Mohamuni Anglo-Pali High School

Mohamuni Anglo-Pali High School Politics Free Institution

১৯০২ খৃষ্টাব্দের শেষভাগে পাহাড়তলী মডেল স্কুলের প্রধান প--ত মহিমচন্দ্র গুহ মহোদয় ২৫ বৎসর চাকুরীর পর কার্য্য হইতে অবসর গ্রহণ সময়ে তাঁহার ছাত্রবৃন্দ তাঁহাকে বিদায় অভিনন্দন দেওয়ার জন্য এক সভা আহবান করেন। অভিনন্দন প্রদানের কার্য্য শেষ হইলে উক্ত সভায় পাহাড়তলী গ্রামে একটি উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয় স্থাপন বিষয়ে আলোচনা হয়। অবসর প্রাপ্ত প--ত মহিমচন্দ্র গুহ মহাশয় ও হাই স্কুল স্থাপন বিষয়ে গ্রামবাসীদিগকে উৎসাহিত করেন। এ বিষয়ে স্থির সিদ্ধামেত্ম উপনীত হওয়ার জন্য ১৯০২ খৃষ্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর তারিখে পাহাড়তলী গ্রামবাসী বৌদ্ধগণ স্থানীয় মডেল স্কুল গৃহে এক সভায় সমবেত হন। হাই স্কুল স্থাপনের আবশ্যকতা ও উপযোগিতা সম্বন্ধে সবিশেষ আলোচনা হওয়ার পর সভায় সমবেত হন। হাই স্কুল স্থাপনের আবশ্যকতা ও উপযোগিতা সম্বন্ধে সবিশেষ আলোচনা হওয়ার পর সভায় ইহা স্থিরীকৃত হয় যে, পাহাড়তলী গ্রামে একটা উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয় স্থাপন করা হউক এবং এই উপলক্ষে চাঁদা আদায় করা হউক এবং চাঁদা আদায়ের জন্য একখানি আবেদন পত্র সভার পক্ষে বাবু হরগোবিন্দ মুচ্ছদ্দী, বাবু জয়লাল বড়ুয়া ও বাবু সতীশচন্দ্র বড়ুয়া মহাশয়গণের নামে ছাপান হউক। বাবু দক্ষিণারঞ্জন মুৎসুদ্দী মহাশয় স্কুল স্থাপন বিষয়ে সাতিশয় আগ্রহ প্রকাশ করেন। সভার পর দক্ষিণাবাবুর অনুরোধ মত বাবু অধরলাল বড়ুয়া, বাবু বীরেন্দ্রলাল মুচ্ছদ্দী মহাশয়ের দ্বারা একখানি আবেদন পত্রের মুসাবিদা করাইয়া তাহা দক্ষিণাবাবুর নিকট পাঠাইয়া দেন। বাবু দক্ষিণা রঞ্জন মুচ্চদ্দী মহাশয় নিম্নোদ্ধতরূপ আবেদন পত্র নোয়াখালী হইতে নিজ ব্যয়ে ছাপান।

সবিনয় নিবেদন-

মহাশয়,

আপনার অবিদিত নহে যে আমাদের মধ্যে ইংরেজী শিক্ষার্থী ও শিক্ষিতের সংখ্যা অতি অল্প। আর্থিক অস্বচ্ছলতা, উপযুক্ত বাসস্থান ও অভিভাবকের অভাবই ইহার প্রধান কারণ। এই সকল অন্তরায় দূরীভূত করিয়া শিক্ষা কার্য্য অল্প ব্যয় সাধ্য ও সবর্ববিধ সুবিধাকর করিবার জন্য পাহাড়তলী গ্রামে একটা উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয় স্থাপন করিবর সংকল্প করা হইয়াছে। বলা বাহুল্য যে এই বিষয়ে কর্তব্য নিদ্ধারণের জন্য গত ৩০শে ডিসেম্বর একটা সভা আহুত হয়। তাহাতে স্থিরীকৃত হইয়াছে যে স্কুল গৃহ নির্মাণ ব্যয় শুধু স্থানীয় লোকের চাঁদার উপরই নির্ভর করিবে; এবং স্থানীয় লোক ও অন্যান্য মহদাশয় ব্যক্তিগণের বদান্যতার উপর নির্ভর করিয়া অপরাপর খরচের জন্য স্কুল ফান্ড খোলা হইবে।

