12/05/2026
হৃদয়ে রক্তক্ষরণ!
ছবিটা যতবার দেখি, ততবারই বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতা জমে ওঠে। মাত্র চার বছরের একটি শিশু— ক্লান্ত পায়ে হেঁটে সিরিয়া থেকে জর্ডানের পথে এগিয়ে চলেছে। চারদিকে শুধু মরুভূমির নির্জনতা, অথচ তার ছোট্ট চোখজোড়ায় যেন লুকিয়ে আছে এক পুরো যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর কান্না।
অনেক পরে UNHCR-এর একটি টিম তাকে একা সেই মরুভূমির মাঝখানে খুঁজে পায়; নিঃসঙ্গ, অবসন্ন, অথচ নীরবে পথ চলতে থাকা এক ক্ষুদ্র অসহায় মানবশিশু!
টিমের সদস্যরা যখন শিশুটির হাতে ধরা ছোট্ট ওই প্যাকেটটির ভেতরে কী আছে জানতে চান, তখন সে বের করে দেখায় তার মা ও বোনের জামাকাপড়— যারা সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন।
পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধের অনেক গল্প লেখা হয়েছে, কিন্তু একটি শিশুর হাতে প্রিয়জনের শেষ স্মৃতি বহন করার এই দৃশ্য হয়তো বেদনার সব শব্দকেও হার মানায়। কিছু ছবি শুধু দেখা যায় না, হৃদয়ের গভীরে গিয়ে তা আজীবন রক্তক্ষরণ ঘটায়!
10/05/2026
এই চিরকুটের ঘটনা অনেকেই জানেন আপনারা।।আমার চেম্বারে রোগী দেখার সময় ল্যাবের ম্যানেজার এই কাগজটা পাঠিয়েছিলো তাদের একজন মহিলা কর্মচারী দিয়ে যেন রোগীর টেস্ট দেওয়া হয়।।
পরে আমি অনেক কথা শুনাই এবং বলি পরবর্তীতে এমন করলে বা টেস্টের জন্য জোর করা হলে আমি চেম্বারে আর যাবো না।
এরপর কিছুদিন চুপচাপ ছিলো। কিন্তু এই রমজান মাসে তারা চেম্বারের আগের দিন ফোন করে রমজান মাসটা যেতে নিষেধ করে দেয়।।কারন জিজ্ঞাসা করাতে তারা বলে যে রোজা রেখে মানুষ রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দিতে চায় না।। টেস্ট হয়তো হবেই না, তাই যেন না যাই।আমি সাথে সাথে তাদের বলে দেই যে আমি পরবর্তীতে আর কখনোই তাদের ওখানে যাবো না।যেহেতু তাদের কাছে রোগীর টেস্টেই সব।।আমি অহেতুক টেস্ট দেওয়ার জন্য চেম্বার করতে পারবো না।।
পরে ঈদের পর তারা অনেকবার যোগাযোগ করলেও আমি আর যাই নাই।।
আমি যদি পারতাম এসব ল্যাব ক্লিনিক বন্ধ করে দিতাম যেখানে রোগীর সেবার নামে শুধু টেস্ট ব্যবসা চলে।।কিন্তু আমার জায়গা থেকে প্রতিবাদ হিসেবে এটাই করতে পেরেছি।এর বেশি কিছু করা আমার মতো ছোট ডাক্তারের করা পসিবলও নয়।।
ডা:মো:মিনহাজুল করিম তুষার
22/03/2026
আসমানী ফায়সালার চার দুনিয়াবি নিদর্শন:
১. ইস্তিগফারের তাওফিক
আল্লাহ যখন কারো গুনাহ মাফের ফায়সালা করেন,
দুনিয়ায় তার জিহ্বায় ইস্তিগফারের তাওফিক জাগে।
যার ইস্তিগফার নেই—তার উচিত নিজের জন্য ভয় করা।
২. যিকরের তাওফিক
আল্লাহ যাকে আসমানে স্মরণ করেন,
দুনিয়ায় সেই বান্দার জিহ্বায় যিকর ঝরে।
যার যিকর নেই—সে মাহরুম।
৩. দুআর তাওফিক
যার দুআ কবুলের ফায়সালা হয়,
আল্লাহ তার অন্তরেই দুআ করার টান জাগিয়ে দেন।
দুআ না করলে—কবুলের আশা কেমন?
৪. শুকরিয়ার তাওফিক
যাকে নিয়ামত বাড়িয়ে দিতে চান,
প্রথমে তাকে শুকরিয়ার তাওফিক দেন।
শুকরিয়া না করলে নিয়ামত হয় পরীক্ষা।
মোটকথা, ইস্তিগফার, যিকর, দুআ ও শুকরিয়া— এগুলো শুধু আমল নয়; আসমানে তোমার জন্য ভালো ফায়সালা হওয়ার চারটি নিদর্শন।
—উমায়ের কোব্বাদি হাফি.
