05/10/2020
♦ যদি লিখাটি আপনি পড়তে পারেন, তবে এখনই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন আপনার শিক্ষকের প্রতি।
-------------*******--------------********-------------
হঠাৎ নোটিশ এল, 'আগামীকাল তোমাকে নতুন এক জগতে পাঠানো হবে।'
বিস্ময়চিত্তে শিশুর প্রশ্ন, 'কেন? এখানে আমি যে নার্সিং - কেয়ারিং পেয়েছি ওখানে কে করবে?
ওখানেও কি এঞ্জেল থাকে?'
জবাব এল- হ্যাঁ, ওখানেও এঞ্জেল পাঠানো হয়েছে অন্য অবয়বে, সময়ের তালেতালে তুমি তাদের সাক্ষাৎ পাবে; ভয় পেয়োনা!
তারপর এক আলোকচ্ছটাময় আড়মোড়া ভাঙা ভোরে পৃথিবী নামক শ্যামলরাজ্যে অংকুরিত হয় সে।
একি! চারপাশে এত চোখ ঝলসানো আলো, এত অপরিচিত মুখ, এত সোরগোল!
ভয়ে- আতংকে কান্নার রোল পড়ে যায় তার!
একটাসময় ঐশ্বরিক মমতাময়ী এক চেহারা চোখের সামনে ভেসে উঠল, পরম যতনে কোলে নিয়ে মুখে তুলে দিল বেহেশতী সুধা!
- তবে কি ওরা উনার কথাই বলেছিল!
স্বস্তি ফিরে পেল সে; চারপাশের ভালবাসা ও আদরে তার বেড়ে উঠা আর বেড়ে উঠা মানেই নতুন কিছু শিখে উঠা; আবোল তাবোল বোলগুলো একেকটা অর্থবহ শব্দে পরিণত হওয়া।
এটা কে?- মা, এটা? পাপ্পা- ওটা কি? - ওটা! মিয়াউ (বিড়াল) , এগুলা মাম (খাবার)..
পুষ্পকোমল হাতটি দিয়ে যেদিন বাবার আঙুলটা ধরা শিখে গেল, তার জগৎটাও যেন আরও প্রশস্ত হল, সামনে এসে হাজির হলো সুদীর্ঘ পথ।
ঘর হতে বের হয়েই সে উপরে তাকায় উৎসুক দৃষ্টিতে।
বাবা বলে - ওটা আকাশ!
- আমি আকাশে যাব
- যেতে হলেতো তোমার সিঁড়ি বাইতে হবে।
- সিঁড়ি কি?
বাবা তার মেঘকোমল মনের ক্যানভাসে কল্পনায় এঁকে দিল সেই সিঁড়ির আলপনা!
- আব্বু আমি ওকে কি নামে ডাকব?
- ওর নাম! ওর নাম স্বপ্ন, ঐ যে উপরে আকাশ দেখছ তার নাম লক্ষ্য।
- আব্বু আমি লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই।
ব্যস, তার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে ধরিয়ে দেয়া হল খড়ি-শ্লেট, মনের যত আঁকিবুঁকির রূপ দিতে লাগল সে শ্লেটের উপর।
- আঁকিবুঁকি করলে তো হবেনা বাবা,তোমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে; লিখ - 'অ, আ'
বায়না আর জিদ ধরা শিশুটির স্বভাবসুলভ হাজার চপলতার মাঝেও অসীম মমতা, ধৈর্য নিয়ে তার সিঁড়ির ভীতটা গড়ে দিল মমতাময়ী মা!
- এবার আমি আকাশ ছুঁতে পারব?
- না বাবা,তোমাকে সিঁড়িটা বেয়ে উঠার শক্তি অর্জন করতে হবে।
- আমাকে শক্তি দাও,আমি উঠব।
- আমরাতো পারবোনা
- কে পারবে? এঞ্জেল?
- হ্যা। এঞ্জেল
- আমি এঞ্জেলের কাছে যাব।
পরেরদিন শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হল অন্য এক জগতে!
- এটা কি?
- এটা বিদ্যানিকেতন, এখানেই তুমি সিঁড়ি বেয়ে উঠার শক্তি পাবে।
- ওরা কারা?
- ওরাও তোমার মত আকাশ ছুঁবে বলে এঞ্জেলের কাছে এসেছে।
আবারো অজানা ভয়ে আতংকে কান্না শুরু করে দেয় সে!
- হঠাৎ তার কোমল কাঁধে একটা মমতার স্পর্শ অনুভূত হল;
একি এই স্পর্শ তো আমি পূর্বেও যেন কোথাও পেয়েছিলাম!
- আপনি কি এঞ্জেল?
- না বাবা,আমি তোমার শিক্ষক!
- না, ওরা বলেছিল আপনাকে ওরা পাঠিয়েছে!
মুচকি হেসে এঞ্জেল তার কোমল হাত ধরে নিয়ে গেল নতুন জগতে!
এখানে ও শক্তি পাবে সিঁড়ি বেয়ে উঠার!
আকাশ ছোঁয়ার!
সে আজ খুশিতে উদ্ভাসিত, আবেগে উদ্বেলিত!
- আচ্ছা এঞ্জেল, আকাশে পৌঁছাতে শক্তি কোথায় পাব?
-আত্মবিশ্বাস থেকে।
-তুমি আমাকে আত্মবিশ্বাস দিবে?
-হ্যা,এটাই তো আমার কাজ; তোমাকে নিজের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া, তোমার সুপ্ত স্বত্তাকে প্রস্ফুটিত করা!
-সত্যি!!
শৈশব পেরিয়ে কৈশোর ছেড়ে যৌবনের স্বর্ণালীক্ষণে দণ্ডায়মান সে আজ! সে আজ দিগন্তরেখার সামিয়ানায়! নীচে তাকাতেই বিস্ময় চিত্তে দেখে সুদীর্ঘ সিঁড়ি বয়ে গেছে নিম্নদিগন্তে ...
আর প্রতিটি ধাপে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছেন একেকজন এঞ্জেল!
হ্যা, তারাই আজ তাকে আকাশে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, তারাই এভাবে শতশত আকাশ ছোঁয়ায় বিভূর স্বত্তাকে শক্তি দিয়েছেন, দিয়েছেন আত্মিবিশ্বাস, নিজের মমতার হাতে ডিঙিয়ে দিয়েছেন প্রতিটি ধাপ, দিয়েছেন অনুপ্রেরণা, দিয়ে যাচ্ছেন, আজীবন দিয়েও যাবেন। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট এক অতুল সৃষ্টি এই এঞ্জেল! তবে তারা নিজেদের শিক্ষক বলে পরিচয় দিতেই স্বস্তিবোধ করেন!
হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা জানাই আমার সকল এঞ্জেলদের।
(রচনাকাল - ০৫ অক্টোবর, ২০১৬)