চাঁদার সংগৃহীত টাকা স্কুল সাব্ ইন্পেক্টর বাবু গগন চন্দ্র বড়ুয়ার নামে ফান্ডের পক্ষে সেভিং ব্যাঙ্কে জমা থাকিবে। গৃহ নির্মাণের জন্য ১০০০/-(এক হাজার) টাকা ইষ্টিমেট করা হইয়াছে। এস্থলে বল অনাবশ্যক যে আপনার বদান্যতা ও স্বজাতি বাৎসল্যের উপর নির্ভর করিয়াই আমরা এই দূরূহ ব্রতে হসত্মক্ষেপ করিয়াছি। এ ব্রত একের পক্ষে দুরুহ হইলেও আমাদের সমবেত শক্তির নিকট যে ইহা সহজ সাধ্য তাহা আপনার ন্যায় বিজ্ঞ ব্যক্তিকে না বলিলেও চলে। অতএব বিনীত প্রার্থনা যে,আপনি এই শুভ কার্য্যের জন্য আপনার দেয় চাঁদা শ্রীযুক্ত বাবু দক্ষিণারঞ্জন মুচ্ছদ্দী পোঃ আঃ লক্ষ্ণীপুর,জেলাঃ নোয়খালী,এই ঠিকানায় প্রেরণ করিয়া সবর্বসাধারণের উপকার করিবেন। সন ১৯০৩, ১লা জানুয়ারী।

ইতি

শ্রী হরগোবিন্দ মুচ্ছদ্দী

শ্রীজয়লাল বড়ুয়া

শ্রী সতীশচন্দ্র বড়ুয়া

দক্ষিণা বাবু উক্ত আবেদন পত্র ছাপাইয় নোয়াখালী হইতে চট্টগ্রাম শহরে মোক্তার বাবু সতীশচন্দ্র বড়ুয়া মহাশয়ের নিকট পাঠাইয়া দিলেন। চাঁদা আদায়ের কোন চেষ্টা হইল না এবং কোন চাঁদা আদায় ও হইল না। ছাপান পত্র শহরে সতীশ বাবুর বাসায় পড়িয়া রহিল। এইভাবে প্রায় এক বৎসর কাটিয়া গেল। স্কুল স্থাপন বিষয় আলোচনা বদ্ধ হইল। গ্রামবাসীগণের হৃদয়ের উৎসাহ নৈরাশ্যের অন্ধকারে ডুবিয়া গেল।এরূপভাবে অধিক দিন চলিলে বোধ হয় আমরা আজও পাহাড়তলী গ্রামে উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয় দেখিতে পাইতাম না। কিন্তু পাহাড়তলী গ্রামের ভাগ্য অন্যরুপ লিখিত ছিল। কাজেই সে অবস্থার পরিবর্তন হইল।

