মোহাম্মাদ কাউছার

মোহাম্মাদ কাউছার

Share

দ্বীনের পথের সঙ্গী হতে পারেন।
01819675491
0567854598

03/04/2026

হি'জ্রাইলী গোয়েন্দা সংস্থা Mo*সাদের এজেন্ট আবু হাফস ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন। একজন ই*হুদী সে ছিল কুরআন হাফেয এবং হাজারো হাদীস তার ঠোঁটে মুখস্থ ছিল। ভাবা যায়? ইসলামের শ*ত্রুরা পরিশ্রম আর গভীর কৌশলে আমাদের ভেতর ঢুকে পড়ছে।

​কুরআন-হাদীসের পাণ্ডিত্য নিয়ে লিবিয়া ইমামতি করেছে এবং সেখানে I-S-এর মতো ধ্বংসাত্মক সংগঠন প্রতি*ষ্ঠার মধ্যে উনি অন্যতম। তার লক্ষ্য একটাই ছিল—মুসলিমদের মধ্যে শিয়া-সুন্নি, আরব-অনারব ধনী-গরিবের বি*ভেদ সৃষ্টি করে আমাদের শক্তি তছনছ করা।

সতর্ক হোন~
আজ বাংলাদেশেও কি এমন ছদ্মবেশী শায়েখ, মুফতি বা স্কলার ঘুরে বেড়াচ্ছে না? দাড়ি-টুপি আর তসবীহ হাতে নিলেই যে সে খাঁটি মুসলিম—এই অন্ধ বিশ্বাসের দিন শেষ। যারা ইসলামের নামে বিভেদ আর বিভ্রান্তি ছড়ায়, তাদের চিনে রাখার দায়ভার সবার। ​ইসলামী লেবাস আর অঘাধ জ্ঞান থাকলেই সে হিতাকাঙ্ক্ষী নয়, বরং তার কর্ম আর উদ্দেশ্য যাচাই করুন। নিজের ঈমান বাঁচান, উম্মাহর ঐক্য রক্ষা করুন। ​জাগো মু'মিন, জাগো উম্মাহ। রব্ যেন তৌফিক দেন, আমীন।

03/03/2026

হে বাতেলের পক্ষালম্বনকারী শুনো, যদি বুকের পাঠা থাকে, আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহ্ এর যৌক্তিক সমালোচনা করে দেখাও।

আল্লাহর কসম, তিনি যা বলেন বা বলে যাচ্ছেন, এক কিঞ্চিৎ পরিমাণও নিজের স্বার্থের জন্য বলছেন না। বরং তোমার-আমার ঈমান যেন বেঁচে যায়, সে জন্যই তিনি আপোষহীনভাবে বাতিলদের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছেন।

গালাগালি আর অযৌক্তিক সমালোচনা বাদ দিয়ে ভাবতে শেখো, কোনটা হক, আর কোনটা বাতিল। আল্লাহ তোমাদের হেদায়েত দান করেন, আমীন।

