As-Safa Adarsha Shikkha Niketon

As-Safa Adarsha Shikkha Niketon A modern & science-based educational institution

আমি জাকারিয়া, আর এটি আমার গল্প—সংগ্রাম, ত্যাগ আর পরিবারকে বদলে দেওয়ার জেদ নিয়ে গড়ে ওঠা এক যাত্রা।আমি সিরাজগঞ্জের একট...
30/04/2025

আমি জাকারিয়া, আর এটি আমার গল্প—সংগ্রাম, ত্যাগ আর পরিবারকে বদলে দেওয়ার জেদ নিয়ে গড়ে ওঠা এক যাত্রা।

আমি সিরাজগঞ্জের একটি দূরবর্তী গ্রাম চরকাদাই থেকে এসেছি। আমাদের গ্রামে এর আগে কখনও কেউ বুয়েটে ভর্তি হতে পারেনি। এবার আমি সেই ইতিহাস গড়েছি—বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় ৩৮৩ তম হয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিভাগে সুযোগ পেয়েছি। এটি সহজ ছিল না, কিন্তু প্রতিটি কষ্ট সার্থক হয়েছে।

আমার শৈশব কেটেছে অনেক কষ্টে। আমার বাবা একজন কৃষক, কিন্তু নিজের কোনো জমি নেই। অন্যের জমিতে খেটে আমাদের বড় পরিবারকে খাবার জোগাতেন। সংসারে ছিল বহু সদস্য, কিন্তু আয় ছিল সামান্য। আমার বড় বোনেরা পড়াশোনা ছেড়ে ঘরের কাজ সামলাতো। বড় ভাই বিভিন্ন জেলায়—ফরিদপুর, টাঙ্গাইল—মজুরি খাটতে যেতেন একটু বেশি পারিশ্রমিকের আশায়। আমরা গরিব ছিলাম, কিন্তু আমার পরিবার সব সময় বলেছে, “বড় স্বপ্ন দেখো।” তাদের ত্যাগ দেখেই আমি ছোটবেলা থেকেই বুঝেছিলাম—আমি ভিন্ন কিছু করতে চাই। আমি সিদ্ধান্ত নিই, আমি কখনও শহরের নামী স্কুল বা কোচিং করা ছেলেদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করব না। আমি নিজের পথে হাঁটতে চেয়েছি, নিজের স্বপ্নকে বাস্তব করতে চেয়েছি।

আমার আশ্রয়স্থল ছিল স্কুল। আমি পড়তাম বেলতলা হাই স্কুলে—একটা সাধারণ গ্রামীণ স্কুল। পরে শাহজাদপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হই, সেখান থেকে শুরু হয় নতুন চ্যালেঞ্জ। আমাদের বাসা ছিল ছোট, শব্দে ভরা—পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন ছিল। তাই আমি মেসে উঠে পড়াশোনায় মন দিই। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট সব সময় ছিল। ২০২২ সালের আগে আমাদের একটি মোবাইলও ছিল না অনলাইন ক্লাস করার জন্য। পরে ভাইয়ের বৃত্তির টাকা ও এক আত্মীয়ের সহায়তায় একটি স্মার্টফোন পাই। সেই ফোনটা হয়ে উঠেছিল আমার বেঁচে থাকার রসদ। ইউটিউবে খুঁজে খুঁজে দেখতাম যারা দারিদ্র্য জয় করে সফল হয়েছে—এই গল্পগুলো আমাকে অনুপ্রাণিত করত। সেই সঙ্গে আমি ইউটিউবের সেরা শিক্ষকদের ফ্রি ক্লাস থেকে পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ও রসায়নে দক্ষতা অর্জন করতাম।

এসএসসি-তে ভালো রেজাল্ট করলেও, ভালো কলেজে ভর্তি হওয়ার সামর্থ্য ছিল না। তাই নিজের এলাকায় থেকে আত্মনির্ভর হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাই। মাসে ৪,০০০ টাকা মেস ফি জোগাতে আমি ছোট ছেলেমেয়েদের পড়াতাম, মাসে পেতাম ৩,০০০ টাকার মতো। সেটা যথেষ্ট ছিল না—তাই অনেক সময় খাবার কম খেতাম বা ভালো খাতা কিনতাম না। সস্তা কাগজে পুরোনো প্রশ্ন সমাধান করতাম যেগুলো কিনতাম সেকেন্ড হ্যান্ড বইয়ের দোকান থেকে।