কার্য্যারম্ভঃ

১৯০৩ খৃষ্টাব্দের শেষভাগে পরলোকগত মহাত্না বাবু গগনচন্দ্র বড়ুয়া পার্বত্য চট্টগ্রামস্থ সমূহের ডেপুটি ইন্সপেক্টর মহোদয় পাহারতলী গ্রামে হাইস্কুল স্থাপনের কার্য্য স্বহস্তে গ্রহন করেন। তাঁহার আহবানে গ্রামস্থ উচ্চ শিক্ষানুরাগী যুবকবৃন্দ ও উদার হৃদয় ভদ্রমহোদয়গণ তাঁহার সাহায্যোর্থে বদ্ধ পরিকর হন। তখন হইতেই চাঁদা আদায় কার্য্য আরম্ভ হইল।গগনবাবু নিজে পাবর্বত্য চট্টগ্রাম হইতে চাঁদা আদায় করিতে লাগিলেন।মং সার্কেলের মাননীয় রাজা নিপ্রুচাই বাহাদুরের শুভ পুন্যাহ উপলক্ষে তিনি৩০০ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করেন । বন্ধোপলক্ষে যখন গগন বাবু বাড়ী আসিতেন তখন পাহাড়তলী গ্রামবাসীগণ হইতে চাঁদা আদায় করিতেন। এরুপ ভাবে পাবর্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়তলী ও চর্তপার্শ্ব গ্রাম হইতে প্রায় ১০০০(এক হাজার টাকা)সংগৃহীত হয়। পাবর্বত্য চট্টগ্রাম হইতে চাঁদা আদায় কার্য্যে বাবু কালীকিষ্কর মুচ্ছদ্দী বাবু ভগীরথ চন্দ্র বড়ুয়াও বাবু গোবিন্দ চন্দ্র বড়ুয়া পন্ডিত মহাশয়গণ গগন বাবুর সাহায্যে করেন। অতঃপর স্কুল গৃহ কোথায় নির্মিত হইবে তাহা আলোচিত হইতে লাগিল।কেহ কেহ শ্রীমন্ত সরকারের দীঘিরপার মনোনীত করিলেন। কিন্তু তাহা পাওয়া অসাধ্য হইল। গগন বাবুর পিতা বাবু জয়লাল বড়ুয়া মহাশয় তাঁহার হাটের সংলগ্নীয় পুকুরের পার স্কুলের জন্যদান করিতে স্বীকৃত হইলেন এবং স্কু স্থাপন কর্ত্তাগণ এই প্রস্তাবে রাজী হইয়া উক্ত পুস্করিণীর দক্ষিণ পারে ৬৬ হাত দীর্ঘ ও ১৬ হাত প্রস্থ কোঠা ঘরের প্রস্ত্তত কার্য্য আরম্ভ করিয়া দিলেন। গৃহ প্রস্ত্ততের কার্য্য তত্ত্বাবধানের ভার বাবু জয়লাল বড়ুয়া ও বাবু সতীশচন্দ্র বড়ুয়া মহোদয়গণের হস্তে অর্পণ করা হয। স্কুল গৃহ নির্মাণের কার্য্য নিয়মিত রূপে চলিতে থাকে। বাবু জয়লাল বড়ুয়া মহাশয় সর্বদা উপস্থিত থাকিয়া কার্য্য পরিদর্শন করিতেন। স্কুল বোর্ডিয়ের জন্য একখানি বাঁশের ঘর নিমিত হইল। বড় কোটা ঘরের দেওয়াল উঠিল ও টিনের ছানি দেওয়া হইল কিন্তু অর্থাভাবে জানালা দরজা ও ছাদ ইত্যাদি দেওয়া বাকী রহিল।

শ্রেণী অর্থাৎ স্থানীয় পাহাড়তলী মডেল স্কুলকে নুতন প্রস্ত্ততি গৃহে স্থানান্ততরিত করিয়া তথায় আর একটা শ্রেণী অর্থাৎ হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণী খোলার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু মডেল স্কুলের পক্ষে বাবু হরগোবিন্দ মুচ্ছদ্দি মহাশয় এই প্রস্তাবে আপত্তি করেন। তিনি বলেন হাইস্কুল হয় কিনা ঠিক নাই এমতাবস্থায় যদি মডেল স্কুলটা তথায় স্থানান্তরিত করা হয় তবে হাইস্কুল আরম্ভের কার্য্য কিছুদিনের জন্য স্থগিত রহিল। ইতিমধ্যে বাবু গগন চন্দ্র বড়ুয়া, বাবু অধরলাল বড়ুয়া, বাবু সৌরিন্দ্র মোহন মুচ্চদ্দী, বাবু মোহনচন্দ্র বড়ুয়া নতুন স্কুলের জন্য ছাত্র সংগ্রহের চেষ্টা করিতে লাগিলেন।