25/01/2026
ইসলাম পরিবার গঠনের জন্য বিবাহকে অত্যাবশকীয় বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা তো করেছেই, পাত্র-পাত্রী নিবার্চনের জন্যও প্রণয়ন করেছে কিছু নিয়মাবলি। মানুষ যদি ঈমানের সাথে সেগুলো মেনে নিয়ে জীবন গঠন করতে পারে, তাহলে দাম্পত্যজীবন হবে মনকষাকষি-মুক্ত, ভালোবাসায় এবং আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ, চোখজুড়ানো, মন-মাতানো।
আসুন জেনে নিই কোন বিষয় গুলো বিবেচনা করে পাত্রী নির্বাচন করতে হবে।
◽১.দ্বীনদারি: সাধারনত দ্বীন ইসলামের বুঝ, ফযীলতপূর্ণ বিষয়াবলি এবং এর সমুন্নত শিষ্টাচারিতার কার্যত রুপ দান করা। দ্বীনদারি হলে স্বামি এবং সন্তানের হক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আদায় করতে সক্ষম হবে।
◽২.সচ্চরিত্রা: একাগ্রচিত্তে ও লাগাতার দ্বীনের কাজ করার জন্য সচ্চরিত্রা হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। দুশ্চরিত্রা ও অকৃতজ্ঞ নারী পুরুষের মনকে সারাদিন অশান্ত করে রাখার জন্য যথেষ্ট।
◽৩.সৌন্দর্য: দ্বীনদারিতার পাশাপাশি সুশ্রী পাত্রী উত্তম। স্ত্রীর সৌন্দর্য পরকীয়ার মতো কবিরা গুনাহ থেকে আত্মরক্ষার উছিলা হয়।
◽৪.অভিজাত বংশের এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে বাছাই করা: যে বংশের শিষ্টাচার, আথিয়েতা ও ন্যায়পরায়ণতা লোকমুখে শোনা যায়। সমাজে যাদের মান সম্মান রয়েছে।
◽৫.স্বল্প দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন করা: বিয়ের মাঝে কল্যাণের উৎস হচ্ছে স্বল্প দেনমোহর, এটা থেকেই বিয়ের বাকি সব কল্যাণ -বারাকাহ জারি হয়।
◽৬. ভিন্ন গোত্রের মেয়েকে বিয়ে করা: নিজ আত্মীয়-স্বজন এবং স্ববংশীয় মেয়েদের বিয়ে না করে ভিন্ন গোত্রীয় মেয়েকে বিয়ে করা। এতে মুসলিমদের মাঝে সামাজিক বন্ধন জোরালো হয়।
◽৭.কুমারী মেয়েকে বিয়ে করা: একজন কুমারী মেয়ের হৃদয়জুড়ে আবেগ -পতিভক্তি সৃষ্টিগতভাবেই থাকে। ভালোবাসার উষ্ণতা থাকে আকাশচুম্বী। ফলে মনে হয় দুনিয়ার বুকে যেন একটুকরো জান্নাতের সংসার।
◽৮.অধিক সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীকে বিয়ে করা: রাসূল ﷺ বলেন, তোমরা স্বামী-সোহাগিনী এবং অধিক সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীকে বিয়ে করো। কারন আমি তোমাদের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে অন্যান্য জাতির কাছে গর্ব করবো। [আবু-দাউদ: ২০৫০]
◽৯.স্ত্রী মমতাময়ী ও সহানুভূতিশীল হওয়া: স্ত্রী মমতাময়ী ও সহানুভূতিশীল হলে সংসারজীবনে কলহের মাত্রা অনেকাংশে কমে যায়।
◽১০.স্ত্রী বিশ্বস্ত ও অনুগত হওয়া: বিশ্বস্ত স্ত্রী কখনোই স্বামীর অপছন্দের কাজগুলোর ক্ষেত্রে অবাধ্য হয় না। প্রথম দেখাতেই জেনে নেয়ে উচিত স্বামীর হক সম্পর্কে জানে কিনা, তাহলে বোঝা যাবে, অন্তরে নারীবাদের বিষ আছে কিনা।
◽১১.স্ত্রী হতে হবে সৎ স্বভাবের, ক্ষীণস্বরী: সাম্প্রতিক সময়ে স্ত্রীর ঝাঁঝালো কন্ঠস্বর স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। স্বাল্পভাষী, ক্ষীণস্বর স্ত্রী আল্লাহর নিয়ামত।
◽১২. পাত্র-পাত্রী শারীরিক সমস্যামুক্ত হতে হবে: বিবাহের আগেই পাত্র-পাত্রীর জন্মগত ত্রুটি থাকলে বা কোনো বড় অসুখ থাকলে তা উভয়পক্ষেরই জানার অধিকার রয়েছে, যাতে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি না হয়।
◽১৩.স্ত্রী ঘর-গৃহস্থালীতে পারদর্শী হতে হবে: রোজগার হলো পুরুষের দায়িত্ব। নারী ঘরে থাকবে এবং ঘরের সকল দায়িত্ব পালন করবে। নারীকে অবশ্যই পরিবার গঠন, গৃহস্থালী কাজে পারদর্শী হতে হবে। পাত্রীর ভেতরে নারীবাদের বিষ আছে কিনা তা দেখা জরুরী। বাহ্যিকভাবে দ্বীনদার অনেক পাত্রীর ভেতরেও নারীবাদী চেতনা লক্ষ্যনীয়।
◽১৪.পতিব্রতা নারী: রাসূল ﷺ বলেন, আমি কি তোমাদের জান্নাতি নারীদের কথা বলব না? তারা স্বামী-সোহাগী, অধিক সন্তান জন্মদানকারী এবং বারবার স্বামীর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। যদি কখনো তার প্রতি অবিচার ও করা হয় তবুও সে বলে- আমার স্বামী, এই যে আমার হাত আপনার হাতের উপর রাখলাম। আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট না হলে আমি এক মুহুর্তের জন্যও ঘুমাবো না। [নাসায়ী,আস-সুনানুল কুবরা,৮/২৫১(৯০৯৪)। বাইহাকি,শুআবুল ঈমান:১১/১৭১(৮৩৫৮)]
◽১৫.স্ত্রী স্বামীর গোপন বিষয়ে হেফাযতকারী ও বিচক্ষণ হওয়া: বিচক্ষণ নারী সংসার জীবন ধৈর্য্যের সাথে পালন করতে পারে এবং স্বামীর দোষ কাউকে না বলে বেড়ানো এতে দাম্পত্য কলহ কম হয়।
◽১৬.সরলমনা ও সহজ-সরল প্রকৃতির হওয়া: স্ত্রী হতে হবে সহজ-সরল প্রকৃতির। তার কথাবার্তা ও চালচলনে সরলতা প্রকাশ পাবে। কোন লৌকিকতা থাকবে না। কিংবা তার মাঝে কোন প্যাঁচ বা গীবতের প্রবণতা থাকবে না।
◽১৭.স্ত্রী হতে হবে ইবাদতগুজার ও অনুগত স্বভাবের: নিয়মিত সালাত এবং নফল নামায-রোজা রাখবে। কুরআন তিলাওয়াত করবে এবং সকাল-সন্ধ্যার আমল সম্পর্কে জানা থাকবে এতে দ্বীনদারি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
