20/01/2026
জামায়াতের আমির বলেছেন:
আমরা এক্সিস্টিং আইন সংস্কার করে দেশ চালাবো।
জনগণ চাইলে পরে শরিয়াহ বাস্তবায়ন হবে।
এটা নিয়ে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে,
তারা কি সত্যিই নবীজি (সা.) এর সীরাত ও জীবনচরিত্র বোঝে? নাকি আবেগ আর দলকানার মতো দ্বীনকে বিচার করছে?
চলুন, দলিল দিয়ে কথা বলি।
১) কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা :-
রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর প্রায় ১৭ মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ পড়েছেন।
তিনি জানতেন কাবাই আসল কিবলা।
তবুও আল্লাহর হুকুম ও সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছেন।
প্রশ্ন হলো :-
এটা কি আপস ছিল?
না কি হিকমাহ ও প্রজ্ঞা?
২) মদ হারাম হওয়ার প্রক্রিয়া:-
মদ এক দিনে হারাম হয়নি।
আল্লাহ তাআলা তিন ধাপে, তিন স্তরে মদ হারাম করেছেন।
কারণ সমাজকে প্রস্তুত করতে হয়। মানুষকে বদলাতে সময় লাগে।
৩) মক্কায় ১৩ বছর কোনো শরিয়াহ শাস্তি ছিল না
না হাত কাটার আইন, না রাষ্ট্রীয় শাস্তি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) কি চাইলে এক দিনেই এসব ঘোষণা করতে পারতেন না?
পারতেন। কিন্তু করেননি কেন?
কারণ তিনি আগে মানুষের চরিত্র পরিবর্তন
আর মানসিক প্রস্তুতির অপেক্ষা করেছিলেন।
এই ঘটনাগুলো আমাদের কী শেখায়?
রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগের বিষয় না।
এটা হিকমাহ, ধৈর্য আর বাস্তবতা বোঝার বিষয়।
হুট করে শরিয়াহ বা খেলাফত ঘোষণা দিলে
বিশ্বশক্তি আপনাকে এক দিনও টিকতে দেবে না।
বিশ্ব রাজনীতি, কূটনীতি এসব কি আমরা ভুলে যাব?
জামাত দেশ-বিদেশি আন্তর্জাতিক জ্ঞান সম্পূর্ণ ১৭৭ জন অধ্যাপক, প্রফেসর , ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়ার , এডভোকেট , হাফেজ ও আলেম নিয়ে গঠিত একটি দল। আমরা বিশ্ব রাজনৈনীতি আর ইতিহাস না জানলেও তারা খুব ভালো করে জানে।
মিসরের উদাহরণ দেখুন।
মুসলিম ব্রাদারহুডের ড. মুরসি প্রেসিডেন্ট হলেন।
তার সঙ্গে ছিল সালাফি ধারা ও নূর পার্টি
এই নূর পার্টি আমাদের দেশের কিছু চরমপন্থি চিন্তার মতোই।
এই নূর পার্টি তিন মাসের মাথায় চাপ দিতে শুরু করল কেন এখনই খেলাফত ঘোষণা করা হচ্ছে না?
কেন হাত কাটার আইন জারি করা হচ্ছে না?
এই চাপেই মুরসি কিছু তাড়াহুড়া সিদ্ধান্ত নিলেন।
ফলাফল কী হলো?
এক বছরের মাথায় আন্তর্জাতিক চাপে
তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।
আর সেই নূর পার্টিই পরে
স্বৈরাচার সিসির সঙ্গে হাত মিলালো। এই নূর পার্টির মতো আমাদের দেশের কিছু আলেম ক্ষমতার লোভে বিবক্ত হচ্ছেন।
এই ইতিহাস কি আমাদের কিছু শেখায় না?
ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
লোক দেখানো শতশত লোকের জমায়েত দিয়ে হয় না।
গরম বক্তৃতা দিয়েও হয় না।
দরকার বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা, আর অসীম ধৈর্য। যা জামাতের আছে।
আমাদের রাজনীতির সিস্টেমটাই পচে গেছে।
এই পচা ব্যবস্থা থেকে বের হতে হলে
আগে মানুষের বিবেক জাগ্রত করতে হবে,
চারিত্রিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে।
তারপরই মানুষ বুঝবে
শরিয়াহ কী, এর সুফল কী, আর কেন এটা দরকার।
আরো কিছু উদাহরণ:-
ইসলাম শরিয়া সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে যা ইচ্ছা বলা যায়। আসোন আরো জানার চেষ্টা করি।
১) হুদাইবিয়ার সন্ধি
রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক চুক্তিতে সই করেছিলেন
যেটা বাহ্যিকভাবে মুসলমানদের জন্য অসম্মানজনক মনে হয়েছিল।
চুক্তিতে রাসুলুল্লাহ শব্দ পর্যন্ত মুছে ফেলতে হয়েছিল।
সাহাবিরা কষ্ট পেয়েছিলেন।
উমর (রা.) পর্যন্ত প্রশ্ন করেছিলেন।
কিন্তু ফল কী হলো?
এই আপাত-আপসই ইসলামকে শক্ত ভিত দিল। দুই বছরের মধ্যে মানুষ দলে দলে ইসলামে ঢুকল।
মক্কা বিজয়ের পথ খুলে গেল।
এটা কি দুর্বলতা ছিল?
না এটা ছিল দূরদর্শী প্রজ্ঞা।
২) মুনাফিকদের বিরুদ্ধে শাস্তি না দেওয়া
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ছিল প্রকাশ্য মুনাফিক। বারবার ষড়যন্ত্র করেছে।
তবুও রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে শাস্তি দেননি।
কারণ কী?
তিনি বলেছেন
মানুষ বলবে মুহাম্মদ তার সঙ্গীদের হত্যা করে।
রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা,
বাইরের প্রতিক্রিয়া
এসব তিনি বিবেচনায় নিয়েছেন।
এটা কি আপস?
না এটা রাষ্ট্র পরিচালনার হিকমাহ।
৩) ইয়াহুদিদের সঙ্গে মদিনা সনদ
মদিনায় এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)
মুসলিম, ইয়াহুদি, মুশরিক
সবাইকে নিয়ে একটি সংবিধান বানালেন।
একদিনেই ইসলামিক কোড চাপিয়ে দেননি। বরং সহাবস্থান, চুক্তি, দায়িত্ব নির্ধারণ করেছেন।
আজ যারা বলে
একদিনে সব চালু কর
তারা কি এই মদিনা সনদ জানে?
৪) ধীরে ধীরে আইন বাস্তবায়ন
জাকাত বাধ্যতামূলক হলো
মদিনায় শক্ত ভিত্তি হওয়ার পর।
হজ ফরজ হলো আরও পরে।
ইসলাম নিজেই ধাপে ধাপে এগিয়েছে।
তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় হঠকারিতা কেন?
Copy--->paste