স্কুলের ১ম বর্ষ

১৯০৫ খৃষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে বাবু মোহনচন্দ্র বড়ুয়া রাঙ্গুনীয়া নিবাসী শ্রীমান যতীন্দ্রলাল বড়ুয়া নামক জনৈক ছাত্রকে লইয়া স্কুলের কাজ আরম্ভ করিয়া দিলেন। বড় কোঠা গৃহ সম্পূর্ণ তৈয়ার না হওয়ায় বাঁশের নির্মিত বোডিং গৃহে স্কুলের কাজ আরম্ভ করা হইয়াছিল। যতীন্দ্র মধ্য ইংরেজী পাশ করিয়াছিল। কাজেই তাহাকে নিয়া তৎকালীন ৪র্থ শ্রেণী বা এখানকার ৭ম শ্রেণী খোলা হইল। কিয়দ্দিবসের মধ্যেই রাঙ্গুনীয়া নিবাসী শ্রীমান ধর্মরাজ বড়ুয়া, বেতাগী নিবাসী শ্রীমান দ্রোনকুমার বড়ুয়া, সাতবাড়িয়া নিবাসী শ্রীমান যোগেন্দ্রলাল বড়ুয়া, জোয়ারা নিবাসী শ্রীমান জয়রাজ বড়ুয়া, কোয়েপাড়া নিবাসী শ্রীমান গুনেন্দ্রকুমার সেন ও পাহাড়তলী নিবাসী শ্রীমান মোহিতকুমার বড়ুয়া ঐ শ্রেণীতে ভর্তি হইল। ইহা ছাড়া তখন স্কুলে অন্য কোন শ্রেণী বা ছাত্র ছিল না। বেতাগী নিবাসী জমিদার হেদায়েত আলী চৌধুরী ও মোহন বাবুর চেষ্টায় বেতাগী মকতবের শিক্ষক মৌলবী আমির আলী তাঁহার ছাত্রগণ সহ ১৯০৫ খৃষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে এই স্কুলে যোগদান করেন। মৌলবী মহাশয়ের ছাত্রগণকে লইয়া শিশু শ্রেণী গঠন করা হয়। এই সময়ে পাহাড়তলী মডেল স্কুল হইতেও ছাত্র আনিবর জন্য যথেষ্ট চেষ্টা আরম্ভ হইল। ঐ দিকে মডেল স্কুল রক্ষাকারীগণের পক্ষেও ছাত্র রাখার চেষ্টা হইতে লাগিল। এমতাবস্থায় পাহাড়তলী গ্রামের ছাত্রগণের অভিভাবকদের মনে দ্বিধাভাব উপস্থিত হইল। কিন্তু শীঘ্রই সেই দ্বিধাভাব দূরীভূত হয়। পাহাড়তলীর কয়েকজন অভিভাবক তাঁহাদের ছাত্রদিগকে মডেল স্কুল হইতে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট লইয়া হাইস্কুলে ভর্তি করাইয়া দিলেন। ইহা দেখিয়া অন্যান্য অভিভাবকগণও তাহাদের ছাত্রদিগকে হাইস্কুল পাঠাইতে লাগিলেন। এরূপভাবে মডেল স্কুলের অধিকাংশ ছাত্র হাইস্কুলে গিয়া ভর্তি হইল। এই সময়ে রাঙ্গুনীয়া নিবাসী বাবু রোহিনীরঞ্জন মুচ্চদ্দীকে স্কুলের শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়। তিনিও ছাত্র সংগ্রহে যথেষ্ট সাহায্য করেন, স্কুলের ছাত্রসংখ্যা ক্রমশঃ বাড়িতে লাগিল। উপরে ৭ম শ্রেণী হইতে নিম্নে শিশু শ্রেণী পর্য্যন্ত সমস্ত শ্রেণী গঠন করা হইল। উপযুক্ত শিক্ষকগণ নিযুক্ত করা হইল। স্কুলের কার্য্য তত্ত্বাবধানের জন্য গগণবাবু তাঁহার সহকর্মীদের সহিত পরামর্শ করিয়া বাবু অধর লাল বড়ুয়া মহাশয়কে সম্পাদক নিযুক্ত করেন। বড় কোঠা ঘরটা অর্থাভাবে সম্পূর্ণ তৈয়ার না হওয়ায় স্কুলের কার্য্যে অসুবিধা হইতেছিল। এই সময়ে পূাজর বন্ধে বাবু অধরলাল বড়ুয়া ও বাবু মোহনচন্দ্র বড়ুয়া স্কুলের ছাত্র শ্রীমান দ্রোনকুমার ও মোহিত কুমার সহ পটিয়া থানার এলাকায় চাঁদা সংগ্রহ করেন। গগণবাবুও স্বয়ং চাঁদা সংগ্রহ কার্য্যে ব্যাপৃত ছিলেন। এই সময়ে সংগৃহীত প্রায় ২৫০ টাকার দ্বারা কোটা ঘরের অসম্পূর্ণ কার্য্য এক প্রকার শেষ করা হয়। কিন্তু টাকার অভাবে বাঁশের ছাদ দেওয়া হইল না। এই সময়ে ছেলেদের বসিবার টুল পর্যন্ত ছিল না। বাঁশের দ্বারা বসিবার স্থান তৈয়ার করিয়া লওয়া হইয়াছিল। শিক্ষকগণের বসিবার জন্য বাবু হরকিশোর বড়ুয়া কয়েকখানি চেয়ার দিয়াছিলেন। চাঁদা সংগ্রহ কার্য্যে ও হরকিশোর বাবু যথেষ্ট সাহায্য করিয়াছিলেন। এইরূপ ভাবে অসুবিধার সহিত যুদ্ধ করিতে করিতে স্কুলের ১ম বর্ষ কাটিয়া গেল।