◽১৮. স্ত্রী পূত-পবিত্রা ও সতী হওয়া: আয়েশা(রাঃ) বলেন, যে নারী কথাবার্তার প্যাঁচ বুঝে না, পুরুষদের ভোজবাজি সম্পর্কেও ধারনা রাখে না। একদম নিষ্কলুষ হৃদয়ের অধিকারী। শুধু স্বামীর জন্য সাজগোজ করতে জানে এবং যার পরিবার সর্ববিষয়ে রক্ষণশীল হয়, এমন নারী সর্বোত্তম। [ রাগিব আল আসহাফানী, মুহাযিরাতুল উদাবা,২/২২২]
◽১৯. স্ত্রী সমমনা হওয়া: এমন মেয়েকে বিয়ে না করা যে আপনার কাজকর্ম, চাল-চলন, স্বভাব চরিত্র সব দিক থেকে বিপরীতমুখী হয়। সমমনা স্ত্রী দাম্পত্যজীবনকে প্রশান্তিতে রাখে।
🟢এগুলো হলো একজন আদর্শ স্ত্রীর গুণ, যে গুণ-সমৃদ্ধা স্ত্রীকে প্রত্যেক মুসলিম যুবক নিজের জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পেতে চায়। আল্লাহ তা'য়ালার কাছে আবেদন, তিনি যেন প্রত্যেক নর-নারীকে গুণগুলো অর্জনের সামর্থ্য দান করেন এবং দুনিয়াতে তার আনুগত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং পরকালে সবাইকে প্রবেশ করান স্বপ্নের জান্নাতে।
বই : বিবাহ পাঠ
#হাদিস
25/01/2026
আমাদের দেশে 'তথাকথিত এলিট’ হয়ে উঠার খুব সস্তা আর সহজ শর্টকাট মনে হয় ইসলামমোফোবিক আচরণ। ইসলাম, নারীর হিজাব কিংবা নিক্বাব নিয়ে দুই-একটা উল্টাপাল্টা নোংরা কথা বললেই এই দেশে একাডেমিক হিসেবে বিশেষ সম্মান পাওয়া যায়। সম্প্রতি জনৈক রাজনৈতিক নেতার নিক্বাবকে কুরুচিকর ইতিহাসের সাথে তুলনা করা এবং ইহুদি নারীদের অশালীন পেশার সাথে গুলিয়ে ফেলা, সেই সস্তা মানসিকতা ও চরম ধৃষ্টতারই বহিঃপ্রকাশ।
ইসলামে 'জিলবাব' এবং 'খিমার' (ওড়না বা বড় চাদর) এর বিধান সরাসরি ক্বুরআন থেকে এসেছে।[১] জাহেলি যুগে আরব নারীরা ওড়না পরত ঠিকই, কিন্তু তারা তা ঘাড়ের পেছনে ফেলে রাখতো, যার কারনে বুক ও কান অনাবৃত থাকতো।[২] ইসলাম এসে সেই পোশাকের ধরনে আমূল পরিবর্তন আনে এবং পুরো শরীর আবৃত করার নির্দেশনা দেয়। 'নিক্বাব মুসলমানদের পোশাক না', এধরনের ঘৃণ্য বক্তব্য যারা ছড়ায়। তাদের এসব বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে ইসলামের শ্রেষ্ঠযুগের নারী সাহাবিয়াতগনের কয়েকটা ঘটনা মাধ্যমে নিক্বাবের সত্যতা একটু যাচাই করি।
১. হযরত আ'ইশা (রা.) থেকে বর্ণিত, "আল্লাহ্ তা‘আলা প্রাথমিক যুগের মুহাজির মহিলাদের উপর রহম করুন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত 'তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে'[৩] অবতীর্ণ করলেন, তখন তারা নিজ চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমণ্ডল ঢাকল"[৪]। যদি নিক্বাব (মুখমন্ডল ঢাকা) ইসলামের অংশ না হতো, তবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নারীগণ এই কাজ করতেন না।
২. বিখ্যাত ইফকের ঘটনায় আ'ইশা (রা.) যখন মরুভূমিতে ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর চেহারা অনাবৃত হয়ে পড়েছিলো। সাহাবী হযরত সাফওয়ান (রা.) তাঁকে দূর থেকে দেখে চিনে ফেলেন। আ'ইশা (রা.) বলেন, "তিনি আমাকে দেখে চিনে ফেললেন কারণ পর্দার বিধান আসার আগে তিনি আমাকে দেখেছিলেন। তিনি যখন উচ্চস্বরে 'ইন্নালিল্লাহ' পড়লেন, আমি জেগে উঠলাম এবং তৎক্ষণাৎ আমার চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললাম" [৫] এই ঘটনায় এটা স্পষ্ট হয়ে যায়, পর্দার বিধান নাজিলের পর সাহাবিয়াতগন (রা.) তাঁদের চেহারা পুরুষদের সামনে অনাবৃত রাখতেন না।
৩. হজের ইহরাম অবস্থায় আলাদা সেলাই করা নিক্বাব পরা নিষেধ। কিন্তু এর মানে এই না সাহাবিয়াতগণ পুরুষদের সামনে মুখ খোলা রাখতেন। হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) এবং ফাতেমা বিনতে মুনযির (রহ.) বর্ণনা করেন, "আমরা ইহরাম অবস্থায় থাকতাম। যখন পুরুষদের কাফেলা আমাদের পাশ দিয়ে যেতো, তখন আমরা আমাদের মাথার ওপর থেকে চাদর টেনে মুখ ঢেকে নিতাম, তারা চলে গেলে আবার খুলে দিতাম"[৬]। অর্থাৎ, ইবাদতের বিশেষ অবস্থায়ও তাঁরা চেহারা আবৃত রাখতেন।
৪. হযরত কায়েস ইবনে শামমাস (রা.) বর্ণনা করেন, এক নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলেন। তাঁকে উম্মে খাল্লাদ বলে ডাকা হতো। তার মুখ ছিল নিক্বাবে ঢাকা। তিনি আল্লাহর পথে তার শহীদ পুত্র সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জানতে এসেছিলেন। তখন তাঁকে এক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তোমার পুত্র সম্পর্কে জানতে এসেছ, আর মুখে নিক্বাব। তখন হযরত উম্মে খাল্লাদ (রা.) তাঁকে উত্তরে বললেন, আমি আমার ছেলেকে হারিয়ে এক বিপদে পড়েছি। এখন লজ্জা হারিয়ে তথা মুখমণ্ডলসহ গোটা শরীর পর্দা না করে কি আরেক বিপদে পড়বো?[৭] এই সাহাবিয়াত মুখ অনাবৃত করাকে সন্তান হারানোর মতো বিপদের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের চেয়ে বিশুদ্ধ আর নির্মল ইসলাম আর কারোর কাছে নেই। সেই সময় সাহাবীরা সরাসরি ওয়াহীর নিখুঁত জ্ঞানের মাধ্যমে জীবন পরিচালিত করতেন। তাদের প্রত্যেকটি কর্মকান্ডের মানদণ্ড ছিলো, ওয়াহী ও রিসালাত। সেই সময়কার নারীরা ইবাদাতের বিশেষ মুহুর্তে, সফর কিংবা সন্তান শহীদ হওয়ার মতো কঠিন মুহুর্তেও তাঁদের চেহারা আবৃত রাখতেন। কিন্তু দেড় হাজার বছর পর এসে, ইসলামের মিনিমাম জ্ঞান রাখে না এমন পলিটিক্যাল এলিটরা মুসলিমদের পোশাকের স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করে দেয়!
