পরীক্ষায় অকৃতকার্য করার ভয় দেখিয়ে এবং অকৃতকার্যদের পাস করানোর লোভ দেখিয়ে তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়।
দুইজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ১০ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, “প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে দরিদ্র পরিবার ও দুর্বল ছাত্রদের টার্গেট করেন। পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করা হতো।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, "হেড স্যার প্রথমে কাঁধে হাত রাখা থেকে শুরু করে পরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। ভয় ও লজ্জায় আমি প্রথম দিকে পরিবারকে জানাইনি। তবে, অভিযোগের পর ডিসি স্যারের কাছে বিস্তারিত জানিয়েছি।"
নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, "স্কাউট কার্যক্রমের স্বাক্ষরের অজুহাতে ডেকে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ করা হতো। একদিকে ভয়, সামাজিক লজ্জা এবং শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য হয়।"
এক ভুক্তভোগীর বাবা জানান, তার ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে অকৃতকার্য হলে পুনরায় ভর্তি করানো হয়। পরে সে উত্তীর্ণ হয়ে নবম শ্রেণিতে ওঠে, কিন্তু সেখানে পাঁচটি বিষয়ে খারাপ ফলাফল করে। প্রধান শিক্ষক তাকে দশম শ্রেণিতে উন্নীত না করার কথা জানান। পরে তিনি ছেলেকে আবার নবম শ্রেণিতে রাখেন এবং প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধান শিক্ষক তাকে পরামর্শ দেন যে, শিক্ষক নিজেও গাইড দেবেন এবং অভিভাবকও গাইড করবেন। সেই অনুযায়ী তার ছেলেকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শিক্ষকের কাছে পড়াতে পাঠানো হয়। ছয় মাস পর্যবেক্ষণের পর ভালো করলে তাকে দশম শ্রেণিতে উন্নীত করার আশ্বাস দেন।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় শিক্ষকের কাছে পড়তে যাওয়ার পর তার ছেলের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করা হয়। ঘটনার পর থেকে তার ছেলে আর ওই শিক্ষকের কাছে যেতে চায় না। এ ঘটনায় তিনি ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
অপর এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নাতিসহ অঙ্গীকারনামা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে যান। শিক্ষক তাকে নাতিকে রেখে চলে যেতে বলেন। প্রায় ঘণ্টাখানিক পর নাতি প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের হয়ে এলে তার চেহারায় আতঙ্ক ও ভয় স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
এমন ঘটনার শুধু শিক্ষার্থী নয়, একাধিক কর্মচারীও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেন।
বিদ্যালয়ের এক অস্থায়ী কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, "অফিস সময়ের পরে সন্ধ্যায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নিয়ে দরজা-গেট বন্ধ করে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করে। বাধা দিলে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। আমার মতো আরও কয়েকজন কর্মচারী একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হন।"
বিদ্যালয়ের অস্থায়ী অফিস সহায়ক শিল্পী রাণী দে অভিযোগ করে বলেন, "স্কুল ছুটির পর একাধিক শিক্ষার্থীকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে গেট তালাবদ্ধ রাখা হতো। বিষয়টি অন্য শিক্ষকদের জানালে আমাকে 'ছোট কর্মচারী' বলে চুপ থাকতে বলা হয়। পরে অভিভাবকদের অবহিত করার কারণে নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।"
বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ যাওয়ার পর পুনর্বহাল করা হয়।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জসিম উদ্দিন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জার ও নিন্দনীয়। ভুক্তভোগী ছাত্র ও অভিভাবকরা বিষয়টি লিখিত বা মৌখিক আমাকে জানাননি। তবে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ডেকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আমাকে তলব করা হয়। আমার কাছে অভিযোগ এলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অবহিত করব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী জানান, বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকার ও নির্যাতনের বিষয়ে কেউ জানায়নি। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগও দেয়নি।
এক সপ্তাহ ধরে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, "প্রধান শিক্ষক ছুটির আবেদন কিংবা মৌখিক কিছুই জানাননি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ছাত্ররা লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলমান। যদি প্রমাণিত হয়, একজন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রের সাথে এমন আচরণ ও অপরাধের জন্য শুধু স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত নয়, উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।
বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের অফিসে একাধিকবার গিয়েও পাওয়া যায়নি। তার সাথে এক সপ্তাহ ধরে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কৃতজ্ঞতা: Safoan Chy
25/10/2025
25/10/2025
19/10/2025
19/10/2025
19/10/2025
18/10/2025
18/10/2025
18/10/2025
17/10/2025
10/07/2025