23/01/2026

বৃহৎ ঐক্যের লক্ষ্যে ডাক্তার শফিক সাহেব একটিবার এই ঘোষণা দিক যে, আমরা নিম্নোক্ত মওদুদী সাহেবের আক্বিদাগুলোকে ভুল বলে প্রত্যাখ্যান করলাম, তবে আর এই দুরত্বগুলো থাকবে না। অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে চুপ থাকাটাই সমর্থন বোঝায়।
"জামাত ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা" মিস্টার মওদুদী সাহবের কয়েকটি ভ্রান্ত আক্বিদা উপস্থাপন করা হলো।
▪আল্লাহ পাক সম্পর্কে ভ্রান্ত আক্বীদাঃ
“যে ক্ষেত্রে নর-নারীর অবাধ মেলামেশা, সেক্ষেত্রে যেনার কারণে (আল্লাহ পাকের আদেশকৃত) রজম শাস্তি প্রয়োগ করা নিঃসন্দেহে জুলুম।” (নাঊযুবিল্লাহ)
(তাফহীমাত, ২য় খণ্ড, ২৮১ পৃষ্ঠা)
▪️ফেরেশতা সম্পর্কে ভ্রান্ত আক্বীদাঃ
“ফেরেশতা প্রায় ঐ জিনিস যাকে গ্রীক, ভারত ইত্যাদি দেশের মুশরিকরা দেবী-দেবতা স্থির করেছে।” (নাঊযুবিল্লাহ)
(তাজদীদ ও ইহইয়ায়ে দ্বীন, ১০ পৃষ্ঠা)
▪️নবীদের ক্ষেত্রে মওদূদী সাহেবের বেয়াদবীমূলক মন্তব্য
হাদীসের বিশাল ভান্ডার আমাদের সামনে রয়েছে। কোন একটি হাদীস কোথাও নেই, যাতে নবীদের সমালোচনা করা হয়েছে। কোন নবীর ব্যাপারে তির্যক মন্তব্য বা খাট করা হয়েছে। কিন্তু মওদুদী সাহেব চরম ঐদ্ধতার সাথে বিভিন্ন নবীদের তার বেয়াদবী কলমে করেছেন নোংরাঘাত।
▪️নবীদের ব্যাপারে তার বেয়াদবীমূলক বক্তব্যের কয়েকটি উদাহরণ পেশ করছি।
১- আম্বিয়া আলাইহিমুছ ছালাত ওয়াস সালাম সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “নবীগণ মা’ছূম নন। প্রত্যেক নবী গুনাহ করেছেন।” (নাঊযুবিল্লাহ) (তাফহীমাত, ২য় খণ্ড, ৪৩ পৃষ্ঠা)
২-মুসা আঃ এর উদাহরণ ঐ তাড়াহুরাকারী বিজেতার মত, যে নিজের অধীনতদের নির্দেশ দেয়া ছাড়াই মার্চ করতে করতে চলে যায়, আর পিছনে জংলার অগ্নির মত বিজিত এলাকায় বিদ্রোহ ছড়িয়ে যায়। [নাউজুবিল্লাহ] {রেসালায়ে তরজুমানুল কুরআন-২৯/৪-৫}
৩-হযরত দাউদ আঃ তার এলাকার ইসরাইলীদের সাধারণ রেওয়াজের বশবর্তী হয়ে উরিয়ার কাছ থেকে তালাকের আবেদন করেন। [নাউজুবিল্লাহ] {তাফহীমাত-২/৪২, দ্বিতীয় প্রকাশ, (তাফহিমুল কোরআন(উর্দু):৪র্থ খণ্ড, সুরা সাদ, ৩২৭ পৃ. ১ম সংস্করণ, অক্টোবর ১৯৬৬ইং)}
৪-হযরত দাউদ আঃ যে কাজটি করেছিলেন তাতে প্রবৃত্তির কামনার কিছু দখল ছিল, শাসন ক্ষমতার অসংগত ব্যবহারের সাথেও তার কিছু সম্পর্ক ছিল, এবং তা এমন কোন কাজ ছিল যা কোন ন্যায়নিষ্ঠ শাসকের জন্য শোভনীয় ছিল না। [তাফহীমুল কুরআন-১৩/৯৫, আধুনিক প্রকাশনী, ১১শ প্রকাশ}
৫-“হযরহ আদম আলাইহিস সালাম মানবিক দূর্বলতায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি শয়তানী প্রলোভন হতে সৃষ্ট তরিৎ জযবায় আত্মভোলা হয়ে নিজ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন। ফলে আনুগত্যের উচ্চ শিখর হতে নাফারমানীর অতল গহ্বরে গিয়ে পড়েন।” (তাফহিমুল কোরআন (উর্দু): ৩য় খণ্ড, ১২৩ পৃ.)
৬-“হযরত নূহ আলাইহিস সালাম চিন্তাধারার দিক থেকে দ্বীনের চাহিদা হতে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তার মধ্যে জাহিলিয়াতের জযবা স্থান পেয়েছিল।” (তাফহিমুল কোরআন: ২য়খণ্ড, ৩৪৪ পৃ. ৩য় সংস্করণ, ১৯৬৪ ইং)
৭- হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ “এখানে আর একটি প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে, হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম যখন নক্ষত্র দেখে বলেছিলেন, এটা আমার প্রতিপালক এবং চন্দ্র-সূর্য দেখে এগুলোকেও নিজের প্রতিপালক হিসাবে আখ্যা দিয়েছিলেন, তখন সাময়িকভাবে হলেও কি তিনি শিরকে নিপতিত হননি?”(তাফহিমুল কোরআন ১মখণ্ড, ৫৫৮ পৃ.)
৮-“নবী হওয়ার পূর্বে মুসা আলাইহিস সালাম দ্বারা একটি বড় গুনাহ হয়েছিল। তিনি এক ব্যাক্তিকে কতল করেছিলেন।”
(রাসায়েল ও মাসায়েল, ১ম খণ্ড, ৩১ পৃ.)
৯-“হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ ‘আমাকে মিসরের রাজকোষের পরিচালক নিয়োগ করুন’- এ কথাটি বলে শুধু অর্থমন্ত্রী হওয়ার জন্যই প্রার্থনা করেননি। কারো কারো ধারনা,বরং তিনি এ বলে ডিকটিটরীই চেয়েছিলেন মৌলিকভাবে। এরই ফলশ্রুতিতে বর্তমান ইতালীর মুসোলিনির যে মর্যাদা তিনিও এর কাছাকাছি মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন।”
(তাফহীমাত: ২য় খণ্ড, ১২২ পৃ. ৫ম সংস্করন এবং নির্বাচিত রচনাবলী(বাংলা) ২য় খণ্ড, ১৫১ পৃ, আধুনিক প্রকাশনী, ১ম সংস্করন ১৯৯১ইং)
