12/02/2020
কম পড়ে ভালো করার কৌশল
১) কৌশলে পড়া
শৈশবে আমাদের অনেকের কাছে এক প্রকার আতংক ছিলো ‘সরল’ নামের বৃহদাকার অংকগুলো। স্কুলে শেখানো হলো সেই যুগান্তকারী মনে রাখার অস্ত্র “BODMAS”। যেটা কিনা সরলের জটিলতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিলো। পরিমাপের একক মনে রাখার জন্য ছিল- 'কিলায়ে হাকায়ে ডাকাত মারিলে দেশে শান্তি মিলিবে।'
এভাবে ইংরেজির আতংক ভোকাবুলারি, পদার্থবিদ্যা বা গণিতের যেকোনো কঠিন আর হিজিবিজি সূত্র কিংবা রসায়নের নিরস বিক্রিয়া মনে রাখার নিজস্ব কৌশল বের করতে হবে।
২) পড়ার সময় মোবাইলকে ‘না’ বলো
মোবাইল হলো সবচেয়ে বড় মনোযোগ বিনষ্টকারী। পড়তে বসো বিকেল বেলায় কিংবা এমন একটা সময়ে যে সময়টায় মানুষ সাধারণত অনলাইনে থাকে না।
মোবাইলটাকে রাখো হাতের নাগালের বাইরে। অর্থাৎ এমন একটা জায়গায় যাতে করে হাত বাড়ালেই না পাওয়া যায়।
আমরা পড়ার ফাঁকে বিরতি নিলে সাধারণত সবার আগে সেই মোবাইলটাকেই হাতে নিই। এই জিনিসটা করা যাবে না।
৩) বিরতি দিয়ে পড়া
একটানা পড়ে যাওয়ার চাইতে মাঝখানে বিরতি নিয়ে পড়লে, সেই পড়া স্মৃতিতে অধিকতর স্থায়ী হয়।
পড়ার মাঝখানে বিরতি নিয়ে পুনরায় পড়ার যে প্রক্রিয়া এর নামই স্পেসড রিপিটেশন সিস্টেম। পড়া ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করতে এই ট্রিকটি কাজে লাগানো যেতেই পারে।
আর বিরতিতে একটুখানি ঘুম স্মৃতিতে পড়ার স্থায়িত্ব বাড়াবে কয়েকগুণ। তাই, ঘুমের ব্যাপারটা ভুলে গেলে চলবে না।
৪) নির্জন জায়গায় পড়া
পড়ার জন্য একটা জায়গা নির্ধারণ করে ফেলো।
পড়ায় মনোযোগ ধরে রাখতে কোথায় পড়া হচ্ছে সেই জায়গাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেটা হতে পারে তোমার বাসার একটা নির্জন আর পরিচ্ছন্ন জায়গা। জায়গাটা এমন হতে হবে যেখানে তুমি যেতে অভ্যস্ত; যাতে করে সেখানে যাওয়া মাত্রই মনোযোগ চলে আসে।
৫) নিজে শিখে অন্যকে শেখাও
কেউ কিছু শেখার পর পর সেটা যদি অন্যকে শেখাতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে শেখায় ঘাটতি রয়েছে! তাই এখন থেকে নিজে নতুন যাই শেখো না কেন সেটা অন্যকে শেখানোর চেষ্টা করবে। তাহলেই সে শেখা অধিকতর স্থায়ী হবে।
৬) পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস করতে হবে
গবেষণায় দেখা গেছে, মনোযোগ স্থির রাখতে পানির ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার পড়তে বসার আগে এক গ্লাস পানি পান করে বসা গেলে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অনেকখানি বেড়ে যায়।
৭) ভিন্ন রঙের কলম ব্যবহার করা
পড়তে গিয়ে যখনই কোনো গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, বাক্য বা তথ্য চোখে পড়বে সবসময় সেটাকে অন্য রঙয়ের কালি দিয়ে চিহ্নিত করে রাখলে রিভিশনের সময় কাজে দেবে।
নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযুক্ত করতে হলে স্টিকি নোটে লিখে রাখতে পারো।
৮) গাইতে গাইতে গায়েন –
যেকোনো জিনিস মনে রাখা কিংবা যেকোনো বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর জন্যে সবচাইতে কার্যকরী উপায় হলো অনুশীলন বা চর্চা। যাই শেখা হোক না কেন সেটা প্রতিনিয়ত অনুশীলন করতে হবে, যাচাই করতে হবে।
০৯) সময়ের কাজ সময়ে করা
আমাদের হুঁশ ফেরে একদম শেষ মুহূর্তে, পরীক্ষার আগে। তাই সময়ের কাজ সময়ে করার অভ্যাসটাও গড়ে তুলতে হবে।
১০) হালকা ব্যায়াম
পড়তে বসার আগে একটু হালকা ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করে নিলে অনেকটা সতেজ লাগবে পড়ার সময়। ব্যায়ামে আগ্রহ না থাকলে পুরো বাসায় একটা চক্করও দেওয়া যেতে পারে।
আনোয়ার মুন্না
বিএসএস (সম্মান) এমএসএস ইন ইকোনমিক্স
চট্টগ্রাম কলেজ,
ও
সহকারী ব্যাবস্থাপক, আর্কিটেক্ট ফার্ম প্রণয়ন।
15/05/2018
13/05/2018
18/02/2018