১৯০৬ খৃষ্টাব্দের জানুয়ারী মাসে ৮ম শ্রেণী খোলা হইল। কোয়েপাড়া নিবাসী বাবু রমণীরঞ্জন সেন মহাশয়কে হেডমাষ্টার নিযুক্ত করা হইল। তৎপর ক্রমশঃ বাবু অনন্তকুমার বড়ুয়া পালিশিক্ষক, বাবু প্রসন্নকুমার দেব সরকারী শিক্ষক নিযুক্ত হন। ইহাতে শিক্ষাকার্য্যের সুবিধা না হওয়ায় এবং অর্থাভাবে অতিরিক্ত শিক্ষক নিযুক্ত করিতে না পারায় শ্রীযুত অধর লাল বড়ুয়া, শ্রীযুত সৌরিন্দ্র মোহন মুচ্ছদ্দ্রি, বেণীমাধব বড়ুয়া, শ্রীযুত হরিজীবন সেন ও শ্রীযুত মুণীন্দ কুমার দাশ প্রত্যেকেই ক্রমাগত কয়েকমাস ধরিয়া বিনা বেতনে স্কুলের শিক্ষকতা কার্য্য করেন। স্কুলের এই দুঃসময়ে তাহাদের এই সাহায্য স্কুলের পক্ষে অমূল্য। উপরোক্ত ভদ্রমহোদয়গন স্ব স্ব কার্য্যস্থলে চলিয়া গেলে কোয়েপাড়ার বাবু সুরেন্দ্র নাথ সেনকে হেড মাষ্টারের পদে, বাবু কালীকুমার চক্রবর্ত্তী মহাশয়কে সংস্কৃত শিক্ষকের পদে ও কালীকুমার চৌধুরী মহাশয়কে বাঙ্গলা, ড্রিল ও ড্রয়িং শিক্ষকের পদে নিযুক্ত করা হয়। তৎপরে বাবু শশীকুমার সেন ও বাবু মতিলাল বড়ুয়াকে সহকারী শিক্ষকের পদে নিযুক্ত করা হয়।বলা বাহুল্য এসব শিক্ষক অতি অল্প বেতনেই নিযুক্ত করা হইয়াছিল । কিন্তু তথাপিও তাঁহারা স্কুলের উন্নতির জন্য প্রাণপণ পরিশ্রম করিতেছিলেন। অধর বাবুর পরামর্শ ও উৎসাহে মোহন বাবুও শিক্ষকগণের কঠোর পরিশ্রমে ,গগন বাবুর পরিচালনায়,স্কুল দিন দিন উন্নতির পথে অগ্রসর হইতে লাগিল। কিয়দ্দিবস পরেই বাবু সুরেন্দ্রে নাথ সেন পদত্যাগ করিয়া রেঙ্গুন চলিয়া যান। স্কুলের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল ছিলনা। কাজেই উপযুক্ত লোক কেহই স্বল্প বেতনে হেডমাষ্টারের কাজ করিতে রাজী হইলেন না। এই সময়ে স্কুলের সম্পাদক বাবু অধর লার বড়ুয়া , তাঁহারওকালতী ক্লাসের সহপাঠী বাবু মহিমচন্দ্র চৌধুরী মহাশয়কে অনেক অনুরোধ করিয়া হেডমাষ্টারের পদ গ্রহণে সম্মত করান। ১৯০৬ খৃষ্টাব্দের জুলাই মাসে বাবু মহিমচন্দ্র চৌধুরী এই স্কুলে পদার্পন করেন। মহিম বাবু অতি শুভক্ষণে এই দিন বিদ্যালয়ে পর্দাপণ করিয়াছিলেন। তাঁহার মত সুনীতিপরায়ন,কার্যদক্ষ ও উন্নতমনা যুবকের সাহায্য এমনি সময়ে পাওয়া না গেলে স্কুলের বাল্যকাল নিরাপদেও এত শীঘ্র কৈশোরে উপনীত হইতে কিনা সন্দেহ ছিল। তিনি ছাত্র ও অভিভাবক উভয়েরই ভক্তি ও ভালবাসা আকর্ষণ করিতে পারিয়াছিলেন।এই সময়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রগণ মধ্য ইংরেজী পরীক্ষা দেওয়ার জন্য খুব উদ্বিগ্ন হইলে সম্পাদক অধর বাবু এই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণী পর্য্যন্ত মধ্য ইংরেজী স্কুলরূপে লিষ্টিভুক্ত করিবার জন্য স্কুল সমূহের ডেপুটী ইনসপেক্টার মহোদয়ের নিকট আবেদন করেন।