কোনো তথাকথিত বুদ্ধিজীবি, রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি যদি নারীর হিজাব নিক্বাব নিয়ে নোংরা কটাক্ষ করেন, তখন তথাকথিত এলিট নারী অধিকারবাদীদের মুখে কুলুপ পড়ে থাকে। তারা নারীর পোশাকের স্বাধীনতার বুলি আওড়ায় ঠিকই, কিন্তু কেউ যদি একজন মুসলিম নারীর হিজাব কিংবা নিক্বাবের স্বাধীনতা নিয়ে ট্রল করে, তখন তাদের কাছে এটাকে ‘নিপীড়ন’ মনে হয় না। তাদের এমন নির্লিপ্ত দ্বিমুখী আচরণ স্পষ্ট করে দেয়, তাদের বুলি আওড়ানো ‘নারী অধিকার’ আসলে পশ্চিমা ও ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার একটা স্ট্র্যাটেজিক প্রক্সি মাত্র!
বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দল পতিত ফ্যাসিস্টদের সিফাত অনুসরণ করে যদি এই ভূখণ্ডে ইসলামমোফোবিয়ার চাষাবাদ করতে চায়। তাহলে সেসব ধৃষ্টতা দেখানো ব্যক্তিদের জেনে রাখা উচিত, এই জমিনের তৌহিদী জনতা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এসব মনে রাখছে।
টীকা:-
[১] সূরা আল-আহযাব, ৫৯।
[২] তাফসিরে ইবনে কাসির, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪১-৪২ (সূরা নূর, আয়াত: ৩১-এর ব্যাখ্যা)।
[৩] সূরা আন-নূর, ৩১।
[৪] সহিহ বুখারী,৪৭৫৯।
[৫] সহিহ বুখারী, ৪১৪৪।
নারীকথন
25/01/2026
আমরা অনেক সময়ই পারিবারিক গেট টুগেদারের সময় আমাদের রিলেটিভদের মুখ থেকে কমন একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে থাকি—'তোমার ফিউচার প্ল্যান কী? বিসিএস-এর জন্য ট্রাই করছো নাকি দেশের বাইরে শিফট হওয়ার প্ল্যান?' দৃশ্যত, এটি খুবই নিরীহ এবং স্বাভাবিক গুছের একটি প্রশ্ন। আমাদের সমাজের রিচুয়ালটা এমনই। সমাজে চলতে গিয়ে আমরা শিখেছি আমাদের জীবনের গ্রাফটা হওয়া উচিত: ভালো রেজাল্ট, ভালো চাকরি, পদোন্নতি, বিয়ে, বাড়ি-গাড়ি এবং সবশেষে সুখের অবসর। এই রেসে নামার পর আমাদের আর থেমে এই গ্রাফটাকে প্রশ্ন করার ফুরসত মেলে না, এ যেন বিধাতার লিখে দেওয়া চূড়ান্ত প্রেসক্রিপশন।
এই যে আমাদের প্রতিনিয়ত “ক্যারিয়ার গোল” নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হওয়া—এটা কোনো সমস্যার বিষয় না। নিঃসন্দেহে জীবিকা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিপত্তিটা আসলে এই জায়গায় যে, আমরা জীবিকাকে জীবন বানিয়ে ফেলার অসুস্থ মানসিকতায় ভুগছি। আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবনের পরিধি কি কেবল একটি সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র কিংবা ইউরোপ-আমেরিকার ভিসার স্ট্যাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ? সত্যিই কি আমাদের এই মহামূল্যবান সময়টুকু আমাদের কাছে এইটুকুন দাবি রাখে? আমি নিজেকে কখনোই এই উত্তরে সন্তুষ্ট করতে পারিনি। জীবন আমাদের কাছে কখনই এতটুকু দাবি রাখতে পারে না।
এই ক্ষুদ্র চিন্তার ব্যবচ্ছেদ ঘটানো প্রয়োজন। এই চিন্তার জট না খুললে আমরা কখনোই নিজেদের প্রায়োরিটি সেট করতে পারবো না। আমাদেরকে যখন কেউ ক্যারিয়ার নিয়ে এই জিজ্ঞাসাটা করে তখন এখানে The Error of Displaced Purpose কাজ করে। সমাজ আমাদের জীবনকে ৬০-৭০ বছরের একটি আর্থসামাজিক প্রজেক্ট হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। তারা আমাদের জীবনের একটা উপকরণকেই গন্তব্য বানিয়ে ফেলেছে। একজন মানুষের জীবনে ক্যারিয়ার দুনিয়াতে টিকে থাকার একটা রসদ বা মাধ্যম হতে পারে শুধু, কিন্তু গন্তব্য হতে পারে না কখনো। অথচ এই মাধ্যমকে আমরা জীবনের ব্রত বানিয়ে নিয়েছি। গণিতে একটা ট্রার্ম আছে, ‘Finite vs Infinite Paradox.’ এখানে সসীম সময়ের জন্য অসীম সময়ের গুরুত্ব দেওয়া অযৌক্তিক। একজন বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারী কি তার ১০০% সম্পদ এবং শ্রম এমন একটি ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন, যার স্থায়িত্ব মাত্র কয়েক মুহূর্ত? কোনো বোকাও তো বোধহয় নিজের এমন বড়সড় ক্ষতি করতে চাইবে না। কিন্তু আমরা এটা করে চলেছি। আমরা আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনে ক্যারিয়ারের পেছনে বর্তমানের সবটুকু ইনভেস্ট করছি, যার স্থায়ীত্ব মাত্র কয়েক মুহূর্ত, জি কয়েক মুহূর্ত। অথচ আমরা সেই ভবিষ্যতের (আখিরাত) ব্যাপারে উদাসীন যা ১০০% নিশ্চিত।