১০-“হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম এর দ্বারা রিসালাতের দায়িত্ব আদায় করার ব্যাপারে কিছু ত্রুটি হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত তিনি ধৈর্যহারা হয়ে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই আপন স্থান ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।”
(তাফহিমুল কোরআন: ২য়খণ্ড, সূরা ইউনুস (টিকা দ্রষ্টব্য) ৩য় সংস্করণ, ১৯৬৪ ইং)
১১-“হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম মারা গেছেন একথাও বলা যাবেনা, বরং বুঝতে হবে ব্যাপারটি অস্পষ্ট।”
(তাফহিমুল কোরআন ১মখণ্ড (সুরা নিসা), ৪২১ পৃ.)
১২- হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কেঃ
“আল্লাহ তা’য়ালার নিকট কাতর কন্ঠে এই আবেদন করুন, যে কাজের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছিল তা সম্পন্ন করার ব্যাপারে আপনার দ্বারা যে ভুল ত্রুটি হয়েছে কিংবা তাতে যে অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে তা যেন তিনি ক্ষমা করে দেন।”
(তাফহিমুল কোরআন (বাংলা) ১৯শ খণ্ড, ২৮০পৃ. মুদ্রনেঃ ওরিয়েন্টাল প্রেস, ঢাকা ১৯৮০ ইং এবং কোরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা (বাংলা) ১১২পৃ. ৮ম প্রকাশ, আধুনিক প্রকাশনী: জুন ২০০২)
১৩-“মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক দূর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। অর্থাৎ তিনি মানবিক দূর্বলতার বশীভূত হয়ে গুনাহ করেছিলেন।”
(তরজমানুল কোরআন ৮৫ তম সংখ্যা, ২৩০পৃ. ও তরজমানুস্‌ সুন্নাহ, ৩য় খণ্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠা)
১৪-“মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে মনগড়া কথা বলেছেন এবং নিজের কথায় নিজেই সন্দেহ পোষণ করেছেন।”
(তরজমানুল কোরআন, রবিউল আউয়াল সংখ্যা, ১৩৬৫ হিজরী)
১৫- হযরত মুহাম্মদ (সা.) রিসালাতের দায়িত্ব পালনে ত্রুটি করেছেন, তাকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
(তাফহীমুল কুরআন, সুরায়ে নসর এর তাফসীর)
▪️সাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সম্পর্কে ভ্রান্ত আক্বীদাঃ
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা হল-সাহাবায়ে কেরাম সমলোচনার উর্দ্ধে। তাদের দোষ বর্ণনা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ”। (শরহুল আকায়েদ পৃষ্ঠা ৩৫২)
মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন-আমি [সাহাবাদের] তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও আমার অনুগত। {সূরা তাওবা-১০০}
রাসূল সাঃ সাহাবাদের সম্পর্কে বলেন-আমার সাহাবীরা তারকাতুল্য। তোমরা যারই অনুসরণ করবে হেদায়েত পেয়ে যাবে। {কানুযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০০২, জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-২৪৩৫৫}
অথচ দেখুন মওদুদী সাহেব কিভাবে সাহাবায়ে কিরামকে আক্রমণ করেছেন নোংরা উক্তিতে-
১। “সাহাবায়ে কেরাম সমলোচনার বাহিরে নন। তাদের দোষ বর্ণনা করা যায়। সাহাবাদের সম্মান করার জন্য যদি ইহা জরুরী মনে করা হয় যে, কোনভাবেই তাদের দোষ বর্ণনা করা যাবে না তবে আমার (মওদুদী) দৃষ্টিতে ইহা সম্মান নয় বরং মূর্তি পূজা। যার মূলোৎপাটন এর লক্ষ্যেই জামাতে ইসলামীর জন্ম”। (তরজুমানুল কুরআন ৩৫শ’সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৩২৭)
২।) “সাহাবায়ে কিরাম অনেকে মনগড়া হাদিস বর্ণনা করেছেন।”
(তরজমানুল কোরআন ৩৫ সংখ্যা) ঙ/৩)
৩) “সাহাবাদের মধ্যে জাহেলিয়াতের বদ-স্বভাবের পুনরাবৃত্তি ঘটে।”
(তাফহীমাত ২য় খণ্ড, ১৫৫ পৃষ্ঠা)
৪) “হযরত আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু খিলাফতের দায়িত্ব পালনে সম্পুর্ণ অযোগ্য ছিলেন”।
(তাজদীদ ও ইয়াহইয়ায়ে দীন: পৃষ্ঠা ২২,)
৫) “নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওফাতের সময় ব্যাক্তিসম্মানের কু-মনোবৃত্তি হযরত উমর (রঃ)কে পরাভূত করেছিল।
(তরজুমানুল কুরআন, রবিউস সানি ৩৫৭ হিজরী)।
৬) “হযরত উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু এর মাঝে সজন-প্রীতির বদগুণ বিদ্যমান ছিল।
(খেলাফত ও মুলকিয়াত, পৃষ্ঠা ৯৯)
৭) “হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু স্বীয় খেলাফতকালে এমন কিছু কাজ করেছেন যাকে অন্যায় বলা ছাড়া উপায় নেই। (খেলাফত ও মুলকিয়াত, পৃষ্ঠা ১৪৬/১৪৩)
৮) “হযরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু স্বার্থবাদী, গনিমতের মাল আত্মসাৎকারী, মিথ্যা সাক্ষ্যগ্রহকারী ও অত্যাচারী ছিলেন”।
(খেলাফত ও মুলকিয়াত, পৃষ্ঠা ১৭৩)