17/06/2025

আমাদের প্রিয় মহামুনি এংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয় ❤

©প্রানতোষ ধর

আমাদের সকলের প্রিয় ঐতিহ্যবাহী মহামুনি এংলো-পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন বড়ুয়া স্যারের সুদীর্ঘ ৩৮ বছরের কর্মজ...
06/04/2025

আমাদের সকলের প্রিয় ঐতিহ্যবাহী মহামুনি এংলো-পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন বড়ুয়া স্যারের সুদীর্ঘ ৩৮ বছরের কর্মজীবনের শেষ দিন ও দায়িত্ব অর্পণ মূহুর্ত।
উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও সম্মানিত শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

স্যারের অবসর কালীন সময় রোগমুক্ত ও আনন্দময় হোক এই কামনা রইলো...

23/12/2024

'৯৪ ব্যাচের পুনর্মিলনীতে ত্রিশ বছরের পুরানো স্মৃতিতে ফিরে গেলেন সাবেক শিক্ষার্থীরা

📌আমরা আর টাকা তুলছি না📌কেউ যদি আমাদের নাম করে টাকা তুলে আপনারা টাকা দিবেন না। আর যদি টাকা দেন দেন ও আমরা দায়ভার নিব না।...
25/08/2024

📌আমরা আর টাকা তুলছি না📌
কেউ যদি আমাদের নাম করে টাকা তুলে আপনারা টাকা দিবেন না। আর যদি টাকা দেন দেন ও আমরা দায়ভার নিব না।