এছাড়া আমরা আমাদের আইডেন্টিটি সোর্স হিসেবে নিজেকে সবসময় পরিচয় দিতে পছন্দ করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ডাক্তার, বুয়েট গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার কিংবা বিসিএস ক্যাডার হিসেবে। এটাকেই আমরা আমাদের প্রাইমারি আইডেন্টিটি হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। অথচ এটি আমাদের সেকেন্ডারি আইডেন্টিটি। আমাদের প্রাইমারি আইডেন্টিটি হচ্ছে, আমরা আল্লাহর আবদ বা দাস। আমাদের সবার আগমন হয়েছে পৃথিবীতে আল্লাহর দাস হিসেবে নিজেকে সার্ভ করার জন্য। একটা সমাজে আমাদের কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষকেই অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। এই শ্রেণি পেশার বৈচিত্র্য না থাকলে পৃথিবী ঠিকঠাক চলতো না। বাংলাদেশের সব মানুষ যদি বিসিএস ক্যাডার হয়ে যায়, তাহলে আপনার ভাত, কাপড় কোথা থেকে আসবে? আল্লাহর দাস হিসেবে যে দুনিয়ার বুকে তার দায়িত্ব পূর্ণরূপে আদায় করে যাবে সেই আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় হবে।
আমরা সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেখবর। আমাদের কি আল্লাহ তায়ালা বিসিএস ক্যাডার কিংবা কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সিইও হওয়ার জন্য সৃষ্টি করেছেন বা এটাকে আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন? না, বরং আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন,
“আমি জ্বিন ও মানুষকে এ জন্য সৃষ্টি করেছি যে, তারা শুধু আমারই ইবাদত করবে।” — (সূরা আয-যারিয়াত : ৫৬)
ক্যারিয়ার গড়তে ইসলামে আপত্তি তো নেই-ই বরং জীবিকা নির্বাহের চেষ্টার ঘোষণাও ইসলাম দিয়েছে। পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্বকে ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রায়োরিটি বা অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট থাকতে হবে। আমাদের প্রাইমারি পরিচয় বা আইডেন্টিটি হলো আমরা আল্লাহর 'আবদ' বা দাস। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা ব্যবসায়ী—এগুলো আমাদের সেকেন্ডারি পরিচয়। যখন আমরা সেকেন্ডারি পরিচয়কে প্রাইমারি বানিয়ে ফেলি, তখনই শুরু হয় আত্মিক বিপর্যয় বা Identity Crisis.
দুনিয়ার এই চাকচিক্য, পদমর্যাদা আর ইঁদুর দৌড় সম্পর্কে আল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন,
“তোমরা জেনে রাখো, তোমাদের এ পার্থিব জীবন খেলাধুলা, (হাসি) তামাশা, জাঁকজমক (প্রদর্শন), পরস্পর অহংকার প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা, ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়ানোর চেষ্টা সাধনা ছাড়া আর কিছুই নয়... এ পার্থিব জীবন ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।” — (সূরা আল-হাদীদ : ২০)
ক্যারিয়ারের পেছনে এই যে আমাদের সবকিছু বিলিয়ে দেয়া বা জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় শুধু এর পেছনেই ব্যয় করা, কীভাবে টাকা বাড়তে থাকবে তা নিয়ে চিন্তা চেতনার সবটুকু দিয়ে দেওয়া—কখনও মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। যেখানে রাসূল সালাল্লাহু আমাদেরকে বলছেন, “দুনিয়ায় এমনভাবে জীবনযাপন করো যেন তুমি একজন আগন্তুক অথবা একজন পথচারী মুসাফির।” একজন মুসাফির কি কখনও কোনো স্টেশনের ওয়েটিং রুম কিংবা আবাসিক হোটেলকে নিজের স্থায়ী নিবাস হিসেবে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে? মুমিনও দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ক্যারিয়ার নিয়ে এতটাই মগ্ন হয় না যে সে তার আসল বাড়ির (জান্নাত) কথা বেমালুম ভুলে যায়।
সমাজ সফলতাকে দেখে ব্যাংক ব্যালেন্স আর সোশ্যাল স্ট্যাটাস হিসেবে। কিন্তু লজিক্যালি যে কারেন্সি বর্ডার পার হলে অচল হয়ে যায় সেটার সঞ্চয় করা স্রেফ বোকামি। আপনি জানেন নির্দিষ্ট সময়ের পর আপনার জমানো এই অর্থ আর সম্পদের ভ্যালু জিরো, টোটাল জিরো। তো, মৃত্যুর পর যার ভ্যালু জিরো হবে এমন কিছু অর্জনের পেছনে জীবনের সবটুকু বিলিয়ে দেওয়া বোকামি ছাড়া আর কী? আপনি তখন সফল হবেন, যখন আপনার এই সঞ্চয় মৃত্যুর পরও ভ্যালিড থাকবে। আল্লাহ তায়ালা সফলতার চূড়ান্ত সংজ্ঞা নিরূপণ করেছেন এভাবে,
25/01/2026
বিখ্যাত সাহাবী হযরত সালমান ফারসী (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দার অমঙ্গল বা ধ্বংসের ইচ্ছা করেন, তখন পর্যায়ক্রমে তার থেকে এই গুণগুলো ছিনিয়ে নেওয়া হয়,
১.
প্রথমেই আল্লাহ তার থেকে লজ্জা কেড়ে নেন। ফলে আপনি তাকে দেখবেন সর্বদা রুক্ষ মেজাজ এবং মানুষের কাছে অপ্রিয় হিসেবে। তার ভেতর আর কোনো সংকোচ থাকে না।
২.
লজ্জা চলে যাওয়ার পর আল্লাহ তার থেকে দয়া ও করুণা ছিনিয়ে নেন। এর ফলে সে হয়ে ওঠে কঠোর হৃদয়ের অধিকারী, নিষ্ঠুর এবং চরম দুশ্চরিত্র। অন্যের দুঃখে তার মনে আর কোনো রেখাপাত হয় না।
৩.
দয়া ও মমতা হারিয়ে যাওয়ার পর আল্লাহ তার থেকে আমানতদারি কেড়ে নেন। তখন সে হয়ে ওঠে একজন চূড়ান্ত খিয়ানতকারী ও বিশ্বাসঘাতক। তাকে আর কেউ বিশ্বাস করতে পারে না।
৪.
