26/12/2025
শিক্ষার্থীদের শাসনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতির ১টি সমন্বয় প্রয়োজন। যেহেতু মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা অনেক সময় আবাসিক থাকে, শিক্ষকদের ভূমিকা একজন অভিভাবক বা মুরুব্বি হওয়া উচিত।
১. নবী (সা.) আদর্শ অনুসরণ করা, রাসূল (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি কখনো মারধর করেননি। স্নেহ ও মমতা শাসনের আগে ছাত্রদের সাথে মহব্বত বা স্নেহের সম্পর্ক তৈরি করুন। ছাত্র যখন অনুভব করবে, উস্তাদ তাকে ভালোবাসেন, তখন উস্তাদের সামান্য অসন্তুষ্টি তার কাছে বড় শাস্তি মনে হবে। ধৈর্য ধারণ: ছাত্ররা ভুল করবে, তাদের বারবার ক্ষমা করে ধৈর্যের সাথে সংশোধন করা সুন্নাহর অংশ।
২. শারীরিক প্রহার থেকে বিরত থাকা ১সময় মাদ্রাসায় বেত ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনেক ক্ষেত্রে আইনি নিষিদ্ধ। ক্ষতি দিক: অতিরিক্ত মারধর ছাত্রের মন থেকে উস্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা চলে যায় এবং সে বেয়াদব বা জেদি হয়ে ওঠে।
বিকল্প পদ্ধতি: শারীরিক কষ্টের বদলে তাকে পড়াশোনা অতিরিক্ত বাড়ির কাজ দেওয়া বা কিছু সময়ের জন্য কথা বলা বন্ধ রেখে মানসিক শাসন বেশি কার্যকর।
৩. নসিহত ও ব্যক্তিগত পরামর্শ মাদ্রাসার ছাত্ররা সাধারণত দ্বীনি পরিবেশে থাকে, তাই তাদের অন্তরে রব্ এর ভয় ও আখিরাতের স্মরণ করিয়ে দেওয়া খুব কার্যকর।
একান্তে বোঝানো: সবার সামনে অপমান না করে আলাদা ডেকে নিয়ে তার ভুলের ধর্মীয় ও নৈতিক ক্ষতিগুলো বুঝিয়ে বলুন।
তাকওয়া শিক্ষা: তাকে বোঝানো, সে ১জন দ্বীনি তলেবে ইলম, তার আচরণ অন্যদের চেয়ে উন্নত হওয়া উচিত।
৪. আদব ও শিষ্টাচার শুধু কিতাব পড়ানো নয়, বরং আদব শেখানো মাদ্রাসার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
রুটিন মানা: নামাজের জামাত, তিলাওয়াত এবং খাবারের আদব পালনে কঠোরতা না করে অভ্যাসে পরিণত করতে উৎসাহিত করুন।
উদাহরণ হওয়া: শিক্ষক নিজে যদি আমল ও আখলাকে আদর্শ হন, তবে ছাত্ররা তাকে দেখে আপনাআপনিই সংশোধিত হবে।
৫. অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ যদি কোনো ছাত্র বারবার ভুল করে বা অবাধ্য হয়, তবে নিজে কঠোর শাসন না করে, অভিভাবককে বিষয়টি জানান। মাদ্রাসার নিয়ম মাফিক পদক্ষেপ নিন।
৬. বৈষম্য না করা সব ছাত্রকে সমান চোখে দেখা। ছাত্রের পক্ষপাতিত্ব বা কারো প্রতি অতিরিক্ত কঠোরতা ছাত্রের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
শিক্ষকের জন্য: যখন কোন ছাত্রের ওপর রাগ আসে, তখন ভাবুন, সে আপনার ১টি আমানত। শাসনের উদ্দেশ্য যেন নিজের রাগ মেটানো না হয়, তার ইছলাহ হয়।