শুকনো খাবার নিয়ে আমাদের গন্তব্য মিরসরাই।

বর্তমান শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী মিলিয়ে আমরা ৪২হাজার ৫০০ টাকার মতো কালেকশন করেছি। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আজকে আমরা ২২,১৭৭ টাকার মত বাজার করেছি এখন পর্যন্ত। আরো পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার বাজার করবো। ট্রাক ভাড়া এবং আর অবশিষ্ট টাকা যেটা থাকবে সেটি বন্যার্ত এরিয়ায় গিয়ে অবস্থা দেখে ব্যবস্থা করা হবে।

সবকিছুর আপডেট দেয়া হবে। ধন্যবাদ

আমরা মহামুনি এংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উদ্যোগ নিয়েছি ব্যাচ ভিত্তিক আর্থিক সহায়তা তুলে বন্যা...
24/08/2024

আমরা মহামুনি এংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উদ্যোগ নিয়েছি ব্যাচ ভিত্তিক আর্থিক সহায়তা তুলে বন্যা কবলিত মানুষদের সাহায্য করবো।
আমরা প্রতি ব্যাচ থেকে ৩-৪ জন করে প্রতিনিধি চাচ্ছি।
যারা দায়িত্ব নিয়ে আমাদের সাথে কাজটি করতে পারবে তারা কমেন্টে জানান। আমরা আপনাদের সাথে যোগাযোগ করবো। প্রত্যেক ব্যাচের জন্য যদি একজন প্রতিনিধি হয়ে টাকা কালেকশন করতে পারে তাহলে ভালো হয়। প্রতিনিধিরা মিলে বন্যার্ত এরিয়াতে গিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারি। আশা করি কমেন্ট আপনাদের মতামত জানাবেন।

Plabon Barua : (এসএসসি ১৮)
বিকাশ/নগদ 01849-354900

Osama : (এসএসসি ১৭)
নগদ :01885032925
বিকাশ :01707863073

এস. এস. সি. ২০২৪ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন 🏵️৯৪.০৬ শতাংশ পাসের হার নিয়ে জন ৯৫ জন শিক্ষার্থ...
12/05/2024

এস. এস. সি. ২০২৪ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন 🏵️

৯৪.০৬ শতাংশ পাসের হার নিয়ে জন ৯৫ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে

12/01/2024
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস 🤍বিশ্বের সকল শিক্ষকদের প্রতি রইলো সম্মান,শ্রদ্ধা,অনেক ভালোবাসা।♥️শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর।...
05/10/2023

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস 🤍
বিশ্বের সকল শিক্ষকদের প্রতি রইলো সম্মান,শ্রদ্ধা,অনেক ভালোবাসা।♥️

শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। যারা বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে সাহায্য করেন। সেই নিঃস্বার্থভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাওয়া শিক্ষকদের জন্যই আজকের দিনটি🤍

মহামুনি এংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রাক্তন শিক্ষক শ্রদ্ধেয় বাবু মলয় মৎসুদ্দি স্যার পরলোকগমন করেছেন। উনার আত্মার শান্...
02/10/2023

মহামুনি এংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক শ্রদ্ধেয় বাবু মলয় মৎসুদ্দি স্যার পরলোকগমন করেছেন।

উনার আত্মার শান্তি কামনা করছি 🏴

১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষেশোক র‍্যালি 🏴
17/08/2023

১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে
শোক র‍্যালি 🏴

আমাদের ক্লাস রুমএই ক্লাস রুম গুলোতে জড়িয়ে আছে অনেক স্মৃতি 😔আমাদের ক্লাস রুমএসএসসি ব‍্যাচ '২৪©Premotos Dhar
07/08/2023

আমাদের ক্লাস রুম

এই ক্লাস রুম গুলোতে জড়িয়ে আছে অনেক স্মৃতি 😔

আমাদের ক্লাস রুম
এসএসসি ব‍্যাচ '২৪
©Premotos Dhar

Address

Mohamuni, Raozan
Chittagong
4348

Opening Hours

Monday 09:00 - 16:00
Tuesday 09:00 - 16:00
Wednesday 09:00 - 16:00
Thursday 09:00 - 16:00
Saturday 09:00 - 16:00
Sunday 09:00 - 16:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mohamuni Anglo-Pali High School posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category