▪️পবিত্র কুরআন শরীফ সম্পর্কে ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য
কোরআন করিম হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু নাজাত বা মুক্তির জন্য নয়।” (তাফহিমাত, ১ম খণ্ড, ৩১২ পৃষ্ঠা)
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি (নবী) মানবজাতিকে অন্ধকারের অতল গহবর থেকে উদ্ধার করে আলোর পথ দেখাতে পারেন। সূরা ইবরাহীম, আয়াতঃ ১।
মুফাসসিরীনে কেরামের ব্যাখ্যানুযায়ী আলোর পথই হচ্ছে মুক্তির পথ। কে সত্যবাদী? মহান মালিক নাকি মাওদূদী সাহেব?
নবীজী সাঃ এর হাদীস সম্পর্কে ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য
“হাদীস কিছু লোক থেকে কিছু লোক পর্যন্ত অর্থাৎ মানুষের মুখে মুখে বর্ণিত হয়ে আসছে। এসবকে বড়জোর সঠিক বলে ধারণা করা যেতে পারে কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করার কোন অবকাশ নেই। আর একথা স্পষ্ট যে, আল্লাহর দীনের যে সকল বিষয় এতো গুরুত্বপূর্ণ যে, এগুলোর দ্বারা ঈমান ও কাফেরের মাঝে পার্থক্য নির্ণীত হয় সেগুলো গুটিকয়েক লোকের বর্ণনার উপর নির্ভর করে মানুষকে বিপদগ্রস্ত করা আল্লাহ তায়ালা কখনো পছন্দ করতে পারেন না।”
(রাসায়েল ও মাসায়েল, ৬৭ পৃষ্ঠা) কী কুখ্যাত মন্তব্য!!! একটু বিবেচনা করুন।
▪️মওদূদী সাহেবের আরো কিছু ভ্রান্ত মতবাদ
ইসলামী রীতিনীতি
“পোশাক পরিচ্ছদ, চাল-চলন, আকৃতি-প্রকৃতি চুল কার্টিং ইত্যাদির ব্যাপারে বিধর্মীদের অনুকরণ করতে কোন দোষ নেই”। (তরজুমানুল কুরআন, ছফর সংখ্যা, ১৩৬৯ হিজরী)
ইসলাম বলে, ইসলামী পোশাক-পরিচ্ছদ-প্রকৃতি চাল-চলন ইত্যাদি গ্রহণ করবে। এসব ব্যাপারে বিধর্মীদের অনুকরণ করবে না। (এমদাদুল মুফতিয়ীন, ২য় খণ্ড, ১৫৪ পৃষ্ঠা)
▪️প্রসঙ্গঃ দাড়ি কাটা ও রাখা
ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন-তোমরা গোফ খাট কর আর দাড়ি লম্বা কর। (তিররমিযী শরীফ, হাদিস নং-২৭৬৩)
এছাড়া অন্য হাদিসে এসেছে-পুরুষদের স্বাভাবিক প্রকৃতি হল সে তার দাড়ি লম্বা রাখবে। (আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং-৫৩)
দাড়ি লম্বা করার কথা হয়েছে হাদিসে। কাটার কথা কোথাও নেই। তাই সাহাবায়ে কিরামের আমলই আমাদের একমাত্র ভরসা এই ক্ষেত্রে যে, দাড়ি কতটুকু বড় রাখতে হবে? মুসান্নাফে ইবনে শাইবাতে এসেছে-হযরত ইবনে ওমর রা. এর আমল ছিল-তিনি দাড়ি এক মুষ্টি পরিমাণ রাখতেন। সুতরাং দাড়ি এক মুষ্টি পরিমাণ রাখা ওয়াজিব। এর চে’ কম দাড়ি রাখা আর চেছে ফেলার মাঝে কোন পার্থক্য নাই। যেমন জোহরের ফরজ নামায চার রাকাত। দুই রাকাত সারা জীবন পড়লেও যেমন জোহর কোনদিনও আদায় হবেনা। তেমনি এক মুষ্টির কম দাড়ি রাখলে তা কোনদিনও দাড়ি রাখা বলে সাব্যস্ত হবেনা।
অথচ মওদুদী সাহেবের আক্বিদা দেখুন কী বলে?
“দাড়ি কাটা ছাঁটা জায়িয। কেটে ছেঁটে এক মুষ্টির কম হলেও ক্ষতি নেই। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে পরিমাণ দাড়ি রেখেছেন সে পরিমাণ দাড়ি রাখাকে সুন্নত বলা এবং এর অনুসরণে জোর দেয়া আমার মতে মারাত্মক অন্যায়”। (রাছায়েল মাছায়েল, ১ম খণ্ড, ২৪৭ পৃষ্ঠা)
প্রসঙ্গঃ সুন্নতে রাসূল
“হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদত, আখলাককে সুন্নত বলা এবং তা অনুসরণে জোর দেয়া আমার মতে সাংঘাতিক ধরনের বিদয়াত ও মারাত্মক ধর্ম বিকৃতি।
(রাছায়েল মাছায়েল, ২৪৮ পৃষ্ঠা)
▪️ইসলাম বলে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদত,আখলাক ও স্বভাব-চরিত্র আমাদের অনুকরণের জন্য উত্তম নমুনা বা সুন্নত। মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-তোমাদের জন্য নবীজীর মাঝে রেখেছি উত্তম আদর্শ। (সূরা আহযাব, আয়াতঃ ২১, সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৫৪৪}
প্রসঙ্গঃ দ্বীনের আসল উদ্দেশ্য
“দ্বীনের আসল মকছুদ হলো ইসলামী হুকুমত। নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি সমস্ত ইবাদত হলো উক্ত মকছুদ অর্জনের মাধ্যম”।
(আকাবেরে উম্মত কী নজরমে, ৬৪ পৃষ্ঠা)
* ইসলাম বলে, দ্বীনের আসল মকছুদ নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি কায়েম করা। ইসলামী হুকমত উক্ত মকছুদ অর্জনে সহায়ক। (শরহুল আকায়েদ, ৩০৪ পৃষ্ঠা)
এত সব ভ্রান্ত আক্বিদা পোষণ করার পরও যদি কেউ তাকে আল্লাহ ওয়ালা বলে সম্বোধন করে তাহলে তাদের ক্ষেত্রে আমাদের কী’বা বলার আছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের মওদুদী ফিতনা এবং কথিত আহলে হাদীস ফিতনা, এবং বেদআতি ভন্ড পীরের ফিতনা থেকে আমাদের দেশে সাধারণ মুসলমানদের হিফাযত করুন। আমীন।