সবশেষে যখন তার মধ্যে লজ্জা, দয়া এবং সততা—এই গুণগুলোর একটিও অবশিষ্ট থাকে না, তখন আল্লাহ তার থেকে ইসলামের মহামূল্যবান সম্পদ ছিনিয়ে নেন। ফলে সে চূড়ান্তভাবে লাঞ্ছিত ও অভিশপ্ত ব্যক্তিতে পরিণত হয়।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমাদেরকে ঈমানের ওপর অটল রাখুন এবং ঈমানের সাথেই মৃত্যুর তাওফিক দান করুন। আমিন।
সূত্র: হিলয়াতুল আউলিয়া
©
25/01/2026
পরপর বেশ অদ্ভূত কয়েকটা ঘটনা ঘটলো সেদিন। অল্প সময়ের ব্যবধানে। তবে ঘটনাগুলো থেকে কোনো উপসংহার টানার মতো বয়স ছিলো না আমার। বেশ ছোট ছিলাম, ক্লাস থ্রি বা ফোরে পড়ি কেবল।
নদীর ধারেই ছিল আমাদের স্কুল। হাইস্কুল, প্রাইমারি স্কুল পাশাপাশি। কমন মাঠ। মনে আছে সেদিন বাতাস হচ্ছিল ব্যাপক। একটা বাবলা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আমি দেখলাম হাইস্কুলের মেয়েদের কমন রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে শিউলি আপা।[1] একটু উসখুস করছে। হঠাৎ করে মাটি ফুঁড়েই যেন উদয় হলো হাসান ভাই। আমাদের এলাকার স্ট্রাইক বোলার। সে সময়ের ক্রেজ শোয়েব আখতারের মতো বোলিং অ্যাকশান। প্রথম ওভারে একটা বোল্ড আউট করবেই করবে। হাসান ভাইকে দেখে অবাক হয়ে গেলাম। স্কুলে তার কাজ কী? সে তো স্কুল পাশ দিয়ে ফেলেছে!
হাসান ভাই শিউলি আপার দিকে এগিয়ে গেলো। ম্যাজিকের মতো শিউলি আপার হাতে একটা ট্রাভেল ব্যাগ বের হয়ে আসতে দেখলাম। হাসান ভাই ব্যাগটা নিয়ে একটা দৌড় দিলো। বল ছোড়ার আগে রানআপ নেবার সময় যে স্পিডে দৌড়াতো, তার চাইতেও বেশি জোরে। দেখলাম ব্যাগ নিয়ে সে দৌড়ে স্কুলের পেছনের রাস্তায় চলে গেল। সেখানে তার সাথে যোগ দিল আপন ভাই।
এরপর তারা কী করলো, কোথায় গেল, তা আর খেয়াল করিনি। স্কুলে একটা নতুন লাইব্রেরি হচ্ছে। সেটা নিয়েই বেশ উত্তেজিত ছিলাম আমরা। লাইব্রেরির আলোচনায় মজে গেলাম। একটু পর ক্লাসের ঘণ্টা পড়লো।
স্কুল ছুটির পর বাসায় ফিরে ভাত খাচ্ছি। আমি, আমার বোন, আম্মু। আকাশ কালো করে বৃষ্টি ঝরেছে ঘণ্টাখানেক। এখন বৃষ্টিটা ধরে আসলেও মাঝে মাঝে মেঘ গর্জন করে জানান দিচ্ছে–আরে আমি আছি, যাই নাই এখনো। দক্ষিণ দিকের দরজাটা খোলাই ছিল। সে দরজায় উদয় হলো ভীষণ দুঃখিত এক মূর্তি। মনে হচ্ছে দুনিয়ার সব দুঃখ সিন্দাবাদের ভূতের মতো তার উপর এসে ভর করেছে।
‘আম্মাজান, আমার মেয়েটা কোথায়, বলতে পারিস? ওকে খুঁজে পাচ্ছি না’–বুক ফাটা আর্তনাদ করে আমার বোনকে প্রশ্ন করলো লোকটা।[2] আরে, এ যে বকুল কাকু! শিউলি আপার বাবা!
ভরদুপুর, কিন্তু মেঘ আর বৃষ্টির কারণে সন্ধ্যার মতো মনে হচ্ছে, বিদ্যুৎ চমকের আলো-আঁধারিতে আমাদের দরজায় দাঁড়ানো পৃথিবীর সব হারিয়ে ফেলা এক পিতা, তার অসহায় আর্তনাদ…এ দৃশ্যের কথা আমি ভুলতে পারি না। সেই ঘটনার পর বহু বছর পেরিয়ে গেছে। সময়ের প্রলেপে সব ক্ষতই সেরে উঠে। কিন্তু এই দৃশ্য, সেই বুক চেরা আর্তনাদের স্মৃতি এখনো বিষণ্ণতায় ভোগায় আমাকে। দম ফেলার সময় নেই এমন কর্মব্যস্ত দিনেও উদ্যমহীন করে ফেলে।
শিউলি আপাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্কুল থেকে বাসায় ফেরেনি। আলমারি থেকে জামা কাপড় সোনার গহনা সব মিসিং! আপন ভাইয়ের সাথে শিউলি আপার প্রেম ওপেন সিক্রেট। এটা পাড়ার যেকোনো ছাগলকে জিজ্ঞাসা করলেও কাঁঠাল পাতা চিবানোর ফাঁকে ফাঁকে সে বিস্তারিত সব বলে দিতে পারবে! কাজেই দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানো কোনো কঠিন কাজ ছিল না।
আম্মু আর আপুর পরামর্শে আমাদের বাসার কাছেই শিউলি আপার অন্য এক বান্ধবী টিনা আপার বাসায় গেল বকুল কাকু। তার পিছু পিছু গেল হাউমাউ করে কাঁদতে থাকা কাকী।
পরে জেনেছিলাম সেই বাসাতেই লুকিয়েছিল শিউলি আপা। টিনা আপা আর তার পরিবার বকুল কাকুকে মিথ্যা বলে। সেখানেও খুঁজে না পেয়ে বকুল কাকু পাগলের মতো হয়ে যায়। বুক চাপড়ে কান্না করতে করতে এর ওর বাড়িতে খুঁজতে থাকে।
মেয়েকে হারানোর ভয়ে ভীত বকুল কাকুকে যখন টিনা আপা ভূগোল বোঝাচ্ছিল, তখন ধানের গোলায় লুকানো শিউলি আপা সব শুনছিল, উঁকি মেরে দেখছিলও। বুঝতে শেখার পরে অনেকবার মনে হয়েছিল শিউলি আপাকে একবার প্রশ্ন করি–বাবার এমন অপ্রকৃতিস্থ অবস্থা দেখার পরেও আপনার মনে এতোটুকুও দয়া হলো না? একবার মনে হলো না, বের হয়ে বাবার হাত ধরে বলি–বাবা ভুল হয়ে গেছে, চলো বাড়ি চলো! বাবার এতো ভালোবাসা, এতো মায়া, এতো মমতার কি কোনো দাম নেই? প্রেম কি এতোটাই অন্ধ?