আমার পরিবার এমন কিছু করেছে যা আমি কোনোদিন ভুলব না। আমার ভাই তার কষ্টার্জিত টাকায় আমাকে একটি বিখ্যাত অনলাইন কোর্সে ভর্তি করায়। আমার বোনের বিয়ের জন্য আমাদের এক চাচির জমি বিক্রি করা হয়—সেখান থেকে কিছু টাকা আমি ব্যবহার করি একটি নামী কোচিং সেন্টারের অফলাইনে পরীক্ষার জন্য যেখানে আমার ব্যাচমেটরাও পরীক্ষা দিত। আমি ঠিক করেছিলাম—এই ত্যাগ বৃথা যেতে দেব না।

পড়াশোনা ছিল আমার নেশা। প্রতিদিন ১২–১৩ ঘণ্টা ধরে ক্লাস করতাম, এমনকি কঠিন সময়েও—যেমন জুলাই আন্দোলনের সময়। আমার কোনো প্রাইভেট টিউটর ছিল না, তাই নিজেই সমস্যা বোঝার চেষ্টা করতাম। একা একা অংকের সমস্যা সমাধান করতে করতে দক্ষতা গড়ে উঠেছিল।

ভর্তি মৌসুম ছিল চরম প্রতিযোগিতামূলক। আবেদন ফি আর যাতায়াত খরচ বহন করাই কষ্টকর ছিল। আমি মাত্র তিনটি পরীক্ষায় আবেদন করতে পেরেছিলাম—বুয়েট, কুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পরীক্ষার জন্য ট্রেনে দাঁড়িয়ে যেতাম খরচ কমানোর জন্য, অনেক সময় লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলতাম বন্ধুদের সামনে। আমি পরিচিতদের মাধ্যমে হোস্টেলে থেকেছি কারণ ঢাকা বা খুলনায় আমার কোনো আত্মীয় ছিল না। পরীক্ষার আগের রাতে ২–৩ ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারিনি—চিন্তায় ঘুম আসত না। এদিকে আমার বাবা তখন গুরুতর অসুস্থ—টিউবারকুলোসিসে ভুগছিলেন। আমি পড়ার টেবিলে বসে কাঁদতাম, দোয়া করতাম—বাবার সুস্থতা আর আমার সাফল্যের জন্য। আমার ফোনের ওয়ালপেপারে মা-বাবার ছবি দিতাম—ওই মুখগুলোই আমার শক্তি ছিল।

বুয়েটের ফল প্রকাশের দিন আমি ভীষণ টেনশনে ছিলাম। কখন ফল আসবে তা নিয়ে অনেক গুজব ছিল। রাত ৯টার পর ফোনে রিফ্রেশ করতে থাকি—ব্যাটারি তখন মাত্র ২%। নেটওয়ার্ক খারাপ ছিল, PDF খুলতেই পারছিলাম না। প্রথমে নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে মনে হলো—আমি ফেল করেছি। মা-কে বললাম, দুজনেই খুব ভেঙে পড়লাম। পরে এক বন্ধুকে মেসেজ দিলাম—তার র‍্যাঙ্ক ছিল ১৩০০-এর আশেপাশে—সে আমাকে একটু আশা জোগাল। এক সিনিয়রকে রোল নম্বর দিই—তিনি চেক করে বলেন, "তুই ৩৮৩ হয়েছিস, আর তোর সাবজেক্ট EEE!" বিশ্বাসই হচ্ছিল না। আমি তো ভাবতাম ওয়েটিং-এ থাকলেও হবে। EEE?

আমি দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলাম, কাঁদলাম। বাবার কপালে চুমু খেলাম—তিনিও কেঁদে ফেললেন। আমাদের ঘরে যেন উৎসব শুরু হয়ে গেল। সবাইকে জানালাম। আমার পরিবার, যারা এত কষ্ট করেছে, এবার প্রথমবারের মতো ভবিষ্যতের আলো দেখতে পেল। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করল—আমি একদিন আমাদের দারিদ্র্য ঘোচাতে পারব।

আমার জুনিয়রদের জন্য বলি—সংগ্রামকে আলিঙ্গন করো। এটাও পথের অংশ। নিজের তুলনা অন্যের সাথে করো না। সময় দাও পড়ার টেবিলে। সেল্ফ-স্টাডিই তোমার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। পাঠ্যবই ভালো করে পড়ো, নিয়মিত থেকো, সোশ্যাল মিডিয়ার মতো বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকো। কলেজে ঢুকেই সিরিয়াস হয়ে পড়াশোনায় মন দাও। ইউটিউবের ফ্রি ক্লাস কিংবা যেকোনো কোর্স ব্যবহার করে নিজের স্কিল গড়ে তোলো। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তোমার পরিবারের স্বপ্ন যেন তোমার চালিকাশক্তি হয়। তারা তোমার দিকে যে চোখে তাকায়, সেটা মনে রাখো। ওই দৃষ্টি তোমাকে ফোকাসড রাখবে।