উবায়দুর রহমান হুযাইফী উবাইদুর রহমান হুযাইফী

23/08/2025

বায়তুল মুকাররম জাতিয় মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব রংপুর এসেছিলেন। তিনি ইলমের পিপাসা আরো বাড়িয়ে দিয়ে চলে গেলেন। তালীমুদ্দিন একাডেমীর দীর্ঘ ২ ঘন্টা এবং বেগম রোকেয়া ইউনিভার্সিটির ১ ঘন্টার আলোচনার সারমর্ম~

১. আলিমদের জন্য ফিতনায়ে বাতিলা বা ইসলাম বিরোধী সমস্ত মতাদর্শ গভীরভাবে জানা ও বোঝা ফরজ। সাধারণ মানুষের জন্য জানাও জরুরী। আকিদা সহিহ না থাকলে ইমান রক্ষা করা যাবে না।

২. যে কোনো কাজে কর্মে আল্লাহর রাসূলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করা বা তাঁর আদর্শের বিরুদ্ধাচরণ করা সিরাতাল মুস্তাকিমের বিপরীত।

৩. ফিতনা দুই প্রকার। এক. ইসলামের নামে ফিতনা (আহমদিয়া মুসলিম জামাত, ঈসায়ী মুসলিম, আহলে কুরআন, সুফী ইসলাম এবং আধুনিক যুগের ইন্টারফেইথ, বিভিন্ন ইসলামবিরোধী মতাদর্শ) এরা সম্পূর্ণ ইসলামের গণ্ডির বাইরে।
দুই. ইসলামের ভেতরে ফিতনা। (বিভিন্ন বিদয়াত, কাদিরিয়া, জাহমিয়াা) এরা ইসলামের বাইরে চলে গেছে তা বলা যাবে না। কিন্তু ভুলের মধ্যে আছে। এদের মধ্যে ইসলামের নামে মানুষকে ধোঁকা দেয়াটা বেশি মারাত্মক। কারণ সাধারণ মানুষের জন্য এর থেকে বেঁচে থাকা কঠিন।

৪. প্রত্যেকটা বিষয়ে সিরাতাল মুস্তাকিম আছে। বিয়েতে সিরাতাল মুস্তাকিম হলো নবীজির দেখানো পথ। তিনি যেভাবে সংসার জীবন অতিবাহিত করেছেন সেটা বিয়ের জন্য সঠিক পথ। একইভাবে তিনি যে পন্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন সেটাই রাষ্ট্র পরিচালনার সঠিক পথ, যেভাবে সমাজ চালিয়েছেন সেটাই সামাজ পরিচালনার সিরাতাল মুস্তাকিম। কেউ যদি তাঁর পদ্ধতি বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ পছন্দ করে ইসলামের আদর্শ বাদ দিয়ে সেকুলারিজম, মার্কসবাদ লেলিনবাদ মানে তাহলে সে সরাসরি রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করল। আর কেউ রাসূলের বিরুদ্ধে গেলে তার স্থান হলো জাহান্নাম।