বই: আকাশের ওপারে আকাশ
25/01/2026
বিয়ের পর অনেক মহিলা ঈমানের স্বাদ কেন হারিয়ে ফেলে?
এক মহিলা নাসিরউদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন, "ফদ্বীলাতুশ শাইখ, আমি বিয়ের আগে বেশি বেশি নামাজ - রোজা আদায় করতাম, কুরআন তিলাওয়াত করে শান্তি অনুভব করতাম, নেক আমলে শান্তি পেতাম। কিন্তু এখন বিয়ের পর আমি সেসব বিষয়ে ঈমানের স্বাদ খুঁজে পাই না!"
নাসিরউদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ ওই মহিলাকে জিজ্ঞেস করেন, "হে আমার মুসলিম বোন তুমি তোমার স্বামীর হক আদায় করা এবং তাঁর কথা শোনার ব্যাপারে কতটুকু মনোযোগী?"
মহিলা একটু বিরক্তবোধ করে বলে, "শাইখ আমি আপনাকে নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর আনুগত্যের কথা জিজ্ঞেস করছি আর আপনি আমাকে আমার স্বামীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছেন!"
শাইখ আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, "আমার বোন, অধিকাংশ মেয়ে এই কারণে ঈমানের স্বাদ পায়না, আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতে তৃপ্ততা পায় না। কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মহিলা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের স্বাদ বা তৃপ্ততা পাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের স্বামীর হক আদায় করবে না।"
শাইখ নাসিরউদ্দিন আলবানী রহি.
(সহীহ আত তারগীব ১৯৩৯)
22/01/2026
*যে ৩ দরজা দিয়ে শয়তান আক্রমণ করে:*
*১) প্রয়োজনের বেশি:* মানুষ যখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশির পিছু ছুটে, তখন শয়তান এটাকে ব্যক্তির অন্তরে ঢোকার দরজা হিসেবে গ্রহণ করে। এটা থেকে বাঁচার উপায় হলো, মন খাওয়া দাওয়া, ঘুম, বিলাস আর আরাম-আয়েশ জাতীয় যা কিছু চায়, সব পূরণ করা যাবে না। যখন আপনি এই দরজা বন্ধ করে দিবেন, তখন শত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকবেন।
*২) গাফলতি:* যে আল্লাহকে স্মরণ করে, সে একটি মজবুত দুর্গের ভিতর চলে যায়। কিন্তু এরপর সে যদি গাফেল হয়ে পড়ে, দুর্গের দরজা খুলে যায় এবং শত্রুরা ঢুকে পড়ে। তখন ব্যক্তিকে বাঁচানো কঠিন।
*৩) অহেতুক বিষয়:* যে জিনিসের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই কিংবা যে বিষয়ে তার মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই—এমন অহেতুক বিষয়ে যে নিজেকে জড়ায়, শয়তান তাকে পেয়ে বসে।
— ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.)
21/01/2026
২০০৭ সাল থেকে শুরু করে পরের দু’বছরে ১১ টা লাশ পাওয়া যায় চাঁদপুরের ডোবা, নর্দমা, খালগুলোর পাশে। ভিকটিমরা সবাই নারী। কাউকে খুন করা হয়েছে শ্বাসরোধ করে, কাউকে গলা টিপে, কাউকে পানিতে চুবিয়ে। সবাইকে খুন করার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে।
খুনের ধরন দেখে পুলিশের ধারণা হলো সবগুলো খুন এবং ধর্ষণের হোতা একজনই। দেশজুড়ে আলোড়ন পড়ে গেল। কে সেই সিরিয়াল কিলার? কেন সে মেতে উঠেছে এমন হত্যাযজ্ঞে?
২০০৯ সালের জুলাই মাসে পারভীন নামের এক নারীর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে দেখা মিললো চাঁদপুরের এক মসজিদে ফ্যান চুরির ঘটনায় আটক রসু খাঁ নামের এক মধ্যবয়স্ক লোকের। শুরু হলো জেরা। প্রথমে অস্বীকার না করলেও একসময় রসু খাঁ স্বীকার করলো যে, পারভীনকে সে-ই খুন করেছে। একে একে আরো ১০ জন নারীকে ধর্ষণের পর খুনের স্বীকারোক্তিও দিলো সে। পুলিশকে রসু খাঁ জানালো, তার জীবনের টার্গেট এভাবে ১০১ জন নারীকে হত্যা করা। তারপর সাধু-সন্ন্যাসী হয়ে বাকী জীবন কাটিয়ে দেওয়া।
কিন্তু কেন এমন বিকৃত রুচির উন্মাদ খুনি হলো রসু খাঁ?