এই পথ শুধু আমার ছিল না—এটা ছিল আমার বাবার ঘাম, ভাইয়ের ত্যাগ, বোনের সমর্থন আর মায়ের দোয়ার পথ। যদি আমি চরকাদাইয়ের মতো ইন্টারনেট-বিহীন, কাঁচা রাস্তার গ্রামের একজন ছেলে হয়ে বুয়েট যেতে পারি, তবে তুমিও পারো। যদি ইচ্ছাশক্তি দৃঢ় হয়, তবে কোনো বাধাই বড় নয়।

– Jakaria Hossen

বড় হতে পারবে তো ততটুকু,সময় ও শ্রম দেবে যতটুকু,জেনে রেখো, পৃথিবীতে যারা বড় হতে চায়,নির্ঘুম থাকে তারা কাজে আর চেষ্টায়...
22/09/2022

বড় হতে পারবে তো ততটুকু,
সময় ও শ্রম দেবে যতটুকু,
জেনে রেখো, পৃথিবীতে যারা বড় হতে চায়,
নির্ঘুম থাকে তারা কাজে আর চেষ্টায়।

— ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহ

বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই?পুকুর ধারে লেবুর তলে,থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,ফুল...
09/09/2022

বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে লেবুর তলে,
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো;
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
খাবার খেতে আসি যখন
দিদি বলে ডাকি তখন,
ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো?
আমি ডাকি, তুমি কেন চুপটি করে থাকো?

বলো মা, দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল বিয়ে হবে!
দিদির মত ফাঁকি দিয়ে
আমিও যদি লুকাই গিয়ে
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন ক'রে রবে?
আমিও নাই, দিদিও নাই— কেমন মজা হবে!

ভূঁই-চাঁপাতে ভরে গেছে শিউলী গাছের তল,
মাড়াসনে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল।
ডালিম গাছের ফাঁকে ফাঁকে
বুলবুলিটা লুকিয়ে থাকে,
উড়িয়ে তুমি দিও না মা ছিঁড়তে গিয়ে ফল,
দিদি যখন শুনবে এসে বলবি কি মা বল্।

বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
এমন সময় মাগো আমার কাজলা দিদি কই?
লেবুর তলে পুকুর পাড়ে
ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোপে ঝাড়ে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, তাইতো জেগে রই–
রাত্রি হলো মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?

কাজলা দিদি || যতীন্দ্রমোহন বাগচী

26/06/2022

চকরিয়ার প্রথম এমপি ও মন্ত্রী:

বৃটিশ সরকারের অধীনে ভারতবর্ষে প্রথম সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৩৬ সালে। চকরিয়াসহ সমগ্র কক্সবাজার জেলা ছিল একটি আসন। পুরো জেলায় (তখন কক্সবাজার জেলাকে মহকুমা বলা হতো) সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৮৩৮৭। একে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক প্রজা পার্টি থেকে বর্তমান হারবাং ইউনিয়নের খান বাহাদুর জালাল উদ্দিন (জন্ম-১৮৮১ মৃত‍্যু-১৯৫৭) ৩৭৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগের প্রার্থী কাকারা ইউনিয়নের প্রখ‍্যাত সাহিত্যিক আব্দুর রশিদ সিদ্দিকী। তিনি ভোট পান ৩৪৫৩। খান বাহাদুর জালাল উদ্দিন পরবর্তীতে অবিভক্ত বাংলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। বর্তমান বাটাখালী ব্রিজ থেকে বদরখালী পর্যন্ত সড়কটি খান বাহাদুর জালাল উদ্দিন এর নামে কে বি জালাল উদ্দিন সড়ক হিসেবে নামকরণ করা হয়।

10/06/2022

What if you don’t wash the apples well?

28/03/2022

তাওস (রাহি.) তাঁর পুত্রকে উপদেশ দেন:

“হে আমার পুত্র!

জ্ঞানীদের সঙ্গে থেকো, তাহলে তুমিও জ্ঞানী বলে পরিচিত হবে– যদিও তুমি তাদের মতো না হও।

মূর্খদের সঙ্গে মিশো না, তাহলে তুমিও মূর্খ বলে বিবেচিত হবে– যদিও তুমি তাদের মতো না হও।”

[হিলইয়াহ উল-আউলিয়া, ৪/১৩]

16/03/2022
A.M. stands for “Ante Meridiem,” which is Latin for “Before Midday”; P.M. stands for “Post Meridiem,” which is Latin for...
13/01/2022

A.M. stands for “Ante Meridiem,” which is Latin for “Before Midday”; P.M. stands for “Post Meridiem,” which is Latin for “After Midday.”

13/11/2021

Your age doesn’t define your maturity, your grades don’t define your intellect, and rumors don’t define who you are.

Address

Chakaria, Cox's Bazar
Chittagong
CHITTAGONG

Telephone

+8801819269225

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when As-Safa Adarsha Shikkha Niketon posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category