৫. এই ফিতনার সময়ে বেঁচে থাকার কৌশল হলো মুমিনদের পথ অনুসরণ করা। মুমিনদের সব অংশ একসাথে গোমরাহ হবে না। এই ফিতনার সময়ে যারা ভিন্ন ভিন্ন দাওয়াতের বিপরীতে কোনটা সঠিক বুঝতে পারবে না তাদের জন্য সঠিকটা চিনতে হলে উম্মতের সম্মিলিত মতের দিকে খেয়াল করতে হবে। কোন মতটা উম্মতের অধিকাংশ আলিম ও মুমিনগণ অনুসরণ করছেন তা বেছে নিবে।

৬. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত একটা স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন এবং বিপদমুক্ত রাস্তা। আমাদের এই আকিদায় অটল থাকতে হবে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আদর্শ চেনার মূলনীতি হলো,
ক. তারা কোনো নবীদের সমালোচনা করে না।
খ. তারা কোনো আহলে বায়েত বা নবী পরিবারের সমালোচনা করে না।
গ. তারা কোনো সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা করে না
ঘ. তারা উম্মতের কোনো ইমামদের সমালোচনা করে না
ঙ. তারা সম্মিলিতভাবে আলিমদের বিরোধিতা বা সমালোচনা করে না।
চ. তারা সর্বাবস্থায় রাসূল সা. ও তার খলিফাদের পথ অনুসরণ করে।
যেখানেই এর বাইরে কোনো কথা হবে বা এর বাইরে কোনো মত পাওয়া যাবে, তা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদার অন্তর্ভুক্ত নয়। যে বা যারা এই পয়েন্টগুলোর বাইরে কিছু বলতে বা বোঝাতে চাইবে আমাদের তাদের সঙ্গ বা সেই স্থান ত্যাগ করতে হবে।

৭. বর্তমান সময়ে জরুরি হলো, আকিদার ইলম অর্জন করা। এরপর জরুরি হলো হালাল হারামের ইলম জানা।

৮. ঐক্যের কারণে সমাজে বিভেদ তৈরি হয়। আকিদার সমস্যা তৈরি হয়। অনেকসময় বৃহৎ স্বার্থে বিভিন্ন দল বা গোত্রের সাথে আমাদের ঐক্য করতে হয়। তবে ইসলামে ঐক্যের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ঐক্যের নামে নিজের আদর্শকে বিকিয়ে দেয়া যাবে না। নির্দৃষ্ট শর্ত ও সুবিধা জেনে বুঝে শরীয়ত অনুযায়ী ঐক্য করা যাবে।

৯. প্রত্যেকটা মানুষের ভেতরে গুনাহ ছাড়ার শক্তি রয়েছে। কিন্তু আমরা সেই ঈমানের শক্তিটা কাজে লাগাই না। যার ফলে গুনাহ থেকে বাঁচতে পারি না। অথচ আল্লাহ তায়ালা শয়তানের সকল ফাঁদকে দুর্বল বলেছেন।

১০. ভার্সিটি ক্যাম্পাস বা নিজ এলাকার ভাইদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দ্বীনি মজলিসে যাওয়ার দাওয়াত দিতে হবে। আদবের সাথে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে বলতে হবে। তারা না আসতে চাইলেও নিয়মিত আহ্বান করে যাওয়া। কারণ তারা ফিরে আসলে এটা আপনার সদকায়ে জারিয়ার কারণ হবে। নেকির আমলনামা বৃদ্ধি পাবে।

১১. পৃথিবীতে যত সমস্যাই থাকুক না কেন এর সমাধান আল্লাহর রাসূল সা. এবং সাহাবায়ে কেরামের জীবনী ও আদর্শ থেকেই হবে। সমস্যা নতুন হোক বা পুরাতন, সমাধান কেয়ামত পর্যন্ত পুরাতন পদ্ধতিতেই হবে।


এছাড়া তার দীর্ঘ সময়ের আলোচনায় তিনি আরও অনেককিছুই বলেছেন। আমি শুধু নিজের অনুভূতি বলি। একটা বিষয় খুব কষ্ট পেয়েছি। তার আলোচনার মাঝখানে বারবার মনে হচ্ছিল, এতদিন কেউ কেন এভাবে ইসলাম বুঝিয়ে দিল না? ইসলাম এত সহজ আর সুন্দর তা কেন জানলাম না?

আসলে আমাদের ইলমের অভাব নেই, বুঝের অভাব নেই কিন্তু বুঝিয়ে দেয়ার মানুষের অভাব। আহ! অন্যরা কি বলবে জানিনা কিন্তু এই মানুষটাকে দেখলে বোঝা যায় প্রকৃত আলিম কি এবং আলিম কাকে বলে। যখন তিনি কুরআনের আয়াত বললেন তখন তার বিশ্লেষণ আমাদের মুগ্ধ করলো বারবার। আর যখন হাদিস থেকে পাওয়া উসূল ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন তা আমাদের গভীর আবেগাপ্লুত করে তুলল। একটা হাদিস নিয়ে এভাবেও ভাবা যায় তা দেখে আশ্চর্য হলাম।

আমি পুরোটা সময় হুজুরের চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকতে চেষ্টা করেছি। এই মানুষটার কদর করতে পারিনি আমরা। জীবনে অনেক আলিমের সাক্ষাত লাভের সৌভাগ্য হয়েছে। অনেককে সামনা সামনি দেখার তাওফিক হয়নি। কিন্তু এখন পর্যন্ত নববী আখলাক আর নবুয়তের সৌরভ মিশে থাকা এই মানুষটার পুরো ব্যক্তিত্ব আমার হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছে। আজ নবি নাই। নবী না থাকার যন্ত্রণা আমরা প্রতিনিয়ত ভোগ করি। কিন্তু এমন একটা মানুষের কাছে আসলে হৃদয়ের সেই ক্ষুধা কিছুটা মেটানোর সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু অন্যদের মাঝে এমনটা নেই কেন? কেন এই আখলাক, এই ভালোবাসা, এই মায়া, এই আবেগ, এই দরদ দিয়ে কেউ এতটা সহজ করে ইসলামটা বুঝিয়ে দেন না আমাদের?

আমরা আজ কোন ইসলাম নিয়ে পড়ে আছি জানি না। সারাদিন যুক্তিতর্ক আর বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা দেখে শুনতে শুনতে ক্লান্ত হৃদয়। আমাদের এমন শান্ত প্রবাহমান স্রোত দরকার। যেখানে গা মেলে দিয়ে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছে করবে। যেখানে কিছুক্ষণ পর পর কারণে অকারণে তার 'লা ইলাহা ইল্লালাহ' বলা আমাদের কোনো ব্যাখ্যা আর বিশ্লেষণ ছাড়াই তাওহীদের সবক শুনিয়ে দেবে।

আমরা অনেক দূরে থাকি। এই উত্তরবঙ্গ চিরকাল অবহেলিত। শুধু দূরত্বের কারণেই অনেককেই সামনে থেকে দেখা হলো না আজও। যারা ঢাকায় বা আশেপাশে থাকেন নিজের সুযোগটা কাজে লাগান। আলোচনা শুনেন বা না শোনেন, কিছু বুঝে আসুক বা না আসুক এই মানুষগুলোকে শুধু দেখার জন্য হলেও তাদের কাছে যান। হৃদয়ের ক্ষুধা সবখানে মেটানো যায় না। এরপর তাদের চেহারায় তাকিয়ে থাকেন। তারা দুনিয়ায় থেকেও এখানে পুরোপুরি থাকেন না। শরীর দুনিয়ায় থাকলেও তাদের হৃদয় থাকে আসমানে। আল্লাহ তায়ালা হুজুর সহ বাংলাদেশের প্রত্যেক হক্কানী রব্বানী আলিমের হায়াতের বরকত দিন। আমিন!

(বয়ানের পয়েন্টগুলো আলোচনা থেকে আসার পর নিজ ভাষায় লেখা হয়েছে। কিছুটা কমবেশি হতে পারে। শিক্ষাগুলো সংরক্ষণে লিখেছি। ভুলত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে এটা আমার পক্ষ থেকেই।)

২০/৮/২০২৫
লিখেছেন বাইজিদ বোস্তামী।
ভাল লাগলো তাই কপি করি।

23/05/2025

২৪ ঘন্টা রাজধানীর সফর শেষ। চট্টগ্রাম, মীরসরাই, মহামায়া, রাবারড্যাম, ঠাকুরদীঘি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা, ফি আমানিল্লাহ।

Photos from মোহাম্মাদ কাউছার's post 01/04/2025

ঈদ মুবারক ১৪৪৬ হিজরী

Photos from মোহাম্মাদ কাউছার's post 03/02/2025

জেঠি-মার শেষ বিদায়

15/01/2025

অমুসলিমদের ইসলামের দাওয়াত প্রদানের ১০ উপায়
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
প্রশ্ন: অমুসলিমকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাই।

উত্তর:
প্রথমে আমরা ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান করার গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করার পর অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেয়ার পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

❒ মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব ও মর্যাদা:
মহান আল্লাহ বলেন:
ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
“হেকমত (জ্ঞান ও প্রজ্ঞা) ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তোমার রবের পথে আহবান কর। আর সর্বোত্তম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। আপনার রব তো সবচেয়ে বেশি জানেন কে তার পথ থেকে বিচ্যুত এবং তিনিই ভাল জানেন কে হেদায়েত প্রাপ্ত। (সূরা নাহলঃ ১২৫)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ
“তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একজন লোককেও হেদায়েত দেন তবে তা তোমার জন্য একটি লাল উট পাওয়া থেকেও উত্তম।” (বুখারী ১২/৩৭)
তিনি আরো বলেন:
مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنْ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا
“যে ব্যক্তি হেদায়েতের পথে আহবান করে সে ঐ পরিমাণ সওয়াবের অধিকারী হয় যে ব্যক্তি তদনুযায়ী আমল করে। কিন্তু এতে আহ্বানকারীর সওয়াব কমানো হয় না।”

❒ অমুসলিমকে দাওয়াত দেয়ার ১০টি পদ্ধতি:

🔸 ১. যার নিকট ইসলামের দাওয়াত দিতে চান নিজেকে তার সামনে আদর্শ মুসলিম হিসেবে ফুটিয়ে তোলা। একজন দাঈ সকল অবস্থায় তার আচার-ব্যবহার কথা-বার্তা, ইবাদত-বন্দেগি ইত্যাদি বিষয়ে আদর্শবান হবেন। কারণ আদর্শবান ব্যক্তিত্ব ও সুন্দর ব্যবহার মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে খুব বেশি অবদান রাখে।

🔸 ২. দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে জ্ঞান, প্রজ্ঞাপূর্ণ সুন্দর ও নম্র ভাষা ব্যবহার করা এবং বিতর্কের প্রয়োজন হলে দলীল-প্রমাণ ও যৌক্তিক পদ্ধতিতে বিতর্ক করা।
🔸 ৩. যাকে দাওয়াত দিবেন তার চিন্তা-ভাবনা, সংশয়, মতবাদ, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে যথাসম্ভব জানার চেষ্টা করা এবং সে আলোকে তার সাথে কথা বলা।
🔸 ৪. সবার আগে তার হৃদয়ে তাওহীদ-একত্ববাদ ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের বীজ বপন করা। মহান আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা এবং জীবন ও মৃত্যু দাতা। ভালো কাজ করলে তিনি পরকালে আমাদেরকে পুরস্কৃত করবেন এবং খারাপ কাজের প্রতিদানে শাস্তি প্রদান করবেন।
এছাড়াও ইসলামের অন্যান্য আকীদা ও বিশ্বাসের মৌলিক বিষয়গুলো তার হৃদয়পটে প্রথিত করা।
🔸 ৫. ধৈর্য ধারণ করা। সময়, শ্রম, তার অনাগ্রহ, অভদ্র আচরণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ধৈর্যের পরিচয় দেয়া। তাড়াহুড়া ফল লাভের আশা করা ঠিক নয়। আপনার আজকের দাওয়াত হয়ত বহু দিন পর তার হৃদয়কে আলোড়িত করবে। তাই দাওয়াত অব্যহত রাখতে হবে। কোনভাবেই হতাশা অনুভব করা যাবে না। বরং দীর্ঘ মেয়াদী চিন্তা সামনে রেখে সবরের পরিচয় দেয়া জরুরি।
🔸 ৬. তাকে কুরআন পড়ার জন্য উৎসাহিত করা। প্রয়োজনে তাকে কুরআনের তরজমা ও তাফসীর উপহার দেয়া।
🔸 ৭. তার সামনে ইসলামের সৌন্দর্যময় দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা। অন্যের ধর্ম বা মতবাদের বদনামের চেয়ে তার কাছে ইসলামের সৌন্দর্যময় দিকগুলো তুলে ধরা অধিক প্রলপ্রসূ।
🔸 ৮. দাওয়াতের স্বার্থে যাকে দাওয়াত দিতে চান তার সেবা ও সমস্যা সমাধানে নিজের সময়, শ্রম, মেধা ও যথাসম্ভব অর্থ খরচ করা।
🔸 ৯. তার জন্য ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের উপায়-উপকরণগুলো সহজলভ্য করা। যেমন কিছু ভালো বই পড়তে দেয়া বা ভালো ওয়েব সাইট, ভিডিও ক্লিপ ইত্যাদিগুলো সরবরাহ করা।
🔸 ১০. তার হেদায়েতের জন্য মহান আল্লাহর নিকট দুআ করা।

মনে রাখতে হবে, আল্লাহই প্রকৃত হেদায়েতের মালিক। তিনি যাকে ইচ্ছা আলোকিত পথের সন্ধান দেন। আমাদের কাজ কেবল দ্বীনের দিকে আহ্বান জানানো এবং এ পথে যথাযথভাবে পরিশ্রম করা এবং ফলাফল একমাত্র আল্লাহর উপর সমর্পন করা।

▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
উত্তর প্রদান ও গ্রন্থনায়:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

21/08/2024

বাঁধ খুলে দিতে ভারত হিসেব করে না। ওপারে বসবাস করে হিন্দু না মুসলমান। ওরা হিসাব করে ওপারে সবাই বাংলাদেশী।

28/02/2024
Photos from মোহাম্মাদ কাউছার's post 24/02/2024

রেললাইন ছুটি নির্জনতার জন্য মাঝে মধ্যে হঠাৎ কোন কারণ ছাড়া

Want your school to be the top-listed School/college in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Chittagong