রসু খাঁ’র স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকরি করতো। সেই সুবাদে বিভিন্ন গার্মেন্টস কর্মী মেয়েদের সঙ্গে তার পরিচয়। একপর্যায়ে এক নারী কর্মীর সঙ্গে প্রেম হয় তার। কিন্তু সেই নারী তার সঙ্গে প্রতারণা করে এলাকার অন্য এক ছেলের সঙ্গে প্রেমে জড়ায়। রসু খাঁ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ওই কর্মী তার প্রেমিকের সহযোগিতায় ৫-৬ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে ১টি পাঁচতলা ভবনের ছাদে তুলে বেদম মারধর করে তাকে। সেদিনই রসু খাঁ প্রতিজ্ঞা করে–১০১ জন নারীকে ধর্ষণ শেষে খুন করবে সে। শুরু হয় বিভিন্ন নারীদের সঙ্গে প্রেমের ভাব গড়া। এদের মধ্যে গার্মেন্টস কর্মীই বেশি। একপর্যায়ে সে ভাড়াটে খুনি হিসেবেও কাজ করতে শুরু করে। ১১ জনকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও আসলেই সে ১১ জনকে হত্যা করেছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে[1] আদালতে ফাঁসির রায় হয় রসু খাঁ’র।
বলা হয়–অর্থই সব অনর্থের মূল। অনর্থের মূলের লিস্টে প্রথম স্থানটা অর্থের দখলে থাকলে, দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানটা নির্ঘাত প্রেমের দখলে যাবে। প্রেমের নামে হত্যা, যুদ্ধবিগ্রহ, বিশৃঙ্খলা আর ধ্বংসের ইতিহাস অনেক পুরনো। বিখ্যাত ট্রয়ের যুদ্ধ যেমন হয়েছিল হেলেন নামের এক মানবীর প্রেমের জন্য, তেমনি আজও ‘পবিত্র প্রেম’ জন্ম দিয়ে যাচ্ছে নানা ধ্বংসযজ্ঞের। এই যেমন বাংলাদেশের প্রথম সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ’র আবির্ভাব হয়েছে ব্যর্থ প্রেমের ধ্বংসস্তূপ থেকে। নিঃসন্দেহে রসু খাঁ’র চালানো হত্যাগুলোর জন্য তার সেই প্রেমিকা দায়ী না। অবশ্যই একজন রসু খাঁ’র সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার পেছনে অনেক সামাজিক, পারিবারিক এবং অন্যান্য ফ্যাক্টর কাজ করে। কিন্তু ব্যর্থ প্রেমের একটা ভূমিকা যে এখানে ছিল, সেই সত্যটা এতে বদলায় না।
অনেক সময়ই ব্রেকআপ তীব্র ক্রোধের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সে আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় প্রেমিক/প্রেমিকাসহ আরো অসংখ্য মানুষের জীবন। প্রেমে ব্যর্থ হওয়ায় প্রাক্তনকে ধর্ষণ, বন্ধুদের নিয়ে গণধর্ষণ, খুন, যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে তাকেও খুন, আপত্তিকর ছবি অনলাইনে ভাইরাল করে দেওয়া, এসিড মারা, এমনকি প্রেমিকার বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ, বড় বোনের সঙ্গে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ছোট বোনকে অপহরণ এর মতো অনেক ঘটনা এদেশে ঘটেছে। প্রাক্তনের উপর প্রতিশোধ নেবার জন্য অনেকে অন্য মেয়েদের উপর যৌন নির্যাতন আর হয়রানিও শুরু করে।[2]
পিছিয়ে নেই মেয়েরাও। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিককে খুন করার মতো ঘটনাও ঘটায় তারা। এই প্রেমের কারণে যে কতো পরিবার শেষ হয়ে যায়, মৃত্যু ঘটে কতো স্বপ্ন, আশা, ভালোবাসার; তার কতোটুকু খবরই বা আমরা রাখি[3]
শুধু যে ব্রেকআপ বা ঝগড়ার কারণেই প্রেমের সম্পর্ক এমন সহিংস রূপ ধারণ করে, এমন না। সহিংসতা এমনিতেই প্রেমের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে মারামারি, একে অপরকে শারীরিক নির্যাতন করা, ধর্ষণ করা, ব্ল্যাকমেইল করা, এমনকি খুন করাও খুবই সাধারণ ঘটনা।[4]
বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্তের হিসেব তেমন একটা রাখা হয় না, তাই আমরা চোখ বুলাবো সুশীল প্রগতিশীলদের ‘বেহেশত’, অ্যামেরিকার দিকে। দেশব্যাপী জরিপ চালিয়ে অ্যামেরিকার Centers for Disease Control and Prevention Center, ২০১১ সালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়–প্রায় প্রতি ১০ জনে ১ জন হাইস্কুল স্টুডেন্ট তাদের বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের হাতে গত বারো মাসের মধ্যে অন্তত একবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মেয়েদের মধ্যে প্রতি ৫ জনে ১ জন এবং ছেলেদের মধ্যে প্রতি ৭ জনে ১ জন ১১ থেকে ১৭ বছরের বয়সের মধ্যে তাদের সঙ্গী/সঙ্গীনীদের হাতে কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।[5] অন্য একটি পরিসংখ্যান অনুসারে দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতি ৫ জন হাইস্কুল ছাত্রীদের মধ্যে ১ জন তাদের প্রেমিকের দ্বারা শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।[6] এছাড়া প্রেমিক বা প্রেমিকার দখল নিয়ে অন্যের সাথে মারামারি, খুনোখুনি, গার্লফ্রেন্ডের আত্মীয়স্বজনের হাতে মারধোর ডালভাতের মতোই সাধারণ ঘটনা।[7]
ভালোবাসার খুব ট্যাশ, তাই না?
প্রেমের সাথে হাত ধরাধরি করে আসে মাদকও। প্রেমে বা ব্রেকআপের ভয়াবহ স্ট্রেস থেকে সাময়িক মুক্তি পাবার জন্য অনেকেই মাদকের শরণাপন্ন হয়।[8] কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল সেন্টার অন অ্যাডিকশান অ্যান্ড সাবস্ট্যান্স অ্যাবিউস-এর চালানো এক গবেষণায় দেখা যায় গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডের সাথে যে যতো বেশি সময় কাটায় সে ততো বেশি মদ, গাঁজা, বিড়ি সিগারেটের নেশায় পড়ে যায়।[9] অনেকেই হয়তো প্রেম চলার সময় মাদকে আসক্ত হয় না। কিন্তু ব্রেকআপের পর ছ্যাঁকার কষ্ট ভুলতে মাদকে আসক্ত হয়ে যায়। প্রেম পিছু ছাড়লেও মাদক পিছু ছাড়ে না।
স্রেফ এই মাদকই একটা জাতিকে ধ্বংস করে দেবার জন্য যথেষ্ট। জাতির যুবশক্তিকে মাদক একেবারে ভেতর থেকে কুরে কুরে খেয়ে নিঃশেষ করে দেয়। মাদককে কেন্দ্র করে সমাজে ব্যাপক অপরাধ সংঘটিত হয়। মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য বাবা-মাকে খুন করা, চুরি, ছিনতাই করা, ভাড়াটিয়া খুনি হিসেবে কাজ করা, মাদকের প্রভাবে ধর্ষণ করা–এগুলো নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।[10] সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক